Madhyamik Life sci Model Answers-10
Madhyamik Life Sci Model Answers-10
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? জীবনবিজ্ঞান বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (জীবন বিজ্ঞান) (Madhyamik Life Sci Model Answers-10) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে 15টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), 21টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, 24 নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং 30 নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Life Sci Model Answers-10

Life Science(জীবন বিজ্ঞান)
বিভাগ – ক: MCQ – সব প্রশ্ন আবশ্যিক (1×15=15)
1.1 পদ্মফুলের পাপড়ি বন্ধ হওয়া হল –
[A] ফটোন্যাস্টি [B] থার্মোন্যাস্টি [C] সিসমোন্যাস্টি [D] কেমোন্যাস্টি
উত্তর: [A] ফটোন্যাস্টি – আলোর তীব্রতা কমলে বন্ধ।
1.2 মানুষের মস্তিষ্কে স্মৃতি কেন্দ্র –
[A] সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার [B] সেরিবেলাম [C] মেডুলা [D] থ্যালামাস
উত্তর: [A] সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার – বিশেষত টেম্পোরাল লোব, হিপোক্যাম্পাস।
1.3 পায়রার গমন –
[A] ওড়া [B] সাঁতার [C] হাঁটা [D] a ও c
উত্তর: [D] a ও c – মূলত ওড়ে, মাটিতে হাঁটে।
1.4 সেন্ট্রোসোম থাকে না –
[A] উদ্ভিদ কোষে [B] প্রাণী কোষে [C] উভয় কোষে [D] ব্যাকটেরিয়ায়
উত্তর: [A] উদ্ভিদ কোষে – উন্নত উদ্ভিদে নেই, প্রাণীতে আছে।
1.5 সপুষ্পক উদ্ভিদে দ্বিনিষেকে কয়টি নিউক্লিয়াস অংশ নেয় –
[A] 5 টি [B] 3 টি [C] 2 টি [D] 4 টি
উত্তর: [A] 5 টি – 2টি পুংগ্যামেট + 1টি ডিম্বাণু + 2টি নির্ণীত নিউক্লিয়াস = 5টি
1.6 পাথরকুচি গাছে জনন হয় –
[A] পাতা থেকে [B] কান্ড থেকে [C] মূল থেকে [D] বীজ থেকে
উত্তর: [A] পাতা থেকে
1.7 মানুষের ক্ষেত্রে X^HY x X^HX^h তে বর্ণান্ধ কন্যা –
[A] 0% [B] 25% [C] 50% [D] 100%
উত্তর: [A] 0% – বাবা স্বাভাবিক X^H Y, মা বাহক X^H X^h, কন্যারা X^H X^H বা X^H X^h – সব স্বাভাবিক, পুত্র 50% বর্ণান্ধ।
1.8 হিমোফিলিয়া আক্রান্ত মা x স্বাভাবিক বাবা হলে পুত্র –
[A] 100% আক্রান্ত [B] 50% আক্রান্ত [C] সব স্বাভাবিক [D] 25% আক্রান্ত
উত্তর: [A] 100% আক্রান্ত – মা X^h X^h, বাবা X^H Y → সব ছেলে X^h Y আক্রান্ত, সব মেয়ে বাহক।
1.9 জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কিত কোয়াসারভেট তত্ত্ব দেন –
[A] ওপারিন [B] হ্যালডেন [C] মিলার [D] ফক্স
উত্তর: [A] ওপারিন
1.10 রুই মাছে পার্শ্বরেখা সংবেদী অঙ্গের কাজ –
[A] জলের চাপ বোঝা [B] গন্ধ নেওয়া [C] স্বাদ নেওয়া [D] দেখা
উত্তর: [A] জলের চাপ বোঝা – স্রোত, কম্পন বোঝে।
1.11 নাইট্রাইট থেকে নাইট্রেট করে –
[A] নাইট্রোব্যাকটর [B] নাইট্রোসোমোনাস [C] অ্যাজোটোব্যাকটর [D] সিউডোমোনাস
উত্তর: [A] নাইট্রোব্যাকটর
1.12 ভারতে টাইগার প্রজেক্টের সংখ্যা –
[A] 50 টি [B] 28 টি [C] 18 টি [D] 10 টি
উত্তর: [A] 50+ টি – বর্তমানে 57টি (2024), 1973 সালে 9টি দিয়ে শুরু। MCQ তে 50 টি সবচেয়ে কাছাকাছি।
1.13 বায়ু দূষণে শ্বাসকষ্ট রোগ –
[A] ব্রঙ্কাইটিস [B] অ্যাজমা [C] ফুসফুস ক্যান্সার [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি
1.14 নাইট্রোজেন স্থিতিকরণে সাহায্য করে –
[A] রাইজোবিয়াম [B] অ্যাজোটোব্যাকটর [C] নীলাভ-সবুজ শৈবাল [D] সবগুলি
উত্তর: [D] সবগুলি
1.15 মানুষের Y ক্রোমোজোমে জিন সংখ্যা –
[A] 70-80 টি [B] 1000 টি [C] 2000 টি [D] 500 টি
উত্তর: [A] 70-80 টি
Madhyamik Life Sci Model Answers-10
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×21=21)
2.1 বনচাঁড়াল গাছের পাতা নড়া কোন চলন?
উত্তর: বনচাঁড়াল বা তেলেগু গাছের পাতার নড়াচড়া হল কেমোন্যাস্টি বা ভাইটাল চলনের উদাহরণ, যাকে স্বতঃস্ফূর্ত চলনও বলে। এই চলন উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ কারণে, কোনো বাহ্যিক উদ্দীপক ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে।
2.2 মানুষের চোখে লেন্স কী ধরনের?
উত্তর: মানুষের চোখে লেন্স হল দ্বি-উত্তল, স্বচ্ছ এবং স্থিতিস্থাপক প্রকৃতির। এই লেন্সের বক্রতা সিলিয়ারি পেশি দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে দূরের ও কাছের বস্তুকে রেটিনায় ফোকাস করতে সাহায্য করে।
2.3 প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ দাও।
উত্তর: প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ হল – চোখে হঠাৎ জোরালো আলো পড়লে পিউপিল ছোট হয়ে যাওয়া এবং গরম পাত্রে হাত লেগে গেলে সাথে সাথে হাত সরিয়ে নেওয়া। এই ক্রিয়াগুলি সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং মস্তিষ্কের অজান্তেই ঘটে।
2.4 লঘুমস্তিষ্কের কাজ কী?
উত্তর: লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলামের প্রধান কাজ হল দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং ঐচ্ছিক পেশির চলনে সূক্ষ্মতা ও সমন্বয় আনা। এটি হাঁটা, চলা, দৌড়ানো ইত্যাদি চলনের সময় দেহের ভারসাম্য বজায় রাখে।
2.5 LH হরমোনের কাজ কী?
উত্তর: LH বা লুটিনাইজিং হরমোন পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়। স্ত্রীদের ক্ষেত্রে এটি ডিম্বাণু নিঃসরণ বা ওভুলেশন ঘটায় এবং করপাস লুটিয়াম গঠনে সাহায্য করে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি শুক্রাশয়ের লেডিগ কোষ থেকে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপনা দেয়।
2.6 কোষ বিভাজনে বেমতন্তু কী?
উত্তর: কোষ বিভাজনের সময় যে বিশেষ প্রোটিন নির্মিত তন্তুগুলি গঠিত হয় এবং যেগুলি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে যুক্ত হয়ে ক্রোমোজোমকে কোষের দুই মেরুর দিকে টেনে নিয়ে যায়, তাদের বেমতন্তু বা স্পিন্ডল ফাইবার বলে।
2.7 কাইনেটোকোর কী?
উত্তর: কাইনেটোকোর হল ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চলে অবস্থিত একটি বিশেষ প্রোটিন নির্মিত গঠন। কোষ বিভাজনের সময় বেমতন্তুগুলি এই কাইনেটোকোরের সাথে যুক্ত হয় এবং ক্রোমোজোমকে মেরুর দিকে টেনে নিয়ে যায়।
2.8 অফসেট কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: অফসেট হল একটি ছোট, মোটা এবং অনুভূমিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া শাখা, যা থেকে নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। এটি এক ধরনের অঙ্গজ জনন। যেমন – কচুরিপানা, টোপাপানায় অফসেটের মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটে।
2.9 গর্ভাশয় কী?
উত্তর: গর্ভাশয় বা জরায়ু হল স্ত্রী জননতন্ত্রের একটি পেশীবহুল, নাশপাতি আকৃতির অঙ্গ যেখানে নিষেকের পর ভ্রূণ রোপিত হয় এবং বড় হয়ে শিশুতে পরিণত হয়। অর্থাৎ জরায়ুই হল গর্ভাশয়, যেখানে ভ্রূণের বিকাশ ঘটে।
2.10 টেস্টোস্টেরন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?
উত্তর: টেস্টোস্টেরন হরমোন পুরুষের শুক্রাশয়ে অবস্থিত লেডিগের আন্তরকোষ বা ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ থেকে ক্ষরিত হয়। এটি প্রধান পুরুষ যৌন হরমোন।
2.11 ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপের পার্থক্য কী?
উত্তর: ফিনোটাইপ হল জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ, যা চোখে দেখা যায়, যেমন – লম্বা, বেঁটে। আর জিনোটাইপ হল জীবের জিনগত গঠন বা জিন সংকেত, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না, যেমন – TT, Tt, tt। ফিনোটাইপ হল জিনোটাইপ ও পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার ফল।
2.12 বর্ণান্ধতা কেন হয়?
উত্তর: বর্ণান্ধতা হয় X-ক্রোমোজোমে অবস্থিত একটি প্রচ্ছন্ন জিনের ত্রুটির কারণে। এই ত্রুটির ফলে রেটিনার কোন কোষে লাল ও সবুজ রং চেনার জন্য দায়ী রঞ্জক পদার্থের অভাব ঘটে, তাই বর্ণান্ধ ব্যক্তি লাল-সবুজ রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে না।
2.13 মিসিং লিঙ্ক কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: মিসিং লিঙ্ক হল এমন একটি লুপ্ত জীব বা জীবাশ্ম যার মধ্যে দুটি ভিন্ন শ্রেণির জীবের বৈশিষ্ট্য বর্তমান থাকে এবং যা বিবর্তনের ধারায় দুটি শ্রেণির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। যেমন – আর্কিওপটেরিক্স হল সরীসৃপ ও পাখির মধ্যে মিসিং লিঙ্ক।
2.14 জীবাশ্ম কীভাবে বিবর্তনের প্রমাণ দেয়?
উত্তর: জীবাশ্ম বিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেয়। জীবাশ্ম থেকে প্রাচীন জীবের গঠন জানা যায়, বর্তমান জীবের সাথে তাদের মিল-অমিল বোঝা যায়, জীবের ক্রমবিবর্তনের ধারা বোঝা যায় এবং মিসিং লিঙ্কের সন্ধান পাওয়া যায়।
2.15 সমসংস্থ অঙ্গ কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন একই কিন্তু কাজ আলাদা, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন – তিমির ফ্লিপার, পাখির ডানা এবং মানুষের হাত হল পরস্পর সমসংস্থ অঙ্গ, কারণ এদের সবারই উৎপত্তি অগ্রপদ থেকে।
2.16 সুন্দরবনের লবণাম্বু উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তর: সুন্দরবনের কয়েকটি বিখ্যাত লবণাম্বু বা হ্যালোফাইট উদ্ভিদ হল সুন্দরী, গরান এবং গেঁওয়া। এই উদ্ভিদগুলি লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে জন্মাতে অভিযোজিত।
2.17 ইন-সিটু সংরক্ষণ কী?
উত্তর: যখন কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীকে তার প্রাকৃতিক বাসস্থানেই সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলে। যেমন – জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হল ইন-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ।
2.18 অ্যাসিড বৃষ্টির pH কত?
উত্তর: স্বাভাবিক বৃষ্টির জলের pH হল 5.6। যখন বৃষ্টির জলের pH 5.6 এর কম হয়ে যায়, তখন তাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে। সাধারণত অ্যাসিড বৃষ্টির pH 4.2 থেকে 4.4 এর মধ্যে থাকে।
2.19 জৈব বিবর্ধনে কোন রাসায়নিক দায়ী?
উত্তর: জৈব বিবর্ধন বা বায়োম্যাগনিফিকেশনের জন্য দায়ী প্রধান রাসায়নিকগুলি হল DDT-এর মতো কীটনাশক, পারদ, PCB ইত্যাদি। এই রাসায়নিকগুলি জীবদেহে ভাঙে না এবং খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে উচ্চ পুষ্টিস্তরে ঘনত্ব বাড়তে থাকে।
2.20 মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত কত?
উত্তর: মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্রের F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত হল 9:3:3:1। এই অনুপাতটি দ্বিসংকর জননের ক্ষেত্রে পাওয়া যায়।
2.21 মৌমাছির নৃত্য কী?
উত্তর: মৌমাছির নৃত্য হল ওয়াগল নৃত্য বা Waggle Dance। কর্মী মৌমাছি এই নৃত্যের মাধ্যমে চাকের অন্যান্য মৌমাছিদের খাদ্যের উৎসের দূরত্ব ও দিক সম্পর্কে তথ্য জানায়।
Madhyamik Life Sci Model Answers-10
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×12=24)
3.1 চলনের প্রকারভেদ লেখো উদাহরণ সহ।
উত্তর: উদ্ভিদে চলন প্রধানত তিন প্রকার —
i) ট্যাকটিক চলন বা গমন: সমগ্র উদ্ভিদ বা কোষ উদ্দীপকের গতিপথ অনুযায়ী স্থান পরিবর্তন করে। এটি গমন জাতীয় চলন। উদা: ইউগ্লিনা কম তীব্র আলোর দিকে যায় – ফটোট্যাকটিক চলন।
ii) ট্রপিক চলন: বাহ্যিক উদ্দীপকের গতিপথ অনুযায়ী উদ্ভিদ অঙ্গের বক্রচলন। এটি বৃদ্ধিজনিত স্থায়ী চলন। উদা: কাণ্ডের আলোর দিকে বাঁকা – ফটোট্রপিজম।
iii) ন্যাস্টিক চলন: উদ্দীপকের তীব্রতার প্রভাবে কিন্তু গতিপথ নিরপেক্ষ চলন। এটি টারগর পরিবর্তনে ঘটে, সাময়িক চলন। উদা: লজ্জাবতী লতার পাতা স্পর্শে নুয়ে পড়া – সিসমোন্যাস্টি।
3.2 নিউরনে উদ্দীপনা কীভাবে পরিবাহিত হয়?
উত্তর: নিউরনে উদ্দীপনা তড়িৎ-রাসায়নিক সংকেতরূপে পরিবাহিত হয় —
i) নিউরনের মধ্যে পরিবহন: প্রথমে ডেনড্রাইট উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোষদেহে আনে। তারপর কোষদেহ থেকে অ্যাক্সন বরাবর তড়িৎ সংকেত বা Nerve Impulse রূপে যায়। এই সময় অ্যাক্সন পর্দায় Na-K পাম্পের মাধ্যমে আয়নের আদান-প্রদান ঘটে, ফলে ডিপোলারাইজেশন ও রিপোলারাইজেশন হয়।
ii) সাইন্যাপসে পরিবহন: একটি নিউরনের অ্যাক্সন প্রান্ত থেকে অন্য নিউরনের ডেনড্রাইটে যাওয়ার সময় তড়িৎ সংকেত রাসায়নিক সংকেতে পরিণত হয়। সাইন্যাপটিক নবে অ্যাসিটাইলকোলিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার ক্ষরিত হয়ে পরবর্তী নিউরনে উদ্দীপনা পাঠায়।
3.3 হাইপোথ্যালামাস ও পিটুইটারির সম্পর্ক লেখো।
উত্তর: হাইপোথ্যালামাস হল অগ্র মস্তিষ্কের অংশ এবং পিটুইটারি হল তার নিচে অবস্থিত গ্রন্থি। হাইপোথ্যালামাসকে “প্রভু গ্রন্থির প্রভু” বলে, কারণ এটি পিটুইটারিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
হাইপোথ্যালামাস থেকে রিলিজিং হরমোন ও ইনহিবিটিং হরমোন ক্ষরিত হয়, যেমন – TRH, GHRH। এই হরমোনগুলি রক্তের মাধ্যমে পিটুইটারি গ্রন্থিতে যায় এবং পিটুইটারিকে উদ্দীপিত করে TSH, GH, ACTH ইত্যাদি হরমোন ক্ষরণ করতে বলে। পিটুইটারির হরমোন আবার থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল ইত্যাদি অন্যান্য গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এইভাবে হাইপোথ্যালামাস-পিটুইটারি অক্ষ সারা অন্তঃক্ষরা তন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে।
3.4 মাইটোসিসের প্রোফেজ ও টেলোফেজের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
প্রোফেজ: i) এটি মাইটোসিসের প্রথম দশা। ii) ক্রোমাটিন জালিকা ঘন ও ছোট হয়ে ক্রোমোজোম গঠন করে। iii) নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস ধীরে ধীরে লুপ্ত হতে থাকে। iv) সেন্ট্রিওল থেকে বেমতন্তু বা স্পিন্ডল গঠন শুরু হয়।
টেলোফেজ: i) এটি মাইটোসিসের শেষ দশা। ii) এটি প্রোফেজের ঠিক বিপরীত ঘটনা। iii) ক্রোমোজোমগুলি পাতলা ও লম্বা হয়ে আবার ক্রোমাটিন জালিকায় পরিণত হয়। iv) দুই মেরুতে নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস আবার ফিরে আসে এবং বেমতন্তু লুপ্ত হয়। এরপর সাইটোকাইনেসিস ঘটে।
3.5 যৌন ও অযৌন জননের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
যৌন জনন: i) দুটি জনক (পিতা ও মাতা) অংশ নেয়। ii) গ্যামেট গঠন ও নিষেক ঘটে। iii) মিয়োসিস বিভাজনে গ্যামেট তৈরি হয়, তাই অপত্যে ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে। iv) প্রকরণ সৃষ্টি হয়, যা বিবর্তনে সাহায্য করে। v) ধীর প্রক্রিয়া।
অযৌন জনন: i) একটি মাত্র জনক অংশ নেয়। ii) গ্যামেট ও নিষেক ঘটে না। iii) মাইটোসিস বিভাজনে ঘটে, অপত্য হুবহু মাতৃ জীবের মতো ক্লোন হয়। iv) কোনো প্রকরণ সৃষ্টি হয় না। v) দ্রুত প্রক্রিয়া।
3.6 মাইক্রোপ্রোপাগেশনের সুবিধা লেখো।
উত্তর: মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা টিস্যু কালচার হল কৃত্রিম পুষ্টি মাধ্যমে উদ্ভিদের টিস্যু থেকে নতুন চারা তৈরির পদ্ধতি।
সুবিধা: i) খুব কম সময়ে ও কম জায়গায় হাজার হাজার রোগমুক্ত চারা তৈরি করা যায়। ii) বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা যায়। iii) সারা বছর ধরে চারা উৎপাদন সম্ভব, ঋতুর উপর নির্ভর করে না। iv) উন্নত গুণসম্পন্ন, রোগ প্রতিরোধী চারা পাওয়া যায়, যেমন – অর্কিড, কলা, আলুতে এই পদ্ধতি খুব জনপ্রিয়।
3.7 মেন্ডেলের সূত্র দুটি লেখো।
উত্তর:
i) প্রথম সূত্র বা পৃথকীকরণ সূত্র: কোনো জীবের একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী অ্যালিলগুলি গ্যামেট গঠনের সময় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়, ফলে প্রতিটি গ্যামেটে একটি করে অ্যালিল যায়। যেমন – Tt থেকে T ও t আলাদা হয়ে যায়।
ii) দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র: দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিনগুলি গ্যামেট গঠনের সময় স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়, একটি বৈশিষ্ট্য অন্যটির সঞ্চারণকে প্রভাবিত করে না। যেমন – হলুদ গোল ও সবুজ কুঁচকানো বৈশিষ্ট্য স্বাধীনভাবে যায়, ফলে F2 তে 9:3:3:1 অনুপাত পাওয়া যায়।
3.8 লিঙ্গ সংযোজিত বংশগতি কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সব বৈশিষ্ট্যের জিন সেক্স ক্রোমোজোমে অর্থাৎ X বা Y ক্রোমোজোমে অবস্থান করে এবং সেই ক্রোমোজোমের মাধ্যমেই বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়, তাকে লিঙ্গ সংযোজিত বংশগতি বা Sex-linked inheritance বলে।
এই বংশগতিতে ক্রিস-ক্রস বংশগতি দেখা যায়।
উদাহরণ: মানুষের X-ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন রোগ – বর্ণান্ধতা ও হিমোফিলিয়া। বর্ণান্ধতায় ব্যক্তি লাল-সবুজ রং চিনতে পারে না, হিমোফিলিয়ায় রক্ত তঞ্চন হয় না। এই রোগগুলি পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
3.9 মানব বিবর্তনের ধারা লেখো।
উত্তর: মানব বিবর্তনের ধারাটি হল —
i) ড্রায়োপিথেকাস: প্রায় 25 মিলিয়ন বছর আগে, বানর ও মানুষের সাধারণ পূর্বপুরুষ, বৃক্ষবাসী।
ii) রামাপিথেকাস: প্রায় 14 মিলিয়ন বছর আগে, মানুষের দিকে প্রথম ঝোঁক।
iii) অস্ট্রালোপিথেকাস: প্রায় 4 মিলিয়ন বছর আগে, প্রথম দ্বিপদী, মস্তিষ্ক 400-500 cc, আফ্রিকায়।
iv) হোমো হ্যাবিলিস: প্রায় 2 মিলিয়ন বছর আগে, প্রথম হাতিয়ার ব্যবহারকারী, মস্তিষ্ক 650 cc।
v) হোমো ইরেক্টাস: প্রায় 1.5 মিলিয়ন বছর আগে, আগুনের ব্যবহার শিখে, মস্তিষ্ক 900 cc, সোজা হয়ে হাঁটা।
vi) হোমো স্যাপিয়েন্স ও আধুনিক মানুষ: প্রায় 3 লক্ষ বছর আগে থেকে, মস্তিষ্ক 1450 cc, বুদ্ধিমান, সংস্কৃতি ও ভাষার বিকাশ।
3.10 রুই মাছের পটকার অভিযোজন লেখো।
উত্তর: রুই মাছের পটকা বা বায়ুথলি হল দুটি বায়ুপূর্ণ থলি, এর অভিযোজনগত গুরুত্ব হল —
i) প্লবতা রক্ষা: পটকায় বায়ু ভরে মাছ জলে ভেসে থাকতে পারে, ডুবে যায় না, ওঠা-নামা নিয়ন্ত্রণ করে।
ii) শ্বাসকার্য ও চাপ নিয়ন্ত্রণ: কিছুটা অক্সিজেন সঞ্চয় করে এবং জলের বিভিন্ন গভীরতায় চাপের ভারসাম্য রক্ষা করে।
iii) শক্তি সঞ্চয়: পটকার সাহায্যে মাছকে সাঁতার কাটার জন্য কম শক্তি ব্যয় করতে হয়, ফলে শক্তি বাঁচে। এটি রুই মাছের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলজ অভিযোজন।
3.11 নাইট্রোজেন চক্রের ধাপগুলি লেখো।
উত্তর: নাইট্রোজেন চক্রের 5টি ধাপ —
i) স্থিতিকরণ: বায়ুর মুক্ত N2 ব্যাকটেরিয়া (রাইজোবিয়াম) বা বজ্রপাতে NH3 তে পরিণত হয়।
ii) অ্যামোনিফিকেশন: মৃত জীব ও বর্জ্য থেকে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অ্যামোনিয়া তৈরি হয়।
iii) নাইট্রিফিকেশন: অ্যামোনিয়া থেকে প্রথমে নাইট্রোসোমোনাস দ্বারা নাইট্রাইট এবং পরে নাইট্রোব্যাকটর দ্বারা নাইট্রেটে পরিণত হয়, যা উদ্ভিদ গ্রহণ করে।
iv) আত্তীকরণ: উদ্ভিদ নাইট্রেট গ্রহণ করে প্রোটিন তৈরি করে এবং প্রাণী তা খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করে।
v) ডিনাইট্রিফিকেশন: ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া (সিউডোমোনাস) নাইট্রেটকে আবার মুক্ত N2 তে পরিণত করে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয়।
3.12 জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে JFM এর ভূমিকা লেখো।
উত্তর: JFM বা Joint Forest Management হল বনদপ্তর ও স্থানীয় গ্রামবাসীর যৌথ বন পরিচালনা ব্যবস্থা, এটি 1971 সালে পশ্চিমবঙ্গের আরাবারি থেকে শুরু হয়।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এর ভূমিকা — i) গ্রামবাসী ও বনদপ্তর একসাথে বন পাহারা দেয়, ফলে চোরাশিকার ও গাছ চুরি বন্ধ হয়। ii) সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণ ও বাঘ সংরক্ষণে সাহায্য করে। iii) স্থানীয় মানুষ মধু, পাতা সংগ্রহের অধিকার পায় এবং বন থেকে লাভের অংশ পায়, তাই তারা বন রক্ষায় উৎসাহী হয়। iv) বনের উপর চাপ কমে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায়।
3.13 জল দূষণে আর্সেনিকের প্রভাব লেখো।
উত্তর: ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক দূষণ একটি ভয়াবহ জল দূষণ, পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া জেলায় বেশি দেখা যায়।
প্রভাব: i) দীর্ঘদিন আর্সেনিকযুক্ত জল পান করলে ব্ল্যাকফুট ডিজিজ বা পায়ে কালো দাগ হয়। ii) চর্মের কেরাটোসিস, ত্বকের ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার হয়। iii) যকৃৎ ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয়। WHO-র মতে 0.05 mg/L-এর বেশি আর্সেনিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Life sci Model Answers-10/2 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Life sci Model Answers-9/2 » NIRYAS.IN