Madhyamik Bengali Model Answers-3/2
Madhyamik Bengali Model Answers-3
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? বাংলা (প্রথম ভাষা) বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক বাংলা (প্রথম ভাষা) Madhyamik Bengali Model Answers-3 (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৭টি MCQ, ১৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন, ব্যাকরণ, নির্মিতি এবং রচনা সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Bengali Model Answers-3

বাংলা (প্রথম ভাষা)
(Part-2)
৫. ৫. অনধিক 400 শব্দে যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (10)
৫.১ বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ :
ভূমিকা: বন ও বন্যপ্রাণী প্রকৃতির অমূল্য দান, সভ্যতার আদি আশ্রয়। মানুষ যখন গুহাবাসী ছিল, তখন থেকেই বন তাকে খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয় দিয়েছে। তাই বলা হয়, বনই প্রাণের আঁতুড়ঘর। আধুনিক বিজ্ঞানে বনকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়, কারণ বন যেমন আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন জোগায়, তেমনি পরিবেশের দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখে। বন ও বন্যপ্রাণী একে অপরের পরিপূরক; একটি ছাড়া অন্যটি বাঁচতে পারে না।
বন ও বন্যপ্রাণীর প্রয়োজনীয়তা: বনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। প্রথমত, বন অক্সিজেনের ভাণ্ডার। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে প্রায় ২৬০ পাউন্ড অক্সিজেন উৎপাদন করে। দ্বিতীয়ত, বন বৃষ্টি আনে। গাছ বাষ্পীভবনের মাধ্যমে মেঘ সৃষ্টিতে সাহায্য করে, ফলে নিয়মিত বৃষ্টিপাত হয়। তৃতীয়ত, বন মাটির ক্ষয় রোধ করে ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে। গাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে ভূমিধস ও বন্যা কম হয়।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও বন অপরিহার্য। বন থেকে আমরা কাঠ, ফল, মধু, লাক্ষা, রজন, ভেষজ ওষুধ পাই। বহু আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবিকা আজও বনের ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বাঘ, সিংহ বনের খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থেকে তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে। হাতি, হরিণ, বানর বীজ ছড়িয়ে নতুন বন সৃষ্টিতে সাহায্য করে। পাখি, মৌমাছি, প্রজাপতি পরাগসংযোগ ঘটিয়ে ফসল উৎপাদন বাড়ায়। শকুন, শিয়াল প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে মৃতদেহ পরিষ্কার করে রোগের বিস্তার রোধ করে। বাঘ, ময়ূর, হাতি, হরিণ শুধু পরিবেশের অংশ নয়, এরা আমাদের প্রকৃতির শোভা ও জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক।
ধ্বংসের কারণ ও তার ভয়াবহ পরিণতি: কিন্তু দুঃখের বিষয়, মানুষ নিজের লোভ ও স্বার্থে এই অমূল্য সম্পদ ধ্বংস করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ, শিল্পায়ন, চাষের জমি তৈরির জন্য নির্বিচারে বন কাটা হচ্ছে। কাঠের লোভে ও চোরাশিকারের কারণে প্রতিদিন বন্যপ্রাণী হত্যা করা হচ্ছে। বাঘের চামড়া, হাতির দাঁত, গণ্ডারের খড়গের লোভে শিকারিরা তাদের মেরে ফেলছে।
এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। বন উজাড়ের ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়ছে, জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। অসময়ে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় বেড়ে চলেছে। মাটির উর্বরতা কমছে, মরুকরণ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ডোডো পাখি, এশিয়াটিক চিতা ভারত থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, একশৃঙ্গ গণ্ডার, সিংহ আজ বিপন্ন প্রজাতির তালিকায়।
সংরক্ষণের উপায়: এই ধ্বংস রোধে এখনই সংরক্ষণ জরুরি। এর জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে:
১. বৃক্ষরোপণ: “একটি গাছ, একটি প্রাণ” – এই মন্ত্রে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং সামাজিক বনসৃজন করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
২. শিকার বন্ধ ও কঠোর আইন: বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ১৯৭২ কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
৩. অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান রক্ষা: সুন্দরবন (বাঘের জন্য), জলদাপাড়া ও গরুমারা (গণ্ডারের জন্য), কাজিরাঙা (একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য), গির (সিংহের জন্য) – এই অভয়ারণ্যগুলিকে আরও সুরক্ষিত করতে হবে এবং বনকর্মীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
৪. জনসচেতনতা: মানুষকে বোঝাতে হবে – বন বাঁচলে তবেই মানুষ বাঁচবে। স্কুল, কলেজ, গ্রামে-গঞ্জে সচেতনতা শিবির, প্রচার, বন-মহোৎসব পালন করতে হবে।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, বন ও বন্যপ্রাণী আমাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। বন ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব কল্পনাই করা যায় না। কবি বলেছেন, “দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর”। তাই নগরসভ্যতার অহংকার ভুলে আমাদের প্রকৃতির কাছে ফিরতেই হবে। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কোনো সরকারি প্রকল্প নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক কর্তব্য ও বেঁচে থাকার শর্ত।
Madhyamik Bengali Model Answers-3
৫.২ আমার দেখা একটি ঐতিহাসিক স্থান – মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি প্রাসাদ
ভূমিকা: ইতিহাস হলো অতীতের আয়না। আর ঐতিহাসিক স্থান হলো সেই আয়নায় নিজের মুখ দেখা। বইয়ের পাতায় ইতিহাস পড়ে যে রোমাঞ্চ জাগে না, একটি ঐতিহাসিক স্থানে দাঁড়ালে তার হাজার গুণ বেশি অনুভূতি হয়। গত বছর পূজার ছুটিতে আমার দেখা এমনই একটি ঐতিহাসিক স্থান হলো মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি প্রাসাদ। ইতিহাসের গন্ধমাখা সেই ভ্রমণের স্মৃতি আজও আমার মনে অমলিন।
যাত্রা ও প্রথম দর্শন: আমরা আসানসোল থেকে ট্রেনে মুর্শিদাবাদ গিয়েছিলাম। স্টেশন থেকে টোটো নিয়ে যখন হাজারদুয়ারির সামনে পৌঁছলাম, তখন সকাল দশটা। দূর থেকে দেখলাম, ভাগীরথী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল, হলুদ রঙের এক প্রাসাদ, যার গম্বুজগুলো রোদে ঝলমল করছে। গেট দিয়ে ঢুকতেই বিশাল মাঠ, আর তার মাঝে কামান। শুনলাম এর নাম বাচ্চাওয়ালি কামান। কথিত আছে, এই কামান একবারই ফাটানো হয়েছিল, আর তাতেই গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত হয়ে গিয়েছিল, তাই এর এই নাম।
প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, আমি যেন টাইম মেশিনে করে দুশো বছর পিছিয়ে গেছি। গাইড বললেন, এই প্রাসাদে নাকি আসলে ১০০০ টা দরজা আছে, কিন্তু এর মধ্যে ১০০ টা নকল! চোর-ডাকাত এলে যাতে বিভ্রান্ত হয়, তাই এই ব্যবস্থা। তাই এর নাম হাজারদুয়ারি। আমার তো শুনেই উত্তেজনা দ্বিগুণ হয়ে গেল।
প্রাসাদের ভেতরে – ইতিহাসের গর্ভগৃহ: টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকলাম। ভেতরটা আজ মিউজিয়াম। ১৮৩৭ সালে নবাব নাজিম হুমায়ুন জাহের জন্য এই প্রাসাদটি তৈরি করেন বিখ্যাত স্থপতি ডানকান ম্যাকলিওড। প্রাসাদটি তৈরি করতে প্রায় ১৬ লক্ষ সোনার টাকা খরচ হয়েছিল।
ভেতরে যা দেখলাম, তা ভোলার নয়:
১. দরবার হল: বিশাল ঝাড়বাতি, যা নবাবকে ইংল্যান্ডের রানি দিয়েছিলেন। এটি ১৮ ফুট উঁচু, ১০০ টির বেশি মোমবাতি একসঙ্গে জ্বলত।
২. অস্ত্রাগার: সিরাজ-উদ-দৌলার তরবারি, মিরজাফরের ছোরা, নবাবদের ব্যবহৃত বন্দুক, কামান, ঢাল-তলোয়ার সাজানো। সেই তরবারিগুলো দেখে মনে হচ্ছিল, এগুলো দিয়েই একদিন বাংলার ভাগ্য লেখা হয়েছিল।
৩. চিত্রশালা: নবাবদের তৈলচিত্র, সিরাজের ঘোড়ার জিন, হাতির দাঁতের পালকি।
৪. লাইব্রেরি: আরবি, ফারসি, ইংরেজি বইয়ের দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহ, যার মধ্যে একটি কোরান শরিফ আছে যার ওজন প্রায় ২০ কেজি।
সবচেয়ে অবাক লাগল গ্রন্থাগারের আয়নাটি দেখে। এটি এমন কোণে বসানো যে, বাইরে থেকে কেউ ভেতরে ঢুকলে নবাব আয়নাতেই তাকে দেখতে পেতেন।
ইতিহাসের অনুভূতি: হাজারদুয়ারি শুধু একটি প্রাসাদ নয়, এটি বাংলার শেষ স্বাধীনতার সাক্ষী। এই মুর্শিদাবাদেই পলাশীর প্রান্তরে ১৭৫৭ সালে সিরাজ-উদ-দৌলার পতন হয়েছিল, আর তার পর থেকেই বাংলায় ইংরেজ শাসনের শুরু। এই প্রাসাদের প্রতিটি ইট, প্রতিটি নকল দরজা যেন সেই বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র আর বিলাসিতার গল্প ফিসফিস করে বলে। ভাগীরথীর দিকে তাকিয়ে মনে হলো, এই নদীই কত উত্থান-পতন দেখেছে।
উপসংহার: বিকেলে যখন প্রাসাদ থেকে বেরোলাম, মনটা ভারাক্রান্ত। আমরা ইতিহাস থেকে কী শিখলাম? মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা আজও আমাদের সমাজে প্রাসঙ্গিক। হাজারদুয়ারি আমাদের শেখায়, বাহ্যিক জাঁকজমক দিয়ে দেশ রক্ষা হয় না, রক্ষা হয় ঐক্য ও দেশপ্রেম দিয়ে।
তাই আমার দেখা এই ঐতিহাসিক স্থানটি শুধু ভ্রমণ নয়, এটি একটি শিক্ষা। সরকার এই ঐতিহ্যকে সুন্দরভাবে রক্ষা করেছে। প্রত্যেক ছাত্রের উচিত একবার হলেও হাজারদুয়ারি দেখে আসা। কারণ বইয়ে পড়া ইতিহাসকে চোখের সামনে জীবন্ত দেখার আনন্দই আলাদা।
Madhyamik Bengali Model Answers-3
৫.৩ দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান
ভূমিকা: আজকের সভ্যতা বিজ্ঞানের সভ্যতা। বিজ্ঞান ছাড়া আমাদের জীবনের একটি মুহূর্তও কল্পনা করা যায় না। ঘুম থেকে উঠে আবার ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত আমরা বিজ্ঞানের ঘেরাটোপে বন্দি, বরং বলা ভালো বিজ্ঞানের আশীর্বাদে ধন্য। প্রাচীনকালে মানুষ প্রকৃতির কাছে অসহায় ছিল, কিন্তু বিজ্ঞান মানুষকে প্রকৃতির দাস থেকে প্রভুতে পরিণত করেছে। তাই রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, সাহিত্য দিয়েছে আবেগ।” আমাদের দৈনন্দিন জীবন সেই বেগের ওপরই চলছে।
সকাল থেকে রাত – বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: আমাদের দিন শুরু হয় বিজ্ঞানের হাত ধরেই। সকালে ঘুম ভাঙে অ্যালার্ম ঘড়ি বা মোবাইলের অ্যালার্মে। এটি বিজ্ঞানের দান। তারপর দাঁত মাজা থেকে শুরু করে টুথপেস্ট, ব্রাশ, সাবান, শ্যাম্পু – সবই রসায়ন বিজ্ঞানের অবদান। গিজারের গরম জলে স্নান, প্রেসার কুকারে ভাত-ডাল রান্না, গ্যাসের উনুন, মিক্সার-গ্রাইন্ডার, ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণ – রান্নাঘরটাই যেন একটি বিজ্ঞানাগার।
ঘর থেকে বেরোলেই বিজ্ঞান। আগে মানুষ পায়ে হেঁটে বা গরুর গাড়িতে যাতায়াত করত, আজ সাইকেল, বাইক, বাস, ট্রেন, উড়োজাহাজে মুহূর্তে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছি। আমার বাড়ি আসানসোলে, কিন্তু বিজ্ঞানের কল্যাণে ট্রেনে চেপে কয়েক ঘণ্টায় কলকাতা পৌঁছে যাই। যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান এনেছে বিপ্লব। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, WhatsApp, ভিডিও কলের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে কথা বলছি নিমেষে। এই প্রবন্ধটিও আমি মোবাইলে টাইপ করছি, যা বিজ্ঞান ছাড়া অসম্ভব ছিল।
শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিতে বিজ্ঞান: শিক্ষার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। বই ছাপা, প্রজেক্টর, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ইউটিউবের মাধ্যমে ঘরে বসেই বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার আমাদের হাতে। কোভিডের সময় যখন স্কুল বন্ধ ছিল, তখন অনলাইন ক্লাসই আমাদের পড়াশোনা বাঁচিয়ে রেখেছিল।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিজ্ঞান আশীর্বাদস্বরূপ। একসময় কলেরা, বসন্ত, যক্ষ্মার মতো রোগে গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। আজ টিকা, অ্যান্টিবায়োটিক, এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ইসিজি, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সহজ হয়েছে। চোখের ছানি অপারেশন, হার্টের বাইপাস সার্জারি আজ গ্রামের হাসপাতালেও হচ্ছে।
কৃষিতেও বিজ্ঞান এনেছে সবুজ বিপ্লব। উন্নত বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, ট্রাক্টর, পাম্প, আবহাওয়ার পূর্বাভাস – সবই বিজ্ঞানের দান। এর ফলে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে।
বিনোদন ও নিরাপত্তায় বিজ্ঞান: বিনোদনের জগৎ আজ বিজ্ঞানময়। রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা, মোবাইল গেম, ফেসবুক – সবই বিজ্ঞানের উপহার। বৈদ্যুতিক পাখা, এসি, লাইট আমাদের জীবনকে আরামদায়ক করেছে।
বিজ্ঞানের অপব্যবহার – সতর্কতা: তবে বিজ্ঞানের যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি খারাপ দিকও আছে। বিজ্ঞানই পরমাণু বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে পারে। মোবাইল, ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহারে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, চোখ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। কলকারখানার ধোঁয়া, গাড়ির ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ছে। তাই বিজ্ঞানকে আশীর্বাদ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, অভিশাপ হিসেবে নয়। ছুরি দিয়ে ফল কাটা যায়, আবার মানুষ খুনও করা যায় – দোষ ছুরির নয়, ব্যবহারকারীর।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিজ্ঞান ছাড়া আধুনিক জীবন অচল। বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে গতি, শক্তি, আরাম ও দীর্ঘায়ু। তাই বিজ্ঞানকে ভয় না পেয়ে, তাকে সঠিক পথে ব্যবহার করতে হবে। বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানবিক মূল্যবোধ – এই দুয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে সুন্দর আগামীর পৃথিবী। আমাদের শপথ হোক – “বিজ্ঞান হবে মানুষের কল্যাণে, মানুষের ধ্বংসে নয়।”
৫.৪ বাংলার ঋতু বৈচিত্র্য
ভূমিকা: বাংলা ঋতুর দেশ। ষড়ঋতুর এই অপূর্ব লীলাভূমি পৃথিবীর আর কোথাও নেই। ইউরোপে ঋতু মাত্র দুটি – গ্রীষ্ম ও শীত, কিন্তু বাংলায় ছয়টি ঋতু পর্যায়ক্রমে আসে আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – এই ছয় ঋতু যেন ছয়টি ভিন্ন রমণী, যারা দুই মাস করে বাংলার প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে। তাই কবি বলেছেন, “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি।”
গ্রীষ্ম – রুদ্রের ঋতু: বাংলা বছরের প্রথম ঋতু গ্রীষ্ম – বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস। এই সময় সূর্য যেন আগুন ঢালে। মাঠ-ঘাট শুকিয়ে ফেটে যায়, খাল-বিলের জল শুকিয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করে। কিন্তু এই রুদ্র রূপের মধ্যেও মাধুর্য আছে। গ্রীষ্মই ফলের ঋতু। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজে বাজার ভরে ওঠে। আমকে বলা হয় ফলের রাজা। দুপুরে কালবৈশাখীর ঝড় ওঠে – আকাশ কালো করে ধুলো উড়িয়ে আম কুড়ানোর ধুম পড়ে যায়। গ্রীষ্মের এই ঝড়ই বর্ষাকে ডেকে আনে।
বর্ষা – প্রাণের ঋতু: আষাঢ় ও শ্রাবণ – বর্ষাকাল। বাংলার শ্রেষ্ঠ ঋতু। আকাশে ঘন কালো মেঘ, অবিরাম বৃষ্টি। “নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে”। বর্ষায় বাংলার আসল রূপ ফুটে ওঠে। মাঠে-ঘাটে জল থই থই করে, কৃষকরা নতুন ধান রোয়। নদী-নালা ভরে যায়, খাল-বিলে শাপলা ফোটে, মাছেরা খেলা করে। কদম ফুলের মিষ্টি গন্ধে বাতাস মাতোয়ারা হয়। বর্ষা কবিদের প্রিয় ঋতু। রবীন্দ্রনাথ, কালিদাস বর্ষাকে নিয়ে অজস্র কবিতা লিখেছেন। যদিও অতিবৃষ্টিতে বন্যা হয়, তবুও বর্ষা ছাড়া বাংলা মরুভূমি হয়ে যেত।
শরৎ – রূপের ঋতু: ভাদ্র ও আশ্বিন – শরৎকাল। আমার মতে, বাংলার সবচেয়ে সুন্দর ঋতু। বর্ষার পর আকাশ হয়ে যায় গাঢ় নীল, তুলোর মতো সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। মাঠে মাঠে কাশফুল দোলে, শিউলি ফুলের গন্ধে সকাল ভরে ওঠে। শরৎ হলো উৎসবের ঋতু। এই ঋতুতেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা হয়। ঢাকের বাদ্যি, নতুন জামা, আগমনীর সুর – সব মিলিয়ে শরৎ মানেই আনন্দ।
হেমন্ত – ফসলের ঋতু: কার্তিক ও অগ্রহায়ণ – হেমন্তকাল। একে বলা হয় সোনার ঋতু। মাঠে মাঠে পাকা ধান, সোনালি ফসল। কৃষকের মুখে হাসি, গোলা ভরা ধান। এই সময় নবান্ন উৎসব হয় – নতুন চালের পিঠে-পায়েসের উৎসব। সকালে ঘাসের ওপর শিশির পড়ে, হালকা ঠান্ডা পড়তে শুরু করে। হেমন্ত খুব শান্ত, স্নিগ্ধ ঋতু।
শীত – সর্বনাশের মধ্যেও পৌষের ঋতু: পৌষ ও মাঘ – শীতকাল। উত্তরের হিমেল হাওয়া বয়ে আনে শীত। সকালে কুয়াশা, ঘাসে শিশির, খেজুর রসের গন্ধ। শীত হলো পিঠে-পুলি, কমলালেবু ও লেপের ঋতু। গরিব মানুষের জন্য শীত কষ্টের, কিন্তু ধনীদের জন্য আরামের। এই সময় সরস্বতী পূজা, পৌষমেলা হয়। শীতের সকালে আগুন পোহানোর মজাই আলাদা।
বসন্ত – রাজার ঋতু: ফাল্গুন ও চৈত্র – বসন্তকাল। ঋতুরাজ বসন্ত। শীতের জীর্ণতা ঝেড়ে প্রকৃতি নতুন সাজে সাজে। গাছে গাছে নতুন পাতা, কোকিলের কুহু ডাক, আমের মুকুলের গন্ধ, পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুন। বসন্তে বাতাসে প্রেমের পরশ লাগে। দোল, হোলি, বসন্ত উৎসব এই ঋতুতেই হয়। কবির ভাষায়, “ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত।”
উপসংহার: বাংলার এই ঋতু বৈচিত্র্য শুধু প্রকৃতির পরিবর্তন নয়, এটি বাঙালির জীবন, সংস্কৃতি ও মনেরও পরিবর্তন। প্রতি ঋতু আমাদের নতুন ফসল, নতুন ফুল, নতুন উৎসব উপহার দেয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের খাদ্য, পোশাক, উৎসব সব বদলায়। এই বৈচিত্র্যই বাংলাকে করেছে এত সুন্দর, এত প্রাণবন্ত। তাই ঋতু বৈচিত্র্য বাংলার প্রাণ, বাঙালির গর্ব। এই ছয় ঋতুর আবর্তনেই বাংলা চিরনবীন, চিরসুন্দর।
Madhyamik Bengali Model Answers-3
৬. যেকোনো একটি করো: (5)
৬.১ তোমার বিদ্যালয়ে পালিত ‘শিক্ষক দিবস’ নিয়ে প্রতিবেদন
গোগড়া হাই স্কুলে সাড়ম্বরে শিক্ষক দিবস পালন
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া, ৫ সেপ্টেম্বর:
আজ ৫ই সেপ্টেম্বর, শুক্রবার গোগড়া হাই স্কুলে মহাসমারোহে শিক্ষক দিবস পালিত হল। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।
সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা প্রথমে ডঃ রাধাকৃষ্ণণের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে শ্রদ্ধা জানায়। এরপর দশম শ্রেণির ছাত্র অমিত মণ্ডল শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বক্তৃতা দেয় এবং অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পায়েল দত্ত ‘শিক্ষক’ বিষয়ে একটি স্বরচিত কবিতা পাঠ করে।
বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গান, নাচ ও নাটকের মাধ্যমে তারা শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। পরে ছাত্ররা সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ফুল, কলম ও শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে সম্মান জানায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মহাশয় বলেন, “শিক্ষকরাই জাতির মেরুদণ্ড, তাঁরাই প্রকৃত মানুষ গড়ার কারিগর।” তিনি ডঃ রাধাকৃষ্ণণের আদর্শে ছাত্রদের অনুপ্রাণিত হতে বলেন। অনুষ্ঠান শেষে ছাত্রদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। ছাত্রদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
৬.২ রক্তদানের জন্য বন্ধুকে আশ্বস্ত করে পত্র
বাঁকুড়া
০৪.০৯.২০২৬
প্রিয় অমিত,
আশা করি ভালো আছিস। কাল সন্ধ্যায় সুমনের কাছে শুনলাম তোর বাবা খুব অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন। খবরটা শুনে খুব খারাপ লাগল।
তুই একদম চিন্তা করিস না। আমি তো আছি। তোর মনে আছে, গত বছর স্কুলের রক্তদান শিবিরে আমার রক্ত পরীক্ষা হয়েছিল, আমার রক্তের গ্রুপ O+। ডাক্তারবাবু বলেছিলেন O+ সর্বজনীন দাতা না হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই দেওয়া যায়। কাকুর যদি O+ লাগে, আমি প্রস্তুত।
আমি কাল সকাল ১০টার মধ্যেই সদর হাসপাতালে পৌঁছে যাব রক্ত দিতে। তুই শুধু ডাক্তারবাবুর সাথে কথা বলে আমাকে একবার জানিয়ে দিস। আর যদি অন্য গ্রুপের রক্ত লাগে, তবুও জানাস, আমার আরও বন্ধুরা রক্ত দিতে রাজি আছে। আমরা সবাই মিলে ব্যবস্থা করে দেব।
এই কঠিন সময়ে তুই ভেঙে পড়িস না, সাহস রাখ। কাকু খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন, ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনাই করি। কাকিমাকেও আমার প্রণাম দিস।
ইতি,
তোর বন্ধু
অর্ক
— ➣ Next set
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Bengali Model Answers-4 » NIRYAS.IN