NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

Competitive Miscellaneous Info.

The Subcontinent in the Grip of Arsenic/Bengali

The Subcontinent in the Grip of Arsenic

একবিংশ শতাব্দীতে পরিবেশ ও মানব সভ্যতার সামনে এক মারাত্মক নীরব অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে আর্সেনিক দূষণ। স্বাদ ও গন্ধহীন এই অর্ধধাতব পদার্থটি (অ্যাটমিক নম্বর ৩৩) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মা-মেঘনা অববাহিকার কোটি কোটি মানুষের জীবনে “The Subcontinent is in the Grip of Arsenic” বা “আর্সেনিকের কবলে উপমহাদেশ” নামক এক ভয়ানক সংকট সৃষ্টি করেছে। ভূগর্ভস্থ জলের অপরিকল্পিত উত্তোলন ও রাসায়নিকের অবাধ ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট এই বিষাক্ত বিপত্তি আজ ভারত ও বাংলাদেশসহ সমগ্র অঞ্চলে মহামারী রূপ নিয়েছে। ডব্লিউএইচও (WHO)-র নির্ধারিত সীমাকে ছাড়িয়ে যাওয়া এই ‘মারণ ফাঁদ’ মানবদেহের প্রায় প্রতিটি অঙ্গকে নিঃশব্দে গ্রাস করছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে আজ প্রয়োজন সর্বস্তরে গভীর সচেতনতা, ভৌমজল সংরক্ষণ এবং কার্যকর বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


আর্সেনিকের কবলে উপমহাদেশ


​The Subcontinent is in the Grip of Arsenic

⟽ Previous set : Maharashtra & Navratna Companies of india

স্বাদ এবং গন্ধবিহীন অর্ধধাতব পদার্থ আর্সেনিক (As; [Ar] 3d104s24p3 ) বর্তমান শতকের এক অন্যতম বিভীষিকা I বলা যায় মনুষ্য সভ্যতার অতি গোপণ এক মারণ ফাঁদ I ইহা পর্যায়সরণীর গ্রুপ VA তে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, অ্যান্টিমনি, বিসমাথ প্রভৃতি মারাত্মক পদার্থের সঙ্গে সহাবস্থান করে I এর অ্যাটমিক নাম্বার 33 এবং অ্যাটমিক ভর 74.9 I এর গলনাঙ্ক 1090K বা 817° সেন্টিগ্রেড এবং ষ্ফুটনাঙ্ক 887K বা 614° সেন্টিগ্রেড I আর্সেনিক মূলতঃ তিনটি Allotropes এ পাওয়া যায় I সাধারণ আর্সেনিক মূলতঃ ধূসর রঙের হয়ে থাকে এর ঘনত্ব 5.37 গ্রাম/ঘনসেমিঃ I আর্সেনিকের অতি ক্ষারকীয় রূপভেদটি হল হলুদ বর্ণের, ইহা অস্থিতিশীল এবং দুষ্প্রাপ্য I এর ঘনত্ব 1.97 গ্রাম/ঘনসেমিঃ I আর্সেনিকের তৃতীয় রূপভেদটি কালো রঙের I জার্মান অ্যালকেমিস্ট Albertus Magnus 1250 সালে আর্সেনিক চিহ্নিত করেন I WHO এর মতে পানীয় জলে আর্সেনিকের সর্বাধিক দূষণ মাত্রা (Maximum Contaminat Level) 10ppb, যদিও উপমহাদেশের অন্যতম দুই দেশ ভারত ও বাংলাদেশে এই মাত্রা 50ppb পর্যন্ত উপস্থিত I

​The Subcontinent in the Grip of Arsenic

​উপমহাদেশে আর্সেনিক দূষণের প্রভাব সর্বপ্রথম জনসমক্ষে আসে 1982 সালে পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলায়, এবং তা স্বীকৃতি পায় 1983 সালে I এবং এর পর বাংলাদেশ লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব সীমান্তের 6 টি জেলাতে আর্সেনিকের উপস্থিতি আবিষ্কৃত হয় I এই জেলাগুলো হল মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং বর্ধমান I Institute of Public Helth Engineering এর তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের 11 টি জেলার 104 টি ব্লকের পানীয় জলে আর্সেনিকের মাত্রা বিপজ্জনক যার হার প্রতি লিটার পানীয় জলে 0.1 মিলিগ্রাম I যেখানে WHO অনুযায়ী পানীয় জলে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা 0.05 মিলিগ্রাম প্রতি লিটারে বা 50 ppm. Institute of Public Helth Engineering এর তথ্য অনুযায়ী উক্ত 11 টি জেলার মধ্যে 5 টি জেলার অবস্থা আশঙ্কাজনক I এর মধ্যে পূর্ব বর্ধমানের 6 টি ব্লকের 5,70,500 জন; মালদা জেলার 8 টি ব্লকের 20,15,663 জন; মুর্শিদাবাদের 23,87,365 জন (90%); এবং উত্তর দিনাজপুরের 10 টি ব্লকের প্রায় 83% মানুষ আর্সেনিকের কবলে I School of Environmental Studies (SOES), Jadavpur University, 2001 পশ্চিমবঙ্গের 18 টি জেলার 9 টি জেলা থেকে 105000 টি পানীয় জলের নমুনা এবং 25000 জনের জৈব নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখেন যে এই 9 টি জেলার 2700 গ্রামের মোট 42 মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে 6 মিলিয়ন জনসংখ্যা পানীয় জলে আর্সেনিকের পরিমাণ \ge 50\ \mu\text{g l}^{-1} এবং প্রায় তিন লক্ষ জনসংখ্যার শরীরে আর্সেনিকের প্রভাব স্পষ্ট I 2008 সালে ছত্তিশগড়ের রাজনন্দ গাঁও নামক গ্রামে আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরাপড়ে I অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ বাংলদেশের চিত্রও ভয়াবহ I বাংলদেশের জনসংখ্যা ও প্রকৌশল অধিদপ্তর 1993 সালে বড়ঘড়িয়া মৌজায় প্রথম আর্সেনিকের উপস্থিতি আবিষ্কার করে যা জনসমক্ষে আসে 1995 সালের ফেব্রুয়ারীতে পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের School of Environmental Studies আয়োজিত সেমিনারে I WHO এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের 64 টি জেলার মধ্যে 41 টি জেলা কমবেশী আর্সেনিকের কবলে রয়েছে I BAMWSP প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশের 270 টি উপজেলার 50 লক্ষ নলকূপের 27% নলকূপে আর্সেনিকের পরিমাণ সহ্য সীমার উপর, এর মধ্যে চাঁদপুর (90%), মুন্সীগঞ্জ (83%), গোপালগঞ্জ (79%), মাদারীপুর (69%), নোয়াখালী (69%) অধিক আর্সেনিক প্রবণ I UNICEF (2008) এর মতে বাংলাদেশের 20% মানুষের মৃত্যু হয় আর্সেনিকের প্রভাবে I British Geological Survey (1998) অনুযায়ী বাংলাদেশের 2000 সালের একটি পর্যবেক্ষণ থেকে জানা গেছে বাংলাদেশের 64 টি জেলার মধ্যে 50 টি জেলার ভৌমজলে আর্সেনিকের পরিমাণ 50\ \mu\text{g l}^{-1} এর অধিক এবং \ge 50\ \mu\text{g l}^{-1} আর্সেনিক যুক্ত জল পানীয় হিসাবে ব্যবহার করে দেশের 25 মিলিয়ন এর অধিক জনসংখ্যা I প্রতিবেশী দেশ নেপালের তরাই অঞ্চল অধিক আর্সেনিক প্রবণ I এখানের Newalparasi জেলার 26% অগভীর নলকূপের জলে 10ppb এর অধিক মাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে I Japan International Corporation Agency and the Environment নেপালের কাঠমান্ডু উপত্যকার 72% গভীর কূপে ‘হু’ অনুমোদিত মাত্রার অধিক পরিমাণে আর্সেনিকের উপস্থিতির প্রমাণ পায় এবং 12% কূপে এই মাত্রা পরিমাপ করে 50 ppb I অন্যদিকে পাকিস্তানের 1200 টি পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে এখানকার 50-60 মিলিয়ন জনসংখা 50mg/L আর্সেনিক যুক্ত জল পানীয় জল হিসাবে ব্যবহার করে I

​The Subcontinent in the Grip of Arsenic

নদীমাতৃক উপমহাদেশে নদী যেমন জীবন ধারনের এক অন্যতম প্রাকৃতিক আশীর্বাদ তেমনি এর অভিশাপের কবল থেকেও উপমহাদেশীয় জনজীবন মুক্ত নয় I দক্ষিণ এশিয়া তথা উপমহাদেশের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র (WB) এবং পদ্মা-মেঘনা (BD) উপত্যকা অঞ্চল হল আর্সেনিকের অন্যতম ক্ষেত্র I সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানা গেছে গঙ্গা-মেঘনা-ব্রহ্মপুত্র নদী অববাহিকার অন্তর্গত বাংলাদেশ; পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তর প্রদেশের প্রায় 51 লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকার 50 কোটি জনসংখ্যা আর্সেনিকের কবলে I বিহারের গঙ্গা ও গন্ডক সংলগ্ন 13 টি জেলার ভৌমজলে আর্সেনিকের উপস্থিতির পরিমাণ 0.05 mg/L I দক্ষিণ এশিয়ার এই ক্ষেত্রে হিমালয় থেকে উত্পন্ন আবহবিকারজাত শিলা অবস্কর নদী দ্বারা পরিবাহিত হয়ে নিম্ন অববাহিকা অঞ্চলে সঞ্চিত হয় I সুদীর্ঘকাল ধরে এই জলপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় নিম্নভূমি অঞ্চলে আর্সেনিকের সঞ্চয়ও অব্যাহত I পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত হওয়ায় এই নিম্নভূমি অঞ্চলে অন্যান্য খনিজের সাথে আর্সেনিকের উপাদান পৌঁছলে আয়রন অক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়ামের কম পরিমাণের জন্য মাটির উপরিভাগে এই আর্সেনিক সঞ্চিত হতে না পেরে নিম্নগামী জলের সাথে ক্রমশঃ নীচের দিকে অধোগত হয় I আবার ভূগর্ভস্থ Nickolite, Scorodite, Arsenal pyrite প্রভৃতি শিলায় প্রচুর পরিমাণে আর্সেনিকের উপস্থিতির জন্য জল যখন এই শিলাস্তর অতিক্রম করে তখন আর্সেনিকের কণাগুলিও বয়ে নিয়ে গিয়ে ভূগর্ভে সঞ্চয় করে I গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে 20 মিটারের অধিক এবং 100 মিটারের কম গভীরতায় আর্সেনিকের প্রভাব অধিক I কিন্তু এই অংশে অধিক পরিমাণে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের জন্য জলস্তরের সঙ্গে আর্সেনিকও নিম্নস্তর বা গভীরে প্রবেশ করছে I ফলে গভীর অংশও আর্সেনিক দূষণ থেকে মুক্ত নয় I আবার নদী অববাহিকাগুলি অত্যধিক কৃষিপ্রবণ হওয়ায় কৃষিজমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক, রাসায়নিক সার থেকে নির্গত আর্সেনিক এবং বিভিন্ন শিল্প থেকে নির্গত আর্সেনিক যুক্ত জল মাটির জলের সাথে মিশে আর্সেনিকের এই বৃহৎ ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে I উপমহাদেশে মূলতঃ দুই প্রকার আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়, যথা – হলোসিন যুগের সঞ্চয়জাত Grey Micacooles যা অগভীর অংশে পর্যাপ্ত পরিমাণে উপলব্ধ এবং Pleistocene যুগের সঞ্চয়জাত Brown Sand যা গভীর অংশে উপলব্ধ I

The Subcontinent in the Grip of Arsenic

আর্সেনিকের প্রভাব জনজীবনে মারাত্মক I প্রাচীনকালে আর্সেনিক দিয়ে অনেক গুপ্ত রাজার হত্যার খবর জানা যায় I সপ্তদশ থেকে বিংশ শতকে আর্সেনিক আবার রোগ নিরাময়েও ব্যবহার হত I শরীরে 120 থেকে 180 গ্রাম আর্সেনিক প্রবেশ করলে 24 ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু অবধারিত I এই পরিমাণ আর্সেনিককে Acute Toxicity বলে I এই পরিমাণের থেকে কিছু কম পরিমাণ আর্সেনিক Chronic Toxicity নামে পরিচিত I এর প্রভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কালো কালো ছোপের আবির্ভাব ঘটে I Lemont Study অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বছরে 18 জন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এক জন মারা যায় আর্সেনিকের প্রভাবে I 2014 সালের Mailman Study অনুসারে আর্সেনিকের প্রভাবে প্রতি 5 জনের মধ্যে 1 জন মারা যায় I আর্সেনিকের এরূপ মারণ ক্ষমতার জন্য আর্সেনিককে ‘Poison of King’ নামে অভিহিত I আর্সেনিকের Acute মাত্রার বিষক্রিয়ায় 30 মিনিটের মধ্যেই বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে I এবং ক্রনিক বিষক্রিয়ায় (দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিক যুক্ত জল পানের ফলে এরূপ বিষক্রিয়া ঘটে) মানবদেহে শারীরিক গঠনগত ও কার্যগত অস্বাভাবিক পরিবর্তন সাধিত হয় I এর প্রভাবে পাক-অন্ত্র (Gastro-intestinal) প্রভাবিত হয় এবং লক্ষণ হিসাবে পাকস্থলীতে প্রদাহ, তলপেটে যন্ত্রণা অনুভূত হয় I এছাড়া মুখগহ্বর শুকিয়ে যায় ও বমির উদ্রেক ঘটে, ডায়েরিয়ার প্রকোপ বাড়ে এবং মলে রসুনের গন্ধ পাওয়া যায় I আর্সেনিকের প্রভাবে শ্বসন ক্রিয়া ও ফুসফুসও ক্ষতিগ্রস্ত হয় I ফুসফুসীয় রক্ত জালিকার প্রাচীর ক্ষয় হয় এবং শ্বাসক্রিয়া ব্যাহত হয় I আর্সিন গ্যাসের প্রভাবে রক্তে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, কণ্ঠস্বর ভেঙ্গে যায় এবং ফুসফুস প্রদাহ ও অ্যাজমার আবির্ভাব ঘটে I আর্সেনিকের প্রভাবে দেহের ত্বকে চুলকানি, হাত ও পায়ের চামড়ায় কালো দাগ লক্ষ্য করা যায় I চুল উঠে যায় বৃক্ক ক্ষতিগ্রস্থ হয় ও প্রস্রাবের সাথে রক্তকণিকা ও প্রোটিন নির্গত হয় I ক্যান্সারের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায় I অন্যতম প্রধান আর্সেনিক বিশেষজ্ঞ তথা Mailman ও Earth Institute এর Professor pharmacologist Joseph Graziano এর ভাষায় “No organ system goes untouched,” এ থেকেই আর্সেনিকের ভয়াবহতা অতি সহজেই উপলব্ধ I

The Subcontinent in the Grip of Arsenic

​উপমহাদেশে পশ্চিমবঙ্গে সর্বপ্রথম আর্সেনিকের উপস্থিতির কথা জনসমক্ষে আসার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্বাবধানে School of Environment Studies এক Vigorous Research আহ্বান করে এবং 1995 সালে প্রথম আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় I এরপর 1998 সালের ফেব্রুয়ারীতে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে Arsenic of ground water in Bangladesh : Cause effect and remedies শিরোনামে এবং 1999 সালে 12 ই এপ্রিল Aquifer pollution by Arsenic in Bangladesh and West Bengal শিরোনামে পরপর দুটি সেমিনার আয়োজিত হয় I ঐ বছরেই জুন মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জীব ও ভূবিজ্ঞানীদের তত্বাবধানে National workshop on arsenic pollution in Bangladesh : Its cause, effects and mitigation নামক কার্যাবলীতে বিভিন্ন গবেষণাপত্রের আলোকে আর্সেনিক দূষণের প্রভাব এবং তা দূরীকরণের প্রযুক্তির পন্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হয় I 2003, 2-3 March (Calcutta) & 5-6 March (Dhaka) তে The Fifth International India Bangladesh Symposia অনুষ্ঠিত হয় I 16 March 2003 সালে জাপানের কিয়োটো শহরে The Third World Water Forum: Technological and Policy Dimensions of Arsenic Contamination in the Asian Region – Water Supply, Sanitation, Hygiene, and Water Pollution Session, নামক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় I UNICEF এবং World Bank উপমহাদেশে আর্সেনিকের প্রভাব প্রশমনের জন্য গভীর কূপ খননের উপদেশ প্রদান করে I জল থেকে আর্সেনিক নির্গমনের জন্য কয়েকটি পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে যথা :- Iron Exchange, Reverse Osmosis Ceramic Filter, Adsorption on different materials during Fitration ইত্যাদি I এদের মধ্যে প্রথম তিনটি ব্যায়বহুল I চতুর্থ পদ্ধতি অনুসরণ করে আবিষ্কৃত ফিল্টার বর্তমানে বাজারে মেলে I এছাড়া পানীয় জলে আর্সেনিকের মাত্রা হ্রাসের জন্য প্রতি লিটার জলে 0.1 গ্রাম ফটকিরি (Commercial Alum) ব্যবহার করা যায় I আবার ভৌমজলস্তরে আর্সেনিকের প্রবণতা কমাতে উপমহাদেশে তিনটি পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে যথা : Physical or Chemical Remediation, Biological Remediation, এবং Macrobiological Bioremediation ইত্যাদি I এগুলির মধ্যে প্রথম পদ্ধতিতে Oxidation, Precipitation এবং Adsorption and Ionexchange এর মাধ্যমে আর্সেনিকের মাত্রা লাঘব করা যায় I দ্বিতীয় পদ্ধতিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে উদ্ভিদ সংস্থাপন করে আর্সেনিক লঘু করা যায় ইহা একটি ধীর পদ্ধতি; পদ্ধতিগুলি হল Phyto-extraction, Phyto-stabilization, Rhyzo-filtaration, Phyto-volatilization ইত্যাদি I তৃতীয় পদ্ধতিকে সুলভ ও পরিবেশবান্ধব হিসাবে ধরা হয় I ইহা দুটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় যথা – Bio-stimulation Process এবং Bio-augmentation I এছাড়া ভারতে Public Health Engineering Department of State বিভিন্ন স্থানীয় ক্লাব ও NGO এর মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে আর্সেনিক বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে চলেছে I

The Subcontinent in the Grip of Arsenic

​আর্সেনিক বর্তমান শতাব্দীর এক মুহ্যমান আতঙ্ক I জীবজগতের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জীবনধারণের উপাদান জল এর সাথে মিশে রয়েছে এই আতঙ্ক I প্রতিটি জীবদেহেই কিছু পরিমাণ আর্সেনিক প্রাকৃতিক ভাবেই অবস্থিত এর পর বাইরে থেকে এই বিষের যোগান অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে যে উপমহাদেশের জনসংখ্যা নিদারুণ বিপদের সম্মুখে তা বলার অপেক্ষা রাখে না I তাই আর্সেনিক রিক্ত পরিবেশ স্থাপন করতে আমাদের প্রতিটি মুহুর্ত সজাগ থাকতে হবে I গড়ে তুলতে হবে জনসচেতনতা I আর্সেনিক প্রভাবিত প্রতিটি জেলা ব্লক এমনকি গ্রামের পাড়ায় ছড়িয়ে দিতে হবে সচেতনতার আলো I কোন স্থানের পানীয় জলে আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়লে তা স্থানীয় স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানাতে হবে I নূতন কূপ/নলকূপ খননের সময় অবশ্যই জলে আর্সেনিকের উপস্থিতির মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে তবেই তা পান করা বাঞ্ছনীয় I নিজের একটু সচেতনতা নিজেকে এবং অপরকে সুস্থ জীবন দিতে যেখানে সক্ষম সেখানে সচেতনতা অর্জনে যেন কৃপণতা না থাকে I পরিশেষে বলতেই হয় একবিংশ শতকের পরিবেশগত সমস্ত সমস্যার মোকাবিলায় একমাত্র এবং এক অভ্রান্ত পদক্ষেপ ‘বৃক্ষ রোপণ’ এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হওয়ার নয় I ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ পালন করার সাথে সাথেই আমাদের চারপাশে ঐক্যবদ্ধ ভাবে অরণ্য আচ্ছাদন গড়ে তুলতে হবে I সরকারকে আর্সেনিক প্রভাবিত অঞ্চলে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পানীয় জলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে I প্রতিটি ব্লকে নিরন্তর ভাবে মাটি পরীক্ষা করে তাতে আর্সেনিকের উপস্থিতির পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে, সম্ভব হলে প্রতিটি স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঐ অঞ্চলের আর্সেনিক মানচিত্র টাঙিয়ে রাখতে হবে যাতে মানুষ তার অঞ্চলের পানীয় জলে আর্সেনিকের মান সম্পর্কে অবহিত হতে পারে I মনে রাখতে হবে আজকের কর্ম আগামী দিনের ফলের আধার, তাই সুস্থ জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলের অপচয় রোধ করে এবং ‘জল ধরো জল ভরো’ প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করে ভৌমজলস্তর বৃদ্ধি করতে পারলে আর্সেনিকের প্রভাবও কিছুটা কমবে বলে আশা রাখা যায় I.   The Subcontinent in the Grip of Arsenic

➣ Read in Hindi                                                                                                ➣Read in English


​The Subcontinent in the Grip of Arsenic

➣মাধ্যমিক 2027 – সব বিষয়ের মডেল প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পড়তে ক্লিক/টাচ করুন

➣দেখুন : SLST Geography Mega Preparation

➣দেখুন: আপার প্রাইমারি TET পরীক্ষা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣পড়ুন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী’র গল্প 

➣দেখুন : অঙ্গনওয়াড়ি পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣দেখুন : গ্রাম পঞ্চায়েত পরীক্ষা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣দেখুন : WBP পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣দেখুন : ANM & GNM পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣ দেখুন : প্রাথমিক TET পরীক্ষার মহা প্রস্তুতি

➣পড়ুন : স্ট্যাটিক GK নির্যাস

➣পড়ুন : কুইজ ক্যাপসুল নির্যাস

➣দেখুন: WB SCC Group C & D পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣ দেখুন : Central TET – CTET


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading