NEP-2020 Major/Minor

Ancient Indian Geography & Vedas

Ancient Indian Geography & Vedas

NEP 2020 অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পরিবর্তন করা হয়েছে সিলেবাস। যোগ করা হয়েছে নতুন বিষয়বস্তু। ভূগোল বিষয়েও বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষণীয়। ভৌগোলিক চিন্তার বিকাশ (Geographical Thought) বিষয়ের সিলেবাসও হালনাগাদ করা হয়েছে, ফলে এতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সিলেবাস অনুযায়ী, ভৌগোলিক চিন্তার বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বই প্রায় অপর্যাপ্ত। এই সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রয়াসে, ভৌগোলিক চিন্তার বিকাশে আমাদের ক্ষুদ্রতম প্রচেষ্টা হলো Ancient Indian Geography & Vedas নামক পোস্টটি ।


➣ Join : Our Telegram Channel

Ancient Indian Geography & Vedas

⟽ পূর্ববর্তী পোস্ট : ভারতীয় জনসংখ্যা ভূগোলের পথিকৃৎ

বেদ (Vedas) : মানব ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে বর্তমানে আমাদের কাছে থাকা গ্রন্থগুলির মধ্যে বেদ হল প্রাচীনতম গ্রন্থ [4] । প্রাচীনতম ইন্দো-আর্য ভাষাগোষ্ঠীর বৈদিক সংস্কৃত বা ‘ছান্দস’ ভাষায় রচিত বেদের রচনার সময়কাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে । ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা সমাজ সংস্কারক বাল গঙ্গাধর তিলক বেদ রচনার সময়ের সূচনাকালকে 4000 খ্রিস্টপূর্বাব্দ বলে উল্লেখ করেন । জার্মান গবেষক ম্যাক্স মুলার (Fredrich Max Muller) বেদ রচনার সময়কালকে 1500-1200 খ্রিস্টপূর্বাব্দ [5.] বলে উল্লেখ করেন । অপর জার্মান প্রাচ্যবিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক মার্টিন হাউগ (Martin Haug) বেদের রচনাকালকে 2400-2000 খ্রিস্টপূর্বাব্দ বলে উল্লেখ করেন [4] । প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, বেদের অপর নাম “শ্রুতি” । হিন্দু দর্শন অনুযায়ী বেদ হল “অপৌরুষেয়” যার অর্থ “মানুষের নয়, অতিমানবীয়” এবং “নিরাকার, রচয়িতা” যা প্রাচীন ঋষিদের গভীর ধ্যানের পরে শোনা পবিত্র ধ্বনি ও গ্রন্থের প্রকাশ। “ভগবৎ পুরাণ” (iii. 12, 34 & 37) অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা ভগবান ব্রহ্মা’ -এর চারটি মুখ থেকে চারটি বেদ উচ্চারিত হয় । এই জ্ঞান প্রথম শ্রবণ করেন ভগবান ব্রহ্মার মানসপুত্র মহর্ষি নারদ । পরবর্তী সময়ে মহর্ষি নারদ এর থেকে মুনি বশিষ্ঠ, মুনি বিশ্বামিত্র, মুনি অত্রি, মুনি ভরদ্বাজ, মুনি গৌতম, মুনি জমদগ্নি, মুনি কশ্যপ এবং মুনি অঙ্গিরদের মতো মহর্ষিগণের নিকট এই জ্ঞান প্রেরিত হয় বলে কথিত রয়েছে। হিন্দু দর্শন অনুযায়ী অসংখ্য মহাবিশ্ব বা “অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ড” (Multiverse) রয়েছে (শ্রীমদ্ভাগবতগীতা-এর 10.87.41; ভাগবৎ পুরাণ 6.16.37 এবং 3.11.41) । হিন্দু ধর্মগ্রন্থ “ব্রহ্ম পুরাণ” অনুযায়ী ভগবান ব্রহ্মা দ্বারা 155.52 ট্রিলিয়ন বছর পূর্বে প্রথম মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয় । আদি সৃষ্টির কালে তিঁনি এই অলৌকিক জ্ঞান বা মন্ত্রগুলো ঋষিদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন । “বেদ” এর আক্ষরিক অর্থ হলঃ “জ্ঞান“, এই জ্ঞান মূলতঃ শুনে শুনে অর্জন করা হত বলে একে “শ্রুতি” বাল হয় । শ্রুতি মন্ত্র হিসাবে সংরক্ষিত হত মুনি-ঋষিদের অন্তঃকরণে, এবং সেই সংরক্ষিত মন্ত্র স্মরণ করে উচ্চারিত হত “স্মৃতি” থেকে । শ্রুতি ও স্মৃতির মাধ্যমে বেদ পরম্পরা প্রবাহিত হতে থাকে যুগ যুগ ধরে এবং তা লিপিবদ্ধ হয় উপরোক্ত সময়কালে । অর্থাৎ বেদ জ্ঞান সৃষ্টির সঠিক সময়কাল অজ্ঞাত ও প্রাগৈতিহাসিক এবং লিপিবদ্ধের সময়কাল আনুমানিক ।

সমগ্র বেদ চারভাগে বিভক্ত, এগুলি হলঃ ঋগ্বেদ (Rig-Veda), সামবেদ (Sama-Veda), যজুর্বেদ (Yajurveda) ও অথর্ববেদ (Atharvaveda) । প্রথম তিনটি বেদ (ঋগ, সাম, যজুর) একত্রে বেদত্রয়ী নামে পরিচিত, এবং অথর্ববেদ পরবর্তীকালে স্বীকৃতি লাভ করে।

ঋগ্বেদ হলঃ প্রাচীনতম বেদ । ইহা 10টি মণ্ডলে 1028টি মন্ত্র (Hymns) ও 10,600টি শ্লোকের (Verses) সমন্বয়ে রচিত । এর প্রথম মণ্ডলের মন্ত্র সংখ্যা 191টি, দ্বিতীয় মণ্ডলের 43টি, তৃতীয় মণ্ডলের 62টি, চতুর্থ মণ্ডলের 58টি, পঞ্চম মণ্ডলের 87টি, ষষ্ঠ মণ্ডলের 75টি, সপ্তম মণ্ডলের 104টি, অষ্টম মণ্ডলের 103টি, নবম মণ্ডলের 114টি এবং দশম মণ্ডলের মন্ত্র সংখ্যা 191টি ।

সামবেদ 2টি বই (Books) 15টি বিভাগ (Sections), 34টি অধ্যায় (Chapter) এ 1875টি শ্লোক সমন্বয়ে রচিত । এই বেদের প্রথম বই পূর্বার্চিকা (Purvarchika) এবং দ্বিতীয় বই উত্তরার্চিকা (Uttararchika) নামে অভিহিত হয় । পূর্বার্চিকা’তে 6টি বিভাগে, 12টি অধ্যায়ে 650টি শ্লোক রয়েছে এবং উত্তরার্চিকা’তে 9টি বিভাগে, 22টি অধ্যায়ে 1225টি শ্লোক রয়েছে ।

যজুর্বেদ দুটি প্রধান সঙ্কেত (Recensions), 6টি কন্ধ (Kandhas), 44টি প্রপাঠক (Prapathakas/Chapters) সহ 1975টি শ্লোকের (Verses) সমাহার । যজুর্বেদের প্রধান সঙ্কেত দুটি হলঃ শুক্ল যজুর্বেদ ও কৃষ্ণ যজুর্বেদ । যজুর্বেদের প্রথম কন্ধে 8টি প্রপাঠকে/অধ্যায়ে মোট 146টি মন্ত্র, দ্বিতীয় কন্ধে 6টি প্রপাঠকে/অধ্যায়ে মোট 76টি মন্ত্র, তৃতীয় কন্ধে 5টি প্রপাঠকে/অধ্যায়ে মোট 55টি মন্ত্র, চতুর্থ কন্ধে 7টি প্রপাঠকে/অধ্যায়ে মোট 82টি মন্ত্র, পঞ্চম কন্ধে 7টি প্রপাঠকে/অধ্যায়ে মোট 120টি মন্ত্র, ষষ্ঠ কন্ধে 11টি প্রপাঠকে/অধ্যায়ে মোট 173টি মন্ত্র রয়েছে ।

অথর্ববেদ মোট 20টি কন্ধে বিভক্ত এবং 12,300 মন্ত্রের সমাহার ।

➣ গুরুত্বপূর্ণ ভূগোল গ্রন্থ

বেদগুলিকে চারটি প্রধান অংশে বিভক্ত করা হয়েছে । প্রতিটি বেদের প্রথম অংশ হলঃ সংহিতা, যা স্তোত্র, মন্ত্র ও প্রার্থনা নিয়ে গঠিত; দ্বিতীয় অংশ হলঃ ব্রাহ্মণ, যা মূলতঃ গদ্য গ্রন্থ এবং কোনো বিশেষ আচার বা অনুষ্ঠানের ব্যাখ্যা প্রদান করে; তৃতীয় অংশ হলঃ আরণ্যক বা “বন-গ্রন্থ”, যা আচার-অনুষ্ঠান ও দার্শনিক আলোচনার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে; এবং চতুর্থ অংশ হলঃ উপনিষদ, যা বাস্তবতা, আত্মা বা মহাবিশ্বের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত দার্শনিক গ্রন্থ।

হিন্দুরা বেদকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখলেও এর প্রকৃত স্বরূপ তাদের কাছে প্রায় সম্পূর্ণ অজানা (Although the Vedas are held in the highest estimation by the Hindus, their real character is almost entirely unknown to them6.)। বেদ এর অনুবাদ নিয়ে হিন্দুদের খুব একটা মাথাব্যথা কোনো কালেই নেই । ইউরোপে মুদ্রিত হওয়ার আগে পর্যন্ত বেদের খুব কম সংখ্যক অনুলিপি বিদ্যমান ছিল। চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি কালে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শাসক প্রথম বুক্কা রায় ও দ্বিতীয় হরিহরের সময় সংস্কৃত মিমাংসা পণ্ডিত সায়নাচার্য (Sāyaṇācārya) বেদের উপর একটি ভাষ্য রচনা করেন । পাশ্চাত্য থেকে বেদের অনুবাদের সূচনা হয় ঊনবিংশ শতকের প্রথম দশক থেকে । এই সময় ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ তথা ইউরোপের প্রথম সংস্কৃত পণ্ডিত কোলব্রুক (Henry Thomas Colebrooke) 1805 সালে “Essay on the Vedas” নামক অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশ করেন । এরপর জার্মান প্রাচ্যবিদ রোজেন (Friedrich August Rosen) 1830 সালে “Rig-vedae specimen” নামক একটি প্রতিলিপি প্রকাশ করেন । তিঁনি তাঁর মৃত্যুর পূর্বে ল্যাটিন ভাষায় শুধুমাত্র ঋগ্বেদ অনুবাদ করতে সক্ষম হন, যা তাঁর মৃত্যুর (1837) পর 1838 সালে “Rigveda-Sanhita: liber primus, sanskritè et latinè” নামে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয় । দ্বিতীয় জার্মান ব্যক্তি হিসাবে বেদের অনুবাদ করেন জার্মান গবেষক ম্যাক্স মুলার (Fredrich Max Muller), যিনি সায়নাচার্য এর ভাষ্য থেকে 1845 সালে তার অনুবাদ আরম্ভ করেন এবং 1849 সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে প্রথম অংশ প্রকাশ করেন । তার সমগ্র কার্যাবলী প্রকাশিত হয় 1974 সালে । ইতিপূর্বে অপর জার্মান প্রাচ্যবিদ অফ্রেচ্ট (Simon Theodor Aufrecht) 1861-63 সালের মধ্যে “Die Hymnen des Rigveda” নামে রোমান ভাষায় ঋগ্বেদ অনুবাদ করেন । অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত অধ্যাপক উইলসন (Horace Heyman Wilson) 1850 সালে “Rig-Veda Sanhita” নামে ইংরেজিতে প্রথম ঋগ্বেদ অনুবাদ করেন । জার্মান প্রাচ্যবিদ হাউগ (Martin Haug) 1863 সালে “Aitareya Brahmana Of The Rigveda” প্রকাশ করেন । 1893 সালে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী তিলক (Bal Gangadhar Tilak) “Orion or the Antiquity of the Vedas” নামে বেদের উপর গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী সম্পাদন করেন । ব্রিটিশ পণ্ডিত তথা বেনারস সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক গ্রিফিথ (Ralph Thomas Hotchkin Griffith) 1889 থেকে 1899 সালের মধ্যে চারটি বেদের ইংরাজি সংস্করণ প্রকাশ করেন । ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতা তথা ঋষি অরবিন্দু (Aurobindo Ghose) 1914-20 সালে বেদের নির্বাচিত মন্ত্রের উপর ব্যখ্যা সংক্রান্ত তার “The Secret of the Veda” প্রকাশ করেন । 1933 সালে পুণে এর বৈদিক সংশোধন মণ্ডল (Vedic Research Institute) তাদের সাধারণ সম্পাদক তথা ভারতীয় ইতিহাসবিদ রাজওয়াড়ে (Vishwanath Kashinath Rajwade) এর সম্পাদনায় 1933 সালে চার খণ্ডে বেদ সংস্করণ করে । ➣ Read More : ভারতীয় ভূগোল ও বেদ


 


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading