NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Bengali Model Answers-7/2

Madhyamik Bengali Model Answers-7

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? বাংলা (প্রথম ভাষা) বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক বাংলা (প্রথম ভাষা) Madhyamik Bengali Model Answers-7 (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৭টি MCQ, ১৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন, ব্যাকরণ, নির্মিতি এবং রচনা সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Bengali Model Answers-7

Madhyamik Bengali Model Answers
Madhyamik Bengali Model Answers

বাংলা (প্রথম ভাষা)

⟽ Previous Part

৫. অনধিক 400 শব্দে যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (10)

৫.১ তোমার দেখা একটি মেলা

ভূমিকা: মেলা হলো মিলনের স্থান। “মেলা” শব্দটির মধ্যেই এক আনন্দ, এক উৎসবের সুর লুকিয়ে আছে। বাংলার জীবনের সঙ্গে মেলা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বইমেলা, বিজ্ঞান মেলা, পৌষ মেলা, বাউল মেলা, রথের মেলা – কত রকমের মেলা। মেলা মানুষের মনে একঘেয়েমি দূর করে, আনন্দ দেয়। আমি অনেক মেলা দেখেছি, কিন্তু গত বছর শালতোড়ায় আমার দেখা “শালতোড়া বইমেলা ও শিল্পমেলা” আমার মনে গভীর দাগ কেটেছে।

মেলার বর্ণনা: গত বছর ডিসেম্বর মাসে আমাদের শালতোড়া হাইস্কুল মাঠে সাত দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় গ্রন্থাগারের উদ্যোগে এই মেলা হয়। মাঠের চারদিকে রঙিন কাপড় ও আলো দিয়ে সাজানো হয়েছিল। গেটের ওপর বড় করে লেখা ছিল – “শালতোড়া বইমেলা ও শিল্পমেলা – ২০২৫”।
মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ল সারি সারি স্টল। প্রথম সারিতে ছিল বইয়ের স্টল। আনন্দ, দে’জ, পত্রভারতী, আদি নানা প্রকাশনার বই থরে থরে সাজানো। ছোটদের জন্য রূপকথা, গোয়েন্দা গল্প, বড়দের জন্য উপন্যাস, কবিতা, বিজ্ঞান, ইতিহাস – কী নেই! বইপ্রেমী মানুষের ভিড় ছিল বইয়ের স্টলে।
বইয়ের স্টলের পাশেই ছিল হস্তশিল্পের স্টল। বাঁকুড়ার বিখ্যাত পোড়ামাটির ঘোড়া, ডোকরার কাজ, কাঠের মুখোশ, বাঁশের তৈরি জিনিস, ছাতনার মাদুর – সবকিছু দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। স্থানীয় কুমোর, চিত্রশিল্পীরা নিজের হাতে তৈরি জিনিস বিক্রি করছিলেন।
মেলার এক কোণে ছিল খাবারের স্টল। জিলিপি, পাঁপড়, ফুচকা, চপ, মোমো, বাঁকুড়ার বিখ্যাত মেচা সন্দেশের গন্ধে চারদিক ম ম করছিল।

আমার অভিজ্ঞতা: আমি আমার বাবার সঙ্গে মেলায় গিয়েছিলাম। প্রথমে আমরা বইয়ের স্টলে গেলাম। আমি ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ ও সত্যজিৎ রায়ের ‘ফেলুদা সমগ্র’ কিনলাম। বাবা আমাকে স্বামী বিবেকানন্দের একটি জীবনী কিনে দিলেন। বই কিনে আমার যে কী আনন্দ হয়েছিল!
তারপর আমরা গেলাম সাংস্কৃতিক মঞ্চের দিকে। সেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান হচ্ছিল। যেদিন আমি গিয়েছিলাম, সেদিন ছিল আদিবাসী নৃত্য ও বাউল গান। ঢোল-মাদলের তালে তালে আদিবাসী ছেলেমেয়েদের নাচ দেখে আমার মন নেচে উঠেছিল। বাউল গানের সুর এখনও আমার কানে বাজে।
মেলায় সবচেয়ে মজার ছিল নাগরদোলা। আমি ও আমার বন্ধুরা নাগরদোলায় চড়েছিলাম। ওপর থেকে পুরো মেলাটা আলোর মালার মতো লাগছিল।

মেলার গুরুত্ব: এই মেলা আমাকে শিখিয়েছে অনেক কিছু। মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়। এটি হলো মানুষে মানুষে মিলনের জায়গা, সংস্কৃতি বিনিময়ের জায়গা। বইমেলা মানুষকে বই পড়তে উৎসাহ দেয়, মোবাইল ছেড়ে বইয়ের দিকে টানে। আর শিল্পমেলা আমাদের বাংলার হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখে, শিল্পীদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে।
এই মেলায় হিন্দু, মুসলিম, আদিবাসী – সকল ধর্মের, সকল জাতির মানুষ একসঙ্গে আনন্দ করছিল। এটাই তো বাংলার আসল সংস্কৃতি – মিলন ও সম্প্রীতি।

উপসংহার: সেদিন রাত ৯টায় মেলা থেকে বাড়ি ফিরলাম একরাশ আনন্দ ও কিছু বই নিয়ে। আমার দেখা এই মেলাটি আমার স্মৃতিতে চিরদিন অম্লান হয়ে থাকবে। মেলা আমাদের জীবনে ক্ষণিকের আনন্দ দেয় ঠিকই, কিন্তু তার রেশ থেকে যায় অনেকদিন। তাই আমি চাই প্রতি বছর আমাদের শালতোড়ায় এমন মেলা হোক, আর আমরা নতুন জ্ঞান ও আনন্দ লাভ করি।

Madhyamik Bengali Model Answers-7

৫.২ বাংলার কুটির শিল্প

ভূমিকা: বাংলা শিল্পের দেশ। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার কুটির শিল্পের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। এক সময় বাংলার মসলিন কাপড়ের জন্য সারা পৃথিবী পাগল ছিল। কথিত আছে, একটি আংটির ভেতর দিয়ে পুরো একটি মসলিন শাড়ি গলে যেত। সেই ঐতিহ্য আজও বাংলার গ্রামে গ্রামে বেঁচে আছে। কুটির শিল্প মানে হলো কুটিরে, অর্থাৎ বাড়িতে বসে পরিবারের লোকজন মিলে যে শিল্প তৈরি করে। এর জন্য বড় কারখানা, বেশি টাকা বা যন্ত্রপাতি লাগে না, লাগে হাতের নৈপুণ্য ও শিল্পীর মন।

বাংলার প্রধান কুটির শিল্পসমূহ: বাংলার কুটির শিল্প বৈচিত্র্যে ভরা।
১. তাঁত শিল্প: বাংলার শ্রেষ্ঠ কুটির শিল্প হলো তাঁত। শান্তিপুর, ফুলিয়া, ধনেখালি, বেগমপুর, বিষ্ণুপুরের তাঁতের শাড়ি আজও বিখ্যাত। তাঁতিদের খটখট তাঁতের শব্দে গ্রাম মুখরিত হয়। তাঁতের শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা আমাদের গর্ব।
২. পোড়ামাটি ও মৃৎশিল্প: বাঁকুড়ার পোড়ামাটির ঘোড়া, হাতি আজ বিশ্ববিখ্যাত। বিষ্ণুপুরের মন্দিরের টেরাকোটার কাজ কুটির শিল্পের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এছাড়া কুমোরদের তৈরি মাটির হাঁড়ি, কলসি, প্রদীপ, দেবদেবীর মূর্তি – কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল তো জগৎ বিখ্যাত।
৩. বাঁশ ও বেত শিল্প: বাংলার গ্রামে বাঁশ ও বেতের কাজ একটি প্রধান শিল্প। বাঁশ থেকে ঝুড়ি, কুলো, ধামা, মাদুর, টুপি তৈরি হয়। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ায় এই শিল্পের প্রচলন বেশি।
৪. পাট শিল্প: সোনালী আঁশ পাট দিয়ে চট, ব্যাগ, দড়ি, পাপোশ, শতরঞ্চি তৈরি হয়। এটি গ্রামীণ মহিলাদের একটি বড় আয়ের উৎস।
৫. অন্যান্য শিল্প: এর মধ্যে আছে – মুর্শিদাবাদের রেশম শিল্প, পুরুলিয়ার ছৌ-নাচের মুখোশ শিল্প, মেদিনীপুরের মাদুর শিল্প, ডোকরা শিল্প (মোম দিয়ে ধাতুর মূর্তি তৈরি), শঙ্খ শিল্প, কাঁথা সেলাই। বীরভূমের কাঁথা স্টিচ শাড়ি আজ দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়।

গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:
১. বেকারত্ব দূরীকরণ: বাংলায় কুটির শিল্প লক্ষ লক্ষ মানুষের অন্ন জোগায়। কৃষকেরা চাষের অবসরে এই কাজ করে অতিরিক্ত আয় করে। গ্রামের মহিলারাও ঘরে বসে কাঁথা সেলাই, বিড়ি বাঁধা, পাটের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
২. স্বল্প পুঁজি, বেশি লাভ: এই শিল্পের জন্য বড় কারখানা বা কোটি কোটি টাকা লাগে না। অল্প টাকায়, বাড়ির উঠোনে বসেই এটি শুরু করা যায়।
৩. ঐতিহ্য রক্ষা: কুটির শিল্প আমাদের বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখে। প্রতিটি শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি ইতিহাস।
৪. পরিবেশ বান্ধব: এই শিল্পে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহার হয়, তাই পরিবেশ দূষণ হয় না।

সমস্যা ও সমাধান: দুঃখের বিষয়, আজ বাংলার কুটির শিল্প নানা সমস্যায় জর্জরিত।
– বড় বড় মিলের সস্তা জিনিসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা হেরে যাচ্ছে।
– কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, উপযুক্ত বাজারের অভাব।
– মহাজনদের শোষণ, সরকারি সাহায্যের অভাব।
– নতুন প্রজন্ম এই পরিশ্রমের কাজে আসতে চাইছে না।
এই সমস্যা সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। কুটির শিল্পীদের সহজে ঋণ দিতে হবে, তাদের তৈরি জিনিস বিক্রির জন্য সরকারি মেলা – যেমন হস্তশিল্প মেলা, বঙ্গশ্রী মেলা – আরও বেশি করে আয়োজন করতে হবে। অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুলে ছাত্রদের এই শিল্প সম্পর্কে জানাতে হবে।

উপসংহার: বাংলার কুটির শিল্প শুধু শিল্প নয়, এটি আমাদের আত্মা। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল পুণ্য হউক। এই পুণ্য ভূমির কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। আমরা যদি দেশীয় জিনিস ব্যবহার করি, কুটির শিল্পীদের উৎসাহ দিই, তাহলে আবার বাংলার তাঁত, মাটির ঘোড়া, কাঁথা সেলাই বিশ্বজয় করবে। তবেই গ্রাম বাঁচবে, বাংলা বাঁচবে।

Madhyamik Bengali Model Answers-7

৫.৩ সময়ের মূল্য

ভূমিকা: পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস কী? সোনা, টাকা, হীরা? না, সবচেয়ে মূল্যবান হলো সময়। কারণ সোনা হারালে আবার পাওয়া যায়, টাকা হারালে আবার রোজগার করা যায়, কিন্তু সময় একবার চলে গেলে আর কখনো ফিরে আসে না। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না, সে আপন গতিতে বয়ে চলে। তাই জ্ঞানীরা বলেন – “Time and tide wait for none” – সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। যে সময়ের মূল্য বোঝে, জীবনে সে-ই সফল হয়।

সময় কেন মূল্যবান:
১. সময় হলো জীবন। আমাদের জীবন সময় দিয়েই তৈরি। ৮০ বছরের জীবন মানে ৮০ বছরের সময়। আমরা যদি সময় নষ্ট করি, তাহলে জীবনই নষ্ট করি।
২. সময় অত্যন্ত সীমিত। ছাত্রজীবনে পড়ার সময়, যৌবনে কাজ করার সময়। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজ না করলে পরে আফসোস করতে হয়। ফসল বোনার সময় বীজ না বুনলে পরে ফসল পাওয়া যায় না।
৩. সময়ের সঙ্গে সুযোগ আসে। সুযোগ বারবার আসে না। সময়মতো সুযোগকে কাজে লাগাতে হয়। যে অলসতা করে সময় নষ্ট করে, সুযোগ তার হাত থেকে চলে যায়।

সময়ের মূল্য বোঝা যায় যেভাবে:
– একজন ছাত্র বুঝতে পারে সময়ের মূল্য, যখন পরীক্ষার আগের রাতে তার মনে হয় আর একটু সময় পেলে ভালো হতো।
– একজন কৃষক বোঝে সময়ের মূল্য, যখন সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় তার ফসল নষ্ট হয়।
– একজন রোগী বোঝে সময়ের মূল্য, যখন এক মিনিট দেরিতে অ্যাম্বুলেন্স আসায় তার প্রিয়জনের জীবন চলে যায়।
– ট্রেন ফেল করা যাত্রী বোঝে এক মিনিটের মূল্য কত।

ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য: ছাত্রজীবন হলো সময়ের মূল্য বোঝার শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময় যে সময় নষ্ট করে, সে সারাজীবন কাঁদে।
১. সময়মতো পড়াশোনা, খেলাধুলা, ঘুম, বিশ্রাম – সবকিছুর একটি রুটিন থাকা উচিত।
২. “আগামীকাল করব” – এই অভ্যাসটি সবচেয়ে খারাপ। আজকের কাজ আজকেই করা উচিত। কারণ আগামীকাল বলে কিছু নেই, যা আছে তা হলো আজ।
৩. মোবাইল, ফেসবুক, গেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করে অনেক ছাত্র নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে।
মহাপুরুষদের জীবন দেখলে দেখা যায়, তাঁরা সময়ের মূল্য দিতেন। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, স্বামী বিবেকানন্দ, এ পি জে আব্দুল কালাম – তাঁরা জীবনে এক মিনিটও নষ্ট করতেন না।

সময়ানুবর্তিতা: সময়ের মূল্য দেওয়ার আরেক নাম হলো সময়ানুবর্তিতা, অর্থাৎ সময়মতো কাজ করা। যে ব্যক্তি সময়মতো স্কুলে যায়, অফিসে যায়, কথা রাখে, সকলে তাকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে। আর যে দেরি করে, সে সকলের কাছে অপ্রিয় হয়ে ওঠে। সময়ানুবর্তিতা মানুষের চরিত্রের একটি বড় গুণ।

উপসংহার: তাই আমাদের উচিত সময়কে শ্রদ্ধা করা। সময়কে বন্ধু বানাতে হবে, শত্রু নয়। প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে। ছাত্রজীবন থেকেই যদি আমরা সময়ের মূল্য বুঝি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা অবশ্যই সফল হব।
কবি বলেছেন –
“সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়,
যে জন না বোঝে তারে, পশ্চাতে সে কাঁদে হায়।”
তাই আসুন, আমরা শপথ নিই – আমরা সময় নষ্ট করব না, সময়কে সঠিক কাজে লাগাব। কারণ সময়ই জীবন, সময়ই ধন, সময়ই সব।

Madhyamik Bengali Model Answers-7

৫.৪ একটি বটগাছের আত্মকথা

আমি একটি বটগাছ। আমার বয়স প্রায় দুশো বছর। নিমতিতা গ্রামের শেষ প্রান্তে, নয়াচকের বড় পুকুরের পাড়ে আমার বাস। মানুষ আমাকে “বুড়ো বট” বলে ডাকে। আজ আমি তোমাদের আমার জীবনের কাহিনি শোনাব।

আমার জন্ম: দুশো বছর আগে আমি কত ছোট ছিলাম! একটি ছোট্ট বীজ। হয়তো কোনো পাখি আমার বীজ এনে এই পুকুর পাড়ে ফেলেছিল। তারপর বৃষ্টির জল পেয়ে, মাটির আদর পেয়ে আমি ধীরে ধীরে মাথা তুললাম। প্রথমে ছিলাম একটি ছোট চারা। গ্রামের ছেলেরা আমাকে ছাগল-গরুর হাত থেকে বাঁচাতো। গ্রামের বুড়োরা বলতো, “এই গাছটাকে কাটিস না, এ একদিন বড় হবে।” তাদের ভালোবাসায় আমি আজ এই বিশাল বটগাছ।

আমার জীবন: আমার জীবন বড়ই বৈচিত্র্যময়। আমি স্থির, আমি কোথাও যাই না, কিন্তু আমার চোখের সামনে কত কিছু ঘটে যায়!
আমার ঝুরি নেমেছে মাটি পর্যন্ত। আমার বিশাল ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে আছে। গ্রীষ্মকালে যখন প্রচণ্ড রোদ, তখন আমার ছায়ায় কৃষকেরা এসে বিশ্রাম নেয়। তারা আমার নিচে বসে তামাক খায়, গল্প করে, ঘুমায়। দেখে আমার বড় আনন্দ হয়। আমি যেন তাদের মা, আমার ছায়া দিয়ে তাদের শীতল করি।
আমার ডালে কত পাখির বাসা! শালিক, টিয়া, বুলবুলি, কাক, বাদুড় – সবাই আমার অতিথি। সকাল হলে তাদের কিচিরমিচির শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। সন্ধ্যায় তারা আবার আমার বুকে ফিরে আসে। আমার ফল খেয়ে তারা কত আনন্দ পায়!
আমি অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। আমি দেখেছি ব্রিটিশ আমলে নীলকর সাহেবদের অত্যাচার। দেখেছি স্বাধীনতার জন্য কত মিটিং হয়েছে আমার নিচে। দেশ স্বাধীন হলো, মানুষ আনন্দ করলো আমার নিচে দাঁড়িয়েই। আমি দেখেছি বন্যা, খরা, ঝড়। কতবার আমার ডাল ভেঙেছে, কিন্তু আমি আবার নতুন পাতা গজিয়েছি। কারণ আমার শিকড় অনেক গভীরে।
ছোটবেলায় আমার নিচে গ্রামের ছেলেমেয়েরা পুতুল খেলতো, লুকোচুরি খেলতো। তাদের হাসি শুনে আমার প্রাণ জুড়িয়ে যেত। এখনও প্রতি বৈশাখে আমার নিচে গ্রামের মেলা বসে।

আমার দুঃখ:
কিন্তু আজকাল আমার বড় দুঃখ। মানুষ বদলে গেছে। এখন আর কেউ আমার যত্ন নেয় না। কিছু লোক আমার ডাল কেটে নিয়ে যায় জ্বালানির জন্য। আমার গায়ে পেরেক পুঁতে পোস্টার লাগায়। আমার ছায়ায় বসে মানুষ এখন প্লাস্টিক, আবর্জনা ফেলে আমার গোড়া নোংরা করে।
সবচেয়ে বেশি ভয় হয়, শুনছি এখানে নাকি রাস্তা হবে, তাই আমাকে কেটে ফেলা হবে। ভাবতেই আমার কান্না পায়। আমি তো কারো ক্ষতি করিনি। আমি শুধু দিয়েই গেছি – ছায়া দিয়েছি, ফল দিয়েছি, অক্সিজেন দিয়েছি, পাখিদের আশ্রয় দিয়েছি। আমার অপরাধ কী?
মানুষ ভুলে গেছে, একটি বটগাছ মানে একটি অরণ্য। আমি একাই কত প্রাণীকে বাঁচিয়ে রেখেছি। আমাকে কাটলে এই পাখিরা কোথায় যাবে? এই গরমে মানুষ কোথায় বিশ্রাম নেবে?

শেষ কথা: তোমাদের কাছে, মানুষের কাছে আমার একটাই অনুরোধ – আমাকে কেটো না। আমাকে বাঁচতে দাও। গাছকে বাঁচাও। তোমরা যদি আমাকে বাঁচাও, আমি তোমাদের আরও দুশো বছর ছায়া দেব, তোমাদের সন্তানদেরও ছায়া দেব।
আমি বটগাছ, আমি চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকতে চাই – তোমাদের বন্ধু হয়ে, তোমাদের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।

Madhyamik Bengali Model Answers-7

৬. যেকোনো একটি করো: (5)

৬.১ তোমার বিদ্যালয়ে পালিত ‘স্বাধীনতা দিবস’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন

শালতোড়া, ১৬ই আগস্ট:

গত ১৫ই আগস্ট আমাদের শালতোড়া হাই স্কুলে মহা সমারোহে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়।
সকাল ৮টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রধান শিক্ষক মাননীয় শ্রী অমল কুমার দত্ত মহাশয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর সকল ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত “জনগণমন” গায়। প্রধান শিক্ষক মহাশয় তাঁর ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং ছাত্রদের দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীরা দেশাত্মবোধক গান “মা তুঝে সালাম” পরিবেশন করে। নবম শ্রেণির ছাত্ররা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন নিয়ে একটি ছোট নাটক মঞ্চস্থ করে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সৌরভ ক্ষুদিরামের আত্মবলিদানের ওপর একটি কবিতা আবৃত্তি করে সকলকে মুগ্ধ করে।
এই দিনে স্কুলের পক্ষ থেকে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়েছিল। স্কুল চত্বরে ১০টি চারা গাছ লাগানো হয়। শেষে প্রায় ৪০০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে লজেন্স ও বিস্কুট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়।

৬.২ স্কুলে ক্যান্টিন স্থাপনের জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন পত্র

মাননীয় প্রধান শিক্ষক মহাশয়,
শ্যামপুর হাই স্কুল
শালতোড়া, বাঁকুড়া

বিষয়: বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন স্থাপনের জন্য আবেদন

মহাশয়,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ‘ক’ বিভাগের ছাত্র অমিত মণ্ডল, রোল নং – ১২। আমাদের বিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সম্পর্কে আপনাকে জানাতে চাই।
আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় ১২০০ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। কিন্তু বিদ্যালয়ে কোনো ক্যান্টিন নেই। ফলে টিফিনের সময় আমাদের খুব অসুবিধা হয়। অনেক ছাত্রছাত্রী বাড়ি থেকে টিফিন আনতে ভুলে যায়, তারা সারাদিন না খেয়ে থাকে। বাধ্য হয়ে স্কুলের বাইরের দোকান থেকে অস্বাস্থ্যকর, খোলা খাবার, চিপস, কোল্ড ড্রিংকস কিনে খেতে হয়, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
আবার আমাদের স্কুলটি প্রধান রাস্তার পাশে। টিফিনের সময় বাইরে যেতে গিয়ে দুর্ঘটনার ভয় থাকে। গ্রীষ্মকালে বিশুদ্ধ পানীয় জলেরও সমস্যা হয়।
এই অবস্থায় যদি বিদ্যালয়ে একটি ছোট ক্যান্টিন স্থাপন করা হয় যেখানে স্বাস্থ্যকর ও কম দামে টিফিন, যেমন – পরোটা, ডিম সেদ্ধ, কলা, বিস্কুট, জল পাওয়া যায়, তাহলে আমরা সকলে খুব উপকৃত হব। এতে ছাত্রদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং সময়ও নষ্ট হবে না।
অতএব, আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি বিবেচনা করে বিদ্যালয়ে একটি ক্যান্টিন স্থাপনের ব্যবস্থা করে আমাদের বাধিত করুন।

বিনীত
আপনার অনুগত ছাত্র
অমিত মণ্ডল
দশম শ্রেণি – ‘ক’
রোল নং – ১২
তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬

➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading