Madhyamik Bengali Model Answers-5/2
Madhyamik Bengali Model Answers-5
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? বাংলা (প্রথম ভাষা) বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক বাংলা (প্রথম ভাষা) Madhyamik Bengali Model Answers-5 (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৭টি MCQ, ১৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন, ব্যাকরণ, নির্মিতি এবং রচনা সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Bengali Model Answers-5

বাংলা (প্রথম ভাষা)
(Part-2)
৫. অনধিক 400 শব্দে যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (10)
৫.১ বিজ্ঞান মেলা ও তার প্রয়োজনীয়তা
ভূমিকা: বিজ্ঞান হলো আমাদের জীবনের আলো। বিজ্ঞান ছাড়া আধুনিক সভ্যতা অচল। কিন্তু শুধু বইয়ে বিজ্ঞান পড়লে বিজ্ঞানকে ভালোবাসা যায় না, বিজ্ঞানকে হাতে-কলমে করতে হয়, দেখতে হয়, অনুভব করতে হয়। এই উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয় বিজ্ঞান মেলার। বিজ্ঞান মেলা হলো বিজ্ঞানের এক জীবন্ত প্রদর্শনী, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা তাদের তৈরি মডেল, পরীক্ষা, আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে সহজভাবে তুলে ধরে। তাই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞান মেলার গুরুত্ব অপরিসীম।
বিজ্ঞান মেলা কী: বিজ্ঞান মেলা হলো এমন একটি মেলা যেখানে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় – যেমন পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা, পরিবেশ, মহাকাশ, কম্পিউটার নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন মডেল তৈরি করে প্রদর্শন করে। সাধারণত স্কুল, কলেজ, জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে শুধু মডেল দেখানো হয় না, তার পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণও ব্যাখ্যা করা হয়।
যেমন কেউ হয়তো “জল দূষণ রোধ” নিয়ে মডেল বানালো, কেউ “সৌরশক্তিতে চলা গাড়ি” বানালো, কেউ “মানবদেহের রক্ত চলাচল” দেখালো। দর্শকরা ঘুরে ঘুরে তা দেখে এবং ছাত্রদের কাছ থেকে শোনে। বিচারকরা সেরা মডেলগুলিকে পুরস্কৃত করেন।
বিজ্ঞান মেলার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব:
১. হাতে-কলমে শিক্ষা: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় দোষ হলো আমরা শুধু মুখস্থ করি। বিজ্ঞান মেলা এই মুখস্থ বিদ্যার অভ্যাস ভাঙে। যখন একটি ছাত্র নিজের হাতে একটি মডেল তৈরি করে, তখন সে বইয়ের সূত্রটি সত্যিই বুঝতে পারে। যেমন বইতে পড়েছে “বায়ুর চাপ আছে” – কিন্তু মডেলের মাধ্যমে যখন সে দেখায় বায়ুর চাপে জল ওপরে উঠছে, তখন তার জ্ঞান পাকা হয়।
২. বিজ্ঞানমনস্কতা ও কুসংস্কার দূরীকরণ: বিজ্ঞান মেলা ছাত্রদের মনে প্রশ্ন করতে শেখায় – কেন হয়, কীভাবে হয়? এই প্রশ্ন করার মানসিকতাই হলো বিজ্ঞানমনস্কতা। যখন ছাত্ররা প্রমাণ করে যে গ্রহণ রাহুর জন্য হয় না, পৃথিবীর ছায়ার জন্য হয়, তখন সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর হয়। বিজ্ঞান মেলা যুক্তিবাদী সমাজ গঠনে সাহায্য করে।
৩. প্রতিভা অন্বেষণ ও ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী তৈরি: অনেক বড় বড় বিজ্ঞানীর শুরুটা হয়েছিল স্কুলের বিজ্ঞান মেলা থেকেই। এ.পি.জে আব্দুল কালাম ছোটবেলায় এই ধরনের মডেল বানাতে ভালোবাসতেন। বিজ্ঞান মেলা ছাত্রদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিজ্ঞানীকে খুঁজে বের করে। তাদের উদ্ভাবনী শক্তি, কল্পনা শক্তি বাড়ে।
৪. পরিবেশ ও সমাজ সচেতনতা: বর্তমানে বেশিরভাগ বিজ্ঞান মেলার বিষয় থাকে পরিবেশ রক্ষা, জল সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ, বিশ্ব উষ্ণায়ন। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা যেমন সচেতন হয়, তেমনি সাধারণ মানুষও সচেতন হয়।
৫. একতা ও সহযোগিতা: একটি মডেল তৈরি করতে একা হয় না, দলগতভাবে কাজ করতে হয়। এতে ছাত্রদের মধ্যে সহযোগিতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও একসঙ্গে কাজ করার গুণ তৈরি হয়।
বর্তমান অবস্থা ও আমাদের কর্তব্য: দুঃখের বিষয়, অনেক স্কুলে এখনও বিজ্ঞান মেলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। মনে করা হয় এতে পড়ার সময় নষ্ট হয়। অভিভাবকরাও উৎসাহ দেন না। কিন্তু এই ধারণা ভুল।
প্রতিটি স্কুলে প্রতি বছর বিজ্ঞান মেলা বাধ্যতামূলক করা উচিত। সরকারকে গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলিতে বিজ্ঞান মেলার জন্য আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দিতে ভালো পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। বিজ্ঞান মেলাকে শুধু শহরে আটকে না রেখে গ্রামে গ্রামে নিয়ে যেতে হবে।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, বিজ্ঞান মেলা হলো বিজ্ঞান শিক্ষার প্রাণ। বইয়ের বিজ্ঞানকে জীবন্ত করে তোলে বিজ্ঞান মেলা। এটি শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, এটি হলো ভবিষ্যৎ ভারতের বিজ্ঞানী তৈরির কারখানা।
আজ যখন ভারত চাঁদে চন্দ্রযান পাঠাচ্ছে, মঙ্গলে যাচ্ছে, তখন আরও বেশি করে বিজ্ঞান মেলার প্রয়োজন। কারণ এই মেলা থেকেই আগামী দিনের কালাম, জগদীশচন্দ্র বসু বেরিয়ে আসবে। তাই আসুন, আমরা সকলে বিজ্ঞান মেলাকে সফল করি, বিজ্ঞানকে ভালোবাসি এবং একটি বিজ্ঞানমনস্ক, কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়ি।
Madhyamik Bengali Model Answers-5
৫.২ ছাত্রজীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব
ভূমিকা: ছাত্রজীবন হলো মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ই মানুষের শরীর, মন ও চরিত্র গঠিত হয়। ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরি হয় এই সময়েই। তাই ছাত্রজীবনে শুধু লেখাপড়া করলেই চলবে না, শরীরচর্চারও প্রয়োজন আছে। আর শরীরচর্চার সর্বোত্তম উপায় হলো খেলাধুলা। প্রাচীনকালে বলা হত – “সুস্থ দেহে সুস্থ মনের বাস।” তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ছাত্রজীবনের অপরিহার্য অঙ্গ।
খেলাধুলার প্রকারভেদ: খেলাধুলা প্রধানত দুই প্রকার – ইনডোর গেম ও আউটডোর গেম। লুডো, দাবা, ক্যারাম, টেবিল টেনিস হলো ইনডোর গেম। আর ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল, কবাডি, দৌড়, সাঁতার, খো-খো হলো আউটডোর গেম। ছাত্রজীবনের জন্য আউটডোর গেম বেশি প্রয়োজনীয়, কারণ এতে খোলা মাঠে, আলো-বাতাসে শরীরের ভালো ব্যায়াম হয়।
শারীরিক উপকারিতা: খেলাধুলার প্রথম উপকারিতা হলো শারীরিক সুস্থতা। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীরা মোবাইল, টিভি, কম্পিউটারে বেশি সময় কাটায়। ফলে অল্প বয়সেই চোখ খারাপ, মোটা হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে। নিয়মিত খেলাধুলা করলে –
১. দেহ সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম হয়।
২. রক্ত চলাচল ভালো হয়, হজম শক্তি বাড়ে।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, সহজে অসুখ হয় না।
৪. ক্ষুধা ও ঘুম ভালো হয়।
একজন অসুস্থ, দুর্বল ছাত্র কখনোই মন দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। তাই পড়াশোনা ভালো করতে হলে আগে শরীরকে সুস্থ রাখতে হবে, আর তার জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই।
মানসিক ও চারিত্রিক উপকারিতা: খেলাধুলা শুধু শরীর গড়ে না, মন ও চরিত্রও গড়ে।
১. আনন্দ ও স্ফূর্তি: সারাদিন পড়াশোনার পর একটু খেলাধুলা করলে মন সতেজ হয়, ক্লান্তি দূর হয়, পড়ায় মন বসে।
২. শৃঙ্খলাবোধ: প্রতিটি খেলার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সেই নিয়ম মেনে খেলতে হয়, রেফারির আদেশ মানতে হয়। এতে ছাত্ররা শৃঙ্খলাপরায়ণ হয়।
৩. দলগত চেতনা ও একতা: ফুটবল, ক্রিকেট একা খেলা যায় না। দলের সবার সঙ্গে মিলেমিশে খেলতে হয়। এতে একতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব বাড়ে। স্বার্থপরতা দূর হয়।
৪. হার-জিতকে মেনে নেওয়া: খেলায় হার-জিত থাকবেই। খেলাধুলা শেখায় কীভাবে জয়ের আনন্দে উন্মত্ত না হতে হয় এবং হেরে গিয়েও ভেঙে না পড়ে আবার চেষ্টা করতে হয়। এই শিক্ষা ভবিষ্যৎ জীবনে খুব কাজে লাগে।
৫. সাহস ও আত্মবিশ্বাস: খেলার মাঠে ছাত্ররা সাহসী হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়।
পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্ক: অনেক বাবা-মা মনে করেন খেলাধুলা করলে পড়ার ক্ষতি হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল। বরং খেলাধুলা পড়াশোনায় সাহায্য করে। সুস্থ শরীরে মস্তিষ্ক ভালো কাজ করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ে। তাছাড়া আজকাল খেলাধুলাও একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ভালো খেলোয়াড়রা স্কুল-কলেজে, চাকরিতে বিশেষ সুযোগ পায়। সৌরভ গাঙ্গুলী, বিরাট কোহলি, পি.টি. উষার মতো খেলোয়াড়রা দেশের গর্ব।
বর্তমান সমস্যা: বর্তমানে ছাত্রদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কমছে। কারণ – মাঠের অভাব, মোবাইল গেমে আসক্তি, এবং অভিভাবকদের শুধু ভালো নম্বরের জন্য চাপ দেওয়া। অনেক স্কুলে খেলার পিরিয়ড থাকলেও তা হয় না। এটি খুবই দুঃখজনক।
উপসংহার: তাই পরিশেষে বলা যায়, ছাত্রজীবনে লেখাপড়া ও খেলাধুলা দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি গাছের যেমন জল ও আলো দুটোই লাগে, তেমনি ছাত্রজীবনে জ্ঞানের জন্য লেখাপড়া আর স্বাস্থ্যের জন্য খেলাধুলা দুটোই লাগে।
আমাদের উচিত প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করা। স্কুলে খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা উচিত এবং অভিভাবকদেরও সন্তানদের খেলতে উৎসাহ দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, খেলার মাঠ থেকেই সুস্থ, সবল, সৎ ও আদর্শ নাগরিক তৈরি হয়, যারা দেশের ভবিষ্যৎ।
Madhyamik Bengali Model Answers-5
৫.৩ তোমার জীবনের লক্ষ্য
ভূমিকা: লক্ষ্যহীন জীবন হলো হালহীন নৌকার মতো। হাল ছাড়া নৌকা যেমন সমুদ্রে দিক হারিয়ে ঘুরে বেড়ায়, লক্ষ্য ছাড়া মানুষের জীবনও তেমনি অর্থহীন হয়ে পড়ে। প্রতিটি মানুষেরই জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা উচিত। সেই লক্ষ্য তাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়, পরিশ্রম করতে শেখায়। ছাত্রজীবন থেকেই জীবনের লক্ষ্য স্থির করা প্রয়োজন। আমারও জীবনে একটি লক্ষ্য আছে।
আমার জীবনের লক্ষ্য – শিক্ষক হওয়া: অনেকে ডাক্তার হতে চায়, অনেকে ইঞ্জিনিয়ার, অনেকে পুলিশ বা বিজ্ঞানী। কিন্তু আমার জীবনের লক্ষ্য হলো একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়া। এই পেশাটি হয়তো বাইরে থেকে খুব চাকচিক্যময় নয়, টাকাও কম, কিন্তু এর সম্মান ও গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ একজন শিক্ষকই পারে একটি জাতিকে গড়ে তুলতে।
কেন আমি শিক্ষক হতে চাই:
১. শিক্ষক হলেন জাতির কারিগর: কথায় বলে, ডাক্তার একটি জীবন বাঁচায়, কিন্তু শিক্ষক একটি প্রজন্মকে বাঁচায়। একজন ডাক্তার, একজন ইঞ্জিনিয়ার, একজন নেতা – সকলের পেছনেই একজন শিক্ষকের হাত থাকে। দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের তৈরি করেন শিক্ষক। তাই আমি এই মহান পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।
২. আমার প্রিয় শিক্ষকদের থেকে অনুপ্রেরণা: আমার জীবনে আমার স্কুলের শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে আমার বাংলা শিক্ষক মহাশয়। তিনি শুধু বইয়ের পড়া পড়ান না, তিনি আমাদের ভালো মানুষ হতে শেখান, সত্য কথা বলতে শেখান, দেশকে ভালোবাসতে শেখান। তাঁর স্নেহ, তাঁর আদর্শ আমাকে খুব প্রভাবিত করেছে। আমি তাঁর মতোই একজন হতে চাই, যাকে ছাত্ররা শুধু শিক্ষক হিসেবে নয়, বন্ধু ও পথপ্রদর্শক হিসেবে শ্রদ্ধা করবে।
৩. গ্রামের শিক্ষার অবস্থা দেখে: আমি গ্রামে থাকি। আমি দেখেছি, গ্রামের অনেক ছেলেমেয়ে অর্থের অভাবে, ভালো শিক্ষকের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। অনেকে কুসংস্কারে ডুবে থাকে। আমি একজন শিক্ষক হয়ে আমার গ্রামের সেইসব পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের বিনা পয়সায় পড়াতে চাই, তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, আলো ছড়াতে চাই। আমি চাই না আর কোনো ছাত্র শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হোক।
৪. জ্ঞান দানই শ্রেষ্ঠ দান: কথায় বলে অর্থ দান করলে কমে যায়, কিন্তু জ্ঞান দান করলে বাড়ে। শিক্ষকতা হলো জ্ঞান দানের পেশা। একজন শিক্ষক প্রতিদিন নতুন কিছু শেখেন এবং শেখান। এই দেওয়া-নেওয়ার আনন্দ অন্য কোনো পেশায় নেই।
লক্ষ্য পূরণে আমার প্রস্তুতি: শুধু লক্ষ্য স্থির করলেই হবে না, তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমি জানি শিক্ষক হওয়া সহজ নয়। এর জন্য আমাকে –
প্রথমত, মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, সকল বিষয়ে ভালো জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কারণ জ্ঞান ছাড়া শিক্ষক হওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত, চরিত্রবান হতে হবে। কারণ ছাত্ররা শিক্ষককে অনুসরণ করে। তাই আমাকে সৎ, নম্র, শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে হবে।
তৃতীয়ত, বর্তমানে শিক্ষক হতে গেলে উচ্চমাধ্যমিকের পর কলেজ, তারপর বি.এড, ডি.এল.এড পাশ করতে হয় এবং টেট পরীক্ষা দিতে হয়। আমি সেই জন্য নিজেকে তৈরি করছি।
চতুর্থত, আমাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। কারণ ছাত্রদের বোঝানো, তাদের ভুল শুধরে দেওয়া ধৈর্যের কাজ।
উপসংহার: আমি জানি আমার পথ সহজ নয়। অনেক বাধা আসবে। কিন্তু আমি হার মানব না। আমার লক্ষ্য শুধু একটি চাকরি পাওয়া নয়, আমার লক্ষ্য একজন মানুষ গড়ার কারিগর হওয়া।
আমি বড় হয়ে এমন একজন শিক্ষক হতে চাই, যিনি ক্লাসে ঢুকলে ছাত্রদের মুখে হাসি ফুটবে, যিনি গরিব ছাত্রের পাশে দাঁড়াবেন, যিনি শুধু নম্বর পেতে নয়, ভালো মানুষ হতে শেখাবেন।
পরিশেষে কবির ভাষায় বলতে চাই –
“সকলে যখন ঘুমিয়ে থাকে, শিক্ষক তখন জাগে,
অজ্ঞতার অন্ধকার ঘুচিয়ে জ্ঞানের প্রদীপ লাগে।”
আমি সেই প্রদীপের আলো হতে চাই। এটাই আমার জীবনের লক্ষ্য, এটাই আমার স্বপ্ন।
Madhyamik Bengali Model Answers-5
৫.৪ মোবাইল ফোন – সুফল ও কুফল
ভূমিকা: বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞানের অসংখ্য বিস্ময়কর আবিষ্কারের মধ্যে মোবাইল ফোন অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। একসময় মানুষ চিঠির জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করত, আর আজ মোবাইল ফোনের বোতাম টিপলেই মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যোগাযোগ করা যায়। আজ ধনী-গরিব, ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-ডাক্তার – সকলের হাতেই মোবাইল ফোন। এটি আমাদের জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। তবে প্রতিটি আবিষ্কারের মতো মোবাইল ফোনেরও ভালো ও মন্দ দুটি দিকই আছে।
মোবাইল ফোনের সুফল: মোবাইল ফোনের সুফল অপরিসীম।
১. যোগাযোগের বিপ্লব: মোবাইল ফোনের প্রধান কাজ হলো যোগাযোগ। এর মাধ্যমে আমরা দেশ-বিদেশের যে কোনো প্রান্তে থাকা আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে কথা বলতে পারি, ভিডিও কল করে তাদের মুখ দেখতে পারি। এতে দূরত্ব ঘুচে গেছে।
২. জ্ঞানের ভাণ্ডার: বর্তমানে মোবাইল ফোন শুধু ফোন নয়, এটি একটি ছোট কম্পিউটার বা স্মার্টফোন। এর মধ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গোটা পৃথিবীর জ্ঞান ভাণ্ডার লুকিয়ে আছে। গুগল, ইউটিউবে সার্চ করে যে কোনো বিষয়ে জানা যায়। ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন ক্লাস করতে পারে, নোটস পেতে পারে, অজানা শব্দের অর্থ জানতে পারে।
৩. দৈনন্দিন জীবনে সহায়ক: মোবাইলে এখন খবর পড়া, আবহাওয়ার খবর জানা, ম্যাপ দেখে রাস্তা চেনা, ট্রেন-প্লেনের টিকিট কাটা, ব্যাংকের টাকা লেনদেন, বিদ্যুতের বিল দেওয়া – সবকিছু এক মিনিটে হয়ে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিসের কাজও মোবাইলে হচ্ছে। জরুরি সময়ে – যেমন দুর্ঘটনা, অসুস্থতায় মোবাইল ফোন জীবন বাঁচাতে পারে। পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্সকে সঙ্গে খবর দেওয়া যায়।
৪. বিনোদন: গান শোনা, সিনেমা দেখা, ছবি তোলা, গেম খেলা – সবই মোবাইলে সম্ভব।
মোবাইল ফোনের কুফল: যে জিনিসের সুফল বেশি, তার কুফলও বেশি হয় যদি তার অপব্যবহার করা হয়। মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
১. শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি: অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে শরীরের। একটানা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের জ্যোতি কমে যায়, মাথা ধরে, ঘুম কম হয়। কানে হেডফোন দিয়ে জোরে গান শুনলে কানের ক্ষতি হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মোবাইলের রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রিয়তা মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। রাতে মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুম নষ্ট হওয়া এখন এক নম্বর সমস্যা।
২. ছাত্র সমাজের ওপর কুপ্রভাব: এর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়েছে ছাত্র সমাজের ওপর। অনেক ছাত্র পড়াশোনা বাদ দিয়ে সারাদিন পাবজি, ফ্রি-ফায়ারের মতো গেম খেলে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে সময় নষ্ট করে। এর ফলে পড়াশোনায় অমনোযোগ, পরীক্ষায় খারাপ ফল, রাত জাগা, বাবা-মায়ের অবাধ্যতা বাড়ছে।
৩. সামাজিক অবক্ষয়: মোবাইলের জন্য মানুষ সামাজিকতা ভুলে যাচ্ছে। একই বাড়িতে সবাই নিজের নিজের মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। মানুষে মানুষে আন্তরিকতা কমছে। এছাড়া মোবাইলে মিথ্যা খবর, গুজব খুব দ্রুত ছড়ায়, যা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। সাইবার ক্রাইম, যেমন – টাকা প্রতারণা, ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস, ব্ল্যাকমেইল বাড়ছে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বা গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইল দেখার জন্য প্রতিদিন বহু দুর্ঘটনা ঘটছে।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, মোবাইল ফোন হলো একটি ধারালো ছুরির মতো। ছুরি দিয়ে যেমন ফল কাটা যায়, তেমনি মানুষকে আহতও করা যায়। নির্ভর করছে ব্যবহারকারীর ওপর। মোবাইল ফোন অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ – যদি আমরা তার সঠিক ব্যবহার করি।
তাই আমাদের শপথ হওয়া উচিত – আমরা মোবাইলের সুফল গ্রহণ করব, কুফল বর্জন করব। প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ব্যবহার করব না, ছাত্ররা পড়ার সময় মোবাইল দূরে রাখব, রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল দেখব না। তবেই মোবাইল ফোন আমাদের জীবনে সত্যিকারের বন্ধু হয়ে উঠবে।
Madhyamik Bengali Model Answers-5
৬. যেকোনো একটি করো: (5)
6.1 তোমার বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ভাষা দিবস’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। (100 শব্দ)
ভাষা দিবস নিয়ে প্রতিবেদন
শালতোড়ায় পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
নিজস্ব সংবাদদাতা, শালতোড়া, ২১ ফেব্রুয়ারি:
আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি শালতোড়া ডঃ বি.সি বিদ্যাপীঠে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শহীদ বেদিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাশয় তাঁর ভাষণে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের সমান। বাংলা আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়।”
এরপর ছাত্রছাত্রীরা বাংলা ভাষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে। নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমনা দাস ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি পরিবেশন করে সকলের মন জয় করে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্ররা ভাষা আন্দোলনের ওপর একটি ছোট নাটক মঞ্চস্থ করে। আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দের কবিতা পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা করা এবং শুদ্ধ বাংলায় কথা বলা ও লেখার শপথ গ্রহণ করে। বিদ্যালয় চত্বরে একটি বর্ণমালা স্মৃতিস্তম্ভও উন্মোচন করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
6.2 তোমার এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানকে একটি পত্র লেখো।
পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে পত্র
মাননীয় পঞ্চায়েত প্রধান সমীপেষু,
নিমতিতা গ্রাম পঞ্চায়েত,
নিমতিতা, মুর্শিদাবাদ।
বিষয়: পানীয় জলের তীব্র সংকট নিরসনের জন্য আবেদন।
মাননীয় মহাশয়,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি নিমতিতা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নয়াচক গ্রামের একজন বাসিন্দা। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের গ্রামে গত দুই মাস ধরে পানীয় জলের তীব্র সংকট চলছে।
আমাদের গ্রামে পঞ্চায়েতের যে দুটি টাইম-কল আছে, তার একটিতে গত এক মাস ধরে জল আসছে না এবং অন্যটিতে খুব কম জল আসে। গ্রামের তিনটি টিউবওয়েলের মধ্যে দুটি খারাপ হয়ে পড়ে আছে। ফলে প্রায় ৩০০ পরিবারকে চরম জলকষ্টে ভুগতে হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের এই সময়ে সমস্যা আরও ভয়াবহ হয়েছে।
গ্রামের মহিলা ও শিশুদের প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি ডোবা থেকে জল আনতে হচ্ছে, যা পানের অযোগ্য। এই দূষিত জল পান করে অনেকেই পেটের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এমতাবস্থায় আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, অবিলম্বে আমাদের গ্রামে –
১. খারাপ হয়ে যাওয়া টিউবওয়েলগুলি দ্রুত মেরামত করার ব্যবস্থা করুন।
২. টাইম-কলে নিয়মিত জল সরবরাহের ব্যবস্থা করুন।
৩. সম্ভব হলে একটি নতুন গভীর নলকূপ বসানোর ব্যবস্থা করুন।
আশা করি আপনি গ্রামবাসীর এই জরুরি সমস্যাটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ধন্যবাদান্তে,
বিনীত,
দিগম্বর রুইদাস
গ্রাম: নয়াচক, পো: নিমতিতা
তারিখ: ০৪.০৯.২০২৬
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.