Competitive Miscellaneous Info.

Constituent Assembly of India

Constituent Assembly of India

সর্বভারতীয় বা রাজ্য স্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষাগুলিতে সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক ।আবার সাধারণ জ্ঞানের পরিসরও ব্যপক । বিভিন্ন টপিক থেকে Static GK এর উপর আসা প্রশ্নগুলি অধ্যয়ন করে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট টপিকের বিশদ আলোচনা করা হবে । এক্ষেত্রে এখন আলোচ্য টপিক রয়েছে Constituent Assembly of India.


➣ Join : Our Telegram Channel

Constituent Assembly of India

⟽ Previous Post : আন্তর্জাতিক প্রণালী

ভারতীয় প্রতিনিধি নিয়ে ভারত শাসনের মাধ্যমে ভারতীয়দের সুশাসন প্রদানের জন্য ব্রিটিশ ক্রাউন সাইমন কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং তিনটি গোল টেবিল বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে 1933 সালের মার্চে ‘White Paper on Consitutional Reforms’ নামক শ্বেত পত্র প্রকাশ করে, যেখানে ব্রিটিশ ও ভারতীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন ভারতীয় সংবিধান প্রণয়নের কথা উত্থাপন করা হয় । এই প্রেক্ষিতে 1934 সালে ভারতের জন্য ভারতের নিজস্ব সংবিধান ধারণা প্রথম উত্থাপন করেন ভারতের বামপন্থী আন্দোলনের অন্যতম হোতা মানবেন্দ্র নাথ রায় (M.N. Roy) । মানবেন্দ্র নাথ রায়ের এই প্রস্তাবের এক বছর পর 1935 সালে একটি ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে কংগ্রেস এই প্রস্তাবটিকে দাপ্তরিক দাবি (Official Demand) হিসাবে প্রকাশ করে । 1935 সালে “The Government of India Act 1935″ ভারতের কার্যকর হলে, 1936 সালে জাতীয় কংগ্রেস একটি সংকল্পপত্রে “No constitution imposed by outside authority and no constitution which curtails the sovereignty of the people of india and does not recognise their right to shape and control fully their political and economic future can be accepted.” ঐ ধারণা উত্থাপন করে আইনটিকে প্রত্যাক্ষাণ করে । 1938 সালে জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জওহরলাল নেহেরু ঘোষণা করেন “The Constitution of free India must be framed, without outside interference, by a Constituent Assembly elected on the basis of adult franchise“. 1939 সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবহে জাতীয় কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি 14 ই সেপ্টেম্বর গণপরিষদের দাবিতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং তাকে সমর্থন করে 1939 সালের 15 ই নভেম্বর চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী গণপরিষদের জন্য জোরালো দাবি উত্থাপন করেন । এতে ইন্ধন জোগায় 19 শে নভেম্বর “হরিজন” পত্রিকায় মহাত্মা গান্ধীর একটি বিশেষ লেখ । অবশেষে 1940 সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের এই দাবি কিছুটা মেনে নেয় এবং ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো 1940 সালের 8 ই আগস্ট বিখ্যাত “August Offer” উত্থাপন করেন । আগস্ট প্রস্তাব প্রত্যক্ষাত হলে ব্রিটিশ সরকার 1942 সালের মার্চে ভারতে ক্রিপ্স মিশন প্রেরণ করে । এই মিশন ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ (মে, 1945) পর্যন্ত গণপরিষদের গঠনে কোনরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি । 1945 সালের জুলাইতে ব্রিটেনে নতুন সরকার হিসাবে Labor Government ক্ষমতায় আসার পর Lord Wavell ভারতের গণপরিষদ গঠনের আশ্বাস দেন । এই উদ্দেশ্যে 1946 সালে ব্রিটিশ ক্যাবিনেট ক্রিপ্স (Sir Stafford Cripps) সহ তিন সদস্যের একটি দল প্রেরণ করে, যা ক্যাবিনেটে মিশন নামে পরিচিত । গণপরিষদের সদস্য নির্বাচনের জন্য ক্যাবিনেট মিশন 1946 সালের জুলাই আগস্টে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী (398 আসনে নির্বাচন হবার কথা থাকলেও প্রিন্সলি স্টেট থেকে 93 জন প্রতিনিধির অভাবে আসন খালি থাকায় তারা এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়) 296 আসনে নির্বাচন সম্পন্ন করে । ফলাফল হিসাবে দেখা যায় কংগ্রেস 208 টি, 73 টি এবং অন্যান্য নির্দল প্রার্থী 15 টি আসন দখল করে । অবশেষে 1946 সালের নভেম্বরে কেবিনেট মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী গণপরিষদ গঠিত হয় ।
1946 সালের 9 ই ডিসেম্বর সোমবার গণ পরিষদের প্রথম স্বাক্ষাৎ সংঘটিত হয় । কিন্তু মুসলিম লিগ পৃথক দেশ ও পৃথক গণপরিষদের দাবিতে অনড় থেকে এই স্বাক্ষাৎকার বয়কট করায় এবং আরো 12 জন নির্বাচিত প্রতিনিধি অনুপস্থিত থাকায় মাত্র 211 জন সদস্য নিয়ে গণপরিষদের প্রথম স্বাক্ষাৎ সংঘটিত হয় । প্রথম স্বাক্ষাৎ সভায় তথা উদ্বোধনী সভায় আচার্য্য কৃপালানি (Jivatram Bhagwandas Kripalani) সর্বসম্মতি সমক্ষে কক্ষের প্রবীণতম সদস্য হিসাবে সচ্চিদানন্দ সিংহ (Dr. Sachchidananda Sinha) কে অস্থায়ীভাবে প্রথম অধ্যক্ষ নির্বাচিত করেন । 1946 সালের 11 ই ডিসেম্বর গণ পরিষদের স্থায়ী অধ্যক্ষ হিসাবে নির্বাচিত হন ডঃ রাজেন্দ্র প্রাসাদ । 1946 সালের 9 ই ডিসেম্বর থেকে 1949 সালের 26 শে নভেম্বর পর্যন্ত মোট 2 বছর 11 মাস 18 দিন সময়কাল ধরে গণপরিষদ স্থায়ী হয় এবং এই সময়ে 166 দিনে গণপরিষদের মোট 11 টি আলোচনা সভার 7,635 টি বৈঠক এবং 2,473 টি সংশোধনীর মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি হয় । 1949 সালের 26 শে নভেম্বর গণপরিষদ দ্বারা ভারতীয় সংবিধান গৃহীত হয় । 1950 সালের 24 শে জানুয়ারি পুনরায় একটি স্বাক্ষর সভার অনুষ্ঠিত হয় এবং মূল সংবিধানে গণপরিষদের মোট 299 জন সদস্যের মধ্যে 284 জন সদস্য স্বাক্ষর করেন । অবশেষে 1950 সালের 26 শে জানুয়ারি থেকে ভারতের মূল সংবিধান কার্যকর করা হয় । ভারতীয় সংবিধান নির্মাণের জন্য 64 লক্ষ টাকা খরচ হয় ।

গণপরিষদের 11 টি সভার স্থায়িত্বকাল ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাক্রম :

প্রথম কার্যকাল (First Session): গণ পরিষদের প্রথম কার্যকালের সূচনা হয় 1946 সালের 9 ডিসেম্বর এবং শেষ হয় 23 শে ডিসেম্বর । প্রথম কার্যকাল চলে মোট 15 দিন ।

দ্বিতীয় কার্যকাল (Second Session): গণ পরিষদের দ্বিতীয় কার্যকালের সূচনা হয় 1947 সালের 20 জানুয়ারি এবং শেষ হয় 25 শে জানুয়ারি । গণ পরিষদের এই কার্যকাল চলে মোট 6 দিন ।

তৃতীয় কার্যকাল (Third Session): গণ পরিষদের প্রথম কার্যকালের সূচনা হয় 1947 সালের 28 শে এপ্রিল এবং সম্পন্ন হয় 2 রা মে । গণ পরিষদের এই কার্যকাল চলে মোট 5 দিন ।

চতুর্থ কার্যকাল (Fourth Session): গণ পরিষদের চতুর্থ কার্যকালের সূচনা হয় 1947 সালের 14 ই জুলাই এবং শেষ হয় 31 শে জুলাই । গণ পরিষদের এই কার্যকাল চলে মোট 18 দিন ।

পঞ্চম কার্যকাল (Fifth Session): গণ পরিষদের পঞ্চম কার্যকালের সূচনা হয় 1947 সালের 14 ই আগস্ট এবং শেষ হয় 30 শে আগস্ট । গণ পরিষদের এই কার্যকাল চলে মোট 17 দিন ।

ষষ্ঠ কার্যকাল (Sixth Session): গণ পরিষদের ষষ্ঠ কার্যকালের সূচনা ও সমাপ্ত হয় 1948 সালের 27 শে জানুয়ারি । গণ পরিষদের এই কার্যকাল চলে মোট 1 দিন।

সপ্তম কার্যকাল (Seventh Session): গণ পরিষদের সপ্তম কার্যকালের সূচনা হয় 1948 সালের 4 ঠা নভেম্বর এবং শেষ হয় 1949 সালের 8 ই জানুয়ারি । গণ পরিষদের এই কার্যকাল চলে মোট 62 দিন ।

অষ্টম কার্যকাল (Eighth Session): গণ পরিষদের অষ্টম কার্যকালের সূচনা হয় 1949 সালের 16 ই মে এবং শেষ হয় 16 ই জুন । গণ পরিষদের এই কার্যকাল চলে মোট 32 দিন ।

নবম কার্যকাল (Ninth Session): গণ পরিষদের নবম কার্যকালের সূচনা হয় 1949 সালের 30 শে জুলাই এবং শেষ হয় 18 ই সেপ্টেম্বর । গণ পরিষদের এই কার্যকাল চলে মোট 50 দিন ।

দশম কার্যকাল (Tenth Session): গণ পরিষদের দশম কার্যকালের সূচনা হয় 1949 সালের 6 ই অক্টোবর এবং শেষ হয় 17 ই অক্টোবর । গণ পরিষদের এই কার্যকাল চলে মোট 12 দিন ।

একাদশ কার্যকাল (Eleventh Session): গণ পরিষদের একাদশ কার্যকালের সূচনা হয় 1949 সালের 14 ই নভেম্বর এবং শেষ হয় 26 শে নভেম্বর । গণ পরিষদের এই কার্যকাল চলে মোট 13 দিন ।


➣ हिंदी में पढ़ें  ➣ Read in English


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading