UN Corrects The Map
UN Corrects The Map After 457 Years
আমরা স্কুলের দেয়ালে, বইয়ের পাতায়, গুগল ম্যাপে যে পৃথিবীর মানচিত্র দেখি, সেটি গত 457 বছর ধরে আমাদের একটি মিথ্যা ধারণা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি, 4 সেপ্টেম্বর 2026 তারিখে রাষ্ট্রসংঘ (UN) তার সাধারণ সভায় এই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি কেবল একটি মানচিত্র বদল নয়, এটি পৃথিবীকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদল। আমরা UN Corrects The Map নামক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো ।
জাতিসংঘ দ্বারা পৃথিবীর মানচিত্র বদল : 457 বছরের ভুলের অবসান

⟽ Previous Post : বিপর্যয়ের কবলে নেপাল
আমরা স্কুলের দেয়ালে, বইয়ের পাতায়, গুগল ম্যাপে যে পৃথিবীর মানচিত্র দেখি, সেটি গত 457 বছর ধরে আমাদের একটি মিথ্যা ধারণা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি, 4 সেপ্টেম্বর 2026 তারিখে রাষ্ট্রসংঘ (UN) তার সাধারণ সভায় এই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি কেবল একটি মানচিত্র বদল নয়, এটি পৃথিবীকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদল।
ঘটনার পটভূমি: দুটি মানচিত্রের লড়াই
A. মার্কেটর প্রজেকশন – 1569 সাল: 1569 সালে ফ্লেমিশ ভূগোলবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর নাবিকদের জন্য একটি মানচিত্র তৈরি করেন। সেই সময় ইউরোপ থেকে জাহাজে করে সমুদ্র অভিযান চলত, তাই দিক নির্ণয় ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটর ম্যাপে দিক নির্ভুল থাকে, কিন্তু আকার মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়। গোলাকার পৃথিবীকে চ্যাপ্টা কাগজে আঁকতে গিয়ে মেরুর কাছাকাছি দেশগুলো ফুলে-ফেঁপে বিশাল হয়ে যায়।
বিকৃতির উদাহরণ:
– আফ্রিকার আয়তন 3 কোটি 3 লক্ষ বর্গকিলোমিটার, যা আমেরিকা, চীন, ভারত ও ইউরোপকে একসাথে ধারণ করতে পারে। অথচ মার্কেটর ম্যাপে তাকে গ্রিনল্যান্ডের সমান দেখায়, যা আসলে আফ্রিকার থেকে 14 গুণ ছোট।
– ইউরোপের আয়তন মাত্র 1 কোটি 2 লক্ষ বর্গকিলোমিটার, কিন্তু ম্যাপে তাকে অনেক বড় দেখায়।
– এর ফলে আমেরিকা, রাশিয়া, চীনের মতো উত্তরের দেশগুলোকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রভাবশালী দেখায়।

B. Equal Earth প্রজেকশন – 2018 সাল: এই বিকৃতির প্রতিবাদে 2018 সালে তিনজন মানচিত্রকার বোজন সাভরিচ, টম প্যাটারসন ও বার্নহার্ড জেনি মিলে “Equal Earth” মানচিত্র তৈরি করেন। এই মানচিত্রের মূলমন্ত্র হলো – “এটি মহাদেশগুলোর আপেক্ষিক ক্ষেত্রফলকে সংরক্ষণ করে এবং যতটা সম্ভব তাদের আকারকে গোলকের মতোই দেখায়”। এই ম্যাপে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়াকে তাদের সঠিক বিশাল আকারে দেখা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী ও সময়রেখা:UN Corrects The Map
ঘটনা-i: আফ্রিকার জাগরণ (2024-25): আফ্রিকান ইউনিয়ন বুঝতে পারে, এই ছোট করে দেখানো ম্যাপটি আফ্রিকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি করছে এবং বিশ্বে আফ্রিকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে খাটো করছে। “Correct The Map” নামে একটি বিশ্বব্যাপী প্রচারণা শুরু হয়। নাইজেরিয়ার মানচিত্রকার ফোলা লানিয়ান এই আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন।
ঘটনা-ii: প্রস্তাব উত্থাপন (আগস্ট 2026): আফ্রিকার দেশ টোগো, বাহামাস এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে UN-তে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব আনা হয় যে, UN-র সমস্ত সংস্থা ও শিক্ষা উপকরণে মার্কেটর ম্যাপ বাতিল করে Equal Earth ম্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
ঘটনা-iii: ঐতিহাসিক ভোটাভুটি (4 সেপ্টেম্বর 2026): রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি হয়।
– পক্ষে: 164টি দেশ (ভারত, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া সহ)
– বিপক্ষে: 1টি দেশ – আমেরিকা। আমেরিকার প্রতিনিধি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানটি তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে কারণ আসল সমস্যার পরিবর্তে ষোড়শ শতকের মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক করছে”।
– ভোটদানে বিরত: 6টি দেশ – সার্বিয়া, এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, লিথুয়ানিয়া, মলদোভা ও ইউক্রেন।
➣ মাধ্যমিক পরীক্ষার নম্বর বিভাজন
ঘটনা-iv: ফ্রান্সের বড় ঘোষণা: প্রস্তাবের সহ-পৃষ্ঠপোষক ফ্রান্স সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করে তারা তাদের সমস্ত সরকারি স্কুল ও দপ্তর থেকে মার্কেটর ম্যাপ সরিয়ে ফেলবে। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মানচিত্র বদলালে পৃথিবী বদলায় না, কিন্তু একটি বিকৃত উপস্থাপনাকে সংশোধন করা ইতিমধ্যেই সত্যের একটি কাজ”।
এই বদলের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব:
A. শিক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব: টোগোর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মানচিত্র কখনো নিরপেক্ষ নয়। এটি শিশুদের কল্পনাকে গড়ে তোলে”। যখন আফ্রিকার একটি শিশু দেখে তার মহাদেশটি ছোট, তখন তার মনে অজান্তেই হীনমন্যতা তৈরি হয়। নতুন ম্যাপ সেই হীনমন্যতা দূর করবে।
B. ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব: এটি উপনিবেশবাদের একটি প্রতীকী অবসান। মার্কেটর ম্যাপ ছিল ইউরোপ-কেন্দ্রিক বিশ্বের প্রতীক, যেখানে ইউরোপকে বিশ্বের কেন্দ্র ও বড় করে দেখানো হতো। Equal Earth ম্যাপ হলো Global South – আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়ার (ভারত সহ) উত্থানের প্রতীক।
C. প্রযুক্তিগত গুরুত্ব: UN প্রস্তাবটি আইনত বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু এটি একটি নৈতিক চাপ। UN গুগল, অ্যাপল ম্যাপ, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং বিশ্বের সমস্ত পাঠ্যপুস্তক প্রকাশককে নতুন ম্যাপ ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, 2027 সালের মধ্যে গুগল ম্যাপও এই পরিবর্তন আনবে।
UN Corrects The Map
এই মানচিত্র বদল প্রমাণ করে, সত্যের জন্য লড়াই কখনো বৃথা যায় না। 1569 সাল থেকে চলে আসা একটি ভুলকে সংশোধন করতে 457 বছর লাগল। এই ঘটনা আমাদের শেখায়, পৃথিবীতে কোনো দেশই ছোট নয়, কোনো জাতিই তুচ্ছ নয়। সকলেরই সমান মর্যাদা ও সমান আয়তন নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। UN-র এই সিদ্ধান্ত তাই কেবল ভূগোলের সংশোধন নয়, এটি মানবতার ইতিহাসে ন্যায়বিচারের একটি মাইলফলক।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.