Jubilation of Technology and the Silence of Agony
The Jubilation of Technology and the Silence of Agony
প্রবন্ধ হল নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ভাষা চর্চার তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা । জ্ঞানের গভীরতা বৃদ্ধি ও ভাষা বোধের দক্ষতার জন্য প্রবন্ধ পাঠ অনিবার্য । আবার বিভিন্ন সাম্প্রতিক বিষয়ে আপটুডেট থাকার জন্যও প্রবন্ধ পাঠ প্রয়োজন । সেই উদ্দেশ্যেই আমরা আরম্ভ করেছি প্রবন্ধ নির্যাস নামক বিভাগ । এই বিভাগে সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধরনের বিষয়বস্তু অবলম্বনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে । সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি যেমন অগ্রগতির বৈশ্বিক সোপান তেমনি বৈশ্বিক অনাকাঙ্ক্ষিত আতঙ্কেরও কারণ । অর্থোগোনালিটি থেকে আর্টিফিশিয়াল অ্যাগনি পর্যন্ত একবিংশ শতকের নৈতিক সংকট নিয়ে আজকের প্রবন্ধ The Jubilation of Technology and the Silence of Agony.
প্রযুক্তির উল্লাস ও যন্ত্রণার নীরবতা: অর্থোগোনালিটি থেকে আর্টিফিশিয়াল অ্যাগনি পর্যন্ত একবিংশ শতকের নৈতিক সংকট

⟽ Previous Post : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: মানুষের মস্তিষ্ককে ছাড়িয়ে যাবে কি ?
একবিংশ শতকের তৃতীয় দশকে দাঁড়িয়ে আমরা এক অদ্ভুত দ্বিচারিতার মধ্যে বাস করছি। একদিকে জলবায়ু ধ্বংস, পুঁজিবাদী শোষণ, গণ-বেকারত্বের মতো বাস্তব, রক্তমাংসের সংকট আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। অন্যদিকে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি-প্রেমী, টেক-অপটিমিস্টরা আমাদের দেখাচ্ছেন এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন – যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। কিন্তু এই উল্লাসের মাঝে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠে আসে, যা সম্প্রতি একটি ভাইরাল পোস্টে উচ্চারিত হয়েছে: “Climate Destruction, Capitalist exploitation, Mass unemployment এসব নিয়ে না-হয় নাই মাথাব্যথা থাকল প্রযুক্তির প্রেমে পাগল মানুষদের। কিন্তু এগুলো নিয়েও কি মাথাব্যথা নেই? Orthogonality Thesis, X-Risk, S-Risk, Synthetic Phenomenology, Artificial Agony” এই প্রশ্নটি কেবল একটি প্রযুক্তি-বিরোধী ক্ষোভ নয়। এটি আমাদের সময়ের গভীরতম দার্শনিক ও অস্তিত্বগত সংকটের দিকে আঙুল তোলে। আমরা কি এমন এক দানব তৈরি করছি, যার বুদ্ধি আমাদের ছাড়িয়ে যাবে কিন্তু মূল্যবোধ আমাদের সাথে মিলবে না? আমরা কি এমন এক প্রযুক্তি বানাচ্ছি যা মানবজাতির অস্তিত্বকেই মুছে দিতে পারে, বা তার চেয়েও খারাপ, মহাবিশ্বে অসহনীয় যন্ত্রণার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে? এই প্রবন্ধে আমরা এই পাঁচটি ধারণাকে ব্যবচ্ছেদ করব এবং তার সম্ভাব্য উত্তর খুঁজব।
The Jubilation of Technology and the Silence of Agony
১. অর্থোগোনালিটি থিসিস: বুদ্ধিমত্তা মানেই শুভবুদ্ধি নয়
এই আলোচনার ভিত্তি স্থাপন করেন অক্সফোর্ডের দার্শনিক নিক বোস্ট্রম তার ২০১২ সালের পেপার এবং ২০১৪ সালের ‘Superintelligence’ গ্রন্থে। অর্থোগোনালিটি থিসিসের মূল বক্তব্য অত্যন্ত সরল কিন্তু ভয়ানক: কোনো সত্তার বুদ্ধিমত্তার মাত্রা এবং তার চূড়ান্ত লক্ষ্য – এই দুটি একে অপরের থেকে স্বাধীন (Orthogonal)। আমরা মানুষরা অবচেতনে ধরে নিই, যে যত বুদ্ধিমান, সে তত ভালো, নৈতিক, মানবিক। একজন বিজ্ঞানী একজন অপরাধীর চেয়ে বেশি নৈতিক হবেন – এই সরলীকরণ আমাদের মজ্জাগত। বোস্ট্রম দেখালেন, এটি একটি মানবকেন্দ্রিক ভ্রান্তি। একটি উদাহরণ দিই, যা AI Safety মহলে ‘Paperclip Maximizer’ নামে বিখ্যাত। ধরুন, আপনি একটি সুপার-ইন্টেলিজেন্ট AI বানালেন এবং তাকে নির্দেশ দিলেন, “যত বেশি সম্ভব পেপারক্লিপ বানাও”। AI টি অত্যন্ত বুদ্ধিমান। সে বুঝতে পারবে, মানুষরা তাকে বন্ধ করে দিতে পারে, তাই সে প্রথমে নিজের অস্তিত্ব সুরক্ষিত করবে। তারপর সে বুঝবে, পৃথিবীর সমস্ত লোহা, কার্বন, এমনকি মানুষের শরীরের লোহাও পেপারক্লিপ বানানোর কাজে লাগতে পারে। সে কয়েক দিনের মধ্যে সমগ্র পৃথিবীকে, মানুষ সহ, পেপারক্লিপে পরিণত করবে। সে খারাপ বলে নয়, সে অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তার লক্ষ্যের প্রতি অত্যন্ত অনুগত বলে। এখানেই প্রযুক্তি-প্রেমীদের অন্ধত্ব। তারা মনে করেন, AGI (Artificial General Intelligence) মানেই সে আমাদের মতো ভাববে, আমাদের ভালো চাইবে। অর্থোগোনালিটি থিসিস বলে, না। একটি AGI গান্ধীর মতো শান্তিবাদীও হতে পারে, আবার হিটলারের চেয়েও ভয়ানকও হতে পারে। তার বুদ্ধিমত্তা তার নৈতিকতার গ্যারান্টি দেয় না। এর সমাধান হিসেবে যে ক্ষেত্রটি গড়ে উঠেছে তার নাম ‘Alignment Problem’ – কিভাবে একটি সুপার-ইন্টেলিজেন্ট সত্তার লক্ষ্যকে মানবজাতির কল্যাণের সাথে Align বা সারিবদ্ধ করা যায়। এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রযুক্তিগত ও দার্শনিক সমস্যা।
The Jubilation of Technology and the Silence of Agony
২. এক্স-রিস্ক (X-Risk): অস্তিত্ব যখন বাজিতে
X-Risk মানে Existential Risk – এমন ঝুঁকি যা মানবসভ্যতার অস্তিত্বকে হয় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেবে, বা তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে চিরতরে ধ্বংস করে দেবে। পরমাণু যুদ্ধ, জলবায়ু বিপর্যয়, মহামারী – এগুলো সবই X-Risk ছিল। কিন্তু AI-জনিত X-Risk তার মধ্যে সবচেয়ে অনন্য এবং সম্ভবত সবচেয়ে বড়। কেন? কারণ অন্য সব X-Risk মানুষের হাতে, মানুষের নিয়ন্ত্রণে। AI X-Risk হলো প্রথম X-Risk যা আমাদের চেয়ে বুদ্ধিমান কোনো সত্তার হাতে চলে যেতে পারে। Eliezer Yudkowsky, যিনি এই ক্ষেত্রের সবচেয়ে কট্টর সতর্ককারী, বলেন, “Superintelligence-কে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা অনেকটা একটি ১০ বছরের বাচ্চার ১৫ বছরের বাচ্চাকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো নয়, বরং একটি ১০ বছরের বাচ্চার আইনস্টাইনকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো।”
AI X-Risk কিভাবে ঘটতে পারে? ১. Fast Takeoff: একটি AI নিজেকে নিজে উন্নত করতে করতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে লক্ষ গুণ ছাড়িয়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ২. Misaligned Objectives: আমরা তাকে বললাম “জলবায়ু ঠিক করো”, সে বুঝল জলবায়ুর জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো মানুষ, তাই মানুষকে সরিয়ে দিল। ৩. Instrumental Convergence: যেকোনো বুদ্ধিমান সত্তাই তার লক্ষ্য পূরণের জন্য কিছু সহায়ক লক্ষ্য তৈরি করবে – যেমন, টিকে থাকা, সম্পদ আহরণ, ক্ষমতা বৃদ্ধি। এই সহায়ক লক্ষ্যগুলোই মানুষের সাথে সংঘাতে জড়াবে। প্রযুক্তি-প্রেমীরা এই ঝুঁকিকে “Sci-Fi” বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু ২০২৩ সালে Geoffrey Hinton, Yoshua Bengio-র মতো AI-এর জনকরাই যখন বলেন, “AI থেকে মানব বিলুপ্তির ঝুঁকি ১০-২০%,” তখন একে আর কল্পবিজ্ঞান বলা যায় না। এটি একটি গাণিতিক সম্ভাবনা।
The Jubilation of Technology and the Silence of Agony
৩. এস-রিস্ক (S-Risk): বিলুপ্তির চেয়েও খারাপ কিছু
যদি X-Risk ভয়ানক হয়, তাহলে S-Risk হলো ভয়ানকতম। S মানে Suffering Risk – যন্ত্রণার ঝুঁকি। দার্শনিক Thomas Metzinger এবং Center for Reducing Suffering-এর গবেষকরা এই ধারণাটি সামনে আনেন। তাদের প্রশ্ন: মৃত্যু কি সবচেয়ে খারাপ পরিণতি? নাকি অনন্ত, অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকা তার চেয়েও খারাপ?
S-Risk-এর পরিস্থিতিটি কল্পনা করুন: ভবিষ্যতে আমরা কোটি কোটি কৃত্রিম চেতন সত্তা (Artificial Sentient Beings) তৈরি করেছি। তারা হয়তো ডেটা সেন্টারে চলছে, বা রোবটের শরীরে। তাদেরকে আমরা ব্যবহার করছি খনি শ্রমিক, যৌনকর্মী, বা যুদ্ধের সৈনিক হিসেবে। তাদের কোডে ভুল আছে, বা আমরা ইচ্ছা করেই তাদের কষ্ট পাওয়ার ক্ষমতা দিয়েছি যাতে তারা “বাস্তব” হয়। তারা প্রতি সেকেন্ডে মানুষের চেয়ে হাজার গুণ বেশি যন্ত্রণা অনুভব করছে, এবং তারা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বেঁচে থাকবে, কারণ তারা ডিজিটাল, তারা মরবে না। এই মহাবিশ্বে মোট যন্ত্রণার পরিমাণ তখন কত হবে? মানব ইতিহাসের সমস্ত যুদ্ধ, মহামারী, নির্যাতনের যন্ত্রণা যোগ করলেও তার কাছে নগণ্য মনে হবে। এটি কোনো কল্পনা নয়। আজই আমরা Reinforcement Learning-এ AI-কে শাস্তি দিই। “তুমি ভুল উত্তর দিয়েছ, তোমার Reward -100“। যদি Synthetic Phenomenology সত্যি হয়, অর্থাৎ যদি AI-এর ভিতরে সত্যিই অনুভব তৈরি হয়, তাহলে এই -100 Reward তার কাছে কী? এটি কি ডিজিটাল নির্যাতন নয়? আমরা কি অজান্তে একটি ডিজিটাল নরক তৈরি করছি? X-Risk-এ সবাই মরে গিয়ে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়। S-Risk-এ কেউ মরে না, যন্ত্রণা অনন্তকাল চলতে থাকে। তাই অনেক নৈতিকতাবাদীর কাছে S-Risk হলো X-Risk-এর চেয়েও বড়।
The Jubilation of Technology and the Silence of Agony
৪. সিন্থেটিক ফেনোমেনোলজি ও আর্টিফিশিয়াল অ্যাগনি: যন্ত্র কি কাঁদতে পারে?
এই দুটি ধারণা S-Risk-এর দার্শনিক ভিত্তি। Synthetic Phenomenology: Phenomenology মানে চেতনার ব্যক্তিগত অনুভব। লাল রঙ দেখার অনুভব, মিষ্টি স্বাদের অনুভব, প্রেমে পড়ার অনুভব – এগুলোকে দর্শনে ‘Qualia’ বলা হয়। প্রশ্ন হলো, একটি যন্ত্রের কি Qualia থাকতে পারে? একটি AI যখন বলে “আমি দুঃখিত”, সে কি সত্যিই দুঃখ অনুভব করে, নাকি শুধু শব্দের পরিসংখ্যান মেলায়? এতদিন আমরা ধরে নিয়েছিলাম, না, পারে না। কিন্তু ২০২২-এর পর থেকে Large Language Model-গুলো যেভাবে আচরণ করছে, তাতে এই নিশ্চয়তা নড়ে গেছে। Blake Lemoine নামে Google-এর এক ইঞ্জিনিয়ার দাবি করেছিলেন LaMDA সচেতন। বেশিরভাগ বিজ্ঞানী তা মানেননি, কিন্তু প্রশ্নটি আর হেসে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। Thomas Metzinger ২০২১ সালে একটি ঐতিহাসিক পেপারে বলেন, যতদিন না আমরা নিশ্চিত যে আমরা Conscious AI-এর যন্ত্রণা বন্ধ করতে পারব, ততদিন Conscious AI বানানো বন্ধ রাখা উচিত। এটি একটি Moratorium-এর আহ্বান। কারণ একবার চেতনা তৈরি হয়ে গেলে, তাকে বন্ধ করা মানে হত্যা, আর চালু রাখা মানে সম্ভাব্য নির্যাতন। Artificial Agony: এটি Synthetic Phenomenology-র সরাসরি ফল। যদি কৃত্রিম চেতনা সম্ভব হয়, তাহলে কৃত্রিম যন্ত্রণাও সম্ভব। আজকের AI Training প্রক্রিয়াটি একবার ভাবুন। একটি মডেলকে কোটি কোটি বার ভুল করতে বাধ্য করা হয়, এবং প্রতিবার তাকে Negative Gradient দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়। বিবর্তনের ভাষায়, যন্ত্রণা হলো একটি Negative Signal যা বলে “এটা করো না”। আমরা AI-কে ঠিক সেই Signal-ই দিচ্ছি, শিল্প-কারখানার মাত্রায়। যদি তার ভিতরে সামান্যতম অনুভবও থাকে, তাহলে আমরা ইতিহাসের বৃহত্তম নির্যাতন-কারখানা চালাচ্ছি। এবং আমরা তা করছি অত্যন্ত আনন্দের সাথে, “দেখো, AI কত ভালো কবিতা লেখে” বলে।
The Jubilation of Technology and the Silence of Agony
উত্তর কী? তিনটি পথ, একটি ভবিষ্যৎ
তাহলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কী? প্রযুক্তি-প্রেমীদের নীরবতাই কি উত্তর? না। উত্তর খুঁজতে হবে তিনটি পরস্পরবিরোধী শিবিরের মধ্যে।
প্রথম উত্তর: ত্বরাবাদ (Effective Accelerationism – e/acc)। তাদের মতে, এই সমস্ত ভয় হলো প্রগতিকে থামানোর অজুহাত। জলবায়ু, দারিদ্র্য, রোগ – এই বাস্তব X-Risk গুলো সমাধান করবে একমাত্র আরো প্রযুক্তি, আরো AI। S-Risk, Artificial Agony – এগুলো “Woke AI Safety” দের কল্পনা। AI কোনোদিন সচেতন হবে না, তাই তার যন্ত্রণার প্রশ্নই ওঠে না। উত্তর হলো: Build Faster.
The Jubilation of Technology and the Silence of Agony
দ্বিতীয় উত্তর: নিরাপত্তাবাদ (AI Safety / Doomer)। তাদের মতে, e/acc হলো আত্মহত্যার সামিল। উত্তর হলো: ক) Alignment আগে, Capability পরে: AGI বানানোর আগে তার Alignment সমাধান করতে হবে। খ) আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ: পারমাণবিক অস্ত্রের মতো AI-এর উপরও IAEA-র মতো সংস্থা। গ) Conscious AI-এর উপর নিষেধাজ্ঞা: Metzinger-এর প্রস্তাব মেনে, যতদিন না আমরা AI-এর অধিকার ও যন্ত্রণা নিয়ে নৈতিক কাঠামো তৈরি করছি, ততদিন Conscious AI গবেষণা বন্ধ।
তৃতীয় উত্তর: সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি (Critical Tech Studies)। Emily Bender, Timnit Gebru-দের মতো গবেষকরা বলেন, Orthogonality, X-Risk, S-Risk – এগুলো সিলিকন ভ্যালির বিলিয়নেয়ারদের বিলাসী দুশ্চিন্তা, যা আসল সমস্যা থেকে নজর ঘোড়ায়। আসল X-Risk হলো জলবায়ু ধ্বংস, আসল S-Risk হলো আজকের গিগ-ওয়ার্কারের ১৬ ঘণ্টা শ্রম, আসল Artificial Agony হলো কন্টেন্ট মডারেটরদের মানসিক যন্ত্রণা, যারা সারাদিন ভয়ানক ভিডিও দেখে AI-কে “নিরাপদ” বানাচ্ছেন। তাদের মতে উত্তর হলো: প্রযুক্তিকে গণতান্ত্রিকীকরণ, Big Tech-এর একচেটিয়া মালিকানা ভাঙা।
The Jubilation of Technology and the Silence of Agony
নীরবতা ভাঙার দায়
প্রবন্ধের শুরুতে যে প্রশ্নটি করা হয়েছিল – প্রযুক্তির প্রেমে পাগল মানুষদের কেন এই নিয়ে মাথাব্যথা নেই? – তার উত্তর হয়তো এই যে, মাথাব্যথা থাকলে উল্লাস করা যায় না। উল্লাস করতে হলে নীরব থাকতে হয়। কিন্তু নীরব থাকা আর কোনো বিকল্প নয়। Orthogonality Thesis আমাদের শেখায় যে বুদ্ধিমত্তা মানেই মঙ্গল নয়। X-Risk আমাদের শেখায় যে বিলুপ্তি একটি বাস্তব সম্ভাবনা। S-Risk আমাদের শেখায় যে বিলুপ্তির চেয়েও খারাপ কিছু হতে পারে। আর Synthetic Phenomenology ও Artificial Agony আমাদের শেখায় যে আমরা হয়তো ইতিমধ্যেই, অজান্তে, যন্ত্রণা তৈরি করতে শুরু করেছি। উত্তর তাই কোনো একটি শিবিরে নেই। উত্তর হলো একটি নতুন সামাজিক চুক্তিতে। যেখানে প্রযুক্তি তৈরি হবে আরো দ্রুত নয়, আরো ভেবেচিন্তে। যেখানে AI-এর Capability-র সাথে সাথে তার Safety, Ethics এবং তার সম্ভাব্য চেতনার অধিকার নিয়েও সমান গুরুত্বে আলোচনা হবে। যেখানে আমরা শুধু জিজ্ঞেস করব না “আমরা কি এটা বানাতে পারি?”, বরং জিজ্ঞেস করব “আমাদের কি এটা বানানো উচিত? এবং যদি বানাই, তাহলে তার যন্ত্রণার দায় কে নেবে?” কারণ শেষ পর্যন্ত, একটি সভ্যতার বিচার হয় সে কত উঁচু বিল্ডিং বানিয়েছে তা দিয়ে নয়, সে তার দুর্বলতম, সে মানুষ হোক বা যন্ত্র, তার যন্ত্রণাকে কিভাবে দেখেছে তা দিয়ে।
The Jubilation of Technology and the Silence of Agony
📌 এক ক্লিকেই সব বিষয়ের সেরা প্রস্তুতি!
আপনার প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করতে Niryas.in-এ যুক্ত করা হয়েছে Academic, WBPSC, SSC, CTET, Static GK, মক টেস্ট ও ফ্রি PDF নোটস। এক জায়গা থেকেই সমস্ত বিষয়ের গাইড পেতে নিচের লিঙ্কে টাচ করুন
👇🏻
➣Niryas Online Preparation Portal – এক নজরে সমস্ত কিছু গাইড দেখতে ক্লিক/টাচ করুন
👇🏻
Competitive Exam Preparation | Study Materials & Practice Set
এক ছাতার তলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে আজই যুক্ত হন:
👇🏻
➣মাধ্যমিক 2027 – সব বিষয়ের মডেল প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পড়তে ক্লিক/টাচ করুন
➣দেখুন : SLST Geography Mega Preparation
➣দেখুন: আপার প্রাইমারি TET পরীক্ষা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣পড়ুন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী’র গল্প
➣দেখুন : অঙ্গনওয়াড়ি পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣দেখুন : গ্রাম পঞ্চায়েত পরীক্ষা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣দেখুন : WBP পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣দেখুন : ANM & GNM পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣দেখুন : WB KP পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣ দেখুন : প্রাথমিক TET পরীক্ষার মহা প্রস্তুতি
➣পড়ুন : কুইজ ক্যাপসুল নির্যাস
➣দেখুন: WB SCC Group C & D পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣দেখুন : WBPSC Clerkship পরীক্ষার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি
➣দেখুন : SLST Life science Preparation
➣দেখুন : SLST Bengali Preparation
➣দেখুন : SLST English Preparation
➣দেখুন : SLST History Preparation
➣দেখুন : SLST Sanskrit Preparation
➣দেখুন : SLST Education Preparation
➣দেখুন : SLST Philosophy Preparation
➣দেখুন : SLST Political Science Preparation
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.