NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Life sci Model Answers-2/2

Madhyamik Life Sci Model Answers-2

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? জীবনবিজ্ঞান বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (জীবন বিজ্ঞান) (Madhyamik Life Sci Model Answers-2) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে 15টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), 21টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, 24 নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং 30 নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Life Sci Model Answers-2

Madhyamik Life Sci Model Answers
Madhyamik Life Sci Model Answers

Life Science(জীবন বিজ্ঞান)

(Part-2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×12=24)

3.1 উদ্ভিদের ট্রপিক চলন ও প্রাণীর ট্যাকটিক চলনের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
ট্রপিক চলন: i) এটি উদ্ভিদের বৃদ্ধিজনিত, ধীর ও স্থায়ী চলন। ii) উদ্দীপকের গতিপথ অনুযায়ী উদ্ভিদের কোনো অঙ্গ বেঁকে যায়, সমগ্র উদ্ভিদের স্থান পরিবর্তন হয় না। iii) এটি অক্সিন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন – কাণ্ডের আলোর দিকে বাঁকা হল ফটোট্রপিজম।

ট্যাকটিক বা ট্যাক্সিস চলন: i) এটি প্রাণী বা আদ্যপ্রাণীর গমন, দ্রুত ও সাময়িক চলন। ii) উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র জীবের স্থান পরিবর্তন হয়। iii) এটি উদ্দীপকের দিকে বা বিপরীতে জীবের চলন। যেমন – ইউগ্লিনার আলোর দিকে যাওয়া হল ফটোট্যাকটিক চলন।

3.2 অক্সিন ও জিব্বেরেলিনের কাজ লেখো।
উত্তর:
অক্সিনের কাজ: i) কাণ্ডের অগ্রভাগের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং ফটোট্রপিজম ও জিওট্রপিজম নিয়ন্ত্রণ করে। ii) ফলকে অকালে ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করে এবং বীজবিহীন ফল তৈরিতে সাহায্য করে। iii) অধিক ঘনত্বে আগাছানাশক হিসাবে ব্যবহৃত হয়, যেমন 2,4-D।

জিব্বেরেলিনের কাজ: i) বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করে। ii) কাণ্ডের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে এবং বামন উদ্ভিদকে লম্বা করে। iii) বীজবিহীন ফল উৎপাদনে এবং ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।

3.3 স্নায়ু ও হরমোনের সমন্বয়ে কীভাবে দেহের ভারসাম্য রক্ষিত হয়?
উত্তর: দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে হোমিওস্ট্যাসিস বলে, যা স্নায়ু ও হরমোনের যৌথ সমন্বয়ে ঘটে। স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত ও ক্ষণস্থায়ী বার্তা পাঠায়, আর হরমোনতন্ত্র ধীর ও দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ করে।

উদাহরণ: আমরা যখন ভয় পাই, তখন চোখ ও কান উদ্দীপক গ্রহণ করে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে পাঠায়। হাইপোথ্যালামাস অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে স্নায়ুর মাধ্যমে উদ্দীপিত করে। তখন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রিনালিন হরমোন রক্তে ক্ষরিত হয়, যা হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও শ্বাসক্রিয়া বাড়িয়ে দেহকে লড়াই বা পালানোর জন্য প্রস্তুত করে। কাজ শেষ হলে ফিডব্যাক পদ্ধতিতে হরমোন ক্ষরণ কমে গিয়ে দেহ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

3.4 প্রোফেজ ও টেলোফেজের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
প্রোফেজ: এটি মাইটোসিসের প্রথম দশা। এই দশায় i) ক্রোমাটিন জালিকা ঘনীভূত হয়ে ছোট ও মোটা ক্রোমোজোম গঠন করে। ii) প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত দেখা যায়। iii) নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে শুরু করে।

টেলোফেজ: এটি মাইটোসিসের শেষ দশা, প্রোফেজের ঠিক বিপরীত ঘটনা ঘটে। i) ক্রোমোজোমগুলি সরু ও লম্বা হয়ে ক্রোমাটিন জালিকায় পরিণত হয়। ii) নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস আবার নতুন করে সৃষ্টি হয়। iii) বেমতন্তু লুপ্ত হয় এবং সাইটোকাইনেসিস বা সাইটোপ্লাজমের বিভাজন শুরু হয়।

3.5 অযৌন জননের সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।
উত্তর:
সুবিধা: i) এই জননে একটি মাত্র জনকের প্রয়োজন হয় এবং খুব দ্রুত ও কম শক্তিতে বহু অপত্য সৃষ্টি হয়। ii) অপত্য জীব মাতৃ জীবের হুবহু অনুরূপ বা ক্লোন হয়, তাই ভালো বৈশিষ্ট্যগুলি অক্ষুণ্ণ থাকে।

অসুবিধা: i) এই জননে গ্যামেট গঠন ও নিষেক হয় না, তাই কোনো প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি হয় না। ii) প্রকরণ না থাকায় নতুন পরিবেশের সাথে অভিযোজন ক্ষমতা কম এবং বিবর্তনে কোনো ভূমিকা নেই, ফলে প্রতিকূল পরিবেশে প্রজাতি বিলুপ্ত হতে পারে।

3.6 নিষেক ও পরাগযোগের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
পরাগযোগ: i) এটি হল পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার ঘটনা। ii) এটি নিষেকের আগের ধাপ এবং বাহ্যিক ঘটনা। এর ফলে জিনগত কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধু পরাগরেণুর স্থান পরিবর্তন হয়।

নিষেক: i) এটি হল পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেটের মিলনের ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠনের প্রক্রিয়া। ii) এটি পরাগযোগের পর ঘটে এবং অভ্যন্তরীণ ঘটনা। এর ফলে নতুন জিনের সংমিশ্রণ ঘটে এবং ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।

3.7 মেন্ডেল কেন মটর গাছ নির্বাচন করেছিলেন?
উত্তর: মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য মটর গাছ নির্বাচন করেছিলেন কারণ —
i) বৈশিষ্ট্য: মটর গাছে 7 জোড়া সুস্পষ্ট বিপরীত বৈশিষ্ট্য থাকে যেমন লম্বা-বেঁটে।
ii) জীবনচক্র: মটর গাছ একবর্ষজীবী, সহজে চাষ করা যায় এবং অল্প সময়ে অনেক বংশধর পাওয়া যায়।
iii) জনন প্রকৃতি: মটর গাছ স্বপরাগী, তাই সহজেই বিশুদ্ধ প্রজাতি পাওয়া যায় এবং কৃত্রিমভাবে ইতর পরাগযোগ ঘটানো সহজ।
iv) উর্বরতা: মটর গাছের ফুল উভলিঙ্গ এবং বংশধরের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ সহজ হয়।

3.8 থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার লেখো।
উত্তর:
লক্ষণ: থ্যালাসেমিয়া একটি অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ, যাতে হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষ কম হয়। এর লক্ষণ হল i) তীব্র রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া, ii) জন্ডিস, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট, iii) প্লীহা ও যকৃৎ বড় হয়ে যাওয়া এবং হাড়ের বিকৃতি।

প্রতিকার: i) নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন করা এবং দেহে অতিরিক্ত আয়রন জমা রোধে ওষুধ দেওয়া। ii) অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন এই রোগের স্থায়ী চিকিৎসা হতে পারে। iii) সবচেয়ে ভালো প্রতিকার হল প্রতিরোধ – বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং করা, যাতে দুজন বাহক হলে সন্তানে রোগ না আসে।

Madhyamik Life Sci Model Answers-2

3.9 ল্যামার্ক ও ডারউইনের মতবাদের দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
ল্যামার্কের মতবাদ: i) ল্যামার্কের মতে জীবের অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের ফলে অঙ্গের বৃদ্ধি বা লোপ ঘটে। ii) জীবদ্দশায় অর্জিত বৈশিষ্ট্য পরবর্তী বংশে সঞ্চারিত হয় বলেই নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হয়। যেমন – জিরাফের গলা লম্বা হওয়া।

ডারউইনের মতবাদ: i) ডারউইনের মতে জীবের মধ্যে প্রকরণ দেখা যায় এবং প্রকৃতি যোগ্যতম জীবকে নির্বাচন করে। ii) ডারউইনের মতে অর্জিত বৈশিষ্ট্য বংশগত নয়, বরং প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্যতমের উদবর্তন ঘটে এবং নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হয়।

3.10 রুই মাছের পটকা অভিযোজনগত গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: রুই মাছের পটকা বা বায়ুথলি হল একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোজন, এর কাজ হল —
i) প্লবতা রক্ষা: পটকায় গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে কমিয়ে মাছ জলে ওঠা-নামা করতে পারে, ফলে শক্তি কম খরচ হয়।
ii) ভারসাম্য ও অন্যান্য: এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে, শ্বাসকার্যের সময় অতিরিক্ত অক্সিজেন সঞ্চয় করে রাখে এবং শব্দ তরঙ্গ গ্রহণ ও উৎপাদনে সাহায্য করে।

3.11 নাইট্রোজেন চক্রে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা লেখো।
উত্তর: নাইট্রোজেন চক্রে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে —
i) নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ: Rhizobium, Azotobacter বায়ুর মুক্ত নাইট্রোজেনকে মাটিতে আবদ্ধ করে।
ii) নাইট্রিফিকেশন: Nitrosomonas অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইটে (NO2-) এবং Nitrobacter নাইট্রাইটকে নাইট্রেটে (NO3-) পরিণত করে।
iii) অ্যামোনিফিকেশন ও ডিনাইট্রিফিকেশন: Clostridium মৃত জীবের প্রোটিনকে অ্যামোনিয়ায় পরিণত করে এবং Pseudomonas নাইট্রেটকে ভেঙে মুক্ত নাইট্রোজেনে পরিণত করে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয়।

3.12 সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তর: সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা হল —
i) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য: বাঘ খাদ্যশৃঙ্খলের সর্বোচ্চ স্তরে থাকে, তাই বাঘের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলে হরিণের সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকে।
ii) জৈববৈচিত্র্য ও অর্থনীতি: বাঘ হল আমাদের জাতীয় প্রাণী এবং একটি ছাতা প্রজাতি, বাঘকে সংরক্ষণ করলে তার সাথে সাথে সুন্দরবনের সমগ্র জৈববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হয়। এছাড়া বাঘকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠে যা স্থানীয় অর্থনীতিতে সাহায্য করে।

3.13 গ্রিনহাউস প্রভাব কীভাবে রোধ করা যায়?
উত্তর: গ্রিনহাউস প্রভাব রোধ করার উপায়গুলি হল —
i) জীবাশ্ম জ্বালানি কম ব্যবহার: কয়লা, পেট্রোল, ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
ii) বৃক্ষরোপণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ: বেশি করে গাছ লাগাতে হবে কারণ গাছ CO2 শোষণ করে। CFC গ্যাসযুক্ত রেফ্রিজারেটর ও এসির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ও সাইকেল ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

➣[ডাউনলোড করুন]: মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান মডেল উত্তরপত্র (PDF)

Madhyamik Life Sci Model Answers-2

বিভাগ – ঘ: রচনাধর্মী (5×6=30)

4.1 মানুষের চোখের বিভিন্ন অংশের কাজ ও উপযোজন
চিত্রের জন্য: কর্ণিয়া, আইরিস, পিউপিল, লেন্স, সিলিয়ারি পেশি, রেটিনা, অপটিক স্নায়ু অবশ্যই দেখাবে।

বিভিন্ন অংশের কাজ:
i) কর্নিয়া: চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ। আলো প্রবেশ করায় ও আলোকে প্রতিসরিত করে।
ii) আইরিস ও পিউপিল: আইরিস হল রঙিন অংশ। এটি পেশি দিয়ে পিউপিলের আকার ছোট-বড় করে আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে – উজ্জ্বল আলোয় পিউপিল ছোট, কম আলোয় বড় হয়।
iii) লেন্স: স্বচ্ছ দ্বি-উত্তল লেন্স। আলোকে ফোকাস করে রেটিনায় ফেলে।
iv) সিলিয়ারি পেশি ও সাসপেনসরি লিগামেন্ট: লেন্সকে ধরে রাখে এবং লেন্সের আকৃতি পরিবর্তন করে উপযোজনে সাহায্য করে।
v) রেটিনা: চোখের ভিতরের আলোক সংবেদী স্তর। এখানে রড কোষ (মৃদু আলো ও সাদা-কালো) ও কোন কোষ (উজ্জ্বল আলো ও রঙ) থাকে। এখানে উল্টো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
vi) অপটিক স্নায়ু: রেটিনার সংকেত মস্তিষ্কের দর্শন কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
vii) অ্যাকুয়াস ও ভিট্রিয়াস হিউমার: চোখের আকার বজায় রাখে ও পুষ্টি দেয়।

উপযোজন কী? দূরের ও কাছের বস্তুকে স্পষ্ট দেখার জন্য চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তনের পদ্ধতিকে উপযোজন বলে।
কিভাবে হয়: দূরের বস্তু দেখলে সিলিয়ারি পেশি প্রসারিত হয়, লিগামেন্ট টানটান হয়, লেন্স সরু হয়, ফোকাস দূরত্ব বাড়ে। কাছের বস্তু দেখলে সিলিয়ারি পেশি সংকুচিত হয়, লিগামেন্ট ঢিলে হয়, লেন্স মোটা ও উত্তল হয়, ফোকাস দূরত্ব কমে।

4.2 উদ্ভিদের চলন কত প্রকার? ফটো ও জিও ট্রপিজম পরীক্ষা

উদ্ভিদের চলন 3 প্রকার:
1. ট্যাকটিক চলন: সমগ্র উদ্ভিদের স্থান পরিবর্তন – যেমন ক্ল্যামাইডোমোনাসের আলোর দিকে যাওয়া – ফটোট্যাকটিক।
2. ট্রপিক চলন: উদ্দীপকের গতিপথ অনুযায়ী অঙ্গের বক্রতা – স্থায়ী, বৃদ্ধিজনিত, অক্সিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রকার: ফটোট্রপিজম (আলো), জিওট্রপিজম (মাধ্যাকর্ষণ), হাইড্রোট্রপিজম (জল), কেমোট্রপিজম (রাসায়নিক), থিগমোট্রপিজম (স্পর্শ)।
3. ন্যাস্টিক চলন: উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, গতিপথ নিরপেক্ষ – সাময়িক, টারগর চাপে। প্রকার: ফটোন্যাস্টি (পদ্ম ফুল দিনে ফোটে), থার্মোন্যাস্টি (টিউলিপ তাপে ফোটে), সিসমোন্যাস্টি (লজ্জাবতী), কেমোন্যাস্টি।

ফটোট্রপিজম পরীক্ষা: একটি টবের গাছ অন্ধকার বাক্সে রেখে একদিকে ছিদ্র দিয়ে আলো দাও। 3-4 দিন পর দেখবে কাণ্ড আলোর দিকে বেঁকেছে – এটি পজিটিভ ফটোট্রপিজম, মূল আলোর বিপরীতে – নেগেটিভ ফটোট্রপিজম। কারণ ছায়ার দিকে অক্সিন বেশি জমে বেশি বৃদ্ধি হয়।

জিওট্রপিজম পরীক্ষা: একটি টবের অঙ্কুরিত ছোলার চারা শুইয়ে রাখো। 2 দিন পর দেখবে মূল নিচের দিকে (পজিটিভ জিওট্রপিজম) ও কাণ্ড উপরের দিকে (নেগেটিভ জিওট্রপিজম) বেঁকেছে। ক্লিনোস্ট্যাট যন্ত্রে ঘোরালে জিওট্রপিজম হয় না, প্রমাণ করে মাধ্যাকর্ষণই কারণ।

4.3 কোষচক্র কী? দশা চিত্র সহ ও গুরুত্ব
কোষচক্র: একটি কোষ সৃষ্টি হওয়া থেকে তার বিভাজন পর্যন্ত যে চক্রাকার ঘটনা, তাকে কোষচক্র বলে। সময় 24 ঘণ্টা।

দশা: দুটি প্রধান ভাগ –
A. ইন্টারফেজ (90% সময়) – প্রস্তুতি পর্ব:
i) G1 দশা: Gap 1, কোষের বৃদ্ধি, RNA, প্রোটিন সংশ্লেষ, কোষ অঙ্গাণু তৈরি।
ii) S দশা: Synthesis, DNA এর প্রতিলিপি গঠন, DNA দ্বিগুণ হয়, সেন্ট্রিওল দ্বিগুণ হয়।
iii) G2 দশা: Gap 2, বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, বেমতন্তুর উপাদান সংশ্লেষ, DNA ত্রুটি পরীক্ষা।

B. M দশা (10% সময়) – বিভাজন পর্ব: ক্যারিওকাইনেসিস (প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ) ও সাইটোকাইনেসিস।

গুরুত্ব: i) জীবের দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ হয়। ii) জনন ও বংশবিস্তার। iii) মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে ও প্রকরণ সৃষ্টি হয়।

4.4 সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক পদ্ধতি চিত্র সহ
পদ্ধতি – দ্বিনিষেক: i) পরাগযোগের পর পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পড়ে অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালি তৈরি করে। ii) পরাগনালি গর্ভদণ্ড দিয়ে ডিম্বকের ডিম্বকরন্ধ্র দিয়ে ভ্রূণথলিতে প্রবেশ করে। iii) পরাগনালিতে 2টি পুংগ্যামেট (n) থাকে। iv) একটি পুংগ্যামেট ডিম্বাণুর (n) সাথে মিলে 2n জাইগোট গঠন করে, যা থেকে ভ্রূণ তৈরি হয়। v) অপর পুংগ্যামেটটি 2টি নির্ণীত নিউক্লিয়াস (n+n=2n) এর সাথে মিলে 3n শস্য বা এন্ডোস্পার্ম গঠন করে, যা ভ্রূণকে পুষ্টি দেয়। একে দ্বিনিষেক বলে। পরে ডিম্বক বীজে ও ডিম্বাশয় ফলে পরিণত হয়।

স্বপরাগযোগের অসুবিধা: i) প্রকরণ সৃষ্টি হয় না। ii) ক্রমাগত স্বপরাগযোগে বংশধর দুর্বল, অনুর্বর হয়। iii) বিবর্তনে কোনো ভূমিকা নেই। iv) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে।

4.5 মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন পরীক্ষা চেকার বোর্ড সহ

পরীক্ষা: বিশুদ্ধ হলুদ গোল বীজ (YYRR) x বিশুদ্ধ সবুজ কুঁচকানো বীজ (yyrr)
P জনু: YYRR x yyrr
F1: সব YyRr – হলুদ গোল (প্রকট বৈশিষ্ট্য)

F1 x F1: YyRr x YyRr এর স্বপরাগযোগে F1 গ্যামেট হবে YR, Yr, yR, yr – 4 রকম।

চেকার বোর্ড 16 ঘর:
9টি Y_R_ = হলুদ গোল
3টি Y_rr = হলুদ কুঁচকানো
3টি yyR_ = সবুজ গোল
1টি yyrr = সবুজ কুঁচকানো
অনুপাত 9:3:3:1

সূত্র – স্বাধীন বিন্যাস সূত্র: দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের জিনগুলি গ্যামেট গঠনের সময় স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়, একটি জোড়া অন্যটিকে প্রভাবিত করে না। হলুদ/সবুজ ও গোল/কুঁচকানো বৈশিষ্ট্য স্বাধীনভাবে যায়।

Madhyamik Life Sci Model Answers-2

4.6 ডারউইনবাদ ও জিরাফের উদাহরণ

ডারউইনবাদ: ডারউইনের পর্যবেক্ষণ 3টি –
i) অত্যধিক বংশবৃদ্ধি – জীব জ্যামিতিক হারে বাড়ে।
ii) খাদ্য ও স্থান সীমিত।
iii) জীবের মধ্যে প্রকরণ দেখা যায়।
সিদ্ধান্ত: এর ফলে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম (আন্তঃপ্রজাতি, অন্তঃপ্রজাতি ও পরিবেশের সাথে) হয়, যোগ্যতম জীবই বাঁচে – যোগ্যতমের উদবর্তন, এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হয়।

জিরাফের গলা ল্যামার্কবাদ দিয়ে: ল্যামার্কের মতে – i) ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র: জিরাফ উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার জন্য বারবার গলা টেনে লম্বা করার চেষ্টা করতো। ii) অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি: এইভাবে গলা লম্বা হওয়া বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়, তাই বর্তমান জিরাফের গলা লম্বা। ডারউইন মতে – প্রকৃতিতে আগে থেকেই লম্বা ও বেঁটে গলা জিরাফ ছিল, প্রাকৃতিক নির্বাচনে লম্বা গলাই টিকে গেছে।

4.7 পায়রার উড্ডয়ন অভিযোজন ও মরু উদ্ভিদের অভিযোজন

পায়রার উড্ডয়ন অভিযোজন: i) দেহ মাকু আকৃতির, বায়ু প্রতিরোধ কম। ii) দেহ পালকে ঢাকা, হালকা ও বায়ু নিরোধক। iii) অস্থি হালকা, ফাঁপা ও বায়ুপূর্ণ, স্পঞ্জি। iv) সামনের দুটি পা ডানায় পরিণত। v) বক্ষ পেশি অত্যন্ত শক্তিশালী ও উন্নত। vi) 9টি বায়ুথলি দেহ হালকা ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। vii) দৃষ্টিশক্তি প্রখর, হৃদপিণ্ড শক্তিশালী।

মরু উদ্ভিদ ক্যাকটাসের অভিযোজন: i) পাতা কাঁটায় পরিণত, বাষ্পমোচন কমায়। ii) কাণ্ড মোটা, রসালো, সবুজ, জল সঞ্চয় করে ও সালোকসংশ্লেষ করে। iii) কাণ্ডের উপর পুরু কিউটিকল ও মোমের আস্তরণ জল বের হতে দেয় না। iv) পত্ররন্ধ্র সংখ্যায় কম ও রাতে খোলে। v) মূল গভীর ও বিস্তৃত, জল শোষণের জন্য।

4.8 বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন সংবন্ধনের ধাপ ও মাইকোরাইজা

নাইট্রোজেন সংবন্ধনের ধাপ:
i) জৈবিক স্থিতিকরণ: রাইজোবিয়াম, অ্যাজোটোব্যাকটর, নস্টক, অ্যানাবেনা ব্যাকটেরিয়া বায়ুর N_2 কে NH_3 তে পরিণত করে।
ii) অজৈব স্থিতিকরণ: বজ্রপাতের সময় উচ্চ তাপে N_2 + O_2 \→ 2NO, পরে 2NO + O_2 \→ 2NO_2, বৃষ্টির জলে NO_2 নাইট্রিক অ্যাসিড ও নাইট্রেটে পরিণত হয়ে মাটিতে আসে।
iii) শিল্প স্থিতিকরণ: হেবার-বস পদ্ধতিতে কারখানায় উচ্চ চাপ ও তাপে N_2 + 3H_2 \→ 2NH_3 অ্যামোনিয়া সার তৈরি হয়।

মাইকোরাইজা: ছত্রাক ও উদ্ভিদের মূলের মধ্যে মিথোজীবী সহবাসকে মাইকোরাইজা বলে। ছত্রাক মাটি থেকে জল ও ফসফেট শোষণ করে উদ্ভিদকে দেয়, উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষের খাদ্য ছত্রাককে দেয়। যেমন – পাইন, শাল, অর্কিড গাছে দেখা যায়। মাটির উর্বরতা বাড়ায়।

4.9 ধোঁয়াশা কী? ক্ষতি ও বায়ু দূষণ রোধে ভূমিকা

ধোঁয়াশা: ধোঁয়া + কুয়াশা = ধোঁয়াশা বা Smog। কলকারখানা ও গাড়ির ধোঁয়া, ধূলিকণা ও কুয়াশা মিলে শীতকালে বেশি তৈরি হয়, দিল্লি, কলকাতায় বেশি।

ক্ষতি: i) মানুষের শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, ফুসফুস ক্যান্সার, চোখ জ্বালা, দৃষ্টি কমে। ii) উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ কমে, ফলন কমে। iii) তাজমহলের মতো স্থাপত্যের ক্ষতি (অ্যাসিড ধোঁয়াশা)।

বায়ু দূষণ রোধে তোমার ভূমিকা: i) বেশি করে গাছ লাগানো ও গাছ কাটা বন্ধ। ii) সাইকেল চালানো, হাঁটা, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার, গাড়ি কম ব্যবহার। iii) প্লাস্টিক, আবর্জনা না পোড়ানো। iv) ধূমপান বর্জন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি। v) নবীকরণযোগ্য শক্তি – সৌরশক্তি ব্যবহারে উৎসাহ।

—    ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

One thought on “Madhyamik Life sci Model Answers-2/2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading