বাংলা প্যাডাগোজি

Objective of Bengali Language Learning P-2

বাংলা ভাষা শিক্ষার উদ্দেশ্য

প্যাডাগোজি (Pedagogy) হল এমন একটি বিষয়বস্তু যেটি শিক্ষকতার যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষারর ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । প্রাথমিক টেট, উচ্চ প্রাথমিক টেট, সেন্ট্রাল টেট এমনকি স্কুল সর্ভিস টেট এর ক্ষেত্রে প্যাডাগোজি বিষয়টি থেকে বিষয় ভিত্তিক প্যাডাগোজি (Subject Pedagogy) এর উপর প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক ব্যাপার । প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদানের জন্য এবং প্রতিটি বিষয়ের বিষয় ভিত্তিক প্যাডাগোজি তুলে ধরতে আমরা আরম্ভ করেছি Pedagogy বিভাগটি । এই বিভাগের একটি উপ-বিভাগ হলঃ বাংলা প্যাডাগোজি । বাংলা প্যাডাগোজিতে এখন আমরা আলোচনা করবো “বাংলা ভাষার শিক্ষার উদ্দেশ্য” [Objective of Bengali Language Learning] নামক টপিকটির দ্বিতীয় অংশ


➣ Join : Our Telegram Channel

বাংলা ভাষা শিক্ষার উদ্দেশ্য [দ্বিতীয় অংশ] 

⟽ পূর্ববর্তী অংশ

২৬. জ্ঞানমূলক মাত্রায় মূল্যায়ন স্তর কয়টি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয় ?
উঃ জ্ঞানমূলক মাত্রায় মূল্যায়ন স্তর তিনটি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়, যথাঃ অ) শিক্ষার উদ্দেশ্য নির্ধারণ, আ) শিখন অভিজ্ঞতা তৈরি এবং ই) শিক্ষার্থীর পরিবর্তিত আচরণের মূল্যায়ন ।

২৭. জ্ঞানমূলক মাত্রায় বিশ্লেষণ (Analysis) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ বিশ্লেষণ বলতে বিষয়ের উপাদান অংশের প্রকৃতি, অংশগুলি কিভাবে একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত, উদ্দেশ্য বা কারণ সনাক্তকরণ, তথ্য তৈরি এবং সাধারণীকরণ এর সমর্থনে প্রমাণ ইত্যাদির আলোচনাকে বোঝায় ।

২৮. বিশ্লেষণ স্তর কয়টি পর্বে সম্পন্ন হয় ?
উঃ বিশ্লেষণ স্তর তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়, যথাঃ অ) উপাদানের বিশ্লেষণ, আ) সম্পর্কের বিশ্লেষণ এবং ই) গাঠনিক বিশ্লেষণ ।

২৯. জ্ঞানমূলক মাত্রায় সংশ্লেষণ (Synthesis) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ সংশ্লেষণ বলতে শিখন বিষয়ের বিভিন্ন উপাদানের জ্ঞানের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ বিষয়ের উপস্থাপনকে বোঝায় । বিভিন্ন উপাদানের আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি সম্পূর্ণ কাঠামো নির্মাণ করা হয় এর সাহায্যে । যেমন সঙ্কেত ব্যবহার করে কাহিনি লেখা, রচনা লেখা ইত্যাদির দক্ষতা অর্জন করা ।

৩০. জ্ঞানমূলক মাত্রায় মূল্যায়ন (Evaluation) বলতে কি বোঝায় ?
উঃ জ্ঞানমূলক মাত্রায় মূল্যায়ন হল বিভিন্ন ঘটনা, চরিত্র, প্রেক্ষাপট ইত্যাদি বিচার করে তাদের দোষ, গুণ ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি নিজস্ব অভিমত উপস্থাপন করা ।

➣ Top National Organizations

৩১. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্রের আলোচনা কে করেন ?
উঃ আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্রের আলোচনা করেন আমেরিকান শিক্ষা মনোবিদ David Reading Krathwohl । ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত “Taxonomy of educational objectives: Handbook II: Affective domain” গ্রন্থে বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে ।

৩২. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র কয়টি পর্যায়ে গঠিত হয়েছে ?
উঃ আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র পাঁচটি পর্যায়ে গঠিত হয়েছে, যথাঃ গ্রহণ (Receiving), সাড়াপ্রদান (Responding), মূল্যাঙ্কন (Valuing), বিষয় সংগঠন (Organizing) এবং বৈশিষ্ট নির্ণয় (Characterizing) ।

৩৩. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র এর গ্রহণ (Receiving) পর্যায় বলতে কি বোঝায় ?
উঃ আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র এর গ্রহণ পর্যায় হল শিখনের সর্বনিম্ন স্তর । শিখনের যে পর্যায়ে শিক্ষার্থী আগ্রহপূর্বক মনোযোগ দিয়ে বিষয় অনুধাবন করে তাকে গ্রহণ বলে । এই স্তর ছাড়া, কোন শিখন ঘটতে পারে না। গ্রহণের জন্য ছাত্রদের স্মৃতিশক্তি এবং জিঘাংসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

৩৪. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র এর সাড়াপ্রদান (Responding) পর্যায় বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিখনের যে পর্যায়ে শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে শেখার প্রক্রিয়ার মধ্যে অংশগ্রহণ করে উদ্দীপনাগুলিতে সক্রিয় ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় বা প্রত্যুত্তর প্রদান করে সেই পর্যায়কে সাড়াপ্রদান পর্যায় বলে । এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী বিষয়টি কত পরিমাণ আয়ত্ব করতে পারল বা সঠিকভাবে বিষয় তার বোধগম্য হচ্ছে কি না তা বোঝা যায় ।

৩৫. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র এর মূল্যাঙ্কন (Valuing) পর্যায় বলতে কি বোঝায় ?
উঃ আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র এর তৃতীয় বা মধ্যম পর্যায় হল মূল্যাঙ্কন পর্যায় । শিখনের যে পর্যায়ে শিক্ষার্থী বিষয়ের বিভিন্ন তথ্য, ঘটনা ইত্যাদির মূল্য নির্ধারণ করে বা করতে সক্ষম হয় তাকে মূল্যাঙ্কন পর্যায় বলে । এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানের মান সম্পর্কে ধারণা গঠিত হয় ।

৩৬. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র এর বিষয় সংগঠন (Organizing) পর্যায় বলতে কি বোঝায় ?
উঃ আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র এর চতুর্থ পর্যায় হল বিষয় সংগঠন পর্যায় । শিখনের যে পর্যায়ে শিক্ষার্থী বিষয়ের বিভিন্ন মান, তথ্য এবং ধারণা একসাথে আয়ত্ব করতে পারে এবং তাদের নিজের স্কিমার মধ্যে বিষয়গুলোর সমন্বয়সাধন করার দক্ষতা অর্জন করতে পারে তাকে বিষয় সংগঠন পর্যায় বলা হয় ।

৩৭. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র এর বৈশিষ্ট নির্ণয় (Characterizing) পর্যায় বলতে কি বোঝায় ?
উঃ শিখনের যে স্তরে শিক্ষার্থী বিমূর্ত জ্ঞান নির্মাণ করার চেষ্টা করে তাকে বৈশিষ্ট নির্ণয় পর্যায় বলা হয় । ইহা আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে প্রাক্ষোভিক ক্ষেত্র এর সর্বোচ্চ বা অন্তিম পর্যায় ।

৩৮. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে মনঃসঞ্চালনমূলক ক্ষেত্র আলোচনা কে করেন ?
উঃ আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে মনঃসঞ্চালনমূলক ক্ষেত্র বিভিন্ন সময়ে তিনজন শিক্ষামনোবিদ আলোচনা করেন । এদের মধ্যে Dave ১৯৭০ সালে, Harrow ১৯৭২ সালে এবং Simpson ১৯৭২ সালে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন ।

৩৯. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে মনঃসঞ্চালনমূলক ক্ষেত্র তে ডাভে কয়টি পর্যায়ের উল্লেখ করেন ?
উঃ R.H. Dave ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তার “Psychomotor Levels in Developing and Writing Behavioral Objectives” নামক গ্রন্থে মনঃসঞ্চালনমূলক ক্ষেত্র তে পাঁচটি পর্যায়ের উল্লেখ করেন

৪০. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে মনঃসঞ্চালনমূলক ক্ষেত্র তে হারো কয়টি পর্যায়ের উল্লেখ করেন ?
উঃ Anita J. Harrow ১৯৭২ সালে প্রকাশিত তার “A Taxonomy of Psychomotor Domain: A Guide for Developing Behavioral Objectives” ৬ টি পর্যায়ের উল্লেখ করেন ।

৪১. আচরণের উদ্দেশ্য সাধনে মনঃসঞ্চালনমূলক ক্ষেত্র তে সিম্পসন কয়টি পর্যায়ের উল্লেখ করেন ?
উঃ Elizabeth Jane Simpson ১৯৭২ এ প্রকাশিত তার “THE CLASSIFICATION OF EDUCATIONAL CBJECTIVES, PSYCHOMOTOR DOMAIN” এ মনঃসঞ্চালনমূলক ক্ষেত্র এর ৭ টি পর্যায়ের উল্লেখ করেন ।

৪২. মাতৃভাষা শিক্ষার প্রধান কয়টি বিকাশধর্মী উদ্দেশ্য রয়েছে ?
উঃ মাতৃভাষা শিক্ষার প্রধান দু’টি বিকাশধর্মী উদ্দেশ্য রয়েছে, যথাঃ ক) গ্রহণদক্ষতার বিকাশ এবং খ) প্রকাশধর্মী ক্ষমতার বিকাশ ।

➣ গণিত mcq

৪৩. গ্রহণদক্ষতার বিকাশ এর কয়টি কার্যাবলী রয়েছে ?
উঃ গ্রহণদক্ষতার বিকাশ এর ২ টি কার্যাবলী রয়েছে, যথাঃ অ) কিছু শুনে তা বোঝার ক্ষমতা এবং আ) লিখিত বিষয় পাঠের মাধ্যমে বোঝার ক্ষমতা । অর্থাৎ গ্রহণদক্ষতার বিকাশ এর সঙ্গে শ্রবণ এবং পঠন বিষয়দুটি যুক্ত রয়েছে ।

৪৪. গ্রহণদক্ষতার বিকাশে বিষয়বস্তুকে গ্রহণের উপায়গুলি কিকি ?
উঃ গ্রহণদক্ষতার বিকাশে বিষয়বস্তুকে গ্রহণের উপায়গুলি হলঃ অ) প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার দ্বারা গ্রহণ, আ) বার্তালাপের মাধ্যমে গ্রহণ এবং ই) প্রত্যক্ষ পঠনের মাধ্যমে গ্রহণ ।

৪৫. শোনার প্রক্রিয়া কয়টি পর্যায়ে সম্পন্ন হয় ?
উঃ শোনার প্রক্রিয়া দু’টি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়, যথাঃ অ) অভিজ্ঞতা বা প্রত্যাভিজ্ঞা এবং আ) নির্বাচন ।

৪৬. পঠনের মূল উদ্দেশ্য কি ?
উঃ পঠনের মূল উদ্দেশ্য হল ভাষার লিখিতরূপটি উপলব্ধি করে তার অর্থ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা গঠন করা ।

৪৭. প্রকাশধর্মী ক্ষমতার বিকাশ এর কয়টি কার্যাবলী রয়েছে ?
উঃ প্রকাশধর্মী ক্ষমতার বিকাশ এর মূলতঃ দুইটি কার্যাবলী রয়েছে, যথাঃ অ) মৌখিক প্রকাশ দক্ষতা এবং আ) লিখিত প্রকাশ দক্ষতা । অর্থাৎ প্রকাশধর্মী ক্ষমতার বিকাশ এর সাথে বলা ও লেখা বিষয়দুটি যুক্ত রয়েছে ।

৪৮. মৌখিক প্রকাশ দক্ষতা বিকাশের প্রধান শর্ত কি ?
উঃ মৌখিক প্রকাশ দক্ষতা বিকাশের প্রধান শর্ত হল সহজ, স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজের ভাব প্রকাশ করা ।

৪৯. লিখিত প্রকাশ দক্ষতা বিকাশের প্রধান শর্ত কি ?
উঃ লিখিত প্রকাশ দক্ষতা বিকাশের প্রধান শর্ত হল সহজ, স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে লিখে কোন বিষয়কে উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজের ভাব প্রকাশ করা ।

৫০. কথা বলার প্রথম পর্যায়ে কোন কোন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ?
উঃ কথা বলার প্রথম পর্যায়ে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ ও যুক্তব্যঞ্জনবর্ণগুলির সঙ্গে পরিচিতি করানোর উপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ।


 


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading