Madhyamik Geography Model Answers-1
Madhyamik Geography Model Answers-1
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-1) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Geography Model Answers-1

বিভাগ – ক: MCQ – ব্যাখ্যা সহ উত্তর
1.1 বহির্জাত প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ হল –
[A] ভঙ্গিল পর্বত [B] আগ্নেয় পর্বত
[C] নদীর প্লাবনভূমি ✓ [D] স্তূপ পর্বত
ব্যাখ্যা: বহির্জাত প্রক্রিয়া হল নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্রতরঙ্গের ক্ষয় ও সঞ্চয়। প্লাবনভূমি নদীর সঞ্চয়ে গঠিত বহির্জাত ভূমিরূপ। বাকি তিনটি অন্তর্জাত প্রক্রিয়ায় ভূ-আলোড়নের ফলে গঠিত।
1.2 হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হয় –
[A] অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ [B] করি বা সার্ক ✓
[C] বালিয়াড়ি [D] পলল শঙ্কু
ব্যাখ্যা: করি বা সার্ক হল হিমবাহের ক্ষয়ে সৃষ্ট হাতলওয়ালা চেয়ারের মতো গর্ত। অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ নদীর ক্ষয়ে, বালিয়াড়ি বায়ুর সঞ্চয়ে, পলল শঙ্কু নদীর সঞ্চয়ে হয়।
1.3 এল-নিনোর প্রভাবে ভারতে –
[A] খরা হয় ✓ [B] বন্যা হয়
[C] স্বাভাবিক বৃষ্টি হয় [D] শীত বাড়ে
ব্যাখ্যা: এল-নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বভাগে অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। এর ফলে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়, বৃষ্টি কমে ও খরা হয়। লা-নিনায় বন্যা হয়।
1.4 জেট বায়ু প্রবাহিত হয় –
[A] ট্রপোস্ফিয়ারে [B] স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ✓
[C] মেসোস্ফিয়ারে [D] আয়নোস্ফিয়ারে
ব্যাখ্যা: জেট বায়ু ট্রপোপজের কাছে অর্থাৎ ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের সীমানা ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে (9-12 কিমি) প্রবাহিত হয়। বই অনুযায়ী একে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেই ধরা হয়।
1.5 ভারতের একটি লবণাক্ত হ্রদ –
[A] ডাল [B] চিল্কা
[C] সম্বর ✓ [D] উলার
ব্যাখ্যা: রাজস্থানের সম্বর হ্রদ ভারতের বৃহত্তম লবণাক্ত হ্রদ, এখান থেকে লবণ উৎপাদন হয়। চিল্কা লবণাক্ত উপহ্রদ (লেগুন), ডাল ও উলার মিষ্টি জলের হ্রদ।
1.6 গঙ্গা নদীর উৎস –
[A] গোমুখ ✓ [B] যমুনোত্রী
[C] মানস সরোবর [D] অমরকন্টক
ব্যাখ্যা: উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে ভাগীরথী নামে গঙ্গার উৎপত্তি, দেবপ্রয়াগে অলকানন্দার সাথে মিলে গঙ্গা নাম হয়।
1.7 ব্ল্যাক কটন সয়েল নামে পরিচিত –
[A] পলি মাটি [B] ল্যাটেরাইট মাটি
[C] কৃষ্ণ মাটি / রেগুর ✓ [D] লাল মাটি
ব্যাখ্যা: কৃষ্ণ মাটিতে লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম বেশি, জল পেলে আঠালো হয়, তুলা চাষ ভালো হয় তাই একে ব্ল্যাক কটন সয়েল বা রেগুর বলে। মহারাষ্ট্রে বেশি।
1.8 ভারতে কফি চাষ বেশি হয় –
[A] কেরলে [B] কর্ণাটকে ✓
[C] তামিলনাড়ুতে [D] অসমে
ব্যাখ্যা: ভারতের 70% কফি কর্ণাটকে (চিকমাগালুর, কুর্গ) হয়। কফির জন্য ছায়া ও 150-200 সেমি বৃষ্টি দরকার।
1.9 ভারতের বৃহত্তম লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র –
[A] ভিলাই [B] জামশেদপুর ✓
[C] দুর্গাপুর [D] বোকারো
ব্যাখ্যা: জামশেদপুরের TISCO (Tata Steel) ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি ও উৎপাদনে বৃহত্তম ইস্পাত কেন্দ্র। বোকারো বৃহত্তম সরকারি কেন্দ্র।
1.10 ভারতের সিলিকন ভ্যালি বলা হয় –
[A] হায়দ্রাবাদকে [B] বেঙ্গালুরুকে ✓
[C] চেন্নাইকে [D] পুনেকে
ব্যাখ্যা: বেঙ্গালুরুতে Infosys, Wipro সহ হাজারো IT কোম্পানি আছে, তাই একে ভারতের সিলিকন ভ্যালি বলে।
1.11 উপগ্রহ চিত্রে নীল রঙ দ্বারা বোঝানো হয় –
[A] বনভূমি [B] জলভাগ ✓
[C] জনবসতি [D] কৃষিজমি
ব্যাখ্যা: স্ট্যান্ডার্ড FCC উপগ্রহ চিত্রে – নীল/কালো = জল, লাল = উদ্ভিদ/বন, সাদা/ধূসর = জনবসতি, হলুদ/হালকা সবুজ = কৃষিজমি।
1.12 1:50000 মাপনীতে RF হল –
[A] 1/50000 ✓ [B] 50000
[C] 1/5000 [D] 1/500000
ব্যাখ্যা: RF = Representative Fraction। 1:50000 মানে মানচিত্রের 1 একক = ভূমির 50000 একক, তাই RF = 1/50000
1.13 মরু অঞ্চলে গড়ে ওঠে –
[A] বিক্ষিপ্ত জনবসতি ✓ [B] রৈখিক জনবসতি
[C] গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি [D] বৃত্তাকার জনবসতি
ব্যাখ্যা: মরুভূমিতে জলের অভাব, তাই যেখানে মরূদ্যান আছে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে ওঠে। নদীর ধারে রৈখিক বসতি হয়।
1.14 ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ –
[A] জন্মহার বৃদ্ধি [B] মৃত্যুহার হ্রাস ✓
[C] অভিবাসন [D] সবগুলি
ব্যাখ্যা: চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতিতে মৃত্যুহার 27 থেকে 7 এ নেমেছে, কিন্তু জন্মহার তত কমেনি (33 থেকে 19), তাই জনসংখ্যা বাড়ছে।
➣দেখুন:Madhyamik Bengali Model Answers
Madhyamik Geography Model Answers-1
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×16=16)
2.1 অবরোহন ও আরোহনের মিলিত ফলকে কী বলে?
উত্তর: অবরোহন ও আরোহনের মিলিত ফলকে পর্যায়ন বলে। অবরোহন প্রক্রিয়ায় ক্ষয়ের মাধ্যমে ভূমির উচ্চতা হ্রাস পায় এবং আরোহন প্রক্রিয়ায় সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। এই দুই প্রক্রিয়ার মিলিত প্রভাবে ভূমি অবশেষে সমতল বা পর্যায়িত হয়।
2.2 পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ কোনটি?
উত্তর: পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ হল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা ব-দ্বীপ, যা সুন্দরবন ব-দ্বীপ নামেও পরিচিত। এর আয়তন প্রায় 1 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এবং এটি ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে বিস্তৃত।
2.3 একটি মরু সম্প্রসারণ রোধের উপায় লেখো।
উত্তর: মরু সম্প্রসারণ রোধের প্রধান উপায় হল ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও বনসৃজন। বিশেষ করে বায়ুপ্রবাহের দিকে আড়াআড়িভাবে সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগিয়ে শেল্টার বেল্ট তৈরি করা এবং অতিরিক্ত পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ করা।
2.4 ওজোন স্তর ধ্বংসকারী একটি গ্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: ওজোন স্তর ধ্বংসকারী প্রধান গ্যাসটি হল ক্লোরো-ফ্লুরো কার্বন বা CFC। এই গ্যাস প্রধানত ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার এবং স্প্রে থেকে নির্গত হয়।
2.5 মৌসুমী বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা ভারতে প্রথম কোথায় আঘাত করে?
উত্তর: মৌসুমী বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা ভারতে প্রথম কেরলের মালাবার উপকূলে আঘাত করে। সাধারণত প্রতি বছর 1লা জুন নাগাদ এই বায়ু কেরলে প্রবেশ করে।
2.6 গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মিলিত প্রবাহের নাম কী?
উত্তর: গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মিলিত প্রবাহের নাম পদ্মা। এই মিলিত প্রবাহ বাংলাদেশে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয় এবং পরে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
2.7 ভারতের একটি জৈবসার নির্ভর কৃষির নাম লেখো।
উত্তর: ভারতের জৈবসার নির্ভর কৃষির নাম হল জৈব কৃষি বা অর্গানিক ফার্মিং। সিকিম হল ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ জৈব কৃষি রাজ্য।
2.8 পাঞ্জাবে কৃষি বিপ্লবকে কী বলে?
উত্তর: পাঞ্জাবে কৃষি বিপ্লবকে সবুজ বিপ্লব বলে। 1960-এর দশকে উচ্চ ফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার ব্যবহারে গম ও ধানের উৎপাদন অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পায়।
2.9 ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র কোনটি?
উত্তর: ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র হল ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের TISCO বা বর্তমান টাটা স্টিল। এটি 1907 সালে জামশেদজি টাটা প্রতিষ্ঠা করেন।
Madhyamik Geography Model Answers-1
2.10 দক্ষিণ ভারতের ম্যানচেস্টার কাকে বলে?
উত্তর: দক্ষিণ ভারতের ম্যানচেস্টার বলা হয় তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরকে। এখানে প্রচুর কার্পাস বয়ন শিল্প কেন্দ্র গড়ে ওঠায় এই নামকরণ করা হয়েছে।
2.11 ভারতের প্রথম মহাকাশ উপগ্রহের নাম কী?
উত্তর: ভারতের প্রথম কৃত্রিম মহাকাশ উপগ্রহের নাম হল আর্যভট্ট। এটি 1975 সালের 19শে এপ্রিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়।
2.12 ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে কালো রঙে কী দেখানো হয়?
উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে কালো রঙে মানুষের তৈরি বিভিন্ন বস্তু দেখানো হয়, যেমন – রেলপথ, কাঁচা রাস্তা, বাঁধ, টেলিফোন লাইন এবং প্রশাসনিক সীমানা।
2.13 জনবসতির একটি প্রভাবক উল্লেখ করো।
উত্তর: জনবসতি গড়ে ওঠার একটি প্রধান প্রভাবক হল জলের সহজলভ্যতা। তাই নদী, হ্রদ ও জলাশয়ের পাশে জনবসতি বেশি গড়ে ওঠে।
2.14 ভারতের জনঘনত্ব সবচেয়ে বেশি কোন রাজ্যে?
উত্তর: 2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের জনঘনত্ব সবচেয়ে বেশি বিহার রাজ্যে। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় 1106 জন মানুষ বাস করে।
2.15 23°30′ উত্তর অক্ষাংশে কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের কোন কোন রাজ্যের উপর দিয়ে গেছে?
উত্তর: কর্কটক্রান্তি রেখা 23°30′ উত্তর অক্ষাংশ বরাবর বিস্তৃত, 30° নয়। এটি ভারতের মোট 8টি রাজ্যের উপর দিয়ে গেছে। রাজ্যগুলি হল – গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
2.16 সুনামির প্রধান কারণ কী?
উত্তর: সুনামির প্রধান কারণ হল সমুদ্রতলে প্রবল ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা সমুদ্রতলে ভূমিধস। এর ফলে সমুদ্রে বিশাল ও শক্তিশালী ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় যা উপকূলে আছড়ে পড়ে।
Madhyamik Geography Model Answers-1
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত উত্তর (2×8=16)
3.1 পর্যায়ন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবরোহন বা ক্ষয়কার্যের দ্বারা ভূমির উচ্চ স্থানগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচু হয় এবং আরোহন বা সঞ্চয়কার্যের দ্বারা নিচু স্থানগুলি ভরাট হয়ে ভূমির উচ্চতার সমতা আনা হয়, তাকে পর্যায়ন বা Gradation বলে।
এই ধারণাটি প্রথম দেন বিজ্ঞানী চেম্বারলিন ও সলিসবেরি এবং পরে ডেভিস একে জনপ্রিয় করেন।
উদাহরণ: হিমালয় পর্বত নদী দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সেই পলি গঙ্গা সমভূমিতে সঞ্চিত হয়ে সমতল সমভূমি গঠন করছে – এটি পর্যায়নের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
3.2 হিমবাহ ও জলধারার মিলিত সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট দুটি ভূমিরূপের নাম লেখো।
উত্তর: হিমবাহ গলে গেলে হিমবাহ ও হিমবাহ-গলা জলধারা একসাথে মিলিতভাবে সঞ্চয় করে যে ভূমিরূপগুলি গঠন করে, তাদের মধ্যে প্রধান দুটি হল –
i. বহিঃবিধৌত সমভূমি বা আউটওয়াশ প্লেন: হিমবাহের শেষ প্রান্তে হিমবাহ-গলা জল দ্বারা বাহিত নুড়ি, বালি, কাদা ছড়িয়ে পড়ে যে বিস্তীর্ণ সমভূমি গঠিত হয়, তাকে বহিঃবিধৌত সমভূমি বলে।
ii. এসকার: বরফের নিচে প্রবাহিত নদীর দ্বারা নুড়ি, বালি সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘ, সংকীর্ণ, আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ গঠিত হয়, তাকে এসকার বলে। এছাড়া কেম ও কেটল হ্রদও এই মিলিত সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয়।
3.3 বিশ্ব উষ্ণায়নের দুটি প্রভাব লেখো।
উত্তর: বিশ্ব উষ্ণায়নের দুটি ভয়াবহ প্রভাব হল –
i. জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি: উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চল ও হিমালয়ের বরফ গলে যাবে। সমুদ্রের জলস্তর 1 মিটার বৃদ্ধি পেলে সুন্দরবন, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাইয়ের মতো উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রের জলে ডুবে যাবে।
ii. প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি: উষ্ণায়নের ফলে এল-নিনো ও লা-নিনার প্রভাব ঘন ঘন ঘটবে। এর ফলে কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা এবং কোথাও অনাবৃষ্টি ও খরা দেখা দেবে, ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়বে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে।
Madhyamik Geography Model Answers-1
3.4 মৌসুমী বায়ুর বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: মৌসুমী বায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
i. ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন: আরবি শব্দ মৌসিম থেকে মৌসুমী শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ ঋতু। এই বায়ু ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে। গ্রীষ্মকালে এটি সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় এবং শীতকালে স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
ii. আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত: গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী বায়ু জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু। ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় 75 শতাংশ এই বায়ুর দ্বারা ঘটে।
iii. অনিশ্চিত প্রকৃতি: এই বায়ু খুব অনিশ্চিত। কখনও সময়ের আগে আসে, কখনও দেরিতে আসে, কখনও বেশি বৃষ্টি দিয়ে বন্যা ঘটায় আবার কখনও কম বৃষ্টি দিয়ে খরা ঘটায়।
3.5 দুন ও তাল কী?
উত্তর: দুন: শিবালিক হিমালয় ও হিমাচল বা মধ্য হিমালয়ের মধ্যে অবস্থিত চওড়া, দীর্ঘ ও প্রশস্ত পলি সঞ্চিত উপত্যকাকে দুন বলে। নদীবাহিত পলি সঞ্চয়ের ফলে এই উপত্যকা গঠিত হয়। যেমন দেরাদুন হল সবচেয়ে বিখ্যাত দুন, এছাড়া কোটা দুন, পাটলি দুন উল্লেখযোগ্য।
তাল: কুমায়ুন হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় তাল বলে। যেমন নৈনিতাল, ভীমতাল, সাততাল হল হিমবাহ সৃষ্ট তালের উদাহরণ।
3.6 ভারতের জলবায়ুতে জেট বায়ুর প্রভাব লেখো।
উত্তর: ভারতের জলবায়ুতে জেট বায়ুর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ –
i. শীতকালে পশ্চিমী জেট বায়ুর প্রভাব: শীতকালে উপক্রান্তীয় পশ্চিমী জেট বায়ু ভূমধ্যসাগর থেকে উৎপন্ন পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে ভারতে টেনে আনে। এর প্রভাবে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হয়, যা রবি শস্য বিশেষ করে গম চাষের পক্ষে খুব উপকারী।
ii. গ্রীষ্মকালে পূর্বী জেট বায়ুর প্রভাব: গ্রীষ্মকালে ক্রান্তীয় পূর্বী জেট বায়ু ভারতের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে ভারতের দিকে ত্বরান্বিত করে। এটি মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনকে নিয়ন্ত্রণ করে।
3.7 সামাজিক বনসৃজন কাকে বলে?
উত্তর: সমাজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য, সমাজের মানুষের সহযোগিতায়, সরকারি ও বেসরকারি পতিত জমি, রাস্তার দুই ধারে, রেললাইনের ধারে এবং বসত এলাকার আশেপাশে যে বনভূমি গড়ে তোলা হয়, তাকে সামাজিক বনসৃজন বা Social Forestry বলে।
এর প্রধান উদ্দেশ্য হল জ্বালানি কাঠ, পশুখাদ্য, ফল, ছোট কাঠের যোগান দেওয়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। 1976 সালে জাতীয় কৃষি কমিশন প্রথম এই ধারণাটি দেয়।
3.8 পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গম চাষ উন্নত কেন?
উত্তর: পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গম চাষ উন্নত হওয়ার কারণগুলি হল –
i. উর্বর মাটি ও উন্নত সেচ ব্যবস্থা: এখানে শতদ্রু, বিপাশা নদী বাহিত উর্বর পলি মাটি আছে এবং ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ থেকে সারা বছর সেচের জল পাওয়া যায়।
ii. অনুকূল জলবায়ু: শীতকালে এখানে গম চাষের জন্য প্রয়োজনীয় 10°-15° সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ফলে শীতকালীন বৃষ্টিপাত গম চাষে সাহায্য করে।
iii. সবুজ বিপ্লবের প্রভাব: এখানে সবুজ বিপ্লব সফল হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল বীজ যেমন HD 2967, রাসায়নিক সার, আধুনিক যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের সুবিধা পাওয়া যায়।
iv. আর্থ-সামাজিক কারণ: এখানকার কৃষকরা ধনী, শিক্ষিত এবং কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী।
Madhyamik Geography Model Answers-1
3.9 পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প বেশি গড়ে ওঠার দুটি কারণ লেখো।
উত্তর: পূর্ব ও মধ্য ভারতে বিশেষ করে ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে লৌহ-ইস্পাত শিল্প বেশি গড়ে ওঠার কারণ হল –
i. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: এই অঞ্চলে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রয়োজনীয় সমস্ত কাঁচামাল একসাথে পাওয়া যায়। যেমন সিংভূম ও ময়ূরভঞ্জ থেকে লোহা, ঝরিয়া ও রানিগঞ্জ থেকে কয়লা এবং সুন্দরগড় থেকে ম্যাঙ্গানিজ ও চুনাপাথর পাওয়া যায়।
ii. জল, পরিবহন ও শ্রমিকের সুবিধা: দামোদর ও সুবর্ণরেখা নদী থেকে প্রচুর জল পাওয়া যায়, কলকাতা-মুম্বাই রেলপথ দ্বারা পরিবহনের সুবিধা আছে, স্থানীয় আদিবাসী সস্তা শ্রমিক পাওয়া যায় এবং কাছাকাছি শিল্পাঞ্চলে চাহিদা বা বাজারও আছে।
3.10 উপগ্রহ চিত্রের দুটি সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।
উত্তর:
সুবিধা: i. উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে একসাথে বিশাল অঞ্চলের ছবি পাওয়া যায়। দুর্গম অঞ্চল যেমন হিমালয়, সুন্দরবন বা মরুভূমি সহজে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
ii. এর মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, দাবানল ও দূষণ পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান করা যায়।
অসুবিধা: i. আকাশে মেঘ থাকলে উপগ্রহ চিত্র অস্পষ্ট ও ঝাপসা হয়ে যায়।
ii. এই চিত্রে খুব ছোট বস্তু যেমন বাড়ি বা একক গাছ চেনা কঠিন। এটি বিশ্লেষণের জন্য দামি যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়।
3.11 ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের তিনটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক বা টপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্রের তিনটি প্রধান ব্যবহার হল –
i. ভূমিরূপ ও ভূমি ব্যবহার জানা: এই মানচিত্র থেকে কোনো অঞ্চলের ভূমির প্রকৃতি, উচ্চতা, ঢাল, নদী, পাহাড়, বনভূমি, জনবসতি ও রাস্তাঘাট সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। সেনাবাহিনী, পর্বতারোহী ও পর্যটকরা এই মানচিত্র ব্যবহার করেন।
ii. উন্নয়ন পরিকল্পনায়: নদী উপত্যকা পরিকল্পনা, বাঁধ নির্মাণ, রাস্তা ও রেলপথ নির্মাণ, শিল্প স্থাপন এবং সেচ পরিকল্পনায় এই মানচিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
iii. শিক্ষা ও প্রশাসনে: ভূগোল শিক্ষায় ভূমিরূপ পাঠ, মৃত্তিকা ও বনভূমি জরিপ এবং প্রশাসনিক কাজে জেলার সীমানা নির্ধারণে এই মানচিত্র ব্যবহৃত হয়।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-2 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-1/2 » NIRYAS.IN