NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Bengali Model Answers-1/2

Madhyamik Bengali Model Answers-1

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? বাংলা (প্রথম ভাষা) বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক বাংলা (প্রথম ভাষা) Madhyamik Bengali Model Answers-1 (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৭টি MCQ, ১৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন, ব্যাকরণ, নির্মিতি এবং রচনা সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Bengali Model Answers-1

Madhyamik Bengali Model Answers
Madhyamik Bengali Model Answers

বাংলা (প্রথম ভাষা)

(Part- 2)

⟽ Previous Part

৫. অনধিক 400 শব্দে যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (10)
৫.১ বিজ্ঞান ও কুসংস্কার
ভূমিকা: মানুষ যখন প্রথম গুহায় আগুন জ্বালাতে শিখেছিল, তখন থেকেই তার মনে দুটি প্রশ্ন জন্ম নিয়েছিল – “এটা কীভাবে হলো?” এবং “এটা কেন হলো?” প্রথম প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জন্ম নিয়েছে বিজ্ঞান, আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে ভয় থেকে জন্ম নিয়েছে কুসংস্কার। তাই মানব সভ্যতার ইতিহাস আসলে বিজ্ঞান ও কুসংস্কারের চিরন্তন দ্বন্দ্বের ইতিহাস। একটি হলো আলো, অন্যটি অন্ধকার।
বিজ্ঞান হলো যুক্তি, প্রমাণ ও পরীক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত সুশৃঙ্খল জ্ঞান। এর মূল মন্ত্র হলো – প্রশ্ন করো, পরীক্ষা করো, প্রমাণ পেলে তবেই বিশ্বাস করো। আর কুসংস্কার হলো ঠিক এর উল্টো। এটি হলো অন্ধ বিশ্বাস, বিনা বিচারে কোনো কিছুকে মেনে নেওয়া, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, যুক্তি বা প্রমাণ নেই। এর মূল মন্ত্র হলো – প্রশ্ন কোরো না, ভয় পাও, এবং অন্ধভাবে মেনে নাও।

বিজ্ঞানের অবদান – আলোর পথ: আজ আমরা যে আধুনিক পৃথিবীতে বাস করছি, তার প্রতিটি ইট বিজ্ঞানের হাতে গড়া। বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে শুধু সহজই করেনি, জীবনকে দীর্ঘ ও সুন্দরও করেছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে যে বিদ্যুতের আলো জ্বালাই, যে মোবাইল ফোনে সময় দেখি, যে ইন্টারনেটে সারা পৃথিবীর খবর পাই, যে বাসে বা ট্রেনে চেপে স্কুলে যাই – সবই বিজ্ঞানের দান। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে আজ কলেরা, বসন্তের মতো মহামারী পৃথিবী থেকে প্রায় নির্মূল। যে যক্ষ্মা একসময় “রাজরোগ” নামে পরিচিত ছিল, আজ তার ওষুধ পাড়ার ফার্মেসিতেই পাওয়া যায়। বিজ্ঞান আমাদের চাঁদে নিয়ে গেছে, মঙ্গলে যান পাঠিয়েছে, সমুদ্রের গভীরে কী আছে তা দেখিয়েছে।
কিন্তু বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় অবদান বস্তুগত নয়, মানসিক। বিজ্ঞান মানুষকে যুক্তিবাদী হতে শেখায়। বিজ্ঞান শেখায়, “ঝড় হচ্ছে কারণ বায়ুর চাপের পার্থক্য”, “ঝড় হচ্ছে কারণ দেবতা রেগে গেছে” – এই ভাবনাটা ভুল। বিজ্ঞান মানুষের মন থেকে ভয় দূর করে, তাকে প্রশ্ন করতে শেখায়। একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ কখনোই বিপদে পড়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকে না, সে তার কারণ খোঁজে এবং সমাধানের চেষ্টা করে। তাই বিজ্ঞান হলো মুক্তির পথ।

কুসংস্কার কী – অন্ধকারের শিকল: অন্যদিকে কুসংস্কার হলো মানুষের অজ্ঞতা ও ভয়ের ফসল। যখন মানুষ কোনো ঘটনার কারণ বুঝতে পারে না, তখন সে একটি কাল্পনিক কারণ বানিয়ে নেয় এবং ভয়ে সেটাকেই বিশ্বাস করতে শুরু করে।
আমাদের সমাজে এর উদাহরণের অভাব নেই। রাস্তায় বিড়াল রাস্তা কাটলে দিন খারাপ যাবে বলে যাত্রা থামিয়ে দেওয়া, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় হাঁচি দিলে অমঙ্গল হবে ভেবে বসে থাকা, পরীক্ষার আগে ডিম খেলে গোল্লা পাওয়া, রাতে শিস দিলে সাপ আসে, ভূতে ধরা, সাপের কামড়ে ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে ঝাড়ফুঁক করা, সন্তান না হলে তাবিজ-কবচ পরা – এগুলো সবই কুসংস্কার। এর কোনোটিরই কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
কুসংস্কারের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো, এটি মানুষকে পঙ্গু করে দেয়। এটি মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। একজন কৃষক যদি বিশ্বাস করে যে বৃষ্টি হবে কি না তা নির্ভর করে পুজোর উপর, বৃষ্টির বৈজ্ঞানিক কারণ ও কৃত্রিম সেচের উপর নয়, তবে সে কখনোই উন্নতি করতে পারবে না। একজন রোগী যদি বিশ্বাস করে যে তার রোগ সারবে তাবিজে, ওষুধে নয়, তবে তার মৃত্যু অবধারিত।

দ্বন্দ্ব ও বর্তমান সমাজ – করোনা আমাদের কী শিখিয়েছে: আমরা ভাবি, শিক্ষা বাড়লেই কুসংস্কার কমবে। কিন্তু বাস্তব অন্য কথা বলে। আমাদের সমাজে বহু উচ্চশিক্ষিত মানুষও গভীর কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। একজন ইঞ্জিনিয়ারও নতুন গাড়ি কেনার আগে জ্যোতিষীর কাছে শুভ দিন দেখতে যান, একজন ডাক্তারও নিজের সন্তানকে তাবিজ পরান। এর কারণ হলো, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের ডিগ্রি দিয়েছে, কিন্তু বিজ্ঞানমনস্কতা দেয়নি। আমরা বিজ্ঞান পড়েছি পরীক্ষায় পাশ করার জন্য, জীবনে প্রয়োগ করার জন্য নয়।
এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ আমরা পেয়েছি করোনা মহামারীর সময়। একদিকে বিজ্ঞানীরা দিনরাত পরিশ্রম করে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করলেন, অন্যদিকে একদল মানুষ সেই ভ্যাকসিন না নিয়ে গোবরের স্নান, গোমূত্র পান, তাবিজ, থালা বাজানোয় বিশ্বাস করলেন। ফলে বহু মানুষের অকালে প্রাণ গেল। বিজ্ঞান যেখানে প্রমাণ দিয়ে বলল টিকা নিন, কুসংস্কার সেখানে ভয় দেখিয়ে বলল টিকা নিলে বন্ধ্যা হয়ে যাবেন। এই দ্বন্দ্বে যারা বিজ্ঞানকে বেছে নিয়েছে, তারাই সুরক্ষিত থেকেছে।
তাই আজকের যুগে এই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট। একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অন্যদিকে আজও ডাইনি সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। এই দুই ছবিই আমাদের ভারতের।

➣ ডাউনলোড করো বাংলা 10 সেট মডেল প্রশ্নপত্রের উত্তর PDF

4.7 “সিন্ধুতীরে”

সমাধান – কীভাবে মুক্তি মিলবে: কুসংস্কার দূর করার একমাত্র অস্ত্র হলো বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদী শিক্ষা। শুধু বিজ্ঞানের সূত্র মুখস্থ করলে হবে না, বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিকে জীবনে আনতে হবে।
১. প্রশ্ন করতে শেখা: ছাত্রদের মনে প্রশ্ন জাগাতে হবে। “এটা কেন হয়?” – এই প্রশ্ন করার সাহস দিতে হবে।
২. হাতে-কলমে বিজ্ঞান: ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা, বিজ্ঞান মেলায় যাওয়া, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করা।
৩. আইন ও প্রচার: কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন এবং সরকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার দরকার। যেমন মহারাষ্ট্রে অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি যে কাজ করছে।
৪. শিক্ষকের ভূমিকা: একজন শিক্ষকই পারেন একটি ক্লাসের ৪০ জন ছাত্রের মন থেকে অন্ধকার দূর করতে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, বিজ্ঞান ও কুসংস্কার কখনো একসাথে চলতে পারে না। যেখানে বিজ্ঞানের আলো আসে, সেখান থেকে কুসংস্কারের অন্ধকার আপনা থেকেই দূর হয়ে যায়। একটি দেশ তখনই প্রকৃত উন্নত হয়, যখন তার নাগরিকরা বিজ্ঞানমনস্ক হয়। তাই আমাদের সকলকে, বিশেষ করে ছাত্র সমাজকে বিজ্ঞানকে শুধু বইয়ের পাতায় নয়, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বরণ করে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাবিজ নয়, টিকাই জীবন বাঁচায়। ঝাড়ফুঁক নয়, ওষুধই রোগ সারায়। বিজ্ঞানই সত্য, বিজ্ঞানই ভবিষ্যৎ, আর কুসংস্কার হলো অতীতের একটি ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন, যা থেকে আমাদের জেগে উঠতেই হবে।

➣দেখুন: WBBSE Madhyamik History MQP

Madhyamik Bengali Model Answers-1

৫.২ পরিবেশ রক্ষায় ছাত্র সমাজের ভূমিকা :
ভূমিকা: পরিবেশ বলতে আমরা কী বুঝি? পরিবেশ হলো আমাদের মা। যেমন মা আমাদের কোলে, বুকে আগলে রাখে, ঠিক তেমনি পরিবেশ আমাদের আগলে রাখে। আমাদের চারপাশের গাছ, নদী, পাহাড়, মাটি, বাতাস, আলো, পশুপাখি – এই সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ। সংস্কৃতে একটি সুন্দর কথা আছে – “মাতা পৃথিবী, পিতা আকাশ”। অর্থাৎ পৃথিবী আমাদের মা। মা ভালো থাকলে সন্তান ভালো থাকে। পরিবেশ ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকি।
কিন্তু আজ সেই মা-ই ভীষণ অসুস্থ। আমরা, মানুষরা, নিজেদের স্বার্থে, আরও বেশি সুখের লোভে প্রতিদিন একটু একটু করে আমাদের মাকেই হত্যা করছি। কলকারখানার কালো ধোঁয়ায় আকাশ কালো হচ্ছে, প্লাস্টিক ও আবর্জনায় নদী-সমুদ্র ভরে যাচ্ছে, নির্বিচারে গাছ কেটে আমরা পাহাড়কে ন্যাড়া করে দিচ্ছি। এর ফল কী হচ্ছে? পৃথিবীর জ্বর বাড়ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন। তাই আজ পরিবেশ রক্ষা আর কোনো শখের বিষয় নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই।

দূষণের ভয়াবহ ফল – প্রকৃতির প্রতিশোধ: আমরা যখন পরিবেশকে আঘাত করি, পরিবেশও আমাদের ছেড়ে কথা বলে না। সে প্রতিশোধ নেয়।
১. বায়ু দূষণ: কলকারখানা ও গাড়ির ধোঁয়ায় বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস বাড়ছে। এর ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ক্যান্সারের মতো রোগ বাড়ছে। দিল্লির মতো শহরে শীতকালে ধোঁয়াশার জন্য স্কুল পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হয়।
২. জল দূষণ: কারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক, পয়ঃপ্রণালীর নোংরা জল সরাসরি নদীতে মিশছে। এর ফলে জল পানের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে, মাছ মরে যাচ্ছে, জলবাহিত রোগ যেমন কলেরা, টাইফয়েড বাড়ছে। আমাদের গঙ্গা, যমুনার অবস্থা দেখলেই তা বোঝা যায়।
৩. মাটি ও শব্দ দূষণ: অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটি তার উর্বরতা হারাচ্ছে। প্লাস্টিক মাটিতে মিশে মাটিকে বন্ধ্যা করে দিচ্ছে। অন্যদিকে মাইক, গাড়ির হর্নের তীব্র শব্দে আমাদের শ্রবণশক্তি নষ্ট হচ্ছে, ছাত্রদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
৪. গাছ কাটার ফল: গাছ কাটার ফলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে। গাছ কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন দেয়। গাছ না থাকলে বৃষ্টি কমে যায়, মাটির ক্ষয় বাড়ে, বন্যা ও খরা দেখা দেয়। ঋতুচক্র বদলে যাচ্ছে – শীতকালে গরম, বর্ষাকালে বৃষ্টি নেই। এটাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং।

ছাত্র সমাজের ভূমিকা – ভবিষ্যতের রক্ষাকর্তা: এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে আমাদের কে বাঁচাবে? সরকার একা পারবে না, আইন করে সব হয় না। এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় সৈনিক হতে পারে ছাত্র সমাজ। কারণ ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ, তাদের হাতেই আগামী পৃথিবীর চাবি। তাদের মনে যদি আজ পরিবেশ-চেতনা গেঁথে দেওয়া যায়, তবে আগামী ৫০ বছর পৃথিবী সুরক্ষিত থাকবে। ছাত্ররা কী কী করতে পারে?
১. সবুজ বিপ্লবের সৈনিক – একটি ছাত্র, একটি গাছ: এটি ছাত্রদের সবচেয়ে সহজ ও সবচেয়ে শক্তিশালী কাজ। প্রতিটি ছাত্র যদি তার জন্মদিনে বা বছরে একটি করে গাছ লাগায় এবং সেই গাছটিকে নিজের বন্ধুর মতো যত্ন করে বড় করে, তবে কোটি কোটি গাছ তৈরি হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বর্ষাকালে “বৃক্ষরোপণ উৎসব” করা উচিত। স্কুলের মাঠের চারপাশে, বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার ধারে গাছ লাগানো। শুধু লাগালেই হবে না, গাছের গায়ে জলের বোতল বেঁধে দেওয়া, বেড়া দেওয়া – যাতে গরু-ছাগলে খেয়ে না ফেলে। মনে রাখতে হবে, “গাছ লাগাও, প্রাণ বাঁচাও” শুধু স্লোগান নয়, এটি মন্ত্র।
২. প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ – জনসচেতনতা গড়ে তোলা: প্লাস্টিক হলো পরিবেশের এক নম্বর শত্রু। একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ মাটিতে মিশতে ৪০০ বছর লাগে। ছাত্ররা এই বিষয়ে সমাজকে জাগাতে পারে। স্কুলে স্কুলে প্লাস্টিক বর্জন র‍্যালি করা, “প্লাস্টিক নয়, চটের ব্যাগ বলো” – এই নিয়ে পোস্টার, দেয়াল লিখন, পথনাটক করা। বাজারে গেলে নিজেরা চটের বা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে যাওয়া এবং বাবা-মাকেও উৎসাহ দেওয়া। গ্রামের হাটে গিয়ে দোকানদারদের বোঝানো।
৩. জলই জীবন – জলের অপচয় বন্ধ: “জল অপচয় করলে ভবিষ্যতে মরুভূমি হবে” – এই বার্তা ছাত্ররাই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে পারে। স্কুলে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) মডেল তৈরি করা, কল খোলা থাকলে বন্ধ করা, বাড়িতে মা-কে বোঝানো যাতে বাসন ধোয়ার জল গাছে দেওয়া হয়। একটি ছোট হিসাব – একটানা এক মিনিট কল খোলা থাকলে প্রায় ১০ লিটার জল নষ্ট হয়।
৪. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা – আবর্জনা থেকে সম্পদ: যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা আমাদের বদ অভ্যাস। ছাত্ররা স্কুলে দুটি ডাস্টবিন – একটি সবুজ (পচনশীল) ও একটি নীল (অপচনশীল) – ব্যবহার করা শিখতে পারে। পচনশীল আবর্জনা যেমন ফলের খোসা, পাতা দিয়ে জৈব সার (Vermicompost) তৈরি করা শেখা ও শেখানো। স্কুল ও পাড়া পরিষ্কার অভিযান, যেমন স্বচ্ছ ভারত অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া।
৫. বিজ্ঞানকে কাজে লাগানো: ছাত্ররা পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। যেমন – সাইকেল ব্যবহার করা, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য হেঁটে বা সাইকেলে আসা, বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করা, ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার সময় আলো-পাখা বন্ধ করা।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কোনো একটি সরকার বা সংস্থার নয়, এটি আমাদের সকলের। কিন্তু এই মহান দায়িত্বের প্রধান সেনাপতি হতে হবে ছাত্র সমাজকেই। কারণ আজকের ছাত্রই আগামী দিনের শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নেতা, কৃষক। আজ যদি তারা পরিবেশকে ভালোবাসতে শেখে, তবেই আগামী দিনে তারা একটি সুস্থ, সবুজ, সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবে। তাই আসুন, আমরা সবাই শপথ নিই – আমরা গাছ লাগাবো, প্লাস্টিক বর্জন করব, জল বাঁচাবো এবং আমাদের এই একটাই পৃথিবীকে, আমাদের মাকে, প্রাণ দিয়ে রক্ষা করব। মনে রাখবেন, “আমরা পৃথিবীকে আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাইনি, আমরা এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।”

Madhyamik Bengali Model Answers-1

৫.৩ বাংলার উৎসব
ভূমিকা: একটি কথা প্রায়ই শোনা যায় – বাঙালির “বারো মাসে তেরো পার্বণ”। কথাটি একটুও মিথ্যে নয়। বাঙালি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে উৎসবপ্রিয় জাতিগুলির মধ্যে একটি। বাঙালির জীবন যেন দুঃখের মধ্যেও আনন্দ খুঁজে নেওয়ার এক অনন্ত চেষ্টা। আর সেই আনন্দের উপলক্ষই হলো উৎসব।
উৎসব শব্দটির মধ্যেই একটি উৎস, একটি প্রাণের সাড়া লুকিয়ে আছে। উৎসব মানে শুধু পুজো বা নামাজ নয়, উৎসব মানে মিলন, উৎসব মানে ভেদাভেদ ভুলে যাওয়া, উৎসব মানে নতুন জামা, নতুন আশা, নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। ধর্ম, ঋতু, কৃষি ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলার বুকে যে উৎসবের মালা গাঁথা হয়েছে, তা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, “বাঙালির জীবন উৎসবময়”।

বাংলার প্রধান উৎসবসমূহ – এক মিলনের মালা: বাংলার উৎসবকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় – ধর্মীয় উৎসব, ঋতুকেন্দ্রিক উৎসব এবং কৃষিকেন্দ্রিক উৎসব।
১. ধর্মীয় উৎসব – সর্বধর্ম সমন্বয়ের ছবি: বাংলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে সব ধর্মের উৎসব সবাই মিলে পালন করে। এটাই বাংলার সম্প্রীতি।
– দুর্গাপূজা – শ্রেষ্ঠ উৎসব: দুর্গাপূজা হলো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব, বাঙালির আবেগ, বাঙালির পরিচয়। শরৎকালে, আশ্বিন মাসে চারদিন ধরে – ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী – মা দুর্গার আরাধনা হয়। এটি শুধু একটি পুজো নয়, এটি একটি মহামিলন। এই চারদিন জাতি, ধর্ম, ধনী, গরীব সব ভেদাভেদ মুছে যায়। নতুন জামা, প্যান্ডেল হপিং, ধুনুচি নাচ, ঢাকের আওয়াজ, বিজয়ার কোলাকুলি – এই নিয়েই দুর্গাপূজা। ইউনেস্কো ২০২১ সালে দুর্গাপূজাকে “মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা প্রতিটি বাঙালির গর্ব।
– অন্যান্য হিন্দু উৎসব: দুর্গাপূজার পরেই আসে আলোর উৎসব – কালীপূজা ও দীপাবলি। মাঘ মাসে বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা – যা ছাত্র সমাজের সবচেয়ে প্রিয় উৎসব। ফাল্গুন মাসে রঙের উৎসব – দোল পূর্ণিমা বা হোলি। আষাঢ় মাসে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। এছাড়াও লক্ষ্মীপূজা, ভাইফোঁটা, জন্মাষ্টমী প্রতিটি উৎসবই বাংলার ঘরে ঘরে পালিত হয়।
– মুসলমান সম্প্রদায়ের উৎসব: বাংলার আকাশে ঈদের চাঁদ দেখা দিলে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবার মন আনন্দে ভরে ওঠে। রমজান মাসের শেষে ঈদ-উল-ফিতর এবং কোরবানির ঈদ-উল-আযহা – দুটি ঈদই বাংলায় অত্যন্ত আনন্দের সাথে পালিত হয়। এই সময় সিমাই, বিরিয়ানির গন্ধে, কোলাকুলিতে বাংলার আকাশ বাতাস ভরে ওঠে। মহরমও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।
– অন্যান্য ধর্মের উৎসব: বড়দিন বা ক্রিসমাস আজ বাংলার অন্যতম প্রিয় উৎসব। পার্ক স্ট্রিটের আলো, কেক, সান্তাক্লজ – এখন বাঙালিরই উৎসব হয়ে গেছে। বৌদ্ধদের বুদ্ধ পূর্ণিমা, খ্রিস্টানদের গুড ফ্রাইডেও বাংলায় শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়।

২. ঋতুকেন্দ্রিক ও কৃষিকেন্দ্রিক উৎসব – মাটির উৎসব: বাঙালি মূলত কৃষিজীবী জাতি। তাই ঋতু ও ফসলের সাথে তার উৎসবের নিবিড় যোগ।
– পৌষ পার্বণ: শীতকালে নতুন ধান ঘরে এলে বাঙালি পৌষ পার্বণ পালন করে। পিঠে-পুলি, পায়েস, নলেন গুড় – এই হলো পৌষ পার্বণের প্রাণ। এটি আসলে নবান্নেরই একটি অংশ।
– নবান্ন: নতুন ধান কাটার পর যে উৎসব হয়, তাই নবান্ন। “নব অন্ন” – নতুন ভাতের উৎসব। কৃষক তার প্রথম ফসল দেবতাকে উৎসর্গ করে, তারপর নিজে গ্রহণ করে। এটি বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন উৎসব।
বসন্ত উৎসব ও পয়লা বৈশাখ: ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে বসন্ত উৎসব শুরু করেছিলেন, তা আজ সারা বাংলার উৎসব। আর বাংলা নববর্ষ – পয়লা বৈশাখ – হলো বাঙালির নতুন বছর। নতুন হালখাতা, নতুন জামা, মিষ্টিমুখ – এই দিয়ে বছর শুরু হয়।

উৎসবের গুরুত্ব – কেন উৎসব দরকার: উৎসব কি শুধু ছুটির দিন আর ভালো খাবারের জন্য? না, উৎসবের গভীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে।
১. মিলন ও সম্প্রীতির সেতু: উৎসব হলো মানুষকে এক করার সবচেয়ে বড় উপায়। দুর্গাপূজার ভিড়ে কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে ধনী, কে গরীব – তা বোঝা যায় না। সবাই একসাথে আনন্দ করে। ঈদের দিন হিন্দু বন্ধু মুসলমান বন্ধুর বাড়িতে সিমাই খেতে যায়, আর সরস্বতী পুজোয় মুসলমান বন্ধু হিন্দু বন্ধুর স্কুলে অঞ্জলি দিতে যায়। এই সম্প্রীতিই বাংলার আসল শক্তি। উৎসব আমাদের শেখায় – “বিভেদ নয়, ঐক্যই বড়”।
২. সংস্কৃতির ধারক ও বাহক: প্রতিটি উৎসবের সাথে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে। দুর্গাপূজার ঢাক, কালীপূজার শ্যামা সঙ্গীত, দোলের আবির, পৌষ পার্বণের পিঠে, ঈদের বিরিয়ানি, বড়দিনের কেক – এগুলোই বাংলার সংস্কৃতি। উৎসবের মধ্য দিয়েই আমাদের লোকগান, লোকনৃত্য, পোশাক, খাবার এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে চলে যায়।
৩. অর্থনীতির চাকা: উৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলার বিশাল অর্থনীতি চলে। দুর্গাপূজার সময় কুমোরটুলির প্রতিমা শিল্পী, ঢাকি, দর্জি, মিষ্টির দোকানদার, আলোকসজ্জা শিল্পী – লক্ষ লক্ষ মানুষের রুজি-রোজগার হয়। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করেই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার অর্থনীতি চলে। তাই উৎসব মানে আনন্দের সাথে সাথে রুটি-রুজিও।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, উৎসব ছাড়া বাঙালি জাতি অসম্পূর্ণ। উৎসব হলো বাঙালির প্রাণভোমরা, তার হৃদস্পন্দন। দুঃখ, দারিদ্র্য, রাজনীতি – সবকিছুর মধ্যেও বাঙালি যে আজও হাসতে পারে, তার কারণ হলো তার এই উৎসব। এই উৎসবই তাকে বাঁচতে শেখায়, মিলতে শেখায়।
আজকের বিশ্বায়নের যুগে যখন মানুষ ক্রমশ একা হয়ে যাচ্ছে, মোবাইলের স্ক্রিনে বন্দি হয়ে যাচ্ছে, তখন এই উৎসবই পারে মানুষকে আবার একত্রিত করতে। তাই আমাদের সকলের, বিশেষ করে ছাত্র সমাজের দায়িত্ব হলো – বাংলার এই উৎসবের ঐতিহ্যকে, তার সম্প্রীতির বার্তাকে বাঁচিয়ে রাখা। কোনো ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, বরং সকল উৎসবে সকলের অংশগ্রহণ – এটাই হোক আমাদের শপথ। কারণ উৎসবই বাংলার ঐক্য, উৎসবই বাংলার প্রাণ।

Madhyamik Bengali Model Answers-1

৫.৪ তোমার দেখা একটি মেলা :
ভূমিকা: মেলা শব্দটি শুনলেই মনের মধ্যে কেমন যেন একটা আনন্দের ঘণ্টা বেজে ওঠে। মেলা মানে ভিড়, মেলা মানে রঙ, মেলা মানে গান, মেলা মানে পাঁপড় ভাজা আর নাগরদোলা। আসলে মেলা হলো মানুষের মিলনক্ষেত্র। যেখানে জাতি, ধর্ম, ধনী, গরীবের কোনো ভেদাভেদ থাকে না, সবাই একসাথে আনন্দ করে, সেটাই মেলা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, “মেলা হলো গ্রামের প্রাণ”। শহরের মানুষ মল-এ যায়, কিন্তু বাংলার প্রাণ আজও পড়ে আছে তার মেলায়।
আমি অনেক মেলাই দেখেছি – রথের মেলা, বইমেলা, দুর্গাপূজার মেলা। কিন্তু গত বছর শীতের ছুটিতে মায়ের সাথে শান্তিনিকেতনের যে পৌষ মেলা দেখে এসেছি, তা আমার জীবনে দেখা সেরা মেলা হয়ে থাকবে। সেই মেলার স্মৃতি আজও আমার চোখে জ্বলজ্বল করে।

যাত্রা শুরু – পৌষের শান্তিনিকেতন: সময়টা ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ, বাংলা পৌষ মাস। আমরা বোলপুর স্টেশনে নামতেই বুঝলাম, মেলা শুরু হয়ে গেছে। স্টেশন থেকেই বাউলের একতারা বাজছে – “মিলন হবে কত দিনে…”। টোটোতে করে যখন শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লীর মাঠের দিকে যাচ্ছি, তখন থেকেই রাস্তার দু-ধারে দোকান, মানুষের ঢল। পৌষের হালকা শীত, কুয়াশা মাখা সকাল, আর তার মধ্যেই হাজার হাজার মানুষের কলরব – এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ।
শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা শুধু একটি মেলা নয়, এটি একটি ইতিহাস। ১৮৯৪ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই মেলার সূচনা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরে এটিকে পূর্ণতা দেন। ব্রাহ্ম সমাজের উৎসব হিসেবে শুরু হলেও আজ এটি বাংলার সবচেয়ে বড় লোকসংস্কৃতির মেলা।

মেলার ভেতরে – এক টুকরো বাংলা: মেলার গেট দিয়ে ঢুকতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম। এত বড় মাঠ, আর মাঠ জুড়ে যতদূর চোখ যায়, শুধু দোকান আর দোকান, মানুষ আর মানুষ। মনে হচ্ছিল, যেন পুরো বাংলাটাকেই কেউ ছোট করে এই মাঠে এনে বসিয়ে দিয়েছে।
১. হস্তশিল্প ও মাটির গন্ধ: প্রথমেই চোখে পড়ল মাটির জিনিসের দোকান। কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল, বাঁকুড়ার বিখ্যাত টেরাকোটার ঘোড়া, হাতি, পাঁচমুড়ার ঘোড়া – কী নেই! একজন শিল্পী তখনও মাটি দিয়ে ঘোড়া বানাচ্ছেন, বাচ্চারা গোল হয়ে তা দেখছে। পাশেই বীরভূমের কাঁথা স্টিচের শাড়ি, শাড়িতে গ্রাম বাংলার গল্প আঁকা। বাঁশের তৈরি ঝুড়ি, মোড়া, আদিবাসী মহিলাদের হাতে তৈরি গয়না। এই দোকানগুলো দেখে বুঝলাম, মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি বাংলার শিল্পীদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মঞ্চ।
২. পেটপুজোর দোকান – পিঠে-পুলির স্বর্গ: একটু এগোতেই নাকে এলো পিঠের গন্ধ। পৌষ মেলা মানেই পিঠে-পুলির উৎসব। পাটিসাপটা, দুধপুলি, গোকুল পিঠে, সিদ্ধ পিঠে, আর নলেন গুড়ের পায়েস – গরম গরম ধোঁয়া উঠছে। মা আমাকে জোর করে দুধপুলি খাওয়ালেন। আহা, কী স্বাদ! পাশেই জিলিপি ভাজা হচ্ছে, বড় বড় কড়াইতে। এছাড়াও বাউলদের মতো করে মাটির হাঁড়িতে রান্না করা খিচুড়ি।
৩. গান ও নাচ – মেলার প্রাণ: পৌষ মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তার গান। মাঠের এখানে-ওখানে বাউল, ফকিররা আসর বসিয়েছেন। একতারা, দোতারা, খমক বাজিয়ে তারা গান গাইছেন – “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি…”। মানুষ গোল হয়ে বসে শুনছে। কোথাও আদিবাসী সাঁওতাল মেয়েরা ধামসা-মাদল বাজিয়ে নাচছে। তাদের পায়ের তালে তালে মাঠ যেন কাঁপছে। কোথাও আবার ছৌ নাচের মুখোশ পরে নাচ হচ্ছে। মনে হচ্ছিল, আমি গান আর নাচের এক সমুদ্রে এসে পড়েছি।
৪. নাগরদোলা ও অন্যান্য মজা: মেলার এক কোণে বিশাল নাগরদোলা। ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দে ঘুরছে, আর বাচ্চারা চিৎকার করছে। পাশে ম্যাজিক শো, মৃত্যুকূপে মোটরসাইকেল খেলা, বায়োস্কোপ। ছোটবেলায় যেমন রথের মেলায় দেখতাম, ঠিক তেমন। আমি আর মা নাগরদোলায় চড়েছিলাম, উপর থেকে পুরো মেলাটা দেখতে অপূর্ব লাগছিল – মনে হচ্ছিল আলোর মালা।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা – একটি মাটির ঘোড়া: আমি মায়ের সাথে সারা দুপুর মেলা ঘুরলাম। আমরা বাউল গান শুনলাম, পিঠে খেলাম, আদিবাসী নাচ দেখলাম। সন্ধ্যা যখন নামছে, মেলার আলোগুলো এক এক করে জ্বলে উঠছে, তখন মেলার রূপ আরও সুন্দর হয়ে উঠল। হ্যাজাকের আলোয়, বাউলের গানে এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ।
ফেরার সময় আমি একটি ছোট জিনিস কিনলাম – বাঁকুড়ার একটি ছোট্ট টেরাকোটার ঘোড়া। দাম মাত্র ১০০ টাকা। কিন্তু সেই ঘোড়াটি আমার কাছে ১০০ টাকার নয়, বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক। শিল্পী কাকু বললেন, “এটা ঘরে রাখো, এটা বাংলার লক্ষ্মী”। সেই ঘোড়াটি আজও আমার পড়ার টেবিলে রাখা আছে, যখনই দেখি, পৌষ মেলার কথা মনে পড়ে।

➣ ডাউনলোড করো বাংলা 10 সেট মডেল প্রশ্নপত্রের উত্তর PDF

4.7 “সিন্ধুতীরে”

উপসংহার: অনেকে ভাবে, মেলা মানে শুধু কেনাবেচা আর ভিড়। কিন্তু আমার দেখা পৌষ মেলা আমাকে শিখিয়েছে, মেলা মানে আরও অনেক বড় কিছু। মেলা হলো বাংলার সংস্কৃতির আয়না, বাংলার মিলনক্ষেত্র, বাংলার অর্থনীতির চাকা। এই মেলায় একজন শহরের শিক্ষিত মানুষ, একজন গ্রামের আদিবাসী শিল্পী, একজন বাউল, একজন বিদেশী পর্যটক – সবাই একসাথে পাশাপাশি বসে গান শোনে, একসাথে পিঠে খায়। এটাই তো আসল ভারত, আসল বাংলা।
সেদিনের পৌষ মেলা দেখে আমি শুধু আনন্দই পাইনি, আমি বাংলার শেকড়কে চিনেছি, বাংলার ঐতিহ্যকে ছুঁয়ে দেখেছি। তাই আমি বলব, বই পড়ে বাংলাকে চেনা যায় না, বাংলাকে চিনতে হলে তার মেলায় যেতে হয়।

Madhyamik Bengali Model Answers-1

৬. যেকোনো একটি করো: (5)

6.1 তোমার বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ উৎসব পালিত হল – এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো (100 শব্দের মধ্যে) সংবাদপত্রের জন্য।

বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ উৎসব পালন :

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল, ৪ সেপ্টেম্বর: গতকাল রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ উৎসব পালিত হল। সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক শ্রী অমিতাভ দত্ত। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিশ্ব উষ্ণায়ন, বায়ু দূষণ রোধে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের অপরিহার্য ভূমিকা সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী শ্রী মানব দাস।
এরপর ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অতিথিরা মিলে বিদ্যালয় চত্বর ও পার্শ্ববর্তী রাস্তার ধারে প্রায় ৭০টি আম, নিম, কৃষ্ণচূড়া ও পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করেন। প্রতিটি শ্রেণীকে কয়েকটি করে গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সবশেষে ছাত্রছাত্রীরা “গাছ লাগাও, প্রাণ বাঁচাও – সবুজ বাঁচলে দেশ বাঁচবে” স্লোগান দিয়ে পরিবেশ রক্ষার শপথ নেয়।

Madhyamik Bengali Model Answers-1

6.2 তোমার এলাকায় পানীয় জলের সংকট নিয়ে পৌরপ্রধানের কাছে একটি পত্র লেখো।

মাননীয় পৌরপ্রধান মহাশয় সমীপেষু,
আসানসোল পৌরনিগম,
আসানসোল – ৭১৩৩০১

বিষয়: ১২ নং ওয়ার্ডে তীব্র পানীয় জলের সংকট নিরসনের জন্য আবেদন।

মাননীয় মহাশয়,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার পৌরনিগমের ১২ নং ওয়ার্ডের (রামবন্ধু তলা এলাকা) একজন স্থায়ী বাসিন্দা। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, গত প্রায় এক মাস যাবৎ আমাদের এলাকায় তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে।
আমাদের এলাকায় পানীয় জলের প্রধান উৎস পৌরসভার সরবরাহকৃত পাইপ লাইন। কিন্তু গত এক মাস ধরে সেই পাইপে অত্যন্ত কম চাপে এবং অনিয়মিতভাবে জল আসছে, অনেক সময় দু-তিন দিন ধরেও জল আসছে না। এলাকার দুটি টিউবওয়েলও দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে প্রায় ৫০০টি পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এই গরমে পানীয় জলের অভাবে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মহিলাদের দূরবর্তী এলাকা থেকে জল বয়ে আনতে হচ্ছে।
এমতাবস্থায় আপনার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, আপনি অবিলম্বে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দিন এবং নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন –
১. জরুরি ভিত্তিতে জলের গাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করুন।
২. বিকল পাইপ লাইন ও টিউবওয়েলগুলি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করুন।
আপনার সদয় সহযোগিতায় এলাকাবাসী এই সংকট থেকে মুক্তি পাবে বলে আশা রাখি।

ধন্যবাদান্তে,
বিনীত নিবেদক,
রাহুল দাস
পিতা – শ্রী অমল দাস
১২ নং ওয়ার্ড, রামবন্ধু তলা, আসানসোল
তারিখ: ০৪.০৯.২০২৬

Download PDF


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading