Madhyamik Geography Model Answers-2
Madhyamik Geography Model Answers-2
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-2) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Geography Model Answers-2

Geography (ভূগোল)
বিভাগ – ক: MCQ (1×14=14) – ব্যাখ্যা সহ উত্তর
1.1 পর্যায়নের ধারণা দেন –
[A] ডেভিস [B] গিলবার্ট
[C] পেঙ্ক ✓ [D] হাটন
ব্যাখ্যা: জার্মান বিজ্ঞানী পেঙ্ক পর্যায়ন বা গ্রেডেশন ধারণা দেন। এটি আবহবিকার, ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়ের সম্মিলিত ফল যা ভূমিকে সমতল করে। ডেভিস ক্ষয়চক্রের ধারণা দেন।
1.2 মরু অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যে সৃষ্টি হয় –
[A] ইয়ারদাং ✓ [B] এসকার
[C] প্লাবনভূমি [D] ডেল্টা
ব্যাখ্যা: ইয়ারদাং হল মরু অঞ্চলে কঠিন ও নরম শিলা পর্যায়ক্রমে থাকলে বায়ুর অপঘর্ষণে সৃষ্ট তীক্ষ্ণ শৈলশিরা। এসকার হিমবাহের সঞ্চয়ে, প্লাবনভূমি ও ডেল্টা নদীর সঞ্চয়ে গঠিত।
1.3 ওজোন গহ্বর দেখা যায় –
[A] আন্টার্কটিকায় ✓ [B] আফ্রিকায়
[C] ইউরোপে [D] এশিয়ায়
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ মেরুর আন্টার্কটিকার উপর 1985 সালে প্রথম ওজোন গহ্বর ধরা পড়ে। CFC গ্যাসের কারণে শীতকালে এখানে ওজোন স্তর 50% পাতলা হয়ে যায়।
1.4 আয়ন বায়ুকে বলে –
[A] বাণিজ্য বায়ু ✓ [B] পশ্চিমা বায়ু
[C] মেরু বায়ু [D] মৌসুমী বায়ু
ব্যাখ্যা: 0°-30° অক্ষাংশে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব থেকে বাণিজ্য বায়ু প্রবাহিত হয়। প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজ এই বায়ুর সাহায্যে চলত বলে একে বাণিজ্য বা আয়ন বায়ু বলে।
1.5 ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ –
[A] সিয়াচেন ✓ [B] গঙ্গোত্রী
[C] যমুনোত্রী [D] জেমু
ব্যাখ্যা: সিয়াচেন কারাকোরাম পর্বতে, দৈর্ঘ্য 75.6 কিমি। এটি ভারতের দীর্ঘতম এবং বিশ্বের মেরু অঞ্চলের বাইরে দ্বিতীয় দীর্ঘতম হিমবাহ। গঙ্গোত্রী 30 কিমি।
1.6 গোদাবরী নদীর উৎস –
[A] ত্রিম্বক ✓ [B] অমরকন্টক
[C] নাসিক [D] মহাবালেশ্বর
ব্যাখ্যা: গোদাবরী মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার ত্রিম্বক মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে 1465 কিমি প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। একে দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা বলে। অমরকন্টক নর্মদার উৎস।
1.7 ভারতের মরু মাটি দেখা যায় –
[A] রাজস্থানে ✓ [B] কেরলে
[C] বাংলায় [D] অসমে
ব্যাখ্যা: রাজস্থানের থর মরুভূমিতে বালুকাময় মরু মাটি দেখা যায়। এই মাটিতে জৈব পদার্থ কম, লবণ বেশি, জলধারণ ক্ষমতা কম।
1.8 ভারতে চা চাষের জন্য আদর্শ বৃষ্টিপাত –
[A] 150-200 সেমি ✓ [B] 50-100 সেমি
[C] 300 সেমি [D] 25 সেমি
ব্যাখ্যা: চা গাছের জন্য প্রচুর বৃষ্টি 150-200 সেমি, তাপ 20°-30°C এবং ঢালু জমি দরকার যাতে জল না জমে। অসম ও দার্জিলিং এ এই পরিবেশ আছে।
1.9 ভারতের প্রথম লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র –
[A] কুলটি ✓ [B] জামশেদপুর
[C] বার্নপুর [D] ভিলাই
ব্যাখ্যা: 1870 সালে বেঙ্গল আয়রন ওয়ার্কস কুলটিতে প্রথম স্থাপিত হয়। যদিও আধুনিক বৃহৎ কেন্দ্র হিসেবে জামশেদপুর (TISCO) 1907 সালে বিখ্যাত।
1.10 ভারতের ডেট্রয়েট বলা হয় –
[A] চেন্নাইকে ✓ [B] পুনেকে
[C] গুরুগ্রামকে [D] জামশেদপুরকে
ব্যাখ্যা: আমেরিকার ডেট্রয়েট যেমন মোটরগাড়ি শিল্পের জন্য বিখ্যাত, তেমনি চেন্নাইতে Hyundai, Ford, BMW সহ 40% ভারতের গাড়ি তৈরি হয়। তাই চেন্নাইকে ভারতের ডেট্রয়েট বলে।
1.11 IRS সিরিজের উপগ্রহ –
[A] ভারতের ✓ [B] USA এর
[C] রাশিয়ার [D] চীনের
ব্যাখ্যা: IRS = Indian Remote Sensing Satellite। ISRO 1988 সালে IRS-1A উৎক্ষেপণ করে। এটি প্রাকৃতিক সম্পদ পর্যবেক্ষণ, কৃষি, বন্যা নিরীক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
1.12 টপো মানচিত্রে নীল রঙে দেখানো হয় –
[A] জলাশয় ✓ [B] বনভূমি
[C] কৃষিজমি [D] জনবসতি
ব্যাখ্যা: টপোশিটে নীল = জল (নদী, হ্রদ, খাল), সবুজ = বনভূমি, হলুদ = কৃষিজমি, লাল = জনবসতি ও রাস্তা, বাদামী = সমোন্নতি রেখা।
1.13 গাঙ্গেয় সমভূমিতে দেখা যায় –
[A] পুঞ্জীভূত জনবসতি ✓ [B] বিক্ষিপ্ত জনবসতি
[C] রৈখিক জনবসতি [D] কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা: গাঙ্গেয় সমভূমি উর্বর, জল পাওয়া সহজ, সমতল তাই ঘন ও পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে। বিক্ষিপ্ত বসতি মালভূমি অঞ্চলে দেখা যায়।
1.14 আদমশুমারি হয় প্রতি –
[A] 10 বছর অন্তর ✓ [B] 5 বছর অন্তর
[C] 15 বছর অন্তর [D] 20 বছর অন্তর
ব্যাখ্যা: ভারতে প্রথম আদমশুমারি 1872, নিয়মিত 1881 থেকে প্রতি 10 বছরে হয়। শেষ আদমশুমারি 2011, পরবর্তী 2021 হওয়ার কথা ছিল কিন্তু পিছিয়ে গেছে।
➣দেখুন:Madhyamik Bengali Model Answers
Madhyamik Geography Model Answers-2
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×16=16)
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর
2.1 নগ্নীভবন কাকে বলে?
উত্তর: আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয়, নদী, হিমবাহ ও বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে ভূপৃষ্ঠের উপরের নরম মাটি ও শিলাস্তর অপসারিত হয়ে ভূ-অভ্যন্তরের কঠিন শিলা উন্মুক্ত হয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে নগ্নীভবন বলে। এটি পর্যায়নের প্রাথমিক পর্যায়।
2.2 পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি কোনটি?
উত্তর: উষ্ণ মরুভূমির মধ্যে পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি হল আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি, যার আয়তন প্রায় 90 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। শীতল মরুভূমি সহ ধরলে পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি হল অ্যান্টার্কটিকা, যার আয়তন প্রায় 140 লক্ষ বর্গ কিলোমিটার।
2.3 বার্খান কী?
উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়িকে বার্খান বলে। এর বায়ুপ্রবাহের দিক উত্তল ও মৃদু ঢালযুক্ত এবং বিপরীত দিক অবতল ও খাড়া ঢালযুক্ত হয় এবং দুই প্রান্তে দুটি শিং-এর মতো অংশ থাকে।
2.4 অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী দুটি গ্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী প্রধান দুটি গ্যাস হল সালফার ডাই-অক্সাইড (SOii. এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx)। এই গ্যাসগুলি বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের সাথে মিশে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটায়।
2.5 ভারতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি কোথায় হয়?
উত্তর: ভারতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় মেঘালয়ের মৌসিনরামে। এখানে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় 1187 সেন্টিমিটার, যা পৃথিবীতে সর্বাধিক। এর আগে চেরাপুঞ্জি সর্বাধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত স্থান ছিল।
2.6 কাশ্মীর উপত্যকা কোন দুই পর্বতের মধ্যে অবস্থিত?
উত্তর: কাশ্মীর উপত্যকা উত্তরে বৃহৎ হিমালয় বা হিমাদ্রি এবং দক্ষিণে মধ্য হিমালয় বা পিরপাঞ্জাল পর্বতশ্রেণীর মধ্যে অবস্থিত। ঝিলাম নদী এই উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
2.7 জায়িদ শস্য কাকে বলে?
উত্তর: রবি ও খরিফ মরসুমের মাঝে গ্রীষ্মকালে যে স্বল্পকালীন শস্য চাষ করা হয়, তাকে জায়িদ শস্য বলে। যেমন – তরমুজ, শসা, খরমুজা, বাদাম ও বিভিন্ন শাকসবজি হল জায়িদ শস্যের উদাহরণ।
2.8 ভারতে সবুজ বিপ্লবের জনক কে?
উত্তর: ভারতে সবুজ বিপ্লবের জনক হলেন ড. এম. এস. স্বামীনাথন এবং বিশ্বে সবুজ বিপ্লবের জনক হলেন নরম্যান বোরলগ। 1960-এর দশকে উচ্চ ফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার ও আধুনিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্যশস্য উৎপাদনে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে, তাকেই সবুজ বিপ্লব বলে।
2.9 ভারতে কোথায় প্রথম কাপড় কল গড়ে ওঠে?
উত্তর: ভারতে প্রথম কাপড় কল গড়ে ওঠে 1818 সালে কলকাতার কাছে ঘুষুড়িতে, কিন্তু তা সফল হয়নি। ভারতে প্রথম সফল কাপড় কল গড়ে ওঠে 1854 সালে বোম্বেতে, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কাওয়াসজি ডাভর।
2.10 বেঙ্গালুরুকে কেন সিলিকন ভ্যালি বলে?
উত্তর: বেঙ্গালুরুকে ভারতের সিলিকন ভ্যালি বলা হয় কারণ এটি তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র। আমেরিকার সিলিকন ভ্যালির মতো এখানে ইনফোসিস, উইপ্রোর মতো অসংখ্য IT কোম্পানি, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এবং সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে উঠেছে।
2.11 জিওস্টেশনারি উপগ্রহ কী?
উত্তর: যে কৃত্রিম উপগ্রহ নিরক্ষরেখার উপরে প্রায় 36,000 কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর আবর্তনের সাথে 24 ঘণ্টায় পশ্চিম থেকে পূর্বে একবার ঘোরে, তাকে জিওস্টেশনারি উপগ্রহ বলে। ফলে পৃথিবী থেকে একে স্থির বলে মনে হয়। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি ব্যবহৃত হয়, যেমন – INSAT, GSAT।
2.12 ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে সমোন্নতি রেখা কী রঙে আঁকা হয়?
উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে সমোন্নতি রেখা বাদামি রঙে আঁকা হয়। এই মানচিত্রে জলাশয় নীল রঙে, বনভূমি সবুজ রঙে, কৃষিজমি হলুদ রঙে এবং জনবসতি ও রাস্তাঘাট লাল রঙে দেখানো হয়।
2.13 জনবসতির সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: মানুষের বসবাসের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং তার পারিপার্শ্বিক ভৌত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সমষ্টিকে জনবসতি বলে।
2.14 2011 আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের সাক্ষরতার হার কত?
উত্তর: 2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের গড় সাক্ষরতার হার ছিল 74.04 শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ সাক্ষরতা 82.14 শতাংশ এবং নারী সাক্ষরতা 65.46 শতাংশ। কেরলে সাক্ষরতার হার সর্বাধিক, প্রায় 94 শতাংশ।
2.15 ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা কোনটি?
উত্তর: ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা হল 82°30′ পূর্ব দ্রাঘিমা। এটি উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের কাছে মির্জাপুরের উপর দিয়ে গেছে। এই দ্রাঘিমা অনুযায়ী ভারতীয় প্রমাণ সময় নির্ধারিত হয়, যা গ্রিনিচ সময় থেকে 5 ঘণ্টা 30 মিনিট এগিয়ে।
2.16 ভূমিকম্পের তীব্রতা কোন যন্ত্রে মাপা হয়?
উত্তর: ভূমিকম্পের পরিমাণ বা Magnitude রিখটার স্কেলে মাপা হয় এবং ভূমিকম্পের তীব্রতা বা Intensity মার্সালি স্কেলে মাপা হয়। ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রটির নাম হল সিসমোগ্রাফ বা সিসমোমিটার।
Madhyamik Geography Model Answers-2
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×8=16)
3.1 অবরোহন ও আরোহনের পার্থক্য লেখো।
উত্তর: অবরোহন ও আরোহনের মধ্যে পার্থক্যগুলি হল –
বিষয় অবরোহন আরোহন
সংজ্ঞা ক্ষয়কার্যের দ্বারা ভূমির উচ্চতা হ্রাস পাওয়ার প্রক্রিয়াকে অবরোহন বলে। সঞ্চয়কার্যের দ্বারা ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরোহন বলে।
প্রক্রিয়া নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্রতরঙ্গ পর্বত ও মালভূমিকে ক্ষয় করে। নদী পলি সঞ্চয় করে প্লাবনভূমি, ব-দ্বীপ, বালিয়াড়ি তৈরি করে।
অবস্থান পর্বত ও মালভূমি অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। সমভূমি ও সমুদ্র উপকূলে বেশি দেখা যায়।
ফলাফল ভূমির বন্ধুরতা কমে যায়। ভূমির উচ্চতা বাড়ে এবং নতুন ভূমিরূপ গঠিত হয়।
3.2 বদ্বীপ কেন গড়ে ওঠে?
উত্তর: নদীর মোহনায় ব-দ্বীপ গড়ে ওঠার অনুকূল শর্তগুলি হল –
i. নদীর বেগ হ্রাস: মোহনার কাছে সমভূমিতে নদীর ঢাল কমে যায়, ফলে বেগ কমে যায়।
ii. প্রচুর পলির যোগান: নদীতে প্রচুর পরিমাণে সূক্ষ্ম পলি, বালি ও কাদা থাকতে হবে।
iii. অগভীর ও শান্ত সমুদ্র: মোহনায় সমুদ্র অগভীর ও শান্ত হলে পলি সহজে জমতে পারে।
iv. জোয়ার-ভাটার স্বল্পতা: মোহনায় প্রবল জোয়ার-ভাটা থাকলে পলি ধুয়ে যায়, তাই জোয়ার-ভাটা কম থাকা দরকার।
v. নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে বেশি ক্ষয়: উপরের গতিতে বেশি ক্ষয় হলে বেশি পলি আসে।
উদাহরণ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহনায় পৃথিবীর বৃহত্তম সুন্দরবন ব-দ্বীপ গড়ে উঠেছে।
3.3 জেট বায়ু কী? এর প্রভাব লেখো।
উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বে প্রায় 9 থেকে 12 কিলোমিটার উচ্চতায় ট্রপোপজের কাছে পশ্চিম থেকে পূর্বে অত্যন্ত প্রবল বেগে প্রায় 100 থেকে 300 কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে প্রবাহিত সরু, সর্পিল ও আঁকাবাঁকা বায়ুপ্রবাহকে জেট বায়ু বলে।
ভারতের জলবায়ুতে এর প্রভাব –
i. শীতকালীন প্রভাব: শীতকালে উপক্রান্তীয় পশ্চিমী জেট বায়ু ভূমধ্যসাগর থেকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে উত্তর-পশ্চিম ভারতে টেনে আনে। এর ফলে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও দিল্লিতে বৃষ্টি ও তুষারপাত হয়, যা গম চাষের পক্ষে উপকারী।
ii. গ্রীষ্মকালীন প্রভাব: গ্রীষ্মকালে ক্রান্তীয় পূর্বী জেট বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে ভারতে দ্রুত টেনে আনে এবং মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করে।
3.4 লবণাম্বু উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: সুন্দরবনের লবণাক্ত, কর্দমাক্ত ও জোয়ার-ভাটা অধ্যুষিত অঞ্চলে যে বিশেষ উদ্ভিদ জন্মায়, তাকে লবণাম্বু বা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ বলে।
এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
i. শ্বাসমূল: লবণাক্ত কাদায় অক্সিজেনের অভাব থাকে, তাই মূলের কিছু অংশ মাটির উপরে উঠে এসে শ্বাসকার্য চালায়, একে শ্বাসমূল বলে।
ii. ঠেসমূল: নরম কাদায় গাছকে সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করার জন্য কাণ্ড থেকে যে অতিরিক্ত মূল বের হয়ে মাটিতে ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়, তাকে ঠেসমূল বলে।
iii. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: লবণাক্ত জলে বীজ নষ্ট হয়ে যায় বলে বীজ গাছে থাকা অবস্থাতেই অঙ্কুরিত হয় এবং কাদায় পড়ে গেঁথে যায়। একে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে।
উদাহরণ: সুন্দরী, গরান, গেওয়া, কেওড়া, হোগলা হল লবণাম্বু উদ্ভিদের উদাহরণ।
3.5 হিমালয়ের গুরুত্ব কী?
উত্তর: ভারতে হিমালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম –
i. জলবায়ু নিয়ন্ত্রক: হিমালয় উত্তরের শীতল সাইবেরিয়ান বায়ুকে আটকে ভারতকে শীতল হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে আটকে ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
ii. নদীর উৎস: হিমালয় থেকে ভারতের প্রধান নদীগুলি যেমন গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার উৎপত্তি হয়েছে, যা সারা বছর জলের যোগান দেয়।
iii. প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার: হিমালয়ে প্রচুর বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ ও জলবিদ্যুৎ শক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
iv. প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রাচীর: হিমালয় ভারতের উত্তর সীমান্তে এক প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসাবে দাঁড়িয়ে দেশকে বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
v. পর্যটন কেন্দ্র: হিমালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
3.6 দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: দক্ষিণ ভারত বা উপদ্বীপীয় ভারতের নদীগুলির বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
i. বৃষ্টির জলে পুষ্ট: এই নদীগুলি মূলত বৃষ্টির জলে পুষ্ট। তাই গ্রীষ্মকালে জল কমে যায় এবং বর্ষাকালে জল বেড়ে যায়। এরা অনিত্যবহ নদী।
ii. খরস্রোতা ও জলপ্রপাতের সৃষ্টি: এই নদীগুলি মালভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এদের গতিবেগ বেশি এবং গতিপথে অনেক জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে, যেমন যোগ ও শিবসমুদ্রম জলপ্রপাত।
iii. ব-দ্বীপ গঠন: পূর্ববাহী নদীগুলি যেমন গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী বঙ্গোপসাগরে পড়ে ব-দ্বীপ গঠন করেছে। কিন্তু পশ্চিমবাহী নদী যেমন নর্মদা ও তাপ্তি খাত উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ব-দ্বীপ গঠন করে না।
iv. ব্যবহার: এই নদীগুলি খরস্রোতা হওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে খুব উপযোগী, কিন্তু নৌ-চলাচলের পক্ষে অনুপযোগী।
3.7 মিলেট জাতীয় শস্য কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: কম বৃষ্টিপাতযুক্ত প্রায় 50 থেকে 75 সেন্টিমিটার, কম উর্বর মাটি এবং উচ্চ তাপমাত্রায় জন্মানো ছোট দানার অত্যন্ত পুষ্টিকর শস্যকে মিলেট জাতীয় শস্য বলে। এতে প্রচুর প্রোটিন, ফাইবার ও খনিজ পদার্থ থাকে।
উদাহরণ: জোয়ার, বাজরা, রাগি, কোদো, সামা ও চিনা হল মিলেটের উদাহরণ।
উৎপাদন অঞ্চল: রাজস্থান, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রে মিলেট বেশি চাষ হয়। রাষ্ট্রসংঘ 2023 সালকে আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ হিসাবে ঘোষণা করেছে।
3.8 ভারতে কৃষিতে জলসেচের প্রয়োজন কেন?
উত্তর: ভারতে কৃষিতে জলসেচের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি, কারণ –
i. মৌসুমী বৃষ্টির অনিশ্চয়তা: ভারতে মৌসুমী বৃষ্টি অনিশ্চিত। মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় 75 শতাংশ মাত্র 3 মাসে হয় এবং বছরের বাকি 9 মাস বৃষ্টি হয় না। তাই সেচ প্রয়োজন।
ii. রবি ও জায়িদ শস্য চাষে: রবি শস্য যেমন গম এবং জায়িদ শস্য যেমন তরমুজ, শসা শীত ও গ্রীষ্মকালে চাষ হয়, যখন বৃষ্টি হয় না, তাই সেচ অপরিহার্য।
iii. উচ্চ ফলনশীল বীজের জন্য: সবুজ বিপ্লবের উচ্চ ফলনশীল বীজে বেশি ফলনের জন্য সারা বছর নিয়মিত জলের প্রয়োজন হয়।
iv. খরা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ: সেচ ব্যবস্থা যেমন খাল, কূপ, নলকূপ ও বাঁধ খরা ও বন্যার প্রকোপ কমায়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় সেচের উন্নতির জন্যই সবুজ বিপ্লব সফল হয়েছে।
3.9 ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সমস্যা কী?
উত্তর: ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের প্রধান সমস্যাগুলি হল –
i. উন্নত প্রযুক্তির অভাব: এই শিল্পে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত মানের ইস্পাতের অভাব রয়েছে।
ii. মূলধন ও পরিকাঠামোর অভাব: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব, মূলধনের অভাব এবং দক্ষ শ্রমিকের অভাব দেখা যায়।
iii. পুরনো যন্ত্রপাতি: অনেক কারখানায় এখনও পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, ফলে উৎপাদনশীলতা কম এবং উৎপাদন ব্যয় বেশি।
iv. বিদেশি প্রতিযোগিতা: চীন, জাপান ও জার্মানি থেকে সস্তা ও উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানি হওয়ায় দেশীয় ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়।
Madhyamik Geography Model Answers-2
3.10 উপগ্রহ চিত্র ও টপো মানচিত্রের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় উপগ্রহ চিত্র টপো মানচিত্র
সংজ্ঞা মহাকাশে উপগ্রহে লাগানো সেন্সর দ্বারা তোলা ভূপৃষ্ঠের ফটোগ্রাফ। ভূমি জরিপ করে আঁকা বিস্তারিত মানচিত্র।
প্রকৃতি এটি একটি ডিজিটাল, রঙিন ফটো। বিশাল অঞ্চল একসাথে দেখা যায়। এটি সমোন্নতি রেখা, রঙ ও সাংকেতিক চিহ্ন দ্বারা আঁকা হয়।
সুবিধা-অসুবিধা মেঘ থাকলে ছবি অস্পষ্ট হয়, এটি দামি এবং বিশ্লেষণের জন্য বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। এটি সস্তা ও সহজে পড়া যায়, কিন্তু অনেক সময় তথ্য পুরনো হয়ে যায়।
3.11 জনসংখ্যা বৃদ্ধির দুটি কুফল লেখো।
উত্তর: জনসংখ্যা বৃদ্ধির দুটি প্রধান কুফল হল –
i. সম্পদের উপর অতিরিক্ত চাপ: জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য, জল, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর চাপ বাড়ে। এর ফলে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্য সংকট দেখা দেয়।
ii. পরিবেশগত সমস্যা: অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে নির্বিচারে বন কাটা হয়, কৃষিজমির উপর চাপ বাড়ে, জল ও বায়ু দূষণ বাড়ে, শহরে বস্তি, যানজট ও অপরাধ বৃদ্ধি পায়।
—
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.