Basic Knowledge about Computer
Basic Knowledge about Computer
সর্বভারতীয় বা রাজ্য স্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষাগুলিতে সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক ।আবার সাধারণ জ্ঞানের পরিসরও ব্যপক । বিভিন্ন টপিক থেকে Static GK এর উপর আসা প্রশ্নগুলি অধ্যয়ন করে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট টপিকের বিশদ আলোচনা করা হবে । এক্ষেত্রে এখন আলোচ্য টপিক রয়েছে Basic Knowledge about Computer.
কম্পিউটার সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান
⟽ Previous Post : ভারতের গণপরিষদ
➢ কম্পিউটার (Computer) : কম্পিউটার একটি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যার সাহায্যে অতি সহজে অনেক জটিল গণনার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। এছাড়া কম্পিউটারে ছবি আঁকা, গান শোনা, খেলা এবং প্রোগ্রাম লিখে যে কোনো কাজকে খুব সহজে সমাধান করা যায়। এই যন্ত্র আমাদের থেকে তথ্য ও নির্দেশ নিয়ে কাজ করে ফলাফল প্রদান করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য স্মৃতিকোষে (Memory) সঞ্চয় করে রাখে।
➢ কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা : কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে আমরা যেসমস্ত সুবিধাগুলি পেয়ে থাকি, তার কয়েকটি হলঃ
i. দ্রুতগতি : কম্পিউটারের সাহায্যে অতি দ্রুত জটিল হিসাব নিকাশ করা যায়।
ii. নির্ভুলতা : কম্পিউটারের সাহায্যে নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায়।
iii. সঞ্চয় ক্ষমতা : কম্পিউটার মেমোরিতে বিপুল পরিমাণ তথ্য সঞ্চয় করে রাখা যায়।
iv. অধ্যাবসায় : একই কাজ বারংবার করতে হলেও কম্পিউটার কখনোই ক্লান্ত হয় না, সর্বদা একই গতিতে কাজ করেই চলে। কম্পিউটার একই সাথে অনেক কিছু কাজ করতে পারে।
v. বহুমুখিতা : কম্পিউটারের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যায়। যেমন টাইপ করা, ছবি আঁকা, গান শোনা, গেম খেলা ইত্যাদি।
vi. খরচ হ্রাস : কম্পিউটার ব্যবহার করে খরচ হ্রাস করা যায়। পরিশ্রম লাঘব হয়।
তবে কম্পিউটার কোনো কাজই নিজে থেকে করতে পারে না। মানুষের নির্দেশ অনুযায়ী কম্পিউটার কাজ করে।
➢ কম্পিউটার আবিষ্কারের ইতিহাস : কম্পিউটার আবিষ্কারের ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায় প্রথম গাণিতিক গণনার উপযোগী অ্যাবাকাস যন্ত্র থেকে কম্পিউটারের প্রথম প্রজন্ম পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্ভাবনের বিষয়গুলি স্পষ্ট হয় ।
অ্যাবাকাস (Abacus) : অ্যাবাকাস ছিল গাণিতিক গণনার প্রথম কোনো যন্ত্র । আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে চিন দেশে প্রথম অ্যাবাকাস যন্ত্রটি আবিষ্কার হয়। যন্ত্রটি একটি আয়তক্ষেত্রাকার কাঠের ফ্রেমের মধ্যে কয়েক সারি দড়ি লাগিয়ে তাতে নুড়ি বা পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়। এই নুড়ি বা পাথরের সাহায্যেই গণনা করা হয়। পরবর্তীকালে দড়ির বদলে তার ও নুড়ির বদলে পুঁতি ব্যবহৃত হয়।
নেপিয়ার’স বোন (Napier’s Bone) : অ্যাবাকাস যন্ত্রের প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর পর, 1617 নাগাদ স্কটিস বিজ্ঞানী তথা গণিতজ্ঞ জন নেপিয়ার (John Napier) নেপিয়ার’স বোন নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন। এই যন্ত্রের দ্বারা খুব সহজেই যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ করা যেত।
স্লাইড নিয়ম (Slide Rule) : ইংরেজ গণিতবিদ তথা ধর্মযাজক অঘট্রেড (William Oughtred) 1632 সালে স্লাইড নিয়ম আবিষ্কার করেন। অঘট্রেড এডমন্ড গুন্টারের (Edmund Gunter) দুটি লগারিদমিক স্কেল পাশাপাশি রেখে এই যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেছিলেন, যার সাহায্যে বিভাজক ছাড়াই সরাসরি গুণ ও ভাগ যেত।
পাসক্যালাইন (Pascaline) : নেপিয়ার’স বোন নামক যন্ত্র উদ্ভাবনের প্রায় 25 বছরের মাথায় এবং স্লাইড নিয়ম আবিষ্কারের প্রায় এক দশকের মাথায় 1642 সালে ফরাসি গণিতবিদ পাসকেল (Blaise Pascal) মাত্র 19 বছর বয়সে পাসক্যালাইন নামে একটি যন্ত্র তৈরি করেন। এই গণকযন্ত্রটি ছোটো ছোটো কয়েকটি চাকার সাহায্যে তৈরি, যার সাহায্যে খুব সহজেই যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ করা যেত। এটিই প্রথম ক্যালকুলেটর হিসাবে পরিচিত। যদিও 1623 সালে জার্মান অধ্যাপক তথা বহুশাস্ত্রজ্ঞ শিকার্ড (Wilhelm Schickard) প্রথম কর্মক্ষম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর এর প্রাথমিক কার্যাবলী উদ্ভাবন করেন ।
স্টেপড রেকনার (Stepped Reckoner) : জার্মান গণিতজ্ঞ লিবনিজ (Gottfried Wilhelm Leibniz) 1673 সালে স্টেপড রেকনার নামে একটি ডিজিটাল যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর প্রদর্শন করেন। তার এই যন্ত্রে উপাত্ত (Statistics) ও বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির নথিভুক্তকরণের জন্য তাকে প্রথম কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও তথ্য তাত্ত্বিক হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
জ্যাকুয়ার্ড এর তাঁত ও মিশ্রণ কার্ড (Jacquard’s Loom and Punched Card) : ফ্রান্সের তাঁতি জ্যাকোয়ার্ড (Joseph Marie Jacquard) 1801 সালে পাঞ্চ করা কাঠের কার্ড ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাপড়ের নকশা বুনতে সক্ষম এমন এক তাঁত আবিষ্কার করেন। প্রাথমিক কম্পিউটারগুলিতে একই ধরণের পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার করা হত। চার্লস ব্যাবেজ তার বিশ্লেষণাত্মক ইঞ্জিনে (1837) প্রোগ্রাম ইনপুট করার জন্য এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছিলেন। পরে, হারম্যান হলেরিথ 1890 সালের মার্কিন আদমশুমারির জন্য পাঞ্চড কার্ড ব্যবহার করেন।
অ্যারিথমোমিটার (Arithmometer) : ফরাসি উদ্ভাবক কলমার (Charles Xavier Thomas de Colmar) 1820 সালে তার সরলীকৃত অ্যারিথমোমিটার প্রকাশ করে যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর শিল্প চালু করেন । এই যন্ত্র ছিল অফিসের পরিবেশে প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য প্রথম গণনা যন্ত্র।
ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন (Difference Engine and Analytical Engine) : 1822 সালে ইংরেজ গণিতবিদ ব্যাবেজ (Charles Babbage) ডিফারেন্স ইঞ্জিন নামে একটি বাষ্পচালিত যন্ত্র তৈরি করেন। যন্ত্রটি নির্দেশ অনুসরণ করে নিজে নিজেই চলত এবং এতে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ছাড়াও শতকরা ও বর্গমূলের হিসাব করা যেত। 1837 সালে ব্যাবেজ যন্ত্রটির উন্নতি সাধন করে অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন হিসাবে উপস্থাপন করেন। ইংরেজ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটি সাময়িকভাবে ব্যর্থ হলেও চালর্স ব্যাবেজের তৈরি এই যন্ত্র দুটিকে অনুসরণ করেই শতাব্দীরও বেশি সময় পরে, বিশ্বের প্রথম কম্পিউটারটি তৈরি হয়েছিল এবং বর্তমানে আধুনিক কম্পিউটার তৈরি হয়েছে। তাই চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক (Father of Computer) বলা হয়। ➣ পদার্থ বিদ্যা MCQ
প্রথম অ্যালগরিদম (First Algorithm) : অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের উপর একটি ফরাসি প্রবন্ধের অনুবাদের সময় 1843 সালে অ্যাডা লাভলেস (Augusta Ada King, Countess of Lovelace) তার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন নোটের মধ্যে একটিতে বার্নোলি সংখ্যা গণনা করার জন্য একটি অ্যালগরিদম লিখেছিলেন, যা কম্পিউটারে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা প্রথম প্রকাশিত অ্যালগরিদম বলে মনে করা হয়।
ট্যাবুল্যাটর (Tabulator) : জার্মান-আমেরিকান গণিতজ্ঞ হলারিথ (Herman Hollerith) 1885 সালে ট্যাবুলেটর আবিষ্কার করেন, যা পরিসংখ্যানগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য পাঞ্চড কার্ড ব্যবহার করত । তিনি এমন একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন যা শেষ পর্যন্ত আইবিএম হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।
টুরিং মেশিন (Turing machine) : 1936 সালে ব্রিটিশ গণিতজ্ঞ তথা কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যালান টুরিং (Alan Mathison Turing) একটি সর্বজনীন মেশিনের ধারণা উপস্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে তার ডক্টরাল উপদেষ্টা চার্চ (Alonzo Church) দ্বারা টুরিং মেশিন নামে পরিচিতি লাভ করে । এই যন্ত্র গণনাযোগ্য যেকোনো কিছু গণনা করতে সক্ষম ছিল। যন্ত্রটি গণনার একটি মৌলিক, তাত্ত্বিক মডেল যা অ্যালগরিদমিক গণনাযোগ্যতার সীমা নির্ধারণ করে। এটি একটি অসীম টেপ, একটি রিড/রাইট হেড এবং রাষ্ট্র-ভিত্তিক নিয়মগুলির একটি সীমিত সেট ব্যবহার করে একটি কম্পিউটারকে অনুকরণ করে, যা একটি আধুনিক কম্পিউটার করতে পারে এমন যেকোনো ফাংশন গণনা করতে সক্ষম। পরবর্তী সময়ে আধুনিক কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় ধারণাটি টুরিং এর ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।
প্রথম বৈদ্যুতিক ডিজিটাল কম্পিউটার (Electronic Digital Computer) : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যা ও গণিতের অধ্যাপক আতানাসফ (John Vincent Atanasoff) 1937 সালে গিয়ার, ক্যাম, বেল্ট বা শ্যাফ্ট ছাড়াই প্রথম কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করেন। 1941 সালে তিনি তার সহযোগী-শিক্ষার্থী বেরি (Clifford Edward Berry) এর সহযোগিতায় প্রথম Electronic ALU (arithmetic logic unit) কম্পিউটার উদ্ভাবন করেন, যা Atanasoff–Berry Computer (ABC) নামে পরিচিত । এই কম্পিউটারটি একসাথে 29টি সমীকরণ সমাধান করতে সক্ষম ছিল । এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো কম্পিউটার, যা তার প্রধান স্মৃতিতে তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম ছিল । 1937 সালেই IBM এর যন্ত্রাংশ সহায়তায় আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী আইকেন (Howard Hathaway Aiken) ব্যাবেজের অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের উপর ভিত্তি করে Automatic Sequence Controlled Calculator (ASCC)/Harvard Mark-I কম্পিউটার উদ্ভাবন করেন ।
এনিয়াক (ENIAC) : সম্পূর্ণরুপে বিদ্যুৎ দ্বারা পরিচালিত প্রথম কম্পিউটার হল এনিয়াক । পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক, মাউচলি ও একার্ট (John Mauchly & J. Presper Eckert) Electronic Numerical Integrator and Computer (ENIAC) তৈরি করেন। ডিজিটাল কম্পিউটারের পূর্বপুরুষ হিসেবে বিবেচিত 1846 সালে উদ্ভূত এই কম্পিউটারটি আয়তনে ছিল 20 ফুট বাই 40 ফুটের একটি ঘরের সমান । এই কম্পিউটারটি 18,000 ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করে ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল মেশিনের তুলনায় 1,000 গুণ বেশি দ্রুত গণনা ত্বরান্বিত করেছে। যন্ত্রটির ওজন ছিল 30 টনেরও অধিক । 1,800 বর্গফুট জায়গা দখলকারী এই যন্ত্রে প্রায় 7,200টি ডায়োড সংযুক্ত ছিল। ENIAC 1955 সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল এবং আধুনিক কম্পিউটিংয়ের পথ প্রশস্ত করেছিল । বর্তমানে এর যন্ত্রাংশ স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনে প্রদর্শিত সংরক্ষিত রয়েছে।
➣ Read in Hindi ➣ Read in English
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.