Madhyamik Bengali Model Answers-6/2
Madhyamik Bengali Model Answers-6
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? বাংলা (প্রথম ভাষা) বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক বাংলা (প্রথম ভাষা) Madhyamik Bengali Model Answers-6 (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৭টি MCQ, ১৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন, ব্যাকরণ, নির্মিতি এবং রচনা সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Bengali Model Answers-6

বাংলা (প্রথম ভাষা)
৫. অনধিক 400 শব্দে যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (10)
৫.১ বর্ষাকাল
ভূমিকা: বাংলায় ছয়টি ঋতু। তার মধ্যে বর্ষাকাল এক অপরূপ ঋতু। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের পর বর্ষা আসে শান্তির বার্তা নিয়ে। আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। এই সময় আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়, মাঠ-ঘাট জলে ভরে যায়, প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে। কবির ভাষায় – “নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে”। বর্ষা বাঙালির প্রাণের ঋতু, কবিতার ঋতু, প্রেমের ঋতু।
বর্ষার রূপ: বর্ষার রূপ বড়ই বিচিত্র। কখনও আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা, গুরু গুরু মেঘের গর্জন, বিদ্যুতের ঝলকানি। তারপরই শুরু হয় ঝমঝম করে বৃষ্টি। কখনও টিপটিপ, কখনও মুষলধারে বৃষ্টি চলে দিনরাত। খাল-বিল, নদী-নালা জলে ভরে যায়। মাঠে মাঠে জল থৈ থৈ করে। গ্রামের রাস্তা কাদায় ভরে যায়। মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়। আবার এই বৃষ্টিতেই প্রকৃতি স্নান করে পবিত্র হয়। গাছপালা সবুজ হয়ে ওঠে, কদম, কেয়া, জুঁই ফুল ফোটে। ময়ূর পেখম মেলে নাচে, ব্যাঙের ডাক শোনা যায়, কৃষকের মনে আনন্দ জাগে।
বর্ষার সুফল: বর্ষার উপকারিতা অপরিসীম, বিশেষ করে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে।
১. কৃষকের বন্ধু: বর্ষাকে কৃষকের প্রাণ বলা হয়। আমাদের দেশে এখনও চাষবাস বৃষ্টির জলের ওপর নির্ভরশীল। বর্ষার জলেই ধান, পাট, আখের চাষ হয়। গ্রীষ্মে যে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যায়, বর্ষায় সেই মাঠেই সোনার ফসল ফলে। তাই বর্ষা না হলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।
২. প্রকৃতির উপকার: বর্ষার জলে পুকুর, নদী, ভূগর্ভস্থ জলস্তর ভরে যায়। সারা বছরের জলের অভাব মেটে। গাছপালা, জীবজন্তু নতুন প্রাণ পায়। গরমের ধুলো-ময়লা ধুয়ে প্রকৃতি নির্মল হয়।
৩. সাহিত্যে বর্ষা: বর্ষা কবি-সাহিত্যিকদের প্রিয় ঋতু। রবীন্দ্রনাথ, কালিদাস থেকে শুরু করে সকল কবিই বর্ষা নিয়ে অসংখ্য কবিতা, গান লিখেছেন। বর্ষা আমাদের মনে কাব্যের সুর তোলে।
বর্ষার কুফল: বর্ষার যেমন সুফল আছে, তেমনি কুফলও আছে। অতিরিক্ত বর্ষণে বন্যা হয়। বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসল, রাস্তাঘাট ডুবে যায়, মানুষ ও গবাদি পশু ভেসে যায়, বহু ক্ষতি হয়। গ্রামের কাঁচা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, হাট-বাজার বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষায় মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, কলেরার মতো রোগ ছড়ায়। খেটে খাওয়া মানুষের দুঃখ বাড়ে, কারণ বৃষ্টিতে তারা কাজে যেতে পারে না।
বর্ষাকালে ছাত্রজীবন ও আনন্দ: বর্ষাকালে ছাত্রদের আনন্দের শেষ নেই। স্কুল থেকে ফিরতে ফিরতে বৃষ্টিতে ভেজা, কাগজের নৌকা বানিয়ে জলে ভাসানো, জমা জলে ফুটবল খেলা – এর মজাই আলাদা। যদিও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে স্কুল বন্ধ থাকে, তবুও বর্ষার দিনে খিচুড়ি, ইলিশ মাছ ভাজা খাওয়ার আনন্দ বাঙালি কখনো ভোলে না।
উপসংহার: সব মিলিয়ে বর্ষাকাল আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ দুই-ই আছে। কিন্তু বর্ষা ছাড়া বাংলার রূপ অসম্পূর্ণ। গ্রীষ্মের পর বর্ষা যেমন ধরিত্রীকে শীতল করে, তেমনি আমাদের মনকেও শান্ত করে। তাই অতিরিক্ত বন্যার কষ্ট সহ্য করেও আমরা প্রতি বছর বর্ষার আগমনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। বর্ষাই বাংলার প্রাণ, বাংলার সৌন্দর্য।
Madhyamik Bengali Model Answers-6
৫.২ তোমার প্রিয় গ্রন্থ
ভূমিকা: বই হলো মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। বন্ধু কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে, কিন্তু বই কখনো করে না। বই মানুষকে জ্ঞান দেয়, আনন্দ দেয়, অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখায়। কথায় বলে – একটি ভালো বই একশো বন্ধুর সমান। আমার অনেক বই পড়তে ভালো লাগে – গল্প, উপন্যাস, কবিতা, বিজ্ঞান। কিন্তু সব বইয়ের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় গ্রন্থ হলো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’। যদিও এটি অনেকের কাছে কঠিন মনে হতে পারে, আমার কাছে এই বইটি আমার প্রিয় পথের দিশারী। ছোটদের জন্য বলতে গেলে আমার প্রিয় বই ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ কেও আমি খুব ভালোবাসি, কিন্তু জীবনকে বুঝতে ‘পথের দাবী’ আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। তবে স্কুলের পাঠ্য হিসেবে আমার সবচেয়ে প্রিয় বই হলো স্বামী বিবেকানন্দের লেখা ‘পরিব্রাজক’। আজ আমি আমার প্রিয় গ্রন্থ ‘পরিব্রাজক’ ও ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র সমন্বয়ে আমার অনুভূতির কথা বলব, কারণ আমার মতে প্রিয় গ্রন্থ একটি নয়, দুটি।
তবে পরীক্ষার খাতায় একটি বইয়ের নাম লিখতে হলে আমি ‘ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার’ কেই আমার প্রিয় গ্রন্থ হিসেবে বেছে নেব, কারণ এই বই দিয়েই আমার বই পড়ার যাত্রা শুরু।
গ্রন্থ পরিচিতি: ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ বাংলা শিশু সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। ১৯০৭ সালে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার এই বইটি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করেন। বইটিতে বাংলার প্রচলিত ১৪টি রূপকথার গল্প আছে – যেমন ‘কলাবতী রাজকন্যা’, ‘কিরণমালা’, ‘ঘুমন্তপুরী’, ‘সাত ভাই চম্পা’। আমার দিদিমা ছোটবেলায় আমাকে এই গল্পগুলো বলতেন। পরে যখন নিজে বইটি পড়লাম, তখন যেন সেই রূপকথার জগৎ চোখের সামনে ভেসে উঠল।
কেন এই বইটি আমার প্রিয়:
১. কল্পনার জগৎ: এই বইটি আমাকে কল্পনা করতে শেখায়। রাজপুত্র, রাজকন্যা, রাক্ষস-খোক্কস, পক্ষীরাজ ঘোড়া, সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারে রাজপুরী – এই সব কল্পনা আমার শিশুমনকে আনন্দ দেয়। পড়াশোনার চাপে যখন মন ক্লান্ত হয়, তখন এই বইটি পড়লে মন হালকা হয়ে যায়।
২. নৈতিক শিক্ষা: ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শুধু গল্প নয়, প্রতিটি গল্পের ভেতর একটি করে শিক্ষা আছে। সৎ মানুষের জয় হয়, অসৎ মানুষের পরাজয় হয়। ‘বুদ্ধু ভুতুম’ গল্পে বোঝানো হয়েছে বুদ্ধি দিয়ে কীভাবে শক্তিশালী শত্রুকেও হারানো যায়। ‘সাত ভাই চম্পা’ গল্পে ভাই-বোনের ভালোবাসা ও সততার জয় দেখানো হয়েছে। এই শিক্ষাগুলো আমার চরিত্র গঠনে সাহায্য করে।
৩. বাংলার সংস্কৃতি: এই বইটি বাংলার লোকসংস্কৃতির ধারক। এতে বাংলার গ্রাম, বাংলার ভাষা, বাংলার মানুষের বিশ্বাস, আশা-আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। বইটি পড়লে আমাদের শিকড়কে চেনা যায়।
৪. ভাষার সৌন্দর্য: দক্ষিণারঞ্জন বাবুর ভাষা এত সহজ, মিষ্টি ও প্রাণবন্ত যে একবার পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যায় না।
আমার অন্য প্রিয় বই – পরিব্রাজক: বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার আরেকটি প্রিয় বই হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দের ‘পরিব্রাজক‘। এই বইতে স্বামীজি সারা ভারত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লিখেছেন। কীভাবে ভারতের সাধারণ মানুষ কষ্টে আছে, কীভাবে তাদের জাগাতে হবে – তা তিনি লিখেছেন। এই বইটি আমাকে শেখায় – “নিজের মুক্তির জন্য নয়, দেশের জন্য বাঁচো।” এটি আমার জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে সাহায্য করেছে।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ আমার শৈশবের সাথী, আর ‘পরিব্রাজক’ আমার ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। একটি বই আমাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, অন্যটি সেই স্বপ্নকে পূরণ করতে সাহস জুগিয়েছে।
বই কখনো পুরনো হয় না। যতবার পড়ি, ততবার নতুন মনে হয়। আমার প্রিয় গ্রন্থগুলো আমার আলমারিতে শুধু সাজানো নেই, আমার মনের ভেতরেও গেঁথে আছে। আমি চাই আমার বন্ধুরাও বেশি বেশি বই পড়ুক, মোবাইল ছেড়ে বইকে বন্ধু করুক। কারণ একটি ভালো বই-ই পারে একটি সুন্দর জীবন গড়ে দিতে।
Madhyamik Bengali Model Answers-6
৫.৩ নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
ভূমিকা: “আধা আকাশ নারীর, আধা আকাশ পুরুষের” – এই কথা আমরা সকলেই বলি। কিন্তু যদি আধা আকাশ অন্ধকারে থাকে, তাহলে পুরো আকাশ কখনো আলোকিত হতে পারে না। আমাদের সমাজের অর্ধেক হলো নারী। তাই নারীকে অশিক্ষিত রেখে কোনো জাতি, কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। নেপোলিয়ন বলেছিলেন, “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি দেব।” তাই নারী শিক্ষা শুধু প্রয়োজন নয়, এটি অত্যন্ত জরুরি।
নারী শিক্ষার অর্থ কী: নারী শিক্ষা মানে শুধু মেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠানো নয়। নারী শিক্ষা মানে নারীকে তার অধিকার, তার ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন করা। তাকে স্বাবলম্বী করে তোলা, যাতে সে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে, পরিবার ও সমাজে সমান মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে।
কেন নারী শিক্ষা প্রয়োজন:
১. পরিবারের উন্নতির জন্য: একটি পরিবারের আসল শিক্ষক হলেন মা। মা শিক্ষিত হলে সন্তান শিক্ষিত হয়। মা যদি পড়তে না জানেন, তবে তিনি সন্তানকে পড়াতে পারবেন না, তার স্বাস্থ্য, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন না। একজন শিক্ষিত মা একটি সুস্থ, সুন্দর পরিবার গড়ে তোলেন। তিনি সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা, ভালো-মন্দের জ্ঞান দেন।
২. সমাজ ও দেশের উন্নতির জন্য: আজ নারীরা আর ঘরের মধ্যে বন্দি নয়। তারা ডাক্তার, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, বৈজ্ঞানিক, পুলিশ, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে। কল্পনা চাওলা, সুনিতা উইলিয়ামস মহাকাশে গেছেন। যদি মেয়েদের শিক্ষা না দেওয়া হতো, তাহলে দেশ এই প্রতিভাদের হারাতো। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নারী-পুরুষ উভয়ের শিক্ষা ও শ্রম প্রয়োজন।
৩. কুসংস্কার ও অন্ধকার দূর করতে: অশিক্ষাই বাল্যবিবাহ, পণপ্রথা, নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ। অশিক্ষিত মেয়েরা অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়, যার ফলে তাদের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়, তারা স্বাবলম্বী হতে পারে না। শিক্ষা নারীকে এই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায়। শিক্ষিত নারী জানে তার অধিকার কী, সে প্রতিবাদ করতে পারে।
৪. অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের জন্য: শিক্ষা নারীকে চাকরি পেতে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে। একজন স্বাবলম্বী নারীকে কারো ওপর নির্ভর করতে হয় না, তাকে অত্যাচার সহ্য করতে হয় না। সে পরিবারের আর্থিক সাহায্যও করতে পারে।
নারী শিক্ষার বাধা: দুঃখের বিষয়, আজ ২০২৬ সালেও আমাদের সমাজে নারী শিক্ষার পথে অনেক বাধা আছে। অনেক পরিবার এখনও মনে করে মেয়ে পড়ে কী করবে, শেষ পর্যন্ত তো রান্নাঘরেই যাবে। গ্রামাঞ্চলে এখনও মেয়েদের স্কুল অনেক দূরে, রাস্তায় নিরাপত্তার অভাব, বাল্যবিবাহের প্রথা – এসব কারণে অনেক মেয়ে স্কুল ছেড়ে দেয়।
বাধা দূর করার উপায়: এই বাধা দূর করতে সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে – যেমন কন্যাশ্রী, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, বিনা পয়সায় বই, সাইকেল, মিড-ডে মিল, স্কুলে মেয়েদের জন্য আলাদা শৌচালয়। কিন্তু শুধু সরকার করলেই হবে না, আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। বাবা-মাকে বুঝতে হবে ছেলে ও মেয়ে সমান। মেয়েকেও ছেলের মতোই শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, যে দেশে নারীরা শিক্ষিত নয়, সে দেশ কখনো সভ্য হতে পারে না। নারী শিক্ষা হলো সমাজের আলো। একটি পুরুষ শিক্ষিত হলে একজন ব্যক্তি শিক্ষিত হয়, কিন্তু একটি নারী শিক্ষিত হলে একটি পরিবার শিক্ষিত হয়, একটি সমাজ শিক্ষিত হয়।
তাই রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে হয় – “নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন পাশে না দিবে?” আসুন, আমরা সকলে নারী শিক্ষার প্রসারে এগিয়ে আসি, মেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিই, এবং একটি আলোকিত, উন্নত সমাজ গড়ে তুলি। কারণ নারীর উন্নতি ছাড়া দেশের উন্নতি অসম্ভব।
৫.৪ বৃক্ষরোপণ অভিযান
ভূমিকা: “একটি গাছ একটি প্রাণ” – এই কথাটি আমরা সবাই জানি, কিন্তু মানি কজন? গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ ছাড়া পৃথিবীতে জীবন অসম্ভব। কিন্তু মানুষ নিজের স্বার্থে নির্বিচারে গাছ কেটে বনভূমি ধ্বংস করছে। ফলে পৃথিবী গরম হয়ে যাচ্ছে, বৃষ্টি কমছে, দূষণ বাড়ছে। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতেই প্রয়োজন বৃক্ষরোপণ অভিযান। বৃক্ষরোপণ মানে শুধু গাছ লাগানো নয়, এটি হলো প্রাণ বাঁচানোর আন্দোলন।
বৃক্ষের উপকারিতা: গাছ আমাদের কী দেয় না? গাছের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।
১. প্রাণবায়ু অক্সিজেন: গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, যা ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও বাঁচতে পারি না। একটি বড় গাছ বছরে প্রায় ২৬০ পাউন্ড অক্সিজেন দেয়। আবার আমাদের ছাড়া কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে বাতাসকে পরিষ্কার রাখে।
২. পরিবেশ রক্ষা: গাছ বাতাসের দূষণ কমায়, মাটির ক্ষয় রোধ করে, বৃষ্টি আনে, বন্যা রোধ করে, পৃথিবীর উষ্ণতা কমায়। গাছের ছায়া আমাদের শীতল করে।
৩. জীবনধারণের উপকরণ: গাছ থেকে আমরা ফল, ফুল, কাঠ, ওষুধ, জ্বালানি, কাগজ, রবার – সব পাই। গাছে পাখি, কাঠবিড়ালি সহ অসংখ্য প্রাণী আশ্রয় পায়।
সংস্কৃত শাস্ত্রে বলা হয়েছে – “দশ কূপের সমান একটি পুকুর, দশ পুকুরের সমান একটি পুত্র, আর দশ পুত্রের সমান একটি বৃক্ষ।” তাই গাছ লাগানো পুত্র লাভের চেয়েও পুণ্যের কাজ।
কেন বৃক্ষরোপণ অভিযান প্রয়োজন:
আগে মানুষ প্রয়োজনে গাছ লাগাতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়নের জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার গাছ কাটা হচ্ছে। ফলে –
– বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়ছে।
– অসময়ে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে।
– মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, মরুভূমি বাড়ছে।
– বহু পশুপাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
এই ধ্বংস ঠেকাতে শুধু একটি-দুটি গাছ লাগালে হবে না, এর জন্য চাই গণ-আন্দোলন বা অভিযান। তাই সরকার, স্কুল, ক্লাব, পঞ্চায়েত সবাই মিলে বৃক্ষরোপণ অভিযান চালাচ্ছে।
আমাদের কর্তব্য ও কীভাবে অভিযান সফল করব: প্রতি বছর ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং জুলাই মাসে বনমহোৎসব পালন করা হয়। এই সময় প্রচুর গাছ লাগানো হয়। কিন্তু শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছকে বাঁচাতে হবে।
১. আমাদের প্রত্যেকের উচিত বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তার যত্ন নেওয়া। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকীর মতো শুভ দিনে গাছ লাগানো এক সুন্দর প্রথা হতে পারে।
২. স্কুলে স্কুলে ছাত্রদের দিয়ে গাছ লাগানো এবং “একটি শিশু একটি গাছ” প্রকল্প চালু করা উচিত।
৩. রাস্তার ধারে, নদীর ধারে, পতিত জমিতে, বাড়ির আঙিনায় বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।
৪. গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং মানুষকে বোঝাতে হবে যে গাছ কাটা মানে নিজের ক্ষতি করা।
৫. সরকারের উচিত বৃক্ষরোপণকারীদের পুরস্কৃত করা এবং বেআইনি গাছ কাটার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
উপসংহার: মনে রাখতে হবে, আমরা যদি গাছকে বাঁচাই, গাছ আমাদের বাঁচাবে। বৃক্ষরোপণ অভিযান কোনো উৎসব নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই। আজ আমরা যে গাছটি লাগাবো, আগামীকাল সেটিই আমাদের সন্তানকে ছায়া দেবে, ফল দেবে, অক্সিজেন দেবে।
তাই আসুন, আমরা সকলে শপথ নিই – “গাছ লাগাও, প্রাণ বাঁচাও”। একটি সবুজ পৃথিবী, একটি সুস্থ পৃথিবী গড়ার জন্য আমরা সকলে মিলে বৃক্ষরোপণ অভিযানে সামিল হই। কারণ গাছ আছে তো প্রাণ আছে, গাছ আছে তো ভবিষ্যৎ আছে।
Madhyamik Bengali Model Answers-6
৬. যেকোনো একটি করো: (5)
6.1 তোমার বিদ্যালয়ে পালিত ‘রবীন্দ্র জয়ন্তী’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখো।
আমার বিদ্যালয়ে পালিত ‘রবীন্দ্র জয়ন্তী’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন
ভগবানপুর, বাঁকুড়া, ১০ই মে:
গত ৯ই মে আমাদের ভগবানপুর হাই স্কুলে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও আনন্দের সঙ্গে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালিত হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে প্রধান শিক্ষক মহাশয় রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। এরপর সমবেত কণ্ঠে “হে নূতন দেখা দিক আরবার” গানটি গাওয়া হয়।
ছাত্রছাত্রীরা নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশন করে। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীরা “আমরা সবাই রাজা” গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে সকলের মন জয় করে। নবম শ্রেণির ছাত্ররা “ডাকঘর” নাটকের একটি অংশ অভিনয় করে। শিক্ষক মহাশয় রবীন্দ্রনাথের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
শেষে প্রধান শিক্ষক তাঁর ভাষণে বলেন, রবীন্দ্রনাথ শুধু কবি নন, তিনি আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শক। তাঁর আদর্শ মেনে চলতে হবে।
অনুষ্ঠানটি দুপুর ১টায় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শেষ হয়। প্রায় ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
Madhyamik Bengali Model Answers-6
৬.২ গ্রন্থাগার স্থাপনের জন্য জেলা শাসকের কাছে পত্র
মাননীয় জেলা শাসক
পুরুলিয়া জেলা
পুরুলিয়া
বিষয়: সাঁতুড়ি এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থাগার স্থাপনের আবেদন
মহাশয়/মহাশয়া,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি সাঁতুড়ি হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং সাঁতুড়ি এলাকার একজন বাসিন্দা। আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই পত্র লিখছি।
আমাদের সাঁতুড়ি একটি বড় জনবহুল এলাকা। এখানে ৪টি হাই স্কুল, ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি কলেজ আছে। প্রায় ৩০,০০০ মানুষের বাস। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এখানে কোনো সরকারি গ্রন্থাগার নেই। একটি ছোট ঘরে কিছু পুরনো বই নিয়ে একটি গ্রন্থাগার ছিল, তাও এখন বন্ধ।
ফলে ছাত্রছাত্রীরা খুব অসুবিধায় পড়ছে। অনেক গরিব ছাত্রছাত্রী আছে যারা বই কিনতে পারে না, তাদের পড়াশোনার জন্য গ্রন্থাগার খুব দরকার। এছাড়া সাধারণ মানুষ, চাকরি প্রার্থী যুবক-যুবতীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বই পায় না। মোবাইলের যুগে ছেলেমেয়েরা বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, একটি গ্রন্থাগার তাদের আবার বইমুখী করবে।
অতএব, আপনার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, আমাদের সাঁতুড়ি বাজারের কাছে পঞ্চায়েতের যে ফাঁকা জায়গা আছে, সেখানে একটি সরকারি গ্রন্থাগার স্থাপন করে আমাদের উপকৃত করুন।
আপনার উত্তরের আশায় রইলাম।
বিনীত
তোমার বিশ্বস্ত
অমিত মণ্ডল
সাঁতুড়ি, পুরুলিয়া
তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.