NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Bengali Model Answers-9/2

Madhyamik Bengali Model Answers-9

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? বাংলা (প্রথম ভাষা) বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক বাংলা (প্রথম ভাষা) Madhyamik Bengali Model Answers-9 (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৭টি MCQ, ১৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন, ব্যাকরণ, নির্মিতি এবং রচনা সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Bengali Model Answers-9

Madhyamik Bengali Model Answers
Madhyamik Bengali Model Answers

বাংলা (প্রথম ভাষা)

(Part-2)

⟽ Previous Part

৫. অনধিক 400 শব্দে যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (10)

৫.১ বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য ও জনজীবন

ভূমিকা: বাংলা ষড়ঋতুর দেশ। ষড়ঋতু মানে ছয়টি ঋতু। পৃথিবীর অনেক দেশে দুটি বা তিনটি ঋতু আছে, কিন্তু বাংলায় ছয়টি ঋতু তার নিজস্ব রূপ, রং, রস নিয়ে আসে। তাই কবি বলেছেন – “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি।” এই ছয়টি ঋতু হলো – গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। এই ঋতুবৈচিত্র্য বাংলার প্রকৃতিকে যেমন সুন্দর করেছে, তেমনি বাঙালির জনজীবনকেও প্রভাবিত করেছে।

১. গ্রীষ্মকাল (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ): বছরের প্রথম ঋতু গ্রীষ্ম। এই সময় সূর্যের প্রচণ্ড তাপে মাঠ-ঘাট ফেটে যায়, পুকুর-নদীর জল শুকিয়ে যায়। মানুষ গরমে হাঁসফাঁস করে। তবে গ্রীষ্ম ফলমূলের ঋতু। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু – কত রকমের সুস্বাদু ফল পাওয়া যায় এই সময়। আমকে বলা হয় ফলের রাজা। এই সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় – হঠাৎ করে আকাশ কালো করে প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টি আসে। গ্রামে এই সময় খেজুর পাতার হাতপাখা ও আম পোড়া শরবত জনপ্রিয়।

২. বর্ষাকাল (আষাঢ়-শ্রাবণ): গ্রীষ্মের পর আসে বর্ষা। আকাশে মেঘ জমে, ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ে। মাঠ-ঘাট, নদী-নালা জলে ভরে যায়। কৃষকের মুখে হাসি ফোটে, কারণ এই সময় তারা ধান রোপন করে। বর্ষা হলো বাংলার প্রাণ। কবি রবীন্দ্রনাথ বর্ষাকে নিয়ে অনেক গান লিখেছেন। কদম ফুল ফোটে এই সময়। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা হয়, মানুষের কষ্ট বাড়ে। বর্ষায় ইলিশ মাছ খুব পাওয়া যায়। খিচুড়ি ও ইলিশ ভাজা বাঙালির প্রিয় খাবার এই সময়।

৩. শরৎকাল (ভাদ্র-আশ্বিন): বর্ষার পর আসে শরৎ। শরৎ হলো সবচেয়ে সুন্দর ঋতু। আকাশ পরিষ্কার নীল, তাতে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায়। মাঠে মাঠে কাশফুল ফোটে, মনে হয় যেন সাদা চাদর পাতা। শিউলি ফুলের গন্ধে সকাল ভরে যায়। এই ঋতুতেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা হয়। ঢাকের বাজনা, নতুন জামা, আনন্দ – সব মিলিয়ে শরৎ এক আনন্দের ঋতু।

৪. হেমন্তকাল (কার্তিক-অগ্রহায়ণ): শরতের পর হেমন্ত। একে বলা হয় ধানের ঋতু। মাঠে মাঠে সোনালী ধান পাকে। কৃষকেরা ধান কেটে ঘরে তোলে। এই সময় নবান্ন উৎসব হয় – নতুন চালের ভাত, পায়েস, পিঠে খাওয়া হয়। সকালবেলা ঘাসের ওপর শিশির পড়ে। হেমন্ত খুব শান্ত ও স্নিগ্ধ ঋতু।

৫. শীতকাল (পৌষ-মাঘ): হেমন্তের পর আসে শীত। শীতকালে খুব ঠান্ডা পড়ে। সকালে ঘন কুয়াশা থাকে। মানুষ সোয়েটার, চাদর পরে। এই সময় খেজুর রস, পাটালি গুড় পাওয়া যায়। পিঠে-পুলি, পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। শীতকালে নানা রকম শাকসবজি – ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলো, গাজর পাওয়া যায়। এই সময় পৌষ মেলা, বইমেলা হয়। শীতের সকালে রোদে বসে মুড়ি খাওয়ার মজাই আলাদা।

৬. বসন্তকাল (ফাল্গুন-চৈত্র): শীতের শেষে আসে বসন্ত – ঋতুরাজ। সবচেয়ে সুন্দর ঋতু। গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, আমের মুকুল আসে, কোকিল ডাকে। মাঠে মাঠে শিমুল, পলাশ ফুল লাল হয়ে ফোটে। বাতাসে ফুলের গন্ধ। এই সময় দোল ও হোলি উৎসব হয়। সবাই রঙ মেখে আনন্দ করে। বসন্তে মানুষের মনে নতুন আশা জাগে।

ঋতুবৈচিত্র্যের প্রভাব জনজীবনে: বাংলার এই ঋতুবৈচিত্র্য বাঙালির জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। কৃষক ঋতু দেখে ফসল বোনে। কবি ঋতু নিয়ে কবিতা লেখে। উৎসবগুলো ঋতুর সঙ্গে জড়িত। গ্রীষ্মে আমের উৎসব, বর্ষায় নৌকা বাইচ, শরতে দুর্গাপূজা, হেমন্তে নবান্ন, শীতে পিঠে উৎসব, বসন্তে দোল – সবই ঋতুকে কেন্দ্র করে।
ঋতু পরিবর্তনের ফলে মানুষের পোশাক, খাওয়া-দাওয়া, কাজকর্ম সব বদলে যায়। এটাই বাংলার বৈচিত্র্য, এটাই বাংলার সৌন্দর্য।

উপসংহার: বাংলার ষড়ঋতু যেন ছয়টি বোন – তারা একে অপরের হাত ধরে আসে যায়। প্রত্যেকের রূপ আলাদা, গুণ আলাদা। এই ঋতুচক্রই বাংলাকে এত সুন্দর করেছে। ঋতুচক্র না থাকলে জীবন একঘেয়ে হয়ে যেত। তাই আমরা গর্বিত, আমরা ষড়ঋতুর দেশে জন্মেছি। এই ঋতুবৈচিত্র্যই আমাদের জীবনে রং, রস ও আনন্দ জোগায়।

Madhyamik Bengali Model Answers-9

৫.২ তোমার প্রিয় শিক্ষক

ভূমিকা: শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। তিনি আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যান। কথায় বলে, পিতা-মাতা আমাদের জন্ম দেন, আর শিক্ষক আমাদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। আমার জীবনে অনেক শিক্ষক এসেছেন, সকলকেই আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তাঁদের মধ্যে একজন আছেন যিনি আমার সবচেয়ে প্রিয়, তিনি হলেন আমাদের বাংলা শিক্ষক শ্রীযুক্ত অমলবাবু।

তাঁর পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব: অমলবাবুর পুরো নাম শ্রী অমল কুমার চট্টোপাধ্যায়। তিনি আমাদের বেনেগোড়া হাইস্কুলে বাংলা পড়ান। তাঁর বয়স প্রায় ৪৫ বছর। তিনি মাঝারি উচ্চতার, হালকা চেহারা, চোখে চশমা, পরনে সবসময় পরিষ্কার ধুতি-পাঞ্জাবি। তাঁর মুখে সবসময় একটা মিষ্টি হাসি লেগে থাকে। তিনি কখনো রেগে যান না, কখনো কাউকে মারেন না। তাঁর গলার স্বর খুব মিষ্টি। তিনি যখন পড়ান, তখন মনে হয় গল্প শুনছি।

কেন তিনি আমার প্রিয়:
১. পড়ানোর কৌশল: অমলবাবু শুধু বই পড়ান না, তিনি বুঝিয়ে পড়ান। বাংলা কবিতা যখন তিনি আবৃত্তি করে পড়ান, তখন মনে হয় কবি নিজেই আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। “বীরপুরুষ” কবিতাটি তিনি এমনভাবে পড়িয়েছিলেন যে আমার আজও মনে আছে। তিনি গল্পের ছলে ব্যাকরণ বুঝিয়ে দেন, তাই বাংলা আমার কাছে কঠিন লাগে না, খুব সহজ লাগে।
২. ভালোবাসা ও স্নেহ: তিনি আমাদের সকলকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। কেউ পড়া না পারলে তিনি বকেন না, বরং আরও ভালো করে বুঝিয়ে দেন। কেউ অসুস্থ হলে তিনি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেন। গরিব ছাত্রদের তিনি নিজের টাকায় বই-খাতা কিনে দেন। তাঁর কাছে কোনো ছাত্রই খারাপ নয়। তিনি বলেন, “সব ছাত্রই ভালো, শুধু একটু যত্ন দরকার।”
৩. আদর্শ মানুষ: অমলবাবু শুধু একজন ভালো শিক্ষক নন, তিনি একজন ভালো মানুষও। তিনি খুব সৎ ও পরিশ্রমী। তিনি সময়ের খুব মূল্য দেন, কখনো ক্লাসে দেরি করে আসেন না। তিনি আমাদের সবসময় সত্য কথা বলা, বড়দের সম্মান করা, গরিবদের সাহায্য করা – এই সব নৈতিক শিক্ষা দেন। তিনি বলেন, “ভালো রেজাল্টের আগে ভালো মানুষ হওয়া দরকার।”
৪. অনুপ্রেরণা: আমার যখন মন খারাপ থাকে বা পড়াশোনায় ভয় লাগে, আমি অমলবাবুর কাছে যাই। তিনি আমাকে সাহস দেন। একবার আমি রচনা প্রতিযোগিতায় ভয় পাচ্ছিলাম, তিনি আমাকে উৎসাহ দিয়ে নাম লেখালেন। আমি দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছিলাম। সেই দিন থেকে আমার মনে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
তিনি আমাদের নাটক শেখান, আবৃত্তি শেখান, দেয়াল পত্রিকা তৈরি করতে সাহায্য করেন। স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর উৎসাহ সবচেয়ে বেশি থাকে।

উপসংহার: আমার প্রিয় শিক্ষক অমলবাবু আমার জীবনের আদর্শ। আমি বড় হয়ে তাঁর মতো একজন মানুষ হতে চাই – জ্ঞানী, সৎ ও সকলের প্রিয়। শিক্ষক দিবসে আমি তাঁকে প্রণাম জানাই।

কবি বলেছেন –
“শিক্ষক তুমি শুধু শিক্ষক নও, তুমি বন্ধু, তুমি পিতা,
তোমার আলোয় আলোকিত হয়, সকল ছাত্রের জীবন-খাতা।”
আমার জীবনে অমলবাবুর অবদান আমি কখনো ভুলব না। তিনি আমার হৃদয়ে চিরদিন শ্রদ্ধার আসনে থাকবেন।

Madhyamik Bengali Model Answers-9

৫.৩ খেলাধুলা ও শরীরচর্চা

ভূমিকা: “সুস্থ দেহে সুস্থ মন” – এটি একটি প্রাচীন প্রবাদ। মনকে সুস্থ রাখতে হলে দেহকে সুস্থ রাখতে হবে। আর দেহকে সুস্থ রাখার প্রধান উপায় হলো খেলাধুলা ও শরীরচর্চা। পড়াশোনা যেমন মনের খাবার, তেমনি খেলাধুলা হলো শরীরের খাবার। শুধু বই মুখস্থ করে ভালো রেজাল্ট করলেই হবে না, শরীরকেও ভালো রাখতে হবে। তাই স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন – “গীতা পাঠ করার চেয়ে ফুটবল খেলা ভালো।”

খেলাধুলা ও শরীরচর্চা কী: খেলাধুলা মানে হলো ফুটবল, ক্রিকেট, কবাডি, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, দৌড়ঝাঁপ ইত্যাদি। আর শরীরচর্চা মানে হলো নিয়মিত ব্যায়াম, যোগাসন, প্রাণায়াম, সকালে হাঁটা, ডন-বৈঠক ইত্যাদি। দুটির উদ্দেশ্য একই – শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম করে তোলা।

খেলাধুলার উপকারিতা:

১. শারীরিক উপকারিতা:
– নিয়মিত খেলাধুলায় শরীরের পেশি মজবুত হয়, হাড় শক্ত হয়, রক্ত চলাচল ভালো হয়।
– রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সর্দি-কাশি, জ্বর সহজে হয় না।
– শরীরের বাড়তি মেদ কমে, শরীর সুন্দর ও ফিট থাকে। আজকাল ছেলেমেয়েরা মোবাইলে বসে থেকে মোটা হয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য খেলাধুলা খুব জরুরি।

২. মানসিক উপকারিতা:
– খেলাধুলা করলে মন ভালো থাকে, দুশ্চিন্তা দূর হয়। পড়াশোনার চাপ কমে।
– আত্মবিশ্বাস বাড়ে। জেতার আনন্দ মানুষকে সাহসী করে।
– মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে। তাই যে ছাত্র নিয়মিত খেলে, সে পড়াশোনাতেও ভালো করে।

৩. চারিত্রিক ও সামাজিক উপকারিতা:
– খেলাধুলা আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়। সময়মতো মাঠে যাওয়া, নিয়ম মেনে খেলা – এগুলো জীবনে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে শেখায়।
– দলগত খেলা – যেমন ফুটবল, ক্রিকেট – আমাদের একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে শেখায়, নেতৃত্ব দিতে শেখায়।
– হার-জিতকে সমানভাবে নিতে শেখায়। খেলায় হারজিত আছে, জীবনেও তাই। হেরে গিয়ে ভেঙে না পড়া, জিতেও অহংকার না করা – খেলাধুলা এই শিক্ষা দেয়।
– খেলার মাঠে কোনো জাতি, ধর্ম, ধনী-গরিব ভেদাভেদ থাকে না। সকলে একসঙ্গে খেলে। তাই খেলাধুলা সম্প্রীতি বাড়ায়।

ছাত্রজীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব: ছাত্রজীবনে খেলাধুলা অপরিহার্য। সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকলে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত হয়ে যায়। বিকেলে এক ঘণ্টা মাঠে খেললে শরীর চাঙ্গা হয়, মন সতেজ হয়, তারপর পড়তে ভালো লাগে। তাই প্রতিটি স্কুলে খেলার পিরিয়ড থাকা উচিত। আমাদের সরকার এখন “খেলাশ্রী” প্রকল্প চালু করেছে, স্কুলে স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হচ্ছে – এটা খুব ভালো উদ্যোগ।

বর্তমান সমস্যা: দুঃখের বিষয়, আজকাল ছেলেমেয়েরা মাঠে যেতে চায় না। তারা মোবাইলে গেম খেলে, সারাদিন ঘরে বসে থাকে। এর ফলে তাদের চোখ খারাপ হচ্ছে, শরীর দুর্বল হচ্ছে, মন খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। মাঠগুলো ফাঁকা পড়ে থাকছে। এটা খুব চিন্তার বিষয়।

উপসংহার: তাই আমাদের শপথ নিতে হবে – আমরা প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা খেলাধুলা করব। মোবাইল কম দেখব, মাঠে বেশি যাব। মনে রাখতে হবে, জীবনে বড় হতে হলে শুধু ভালো ছাত্র হলেই হবে না, ভালো স্বাস্থ্যেরও অধিকারী হতে হবে।
পরিশেষে বলা যায় – খেলাধুলা হলো জীবনের অঙ্গ। খেলাধুলা ছাড়া জীবন আনন্দহীন। আসুন, আমরা সকলে খেলাধুলা করি, শরীরচর্চা করি এবং সুস্থ, সুন্দর ও আনন্দময় জীবন গড়ি।

Madhyamik Bengali Model Answers-9

৫.৪ একটি নদীর আত্মকথা : আমি একটি নদী। মানুষ যেমন তার আত্মকথা লেখে, আজ আমিও আমার জীবনের কাহিনি তোমাদের বলব।

আমার জন্ম: আমার জন্ম হয়েছিল অনেক বছর আগে, হিমালয়ের বুকে বরফ গলা জল থেকে। প্রথমে আমি ছিলাম ছোট্ট একটি ঝরনা। পাহাড়ের গা বেয়ে টুংটাং শব্দ করে নেমে আসতাম। তখন আমার কত আনন্দ, কত লাফালাফি। পাহাড় থেকে নামার সময় অনেক ছোট ছোট ঝরনা এসে আমার সঙ্গে মিশলো, আমি ধীরে ধীরে বড় হলাম। তারপর সমতলে এসে আমি পূর্ণ নদী হলাম। লোকে আমাকে নাম দিল – দামোদর, কেউ বলে দুঃখের নদী, আবার কেউ বলে আশীর্বাদ।

আমার শৈশব ও যৌবন: পাহাড়ে আমি ছিলাম চঞ্চল কিশোরী। খুব দ্রুত ছুটতাম, পাথরে ধাক্কা খেতাম, ফেনা তুলতাম। সমতলে এসে আমি শান্ত হলাম, ধীর হলাম। আমার দুই তীরে গড়ে উঠলো গ্রাম, শহর, জনপদ। মানুষ আমার তীরে ঘর বাঁধলো। কৃষকেরা আমার জল নিয়ে চাষ করলো। আমি তাদের জল দিলাম, মাছ দিলাম, ফসল ফলাতে সাহায্য করলাম।
আমার বুকে নৌকা চলতো। মাঝিরা ভাটিয়ালি গান গাইতো – “মাঝি বাইয়া যাও রে…”। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমার জলে সাঁতার কাটতো, ঝাঁপ দিতো। গ্রামের বউ-ঝিরা কলসি কাঁখে আমার জল নিতে আসতো। সন্ধ্যায় আমার তীরে বসে বয়স্করা গল্প করতো। আমার জীবন ছিল আনন্দে ভরা। আমি ছিলাম সকলের বন্ধু, সকলের মা।

আমার দুঃখ: কিন্তু এখন আমি খুব কষ্টে আছি। মানুষই এখন আমার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে গেছে।
আগে আমার জল ছিল কাঁচের মতো পরিষ্কার। এখন আমার জল কালো, নোংরা। কলকারখানার বিষাক্ত জল, শহরের নর্দমার জল, সব এসে আমার বুকে পড়ছে। মানুষ প্লাস্টিক, পলিথিন, পূজার ফুল, প্রতিমা সব আমার বুকে ফেলে দিচ্ছে। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমার বুকের মাছগুলো মরে যাচ্ছে।
মানুষ লোভে পড়ে আমার দুই তীরের মাটি কেটে নিচ্ছে, বালি তুলে নিচ্ছে। আমার গভীরতা কমে যাচ্ছে। আমার তীরে বড় বড় দালান উঠছে, গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। আগে আমার তীরে কত গাছ ছিল, পাখি ছিল। এখন আর পাখির ডাক শুনতে পাই না।
বর্ষাকালে যখন বেশি বৃষ্টি হয়, আমি ফুলে ফেঁপে উঠি। আমার বুকে জায়গা নেই, তাই আমি দুই কূল ভাসিয়ে দিই। তখন মানুষ আমাকে বলে – “সর্বনাশী নদী”। কিন্তু ভেবে দেখো, আমি কি ইচ্ছে করে বন্যা করি? তোমরাই তো আমার জায়গা দখল করে নিয়েছো।

আমার আবেদন: আমি তোমাদের কাছে বেশি কিছু চাই না। আমি শুধু বাঁচতে চাই।
তোমরা আমার বুকে আর নোংরা ফেলো না। কলকারখানার জল পরিষ্কার করে তারপর ফেলো। আমার তীরে বেশি করে গাছ লাগাও। আমার বালি চুরি করো না। আমাকে আমার মতো বইতে দাও।
মনে রেখো, আমি বাঁচলে তোমরাও বাঁচবে। আমি মরে গেলে তোমাদের মাঠ শুকিয়ে যাবে, ফসল হবে না, জলের জন্য হাহাকার হবে। ইতিহাস সাক্ষী – যে সভ্যতা নদীকে সম্মান করেনি, সে সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে।

উপসংহার: আমি নদী। আমি চির বহমান। আমি অতীত থেকে বর্তমানে বইছি, ভবিষ্যতের দিকে বইব। আমি দেখেছি কত রাজা এলো গেলো, কত যুদ্ধ হলো, কত প্রেম হলো আমার তীরে। আমি সকলের সাক্ষী।
আজও আমি ছুটে চলেছি – আমার লক্ষ্য সাগরের সঙ্গে মিলিত হওয়া। সাগরই আমার মোক্ষ। কিন্তু যাওয়ার পথে আমি তোমাদের একটু ভালোবাসা চাই, একটু যত্ন চাই।
আমাকে ভালোবাসো, আমাকে পরিষ্কার রাখো – আমি তোমাদের দুহাত ভরে দেব।

৬. যেকোনো একটি করো: (5)

৬.১ তোমার বিদ্যালয়ে পালিত ‘বসন্ত উৎসব’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন

করিমগঞ্জ, ১৫ই মার্চ: গত ১৪ই মার্চ দোল পূর্ণিমার দিন আমাদের করিমগঞ্জ হাই স্কুলে অত্যন্ত আনন্দ ও রঙের সঙ্গে বসন্ত উৎসব পালিত হয়।
সকাল ৯টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্কুল প্রাঙ্গণকে ফুল, আমের মুকুল ও রঙিন কাগজ দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। ছাত্রছাত্রীরা সকলে বাসন্তী রঙের জামা পরে এসেছিল। প্রধান শিক্ষক মহাশয় রবীন্দ্রনাথের ছবিতে মালা দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীরা “ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল” গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে। এরপর অষ্টম শ্রেণির ছাত্ররা “বসন্তের কবিতা” আবৃত্তি করে। নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা “বসন্তের রঙ” নামে একটি নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে যা সকলের খুব ভালো লাগে। শিক্ষক মহাশয়রা “রাঙিয়ে দিয়ে যাও” গানটি গেয়ে অনুষ্ঠান মাতিয়ে দেন।
সবশেষে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা একে অপরকে আবির দিয়ে বসন্তের শুভেচ্ছা জানায়। কোনো রাসায়নিক রঙ ব্যবহার করা হয়নি, শুধু আবির ও ফুলের পাপড়ি দিয়ে উৎসব পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সকাল ১১টায় শেষ হয়। প্রায় ৩৫০ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে।

Madhyamik Bengali Model Answers-9

6.2 তোমার দাদুর অসুস্থতার খবর জানিয়ে তোমার বন্ধুকে পত্র লেখো।

দাদুর অসুস্থতার খবর জানিয়ে বন্ধুকে পত্র

শালতোড়া
০৮/০৯/২০২৬

প্রিয় রাহুল,
আশা করি তুই ভালো আছিস। আজ একটা খারাপ খবর জানানোর জন্য তোকে চিঠি লিখছি।
তুই তো জানিস, আমার দাদুকে আমি কতটা ভালোবাসি। গত তিন দিন ধরে দাদু খুব অসুস্থ। হঠাৎ জ্বর ও বুকে ব্যথা শুরু হয়। আমরা সঙ্গে সঙ্গে শালতোড়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তারবাবু বলেছেন, বয়সজনিত কারণে হার্টের সমস্যা হয়েছে এবং ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। এখন বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজে ভর্তি আছেন।
দাদু এখন একটু ভালো আছেন, তবে ডাক্তারবাবু সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে বলেছেন। বাড়ির সকলে খুব চিন্তায় আছি। মা-বাবা হাসপাতালে দাদুর কাছে আছেন। আমার পড়াশোনাতেও মন বসছে না।
তুই তো আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু, তাই তোকে না জানিয়ে পারলাম না। তুই আমার দাদুর জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করিস যাতে তিনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
তুই এলে একবার দেখা করে যাস। ভালো থাকিস।

ইতি,
তোর বন্ধু
অমিত

—    ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading