NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

Competitive Miscellaneous Info.

BRICS 2026: The Grand Stage of World Power in India

BRICS 2026: The Grand Stage of World Power in India

ভারতে বসেছে নতুন বিশ্বের মানচিত্র; ডলারের একক আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করে BRICS 2026: The Grand Stage of World Power in India-র মহা আয়োজন এখন দিল্লির বুকে! বিশ্বের ৪৫% জনসংখ্যা আর ৪০% জিডিপির ক্ষমতাকে এক ছাতার নিচে এনে আয়োজিত এই ১৮তম BRICS শীর্ষ সম্মেলনে পুতিন ও শি জিনপিং সহ ১১টি দেশের হেভিওয়েট নেতারা এক মঞ্চে মুখোমুখি; ‘BRICS Pay’ থেকে শুরু করে আগামী ৫০ বছরের নতুন বিশ্বব্যবস্থার সমীকরণ নির্ধারণে ভারতের এই ঐতিহাসিক নেতৃত্বের বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ জানতে পড়ুন পুরো পোস্টটি!


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


BRICS 2026: ভারতে বিশ্ব শক্তির মহামঞ্চ – ইতিহাস, বিস্তার ও তাৎপর্য

BRICS 2026: The Grand Stage of World Power in India
BRICS 2026: The Grand Stage of World Power in India

⟽ Previous Post :জাতিসংঘ দ্বারা পৃথিবীর মানচিত্র বদল : 457 বছরের ভুলের অবসান

প্রাককথন: দিল্লিতে বসছে নতুন বিশ্বের মানচিত্র । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে বিশ্বব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার নেতৃত্বে ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ। World Bank, IMF, ডলার — সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের হাতে। কিন্তু আজ সেই ব্যবস্থায় ফাটল ধরেছে। যখন উন্নয়নশীল দেশগুলো বলছে — “আমাদের কথাও শুনতে হবে”, যখন ডলারের দাদাগিরি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই বিশ্বের মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এক নতুন শক্তি — BRICS।
ভাবুন তো —
বিশ্বের 45% জনসংখ্যা, বিশ্বের 40% জিডিপি এবং বিশ্বের 30% তেল উৎপাদন — সব এক ছাতার নিচে। এটা আর শুধু পাঁচটা দেশের জোট নয়। এটা হলো Global South-এর কণ্ঠস্বর। আর 2026 সালে, সেই কণ্ঠস্বরের মাইকটা আছে ভারতের হাতে।
12-13 সেপ্টেম্বর, নয়া দিল্লির ভারত মণ্ডপম। এখানেই বসেছে 18তম BRICS শীর্ষ সম্মেলন। পুতিন এসেছেন, শি জিনপিং এসেছেন, এসেছেন আরো 11টি দেশের রাষ্ট্রনায়কগণ। এটা শুধু একটি ফটোসেশন বা বৈঠক নয়। এটা হলো সেই মঞ্চ, যেখানে লেখা হতে পারে আগামী 50 বছরের নতুন বিশ্বব্যবস্থার রূপরেখা। ডলারের বিকল্প কী হবে? UN-এ ভারত স্থায়ী সদস্য হবে কিনা? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামবে কীভাবে? সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে এই দুই দিনে, এই দিল্লিতেই।

BRICS কী ও কীভাবে শুরু?
গল্পটা শুরু 2001 সালে, লন্ডনের একটি অফিসে। আমেরিকান বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক Goldman Sachs-এর ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিল (Terence James O’Neill) একটি রিপোর্ট লিখছিলেন। তিনি দেখলেন, চারটি দেশ — ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চায়না — এমন গতিতে বাড়ছে যে 2050 সালের মধ্যে এরাই বিশ্বের অর্থনীতি চালাবে। তিনি মজা করে নাম দিলেন BRIC। তখন কেউ ভাবেনি, এই চারটি অক্ষর একদিন একটি বাস্তব জোটে পরিণত হবে।
2006 সালে প্রথমবার রাশিয়ার উদ্যোগে চার দেশের বিদেশমন্ত্রীরা এক টেবিলে বসলেন। উদ্দেশ্য একটাই — পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে G7, আমাদের কথা না শুনে সিদ্ধান্ত নেয়। IMF-এ ভোট বেশি আমেরিকার, World Bank-এর প্রধান সবসময় আমেরিকান। এটা কি ঠিক?
2009 সালের 16ই জুন রাশিয়ার ইয়েকাটেরিনবার্গে (Yekaterinburg) প্রথম BRIC শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আর 2010 সালে এক ঐতিহাসিক মোড় — দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দিল। আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে BRIC হয়ে গেল BRICS
এই সংগঠনের মূল দর্শন খুব পরিষ্কার :
i. আমরা কারো বিরোধী নই, কিন্তু কারো অধীনস্থও নই।
ii. উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব ব্যাংক দরকার — তাই তৈরি হলো New Development Bank (NDB)। [2014 সালে ব্রাজিলের ফর্তালেজায় অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে এই ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং 2015 সালে ব্যাংকটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যক্রম শুরু করে। এর সদর দফতর চীনের সাংহাই শহরে অবস্থিত। এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া এবং ভারতের গুজরাটের গিফট সিটিতে (GIFT City) এর আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে।]
iii. নিজেদের মধ্যে ডলার ছাড়া বাণিজ্য করতে হবে।
যে শব্দটি একসময় শুধু একটি রিপোর্টে ছিল, আজ সেটি 11টি দেশের, পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের আশা-ভরসার নাম।

2026 সালে BRICS আজ 11 দেশের পরিবার — 5 থেকে 11, কীভাবে?
2023 সাল পর্যন্ত BRICS মানে ছিল 5টি দেশ। কিন্তু বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছিল। তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্য, জনসংখ্যার জন্য আফ্রিকা, আর বাণিজ্যের জন্য এশিয়া — সবাইকে এক ছাতার নিচে আনার প্রয়োজন ছিল। তাই 2024 সালে হলো ঐতিহাসিক বিস্তার। প্রথম দফায় যুক্ত হলো 4টি দেশ — মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আর 2025 সালে যুক্ত হলো বিশ্বের দুই শক্তিসৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া। ফলে 2026 সালে দাঁড়িয়ে BRICS আজ আর 5 নয়, 11 দেশের মহাপরিবার।
এক নজরে দেখে নিন BRICS পরিবার:
পঞ্চ প্রতিষ্ঠাতা : ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা
নতুন 6: মিশর (আফ্রিকার প্রবেশদ্বার), ইথিওপিয়া (আফ্রিকার দ্রুত বর্ধনশীল), ইরান (তেল ও ভূ-রাজনীতি), সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (বাণিজ্যের হাব), সৌদি আরব (বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক), ইন্দোনেশিয়া (বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম জনসংখ্যা) শুধু তাই নয়, এর বাইরেও আছে পার্টনার দেশ — যারা পূর্ণ সদস্য নয়, কিন্তু BRICS-এর সাথে কাজ করে — যেমন বেলারুশ, কাজাখস্তান, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড। আর আছে আউটরিচ আমন্ত্রিতরা — যাদের দিল্লি সম্মেলনে বিশেষভাবে ডাকা হয়েছে।
অর্থাৎ, 5 দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ 11 + অনেক। 2026-এর দিল্লি সম্মেলনে এই 11 দেশের পতাকাই উড়েছে ভারত মণ্ডপমে — যা বিশ্বকে একটাই বার্তা দেবে, Global South এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়।

BRICS 2026: The Grand Stage of World Power in India

BRICS 2026 — ভারতের চেয়ারশিপ : এবারের চেয়ারশিপের থিম ভারত নিজেই ঠিক করেছে — Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability (RICS) অর্থাৎ — “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”।
শব্দগুলো শুনতে ভারী লাগলেও, এর মানে খুব সহজ।
– Resilience: করোনা বা যুদ্ধের মতো ধাক্কা সামলে ওঠার ক্ষমতা।
– Innovation: UPI, Digital India-র মতো উদ্ভাবন সব দেশে ছড়িয়ে দেওয়া।
– Cooperation: ডলারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য।
– Sustainability: পরিবেশ বাঁচিয়ে উন্নয়ন।
আর ভারত এই চেয়ারশিপকে শুধু দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আটকে রাখেনি। এটাই ভারতের স্টাইল।

গত 8 মাসে ভারতের 25টির বেশি শহরে 350টির বেশি বৈঠক হয়েছে। ভাবুন — গুজরাটে হয়েছে ফাইনান্স ট্র্যাক মিটিং; বেঙ্গালুরুতে হয়েছে টেক ও স্টার্টআপ মিটিং; পাঞ্জাবে হয়েছে কৃষি মন্ত্রীদের বৈঠক; হায়দ্রাবাদে হয়েছে স্বাস্থ্য ও ফার্মা মিটিং । অর্থাৎ BRICS এখন শুধু বিদেশ মন্ত্রকের ফাইল নয়, এটি ভারতের প্রতিটি শহরের উৎসব। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ফাইনাল টাচ — ৯-১০ সেপ্টেম্বর, মুম্বাই। এখানেই বসেছিল ফাইনান্স মিনিস্টার ও সেন্ট্রাল ব্যাংক গভর্নরদের শেষ বৈঠক। যেখানে ঠিক হয়েছে — ডলারের বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম, NDB ব্যাংকের নতুন ঋণনীতি, আর New Delhi Declaration-এর খসড়া। তার পরেই মঞ্চ সেজেছে দিল্লিতে — 12-13 সেপ্টেম্বর, আসল শো-এর জন্য।

মূল অনুষ্ঠান: তিন দিনে কী কী হচ্ছে দিল্লিতে?
ভারত মণ্ডপমে এই তিন দিন শুধু ভাষণ নয়, পুরো বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে দর কষাকষি হবে।

11ই সেপ্টেম্বর – BRICS Business Forum : নেতাদের আসার একদিন আগেই আসবেন ব্যবসায়ীরা। 11 দেশের 500+ বড় কোম্পানির CEO, স্টার্টআপ ফাউন্ডাররা এক ছাদের নিচে। আলোচনা হবে —
i. নিজেদের মধ্যে ডলার ছাড়া কীভাবে বাণিজ্য হবে?
ii. ভারতের UPI কীভাবে ব্রাজিল-রাশিয়ায় চলবে?
iii. NDB ব্যাংক থেকে কীভাবে কম সুদে ঋণ পাওয়া যাবে?
এটা হলো BRICS-এর অর্থনৈতিক ইঞ্জিন।

12ই সেপ্টেম্বর – আসল খেলা শুরু; Leaders’ Summit Day-1 : সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী 11 দেশের নেতাদের স্বাগত জানান। তারপর — i. ক্লোজড মিটিং: শুধু 11 জন নেতা, কোনো মিডিয়া নেই, কোনো অফিসার নেই। এখানেই ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকট, ডলার বনাম লোকাল কারেন্সি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
ii. Bharat Innovates প্রদর্শনী: মোদী নেতাদের ঘুরিয়ে দেখান — কীভাবে ভারত চাঁদে গেল, কীভাবে UPI কাজ করে, কীভাবে ডিজিটাল ইন্ডিয়া বদলে দিয়েছে গ্রামকে।
iii. সন্ধ্যায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: মোদী-পুতিন, মোদী-শি জিনপিং বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে ছিল পুরো বিশ্ব।

13ই সেপ্টেম্বর – ঘোষণার দিন; Leaders’ Summit Day-2 : এই দিনটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
i. ওপেন সেশন: 11 জন সদস্য + পার্টনার দেশ + আফ্রিকা ও এশিয়ার আমন্ত্রিত দেশ — সবাই মিলে আলোচনা।
ii. New Delhi Declaration গ্রহণ: 140 প্যারাগ্রাফের এই ডকুমেন্টে স্বাক্ষর হবে, যা আগামী এক বছরের জন্য BRICS-এর রোডম্যাপ।
iii. প্রেস কনফারেন্স: শেষে যৌথ বিবৃতি।
তিন দিন, তিন রকম মেজাজ — প্রথম দিন ব্যবসা, দ্বিতীয় দিন কূটনীতি, তৃতীয় দিন ঘোষণা।

কে কে এসেছেন?; ভারতমণ্ডপের রেড কার্পেটে বিশ্বের হেভিওয়েটরা : অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ হিসেবে ভারত, আর সম্মেলনের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবারের দিল্লি সম্মেলনকে কূটনৈতিক মহলে “মিনি G20″ বলা হচ্ছে, তার কারণ হলো অতিথি তালিকা। এক ছাদের নিচে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিরা।

BRICS 2026: The Grand Stage of World Power in India

যাঁরা এসেছেন, একনজরে:
i. ভ্লাদিমির পুতিন – রাশিয়া : ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আবহে পুতিনের এই ভারত সফরই সবচেয়ে বেশি চর্চায়। সফর কনফার্ম। ভারত-রাশিয়া অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য, রুপি-রুবলে লেনদেন এবং S-400 প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বড় ঘোষণা আসতে পারে।
ii. শি জিনপিংচীন : গত কয়েক বছর LAC-কে কেন্দ্র করে ভারত-চীন সম্পর্কে যে শীতলতা চলছে, তার মধ্যে মোদী-শি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে থাকবে গোটা বিশ্ব। তাঁর আসাও প্রায় নিশ্চিত বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর।
iii. মাসুদ পেজেশকিয়ান – ইরান : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে চাবাহার বন্দর, তেল আমদানি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বাণিজ্য চালু রাখার উপায়।
iv. সিরিল রামাফোসা – দক্ষিণ আফ্রিকা : ব্রিকসের আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে পুরনো সদস্য। গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে তাঁর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
v. প্রাবোও সুবিয়ান্তো – ইন্দোনেশিয়া : জোটের সবচেয়ে নতুন সদস্য। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্তি ব্রিকসকে আরও শক্তিশালী করেছে।
vi. আবি আহমেদ – ইথিওপিয়া (প্রধানমন্ত্রী) : আফ্রিকার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির প্রতিনিধি।
vii. আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি – মিশর (প্রেসিডেন্ট) : সুয়েজ খাল এবং মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকা সংযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দেশ।
viii. শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান – সংযুক্ত আরব আমিরাত (আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স) : জ্বালানি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম বড় অংশীদার।
ix. মাউরো ভিয়েরা – ব্রাজিল (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। এছাড়াও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ, এক মঞ্চে তেলের মালিক, পরমাণু শক্তিধর এবং জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম দেশগুলো। এই দুই দিনের জন্য দিল্লিই হয়ে উঠছে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

BRICS 2026: The Grand Stage of World Power in India

New Delhi Declaration – 140 প্যারাগ্রাফে নতুন বিশ্বের খসড়া :

12ই সেপ্টেম্বর বিকেলে, সবচেয়ে কঠিন কাজটা হলো — 11টি দেশ, 11 রকম স্বার্থ, কিন্তু একটি ঘোষণা। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলো 140 প্যারাগ্রাফেরNew Delhi Declaration”। এই ডকুমেন্টটি হলো আগামী 10 বছরের জন্য BRICS-এর সংবিধান। ভিতরে কী আছে?
i. গ্লোবাল গভর্নেন্স রিফর্ম – চেয়ারটা বাড়াতে হবে : BRICS স্পষ্ট বলছে — UN Security Council-এ 1945 সালের 5 জন স্থায়ী সদস্যই কেন থাকবে? ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোকে স্থায়ী সদস্য করতে হবে। IMF ও World Bank-এ উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভোটাধিকার 30% থেকে বাড়িয়ে 50% করতে হবে।
ii. যুদ্ধ নয়, আলোচনা – আন্তর্জাতিক সংঘাত : ইউক্রেন যুদ্ধ ও গাজায় মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কাউকে দোষারোপ না করে বলা হয়েছে — “আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি আসবে।” মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান।
iii. ডলারকে টাটা? – বাণিজ্য ও পেমেন্ট : এটাই সবচেয়ে বিস্ফোরক পয়েন্ট। ঘোষণায় বলা হয়েছে — BRICS দেশগুলো নিজেদের মধ্যে লোকাল কারেন্সিতে বাণিজ্য শুরু করবে। ভারতীয় রুপি, চীনা ইউয়ান, রাশিয়ান রুবলে তেল কেনা-বেচা হবে। এর জন্য BRICS Pay নামে UPI-এর মতো একটি বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে ভারত।

iv. তেল ও পরিবেশ – এনার্জি ও ক্লাইমেট : পশ্চিমা দেশগুলো বলছে তেল ব্যবহার বন্ধ করো। BRICS বলছে — উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তেল ব্যবহার করতে দিতে হবে, কিন্তু গ্রিন এনার্জির জন্য প্রযুক্তি ও টাকাও দিতে হবে।
v. মানুষের BRICS – প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি : এবারের ঘোষণায় শুধু রাজনীতি নয়, মানুষের কথাও আছে। BRICS Space Alliance, BRICS Vaccine Research Center এবং কৃষি ক্ষেত্রে মিলেট (millet)-এর মতো পুষ্টিকর শস্যের চাষ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।
সোজা কথায়, “New Delhi Declaration” বলছে — বিশ্ব চলবে না আর একটি দেশের নিয়মে, বিশ্ব চলবে সবার নিয়মে।

BRICS 2026: The Grand Stage of World Power in India

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকে প্রশ্ন করবে — BRICS করে ভারতের লাভ কী? লাভ আছে এবং বিরাট লাভ আছে।

i. নেতৃত্বের সুযোগ: G20-র পর আবার বিশ্বগুরু : 2023 সালে G20 সামিট করে ভারত দেখিয়েছিল — আমরা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারি। 2026 সালে BRICS চেয়ারশিপ সেই ছবিটাকে আরও পাকা করল। যখন আমেরিকা বলছে “America First”, চীন বলছে “আমার নিয়ম মানো”, তখন ভারত বলছে — “সবাইকে নিয়ে চলো”। এই ভারসাম্যের নেতা হিসেবে মোদীর ইমেজ বিশ্বজুড়ে আরও শক্তিশালী হলো।
ii. অর্থনৈতিক লাভ; পকেটের লাভ : এটি সবচেয়ে বাস্তব লাভ।
– বাণিজ্য: 11টি দেশের সাথে বাণিজ্য বাড়লে ভারতের রপ্তানি বাড়বে। বিশেষ করে ওষুধ, কৃষিপণ্য, IT সার্ভিস।
UPI-র বিশ্বজয়: আজ ভারতে আমরা UPI-তে টাকা পাঠাই। কাল যদি ব্রাজিল বা UAE-তেও UPI চলে, তাহলে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর কত বড় বাজার খুলবে ভাবুন! এটি হলো ডিজিটাল সাম্রাজ্য বিস্তার।
– ডলারের চাপ কমা: তেল যদি রুপি-রুবলে কেনা যায়, তাহলে ডলারের দাম বাড়লেও ভারতের অতটা ক্ষতি হবে না।
iii. ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য; দুই নৌকায় পা রেখে চলা : এটাই ভারতের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক জয়। একদিকে ভারত QUAD-এ আমেরিকার সাথে, অন্যদিকে BRICS-এ রাশিয়া-চীনের সাথে। কেউ ভারতকে উপেক্ষা করতে পারবে না। আমেরিকা যদি বেশি চাপ দেয়, ভারত রাশিয়ার দিকে ঝুঁকবে। চীন যদি সীমান্তে ঝামেলা করে, ভারত আমেরিকার দিকে। এই ভারসাম্যের খেলাটাই ভারতকে সবচেয়ে সুরক্ষিত রাখে। নিজের স্বার্থ রক্ষা করার এটাই সেরা উপায়। তাই দিল্লি সম্মেলন শুধু একটি সম্মেলন নয়, এটি ভারতের 2047 সালের বিকশিত ভারত হওয়ার পথে একটি মাইলস্টোন।

BRICS 2026: The Grand Stage of World Power in India

উপসংহার: দিল্লি থেকে কী বার্তা যাবে বিশ্বের কাছে?
শেষ কথা একটাই — BRICS আজ আর শুধু পাঁচটা অক্ষর নয়।
এটি আজ 11টি দেশের স্বপ্ন, বিশ্বের 45% মানুষের আশা, যে আশা বলছে — বিশ্ব আর এক কেন্দ্রিক থাকবে না। আমেরিকা বা ইউরোপ যা বলবে, সেটাই শেষ কথা নয়। আমাদেরও কথা আছে, আমাদেরও স্বপ্ন আছে। 2026-এর দিল্লি সম্মেলন সেই স্বপ্নের পরীক্ষাগার।
এখানে যদি লোকাল কারেন্সিতে বাণিজ্য সত্যি শুরু হয়, যদি BRICS Pay-এর মতো সিস্টেম তৈরি হয়, যদি যুদ্ধ নিয়ে একটি নিরপেক্ষ শান্তির বার্তা যায় — তাহলে ইতিহাস লিখবে, নতুন বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছিল এই ভারত মণ্ডপমেই।
আর ভারতের জন্য?
এটি সেই মুহূর্ত, যখন ভারতকে প্রমাণ করতে হবে — আমরা শুধু বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র নই, আমরা বিশ্বের সেতুবন্ধন।
আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে, উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে, ধনী ও গরিব দেশের মধ্যে সেতু।
যদি ভারত এই সেতুবন্ধনের ভূমিকাটা সফলভাবে পালন করতে পারে, তাহলে 2026-এর এই সম্মেলনকে ভবিষ্যতে মনে রাখা হবে সেই দিন হিসেবে, যেদিন ভারত সত্যি সত্যি বিশ্বগুরু হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল।


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading