জানুয়ারি

Madhusudan Dutta, Boundless Poet & Playwright

Madhusudan Dutta, Boundless Poet & Playwright

পৃথিবীর আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে বহু ঘটনা । ইতিহাসের পাতায় নিরন্তর লিপিবদ্ধ হয়ে চলেছে সেই ঘটনাবলীর কড়চা । বিশ্ব ও ভারতের ইতিহাসের পাতা উল্টে সেইসমস্ত ঘটনাবলীগুলির ভিড় থেকে কিছু মণিমানিক্যের অনুসন্ধানের জন্য “আজকের দিনে” বিভাগের সূচনা । এই বিভাগে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসে ঘটে যাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা হবে । জানুয়ারি মাসের বিভাগে Madhusudan Dutta, Boundless Poet & Playwright নামক পোস্টের মাধ্যমে এখন আমরা আলোচনা করবো “মধু কবি” মাইকেল মধুসূদন দত্ত সম্পর্কে । তাহলে আর অপেক্ষা না করে আমরা মূল বিষয়ে প্রবেশ করি ⬎


Join : Our Telegram Channel

মধু কবি : মধুসূদন দত্ত

⟽ Previous Post

আজ 25 শে জানুয়ারি, 1824 সালের আজকের দিনে বর্তমান বাংলদেশ রাষ্ট্রে, তৎকালীন বঙ্গ প্রদেশের জশোর জেলার কেশবপুর উপ জেলার সাগর দীঘি গ্রামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত জন্মগ্রহণ করেন । তার পিতা ছিলেন জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত এবং মাতা জাহ্নবী দেবীমধুসূদন দত্ত তার প্রাথমিক শিক্ষা আরম্ভ করেন কলকাতায় 1932 সালে তিনি লাল বাজারের গ্রামার স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখানে 5 বছর অধ্যায়নের পর 1837 সালে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন । এখানে তিনি ইউরোপীয় ভাষা ও সাহিত্যে অনুরাগী হয়ে উঠেন এবং তার সাহিত্য চর্চা আরম্ভ করেন । 1840 সালে তিনি হিন্দু ধর্ম থেকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হন । খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করে তিনি মাইকেল উপাধি ধারণ করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত নামে পরিচিত হন এবং নিজের পরিবার ও কলেজ ত্যাগ করে বিশপ কলেজে ভর্তি হন । এখানে তিনি 1847 পর্যন্ত অবস্থান করেন । 1849 সালে তিনি প্রকাশ করেন “The Captive Ladie” নামক কাব্য গ্রন্থ । 1859-62 সালের মধ্যে তিনি 10 টি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা সাহিত্য সৃষ্টি করেন, এগুলি হলঃ “শর্মিষ্ঠা” (নাটক)-1859; ‘একেই কি বলে সভ্যতা” (নাটক) – 1860; “বুড়ো শালিকের ঘরে রৌ” (নাটক) – 1860; “পদ্মাবতী” (নাটক) -1860; “তিলোতমা সম্ভাব কাব্য” (কবিতা) – 1860; “মেঘনাদ বধ কাব্য” প্রথম খণ্ড (কবিতা) – 1861; “ব্রজাঙ্গনা কাব্য” (কবিতা) – 1861; “কৃষ্ণ কুমারী” (নাটক) – 1861; বীরাঙ্গনা কাব্য (কবিতা) – 1862 ইত্যাদি । 1862 সালে তিনি ইংল্যান্ডে যান কিন্তু সেখানে আশানুরূপ সাফল্য না পেয়ে এবং দারিদ্রতার মধ্যে দিন অতিবাহিত করে বিদ্যাসাগরের সহায়তায় তিনি 1867 সালে পুনরায় কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করেন । 1867 থেকে 1872 পর্যন্ত তিনি কলকাতা হাইকোর্টের Examiner of the Privy Council Records পদে কার্য নির্বাহ করেন । 1873 সালের 29 শে জুন মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইহ জগৎ পরিত্যাগ করেন । মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শেষ সাহিত্য হলঃ “মায়া কানন” নামক নাটক ।

মধুসূদন প্রথমে ইংরেজিতে সাহিত্য চর্চা শুরু করেছিলেন। লিখেছিলেন, ‘ক্যাপটিভলেডি‘ কাব্যগ্রন্থ। এরপর বেথুন সাহেবের পরামর্শে তিনি বাংলাভাষায় সাহিত্যচর্চা শুরু করেন; এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর লেখক খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পরে। বাংলা কাব্যের নবজন্ম ঘটল মধুসূদনের মধ্য দিয়ে। তাঁর অগ্রজ কবিরা যেমন ঈশ্বর গুপ্ত, রঙ্গ লাল বন্দোপাধ্যায় প্রমুখ মূলত গ্রামা আবহাওয়ার যে কবিতা রচনা করতেন, সে ধারাকে মধুসূদন ভেঙ্গে দিয়ে বাংলা কবিতাকে আধুনিকতার ছোঁয়ার প্রাণবন্ত করে তোলেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের শ্রষ্ঠা, তাঁর সৃষ্ট চতুর্দশপদী কবিতা, বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচয়িতা মধুসূদন কেবল বাংলা কবিতাকেই সমৃদ্ধ করেছেন তা নয়, বাংলা নাটকও তাঁর হাতে প্রথম সমৃদ্ধ হয়। বাংলা নাটকের দৈন্যদশা দেখে তাঁর মনে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল সেটা প্রকাশ পায় তাঁর “শর্মিষ্ঠা” নাটকের প্রস্তাবনায়। যেখানে তিনি বলেছেন-

“অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজেলো রাঢ়ে বঙ্গে

নিরখিয়া প্রানে নাহি সয়;

সুধারস অনাদরে বিষ বারি পাণ করে

তাহে হয় তনু মন ক্ষয়।”

➣ ঘিবলি জ্বর

বিদেশ থেকে 1856 সালে কোলকাতায় ফিরে তিনি প্রথম নাটক রচনার কাজে হাতদেন। 1859 সালে তাঁর প্রথম নাটক ‘শর্মিষ্ঠা‘ লেখা সম্পন্ন হয়। এই নাটক পাইকপাড়া রাজ বাড়িতে প্রথম অভিনীত হয়েছিল। ইতি মধ্যে 1858 সালে তিনি বন্ধুবর গৌরদাসের অনুরোধে ‘রত্নাবলী‘ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন। অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা তাঁর “তিলোত্তমা সম্ভব” কাব্য ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে। অমিত্রাক্ষর ছন্দের একটি ভাব দুইচরণ অতিক্রম করেও প্রসারিত হতে পারে। আর এটিই আমত্রাক্ষর ছন্দের প্রধান বৈশিষ্টা। নাটারচনায় সে যুগে তিনি মূলত মহাভারত ও পুরানকেই প্রধান্য দিয়েছেন। বাঙলা কবিতার আঙ্গিকগত দিগ থেকে মহাভারতের সুন্দ-উপসুন্দর কাহিনী অবলম্বনে “তিলোত্তমা সম্ভব” কাব্য ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে। অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম পরীক্ষা তিনি তিলোত্তমা সম্ভবে করেছেন বটে; তবে মেঘনাদবধ কাব্যেই এই নতুন ছন্দের শক্তি সার্বিকভাবে উৎকৃষ্টতালাভ করেছে। তিনি এই কাব্যে রাবণ-ইন্দ্রজিৎ-প্রমীলার চরিত্রে মানব মহিমার রূপান্তর ঘটিয়েছেন।

আবার ‘শর্মিষ্ঠা‘ ও ‘পদ্মাবতী‘ নাটকের তুলনায় ‘কৃষ্ণকুমারী‘ অনেক পরিণত নাটক। রাজপুতনার ইতিহাস থেকে এই নাটক গড়ে উঠেছে। মধুসূদনের একটি সফল ট্রাজিডি নাটক এই কৃষ্ণকুমারী। প্রতিভার সঙ্গে বিশ্বসাহিত্যের সম্যক জ্ঞান মধুসুদনকে বাংলা সাহিত্যে নতুন ছন্দ, সনেট, ও পাশ্চাত্য চিন্তায় নাটক রচনায় সাহায্য করেছিল। আবার এরই পাশা পাশি তিনি মধ্যযুগের সমাজ বন্ধনকে ছিন্ন করে বাংলা সাহিত্যকে আধুনিক চিন্তায় সঞ্জীবিত করে ছিলেন। তাই মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন কালজয়ী কবি ও নাট্যকার

সমসাময়িক কালে রাজা রামমোহন রায় দেশে নবজাগরণের সূচনা করেন। আর এই নবজাগরণের বৈশিষ্ট্যগুলি তখনকার হিন্দু কলেজের ছাত্র মধুসূদন মনে প্রাণে গ্রহণ করে ছিলেন। যুক্তিবাদে ছিল তাঁর অগাধ নিষ্ঠা। তবে কোন কোন সময় তাঁর আবেগ প্রবণতা তাঁকে হয়তো যুক্তিতে স্থির থাকতে দেয়নি। ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবোধ তাঁর ব্যক্তিজীবনে যত প্রকটভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তাঁর লেখাতেও সেই সত্য ছিল সম পরিমাণে সোচ্চার। মধুসূদন তাই তাঁর যুগের রেনেসাঁশের ভাব পরিমণ্ডলকে গ্রহণ করে যুগন্ধর কবি হয়ে উঠেছিলেন। বাংলা কবিতার আধুনিক যুগের যথার্থ প্রবর্তক মধুসূদন দত্ত । ➣ हिंदी में पढ़ें ॥  Read in English


➣ Next Post : গণতন্ত্র দিবস


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading