NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Bengali Model Answers-2/2

Madhyamik Bengali Model Answers-2

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? বাংলা (প্রথম ভাষা) বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক বাংলা (প্রথম ভাষা) Madhyamik Bengali Model Answers-2 (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৭টি MCQ, ১৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন, ব্যাকরণ, নির্মিতি এবং রচনা সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Bengali Model Answers-2

Madhyamik Bengali Model Answers
Madhyamik Bengali Model Answers

বাংলা (প্রথম ভাষা)

⟽ Previous Part

৫. অনধিক 400 শব্দে যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (10)

৫.১ বাংলার উৎসব ও মেলা

ভূমিকা: উৎসবেই বাঙালির পরিচয় : বাঙালি সম্পর্কে পৃথিবীতে একটি কথা খুব প্রচলিত আছে – বাঙালি খেতে ভালোবাসে, আড্ডা দিতে ভালোবাসে, আর তার চেয়েও বেশি ভালোবাসে উৎসব করতে। তাই তো বলা হয় – “বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ”। সত্যিই তাই, বাঙালির ক্যালেন্ডারের প্রতিটি মাসেই কোনো না কোনো উৎসব লেগে থাকে।
উৎসব শব্দের অর্থই হলো উৎস থেকে জাত, যা প্রাণের গভীর থেকে উঠে আসে। বাঙালির জীবনে দুঃখ, দারিদ্র্য, অভাব থাকলেও, সেই দুঃখকে ভোলার সবচেয়ে বড় ওষুধ হলো উৎসব। আর যেখানে উৎসব, সেখানেই মেলা। উৎসব ও মেলা হলো একটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। উৎসব হলো উপলক্ষ, আর মেলা হলো তার উদযাপন। ধর্ম, ঋতু, কৃষি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে বাংলার বুকে যে উৎসব ও মেলার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা বাংলাকে সারা বিশ্বের কাছে এক অনন্য পরিচয় দিয়েছে।

বাংলার উৎসব – মিলনের সুর: বাংলার উৎসবকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।

১. ধর্মীয় উৎসব – সম্প্রীতির প্রতীক: বাংলার সবচেয়ে বড় গর্ব হলো এখানে সব ধর্মের উৎসব সবাই মিলে পালন করে।
বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব হলো দুর্গাপূজা। শরৎকালে চারদিন ধরে – ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী – মহাসমারোহে মা দুর্গার আরাধনা হয়। এটি শুধু হিন্দুদের উৎসব নয়, এটি বাঙালির জাতীয় উৎসব। এই সময় ধনী-গরীব, হিন্দু-মুসলমান সব ভেদাভেদ মুছে যায়। নতুন জামা, প্যান্ডেল হপিং, ঢাকের বাদ্য, ধুনুচি নাচ, বিজয়ার কোলাকুলি – এই নিয়েই দুর্গাপূজা। ২০২১ সালে ইউনেস্কো এই উৎসবকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে।

এছাড়াও আলোর উৎসব কালীপূজা ও দীপাবলি, বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা – যা ছাত্রদের প্রিয়, রঙের উৎসব দোল পূর্ণিমা, জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বাঙালির প্রাণের উৎসব।
অন্যদিকে মুসলমান সম্প্রদায়ের ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা বাংলায় অত্যন্ত আনন্দের সাথে পালিত হয়। ঈদের চাঁদ উঠলে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবার মনে আনন্দের জোয়ার আসে। মহরম, বড়দিন বা ক্রিসমাস, বুদ্ধ পূর্ণিমা – প্রতিটি উৎসবই বাংলায় সম্প্রীতির সাথে পালিত হয়। বড়দিনের পার্ক স্ট্রিটের আলো আজ বাঙালিরই উৎসব।

২. ঋতু ও কৃষিকেন্দ্রিক উৎসব – মাটির গন্ধ: বাঙালি কৃষিজীবী জাতি। তাই ফসল ও ঋতুর সাথে তার উৎসব জড়িত। নতুন ধান ঘরে এলে নবান্ন উৎসব, শীতকালে পৌষ পার্বণ – পিঠে-পুলি, নলেন গুড়ের পায়েসের উৎসব। বসন্তকে বরণ করে নিতে শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব এবং নতুন বছরকে বরণ করতে পয়লা বৈশাখ – হালখাতা, মিষ্টিমুখের উৎসব।

বাংলার মেলা – সংস্কৃতির আয়না: উৎসবের হাত ধরেই আসে মেলা। মেলা হলো মানুষের মিলনক্ষেত্র। যেখানে কেনাবেচা, গান-বাজনা, খাওয়া-দাওয়া সব একসাথে হয়।
বাংলার বিখ্যাত মেলাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা। ১৮৯৪ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি শুরু করেন। এটি বিশ্বখ্যাত লোকসংস্কৃতির মেলা, যেখানে বাউল গান, আদিবাসী নাচ, মাটির পুতুল, হস্তশিল্পের সম্ভার দেখা যায়।
এরপর আসে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। এটি হলো জ্ঞানের মেলা, বাঙালির গর্ব। লক্ষ লক্ষ বইপ্রেমী এখানে ভিড় করেন। এটি এশিয়ার বৃহত্তম বইমেলা।
এছাড়াও রয়েছে মাহেশের রথের মেলা, জয়দেবের কেন্দুলি মেলা – যা বাউল-ফকিরদের মহামিলন, গাজনের মেলা, প্রতিটি গ্রামে চড়কের মেলা। মেলায় কী থাকে না? বিশাল নাগরদোলা, ম্যাজিক শো, বায়োস্কোপ, বাউল গান, যাত্রা, কবিগান, আর মাটির খেলনা, কাঁথা স্টিচ, বাঁশের কাজ, জিলিপি, পাঁপড় ভাজার দোকান। মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ শিল্পী, কুমোর, ময়রা, তাঁতিদের সারা বছরের রুজি-রোজগার হয়। অর্থাৎ মেলা গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ।

উৎসব ও মেলার গুরুত্ব: উৎসব ও মেলার গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রথমত, এটি ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। উৎসব ও মেলায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরীবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসাথে আনন্দ করে। এটি মানুষে মানুষে বন্ধন তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, এটি সংস্কৃতির ধারক। আমাদের লোকগান, লোকনৃত্য, লোকশিল্প, পোশাক, খাবার – সবকিছুই উৎসব ও মেলার মধ্য দিয়ে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বেঁচে থাকে।
তৃতীয়ত, এটি অর্থনীতির চালিকাশক্তি। দুর্গাপূজা বা বইমেলাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, উৎসব ও মেলা ছাড়া বাংলার কথা ভাবাই যায় না। এটি হলো বাংলার প্রাণ, বাংলার হৃদস্পন্দন। এটি আমাদের দুঃখ ভুলিয়ে নতুন করে বাঁচতে শেখায়। আজকের এই একাকীত্বের যুগে, মোবাইল ও ইন্টারনেটের যুগে মানুষ যখন ঘরবন্দি হয়ে যাচ্ছে, তখন এই উৎসব ও মেলাই পারে মানুষকে আবার একত্রিত করতে।
তাই আমাদের, বিশেষ করে ছাত্র সমাজের কর্তব্য হলো, বাংলার এই উৎসব ও মেলার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা, তার সম্প্রীতির বার্তাকে ছড়িয়ে দেওয়া। মনে রাখতে হবে, উৎসব বাঁচলে বাংলার সংস্কৃতি বাঁচবে, মেলা বাঁচলে বাংলার মিলন বাঁচবে।

Madhyamik Bengali Model Answers-2

৫.২ বিজ্ঞান – আশীর্বাদ না অভিশাপ

ভূমিকা: দু-ধারি তলোয়ার : মানুষ যখন প্রথম আগুন জ্বালাতে শিখেছিল, তখনই বিজ্ঞানের জন্ম হয়েছিল। আগুন দিয়ে মানুষ রান্না করতে শিখল, শীতের হাত থেকে বাঁচল – এটি হলো আশীর্বাদ। আবার সেই আগুন দিয়েই মানুষ অন্যের ঘর পুড়িয়ে দিল – এটি হলো অভিশাপ।
বিজ্ঞানও ঠিক আগুনের মতো, একটি দু-ধারি তলোয়ার। তলোয়ার দিয়ে যেমন ফল কাটা যায়, তেমনি মানুষ খুনও করা যায়। দোষ তলোয়ারের নয়, দোষ যে তলোয়ার চালায় তার। বিজ্ঞানও তাই। বিজ্ঞান নিজে ভালোও নয়, খারাপও নয়। মানুষ বিজ্ঞানকে কীভাবে ব্যবহার করছে, তার উপর নির্ভর করে বিজ্ঞান আশীর্বাদ হবে না অভিশাপ হবে। এটি আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বিজ্ঞান আশীর্বাদ – মানব সভ্যতার রথের চাকা: আজ আমরা যে আধুনিক জীবনযাপন করছি, তার প্রতিটি কণায় বিজ্ঞানের আশীর্বাদ লেগে আছে। বিজ্ঞান না থাকলে আমরা আজও গুহায় বাস করতাম।
১. চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিপ্লব: বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানে। একশো বছর আগে যে রোগে গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেত, যেমন কলেরা, বসন্ত, যক্ষ্মা – আজ সেই রোগগুলো টিকার মাধ্যমে নির্মূল হয়ে গেছে। এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই – এর মাধ্যমে শরীরের ভেতরের রোগ সহজেই ধরা পড়ছে। জটিল অপারেশন, হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট, কৃত্রিম অঙ্গ – সবই বিজ্ঞানের দান। করোনার মতো মহামারীর সময় বিজ্ঞানই কয়েক মাসের মধ্যে টিকা আবিষ্কার করে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে।
২. যোগাযোগ ও যাতায়াতে বিপ্লব: একসময় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে খবর পাঠাতে দিন লেগে যেত। আজ বিজ্ঞানের দানে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এক সেকেন্ডে কথা বলা যায়, ভিডিও কলে মুখ দেখা যায়। আমি আসানসোলে বসে আমেরিকায় থাকা বন্ধুর সাথে কথা বলতে পারছি – এটি কি জাদু নয়? আবার যাতায়াতের ক্ষেত্রে – গরুর গাড়ি থেকে শুরু করে আজ রকেট, উড়োজাহাজ, বুলেট ট্রেন। কয়েক ঘণ্টায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া যাচ্ছে।
৩. কৃষি, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান: কৃষিতে ট্রাক্টর, উন্নত বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহার করে ফলন বহুগুণ বেড়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, প্রজেক্টর পড়াশোনাকে সহজ ও আনন্দদায়ক করেছে। ঘরে বসে অনলাইনে পৃথিবীর সেরা শিক্ষকদের ক্লাস করা যাচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও – ফ্রিজ, এসি, ফ্যান, লাইট, টিভি, ওয়াশিং মেশিন – প্রতিটি জিনিস বিজ্ঞানের আশীর্বাদ।

বিজ্ঞান অভিশাপ – যখন আশীর্বাদই হয় কাল: কিন্তু এই আশীর্বাদই যখন মানুষের লোভ ও হিংসার হাতিয়ার হয়, তখনই তা অভিশাপে পরিণত হয়।
১. ধ্বংসের অস্ত্র: বিজ্ঞানের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিশাপ হলো মারণাস্ত্র। বিজ্ঞান পরমাণু আবিষ্কার করেছিল বিদ্যুৎ তৈরির জন্য, কিন্তু মানুষ তা দিয়ে পরমাণু বোমা বানিয়েছে। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমার বিস্ফোরণে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, আজও সেখানে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হয়। আজ পৃথিবীতে যে পরিমাণ পরমাণু অস্ত্র মজুত আছে, তা দিয়ে পুরো পৃথিবীকে ১০০ বার ধ্বংস করা যায়। মিসাইল, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান – সবই বিজ্ঞানের অভিশাপ।
২. পরিবেশ দূষণ: বিজ্ঞানের আশীর্বাদে কলকারখানা তৈরি হয়েছে, কিন্তু সেই কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, বর্জ্য পরিবেশকে দূষিত করছে। বায়ু দূষণ, জল দূষণ, মাটি দূষণের ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ছে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, ঋতু পরিবর্তন হচ্ছে। বিজ্ঞানের তৈরি প্লাস্টিক আজ পৃথিবীর এক নম্বর শত্রু, যা ৪০০ বছরেও মাটিতে মেশে না।
৩. মানবিক সম্পর্কের অবক্ষয়: বিজ্ঞান আমাদের হাতে মোবাইল, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া দিয়েছে। কিন্তু আজ আমরা তার অপব্যবহার করছি। ছাত্ররা সারাদিন মোবাইলে গেম খেলছে, রিল দেখছে, পড়াশোনা নষ্ট করছে। মানুষ পাশাপাশি বসেও মোবাইলে ব্যস্ত, মুখোমুখি কথা বলে না। মানুষ যন্ত্রনির্ভর হয়ে যাচ্ছে, অলস হয়ে যাচ্ছে, মানসিক অবসাদ, চোখের রোগ বাড়ছে।

উপসংহার: তাহলে বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ? এর উত্তর হলো – বিজ্ঞান আশীর্বাদই, কিন্তু মানুষের লোভ তাকে অভিশাপে পরিণত করেছে।
একটি ছুরি দিয়ে ডাক্তার অপারেশন করে মানুষের প্রাণ বাঁচায়, আর ডাকাত সেই ছুরি দিয়ে মানুষকে খুন করে। দোষ ছুরির নয়, দোষ মানুষের মানসিকতার। ঠিক তেমনি বিজ্ঞানেরও কোনো দোষ নেই।
তাই আমাদের শপথ নিতে হবে, আমরা বিজ্ঞানকে ভালো কাজে ব্যবহার করব। পরমাণু শক্তি দিয়ে বোমা নয়, বিদ্যুৎ বানাবো। ইন্টারনেট দিয়ে গুজব নয়, শিক্ষা ছড়াবো। মোবাইল দিয়ে সময় নষ্ট নয়, জ্ঞান অর্জন করব।
পরিশেষে বলা যায়, বিজ্ঞান হলো একটি শক্তি। সেই শক্তিকে আমরা কীভাবে ব্যবহার করব, তার উপরই নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যৎ। বিজ্ঞানকে আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ বিজ্ঞান ছাড়া মানব সভ্যতার অগ্রগতি অসম্ভব। মনে রাখতে হবে – “বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কিন্তু বিবেক দেবে আবেগ”। বিবেক দিয়ে বিজ্ঞানকে চালনা করতে পারলেই বিজ্ঞান চিরকাল আশীর্বাদ হয়েই থাকবে।

Madhyamik Bengali Model Answers-2

৫.৩ একটি গাছ, একটি প্রাণ

ভূমিকা: প্রাণের মূল মন্ত্র : একটি ছোট্ট বীজ থেকে একটি বিশাল বটগাছের জন্ম হয়। সেই বটগাছ হাজার হাজার পাখির আশ্রয়, ক্লান্ত পথিকের ছায়া, আর আমাদের অক্সিজেনের ভাণ্ডার। তাই আমাদের পূর্বপুরুষরা বলেছেন – “একটি গাছ, একটি প্রাণ”। কথাটি শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি একটি বৈজ্ঞানিক সত্য, এটি আমাদের বেঁচে থাকার মূল মন্ত্র।
আমরা মানুষরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ জীব বলে অহংকার করি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, আমাদের এই শ্রেষ্ঠত্ব টিকে আছে একটি গাছের দয়ায়। গাছ না থাকলে আমরা এক মুহূর্তও বাঁচতে পারতাম না। গাছই হলো পৃথিবীর ফুসফুস। মানুষের যেমন ফুসফুস ছাড়া বাঁচা অসম্ভব, ঠিক তেমনি গাছ ছাড়া পৃথিবীর বাঁচা অসম্ভব।

গাছ কেন প্রাণ? – গাছের অবদান: একটি গাছকে “একটি প্রাণ” কেন বলা হয়, তা একটু গভীরভাবে ভাবলেই বোঝা যায়।
১. গাছ দেয় অক্সিজেন – প্রাণবায়ু: আমরা প্রতি মুহূর্তে শ্বাস নিই। এই শ্বাসের জন্য যে অক্সিজেন দরকার, তার ৯০% আসে গাছ থেকে। একটি বড় গাছ বছরে প্রায় ২৬০ পাউন্ড অক্সিজেন দেয়, যা দুজন মানুষের সারা বছরের অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে পারে। আমরা যে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়ি, গাছ তা শুষে নেয় এবং পরিবর্তে আমাদের প্রাণবায়ু অক্সিজেন দেয়। তাই গাছ নেই তো প্রাণ নেই।
২. গাছ দেয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান: সকালে ঘুম থেকে উঠে যে বিস্কুট খাই, দুপুরে যে ভাত, ডাল, ফল, সবজি খাই – সবই আসে গাছ থেকে। আমাদের পরনের সুতির জামা আসে কার্পাস গাছ থেকে। আমাদের বাড়ির আসবাবপত্র, খাতা, বই, দরজা-জানালা – সবই গাছের দান। গাছ আমাদের ক্ষুধা মেটায়, লজ্জা নিবারণ করে, মাথার উপর ছাদ দেয়।
৩. গাছ দেয় ওষুধ ও ছায়া: প্রাচীনকাল থেকে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা নির্ভর করে গাছের উপর। নিম, তুলসী, বাসক, অর্জুন, আমলকী – প্রতিটি গাছই এক একটি ওষুধের ভাণ্ডার। নিম গাছকে তো “গ্রামের ফার্মেসি” বলা হয়। আবার গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে একটি বটগাছের ছায়া ক্লান্ত পথিককে যে শান্তি দেয়, তা কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরও দিতে পারে না।
৪. পরিবেশের রক্ষাকর্তা: গাছ হলো পরিবেশের প্রহরী।
– গাছ বৃষ্টি আনে। গাছ না থাকলে বৃষ্টি কমে যায়, খরা দেখা দেয়।
– গাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে মাটির ক্ষয় ও বন্যা রোধ হয়।
– গাছ বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ কমায় এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। গাছ না থাকলেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ে।
– গাছ হাজার হাজার পাখি, পশু, কীটপতঙ্গের আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস। একটি গাছ কাটা মানে শত শত প্রাণীর ঘর ভেঙে দেওয়া।

গাছ কাটার ভয়াবহ পরিণাম: কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরাই আমাদের প্রাণকে হত্যা করছি। কলকারখানা, বাড়ি, রাস্তা বানানোর জন্য, আসবাবপত্রের লোভে আমরা নির্বিচারে গাছ কেটে চলেছি। এর ফল কী হচ্ছে?
পৃথিবীর জ্বর বাড়ছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে। অসময়ে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে। ঋতুচক্র বদলে যাচ্ছে – শীতকালে গরম লাগছে, বর্ষাকালে বৃষ্টি নেই। বাতাসে অক্সিজেন কমে, বিষাক্ত গ্যাস বাড়ছে, ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সারের মতো রোগ বাড়ছে। পাখিরা বাসা হারাচ্ছে, অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজেরাই নিজেদের কবর খুঁড়ছি।

আমাদের করণীয় – একটি শপথ: তাহলে উপায় কী? উপায় একটাই – গাছ লাগাও, প্রাণ বাঁচাও।
১. প্রতিটি মানুষের একটি করে গাছ: সরকার “বনমহোৎসব”, “সবুজ বাঁচাও” – এর মতো অনেক প্রকল্প নিয়েছে। কিন্তু সরকার একা কিছু করতে পারবে না। প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, বা যেকোনো শুভ অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে গাছের চারা দেওয়া এবং একটি করে গাছ লাগানো – এই হোক আমাদের নতুন সংস্কৃতি।
২. ছাত্র সমাজের ভূমিকা: ছাত্ররাই পারে এই বিপ্লব আনতে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ উৎসব করা, প্রতিটি ছাত্র একটি করে গাছের দায়িত্ব নেওয়া, গাছকে নিজের বন্ধুর মতো যত্ন করা।
৩. গাছ কাটা বন্ধ ও সচেতনতা: বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং কাটলে তার পরিবর্তে দশটি গাছ লাগাতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে – গাছ কাটা মানে নিজের মাকে হত্যা করা।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, “একটি গাছ, একটি প্রাণ” – এটি কোনো কবিতার লাইন নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের শর্ত। একটি গাছ শুধু কাঠ নয়, সে একটি জীবন্ত প্রাণ, সে আমাদের বন্ধু, আমাদের মা। সে নিঃস্বার্থভাবে আমাদের সব দেয়, বিনিময়ে কিছুই চায় না।
তাই আসুন, আমরা সবাই শপথ নিই – আমরা গাছ কাটবো না, আমরা গাছ লাগাবো। আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর, প্রাণবন্ত পৃথিবী রেখে যাবো। মনে রাখবেন, আজ যদি আমরা একটি গাছ লাগাই, সেই গাছ আগামী দিনে আমাদের জন্য শত শত প্রাণ হয়ে ফিরে আসবে। কারণ সত্যিই, একটি গাছ মানেই একটি প্রাণ, একটি গাছ মানেই একটি ভবিষ্যৎ।

Madhyamik Bengali Model Answers-2

৫.৪ আমার প্রিয় সাহিত্যিক – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা: আমার জীবনের ধ্রুবতারা : প্রিয় সাহিত্যিক বলতে কী বোঝায়? যাঁর লেখা পড়লে মন ভালো হয়ে যায়, যাঁর কথায় দুঃখের মধ্যেও আশার আলো খুঁজে পাওয়া যায়, যাঁর সৃষ্টির মধ্যে নিজের জীবনকে খুঁজে পাওয়া যায়, তিনিই প্রিয় সাহিত্যিক।
আমার জীবনে অনেক লেখকের লেখাই পড়েছি – শরৎচন্দ্রের গল্পে গ্রাম বাংলার দুঃখ, নজরুলের কবিতায় বিদ্রোহের আগুন, সত্যজিৎ রায়ের লেখায় রহস্যের আনন্দ। কিন্তু যদি একজনকে বেছে নিতে হয়, যিনি আমার মন, প্রাণ, চিন্তা জুড়ে আছেন, তিনি হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি শুধু আমার প্রিয় সাহিত্যিক নন, তিনি আমার জীবনের ধ্রুবতারা, আমার একাকীত্বের বন্ধু, আমার আনন্দের সাথী।

জন্ম ও জীবন – এক মহাকাব্য: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনটাই যেন একটি মহাকাব্য। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ, ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৭ই মে, কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাতা সারদা দেবী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন প্রকৃতির কোলে, মুক্ত চিন্তার মানুষ। প্রথাগত স্কুলের পড়া তাঁর ভালো লাগত না। বাড়িতেই গৃহশিক্ষকের কাছে তাঁর শিক্ষা শুরু হয়।
মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতা লেখা। তারপর আর থামেননি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট, ২২শে শ্রাবণ পর্যন্ত তিনি লিখে গেছেন। তাঁর জীবন ছিল সৃষ্টির এক অনন্ত ঝর্ণা।

সাহিত্যের বিশাল আকাশ – কেন তিনি প্রিয়: রবীন্দ্রনাথকে কেন বিশ্বকবি বলা হয়, তা তাঁর সৃষ্টি দেখলেই বোঝা যায়। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তাঁর অবদান নেই। তিনি যেন একাই একটি সাহিত্যের মহাসমুদ্র।
১. কবিতায় তিনি রাজা: রবীন্দ্রনাথ মূলত কবি। তাঁর কবিতা পড়লে মনে হয়, তিনি আমার মনের কথাই লিখে দিয়েছেন। যখন মন খারাপ থাকে, তখন পড়ি – “মনেরে আজ কহ যে, ভালো মন্দ যাহাই আসুক, সত্যেরে লও সহজে”। যখন আনন্দে থাকি, তখন গেয়ে উঠি – “আজি আনন্দ আকাশে বাতাসে”। ‘সোনার তরী’, ‘গীতাঞ্জলি’, ‘বলাকা’, ‘খেয়া’ – প্রতিটি কাব্যগ্রন্থ এক একটি অমূল্য রত্ন। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে এশিয়ার মধ্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান, যা প্রতিটি ভারতবাসীর গর্ব।
২. গল্প ও উপন্যাসের জাদুকর: তাঁর ছোটগল্পগুলো আমার সবচেয়ে প্রিয়। ‘কাবুলিওয়ালা’ পড়ে আমি কেঁদেছি, ‘পোস্টমাস্টার’ পড়ে রতনের দুঃখে আমার মন খারাপ হয়েছে, ‘ছুটি’ গল্পের ফটিকের জন্য কষ্ট হয়েছে। তিনি অল্প কথায় মানুষের মনের গভীর দুঃখ, ভালোবাসা, বেদনাকে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। ‘গোরা’, ‘ঘরে বাইরে’, ‘চোখের বালি’, ‘নৌকাডুবি’ – তাঁর প্রতিটি উপন্যাস সমাজ ও মানুষের মনের এক একটি দলিল।
৩. গান ও নাটকে তিনি চিরন্তন: রবীন্দ্রনাথ প্রায় ২২৩২টি গান লিখেছেন, যা “রবীন্দ্রসঙ্গীত” নামে পরিচিত। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত “জন গণ মন” এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা” – দুটিই তাঁর লেখা। পৃথিবীতে এমন নজির আর কোথাও নেই। তাঁর গান ছাড়া বাঙালির কোনো অনুষ্ঠানই সম্পূর্ণ হয় না। ‘ডাকঘর’, ‘রক্তকরবী’, ‘বিসর্জন’ – তাঁর নাটকগুলো আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
৪. তিনি শুধু লেখক নন, তিনি শিক্ষক ও দেশপ্রেমিক: তিনি বুঝেছিলেন, ইট-কাঠের ঘরে বন্দি শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা নয়। তাই তিনি বীরভূমের শান্তিনিকেতনে “ব্রহ্মচর্য আশ্রম” প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে প্রকৃতির কোলে, গাছের নিচে, খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনা হয়। তিনি ছিলেন মানবতার কবি। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ব্রিটিশদের দেওয়া “নাইট” উপাধি ত্যাগ করেছিলেন।

আমার জীবনে রবীন্দ্রনাথ: আমি কেন রবীন্দ্রনাথকে এত ভালোবাসি? কারণ তাঁর লেখা পড়লে আমি সাহস পাই। পরীক্ষায় খারাপ করলে, যখন মনে হয় সব শেষ, তখন তাঁর একটি লাইন মনে পড়ে – “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে”। এই একটি লাইন আমাকে একলা চলার সাহস দেয়।
তাঁর লেখা আমাকে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে, মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে। তিনি শিখিয়েছেন – “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোনো একটি কালের কবি নন, তিনি সব কালের কবি। তিনি ছিলেন, তিনি আছেন, তিনি থাকবেন। যতদিন বাংলা ভাষা থাকবে, যতদিন বাঙালি জাতি থাকবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথ থাকবেন আমাদের হৃদয়ে।
তিনি নিজেই লিখে গেছেন –
“মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক,
আমি তোমাদেরই লোক
আর কিছু নয়,
এই হোক শেষ পরিচয়।”
সত্যিই, তিনি আমাদেরই লোক। তাই তিনি আমার সবচেয়ে প্রিয়, আমার চিরদিনের প্রিয় সাহিত্যিক।

Madhyamik Bengali Model Answers-2

৬. যেকোনো একটি করো: (5)

6.1 তোমার বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। (100 শব্দ)

প্রতিবেদন : বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল, ১০ ডিসেম্বর:
গতকাল রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল।
সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রধান শিক্ষক শ্রী অমিতাভ দত্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং প্রাক্তন জাতীয় ক্রীড়াবিদ শ্রী সুমন দাস মশাল প্রজ্জ্বলন করেন। প্রধান শিক্ষক তাঁর ভাষণে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এরপর শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। ছাত্রছাত্রীরা ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪০০ মিটার দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, গোলক নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ এবং মজার অঙ্ক দৌড় ও যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সবুজ, লাল, নীল ও হলুদ – চারটি বিভাগের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। মাঠে বহু অভিভাবক ও এলাকাবাসী খেলা উপভোগ করেন।
বিকেলে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পরিচালন সমিতির সভাপতি শ্রী অনিমেষ চট্টোপাধ্যায়। সবুজ বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

6.2 তোমার এলাকায় রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা নেই – এই নিয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যানকে একটি পত্র লেখো।

মাননীয় চেয়ারম্যান মহাশয় সমীপেষু,
আসানসোল পৌরনিগম,
আসানসোল – ৭১৩৩০১

বিষয়: ১২ নং ওয়ার্ডে রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন।

মাননীয় মহাশয়,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার পৌরনিগমের ১২ নং ওয়ার্ডের (রামবন্ধু তলা) একজন স্থায়ী বাসিন্দা। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের এলাকার প্রধান রাস্তায় দীর্ঘ তিন মাস যাবৎ আলোর কোনো ব্যবস্থা নেই।
আমাদের এলাকার রাস্তার প্রায় ১০টি ল্যাম্পপোস্টের মধ্যে ৮টির আলো খারাপ হয়ে গেছে। পৌরসভায় বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে থাকে। এই অন্ধকারের সুযোগে চুরি, ছিনতাই, অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে গেছে। ছাত্রছাত্রী ও অফিস ফেরত মহিলাদের যাতায়াত করতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। দু-একটি দুর্ঘটনাও ঘটে গেছে। পথচারীদের মধ্যে সর্বদা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এমতাবস্থায় আপনার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, আপনি অবিলম্বে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দিয়ে আমাদের এলাকার রাস্তার খারাপ লাইটগুলি মেরামত বা নতুন লাইট লাগানোর ব্যবস্থা করে এলাকাবাসীকে আতঙ্কের হাত থেকে মুক্ত করুন।
আপনার সদয় সহযোগিতার আশায় রইলাম।

ধন্যবাদান্তে,
বিনীত নিবেদক,
রাহুল দাস
১২ নং ওয়ার্ড, রামবন্ধু তলা, আসানসোল
তারিখ: ০৪.০৯.২০২৬

➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading