NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Bengali Model Answers-8/2

Madhyamik Bengali Model Answers-8

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? বাংলা (প্রথম ভাষা) বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক বাংলা (প্রথম ভাষা) Madhyamik Bengali Model Answers-8 (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৭টি MCQ, ১৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন, ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন, ব্যাকরণ, নির্মিতি এবং রচনা সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Bengali Model Answers-8

Madhyamik Bengali Model Answers
Madhyamik Bengali Model Answers

বাংলা (প্রথম ভাষা)

⟽ Previous Part

৫. অনধিক 400 শব্দে যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (10)

৫.১ কন্যাশ্রী প্রকল্প

ভূমিকা: মেয়েরা হলো সমাজের ভবিষ্যৎ। কিন্তু একসময় বাংলার গ্রামে গ্রামে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হতো, পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেত। এই অন্ধকার দূর করতে, মেয়েদের মুখে হাসি ফোটাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক যুগান্তকারী প্রকল্প শুরু করেছে, যার নাম কন্যাশ্রী প্রকল্প। ২০১৩ সালের ১লা অক্টোবর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের সূচনা করেন। আজ কন্যাশ্রী শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি বাংলার মেয়েদের গর্ব, বাংলার গর্ব।

কন্যাশ্রী কী: কন্যাশ্রী হলো মেয়েদের জন্য একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো মেয়েদের স্কুলে ধরে রাখা, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা। এই প্রকল্পের ট্যাগলাইন হলো – “মেয়েদের শিক্ষা, মেয়েদের জয়”।

প্রকল্পের তিনটি ভাগ:

কন্যাশ্রী প্রকল্পে তিন ধরনের সাহায্য দেওয়া হয় –
১. K1 – বার্ষিক বৃত্তি: যে সব মেয়ে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী এবং অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে, তাদের প্রতি বছর ১০০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হয়। এখন এই টাকা বেড়ে বছরে ১০০০ টাকা হয়েছে। এর ফলে গরিব পরিবারের মেয়েরা বই, খাতা, স্কুলের পোশাক কিনতে পারে।
২. K2 – এককালীন অনুদান: যখন কোনো মেয়ে ১৮ বছর পূর্ণ করে এবং অবিবাহিত অবস্থায় উচ্চমাধ্যমিক বা কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যায়, তখন তাকে এককালীন ২৫,০০০ টাকা দেওয়া হয়। এই টাকা দিয়ে সে উচ্চশিক্ষা বা নিজের বিয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারে।
৩. K3 – উচ্চশিক্ষার জন্য: পরে K3 নামে আরেকটি প্রকল্প চালু হয়েছে, যেখানে কন্যাশ্রী মেয়েরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বছরে আরও বেশি টাকা – স্নাতকে ২৫০০ টাকা মাসে এবং স্নাতকোত্তরে ৩০০০ টাকা মাসে বৃত্তি পায়।

কন্যাশ্রীর সুফল: কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুফল আজ চোখে দেখা যাচ্ছে।
১. স্কুলছুট কমেছে: আগে অনেক মেয়ে অষ্টম শ্রেণির পর স্কুল ছেড়ে দিত। এখন কন্যাশ্রীর টাকার জন্য তারা স্কুলে আসছে, পড়াশোনা করছে।
২. বাল্যবিবাহ কমেছে: ১৮ বছরের আগে বিয়ে করলে K2-এর ২৫,০০০ টাকা পাওয়া যায় না। তাই বাবা-মায়েরা এখন মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিচ্ছেন না। ফলে বাল্যবিবাহ অনেক কমেছে।
৩. নারীর ক্ষমতায়ন: মেয়েদের হাতে সরাসরি টাকা আসছে, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট হচ্ছে। তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখছে, আত্মবিশ্বাস বাড়ছে।
৪. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: এই প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাষ্ট্রসংঘের (UN) প্রথম পুরস্কার পেয়েছে – “United Nations Public Service Award 2017″। সারা বিশ্ব আজ কন্যাশ্রীকে মডেল হিসেবে দেখছে।

আমার অভিজ্ঞতা: আমাদের স্কুলে প্রায় সব মেয়েই কন্যাশ্রী পায়। আমার বোনও কন্যাশ্রী পেয়েছে। সে ওই টাকায় বই কিনেছে, একটি সাইকেল কিনেছে। এখন সে রোজ সাইকেলে করে স্কুলে যায়। তার স্বপ্ন সে কলেজে পড়বে, শিক্ষিকা হবে। কন্যাশ্রী তার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

উপসংহার: কন্যাশ্রী শুধু টাকা দেওয়ার প্রকল্প নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। এটি বাংলার মেয়েদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছে। যে মেয়েটি একসময় বোঝা ছিল, আজ সে-ই সম্পদ।
তাই কন্যাশ্রী প্রকল্পকে সফল করতে আমাদের সকলের উচিত মেয়েদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। কারণ একটি মেয়ে শিক্ষিত হলে একটি পরিবার শিক্ষিত হয়, একটি সমাজ শিক্ষিত হয়। কন্যাশ্রীই পারে “বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও” – এই স্বপ্নকে সত্যি করতে।

Madhyamik Bengali Model Answers-8

৫.২ বাংলার উৎসব

ভূমিকা: বাংলা উৎসবের রাজ্য। বাঙালির জীবনে বারো মাসে তেরো পার্বণ। দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটনের মধ্যেও বাঙালি উৎসবকে আঁকড়ে ধরে বাঁচে। উৎসব মানে মিলন, উৎসব মানে আনন্দ, উৎসব মানে ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়া। তাই বলা হয় – “বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা, আর শ্রেষ্ঠ আবেগ সেই উৎসবের অপেক্ষা।” বাংলার প্রতিটি উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি।

বাংলার প্রধান উৎসবসমূহ: বাংলার উৎসবকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় –
১. ধর্মীয় উৎসব:
– দুর্গাপূজা: বাংলার প্রধান উৎসব হলো দুর্গাপূজা। শরৎকালে চার দিন ধরে মা দুর্গার আরাধনা হয়। এই সময় পুরো বাংলা আলো, প্যান্ডেল, ঢাকের শব্দে মেতে ওঠে। এটি এখন UNESCO-র হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দুদের নয়, সকল বাঙালির উৎসব।
– কালীপূজা ও দীপাবলি: কার্তিক মাসে আলোর উৎসব।
– ঈদ: মুসলমানদের প্রধান উৎসব। রমজান মাসের শেষে ঈদ-উল-ফিতর এবং কোরবানির ঈদ। এই দিনে সকলে কোলাকুলি করে, সেমাই খায়, আনন্দ ভাগ করে নেয়।
– বড়দিন: ২৫শে ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন। এই দিনে গির্জায় প্রার্থনা হয়, কেক কাটা হয়। বাঙালি এখন এই উৎসবেও মেতে ওঠে।
– গুরু নানকের জন্মদিন, বুদ্ধ পূর্ণিমা: বাংলায় সব ধর্মের উৎসবই সমান আনন্দে পালিত হয়।

২. ঋতুভিত্তিক ও সামাজিক উৎসব:
– পয়লা বৈশাখ – বাংলা নববর্ষ: এটি বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই দিনে নতুন জামা পরে, দোকানে হালখাতা হয়, মিষ্টি খাওয়া হয়।
– পৌষ সংক্রান্তি ও পৌষ মেলা: শীতকালে পিঠে-পুলি, পাটিসাপটা খাওয়ার উৎসব। শান্তিনিকেতনে এই সময় বিখ্যাত পৌষ মেলা হয়, যেখানে বাউল গান, আদিবাসী নৃত্য হয়।
– বসন্ত উৎসব / দোল – হোলি: ফাগুন মাসে রঙের উৎসব। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুরু করেছিলেন বসন্ত উৎসব। সকলে আবির মেখে আনন্দ করে।
– নবান্ন: অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধান ঘরে এলে কৃষকেরা নবান্ন উৎসব করে। নতুন চালের ভাত, পায়েস রান্না হয়।
– রথযাত্রা: আষাঢ় মাসে মাহেশ ও ইসকনের রথযাত্রা খুব বিখ্যাত।

৩. অন্যান্য মেলা ও উৎসব: বাংলায় সারাবছর মেলা লেগেই থাকে – বইমেলা, শিল্পমেলা, বাউল মেলা, জয়দেব মেলা, গঙ্গাসাগর মেলা। গঙ্গাসাগর মেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ স্নান করতে আসে।

উৎসবের গুরুত্ব: বাংলার উৎসবের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। দুর্গাপূজায় মুসলমান বন্ধু আসে, ঈদে হিন্দু বন্ধু যায়। উৎসব আমাদের ভেদাভেদ ভুলিয়ে দেয়, মানুষে মানুষে মিলন ঘটায়।
উৎসবের সময় অর্থনীতিও চাঙ্গা হয়। কুমোর, তাঁতি, ঢাকি, মিষ্টির দোকানদার, নতুন জামার দোকান – সকলের রোজগার বাড়ে।
উৎসব আমাদের একঘেয়ে জীবনে নতুন প্রাণ আনে। সারা বছর আমরা এই উৎসবগুলোর জন্যই অপেক্ষা করি।

উপসংহার: আজকের দিনে উৎসবে অতিরিক্ত শব্দ, আলো, মদ্যপান, অপচয় – এসব খারাপ দিকও ঢুকেছে। আমাদের সচেতন হতে হবে যাতে উৎসবের আসল আনন্দ নষ্ট না হয়। উৎসব হোক নির্মল, পরিবেশবান্ধব ও সকলের জন্য।
পরিশেষে বলা যায়, উৎসব ছাড়া বাঙালি বাঁচতে পারে না। বাংলার উৎসবই বাংলার পরিচয়। এই উৎসবগুলোই আমাদের শেখায় – “এসো, আমরা সকলে এক হই, আনন্দ ভাগ করে নিই।” তাই বাংলার উৎসব চিরকাল অমলিন থাকুক, বাঙালির মিলনমেলা হয়ে থাকুক।

Madhyamik Bengali Model Answers-8

৫.৩ তোমার দেখা একটি বিপর্যয়

ভূমিকা: প্রকৃতি কখনো শান্ত, কখনো ভয়ঙ্কর। যখন প্রকৃতি রেগে যায়, তখন মানুষ কত অসহায় তা বোঝা যায়। মানুষ বিজ্ঞানে অনেক উন্নতি করেছে, কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সামনে সে আজও অসহায়। আমি আমার জীবনে এমনই একটি ভয়ঙ্কর বিপর্যয় দেখেছি – আমফান ঘূর্ণিঝড়। যদিও আমি তখন খুব ছোট ছিলাম, কিন্তু তার স্মৃতি আজও আমার মনে টাটকা।

বিপর্যয়ের বিবরণ: সালটা ছিল ২০২০, ২০শে মে। আমি তখন ক্লাস ফোরে পড়ি। দু-তিন দিন ধরেই টিভিতে, রেডিওতে শুনছিলাম – বঙ্গোপসাগরে এক ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে, নাম আমফান। আস্তে আস্তে সেটি বাংলার দিকে এগিয়ে আসছে। সরকার থেকে বারবার বলা হচ্ছিল সকলকে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে।
দুপুর থেকেই আকাশ কালো করে এলো। চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল। প্রথমে শুরু হলো হালকা বৃষ্টি, তারপর শুরু হলো প্রচণ্ড ঝড়। এমন ঝড় আমি জীবনে দেখিনি। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে মনে হচ্ছিল যেন দৈত্য ছুটে আসছে। আমাদের মাটির বাড়ির চাল কাঁপতে শুরু করলো। বাবা তাড়াতাড়ি আমাদের পাশের স্কুলবাড়িতে নিয়ে গেলেন, সেখানে আশ্রয় শিবির হয়েছিল।
বিকেল ৪টে থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলল তাণ্ডব। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার। কী ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্য! স্কুলের জানলা দিয়ে দেখলাম – বড় বড় আম গাছ, তাল গাছ, বটগাছ উপড়ে পড়ছে। টিনের চাল উড়ে যাচ্ছে। ইলেকট্রিকের খুঁটি ভেঙে পড়ছে। আমাদের গ্রামের পুকুর, মাঠ সব জলে ভরে গেল। মনে হচ্ছিল পৃথিবী যেন শেষ হয়ে যাচ্ছে। কারেন্ট চলে গেল, চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু ঝড়ের শব্দ আর মানুষের কান্না।

বিপর্যয়ের পরের দৃশ্য: পরদিন সকালে যখন ঝড় থামলো, বাইরে বেরিয়ে দেখি – এ যেন অন্য এক গ্রাম। চারদিকে শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। আমাদের গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়ির চাল উড়ে গেছে। আমাদের বাড়ির রান্নাঘরের চাল উড়ে গিয়েছিল। বড় বড় গাছ রাস্তায় পড়ে আছে, তাই কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না। তিন দিন আমাদের গ্রামে কারেন্ট ছিল না, ফোনে নেটওয়ার্ক ছিল না। খাবার জলের খুব কষ্ট হয়েছিল, কারণ সব টিউবওয়েল জলে ডুবে গিয়েছিল। ধানক্ষেত, সবজি ক্ষেত সব নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কৃষকদের মাথায় হাত।
আমাদের বনগাঁ এলাকাতেও অনেক ক্ষতি হয়েছিল। বাঁকুড়া, দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, সুন্দরবন – সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল সুন্দরবনে। সেখানকার মানুষ ঘরবাড়ি, গবাদি পশু সব হারিয়েছিল।

মানুষের পাশে মানুষ: এই বিপর্যয়ের মধ্যেও একটা সুন্দর জিনিস দেখেছিলাম – মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সরকার থেকে ত্রাণ এসেছিল – ত্রিপল, চাল, ডাল, জল। আমাদের স্কুলের শিক্ষকরা, ক্লাবের দাদারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছিলেন। পাশের গ্রামের মানুষ আমাদের জন্য রান্না করা খাবার নিয়ে এসেছিল।

শিক্ষা: এই বিপর্যয় আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
১. প্রকৃতির সামনে মানুষ কত ছোট।
২. গাছ কাটার ফল কত ভয়ঙ্কর। আমরা যদি বেশি বেশি গাছ কাটি, তাহলে ঝড়, বন্যা আরও বাড়বে। তাই বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।
৩. বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই হলো মানবতা।

উপসংহার: আমফান আমার দেখা সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। সেই কালো বিকেলের কথা মনে পড়লে আজও আমার গা শিউরে ওঠে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, এমন বিপর্যয় যেন আর কখনো না আসে। কিন্তু যদি আসেও, আমরা যেন সকলে একসঙ্গে তার মোকাবিলা করতে পারি। আর আমাদের এখন থেকেই সচেতন হতে হবে – পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে, গাছ লাগাতে হবে, প্লাস্টিক দূষণ কমাতে হবে। তবেই হয়তো প্রকৃতি শান্ত থাকবে।

Madhyamik Bengali Model Answers-8

৫.৪ ছাত্রজীবনে শৃঙ্খলার গুরুত্ব

ভূমিকা: শৃঙ্খলা ছাড়া কোনো জীবনই সুন্দর হতে পারে না। শৃঙ্খলা শব্দটির অর্থ হলো নিয়ম মেনে চলা। যেমন সৈনিকরা নিয়ম মেনে চলে, তেমনি জীবনেও নিয়ম মেনে চলাই হলো শৃঙ্খলা। ছাত্রজীবন হলো ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত। এই ভিত যদি শৃঙ্খলার ওপর তৈরি হয়, তবে ভবিষ্যৎ জীবন মজবুত হয়। আর ভিত যদি নড়বড়ে হয়, তাহলে পুরো জীবনটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই বলা হয় – “ছাত্রজীবনে শৃঙ্খলাই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি।”

শৃঙ্খলা কী: শৃঙ্খলা মানে শুধু স্কুলের নিয়ম মানা নয়। শৃঙ্খলা মানে হলো –
– সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা ও ঘুমাতে যাওয়া।
– সময়মতো পড়াশোনা, খেলাধুলা, খাওয়া-দাওয়া করা।
– বড়দের কথা মেনে চলা, শিক্ষকদের সম্মান করা।
– নিজের কাজ নিজে সময়মতো করা।
– রাস্তাঘাটে, শ্রেণিকক্ষে, খেলার মাঠে নিয়ম মেনে চলা।

ছাত্রজীবনে শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা:
১. পড়াশোনায় সাফল্য: যে ছাত্র শৃঙ্খলাবদ্ধ, তার একটি রুটিন থাকে। সে সময় নষ্ট করে না। সকালে ওঠে, নিয়মিত পড়ে, স্কুলের বাড়ির কাজ সময়মতো করে। ফলে পরীক্ষার আগে তাকে তাড়াহুড়ো করতে হয় না। আর যে ছাত্র অগোছালো, সে সারাবছর খেলা করে, পরীক্ষার আগে রাত জেগে পড়ে, কিন্তু ভালো ফল করতে পারে না।
২. চরিত্র গঠন: শৃঙ্খলা মানুষের চরিত্রকে সুন্দর করে। শৃঙ্খলাবদ্ধ ছাত্র সত্য কথা বলে, অন্যের ক্ষতি করে না, লোভ করে না। তার মধ্যে নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ জন্মায়।
৩. শারীরিক ও মানসিক বিকাশ: শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন মানে পরিমিত খাওয়া, সময়মতো খেলা ও বিশ্রাম। এতে শরীর সুস্থ থাকে, মন ভালো থাকে। “A sound mind in a sound body” – সুস্থ দেহেই সুস্থ মন থাকে।
৪. ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতি: আজকের ছাত্র আগামী দিনের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, সৈনিক, নাগরিক। যদি ছাত্রজীবন থেকেই সে শৃঙ্খলা না শেখে, তবে ভবিষ্যতে সে একজন দায়িত্বহীন নাগরিক হবে। একজন ডাক্তার যদি সময়মতো হাসপাতালে না যায়, একজন সৈনিক যদি শৃঙ্খলা না মানে, তাহলে দেশের কী হবে?

প্রকৃতি থেকেও শিক্ষা: প্রকৃতি আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়। সূর্য প্রতিদিন সময়মতো ওঠে ও অস্ত যায়। ঋতু সময়মতো আসে। পিঁপড়েরা সারি বেঁধে চলে, মৌমাছিরা নিয়ম মেনে মধু সংগ্রহ করে। চাঁদ, তারা, গ্রহ – সকলেই নিয়ম মেনে চলে। যদি প্রকৃতি শৃঙ্খলা না মানতো, তাহলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত।

শৃঙ্খলাহীনতার ফল: শৃঙ্খলাহীন ছাত্রজীবন অভিশাপের মতো। শৃঙ্খলাহীন ছাত্র ক্লাসে দেরি করে আসে, শিক্ষকদের কথা শোনে না, পড়াশোনায় ফাঁকি দেয়, খারাপ সঙ্গে মেশে। ধীরে ধীরে সে নেশা, মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়।

কীভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়া যায়:
১. একটি দৈনিক রুটিন তৈরি করতে হবে এবং তা মেনে চলতে হবে।
২. সময়ের মূল্য দিতে হবে। “সময়ের কাজ সময়ে করো”।
৩. বড়দের ও শিক্ষকদের উপদেশ মেনে চলতে হবে।
৪. মোবাইল ও টিভির ব্যবহার কমাতে হবে।
৫. খেলাধুলা ও যোগব্যায়াম করতে হবে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, শৃঙ্খলা ছাড়া ছাত্রজীবন মাঝিহীন নৌকার মতো। সেই নৌকা যেমন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না, তেমনি শৃঙ্খলাহীন ছাত্রও জীবনে সফল হতে পারে না। তাই ছাত্রজীবনের প্রথম থেকেই আমাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে। মনে রাখতে হবে – যে ছাত্র শৃঙ্খলা মানে, শৃঙ্খলাই একদিন তাকে সম্মানের উচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়।

Madhyamik Bengali Model Answers-8

৬. যেকোনো একটি করো: (5)

৬.১ তোমার বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বিজ্ঞান মেলা’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন

অন্ডাল, ২৮শে আগস্ট: গত ২৭শে আগস্ট আমাদের অন্ডাল হাই স্কুলে এক বর্ণাঢ্য বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়। স্কুলের বিজ্ঞান ক্লাব ও শিক্ষকদের উদ্যোগে এই মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান শিক্ষক শ্রী অমল কুমার দত্ত এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞান শিক্ষক শ্রী সুব্রত চট্টোপাধ্যায়। মেলায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০টি দল অংশগ্রহণ করে।
মেলায় ছাত্রছাত্রীদের তৈরি বিভিন্ন মডেল প্রদর্শিত হয়। দশম শ্রেণির ছাত্রদের তৈরি “সৌরশক্তিতে জল পরিশোধন”, নবম শ্রেণির “ভূমিকম্প অ্যালার্ম মডেল” এবং অষ্টম শ্রেণির “বর্জ্য থেকে সার তৈরি” মডেল তিনটি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে। এছাড়া “চন্দ্রযান-৩”, “জল দূষণ রোধ”, “স্মার্ট গ্রাম” এর মতো মডেলগুলো সকলের নজর কাড়ে।
প্রায় ৫০০ জন ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক মেলা পরিদর্শন করেন। বিচারকমণ্ডলী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, এই মেলা ছাত্রদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীলতা বাড়াবে।
মেলাটি বিকাল ৩টায় শেষ হয়।

৬.২ বন্ধুকে গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে পত্র

গোদাগাড়ি, মুর্শিদাবাদ
০৮/০৯/২০২৬

প্রিয় মিঠুন,
আশা করি ভালো আছিস। অনেকদিন তোর কোনো চিঠি পাইনি। তোর পরীক্ষা কেমন হলো?
তুই তো জানিস, আমাদের গ্রীষ্মের ছুটি ২০শে মে থেকে শুরু হচ্ছে। এবার ছুটিতে আমি কোথাও যাচ্ছি না। তাই ভাবছি, তুই যদি এই ছুটিতে আমাদের বাড়ি শালতোড়ায় বেড়াতে আসিস, খুব ভালো হয়।
আমাদের এখানে অনেক সুন্দর জায়গা আছে। আমরা একসাথে শালতোড়ার শালবন, বড়ন্তি লেক, বিহারীনাথ পাহাড় ঘুরতে যাব। দুপুরে পুকুরে স্নান করব, আমবাগানে আম খাব, আর বিকালে মাঠে ক্রিকেট খেলব। মা তোর জন্য তোর প্রিয় পায়েস রান্না করবে বলেছে। আর আমাদের স্কুলের লাইব্রেরি থেকে অনেক গল্পের বই এনে দুজনে পড়ব।
তুই এলে আমার ছুটিটা দারুণ কাটবে। একা একা ছুটি কাটাতে ভালো লাগে না। তোর বাবা-মাকে আমার প্রণাম দিস।
তুই অবশ্যই আসবি কিন্তু, আমি তোর অপেক্ষায় থাকলাম। চিঠি দিয়ে জানাস কবে আসছিস।

ইতি,
তোর প্রিয় বন্ধু
সৌরভ
—   ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading