NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Bengali Model Answers-4/2

Madhyamik Bengali Model Answers-4

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? বাংলা (প্রথম ভাষা) বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক বাংলা (প্রথম ভাষা) Madhyamik Bengali Model Answers-4 (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৭টি MCQ, ১৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন, ব্যাকরণ, নির্মিতি এবং রচনা সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Bengali Model Answers-4

Madhyamik Bengali Model Answers
Madhyamik Bengali Model Answers

বাংলা (প্রথম ভাষা)

(Part-2)

⟽ Previous Part

৫. অনধিক 400 শব্দে যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (10)

৫.১ বিজ্ঞান ও কুসংস্কার

ভূমিকা: মানব সভ্যতার ইতিহাস হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রার ইতিহাস। এই অন্ধকারের নাম কুসংস্কার আর আলোর নাম বিজ্ঞান। আদিম মানুষ প্রাকৃতিক ঘটনার কারণ বুঝতে না পেরে ভয় থেকে কুসংস্কারের জন্ম দিয়েছিল। বজ্রপাত, গ্রহণ, রোগ-ব্যাধি – সবকিছুর পেছনেই তারা অলৌকিক শক্তির কল্পনা করত। আর বিজ্ঞান সেই ভয়কে দূর করে যুক্তি ও প্রমাণের আলোয় সবকিছুকে ব্যাখ্যা করে। তাই বিজ্ঞান ও কুসংস্কার হলো পরস্পর বিপরীত দুটি শক্তি, যাদের মধ্যে চিরকালীন দ্বন্দ্ব চলছে।

কুসংস্কার কী ও কেন: কুসংস্কার হলো যুক্তিহীন অন্ধ বিশ্বাস। যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, শুধু পরম্পরাগতভাবে চলে আসছে, তাকেই কুসংস্কার বলে। যেমন – বিড়াল রাস্তা কাটলে যাত্রা অশুভ, হাঁচি দিলে কাজে বাধা, জোড়া শালিক দেখলে ভালো, রাতে শিস দিলে সাপ আসে, গ্রহণের সময় খেতে নেই, ভূতে ধরা, তাবিজ-কবচে রোগ সারা – এগুলো সবই কুসংস্কার।
এর কারণ কী? প্রধান কারণ হলো অজ্ঞতা ও ভয়। মানুষ যা বোঝে না, তাকেই ভয় পায়। আর ভয় থেকেই অন্ধ বিশ্বাস জন্মায়। দ্বিতীয় কারণ হলো অশিক্ষা। আমাদের দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এখনও শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি, তাই কুসংস্কার বেশি। তৃতীয় কারণ হলো কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ – যেমন ভণ্ড জ্যোতিষী, ওঝা, গুনিনরা নিজেদের স্বার্থে কুসংস্কারকে টিকিয়ে রাখে।

বিজ্ঞান কীভাবে কুসংস্কার দূর করে: বিজ্ঞান হলো পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান। বিজ্ঞান প্রশ্ন করতে শেখায় – কেন, কীভাবে?
কুসংস্কার বলে গ্রহণ হলো রাহু-কেতুর সূর্য বা চাঁদকে গিলে ফেলা। কিন্তু বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, গ্রহণ হলো চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্যের এক সরলরেখায় আসার ফলে সৃষ্ট ছায়ার খেলা। এর সঙ্গে খাওয়া-না-খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
আগে মানুষ মনে করত রোগ হয় ভূত-প্রেত বা দেবতার অভিশাপে। ওঝা ডেকে ঝাড়ফুঁক করত। বিজ্ঞান দেখালো রোগ হয় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও জীবাণুর কারণে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে আজ কলেরা, বসন্ত, প্লেগের মতো মহামারী দূর হয়েছে।
একসময় বিধবাদের অশুভ মনে করা হত, সতীদাহ প্রথা ছিল। বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যুক্তি দিয়ে এই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

বর্তমান সমাজে বিজ্ঞান ও কুসংস্কারের দ্বন্দ্ব: এটা ভাবলে অবাক লাগে যে, আমরা চাঁদে পাড়ি দিচ্ছি, মঙ্গলে যান পাঠাচ্ছি, মোবাইলে সারা পৃথিবী হাতের মুঠোয় এনেছি, তবুও আজও আমরা কুসংস্কারমুক্ত হতে পারিনি। এখনও রাস্তায় রাস্তায় জ্যোতিষীর বিজ্ঞাপন – “লটারি পাইয়ে দেব, চাকরি পাইয়ে দেব।” টিভিতে বুজরুকি, তাবিজ-কবচের বিজ্ঞাপন। শিক্ষিত মানুষও হাতে আংটি পরে, গাড়ির সামনে লেবু-লঙ্কা ঝোলায়। করোনার সময় অনেকে গোবরে করোনা সারবে বলে বিশ্বাস করেছিল। এটি প্রমাণ করে, শুধু প্রযুক্তিগত বিজ্ঞান শিখলেই হয় না, প্রয়োজন বিজ্ঞানমনস্কতা।

উপসংহার: বিজ্ঞান ও কুসংস্কারের লড়াই আসলে আলো ও অন্ধকারের লড়াই। বিজ্ঞান আমাদের মুক্তির পথ দেখায়, কুসংস্কার আমাদের শৃঙ্খলিত করে। একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য কুসংস্কারমুক্ত সমাজ একান্ত প্রয়োজন।
তাই শুধু স্কুলে বিজ্ঞান পড়লেই হবে না, বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের মনে প্রশ্ন করার সাহস জাগাতে হবে। যুক্তি দিয়ে বিচার করতে শেখাতে হবে। সরকার, শিক্ষক, ছাত্র সকলকে মিলে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে হবে।
মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান ছাড়া মানব সভ্যতা এগোতে পারে না। কুসংস্কারকে দূর করে বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত হলেই আমরা একটি সুস্থ, সুন্দর ও প্রগতিশীল সমাজ গড়তে পারব। কবির ভাষায় বলতে হয়, “কুসংস্কারের বেড়াজাল ভেঙে, বিজ্ঞানের বিজয়রথে চড়ে আমরা এগিয়ে যাব আগামীর দিকে।”

Madhyamik Bengali Model Answers-4

৫.২ তোমার প্রিয় ঋতু – শরৎ
ভূমিকা: বাংলা ছয় ঋতুর দেশ, আর প্রতিটি ঋতুই তার নিজস্ব রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে সুন্দর। কেউ ভালোবাসে বর্ষার ঝমঝম বৃষ্টি, কেউ ভালোবাসে বসন্তের কোকিলের ডাক। কিন্তু আমার প্রিয় ঋতু শরৎ। শরৎকে বলা হয় ঋতুর রানি। এর মতো নির্মল, স্নিগ্ধ ও সুন্দর ঋতু আর নেই। গ্রীষ্মের প্রখর দাহ আর বর্ষার অবিরাম বর্ষণের পর শরৎ যেন প্রকৃতির বুকে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। তাই শরতের আগমনে আমার মন আনন্দে নেচে ওঠে।

শরতের প্রকৃতি: শরৎ আসে ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে। এই সময় প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে। বর্ষায় ধুয়ে যাওয়া আকাশ হয়ে ওঠে গাঢ় নীল, যেন নীলকান্ত মণি। সেই নীল আকাশে সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়ায়, দেখে মনে হয় যেন সাদা রাজহাঁসের দল উড়ে চলেছে। কখনও মেঘের কোলে রোদ্দুরের লুকোচুরি খেলা, যাকে বলে “রোদ-বৃষ্টির খেলা”।
শরতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো কাশফুল। নদীর ধারে, মাঠের কিনারে সাদা কাশফুলের বন দোল খায় বাতাসে। দেখে মনে হয় যেন সাদা মেঘ মাটিতে নেমে এসেছে। ভোরবেলায় ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করে। উঠোনে শিউলি ফুল ঝরে পড়ে, তার মিষ্টি গন্ধে চারদিক ভরে যায়। পদ্ম, শালুক ফুলে পুকুর ভরে ওঠে। সব মিলিয়ে শরৎ হলো রূপের ঋতু, কবিতার ঋতু।

শরৎ – উৎসবের ঋতু: আমার কাছে শরৎ প্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ হলো এটি উৎসবের ঋতু। শরৎ মানেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। “আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর” – মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে এই আহ্বান শুনলেই মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। চারদিকে আগমনীর সুর।
দুর্গাপূজার চারটে দিন আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো। নতুন জামা-কাপড়, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখা, ঢাকের আওয়াজ, ধুনুচি নাচ, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা – এর আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। দুর্গাপূজার পর লক্ষ্মীপূজা, কালীপূজা, ভাইফোঁটা – উৎসবের পর উৎসব লেগেই থাকে। এই সময় স্কুলে লম্বা ছুটি থাকে, তাই আমরা মামার বাড়ি বেড়াতে যাই। শরৎ তাই আনন্দের ঋতু, মিলনের ঋতু।

শরতের অন্য রূপ: শরৎ শুধু রূপ ও উৎসবের ঋতু নয়, এটি শস্যেরও ঋতু। মাঠে মাঠে আমন ধান পাকতে শুরু করে। কৃষকের মুখে হাসি ফোটে। বাতাসে নতুন ধানের গন্ধ। শরতের রোদ খুব কড়া নয়, আবার বৃষ্টিও নেই। খুব আরামদায়ক আবহাওয়া। এই সময় দিন-রাত সমান, গরমও কম, শীতও নেই। তাই শরৎকে “আরামের ঋতু”ও বলা যায়।

কেন শরৎ আমার প্রিয়: অনেকেই জিজ্ঞাসা করে কেন আমার শরৎ এত প্রিয়। আমি বলি, গ্রীষ্ম বড় রুক্ষ, বর্ষা বড় স্যাঁতসেঁতে, শীত বড় কঠিন, বসন্ত সুন্দর হলেও তার মধ্যে একটা বিদায়ের সুর আছে। কিন্তু শরৎ হলো পরিপূর্ণ। তার মধ্যে আছে নির্মলতা, পবিত্রতা ও আনন্দ। শরতের আকাশ আমাকে উদার হতে শেখায়, কাশফুল আমাকে নম্র হতে শেখায়, আর দুর্গাপূজা আমাকে শেখায় অসুরের ওপর সুরের জয়, অশুভের ওপর শুভের জয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শরৎকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি লিখেছেন, “আজি কি তোমার মধুর মুরতি হেরিনু শারদ প্রভাতে!” সত্যিই শরতের প্রভাত মধুর।

উপসংহার: পরিশেষে বলতে পারি, শরৎ আমার প্রাণের ঋতু, মনের ঋতু। প্রতি বছর আমি অধীর আগ্রহে শরতের জন্য অপেক্ষা করি। শরৎ এলে মনে হয় প্রকৃতি যেন নিজের হাতে আমাদের জন্য আনন্দের ডালি সাজিয়ে এনেছে। শরতের এই রূপ, এই আনন্দ, এই উৎসব – সবকিছু মিলিয়ে শরৎ আমার কাছে চিরকাল প্রিয় হয়ে থাকবে। শরৎ শুধু একটি ঋতু নয়, এটি বাঙালির আবেগ, বাঙালির সংস্কৃতি, বাঙালির প্রাণ।

Madhyamik Bengali Model Answers-4

৫.৩ ছাত্রজীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব
ভূমিকা: ছাত্রজীবন হলো ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতি পর্ব। এই সময় শুধু বই পড়লেই হয় না, শরীর ও মনকেও গঠন করতে হয়। প্রাচীন গ্রীসে একটি কথা প্রচলিত ছিল – “A sound mind in a sound body” অর্থাৎ সুস্থ দেহে সুস্থ মন বাস করে। আর সুস্থ দেহ গঠনের প্রধান উপায় হলো খেলাধুলা। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ছাত্রজীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেই আদর্শ ছাত্র হওয়া যায় না, খেলাধুলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শারীরিক গুরুত্ব: খেলাধুলার প্রথম ও প্রধান গুরুত্ব হলো শারীরিক। আজকাল ছাত্রছাত্রীরা সারাদিন মোবাইল, কম্পিউটার, বই নিয়ে বসে থাকে। এর ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, চোখ খারাপ হয়, মোটা হয়ে যায়। নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর সুস্থ ও সবল থাকে।
ফুটবল, ক্রিকেট, কবাডি, দৌড়ঝাঁপ, সাঁতার কাটলে শরীরের রক্ত চলাচল বাড়ে, পেশী শক্ত হয়, হজম শক্তি বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। খেলাধুলা করলে ক্ষুধা বাড়ে, ঘুম ভালো হয়। একজন সুস্থ ছাত্রই মন দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে। অসুস্থ শরীর নিয়ে কখনও ভালো পড়াশোনা হয় না। তাই বলা হয়, “স্বাস্থ্যই সম্পদ।” এই সম্পদ অর্জনের উপায় হলো খেলাধুলা।

মানসিক ও চারিত্রিক গুরুত্ব: খেলাধুলা শুধু শরীর নয়, মনকেও ভালো রাখে। খেলার মাঠে ছাত্ররা আনন্দ পায়, দুশ্চিন্তা দূর হয়, মন সতেজ হয়। পড়াশোনার একঘেয়েমি দূর করতে খেলার জুড়ি নেই। একটু খেলে এসে পড়তে বসলে পড়া বেশি মনে থাকে।
খেলাধুলা থেকে আমরা অনেক নৈতিক শিক্ষা পাই। খেলার মাঠ হলো চরিত্র গঠনের শ্রেষ্ঠ স্থান।
১. শৃঙ্খলাবোধ: খেলার নিয়ম মেনে চলতে হয়, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মানতে হয়। এতে শৃঙ্খলাবোধ জাগে।
২. দলগত মনোভাব: ফুটবল, ক্রিকেট, হকি হলো দলগত খেলা। এখানে একা জেতা যায় না, সবাইকে নিয়ে চলতে হয়। এতে একতা ও সহযোগিতা শেখা যায়।
৩. হার-জিত মেনে নেওয়া: খেলায় হার-জিত আছেই। জিতলে আনন্দ, হারলে পরের বার ভালো করার চেষ্টা। এতে জীবনে হারকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।
৪. নেতৃত্ব: দলের ক্যাপ্টেন হতে শিখলে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ তৈরি হয়।

পড়াশোনায় খেলাধুলার প্রভাব: অনেকে মনে করে খেলাধুলা করলে পড়াশোনার ক্ষতি হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং নিয়মিত খেলাধুলা পড়াশোনায় সাহায্য করে। কারণ সুস্থ মস্তিষ্ক বেশি কাজ করতে পারে। যারা খেলে, তাদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বেশি হয়। আজকাল ভালো খেলোয়াড়দের জন্য স্কুল, কলেজ, চাকরিতে বিশেষ কোটা থাকে। অনেক ছাত্র খেলাধুলার মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়েছে – যেমন সৌরভ গাঙ্গুলী, সচিন তেন্ডুলকর।

বর্তমান সমস্যা ও সমাধান: দুঃখের বিষয়, বর্তমানে ছাত্রজীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। মাঠের অভাব, মোবাইল গেমে আসক্তি, অভিভাবকদের শুধু নম্বরের পেছনে ছোটা – এর প্রধান কারণ। অনেক স্কুলে খেলার মাঠই নেই, বা খেলার পিরিয়ড থাকলেও সেই ক্লাসে অঙ্ক করানো হয়।
এই অবস্থা বদলাতে হবে। প্রতিটি স্কুলে খেলার মাঠ ও খেলার শিক্ষক থাকা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা খেলার জন্য রাখতে হবে। অভিভাবকদেরও বুঝতে হবে, শুধু বইয়ের পোকা তৈরি করলে চলবে না, সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে হলে খেলতে দিতে হবে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, ছাত্রজীবনে পড়াশোনা ও খেলাধুলা একে অপরের পরিপূরক, বিরোধী নয়। পড়াশোনা দেয় জ্ঞান, আর খেলাধুলা দেয় স্বাস্থ্য, আনন্দ ও চরিত্র। একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ। তাই আমাদের শপথ হওয়া উচিত – “পড়ব, খেলব, সুস্থ থাকব, আদর্শ মানুষ হব।” মনে রাখতে হবে, খেলার মাঠেই ভবিষ্যতের সুস্থ, সবল ও সুনাগরিক তৈরি হয়।

Madhyamik Bengali Model Answers-4

৫.৪ পরিবেশ রক্ষায় আমাদের কর্তব্য
ভূমিকা: পরিবেশ বলতে আমাদের চারপাশের সবকিছুকে বোঝায় – মাটি, জল, বায়ু, আলো, গাছপালা, পশুপাখি, মানুষ। এই পরিবেশেই আমাদের জন্ম, এই পরিবেশেই আমাদের বেড়ে ওঠা। পরিবেশ ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও বাঁচতে পারি না। কিন্তু মানুষই নিজের লোভে, নিজের প্রয়োজনে এই পরিবেশকে আজ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাই পরিবেশ রক্ষা করা আজ কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই। পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য।

পরিবেশ দূষণের কারণ ও ভয়াবহতা: আজ পরিবেশ চারদিক থেকে দূষিত হচ্ছে।
১. বায়ু দূষণ: কলকারখানার ধোঁয়া, গাড়ির ধোঁয়া, কয়লা পোড়ানোয় বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড বাড়ছে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ক্যান্সার হচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন বা Global Warming বাড়ছে, মেরুর বরফ গলছে, সমুদ্রের জল বাড়ছে।
২. জল দূষণ: কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, প্লাস্টিক, আবর্জনা নদী-নালায় ফেলা হচ্ছে। পুকুর, নদীর জল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।
৩. মাটি দূষণ: অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। প্লাস্টিক মাটিতে মেশে না, মাটিকে বন্ধ্যা করে দেয়।
৪. শব্দ দূষণ: গাড়ির হর্ন, মাইক, বাজির শব্দে মানুষের শ্রবণশক্তি কমছে, ছাত্রদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।
৫. বনভূমি ধ্বংস: মানুষ লোভে গাছ কেটে বাড়ি, রাস্তা বানাচ্ছে। গাছ কাটার ফলে বৃষ্টি কমছে, খরা বাড়ছে, বন্য প্রাণী আশ্রয় হারাচ্ছে। একটি বড় গাছ বছরে যে অক্সিজেন দেয়, তা দিয়ে ৩৬ জন শিশু এক বছর বাঁচতে পারে। গাছ কাটা মানে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা।

পরিবেশ রক্ষায় আমাদের কর্তব্য: পরিবেশ আমাদের মা। মাকে রক্ষা করা সন্তানের কর্তব্য। পরিবেশ রক্ষায় ছাত্র হিসেবে এবং নাগরিক হিসেবে আমাদের অনেক কর্তব্য আছে।

ক) ছাত্র হিসেবে কর্তব্য:
১. বৃক্ষরোপণ: “একটি গাছ, একটি প্রাণ” – এই মন্ত্রে আমাদের বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। স্কুলে, বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার ধারে গাছ লাগাতে হবে এবং তার যত্ন নিতে হবে। জন্মদিনে বন্ধুকে বই বা গাছের চারা উপহার দেওয়া যেতে পারে।
২. প্লাস্টিক বর্জন: প্লাস্টিক পরিবেশের সবচেয়ে বড় শত্রু। প্লাস্টিকের ব্যাগের বদলে চটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। প্লাস্টিকের বোতল, থালা ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৩. জল ও বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ: অকারণে কল খুলে রাখব না, লাইট-ফ্যান বন্ধ রাখব। জলই জীবন, বিদ্যুৎও মূল্যবান।
৪. সচেতনতা প্রচার: আমরা নিজেরা সচেতন হব এবং পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবকে সচেতন করব। দেওয়াল পত্রিকা, পোস্টার, র‍্যালির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেব।

খ) নাগরিক ও সরকারের কর্তব্য:
১. কলকারখানায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসাতে হবে।
২. পুকুর, নদী ভরাট বন্ধ করতে হবে।
৩. সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো দূষণমুক্ত শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
৪. বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করতে হবে।
৫. পরিবেশ আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

উপসংহার: পরিবেশ রক্ষা না করলে মানব সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তারা পাবে না বিশুদ্ধ বাতাস, বিশুদ্ধ জল, সবুজ পৃথিবী।
মনে রাখতে হবে, পৃথিবীটা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার নয়, এটি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে ধার নিয়েছি। তাই তাদের জন্য এটিকে সুন্দর করে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের কর্তব্য।
আসুন আমরা সকলে শপথ করি – “গাছ লাগাব, পরিবেশ বাঁচাব, প্লাস্টিক বর্জন করব, সুন্দর পৃথিবী গড়ব।” পরিবেশ বাঁচলে আমরাও বাঁচব, দেশও বাঁচবে।

Madhyamik Bengali Model Answers-4

৬. যেকোনো একটি করো: (5)

৬.১ ‘বনমহোৎসব’ নিয়ে প্রতিবেদন

রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠে পালিত হলো বনমহোৎসব

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল, ১৫ জুলাই:
গতকাল ১৪ই জুলাই, সোমবার আসানসোলের রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে বনমহোৎসব পালিত হয়।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাশয়। তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি আমের চারা রোপণ করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এরপর ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয় চত্বর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ১০০টি বিভিন্ন প্রজাতির চারা – যেমন নিম, পলাশ, আম, জাম, ইউক্যালিপটাস রোপণ করে। প্রতিটি গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছাত্রদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন বিভাগের আধিকারিক শ্রী সুব্রত মাহাতো। তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “একটি গাছ একটি প্রাণ। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, বৃষ্টি আনে, মাটির ক্ষয় রোধ করে। বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।” তিনি ছাত্রদের গাছের গুরুত্ব বোঝান।
অনুষ্ঠানের শেষে সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা গাছ লাগানো ও গাছ রক্ষা করার শপথ গ্রহণ করে। সমগ্র অনুষ্ঠানে ছাত্রদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

৬.২ মশার উপদ্রব প্রতিকার চেয়ে পত্র

মাননীয় পৌরপ্রধান সমীপেষু,
খাতড়া পৌরসভা,
খাতড়া, বাঁকুড়া

বিষয়: মশার উপদ্রব প্রতিকার প্রসঙ্গে আবেদন।

মাননীয় মহাশয়,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি খাতড়া পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের একজন বাসিন্দা। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গত এক মাস ধরে আমাদের ওয়ার্ডে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
আমাদের ওয়ার্ডের প্রায় সমস্ত নর্দমা আবর্জনায় ভরে গিয়ে জমে আছে। বর্ষার জল কোথাও কোথাও জমে আছে, কোথাও ডোবা তৈরি হয়েছে। সেখানেই মশা বংশবিস্তার করছে। সন্ধ্যার পর মশার অত্যাচারে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যায় না। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে।
এর ফলে আমাদের এলাকায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এইভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
এমতাবস্থায় আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, অবিলম্বে আমাদের ৬ নং ওয়ার্ডে –
১. মশা মারার ওষুধ ও ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোর ব্যবস্থা করুন।
২. জমে থাকা নর্দমা ও আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করুন।
আশা করি আপনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ধন্যবাদান্তে,
বিনীত,
সুচেতা মাহাতো
৬ নং ওয়ার্ড, খাতড়া
তারিখ: ০৪.০৯.২০২৬
—  ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading