Competitive Miscellaneous Info.

International Strait Part-2

International Strait

সর্বভারতীয় বা রাজ্য স্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষাগুলিতে সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক ।আবার সাধারণ জ্ঞানের পরিসরও ব্যপক । বিভিন্ন টপিক থেকে Static GK এর উপর আসা প্রশ্নগুলি অধ্যয়ন করে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট টপিকের বিশদ আলোচনা করা হবে । এক্ষেত্রে এখন আলোচ্য টপিক রয়েছে International Strait : Part-2.


➣ Join : Our Telegram Channel

আন্তর্জাতিক প্রণালী [International Strait]

Part : 2

⟽ Previous Part

বেরিং প্রণালী (Bering Strait) : পশ্চিমে এশিয়া মহাদেশের রাশিয়ার অন্তর্গত দূরবর্তী পূর্ব অঞ্চলের চুকচি উপদ্বীপ (Chukchi Peninsula) এবং পূর্বে উত্তর আমেরিকার আলাস্কা প্রদেশের সিওয়ার্ড উপদ্বীপ এর মধ্যবর্তী জলভাগ হল বেরিং প্রণালী, যা উত্তরে চুকচি সাগর এবং দক্ষিণে বেরিং সাগরের সংযুক্তির মাধ্যমে উত্তরে আর্কটিক মহাসাগরের সাথে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের সংযোগ স্থাপন করেছে । বেরিং প্রণালীর সংকীর্ণতম অংশটি রাশিয়ার চুকচি উপদ্বীপের কেপ ডেঝনেভ ও উত্তর আমেরিকার আলাস্কা প্রদেশের সিওয়ার্ড উপদ্বীপ এর প্রিন্স অফ ওয়ালেস কেপ এর মধ্যবর্তী অংশ, যার যার দৈর্ঘ্য প্রায় 82 কিঃমিঃ, যা এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা এই দুই মহাদেশের মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন দূরত্ব হিসাবে বিবেচিত হয় । প্রণালীটির গড় গভীরতা 83 কিঃমিঃ, এই প্রণালীর গড় গভীরতা 50 মিঃ এবং সর্বাধিক গভীর অংশের গভীরতা 90 মিঃ । প্রণালীর মাঝ বরাবর আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line) বিস্তৃত (কল্পিত) হয়েছে । ডাচ অনুসন্ধানী Vitus Jonassen Bering এর নামানুসারে (August 16, 1728) এই প্রণালীর নামকরণ করা হয়েছে ।

জিব্রাল্টার প্রণালী (Strait of Gibraltar) : ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ অংশের ইবেরিয়া উপদ্বীপ তথা ইউরেশিয়ার পশ্চিম প্রান্ত তথা ইউরোপের স্পেন এবং আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর অংশের মরক্কোর মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলভাগ অর্থাৎ ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথককারী জল ভাগ জিব্রাল্টার প্রণালী নামে পরিচিত, যা পশ্চিমে আটলান্টিকের জলরাশির সাথে পূর্বে ভূমধ্যসাগরীয় জলরাশিকে যুক্ত করেছে । Gibraltar শব্দটি “Jabal al Tariq” থেকে উৎপন্ন হয়েছে যার অর্থ হল “Mountain of Tariq” যা স্পেনের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত । এই প্রণালী বরাবর ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের প্রান্তিয় দূরত্ব মাত্র 13 কিঃমিঃ যা স্পেনের পুন্টা মার্রোকুই এবং মরক্কোর পয়েন্ট সাইরেস এর মধ্যবর্তী দূরত্ব । প্রণালীটির গভীরতা 300-900 মিঃ ।

কোরিয়া প্রণালী (Korea Strait) : এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত কোরিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণ কোরিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় তথা এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের কিউশু দ্বীপের মধ্যবর্তী জলভাগ কোরিয়া প্রণালী নামে অভিহিত, যা উত্তর-পূর্বে জাপান সাগর ও দক্ষিণ-পশ্চিমে পিত সাগরের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেছে । এই প্রণালী 200 কিঃমিঃ প্রশস্থ এবং 90-100 মিটার গড় গভীরতা যুক্ত । প্রণালীর মাঝ বরাবর দেইমাদো দ্বীপের উপস্থিতি প্রণালীটিকে দ্বি-বিভক্ত করেছে । প্রণালীর দেইমাদো ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী বিভাগ পশ্চিম চ্যানেল নামে এবং দেইমাদো ও জাপানের মধ্যবর্তী বিভাগ পশ্চিম চ্যানেল বা সুসিমা চ্যানেল নামে পরিচিত । কুরোশিও স্রোতের একটি অংশ উষ্ণ স্রোত হিসাবে এই প্রণালীর মধ্যে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত, যা সুসিমা স্রোত নামে পরিচিত ।

মালাক্কা প্রণালী (Strait of Malacca) : দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মালয় উপদ্বীপের মালয়েশিয়া ও ভারত মহাসাগরের ইন্দোনেশিয়া দ্বীপপুঞ্জের সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী অংশের সংকীর্ণ জলভাগ মালাক্কা প্রণালী নামে পরিচিত, যা পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে পশ্চিমে ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে । এই প্রণালী প্রায় 930 কিঃমিঃ দীর্ঘ, 50-320 কিঃমিঃ প্রশস্থ এবং গড় 25 মিঃ গভীর ।

সিঙ্গাপুর প্রণালী (Singapore Strait) : উত্তরে মালয়েশিয়ার দক্ষিণ শহর সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরের রিয়াও দ্বীপের বাটাম শহরের মধ্যে অবস্থিত সংকীর্ণ জলভাগ সিঙ্গাপুর প্রণালী নামে অভিহিত, যা পূর্বে দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে পশ্চিমে অবস্থিত মালাক্কা প্রণালীর সংযোগ স্থাপন করেছে । এই প্রণালী প্রায় 113 কিঃমিঃ দীর্ঘ, 19 কিঃমিঃ প্রশস্থ এবং গড়ে 22 মিঃ গভীর ।

বনিফেসিও প্রণালী (Bonifacio Strait) : উত্তরে ফ্রান্সের কর্সিকা দ্বীপ এবং দক্ষিণে ইটালির সার্ডিনিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী জলভাগ বনিফেসিও প্রণালী নামে পরিচিত, যা পশ্চিমে ভূমধ্যসাগরের অন্তর্ভুক্ত সার্ডিনিয়া উপসাগরের সাথে পূর্বে তাইরেহনিয়ান সাগরকে সংযুক্ত করেছে । প্রণালীটি প্রায় 11 কিঃমিঃ চওড়া এবং সর্বাধিক 100 মিঃ গভীর ।

পক প্রণালী (Palk Strait) : দক্ষিণ এশিয়ার ভারত রাষ্ট্রের তামিলনাড়ু রাজ্যের দক্ষিণ অংশ এবং দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার উত্তর অংশের জাফনা জেলার মধ্যবর্তী জলভাগ পক প্রণালী নামে অভিহিত, যা উত্তর-পূর্বে বঙ্গোপসাগরের সাথে দক্ষিণ পশ্চিমের পক উপসাগরকে যুক্ত করেছে । ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাদ্রাস প্রদেশের তৎকালীন গভর্নর পক (Sir Robert Palk) এর নামানুসারে এই নামকরণ । প্রণালীটির সর্বাধিক ও সর্বনিম্ন প্রস্থ যথাক্রমে 82 কিঃমিঃ ও 53 কিঃমিঃ । এই প্রণালীর ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের পামবান বা রামেশ্বর দ্বীপের ধনুষ্কোডি ও শ্রীলঙ্কার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের মান্নার দ্বীপের মধ্যবর্তী অংশে রামায়ণ প্রসিদ্ধ রাম সেতু অবস্থিত । এই সেতু ‘আদমের সেতু’ (Adam’s Bridge), নল সেতু (Nala Setu), সেতু বন্ধন (Setu Bandhan) ইত্যাদি নামেও পরিচিত। ধনুষ্কোডি এই অংশে ভারতের দক্ষিণতম স্থলখণ্ড ।

বসফোরাস প্রণালী (Bosphorus Strait) : তুর্কির পশ্চিম অংশের পূর্ব থ্রাসে এবং মূল তুর্কির মধ্যে অবস্থিত সংকীর্ণ জলভাগ বসফোরাস প্রণালী নামে পরিচিত, যা তুর্কির সাথে সাথে ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশকে পৃথক করেছে আবার অন্যদিকে উত্তর-পূর্বের কৃষ্ণ সাগর ও দক্ষিণ-পশ্চিমের মারমারা সাগরকে সংযুক্ত করেছে । এই প্রণালী 31 কিঃমিঃ দীর্ঘ, গড়ে মিঃ গভীর এবং ক্ষেত্র বিশেষে 700-3300 মিটার প্রশস্থ ।

ব্যাস প্রণালী (Bass Strait) : অস্ট্রেলিয়া তথা অস্ট্রেলিয়া মূল ভূখন্ডের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী জলভাগ ব্যাস প্রণালী নামে পরিচিত, যা পশ্চিমে ভারত মহাসাগর তথা বৃহৎ অস্ট্রেলিয়া বাঁক/উপসগর (Great Australian Bight) ও পূর্বে তাসমানিয়া সাগরের সংযোজক হিসাবে অবস্থান করছে । প্রণালীটি 500 কিঃমিঃ দীর্ঘ, সর্বাধিক 300 কিঃমিঃ প্রশস্থ এবং গড়ে 60 মিঃ গভীর । ডাচ অনুসন্ধানকারী তাসমান (Abel Janszoon Tasman) প্রথম এই প্রণালী আবিষ্কার করেন । প্রণালীটির নামকরণ করা হয় ব্রিটিশ নৌঅধ্যক্ষ তথা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ অনুসন্ধানকারী ব্যাস (George Bass) এর নামানুসারে ।

ড্যাভিস প্রণালী (Davis Strait) : গ্রিনল্যান্ড ও কানাডার উত্তরতম ও বৃহত্তম ভূখণ্ড নুনাভুত (Nunavut) এর ব্যাফিন দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী জলভাগ ড্যাভিস প্রণালী নামে পরিচিত, যা দক্ষিণে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে উত্তরে ব্যাফিন উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে । ব্রিটিশ নৌবিশারদ ড্যাভিস (John Davis) এর নামানুসারে এই প্রণালীর নামকরণ করা হয়েছে । মূলতঃ এই প্রণালী হল আটলান্টিক মহাসাগরের একটি শাখা যা ল্যাব্রাডর সাগরের মাধ্যমে উত্তরে বিন্যস্ত হয়েছে । এই প্রণালী উত্তর দক্ষিণে প্রায় 650 কিঃমিঃ দীর্ঘ এবং 300 কিঃমিঃ এর অধিক প্রশস্থ । এর গভীরতা 100-2000 মিঃ । এই প্রণালীর সর্বাধিক গভীরতা যুক্ত স্থান হল পূর্ব আর্কটিক অঞ্চল (3660 মিঃ) ।

উইন্ডওয়ার্ড প্যাসেজ (Windward Passage) : আটলান্টিক মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর ও মেক্সিকো উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত দুটি দ্বীপ রাষ্ট্র কিউবা ও হিসপ্যানিওলা এর মধ্যবর্তী জলভাগ উইন্ডওয়ার্ড প্যাসেজ নামে পরিচিত, যা পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে ক্যারিবিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে । এই প্রণালীর সর্বাধিক বিস্তার 80 কিঃমিঃ এবং গড় গভীরতা 1700 মিঃ।

জ্যামাইকা চ্যানেল (Jamaica Channel) : আটলান্টিক মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর ও মেক্সিকো উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত দুটি দ্বীপ রাষ্ট্র জ্যামাইকা ও হিসপ্যানিওলা এর মধ্যবর্তী জলভাগ জ্যামাইকা চ্যানেল নামে পরিচিত, যা উত্তরে উইন্ডওয়ার্ড প্যাসেজের মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে দক্ষিণে ক্যারিবিয়ান সাগরকে সংযুক্ত করেছে । এই প্রণালীর সর্বাধিক বিস্তার 190 কিঃমিঃ এবং গড় গভীরতা 1200 মিঃ ।

হাডসন প্রণালী (Hudson Strait) : উত্তরে ব্যাফিন দ্বীপপুঞ্জ ও দক্ষিণে কানাডার কুইবেক প্রদেশের মধ্যবর্তী জলভাগ হাডসন প্রণালী নামে পরিচিত, যা পূর্বে ল্যাব্রাডর উপসাগরকে পশ্চিমে হাডসন উপসাগরের সাথে যুক্ত করেছে । প্রণালীটি 720 কিঃমিঃ দীর্ঘ, ক্ষেত্র বিশেষে 64 থেকে 240 কিঃমিঃ এর অধিক প্রশস্থ । ব্রিটেনের নৌবিশেষজ্ঞ ফরবিসের (Sir Martin Frobisher) প্রথম এই প্রণালী শনাক্ত করেন, এবং ভুলবসত তিনি এই প্রণালীতে প্রবেশ করার জন্য প্রণালীটির নামকরণ করা হয় ‘Mistaken Strait’ । পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সামুদ্রিক অনুসন্ধানকারী হাডসন (Henry Hudson) এর নামানুসারে এই প্রণালীর নামকরণ করা হয় ।


 


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading