NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Geography Model Answers-1/2

Madhyamik Geography Model Answers-1

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-1) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Geography Model Answers-1

Madhyamik Geograpy Model Answers
Madhyamik Geograpy Model Answers

Geography (ভূগোল)

(Part-2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক (3×6=18)

4.1 নদীর ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির চিত্র সহ বর্ণনা করো।
উত্তর: নদী উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত তিনটি কাজ করে, যথাঃ

নদীর ভূমিরূপ: উৎস থেকে মোহনা
নদীর ভূমিরূপ: উৎস থেকে মোহনা

i. ক্ষয় কার্য – উচ্চগতিতে: নদীর বেগ বেশি থাকায় ক্ষয় বেশি হয়।
– V-আকৃতির উপত্যকা: নদী নিম্নক্ষয় করে গভীর V এর মতো উপত্যকা তৈরি করে।
– গিরিখাত ও ক্যানিয়ন: খুব গভীর ও খাড়া উপত্যকা। যেমন সিন্ধু নদের গিরিখাত ও আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।
– জলপ্রপাত ও মন্থকূপ: কঠিন ও নরম শিলার জন্য জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়, যেমন কর্ণাটকের যোগ জলপ্রপাত। নদীর তলায় ঘূর্ণির ফলে মন্থকূপ সৃষ্টি হয়।

ii. বহন কার্য – মধ্যগতিতে: নদী চার ভাবে বহন করে – ভাসমান প্রক্রিয়ায় পলি, লম্ফদান প্রক্রিয়ায় বালি, আকর্ষণ প্রক্রিয়ায় নুড়ি গড়িয়ে এবং দ্রবণ প্রক্রিয়ায় লবণ জলে গুলে বহন করে।

iii. সঞ্চয় কার্য – মধ্য ও নিম্নগতিতে: বেগ কমে যাওয়ায় সঞ্চয় শুরু হয়।
– পলল শঙ্কু: পাহাড়ের পাদদেশে নুড়ি জমে শঙ্কুর মতো ভূমিরূপ।
– প্লাবনভূমি ও প্রাকৃতিক বাঁধ: দুই পাড়ে পলি জমে উর্বর প্লাবনভূমি ও নদীর ধারে উঁচু প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়।
– অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ: নদীর বাঁক বা মিয়েন্ডার কেটে গিয়ে ঘোড়ার খুরের মতো হ্রদ তৈরি হয়।
– ব-দ্বীপ: মোহনায় পলি জমে ব-দ্বীপ তৈরি হয়। যেমন গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের সুন্দরবন ব-দ্বীপ, যা বিশ্বের বৃহত্তম।

4.2 হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: হিমবাহ বরফের চাপে ও টানে ক্ষয় করে নিম্নলিখিত ভূমিরূপ তৈরি করে –

হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ
হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

i. করি বা সার্ক: পর্বতের মাথায় চেয়ারের মতো বা হাতা আকৃতির গর্ত। হিমবাহ গলে গেলে করি হ্রদ তৈরি হয়।
ii. এরিটি বা তীক্ষ্ণ শৈলশিরা: দুটি করির মধ্যবর্তী ছুরির ফলার মতো ধারালো শৈলশিরাকে এরিটি বলে।
iii. পিরামিড চূড়া বা হর্ন: তিন বা চারটি করি মিলে পিরামিডের মতো তীক্ষ্ণ চূড়া তৈরি করে। যেমন আল্পসের ম্যাটারহর্ন।
iv. U-আকৃতির উপত্যকা: হিমবাহ V উপত্যকাকে ঘষে চওড়া ও গভীর U আকৃতি করে দেয়। যেমন কাশ্মীরের উপত্যকা।
v. ঝুলন্ত উপত্যকা: প্রধান হিমবাহ উপত্যকা গভীর হয় এবং শাখা হিমবাহ উপত্যকা উঁচুতে ঝুলে থাকে, মিলনস্থলে জলপ্রপাত তৈরি হয়।
vi. রসে মতানে: হিমবাহের দিকে মসৃণ এবং বিপরীত দিকে খাড়া এবড়ো-খেবড়ো ভেড়ার পিঠের মতো টিলা।
vii. ফিয়র্ড: সমুদ্র উপকূলে U উপত্যকা সমুদ্রের জলে ডুবে গিয়ে ফিয়র্ড তৈরি করে, যেমন নরওয়ে উপকূলে।

Madhyamik Geography Model Answers-1

4.3 বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার তারতম্যের তিনটি কারণ আলোচনা করো।
উত্তর: উষ্ণতার তারতম্যের প্রধান তিনটি কারণ হল –
i. অক্ষাংশ: নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে তাই উষ্ণতা বেশি, প্রায় 27°C। মেরুর দিকে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ায় উষ্ণতা কমে যায়, প্রায় -30°C। যত অক্ষাংশ বাড়ে তত উষ্ণতা কমে।
ii. উচ্চতা: ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি 1000 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে 6.5°C হারে উষ্ণতা কমে। একে নরমাল ল্যাপস রেট বলে। তাই সমুদ্রপৃষ্ঠে 30°C হলে 2000 মিটার উঁচু পর্বতে -3°C হয়। তাই দার্জিলিং ঠান্ডা।
iii. সমুদ্র থেকে দূরত্ব: সমুদ্রের কাছে জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়। যেমন মুম্বাইতে সারা বছর 25°-30°C থাকে। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরে ভিতরের দিকে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু হয়। যেমন দিল্লিতে গ্রীষ্মে 45°C এবং শীতে 5°C। সমুদ্র থেকে দূরে গেলে দিন-রাত্রি ও গ্রীষ্ম-শীতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ে।

4.4 ভারতের পশ্চিম হিমালয় ও পূর্ব হিমালয়ের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় পশ্চিম হিমালয় পূর্ব হিমালয়
বিস্তার জম্মু-কাশ্মীর থেকে নেপাল পর্যন্ত নেপাল থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত
উচ্চতা ও প্রস্থ বেশি উঁচু, বেশি চওড়া, হিমবাহ বেশি কম চওড়া কিন্তু বেশি খাড়া
বৃষ্টিপাত বৃষ্টি কম, শীতকালে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে তুষারপাত বেশি বৃষ্টি খুব বেশি 200-400 সেমি, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে
উদ্ভিদ সরলবর্গীয় বন – পাইন, দেবদারু চিরহরিৎ বন – রডোডেনড্রন, ওক
হ্রদ বেশি হ্রদ আছে – ডাল, উলার, মানসবল হ্রদ কম আছে

4.5 গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি কৃষিতে উন্নত কেন?
উত্তর: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি কৃষিতে উন্নত, কারণ –
i. উর্বর মাটি: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও তাদের শাখা নদী বাহিত পলি দিয়ে এই সমভূমি গঠিত। পলি মাটি ও দোআঁশ মাটি খুব উর্বর এবং প্রতি বছর বন্যায় নতুন পলি পড়ে উর্বরতা বাড়ে।
ii. জলের সহজলভ্যতা: গঙ্গা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র নদী এবং খাল ও নলকূপ থেকে সারা বছর সেচের জল পাওয়া যায়।
iii. অনুকূল জলবায়ু: উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু ধান, গম, পাট, আখ, সবজি চাষের জন্য আদর্শ। এখানে বছরে 2-3 বার ফসল ফলানো যায়।
iv. সমতল ভূমি ও অন্যান্য সুবিধা: সমতল ভূমি হওয়ায় চাষে ট্রাক্টর, যন্ত্রপাতি ব্যবহার সহজ। ঘন জনবসতি থাকায় সস্তা শ্রমিক, উন্নত বাজার ও রেলপথের সুবিধা আছে। তাই এই অঞ্চলকে ভারতের শস্যভাণ্ডার বলা হয়।

4.6 ভারতে কার্পাস চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ বর্ণনা করো।
উত্তর: কার্পাস বা তুলো কৃষ্ণ মাটির ফসল। ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম কার্পাস উৎপাদক।
i. জলবায়ু: কার্পাস চাষে 20°-30°C তাপমাত্রা, 50-100 সেমি বৃষ্টিপাত, 200 দিন তুষারমুক্ত পরিষ্কার আকাশ ও প্রচুর রোদ প্রয়োজন। বর্ষার শুরুতে বোনা হয় এবং শরৎকালে তোলা হয়।
ii. মাটি: কৃষ্ণ মাটি বা রেগুর মাটি কার্পাস চাষের জন্য আদর্শ। এই মাটি কাদা মাটি যুক্ত, জল ধরে রাখতে পারে এবং লোহা, চুন, পটাশ ও ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকে।
iii. জমি: সমতল জমি এবং জল নিকাশির ভালো ব্যবস্থা থাকা দরকার, যাতে জমিতে জল না জমে।
iv. শ্রমিক: তুলো তোলার জন্য প্রচুর সস্তা ও দক্ষ শ্রমিক প্রয়োজন।
v. অন্যান্য: উন্নত বীজ, সার, সেচ ও বাজারের সুবিধা প্রয়োজন। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কার্পাস সবচেয়ে বেশি চাষ হয়।

4.7 ভারতে তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের উন্নতির কারণ লেখো।
উত্তর: ভারতে তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের উন্নতির কারণগুলি হল –
i. দক্ষ ও সস্তা শ্রমিক: ভারতে প্রচুর ইংরেজি জানা দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার কম বেতনে কাজ করে। বেঙ্গালুরু ও হায়দ্রাবাদে IIT ও NIT-এর মতো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যায়।
ii. সরকারি সাহায্য: সরকার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক বা STPI এবং SEZ তৈরি করে ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও কর ছাড়ের সুবিধা দিয়েছে।
iii. বিদেশি বাজার ও টাইম জোনের সুবিধা: আমেরিকা ও ইউরোপে ভারতীয় সফটওয়্যারের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। টাইম জোনের সুবিধার জন্য রাতে আমেরিকার কাজ দিনে ভারতে করা যায়।
iv. উন্নত পরিকাঠামো: বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে, চেন্নাই ও কলকাতায় IT হাব গড়ে উঠেছে। এখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, উন্নত জীবনযাত্রা ও বিদেশি বিনিয়োগের সুবিধা রয়েছে।

4.8 ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে স্কেলের ব্যবহার আলোচনা করো।
উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে স্কেল হল মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত। ভারতে Survey of India বা SOI 1:250000, 1:50000 ও 1:25000 স্কেলে টপো মানচিত্র তৈরি করে। 1:50000 স্কেল মানে মানচিত্রে 1 সেমি = ভূমিতে 500 মিটার।

স্কেলের তিনটি প্রকার:
i. বিবৃতিমূলক স্কেল: কথায় লেখা থাকে, যেমন 1 সেমিতে 1 কিমি। সাধারণ মানুষের বুঝতে সহজ।
ii. ভগ্নাংশ সূচক স্কেল বা RF: ভগ্নাংশে লেখা থাকে, যেমন 1:50000। এর মানে মানচিত্রে 1 একক = ভূমিতে 50000 একক। গাণিতিক হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
iii. রৈখিক বা গ্রাফিক স্কেল বার: একটি রেখাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে দূরত্ব দেখানো হয়। এটি মানচিত্র বড় বা ছোট করলেও ঠিক থাকে, তাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
ব্যবহার: স্কেলের সাহায্যে দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব, নদীর দৈর্ঘ্য, কোনো অঞ্চলের ক্ষেত্রফল, ভূমির ঢাল ও উচ্চতা নির্ণয় করা যায় এবং রাস্তা, বাঁধ ও সেচ প্রকল্পের পরিকল্পনা করা যায়।

Madhyamik Geography Model Answers-1

বিভাগ – ঙ: দীর্ঘ উত্তর (5×5=25)

5.1 নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির চিত্র সহ আলোচনা করো।
উত্তর: মধ্যগতিতে ঢাল কমে, নদীর বেগ কমে, তাই ক্ষয় কমে এবং বহন ও সঞ্চয় বাড়ে। নিম্নগতিতে সঞ্চয়ই প্রধান।
i. মিয়েন্ডার বা নদীবাঁক: নদী সমভূমিতে এঁকেবেঁকে চলে। কারণ বাইরের পাড়ে জলের চাপ বেশি, তাই ক্ষয় হয় এবং ভিতরের পাড়ে পলি জমে।
ii. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ: বাঁক খুব বেড়ে গেলে দুই বাঁক কাছাকাছি আসে। বন্যার সময় নদী বাঁক কেটে সোজা হয়ে যায়, পুরনো বাঁক বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘোড়ার খুরের মতো হ্রদ হয়। উত্তরবঙ্গে একে বিল বলে।
iii. প্লাবনভূমি: বর্ষাকালে নদী দুই কূল ছাপিয়ে প্রতি বছর পলি ফেলে যে অত্যন্ত উর্বর সমতল ভূমি তৈরি করে, তাকে প্লাবনভূমি বলে। গঙ্গা সমভূমি এর উদাহরণ।
iv. প্রাকৃতিক বাঁধ বা লেভি: প্লাবনভূমির ঠিক নদীর দুই পাশে মোটা বালি জমে উঁচু বাঁধ তৈরি হয়, যা বন্যার সময় মানুষকে রক্ষা করে।
v. নিম্নগতিতে ব-দ্বীপ: মোহনার কাছে নদীর বেগ শূন্য হলে নদী অনেক শাখায় ভাগ হয়ে পলি জমিয়ে ত্রিকোণাকার দ্বীপ তৈরি করে। সুন্দরবন ব-দ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম, 10,000 বর্গ কিমি। এছাড়া নদীর মাঝে চর ও বিনুনি নদী তৈরি হয়।

5.2 বায়ুমণ্ডলের চাপবলয়গুলির সঙ্গে নিয়ত বায়ুপ্রবাহের সম্পর্ক আলোচনা করো। মৌসুমী বায়ু কি নিয়ত বায়ু? যুক্তি দাও।
উত্তর: চাপবলয় ও নিয়ত বায়ুর সম্পর্ক:
পৃথিবীতে 7টি স্থায়ী চাপবলয় আছে – 0° নিরক্ষীয় নিম্নচাপ, 30° উত্তরে কর্কটীয় উচ্চচাপ ও 30° দক্ষিণে মকরীয় উচ্চচাপ, 60° উত্তরে সুমেরু নিম্নচাপ ও 60° দক্ষিণে কুমেরু নিম্নচাপ, 90° উত্তরে সুমেরু উচ্চচাপ ও 90° দক্ষিণে কুমেরু উচ্চচাপ। উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে সারা বছর যে বায়ু একই দিকে বয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। কোরিওলিস বলের জন্য উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে বেঁকে যায়।
i. আয়ন বায়ু: 30° উচ্চচাপ থেকে 0° নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় – উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু। হ্যাডলি কোষ তৈরি করে।
ii. পশ্চিমা বায়ু: 30° উচ্চচাপ থেকে 60° নিম্নচাপে – দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু উত্তর গোলার্ধে। ইউরোপে সারা বছর বৃষ্টি আনে। ফেরেল কোষ।
iii. মেরু বায়ু: 90° উচ্চচাপ থেকে 60° নিম্নচাপে – ঠান্ডা ও শুষ্ক। মেরু কোষ।

মৌসুমী বায়ু কি নিয়ত বায়ু? না।
যুক্তি: নিয়ত বায়ু সারা বছর একই দিকে বয়। কিন্তু মৌসুমী বায়ু ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে। গ্রীষ্মে সমুদ্র থেকে স্থলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এবং শীতে স্থল থেকে সমুদ্রে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বয়। এটি সমুদ্র ও স্থলভাগের তাপের পার্থক্যে সৃষ্ট সাময়িক ও স্থানীয় বায়ু। তাই মৌসুমী বায়ুকে আয়ন বায়ুরই একটি পরিবর্তিত রূপ বলা হয়, কিন্তু এটি নিয়ত বায়ু নয়।

5.3 ভারতের মৃত্তিকার শ্রেণিবিভাগ করো ও যেকোনো দুটির বৈশিষ্ট্য লেখো। মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ ও প্রতিকার লেখো।
উত্তর:
শ্রেণিবিভাগ: ICAR অনুযায়ী ভারতে 8 প্রকার মৃত্তিকা আছে – i. পলি মৃত্তিকা, ii. কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর, iii. লাল মৃত্তিকা, iv. ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা, v. মরু মৃত্তিকা, vi. পার্বত্য মৃত্তিকা, vii. জৈব বা পিট মৃত্তিকা, viii. লবণাক্ত মৃত্তিকা।
দুটির বৈশিষ্ট্য:
পলি মৃত্তিকা: নদীর পলি থেকে তৈরি, দোআঁশ প্রকৃতির, নাইট্রোজেন কম, পটাশ ও চুন বেশি, অত্যন্ত উর্বর। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমিতে ধান, গম, পাট ভালো হয়।
কৃষ্ণ মৃত্তিকা: ব্যাসল্ট শিলা ক্ষয়ে তৈরি, কালো রং, আঠালো, জল ধরে রাখার ক্ষমতা বেশি, চুন, লোহা, ম্যাগনেসিয়াম বেশি। মহারাষ্ট্রে কার্পাস ও আখ চাষের জন্য আদর্শ।

মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ: i. জল দ্বারা ক্ষয় – বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে যায়, নদীর পাড় ভাঙে। ii. বায়ু দ্বারা ক্ষয় – রাজস্থানে বালি উড়ে যায়। iii. মানুষ দ্বারা – নির্বিচারে বন কাটা, অতিরিক্ত চাষ ও পশুচারণ।
প্রতিকার: i. বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক বনসৃজন, ii. পাহাড়ে ধাপ চাষ, iii. সমোন্নতি রেখা বরাবর ফালি চাষ, iv. বাঁধ ও Check Dam নির্মাণ, v. অতিরিক্ত পশুচারণ বন্ধ, vi. জৈব সার ও ফসল আবর্তন।

5.4 ভারতে ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ, বন্টন ও সমস্যা আলোচনা করো। ভারতের খাদ্য সমস্যা সমাধানে সবুজ বিপ্লবের গুরুত্ব কী?
উত্তর: ধান ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য ও খরিফ শস্য।
অনুকূল পরিবেশ: i. জলবায়ু – 20°-30°C তাপমাত্রা, 100-200 সেমি বৃষ্টি ও 80% আর্দ্রতা। জমিতে জল জমে থাকা দরকার। ii. মাটি – উর্বর পলি, দোআঁশ মাটি যা জল ধরে রাখে। iii. জমি – সমতল ও নিচু। iv. শ্রমিক – রোয়া ও কাটার জন্য প্রচুর সস্তা শ্রমিক প্রয়োজন।
বন্টন: ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান উৎপাদক। পশ্চিমবঙ্গ প্রথম, বর্ধমানকে ধানের গোলা বলে। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, তামিলনাড়ুতে চাষ হয়। পশ্চিমবঙ্গে তিনটি মরসুম – আমন বর্ষাকালে প্রধান, আউস শরৎকালে ও বোরো গ্রীষ্মকালে সেচে চাষ হয়।
সমস্যা: i. ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্ত জোত, ii. মৌসুমী বৃষ্টির উপর নির্ভরতা, iii. বন্যা ও খরা, iv. উন্নত বীজ ও সারের অভাব, v. সংরক্ষণ ও বাজারের অভাব।

সবুজ বিপ্লবের গুরুত্ব: 1960-এর দশকে ড. এম. এস. স্বামীনাথনের নেতৃত্বে উচ্চ ফলনশীল বীজ IR8, জয়া, সার, সেচ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে ধান ও গমের উৎপাদন 35 মিলিয়ন টন থেকে 130 মিলিয়ন টনে বেড়ে যায়। পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গে খাদ্যে স্বনির্ভরতা আসে, ভারত খাদ্য আমদানি বন্ধ করে এবং দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি পায়। 2023 সালে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান উৎপাদক।

5.5 ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব আলোচনা করো। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উপায় লেখো।
উত্তর: ভারত 2023 সালে 142 কোটি জনসংখ্যা নিয়ে বিশ্বে প্রথম।
কারণ: i. জন্মহার বেশি ও মৃত্যুহার কম। 1951 সালে জন্মহার 40/1000, মৃত্যুহার 25/1000 ছিল, এখন জন্মহার 19/1000, মৃত্যুহার 6/1000। চিকিৎসা, টিকা ও পুষ্টির উন্নতিতে মৃত্যুহার কমেছে, কিন্তু জন্মহার সেভাবে কমেনি। ii. বাল্যবিবাহ, নিরক্ষরতা ও ধর্মীয় কুসংস্কার, বেশি সন্তানকে আশীর্বাদ মনে করা। iii. দারিদ্র্য – গরিব পরিবারে সন্তান শ্রমিক হিসাবে কাজ করে। iv. বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে অভিবাসন।
প্রভাব: i. অর্থনৈতিক – বেকারত্ব 7%, দারিদ্র্য, খাদ্য, বাসস্থান, জল ও বিদ্যুৎ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি। ii. সামাজিক – শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহনে চাপ, বস্তি বৃদ্ধি, যেমন মুম্বাইয়ের ধারাভি। iii. পরিবেশগত – বন কাটা, দূষণ, জমির উপর চাপ ও মৃত্তিকা ক্ষয়।
নিয়ন্ত্রণের উপায়: i. শিক্ষা বিস্তার, বিশেষ করে নারী শিক্ষা, ii. পরিবার পরিকল্পনা ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রচার, iii. বাল্যবিবাহ রোধ আইন কঠোর করা, iv. সরকারি স্লোগান – ‘হম দো হমারে দো’ প্রচার, v. অর্থনৈতিক উন্নতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, vi. টিভি, রেডিও ও গণমাধ্যমে সচেতনতা।

Madhyamik Geography Model Answers-1

5.6 ভারতের মানচিত্রে নিম্নলিখিতগুলি চিহ্নিত করো
উত্তর: মানচিত্রে চিহ্নিত স্থানগুলির বর্ণনা –

ভারতের মানচিত্র-চিহ্নিত স্থানসমূহ
ভারতের মানচিত্র-চিহ্নিত স্থানসমূহ

[A] শীতল মরুভূমি – লাদাখ: জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উত্তরে লেহ এর কাছে। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল, বৃষ্টি খুব কম, ঠান্ডা মরুভূমি।
[B] বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল – শিলং: মেঘালয় রাজ্যে খাসি পাহাড়ের উত্তর ঢালে শিলং। দক্ষিণ ঢালে চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টি, কিন্তু উত্তর ঢাল বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল, বৃষ্টি কম।
[C] নর্মদা নদী: মধ্যপ্রদেশের অমরকন্টক থেকে উৎপত্তি, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আরব সাগরে পড়েছে। এটি পশ্চিমবাহী নদী, ব-দ্বীপ তৈরি করে না, খাঁড়ি তৈরি করে।
[D] কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চল – মহারাষ্ট্র: মহারাষ্ট্রের মালভূমি – নাগপুর, পুনে, সোলাপুর অঞ্চলে কালো রঙে দেখানো হয়। ব্যাসল্ট শিলা থেকে তৈরি, তুলো চাষের জন্য আদর্শ।
[E] কফি উৎপাদক অঞ্চল – কর্ণাটক: কর্ণাটকের দক্ষিণ-পশ্চিমে চিকমাগালুর, কুর্গ বা কোডাগু ও হাসান জেলা। ভারতের 60% কফি এখানে উৎপাদিত হয়।
[F] ভারতের বৃহত্তম বন্দর – মুম্বাই: মহারাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে আরব সাগরের তীরে মুম্বাই বন্দর। এটি ভারতের বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন্দর এবং সর্বাধিক পণ্য ওঠানামা করে।
[G] জনবিরল রাজ্য – অরুণাচল প্রদেশ: উত্তর-পূর্ব ভারতে অরুণাচল প্রদেশ। পার্বত্য ও বনাঞ্চল, জনঘনত্ব মাত্র 17 জন/বর্গ কিমি, ভারতে সবচেয়ে কম।

 


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading