Bengali Language Origin & Nature Part-1
Bengali Language Origin & Nature Part-1
প্যাডাগোজি (Pedagogy) হল এমন একটি বিষয়বস্তু যেটি শিক্ষকতার যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষারর ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । প্রাথমিক টেট, উচ্চ প্রাথমিক টেট, সেন্ট্রাল টেট এমনকি স্কুল সর্ভিস টেট এর ক্ষেত্রে প্যাডাগোজি বিষয়টি থেকে বিষয় ভিত্তিক প্যাডাগোজি (Subject Pedagogy) এর উপর প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক ব্যাপার । প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদানের জন্য এবং প্রতিটি বিষয়ের বিষয় ভিত্তিক প্যাডাগোজি তুলে ধরতে আমরা আরম্ভ করেছি Pedagogy বিভাগটি । এই বিভাগের একটি উপ-বিভাগ হলঃ বাংলা প্যাডাগোজি । বাংলা প্যাডাগোজিতে এখন আমরা আলোচনা করবো “বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও প্রকৃতি” [Bengali Language Origin & Nature] নামক টপিকটির প্রথম অংশ । এই বিভাগের প্রতিটি টপিক দীর্ঘ আলোচনাযুক্ত, তাই একাধিক অংশে টপিক আলোচনা থাকবে । পরবর্তী বা পূর্ববর্তী অংশে যাবার জন্য পোস্টে উল্লিখিত নির্দেশ তথা Next Part বা Previous Part এ ক্লিক করুনঃ ।
প্রসঙ্গতঃ বিষয়টি মনে রাখার সুবিধার জন্য প্রতিটি টপিক আলোচনা করা হবে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ।
বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও প্রকৃতি [প্রথম অংশ]
⟽ Previous Post : ভাষা শিক্ষার ভিত্তি
১. বাংলা ভাষার উৎপত্তি কিভাবে হয় ?
উঃ বাঙলা ভাষার উৎপত্তি নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছ । বাংলার আদি অধিবাসীরা ছিলেন অস্ট্রিক জাতির । এরপর প্রাচীন বৈদিক ভাষা যা আর্য ভাষার আবির্ভাব ঘটে । আর্যদের ভাষা পরবর্তীতে সংস্কার হয়ে সংস্কৃত ভাষার উদ্ভব ঘটে । অনেকের ধারণা সংস্কৃত ভাষা থেকেই বাংলা ভাষার উদ্ভব, তবে আধুনিক ভাষাবিদগণ এর মতে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা তথা প্রাকৃত ভাষা থেকেই বাংলা ভাষার উৎপত্তি। প্রাকৃত শব্দের আক্ষরিক অর্থ স্বাভাবিক । প্রাকৃত ভাষা থেকে সৃষ্ট ভাষাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় – অ) অপভ্রংশ ও আ) পালি । এ যুগে অপভ্রংশ ভাষা থেকে নতুন নতুন ভাষা সৃষ্টি হতে থাকে । এভাবেই অপভ্র্রংশ ভাষা থেকে সৃষ্টি হয় বাংলা ভাষা । অধিকাংশ ভাষাবিদ মনে করেন খ্রিষ্টীয় দশম শতাব্দীতে বাংলা ভাষা উৎপত্তি লাভ করে । ভাষা গোষ্ঠীর বিচারে বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয়ান ভাষার অন্তর্গত। ড: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, মাগধী প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়।
২. ভাষা সৃষ্টির মূলে কয়টি দিক রয়েছে ?
উঃ ভাষা সৃষ্টির মূলে মূলতঃ দুইটি দিক রয়েছে, যথাঃ অ) ব্যক্তি মানুষের মন ও চিন্তা এবং আ) সমাজবদ্ধ মানুষের মনের ভাব বিনিময় ও চিন্তাচেতনার বিনিময়ের ইচ্ছা ।
৩. বাংলা ভাষার উদ্ভবের সময়কালকে কয়টি পর্যায়ে ভাগ করা যায় ?
উঃ উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করা যায়, যথাঃ অ) প্রাচীন বাংলা ভাষা পর্যায় (৯০০/১০০০-১৩৫০), আ) মধ্যবাংলা ভাষা পর্যায় (১৩৫০-১৮০০) এবং ই) আধুনিক বাংলা ভাষা পর্যায় (১৮০০-র পরবর্তী)।
৪. প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শন কিভাবে পাই ?
উঃ প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান, যদিও এগুলির ওপর অন্যান্য পূর্বমাগধীয় ভাষার দাবি তুচ্ছ করার মতো নয়।
৫. মধ্য বাংলার লিখিত নিদর্শন কিভাবে পাই ?
উঃ বড়ূ চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বা শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ মধ্য বাংলার একটি সুস্পষ্ট আদি স্তর নির্দেশ করে। পরবর্তী মধ্য বাংলার নিদর্শন পাওয়া যায় রামায়ণ-মহাভারত-ভাগবতের অনুবাদে, বৈষ্ণব পদাবলি ও চৈতন্যচরিত কাব্যগুলিতে, নানা মঙ্গলকাব্যে, আরাকান-রোসাঙ্গ অমাত্যসভার মানবিক গাথাসাহিত্যে, শাক্ত পদাবলি এবং পূর্ববঙ্গ-গীতিকায় ।
৬. আধুনিক বাংলার লিখিত নিদর্শন কিভাবে পাই ?
উঃ আধুনিক বাংলার ক্ষেত্রে আধুনিক বিভিন্ন সাহিত্য উল্লেখযোগ্য । গদ্যভাষার ব্যাপক ব্যবহার, সংস্কৃত (তৎসম) শব্দাবলির ঋণ গ্রহণ এবং ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশী শব্দের ঋণও বিশেষ লক্ষণীয় আধুনিক বাংলা ভাষায় ।
৭. প্রাচীন বাংলা ভাষার নির্দেশিত লক্ষণগুলি উল্লেখ করুন ?
উঃ প্রাচীন বাংলা ভাষার লক্ষণগুলির মধ্যে ধ্বনিগত ও রূপগতলক্ষণ গুলি হলঃ ১] ধ্বনিগত লক্ষণ :– (ক) যুক্তব্যঞ্জন থেকে যেসব যুগ্মব্যঞ্জন উৎপন্ন হয়েছিল সেগুলি সরল হয়ে একক ব্যঞ্জন হয়, আর তার আগের স্বরধ্বনিটি পৃথক প্রলম্বনের (compensatory lengthening) ফলে দীর্ঘ হয় । (খ) অন্ত অ বজায় থাকে এবং অন্ত ইঅ ঈ-তে পরিণত হয়।
২] রূপগত লক্ষণ :– (ক) সম্বন্ধ বিভক্তিতে এবং ল-যুক্ত অতীতে স্ত্রীলিঙ্গ বজায় থাকে; (খ) আধুনিক বাংলা বিভক্তির আদিরূপ এই পর্বেই দেখা যায়; তবে কালবাচক -ইল -ইব কর্মভাববাচ্যের কর্তার সঙ্গে ব্যবহৃত হতে থাকে; (গ) সর্বনামেও আধুনিক বাংলা সর্বনামের আদিরূপ আহ্মে, তুহ্মে ইত্যাদি লক্ষ করা যায়।
৮. মধ্য বাংলা ভাষার নির্দেশিত লক্ষণগুলি উল্লেখ করুন ?
উঃ মধ্য বাংলাভাষার ধ্বনিগত লক্ষণগুলি হলঃ (ক) আদি-মধ্যস্তরে ই্ উ্ অর্ধস্বরের দুর্বলতা; (খ) মহাপ্রাণ নাসিক্যব্যঞ্জনের মহাপ্রাণতা লোপ; (গ) নাসিক্যধ্বনি + ব্যঞ্জনের জায়গায় অনুনাসিক স্বর + ব্যঞ্জন। এবং
রূপগত লক্ষণগুলি হলঃ (ক) আগের মতো কর্মভাববাচ্যের কর্তার সঙ্গে না হয়ে কালবাচক ইল্-ইব্ বিভক্তি কর্তৃবাচ্যের কর্তার সঙ্গে ব্যবহূত হয়ে থাকে; (খ) বিভক্তির বদলে অনুসর্গ দিয়ে কর্মভাববাচ্য হতে থাকে; (গ) যুক্ত ও যৌগিক ক্রিয়ার বিস্তার।
অন্ত্যমধ্য বাংলা ধ্বনিগত লক্ষণগুলি হলঃ (ক) অন্ত্য অ-এর লোপ; (খ) অপিনিহিতির উদ্ভব ও বিস্তার; (গ) নতুন স্বরধ্বনি অ্যা-এর উদ্ভব।
রূপগত লক্ষণগুলি হলঃ (ক) -র, -গুলা, -গুলি, -দি()গর ইত্যাদি নতুন বিভক্তির উদ্ভব। শব্দগত: সংস্কৃত ও আরবি-ফারসি শব্দ থেকে ব্যাপক ঋণ গ্রহণ।
৯. আধুনিক বাংলা ভাষার নির্দেশিত লক্ষণগুলি উল্লেখ করুন ?
উঃ আধুনিক বাংলা ভাষার নির্দেশিত লক্ষণগুলি হলঃ ধ্বনিগত লক্ষণ :- (ক) ই আর উ-র প্রভাবে স্বরোচ্চতাসাম্য বা স্বরসঙ্গতির নিয়মের ব্যাপকতা; (খ) অপিনিহিত ই্ উ্-র বিলোপ; (গ) দ্বিতীয় স্বরলোপ বা দ্বিমাত্রিকতা; (ঘ) এ-জাত অ্যা-র সংখ্যাবৃদ্ধি; (ঙ) মৌখিক স্তরে স্বরাগম ও স্বরভক্তির দ্বারা যুক্তব্যঞ্জন ভাঙ্গা, (চ) তৎসম ব, ম ও য-ফলা বিশিষ্ট যুক্তব্যঞ্জনের সমীভবন।
রূপগত লক্ষণ :- (ক) মৌখিক স্তরে মান্য চলিত বাংলায় সর্বনাম ও ক্রিয়ার সংক্ষেপিত রূপ (তাহার তার; করিয়াছিল করেছিল)। বিভিন্ন উপভাষায় এখনও মধ্য বাংলার অনেক বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।
১০. ভারতীয় লিপি মালা গুলোকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ?
উঃ দুই ভাগে, যথাঃ অ) ব্রাহ্মী লিপি ও আ) খরোষ্ঠী লিপি । বাংলা সহ সকল ভারতীয় লিপিই ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভুত হয়েছে ।
প্রাথমিক টেট প্রস্তুতির জন্য ক্লিক করুনঃ
উচ্চ প্রাথমিক টেট প্রস্তুতির জন্য ক্লিক করুনঃ
১১. বাংলা ভাষার কয়টি উপভাষা রয়েছে ?
উঃ বাংলা ভাষার পাঁচটি উপভাষা রয়েছে, যথাঃ অ) রাঢ়ী উপভাষা, আ) ঝারখণ্ডি উপভাষা, ই) বরেন্দ্রী উপভাষা ঈ ) বঙ্গালী উপভাষা এবং উ) কামরুপী উপভাষা ।
১২. ভাষাবিজ্ঞানে L১ কি ?
উঃ শিশুর মাতৃভাষা বা সহজাত আসল ভাষাকে ভাষাবিজ্ঞানে L১ বা ল্যাংগুয়েজ ওয়ান বলা হয় ।
১৩. ভাষা অর্জন (Language Acquisition) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ মানুষ এর অসচেতন ও স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভাষার বিকাশকে ভাষা অর্জন বলা হয় । এরুপ ভাষা লেখার কাজে ব্যবহার না হওয়ায়
১৪. ভাষা শিক্ষা (Language Learning) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ প্রয়োজন স্বাপেক্ষে মানুষ প্রথাগত ভিত্তিতে বিভিন্ন উপাদানের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ভাষার বিকাশ ঘটালে তাকে ভাষা শিক্ষা বলা হয় । মূলতঃ বিদ্যলয়ের মাধ্যমে এরুপ ভাষার বিকাশ ঘটে ।
১৫. প্রথম ভাষাকে বিদ্যালয়ের ভাষা থেকে প্রথম কে পৃথক করেছেন ?
উঃ ১৯৮১ সালে প্রকাশিত “Second Language Acquisition and Second Language Learning” নামক গ্রন্থে Stephen D Krashen প্রথম ভাষাকে বিদ্যালয়ের ভাষা থেকে প্রথম পৃথক করেছেন ।
১৬. বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ সংখ্যার পরিমাণ কত ?
উঃ প্রায় ১ লক্ষ এর অধিক শব্দ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, এর মধ্যে তৎসম, তদ্ভব এবং বিদেশি ভাষার সম্মিলন ঘটেছে ।
১৭. বাংলা ভাষায় সর্বাধিক কোন শব্দের প্রধান্য রয়েছে ?
উঃ বাংলা ভাষায় সর্বাধিক প্রধান্য রয়েছে তৎসম শব্দের, তৎসম বলতে সরাসরি সংস্কৃত থেকে গৃহীত শব্দকে বোঝায় । বাংলা ভাষার প্রায় ৬৭ শতাংশ শব্দ হল তৎসম শব্দ ।
১৮. বাংলা ভাষায় গাঠনিকভাবে কয় প্রকার শব্দের সমন্বয় ঘটেছে ?
উঃ দুই প্রকার, যথাঃ মৌলিক শব্দ এবং সাধিত শব্দ । ❯ ❯ পরবর্তী অংশ
2023 সালে প্রাথমিক টেট পাশের হার ছিল মাত্র 2.47%, অর্থাৎ TET পাস এখন আর সহজ নয় । এর জন্য নিয়মিত প্রতিটি বিষয় ডিটেলস পড়তে হবে । আবার TET পাস করলেই চাকরি নয়, এর জন্য সর্বাধিক নম্বর তুলা একান্তই প্রয়োজনীয় । TET এ যার যতো বেশি নম্বর চাকরির দিকে সে ততটাই এগিয়ে । Upper Primary TET এর জন্য প্রস্তুত আমাদের “Ready to Study : Study Materials” আপনার প্রস্তুতিকে মসৃণ করে তুলবে । আমাদের সাথে যুক্ত হতে ▶ ক্লিক করুনঃ
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
