Secret of Terror Castle-2
সিক্রেট অফ টেরর ক্যাসল্
সাহিত্য হল সমাজের দর্পণ । সমাজ জীবনের টুকরো টুকরো তথ্যকে লিখনী নামক সুতোয় গেঁথে পাঠকের কাছে পৌঁছে পৌঁছে দেয় সাহিত্য কর্ম । সাহিত্য কাঁদাতে পারে, পারে হাসাতে আবার সাহিত্য পাঠের মাধ্যমেই ভাষাগত জ্ঞান পূর্ণতা পায় । বাংলার সাহিত্যের আনাচে-কানাচে পড়ে রয়েছে সাহিত্যরুপি অনেক মণি-মুক্ত । অনেক স্রষ্টার অনেক সৃষ্টি । আমাদের লক্ষ্য সেই সমস্ত মণি-মানিক্যের সম্ভারকে পাঠকের কাছে তুলে ধরা । স্রষ্টার সৃষ্টি ও আধুনিক সময়ের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটিয়ে পাঠককে উৎসাহিত করে সাহিত্য পাঠে আগ্রহী করে তোলা । সেই উদ্দেশ্যেই বৈঠকি সাহিত্য বিভাগে এখন থাকছে Secret of Terror Castle [সিক্রেট অফ টেরর ক্যাসল্] (দ্বিতীয় অংশ)।
সিক্রেট অফ টেরর ক্যাসল্
উৎস : হিচকক রচনা
[২]
বিকেল প্রায় শেষ হয়ে আসছে। শেষ বিকেলের রোদ, ঝলমল করছে চারদিক। বাইক দাঁড় করিয়ে বব এগিয়ে গেল গ্রীন গেট ওয়ানের দিকে।
ইয়ার্ডের একদিকে তাকিয়ে বব দেখতে পেল জুপিটারের কাকিমা মিসেস জোন্স খুব চাপাস্বরে কথা বলছে একজনের সঙ্গে। লোকটিকে বব চেনে, তার নাম হেনস্। মিঃ জোন্স-এর কারবারের বহুকালের সঙ্গী। মনে হয় মিসেস জোন্স তাকে কিছু একটা করবার জন্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
বব এগিয়ে গেল সামনের দিকে। ওকে কেউ দেখতে পায়নি। তারপর দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো বব। তারপর চটপট চারদিক দ্রুত নজরে দেখে নিয়ে দরজাটা খুলে ঢুকে পড়লো ভিতরে।
বড়ো একটা টেবিলের একপাশে চেয়ারে পা তুলে বসেছিল জুপিটার। তার কিছুটা দূরে বসে পিট। ববকে ভিতরে ঢুকতে দেখে জুপিটার সহজ গলায় বললো, খুব দেরি করলে যে বব?
কথাটা সে এমনভাবে বললো যেন বব-এর খেয়াল নেই সময়ের দিকে।
বব মাথা নেড়ে কিন্তু নিজের দেরি হওয়ার ব্যাপারটাকে সমর্থন করে বললো, জানি দেরি হয়েছে। লাইব্রেরি থেকে তাড়াতাড়ি আসার চেষ্টাও করেছিলাম, কিন্তু দেরি হয়ে গেল।
জুপিটার তাকালো। স্পষ্ট চাউনি। বললো কিছু পেয়েছো?
হ্যাঁ, সাধ্যমতো তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করেছি, একটু থেমে বললো, একটা ‘ভয়ঙ্কর দুর্গের’ খবর এনেছি।
ভয়ঙ্কর দুর্গ! অস্পষ্ট স্বরে কথাটা উচ্চারণ করে ববের দিকে তাকালো জুপিটার। তারপর বললো-ভয়ঙ্কর দুর্গ শুধু এই নামটাই আমার পছন্দ নয়।
আরে আগে শুনবে তো ব্যাপারটা কি, তারপর বললো, আমি যে দুর্গটার খবর এনেছি, সেটি সত্যিই খুবই ভয়াল-ভয়ঙ্কর। এই দুর্গে নাকি মানুষ এক রাত্তিরও কাটাতে পারেনি কখনো। সবশেষে এই দুর্গে পাঁচজনের একটা পরিবার রাত কাটাবার চেষ্টা করেছিল-শোনা যায় তারা আর দুর্গের বাইরে ফিরে আসেনি।
এতক্ষণে জুপিটার বেশ উৎসাহ বোধ করলো। তারপর একটা চেয়ার দেখিয়ে ববকে বসতে বলে বললো একেবারে গোড়া থেকে শুরু করো, শুনি।
বব বসল চেয়ারটায়। তারপর পকেটে হাত ঢুকিয়ে বার করলো একটা বাদামী রঙের খাম।
বব এবার খামটা হাতে নিয়ে জুপিটারের দিকে তাকিয়ে বললো দেখ প্রথম থেকে ঘটনা শুরু করতে গেলে, আমার সবার আগে বলতে হয় স্কিনি নোরিসের কথা। সারাটা দিন ছেলেটা আজ আমার পিছনে একেবারে আঠার মত লেগেছিল, একটুও কাজ করতে দেয়নি ভালো মত।
বাবর কথা শেষ হতে না হতেই পিট উত্তেজিত স্বরে বললো, হতভাগাটা, পরের ব্যাপারে নাক গলানোর অভ্যাস দেখছি ছাড়লো না এখনো। না-একদিন ভালো মত কড়কে দিতে হবে দেখছি।
পিটকে উত্তেজিত হতে দেখে বর মৃদু হেসে বললো, মারধোর পরে হবে, আগে শোনো যা বলি। কথাটা শেষ করে বব এবার জুপিটারের দিকে তাকিয়ে বললো আজ লাইব্রেরিতে পা দিতে না দিতেই আমার সঙ্গে অযথা যেচে আলাপ করতে এগিয়ে এল নোরিস। তার আলোচনার প্রথম কথাই ছিল জুপের পুরস্কার জিতে গাড়ি পাওয়ার কথা। সে বার বার আমার কাছ থেকে জানতে চাইছিল গাড়িটা জুপ কিভাবে ব্যবহার করতে চায়।
জুপিটার হাসলো। তারপর পরম বিজ্ঞের মত পা দুলিয়ে তাচ্ছিল্যের স্বরে বললো, ছেলেটা আমাকে ভীষণ ভয় পায়। আর পাবে নাই-ই বা কেন বল, স্কুলের ছেলেদের মধ্যে এতদিন তো গাড়ি একা শুধু তারই ছিল। এর জন্য কি দেমাকই না ছিল নোরিসের। একটু থেমে এবার জুপিটার বললো, আসলে কি জানো তো ও নিজে গাড়ি চালাতে পারে না, ড্রাইভারের ওপর ওকে নির্ভর করে থাকতে হয়। তাই গাড়ি নিয়ে আমরা যা করতে পারব, ও তা পারবে না। তারপর তারপর? বলো বব-শুনি, কি হল তারপর?
-লাইব্রেরিতে পৌঁছে আমি ক্যাটালগ দেখে পুরনো কাগজপত্র বার করে টেবিলে বসে কাজ শুরু করেছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম নোরিস এসে বসল আমার পাশে। ড্যাব ড্যাব করে তাকাচ্ছিল আমার কাগজগুলোর দিকে। আমি বেশ বুঝতে পারছিলাম ও সবকিছু পড়তে পারছে। ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিল আমার। অবশেষে সে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, আমি এসব কিসের জন্য করছি? আমি বললাম, ব্যাপারটা জুপিটারের দরকার, তার জন্যই আমি তথ্য সংগ্রহ করছি। কথাটা বলে আমি অন্য দিকে মন দেওয়ার চেষ্টা করলাম, যাতে সে সঠিকভাবে কিছু আঁচ করতে না পারে।
আচ্ছা বেশ, তারপর? তারপর কি হল বল?
এবার সে দৃঢ়স্বরে বললো, তুমি যে বিজনেস কার্ডটা আমায় দিয়েছিলে, সেই কার্ডটা আমি টেবিলের ওপর রেখেছিলাম। ওই কার্ডে তোমার নিজের হাতে লেখা ছিল, ভয়ঙ্কর দুর্গ, মনে আছে নিশ্চয়ই তোমার?
ববের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় জুপিটার বললো-
কিছুক্ষণ পর খোঁজ করতে গিয়ে সেই কার্ড তুমি আর দেখতে পেলে না। এই তো? ঠিক বলেছো তুমি, ঠিক তাই, তা তুমি এটা জানলে কি করে?
ববের প্রশ্নে মুচকি হাসল জুপিটার। বললো, কার্ডটা না হারালে, তুমি কোনোমতেই এই প্রসঙ্গ তুলতে না। আর তাছাড়া তুমি যে পরে লাইব্রেরির সব কাগজপত্রও খুঁজে দেখেছো তাতেও আমার কিছুমাত্র সন্দেহ নেই।
হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছো। আমি কার্ডটার জন্য গোটা লাইব্রেরি রুম তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি, কিন্তু খুঁজে পাইনি। তবে আমার যতদূর সম্ভব মনে হয় ওই কার্ডটা নোরিসই নিয়ে গেছে। কারণ এরপর সে আমার ওখান থেকে চলে গিয়েছিল।
বব ব্যাপারটায় গুরুত্ব দিলেও জুপিটার বিশেষ একটা গুরুত্ব দিল না। বরং সহজ গলায় ববের দিকে তাকিয়ে বললো শোনো বব, আমাদের কাছে নোরিসের খবরটা জরুরী নয়, আমাদের বিশেষভাবে জানার দরকার ওই ভয়ঙ্কর দুর্গের বিষয়। তুমি বরং সেই বিষয়েই বলো।
….বব বলতে শুরু করলো আবার। … দুর্গটা হলিউডের কাছাকাছি একটা সংকীর্ণ গিরিখাদের কাছে অবস্থিত। জায়গাটা ভীষণ নির্জন। জনসাধারণ এই জায়গাটাকে ভীষণ অন্ধকার গিরিখাদ বলেই জানে। সূর্যের আলো একেবারেই ওখানে প্রবেশ করে না। এই ভয়ঙ্কর দুর্গের আসল নাম টেরিল দুর্গ। অনেককাল আগে মিঃ স্টিপেন টেরিল নামে এককালের বিখ্যাত একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা এই দুর্গটিকে তৈরি করিয়েছিলেন। মিঃ টেরিল ছিলেন সেই সময়কার বিখ্যাত অভিনেতা যখন সিনেমা ছিল নির্বাক। ভদ্রলোক বিভিন্ন ছবিতে বিভিন্ন রূপে সাজতেন। কখনও তাকে দেখা যেত নেকড়ের পোশাকে, কখনও বা রক্তচোষা দৈত্যের ভূমিকায়। নানা ধরনের ভয়াবহ সব চরিত্রে রূপ দেওয়ার ফলে তার মধ্যে একটা অদ্ভুত ক্ষমতা জন্মেছিল। ফলে তিনি অদ্ভুত আশ্চর্য ধরনের একটা বাড়ি তৈরি করিয়েছিলেন। বাড়িটাকে দেখতে অনেকটা পুরনো যুগের দুর্গের মত। সেই দুর্গে ছিল অসংখ্য সব বিচিত্র ছবি, পোশাক-পরিচ্ছদ, নিজের বিভিন্ন রূপসজ্জায় তোলা অসংখ্য ছবি আর ছিল, মিশরের মমি।
-দারুণ!
বোঝা গেল জুপিটার যেন ভিতরে ভিতরে বেশ উৎসাহী ও কৌতূহলী হয়ে উঠেছে। পিট-এর কিন্তু জুপিটারের এই উক্তি একেবারেই পছন্দসই হলো না। সে তাড়াতাড়ি বললো দারুণ বললে কিসের জন্য, এখনো তো ভয়ঙ্কর দুর্গের ভয়াল ভয়ঙ্কর রূপের কোনও প্রমাণ পাইনি।
বব আবার নিজের বক্তব্য শোনাতে লাগলো-মিঃ স্টিপেন টেরিল-এর জনপ্রিয়তা একসময় চরমে উঠেছিল। লোকে তাকে বহুরূপী বলতো। তারপর এলো সবাক ছবির যুগ। অতএব সিনেমার ছবিরা কথা বলা শুরু করায় মিঃ স্টিপেন টেরিলের বাজার গেল নষ্ট হয়ে। সবাক ছবিতে তার কণ্ঠস্বর কেউ মেনে নিতে পারলো না।
-কি রকম? কি রকম? ব্যাপারটা একটু খুলে বলো।
কি রকম আবার-খ্যানখেনে মত নাকি সুরে কথা বলা। জোরে কথা বললে কণ্ঠস্বর আরো ভয়াবহ হয়ে উঠত তার।
আশ্চর্য! লোকটা তাহলে একটা জ্যান্ত দৈত্য ছিল বলতে হয়। শুনেছি দৈত্যদেরই একমাত্র এই ধরনের কণ্ঠস্বর হয়ে থাকে।
অবশেষে তিনি ছবি তোলা স্রেফ বন্ধ করে দিলেন, বাড়ির চাকর-বাকরদেরও বিদায় দিলেন। এমন কি তার প্রিয় বন্ধু মিঃ জোনাথন রেক্সকেও তিনি বিদায় করে দিলেন। এরপর থেকে তাকে কেউ দেখেনি কখনো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি টেলিফোন ও চিঠিতেই কাজ সারতেন। ফলে ধীরে ধীরে বিখ্যাত মানুষটা একসময় লোকচক্ষুর একেবারে অন্তরালে চলে গেলেন।
তারপর হঠাৎ একদিন তার পুরনো গাড়িটাকে লোকে দেখতে পেলো হলিউড-এর মাইল দশেক উত্তরে। গাড়িটা রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে এমনভাবে উল্টে পড়ে ছিল, যে আর একটু হলেই গাড়িটা অবশ্যই সমুদ্রের মধ্যে পড়ে যেত।
গাড়ির নম্বর থেকে পুলিশ প্রথম জানতে পারল গাড়ির মালিককে। তারা দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ির চালককে খুঁজে পেল না। সবাই মনে করলো, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না, সম্ভবতঃ তিনি সমুদ্রের জলেই তলিয়ে গেছেন।
একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলো বব… পুলিশ পরে সেই ভয়ঙ্কর গিরিখাদ সংলগ্ন দুর্গটিকে তন্ন তন্ন করে তল্লাসী করেছিল। কিছুই পায়নি। কেবল দেখেছিল দুর্গের দরজাগুলো খোলা আছে, ভিতরে কেউ নেই। পরে তারা ঐ দুর্গের লাইব্রেরি রুম থেকে একটা চিরকুট উদ্ধার করে।
বব এবার তার হাতের কাগজটা তার সামনে মেলে ধরে পড়তে লাগল কিছুটা উচ্চস্বরে…
‘পৃথিবীর কোন মানুষ হয়তো আর আমাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পাবে না। তবে আমার আত্মা এখান থেকে চলে যাবে না কখনোও। এই দুর্গের সর্বত্র প্রতিমুহূর্তে সে থাকবে। আমার অবিনশ্বর আত্মার সঙ্গে এই দুর্গের মধ্যেই হবে আমার একান্ত অবস্থিতি। ইতি-স্টিপেন টেরিল।’
➣ পড়ুন : কুইজ মাস্টার, কুইজ ক্যাপসুল
ববের কথাটা শেষ হতে না হতেই পিট বলে উঠল, ও হো, এই ঘটনাটা যেন আমি কোথাও শুনেছি আগে। তবে ঠিক এই রকম নয়। একটু অন্যরকম ভাবে।
বব এবার ভীষণ বিরক্ত হয়ে তাকালো বক্ করে ওঠা পিটের দিকে। বললো দাঁড়াও বন্ধু। আগে আমায় শেষ করতে দেবে তো। তারপর আবার চললো-পুলিশ ঐ দুর্গটায় বহুদিন তল্লাসী করেও টেরিলের ওই চিরকুট ছাড়া আর কিছুই পায়নি। অনেক পরে ব্যাপারটা জানা গেল। … স্থানীয় একটা ব্যাঙ্কের কাছে টেরিলের ওই বাড়িটা মর্টগেজ দেওয়া ছিল বেশ মোটা টাকায়। সেই কারণেই তার মৃত্যুর পর ব্যাঙ্ক কিছুদিন অপেক্ষা করে, ওই বাড়ির জিনিসগুলো দখল করার জন্য লোক পাঠায়। আর, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, ব্যাঙ্ক যে লোকগুলোকে ওই বাড়িতে পাঠিয়েছিল মিঃ টেরিলের জিনিসপত্তরগুলো বার করে আনার জন্য, তারা সেই কাজে একেবারেই সফল হয়নি শেষ পর্যন্ত। অদ্ভুত আশ্চর্য এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে তারা ভয় পেয়ে শেষপর্যন্ত পালিয়ে আসে! পরে তারা তাদের অভিজ্ঞতা জানায়, ওই বাড়িতে তারা অদ্ভুত কিছু ভৌতিক এবং অলৌকিক জিনিস দেখেছে, আর শুনেছেও। তবে সঠিকভাবে ব্যাপারটা তারা বুঝিয়ে বলতে পারেনি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ব্যাঙ্ক বাড়িটাকে অল্প টাকায় বেচে দেওয়ার চেষ্টা করে। অথচ আশ্চর্যের কথা, এই বাড়িতে এখনো পর্যন্ত কেউই একটা রাতও পুরোপুরি কাটাতে পারেনি। আর এখন তো কেউ যেতেও চায় না। যে দু-চারজন সাহস করে গিয়েছিল তারা সকলেই বলেছেন, বাড়িটার মধ্যে প্রবেশ করলে একটা ভৌতিক অনুভূতি, গা শিরশির ভাব তারা অনুভব করেন, বেশীক্ষণ থাকতে পারেন নি তারা ওখানে।
এরপর থেকে অনেক লোকই ওই বাড়িতে রাত্রিবেলায় থাকার চেষ্টা করেছে কেউই পারেনি। একবার চলচ্চিত্র জগতের এক ডাকসাইটে মহিলা নাকি নিজেকে বিজ্ঞাপিত করার আশায় একবার চেষ্টা করেছিল রাতে ওই বাড়িতে একলা থাকতে, কিন্তু মাঝরাতের পরই তিনি সাংঘাতিক ভয় পেয়ে ছুটে বেরিয়ে যান। ভয়ার্ত মহিলার দাঁতে দাঁত এমনভাবে লেগে গিয়েছিল যে অনেকদিন পর্যন্ত তিনি কথা বলতে পারেন নি। তার বক্তব্যে জানা যায়, ওই বাড়িতে তিনি নাকি স্পষ্ট এক নীলাভ ছায়ামূর্তি দেখেছেন।
জুপিটার এতক্ষণ মন দিয়ে শুনছিল সব কথাগুলো। বব থামতেই সে বললে এবার তাহলে আমাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের পালা কি বলো? বাকি কাজটুকু যে আমাদেনাই সমাধান করতে হবে।
ববের। আমার মনে হয় ঘটনা এখনো শেষ হয়নি। আরো অনেক কিছু বলা বাকি আছে
পিট জুপিটারকে লক্ষ্য করে কথাটা বললো। পিটের এই কথায় জুপিটার ববের দিকে তাকিয়ে বললো, কি হে বব, আরো কিছু বলা বাকি আছে নাকি?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। আর একটা ঘটনা বলতে চাই আমি। যদিও ঘটনাটা ঠিক আগের মত, তবু ব্যাপারটা আমাদের সকলেরই জানা দরকার।
-কি? বলো শুনি তাহলে।
পশ্চিম দেশ থেকে পাঁচজনের একটা পরিবার এসেছিল এই বাড়িতে থাকার জন্য।
ব্যাঙ্ক থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যদি কেউ একটা পুরো রাত্তির ওই বাড়িতে থাকতে পারে, তবে তাকে এক বছরের থাকা খাওয়ার খরচ দেওয়া হবে এবং মোটা টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
ঐ পরিবারের পাঁচজনের দলটি মাঝরাত পর্যন্ত ভালোই ছিল। তারপর তারা ভয়ঙ্কর ভয়ের তাড়নায় অস্থির হয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে।
-তারা কিছু কি দেখেছিল?
ঐ পরিবারের লোকেরা প্রথমটায় কিছুই দেখতে পায়নি। পরে অবশ্য তারা স্পষ্টই দেখেছে তারা দৃঢ়স্বরে বলেছে অসংখ্য অশরীরি তারা দেখতে পেয়েছে। শুধু তাই নয়, পাইপ অরগ্যান থেকে বাজনার সুর এখনো নাকি ঐ দুর্গ থেকে শোনা যায়। অবশ্য পরে একটা তদন্তকারীর দল ব্যাপারটা তদন্তের জন্য গিয়েছিলেন। তারা বলেছেন, ওই বাড়িতে তারা এমন কিছু দেখতে বা শুনতে পাননি। তবে সব সময় তারা অদ্ভুত একটা আতঙ্কের অনুভূতি অনুভব করেছেন। তারাও এই অনুভূতিতে অস্বস্তিবোধ হওয়ায় মাঝরাতের পর বাধ্য হয়ে বাড়িটার বাইরে চলে আসেন।
ববের বক্তব্য শেষ হতেই জুপিটার। বললো আর কিছু বলার আছে তোমার?
না, আমার আর কিছু বলার নেই। তবে শুধু এইটুকুই বলতে পারি বাড়িটা শেষ অবধি ব্যাঙ্ক বিক্রি করতে পারেনি। ওটা এখনো ওই অবস্থাতেই আছে। কেউ আর সেখানে যায় না-প্রচণ্ড ভয় পায়, অন্ততঃ দীর্ঘ বাইশ বছরের রেকর্ড তাই বলছে।
-তোমার রেকর্ড অনুসারে তাহলে এই দাঁড়ালো যে দীর্ঘ বাইশ বছরের মধ্যে ওই বাড়িতে কেউ পুরো একটা রাতও কাটাতে পারেনি-এই তো?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক তাই। অন্তত বিগত কয়েক বছর ধরে যখন আর কোনও খবর কাগজে প্রকাশ পায়নি, তখন আমার মনে হয় ঐ ভয়ঙ্কর দুর্গটি এখনও একই ভাবে পরিত্যক্ত অবস্থাতেই পড়ে আছে। ব্যাঙ্কও আর বিক্রি করার চেষ্টা করেনি। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো লোকে বাড়িটা ভুতুড়ে বলেই ওর ধারে কাছে ঘেঁষতে চায় না।
-ঠিক আছে কেউ যেতে না চায়, আমরা তো অবশ্যই যাব।
আর যাবো আজই-
জুপিটার বললো-এই ব্যাপারে আমাদের আর কোনও কিন্তু থাকতে পারে না। হাতে সময় কম, কাজটাও জরুরী। অতএব আমি আর সময় নষ্ট করতে চাই না। আজ রাত্রেই আমাদের যেতে হবে ওখানে। তবে আমাদের এই যাওয়া। কেবল দুর্গটার ভিতরে অস্বাভাবিক কিছু আছে কিনা তা দেখে আসার জন্যে। আমার মনে হয় ভুতুড়ে বাড়িতে অলৌকিক কিছু খুঁজে বার করতে হলে রাতের দিকে যাওয়াটাই ভালো। জুপিটার এবার তাকালো তার দুই সঙ্গীর দিকে। কারো মুখে কোনও কথাটি নেই।… আমরা ওই ভুতুড়ে ভয়াল ভয়ঙ্কর দুর্গে যাব ক্যামেরা আর টেপরেকর্ডার নিয়ে। এসবের উদ্দেশ্য হল অস্বাভাবিক কিছু দেখলে তার ছবি তুলে নেওয়া আর কোন কিছু শব্দ শোনা গেলে তা টেপে তুলে নেওয়া। এরপর শুরু হবে আমাদের সত্যিকারের অভিযান।
জুপিটারের কথায় ওরা কেউই আপত্তি করতে পারলো না। তারা চুপ করেই থাকলো। আর তাদের মৌনতাই বুঝিয়ে দিল সম্মতির লক্ষণ।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
