NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

উচ্চ প্রাথমিক টেট নির্যাস

Child Development Concept & Principle


Child Development Concept & Principle

শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে । ঘোষণা হয়েছে 50000 শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি । আগামি পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । হয়তো পরবর্তী দুটি নিয়োগে সিট সংখ্যা বেশি থাকবে, তারপর ধীরে ধীরে সিট কমে যাবে । তাই ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে নিজেকে দাঁড়করাতে চাইলে প্রস্তুতি নিন এখন থেকে । বিজ্ঞপ্তির আশায় বসে থাকলে সময় নষ্ট হবে । পরীক্ষা যখন হবেই তখন প্রস্তুতি ফেলে রাখা উচিৎ নয় । তাই আমাদের প্রচেষ্টা আপনাদের হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়ালস তুলে দেওয়া। Child Development Concept & Principle টপিকটি  Upper Primary TET  এর প্রস্তুতির জন্য এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক।


Upper Primary TET Mega Preparation

[ব্ল্যাকবোর্ড ডাকছে তোমায়]

➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Upper Primary TET CDP

শিশুর বিকাশ : ধারণা ও নীতি 

Child Development - Concept & Principle

শিশুর বিকাশ : ধারণা ও নীতি

[Child Development Concept & Principle]

⟽ Previous Post : UP TET Practice Set

প্রাককথন: রঘুবর একজন নতুন শিক্ষক। চাকরির প্রথম দিন। বুকের ভেতর একরাশ উত্তেজনা নিয়ে ক্লাস ফাইভের দরজা ঠেললেন তিনি। ভেবেছিলেন, একই বয়সের বাচ্চা, সবাই বুঝি একই রকম হবে।
কিন্তু ক্লাসে ঢুকেই তিনি থমকে গেলেন।
সামনের বেঞ্চে বসা সুমন লম্বায় প্রায় তাঁর কাঁধ ছুঁই ছুঁই, আর তার পাশেই বসা বাপি বেঁটেখাটো। একই বয়স, অথচ কী অমিল! অঙ্কের ক্লাসে দেখলেন, সুমন চোখের পলকে অঙ্ক কষে ফেলছে, কিন্তু ছবি আঁকতে বললে তার হাত কাঁপে। আর বাপি? অঙ্ক দেখলেই তার মুখ শুকিয়ে যায়, কিন্তু রঙ-তুলি হাতে পেলে সে যেন এক অন্য মানুষ।
কেউ খুব শান্ত, সারাদিন একটা কথাও বলে না। আবার কেউ এত চঞ্চল যে এক মিনিটও চুপ করে বসতে পারে না।
টিফিনের ঘণ্টা পড়ল। রঘুবর বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবলেন— “সবাই তো একই বয়সের, একই ক্লাসে পড়ে। তাহলে এত তফাৎ কেন?
আসলে রঘুবরের এই ছোট্ট প্রশ্নটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে শিশু-মনস্তত্ত্বের সবচেয়ে বড় সত্য।
শিশুর বড় হওয়া মানে শুধু লম্বা হওয়া নয়, ওজন বাড়া নয়। তার ভিতরে ভিতরেও এক নিঃশব্দ বড় হওয়া চলতে থাকে — তার মন বড় হয়, বুদ্ধি বড় হয়, আবেগ বড় হয়, অন্যের সাথে মিশতে শেখে। বাইরের এই লম্বা হওয়াকে আমরা বলি বৃদ্ধি (Growth), আর ভিতর-বাইরের এই সামগ্রিক বড় হওয়াকে আমরা বলি বিকাশ (Development)।
এই তফাৎটা যে শিক্ষক বোঝেন না, তিনি কখনো ভালো শিক্ষক হতে পারেন না। কারণ তিনি তখন সবাইকে একই লাঠি দিয়ে মাপতে চাইবেন। আর যে শিক্ষক এই তফাৎটা বোঝেন, তিনি জানেন— ক্লাসটা একটা বাগানের মতো। সেখানে কোনো ফুল গোলাপ, কোনো ফুল জুঁই। মালীর কাজ সব ফুলকে গোলাপ বানানো নয়, প্রতিটি ফুলকে তার নিজের মতো করে ফুটতে দেওয়া।
চলুন, রঘুবরের হাত ধরেই আমরা সেই বাগানে ঢুকি।

১. বৃদ্ধি (Growth) বনাম বিকাশ (Development) : শিক্ষক রঘুবরের ক্লাসের কথাই ধরুন। সুমন আর বাপি — দুজনেরই বয়স এগারো। কিন্তু সুমন লম্বা, বাপি বেঁটে। এটা হলো বৃদ্ধির তফাৎ। আবার সুমন অঙ্কে ভালো, বাপি ছবি আঁকায় ভালো, সুমন শান্ত, বাপি চঞ্চল — এটা হলো বিকাশের তফাৎ। একজন শিক্ষক যদি এই দুটো শব্দের তফাৎ না বোঝেন, তবে তিনি কখনোই শিশুকে বুঝবেন না।

বৃদ্ধি কী?
বৃদ্ধি হলো শরীরের বাইরের পরিবর্তন। যা চোখে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লায় মাপা যায়।

এর তিনটি বৈশিষ্ট্য মনে রাখুন:
১. এটি পরিমাণগত (Quantitative): যেমন — উচ্চতা ৩ ফুট থেকে ৫ ফুট হলো, ওজন ১৫ কেজি থেকে ২৫ কেজি হলো। সংখ্যায় বলা যায়।
২. এটি নির্দিষ্ট সময়ে থেমে যায়: আমাদের হাড়ের বৃদ্ধি ১৮ থেকে ২০ বছরের পর থেমে যায়। এরপর আমরা আর লম্বা হই না।
৩. এটি কেবল শারীরিক: মন বা বুদ্ধির বৃদ্ধি হয় না, শরীরের হয়।

মনোবিজ্ঞানী আর্নল্ড গেসেল (Arnold Gesell) বলেছেন, “বৃদ্ধি হলো জীবের ভেতরের জৈবিক ঘড়ি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি প্রক্রিয়া।” অর্থাৎ ভেতর থেকেই শরীর বড় হওয়ার নির্দেশ আসে। ফ্রাঙ্ক আরও সহজ করে বলেছেন, “কোষের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আকারে যে পরিবর্তন হয়, তাই বৃদ্ধি।”

বিকাশ কী?
বিকাশ হলো সামগ্রিক বড় হওয়া। শুধু শরীর নয়, শরীরের সাথে মন, বুদ্ধি, আবেগ, নৈতিকতা ও সমাজ-চেতনার যে ধীর, প্রগতিশীল পরিবর্তন — তাই বিকাশ।

এরও তিনটি বৈশিষ্ট্য, যা বৃদ্ধির ঠিক উল্টো:
১. এটি গুণগত (Qualitative): যেমন — হামাগুড়ি থেকে হাঁটতে শেখা, কান্না থেকে ভাষায় কথা বলতে শেখা, রাগ হলে মারার বদলে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা, নিজের খেলনা বন্ধুকে ভাগ করে দেওয়া। এগুলো কেজি বা ফুটে মাপা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়।
২. এটি জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলে: বৃদ্ধি থেমে গেলেও বিকাশ থামে না। একজন ষাট বছরের মানুষও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি শিখতে পারেন। তাই বিকাশ জীবনব্যাপী।
৩. এটি সামগ্রিক (Holistic): NEP 2020 যে Holistic Development-এর কথা বলছে, সেটাই হলো এই বিকাশ।

এবার আসুন, বড় মনোবিদরা বিকাশকে কীভাবে দেখেছেন, তা একটু গভীরে বুঝি — কারণ এখান থেকেই TET-এ প্রশ্ন আসে।

১. এলিজাবেথ হারলক (E. B. Hurlock) – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা: তিনি বলেছেন, “বিকাশ মানে শুধু বড় হওয়া নয়, বরং এটি হলো পরিপক্কতার দিকে একটি প্রগতিশীল ধারাবাহিক পরিবর্তন।” অর্থাৎ, বিকাশ সবসময় উন্নতির দিকে নিয়ে যায়। শিশুটি আজকের চেয়ে কাল আরও পরিণত হবে।

২. জঁ পিঁয়াজে (Jean Piaget): পিঁয়াজে বলেছেন, বিকাশ চারটি শক্তির যোগফল। বিকাশ = পরিপক্কতা + অভিজ্ঞতা + সামাজিক আদান-প্রদান + ভারসাম্য। একটি শিশু শুধু বড় হলেই (পরিপক্কতা) শিখবে না, তাকে পরিবেশের সাথে মিশতে হবে, কাজ করে দেখতে হবে, আর ভুল-ঠিকের মধ্যে ভারসাম্য করতে হবে।

৩. জেমস ড্রেভার (James Drever): তাঁর মতে, “বিকাশ হলো সেই প্রক্রিয়া যার দ্বারা প্রাণী তার পরিবেশের সাথে ক্রমশ আরও জটিলভাবে মানিয়ে নিতে শেখে।” অর্থাৎ, আগে শিশু কাঁদত, এখন সে কথা বলে, যুক্তি দিয়ে তার প্রয়োজন মেটাতে শেখে — পরিবেশের সাথে তার মানিয়ে নেওয়া আরও উন্নত হলো।

তাহলে দুটির মধ্যে সম্পর্ক কী?
বোঝার জন্য একটি সোনার লাইন মনে রাখুন, যা পরীক্ষায় সরাসরি আসে: “সব বৃদ্ধিই বিকাশ, কিন্তু সব বিকাশই বৃদ্ধি নয়।”
যখন শিশুর উচ্চতা বাড়ে, তখন তার বৃদ্ধির সাথে সাথে বিকাশও হয়। কিন্তু যখন সে মিথ্যা না বলতে শেখে, অন্যের দুঃখে কাঁদতে শেখে, তখন তার বিকাশ হলো ঠিকই, কিন্তু এক ইঞ্চিও বৃদ্ধি হলো না।
তাই রঘুবরের মতো আমাদেরও মনে রাখতে হবে — ক্লাসের সবচেয়ে বেঁটে ছেলেটিও বিকাশের দিক থেকে সবচেয়ে বড় হতে পারে। আর শিক্ষকের কাজ হলো সেই বিকাশের বাগানে জল দেওয়া, শুধু বৃদ্ধির স্কেল দিয়ে মাপা নয়।

মনে রাখার ট্রিক: বৃদ্ধি হলো শরীরের, বিকাশ হলো সামগ্রিক। বৃদ্ধি বিকাশের একটি অংশ মাত্র।

Child Development Concept & Principle

১.২. বিকাশের ৭টি স্বর্ণসূত্র : রঘুবর স্যার দ্বিতীয় দিন ক্লাসে এসে আর অবাক হলেন না। তিনি বুঝে গেছেন, ক্লাসটা কোনো ফ্যাক্টরি নয় যে একই ছাঁচে সব পুতুল তৈরি হবে। ক্লাসটা একটা বাগান। আর এই বাগানের প্রতিটি গাছ কীভাবে বাড়ে, তার ৭টি গোপন নিয়ম আছে। যে শিক্ষক এই ৭টি নিয়ম জানেন, তিনি কখনো কোনো শিশুকে “বোকা” বা “খারাপ” বলেন না। এই ৭টি নিয়মকেই আমরা বলি বিকাশের ৭টি স্বর্ণসূত্র। চলুন, গল্প দিয়ে এক এক করে বুঝি।

১.২.১. ধারাবাহিকতার নীতি (Principle of Continuity) :
মূল কথা: বিকাশ কখনো উল্টো দিকে যায় না, লাফিয়েও চলে না।
একটা নদীকে দেখুন। সে পাহাড় থেকে সমতলে নামে, কিন্তু কখনো সমতল থেকে পাহাড়ে ফিরে যায় না। শিশুর বিকাশও ঠিক তাই। শিশু আগে বসতে শেখে, তারপর দাঁড়ায়, তারপর হাঁটে, তারপর দৌড়ায়। হাঁটা শিখে গিয়ে সে আবার বসতে ভুলে যায় না। ভাষার ক্ষেত্রেও তাই – আগে সে আধো আধো শব্দ বলে (মা, বা, পা), তারপর দুটো শব্দ জোড়া লাগায় (মা দাও), তারপর পুরো বাক্য বলে।
আপনি কি কখনো দেখেছেন কোনো বাচ্চা জন্মেই দৌড়াতে শুরু করেছে? না। কারণ বিকাশ ধারাবাহিক।

শিক্ষকের জন্য শিক্ষা ও TET ট্রিক:
– TET-এ প্রশ্ন আসে – “শিশু কি বিকাশের স্তরে পিছিয়ে যেতে পারে?” উত্তর – না, বিকাশ কখনো পিছনে যায় না, এটি ধারাবাহিক।
– তাই পাঠ্যক্রম সবসময় সহজ থেকে কঠিন, জানা থেকে অজানা সাজাতে হবে। ক্লাস ওয়ানে সরাসরি ভাগ শেখানো যায় না, আগে যোগ-বিয়োগ শেখাতে হবে। এটাই ধারাবাহিকতা।

১.২.২. ব্যক্তিগত বৈষম্যের নীতি (Principle of Individual Differences) :
মূল কথা: একই বয়সের দুটি শিশুর বিকাশ কখনো এক হবে না।
রঘুবরের ক্লাসে ৩০ জন ছাত্র, সবার বয়স ১১ বছর। কিন্তু কেউ লম্বা, কেউ বেঁটে, কেউ অঙ্কে তুখোড়, কেউ ছবি আঁকায়। কেন? কারণ প্রতিটি শিশু আলাদা। একজনের ভাষা আগে বিকশিত হবে, আরেকজনের শারীরিক শক্তি আগে বাড়বে। মনোবিজ্ঞানী স্কিনার বলেছেন, “বিকাশের হার ও গতিতে ব্যক্তিগত বৈষম্য দেখা যায়।”
গল্প দিয়ে মনে রাখুন: বাগানে সব গোলাপ কি একদিনে ফোটে? না। কোনোটা সকালে ফোটে, কোনোটা বিকেলে। শিশুরাও তাই।

শিক্ষকের জন্য শিক্ষা ও TET ট্রিক:
– এটা NCF 2005 এবং NEP 2020-এর প্রাণ। “No child left behind” এবং “Inclusive Education” এই নীতির উপরই দাঁড়িয়ে আছে।
– TET-এ সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন এখান থেকে আসে – “ভালো শিক্ষক কীভাবে বৈষম্যকে দেখবেন?”

উত্তর – তিনি বৈষম্যকে সম্মান করবেন, দুর্বলকে বেশি সময় দেবেন, সবার জন্য একই প্রশ্নপত্রে বিচার করবেন না। তিনি Differentiated Instruction দেবেন। যে ছবি আঁকায় ভালো, তাকে ছবির মাধ্যমে অঙ্ক বোঝাবেন।

➣ Upper Primary TET Study Materials

১.২.৩. সাধারণ থেকে বিশেষের দিকে (Principle of General to Specific) :

মূল কথা: শিশুর প্রতিক্রিয়া প্রথমে সাধারণ থাকে, পরে তা বিশেষ হয়।

একটি নবজাতক যখন কাঁদে, তখন সে পুরো শরীর নাড়িয়ে কাঁদে – হাত-পা ছুঁড়ে, মুখ লাল করে। এটা সাধারণ প্রতিক্রিয়া। কিন্তু ২ বছর বয়সে সে শুধু চোখের জল ফেলে কাঁদতে শেখে – এটা বিশেষ প্রতিক্রিয়া।

সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ হলো ধরার কৌশল:
প্রথমে Palmar Grasp: ৫-৬ মাসের শিশু পুরো হাত দিয়ে, তালু দিয়ে খপ করে কিছু ধরে। তখন সে পেন্সিলও পুরো মুঠো দিয়ে ধরে।
পরে Pincer Grasp: ৯-১০ মাসে সে বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর ডগা দিয়ে সুন্দরভাবে একটি ছোট বিস্কুটও তুলতে পারে। এই যে সাধারণ থেকে বিশেষে যাওয়া – এটাই বিকাশ।

শিক্ষকের জন্য শিক্ষা: তাই ছোট বাচ্চাদের প্রথমে মোটা খড়ি (chalk) দিয়ে বড় বড় দাগ কাটতে দিন, সরু পেন্সিল দিয়ে সরু লেখা পরে শেখাবেন। আগে সাধারণ ধারণা (সব পাখিই পাখি), পরে বিশেষ ধারণা (এটা টিয়া, এটা ময়না)।


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading