NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Bengali Model Answers-10/2

Madhyamik Bengali Model Answers-10

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? বাংলা (প্রথম ভাষা) বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক বাংলা (প্রথম ভাষা) Madhyamik Bengali Model Answers-10 (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৭টি MCQ, ১৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন, ব্যাকরণ, নির্মিতি এবং রচনা সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Bengali Model Answers-10

Madhyamik Bengali Model Answers
Madhyamik Bengali Model Answers

বাংলা (প্রথম ভাষা)

(Part-2)

⟽ Previous Part

৫. অনধিক 400 শব্দে যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (10)

৫.১ বাংলার বিজ্ঞানী – আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু

ভূমিকা: বাংলা হলো মহাপুরুষদের জন্মভূমি। এই বাংলায় জন্মেছেন অনেক বিজ্ঞানী যাঁরা সারা বিশ্বে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু। তিনি ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী, যিনি প্রমাণ করেছিলেন গাছেরও প্রাণ আছে। তিনি শুধু বিজ্ঞানী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক, দেশপ্রেমিক ও প্রকৃত শিক্ষক।

জন্ম ও শৈশব: জগদীশচন্দ্র বসু জন্মগ্রহণ করেন ১৮৫৮ সালের ৩০শে নভেম্বর, বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ফরিদপুরে (তখন বিক্রমপুর)। তাঁর পিতার নাম ভগবানচন্দ্র বসু এবং মাতার নাম বামাসুন্দরী দেবী। তাঁর পিতা ছিলেন একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, কিন্তু তিনি ছিলেন খুব সৎ ও দেশপ্রেমিক।
ছোটবেলায় জগদীশচন্দ্র গ্রামের স্কুলে পড়তেন। সেখানে গরিব চাষীর ছেলেদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে পড়তেন। তাঁর বাবা ইচ্ছে করেই তাঁকে ইংরেজি স্কুলে না দিয়ে বাংলা স্কুলে ভর্তি করেছিলেন, যাতে তিনি বাংলাকে ভালোবাসতে শেখেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি তাঁর খুব টান ছিল – গাছপালা, পশুপাখি নিয়ে ভাবতেন।

শিক্ষাজীবন: গ্রামের স্কুলের পর তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করেন। সেখানে ফাদার লাফোঁ নামে এক শিক্ষকের কাছে তিনি বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হন। এরপর তিনি ইংল্যান্ডে যান ডাক্তারি পড়তে। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার সময় রক্ত দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তেন, তাই তিনি ডাক্তারি ছেড়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি বি.এ. পাস করেন এবং দেশে ফিরে আসেন।

কর্মজীবন ও বিজ্ঞান সাধনা: দেশে ফিরে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। তখন ইংরেজ সরকার ভারতীয় শিক্ষকদের ইংরেজ শিক্ষকদের থেকে দুই-তৃতীয়াংশ বেতন দিত। এর প্রতিবাদে তিনি তিন বছর বেতন নেননি। শেষ পর্যন্ত সরকার তাঁকে পুরো বেতন দিতে বাধ্য হয়। এ থেকেই তাঁর আত্মসম্মান ও দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়।
তিনি কলেজের ছোট্ট ল্যাবরেটরিতে বসে গবেষণা শুরু করেন।

তাঁর আবিষ্কারসমূহ:
১. বেতার তরঙ্গ আবিষ্কার: মার্কনির অনেক আগেই তিনি বেতার তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন। ১৮৯৫ সালে তিনি কলকাতায় বিনা তারে বেতার বার্তা পাঠিয়ে দেখান। তিনিই প্রথম ক্ষুদ্র বেতার তরঙ্গ (মাইক্রোওয়েভ) আবিষ্কার করেন। আজকের রেডিও, টিভি, মোবাইল, রাডার – সবই তাঁর এই আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কিন্তু তিনি কখনো এই আবিষ্কারের পেটেন্ট নেননি, ব্যবসা করেননি। তিনি চেয়েছিলেন বিজ্ঞান সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকুক।
২. গাছের প্রাণ আছে: এটাই তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত আবিষ্কার। তিনি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন – “ক্রেস্কোগ্রাফ”। এই যন্ত্র দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন যে গাছেরও প্রাণ আছে, গাছও মানুষের মতো দুঃখ-কষ্ট অনুভব করে, গাছও উত্তেজনায় সাড়া দেয়। গাছকে বিষ দিলে গাছ কষ্ট পায়, আবার ভালো ব্যবহার করলে গাছ আনন্দ পায়। এই আবিষ্কার সারা বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিল।
৩. বসু বিজ্ঞান মন্দির: বিজ্ঞান চর্চার জন্য তিনি ১৯১৭ সালে কলকাতায় “বসু বিজ্ঞান মন্দির” প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ভারতের প্রথম বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র।

সম্মান ও পুরস্কার: তাঁর কাজের জন্য ইংরেজ সরকার তাঁকে “নাইট” উপাধি দেয়, তাই তাঁকে “স্যার” বলা হয়। তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। তিনি অনেক বই লিখেছেন – “অব্যক্ত”, “ভাগীরথীর উৎস সন্ধানে” ইত্যাদি।

চরিত্র ও উপসংহার: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তিনি ছিলেন খাঁটি বাঙালি, ধুতি-পাঞ্জাবি পরতেন। তিনি ছাত্রদের খুব ভালোবাসতেন। তাঁর প্রিয় ছাত্র ছিলেন আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়।
তিনি ১৯৩৭ সালের ২৩শে নভেম্বর গিরিডিতে মারা যান।
তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ভারতীয়রাও বিজ্ঞানে পিছিয়ে নেই। তিনি আমাদের গর্ব। তাঁর জীবন থেকে আমরা শিখি – সততা, দেশপ্রেম, অধ্যবসায় ও বিজ্ঞান সাধনা। বাংলার প্রতিটি ছাত্রের উচিত তাঁকে আদর্শ হিসেবে মানা।

Madhyamik Bengali Model Answers-10

৫.২ দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান

ভূমিকা: সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আমরা প্রতি মুহূর্তে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করি। বিজ্ঞান ছাড়া আজকের জীবন এক মুহূর্তও কল্পনা করা যায় না। বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে করেছে সহজ, সুন্দর ও আরামদায়ক। বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান। এই বিশেষ জ্ঞানই আজ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী।

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহার:
১. সকালে ঘুম থেকে উঠেই বিজ্ঞান: ঘুম ভাঙে অ্যালার্ম ঘড়ির শব্দে – এটি বিজ্ঞানের দান। তারপর আমরা দাঁত মাজি টুথপেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে, মুখ ধুই, সাবান ব্যবহার করি – সবই বিজ্ঞানের তৈরি। আমরা যে জল খাই, তা ফিল্টারে পরিষ্কার করা বিজ্ঞানের সাহায্যেই।
২. রান্নাঘরে বিজ্ঞান: মা যখন রান্নাঘরে যান, সেখানেও বিজ্ঞান। গ্যাসের উনুন, প্রেসার কুকার, মিক্সার, ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ ওভেন – সব বিজ্ঞানের আবিষ্কার। ফ্রিজ খাবারকে তাজা রাখে, প্রেসার কুকার তাড়াতাড়ি রান্না করে। আগে মা কাঠের উনুনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্না করতেন, এখন অল্প সময়ে রান্না হয়ে যায়।
৩. যাতায়াত ও যোগাযোগে বিজ্ঞান: আমরা স্কুলে যাই সাইকেল, বাস, ট্রেন, মোটরসাইকেলে – এগুলি বিজ্ঞানের দান। একসময় মানুষ পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল যেত, এখন কয়েক ঘণ্টায় এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়া যায়।
যোগাযোগে তো বিজ্ঞান বিপ্লব এনেছে। মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ইন্টারনেট, টিভি, রেডিও – এর মাধ্যমে আমরা ঘরে বসেই সারা পৃথিবীর খবর পাই। আমি শালতোড়ায় বসে কলকাতা বা আমেরিকার বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারি – এটি বিজ্ঞানের জন্যই সম্ভব।
৪. পড়াশোনায় বিজ্ঞান: আমরা যে বই পড়ি, খাতায় লিখি, কলম, পেন্সিল ব্যবহার করি – সব বিজ্ঞানের সাহায্যে তৈরি। এখন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ইন্টারনেটে পড়াশোনা হয়। অনলাইন ক্লাস, ইউটিউবে ভিডিও দেখে শেখা – সব বিজ্ঞানের অবদান। ক্যালকুলেটর, প্রিন্টার – এগুলো ছাত্রজীবনকে সহজ করেছে।
৫. চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান: আগে মানুষ সামান্য জ্বর, কলেরায় মারা যেত। এখন বিজ্ঞানের জন্য এক্স-রে, রক্ত পরীক্ষা, ওষুধ, ভ্যাকসিন, অপারেশন – সব সম্ভব হয়েছে। চোখের চশমা থেকে শুরু করে হার্টের অপারেশন – সবখানে বিজ্ঞান। করোনার সময় বিজ্ঞানীরা কত তাড়াতাড়ি টিকা আবিষ্কার করলেন।
৬. কৃষি ও বিনোদনে বিজ্ঞান: কৃষিতে এখন ট্রাক্টর, পাম্প, উন্নত বীজ, সার – সব বিজ্ঞানের দান। ফলে ফসল বেশি হচ্ছে।
বিনোদনের জন্য সিনেমা, টিভি, মোবাইল গেম, ফেসবুক, ইউটিউব – সব বিজ্ঞানের দান। গরমে ফ্যান, এসি, শীতে গিজার আমাদের আরাম দেয়।

বিজ্ঞানের খারাপ দিক: বিজ্ঞানের ভালো দিকের সঙ্গে খারাপ দিকও আছে। বিজ্ঞান বোমা, বন্দুক, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেছে যা মানুষকে ধ্বংস করতে পারে। কলকারখানার ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। মোবাইল, কম্পিউটার বেশি ব্যবহারে চোখ ও স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। তাই বিজ্ঞানকে ভালো কাজে ব্যবহার করতে হবে।

উপসংহার: বিজ্ঞান হলো আশীর্বাদ, যদি আমরা তাকে ভালো কাজে ব্যবহার করি। বিজ্ঞান ছাড়া আজকের জীবন অচল। তাই আমাদের উচিত বিজ্ঞানকে জানা, বিজ্ঞানকে ভালোবাসা এবং বিজ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা। ছাত্র হিসেবে আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে, কুসংস্কার দূর করতে হবে এবং বিজ্ঞান দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

Madhyamik Bengali Model Answers-10

৫.৩ বইমেলা

ভূমিকা: মেলা মানেই মিলন, আনন্দ। আর বইমেলা হলো জ্ঞানের মিলনমেলা। যেখানে বইপ্রেমীরা মিলিত হয়, যেখানে বই কথা বলে, বই হাসে। বাঙালি জাতি বই ভালোবাসে, তাই বইমেলা বাঙালির প্রিয় উৎসব। বলা হয়, “বই হলো মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, যে কখনো धोखा দেয় না।” আর সেই বন্ধুদের নিয়েই হয় বইমেলা।

বইমেলা কী ও কোথায় হয়: বইমেলা হলো এমন একটি জায়গা যেখানে অনেক বইয়ের দোকান বা স্টল একসঙ্গে বসে। বিভিন্ন প্রকাশনী তাদের নতুন-পুরানো সব বই নিয়ে আসে। পাঠকরা সেখানে ঘুরে ঘুরে বই দেখে, পড়ে, কেনে।
পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। এটি সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে হয়, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে। এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বইমেলা। এছাড়া আমাদের বাঁকুড়া জেলা বইমেলা, শালতোড়া বইমেলা, বর্ধমান, শিলিগুড়ি – প্রায় সব জেলাতেই এখন বইমেলা হয়। আমার স্কুলেও প্রতি বছর ছোট করে বইমেলা হয়।

আমার দেখা বইমেলার বর্ণনা: গত বছর আমি বাবার সঙ্গে বাঁকুড়া জেলা বইমেলায় গিয়েছিলাম। মেলার গেটটি ছিল খুব সুন্দর করে সাজানো, উপরে বড় করে লেখা “বাঁকুড়া জেলা বইমেলা”। ভিতরে ঢুকেই দেখি সারি সারি স্টল – আনন্দ, দে’জ, মিত্র ও ঘোষ, তুলসী প্রকাশনী – কত নাম।
প্রতিটি স্টলে থরে থরে বই সাজানো – গল্পের বই, কবিতার বই, ছড়ার বই, বিজ্ঞানের বই, ভূতের বই, রান্নার বই, ছবি আঁকার বই। ছোটদের জন্য চাঁদমামা, শুকতারা, ফেলুদা, ব্যোমকেশ। আমি সেখানে দুটি বই কিনেছিলাম – একটি সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল আর একটি বিজ্ঞানের মজার প্রশ্নোত্তর।
বইমেলায় শুধু বই কেনাবেচা হয় না। সেখানে লেখকরা আসেন, তাঁদের সঙ্গে পাঠকদের দেখা হয়। মঞ্চে আলোচনা হয়, কবিতা পাঠ হয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এক কোণে ছিল লিটল ম্যাগাজিনের স্টল, যেখানে নতুন লেখকরা তাদের পত্রিকা বিক্রি করছিলেন। আর ছিল খাবারের স্টল – বই দেখতে দেখতে ক্লান্ত হলে ফুচকা, চা, ঘুগনি খাওয়া যায়।
সবচেয়ে ভালো লেগেছিল – সেখানে কোনো চিৎকার নেই, হট্টগোল নেই। সবাই চুপচাপ বই দেখছে, বই পড়ছে। স্কুলের ছাত্রছাত্রী, কলেজের দাদা-দিদি, বয়স্ক মানুষ – সবাই একসঙ্গে।

বইমেলার গুরুত্ব:
১. জ্ঞান বৃদ্ধি: বইমেলা আমাদের নতুন নতুন বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করায়। অনেক বই যা দোকানে পাওয়া যায় না, মেলায় পাওয়া যায়।
২. বই পড়ার অভ্যাস: আজকাল ছেলেমেয়েরা মোবাইলে বেশি সময় কাটায়, বই পড়ে না। বইমেলা তাদের বই পড়তে উৎসাহ দেয়।
৩. লেখক-পাঠক মিলন: পাঠক তার প্রিয় লেখককে সামনে থেকে দেখতে পায়, অটোগ্রাফ নিতে পারে।
৪. সংস্কৃতির বিকাশ: বইমেলা আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে। বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্যকে ভালোবাসতে শেখায়।

উপসংহার: বইমেলা শুধু মেলা নয়, এটি একটি উৎসব, একটি আন্দোলন। এটি আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়। মোবাইল, টিভির যুগে বইমেলা প্রমাণ করে যে বই এখনো মরেনি, বই এখনো মানুষের প্রিয়।
তাই আমাদের সকলের উচিত বছরে অন্তত একবার বইমেলায় যাওয়া, বই কেনা এবং বন্ধুদের বই উপহার দেওয়া। মনে রাখতে হবে – “একটি ভালো বই একশো বন্ধুর সমান।” আর বইমেলা হলো সেই বন্ধুদের হাট।

Madhyamik Bengali Model Answers-10

৫.৪ ছাত্রজীবনে সমাজসেবা

ভূমিকা: মানুষ সমাজে বাস করে। সমাজ ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। তাই সমাজের প্রতি মানুষের কর্তব্য আছে। এই কর্তব্য পালন করাকেই বলে সমাজসেবা। আর ছাত্রজীবন হলো সমাজসেবা শেখার সবচেয়ে ভালো সময়। কথায় বলে – “ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতি।” এই সময় যদি আমরা সমাজের জন্য কাজ করতে শিখি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা ভালো নাগরিক হতে পারব।

সমাজসেবা কী: সমাজসেবা মানে শুধু টাকা দান করা নয়। সমাজসেবা মানে –
– মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো
– গরিব, অসহায় মানুষকে সাহায্য করা
– গ্রাম, পাড়া, স্কুল পরিষ্কার রাখা
– গাছ লাগানো, পরিবেশ রক্ষা করা
– নিরক্ষর মানুষকে পড়াতে শেখানো
– রোগীর সেবা করা

ছাত্রজীবনে সমাজসেবা কেন জরুরি:
১. চরিত্র গঠন: সমাজসেবা করলে মনের অহংকার দূর হয়, দয়া, মায়া, সহানুভূতি জন্মায়। ছাত্র বুঝতে শেখে – “সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।”
২. পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে শিক্ষা: বই পড়ে সব শেখা যায় না। সমাজসেবা করলে বাস্তব জীবন সম্পর্কে জ্ঞান হয়। মানুষের কষ্ট, অভাব নিজের চোখে দেখা যায়।
৩. সময়ের সঠিক ব্যবহার: ছাত্ররা অবসর সময়ে মোবাইল, আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করে। সেই সময় সমাজসেবায় লাগালে সময়ের সঠিক ব্যবহার হয়।
৪. ভবিষ্যৎ নাগরিক তৈরি: আজকের ছাত্র আগামী দিনের নাগরিক। ছোটবেলা থেকেই যদি সে সমাজের কাজে লাগে, তবে বড় হয়ে সে দেশের জন্য অনেক বড় কাজ করতে পারবে।

ছাত্ররা কীভাবে সমাজসেবা করতে পারে: ছাত্ররা অনেকভাবে সমাজসেবা করতে পারে, তার জন্য অনেক টাকা লাগে না –
– পরিবেশ রক্ষা: স্কুল, বাড়ি, পাড়া পরিষ্কার করা, প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করা, গাছ লাগানো ও গাছের যত্ন নেওয়া। আমাদের শালতোড়ায় আমরা স্কুল থেকে “নির্মল বাংলা” অভিযানে গ্রাম পরিষ্কার করি।
– সাক্ষরতা অভিযান: নিজের বাড়ির কাজের মাসি, ড্রাইভার কাকু বা পাড়ার নিরক্ষর মানুষকে অক্ষর শেখানো, সই করতে শেখানো।
– বন্যা, ঝড়ে সাহায্য: বন্যা বা আমফানের মতো বিপর্যয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করা, খাবার, জামাকাপড় বিতরণ করা।
– স্বাস্থ্য সচেতনতা: পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, করোনা সম্পর্কে সচেতন করা, রক্তদান শিবিরে সাহায্য করা।
– বয়স্কদের সাহায্য: রাস্তায় অন্ধ মানুষকে পার করে দেওয়া, বয়স্ক মানুষের বাজার করে দেওয়া, হাসপাতালে রোগীকে সাহায্য করা।
– NSS, স্কাউট, NCC: স্কুলে NSS, স্কাউট আছে – এগুলোর মাধ্যমে সংগঠিতভাবে সমাজসেবা করা যায়।

আমার অভিজ্ঞতা: গত বছর আমাদের স্কুলের NSS থেকে আমরা একটি গ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা গ্রামের রাস্তা পরিষ্কার করেছিলাম, দুটি নিম গাছ লাগিয়েছিলাম এবং ছোট বাচ্চাদের বই দিয়েছিলাম। গ্রামের মানুষেরা আমাদের আশীর্বাদ করেছিলেন। সেদিন যে আনন্দ পেয়েছিলাম, তা কোনো পুরস্কার পেয়েও পাইনি।

উপসংহার: মনে রাখতে হবে, সমাজসেবা মানে নিজের পড়াশোনা নষ্ট করে সারাদিন সমাজের কাজ করা নয়। পড়াশোনা ঠিক রেখে, অবসর সময়ে যতটুকু পারা যায় সমাজের জন্য করা।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন – “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” তাই ছাত্রজীবন থেকেই আমাদের সমাজসেবার মন্ত্রে দীক্ষিত হতে হবে। তবেই আমাদের ছাত্রজীবন সার্থক হবে এবং আমরা প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠব।

Madhyamik Bengali Model Answers-10

৬. যেকোনো একটি করো: (5)

৬.১ তোমার বিদ্যালয়ে ‘শিক্ষক দিবস’ উদযাপন নিয়ে একটি প্রতিবেদন

শালতোড়া, ৬ই সেপ্টেম্বর:
গত ৫ই সেপ্টেম্বর আমাদের শালতোড়া হাই স্কুলে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও আনন্দের সঙ্গে শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়। ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর এই দিনটি পালিত হয়।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্কুলের হলঘরটি ফুল ও বেলুন দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। প্রথমে দশম শ্রেণির ছাত্র অমিত মণ্ডল ড. রাধাকৃষ্ণণের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে। এরপর ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের ফুল ও কলম দিয়ে সম্মান জানায়।
ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের নিয়ে গান, কবিতা ও বক্তব্য রাখে। নবম শ্রেণির ছাত্রী পিয়া মাহাতো শিক্ষকদের গুরুত্ব নিয়ে সুন্দর বক্তব্য রাখে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্ররা “আমাদের শিক্ষক” নামে একটি নাটক পরিবেশন করে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ছাত্রদের তৈরি হাতে লেখা কার্ড দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক মহাশয় তাঁর ভাষণে বলেন, শিক্ষকরাই জাতির মেরুদণ্ড। ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার।
শেষে শিক্ষকরা ছাত্রদের আশীর্বাদ করেন ও মিষ্টিমুখ করানো হয়। প্রায় ৪০০ জন ছাত্রছাত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।

6.2 অতিরিক্ত বৃষ্টিতে তোমার এলাকার ক্ষয়ক্ষতি জানিয়ে সংবাদপত্রে চিঠি লেখো।

মাননীয় সম্পাদক মহাশয়,
আনন্দবাজার পত্রিকা
কলকাতা – ৭০০০০১

বিষয়: অতিরিক্ত বৃষ্টিতে শালতোড়া এলাকার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে

মহাশয়,
আপনার বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।
গত এক সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে আমাদের বাঁকুড়া জেলার মোলবনা এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একটানা বর্ষণে দারকেশ্বর নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।
এই বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে –
১. চাষের জমি: প্রায় ৫০০ বিঘা ধান জমি জলের তলায় ডুবে গেছে। চাষিদের মাথায় হাত।
২. রাস্তাঘাট: কাশিবেদিয়া থেকে কেঞ্জাকুঁড়া যাওয়ার প্রধান রাস্তাটি ভেঙে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
৩. বাড়িঘর: প্রায় ১০০টি কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়েছে, বহু মানুষ স্কুল বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
৪. স্কুল: আমাদের স্কুলে জল ঢুকে যাওয়ায় ৪ দিন ধরে ক্লাস বন্ধ।
প্রশাসন থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো সাহায্য আসেনি। আমরা চাই দ্রুত ত্রাণ, পানীয় জল ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হোক এবং রাস্তা মেরামত করা হোক।
আশা করি আপনি আমার এই পত্রটি আপনার পত্রিকায় প্রকাশ করে এলাকাবাসীকে সাহায্য করবেন।

বিনীত
রঞ্জিৎ মণ্ডল
কাশিবেদিয়া, বাঁকুড়া
তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading