NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Geography Model Answers-10/2

Madhyamik Geography Model Answers-10

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-10) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Geography Model Answers-10

Madhyamik Geograpy Model Answers
Madhyamik Geograpy Model Answers

Geography (ভূগোল)

(Part-2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: ব্যাখ্যামূলক (3×6=18)

4.1 নদী ও বায়ুর মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: মরু অঞ্চলে বৃষ্টি কম হলেও মাঝে মাঝে সাময়িক নদী প্রবাহিত হয় এবং বায়ু সারা বছর প্রবাহিত হয়। নদী ও বায়ু একসাথে মিলে যে ভূমিরূপ তৈরি করে, তা হল –
i. পেডিমেন্ট: পর্বতের পাদদেশে নদী ও বায়ুর ক্ষয়ে সৃষ্ট মৃদু ঢালযুক্ত পাথুরে সমতল ভূমি। এটি শিলাময় এবং নগ্ন।
ii. বাজাদা: পেডিমেন্টের ঠিক নিচে সাময়িক নদীগুলি নুড়ি, বালি ও পলি জমিয়ে অনেকগুলি পলল শঙ্কু তৈরি করে এবং সেই পলল শঙ্কুগুলি জুড়ে গিয়ে বাজাদা তৈরি হয়।
iii. প্লায়া হ্রদ: মরু অঞ্চলের সবচেয়ে নিচু অংশে নদীর জল এসে জমা হয়, তারপর জল বাষ্প হয়ে উড়ে যায় এবং লবণের আস্তরণ পড়ে, একে প্লায়া বা লবণাক্ত হ্রদ বলে।
iv. হামাদা বা পাথুরে মরুভূমি: বায়ুর অপসারণ প্রক্রিয়ায় সূক্ষ্ম বালি উড়ে গিয়ে শুধু পাথর ও নুড়ি পড়ে থাকে, তাকে হামাদা বলে।
v. লোয়েস সমভূমি: নদীর সূক্ষ্ম পলি বায়ু উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে দূরে উর্বর পলি হিসাবে জমা করে, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে। যেমন থর মরুর পূর্বে লোয়েস সঞ্চয় দেখা যায়।

4.2 বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর: বায়ুমণ্ডলে 5টি স্তর আছে –
i. ট্রপোস্ফিয়ার 0-18 কিমি: সবচেয়ে নিচের স্তর, বায়ুমণ্ডলের 75% বায়ু এখানে। আবহাওয়ার সব ঘটনা যেমন মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, জেট বায়ু এখানেই ঘটে। প্রতি 1000 মিটারে 6.5°C হারে উষ্ণতা কমে।
ii. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার 18-50 কিমি: এখানে 20-35 কিমি উচ্চতায় ওজোন স্তর আছে, যা UV রশ্মি শোষণ করে। আবহাওয়া শান্ত বলে জেট বিমান চলে। উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা বাড়ে।
iii. মেসোস্ফিয়ার 50-80 কিমি: সবচেয়ে ঠান্ডা স্তর, -90°C। উল্কা এখানে পুড়ে যায়। উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে।
iv. থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার 80-640 কিমি: আয়ন থাকে, বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়, মেরুজ্যোতি দেখা যায়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন 400 কিমি উচ্চতায় এখানে ঘোরে। তাপমাত্রা 1000°C পর্যন্ত বাড়ে।
v. এক্সোস্ফিয়ার 640-10000 কিমি: সবচেয়ে উপরে, বায়ু প্রায় নেই, কৃত্রিম উপগ্রহ ঘোরে এবং মহাকাশে মিশে যায়।

4.3 ভারতে মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তন আলোচনা করো।
উত্তর:
আগমন বা Burst of Monsoon: গ্রীষ্মকালে মার্চ থেকে মে মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রচণ্ড গরমে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং ভারত মহাসাগরে উচ্চচাপ থাকে। ফলে সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়। এটি 1 জুন কেরলে প্রবেশ করে, 10 জুন মুম্বাইতে আসে এবং 15 জুলাইয়ের মধ্যে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ভারতের 75% বৃষ্টি ঘটায়। এর দুটি শাখা আছে – আরব সাগরীয় শাখা ও বঙ্গোপসাগরীয় শাখা।

প্রত্যাবর্তন বা Retreating Monsoon: শরৎকালে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সূর্য মকরক্রান্তি রেখার দিকে গেলে স্থলভাগে উচ্চচাপ এবং সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। তখন স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু ফিরে যায়, আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায় এবং শীত শুরু হয়। এই সময় তামিলনাড়ুতে বৃষ্টি হয় এবং বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় হয়।

4.4 ভারতের উত্তর সমভূমির শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি প্রায় 7 লক্ষ বর্গ কিমি, পলি দ্বারা গঠিত, অত্যন্ত উর্বর। একে তিন ভাগে ভাগ করা যায় –
i. ভাবর: শিবালিকের ঠিক পাদদেশে 8-16 কিমি চওড়া অঞ্চল, নুড়ি, বালি ও পাথর দিয়ে গঠিত, অত্যন্ত সচ্ছিদ্র বলে নদী মাটির নিচে অদৃশ্য হয়ে যায়। এখানে ঘন বনভূমি আছে।
ii. তরাই: ভাবরের দক্ষিণে, যেখানে ভাবরের অদৃশ্য নদী আবার মাটির উপরে বেরিয়ে আসে, ফলে জলাভূমি, জঙ্গল, মশা ও কাদা সৃষ্টি হয়। আগে কৃষি অনুপযোগী ছিল, এখন জঙ্গল কেটে চাষ হয়।
iii. পলি সমভূমি: এর দুটি ভাগ আছে – ভাঙ্গর – পুরনো পলি, উঁচু জমি, কাঁকর বেশি থাকে এবং খাদর – নতুন পলি, নিচু জমি, প্রতি বছর বন্যায় নতুন পলি জমে, অত্যন্ত উর্বর। এছাড়া দুটি নদীর মাঝের উর্বর জমিকে দোআব, নদীর পাড়ের উঁচু জমিকে বেট এবং মোহনায় ব-দ্বীপ আছে।
বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত উর্বর পলি মাটি, সমতল, ঘনবসতি, ধান, গম, পাট, আখ চাষ, শিল্প ও নগর যেমন দিল্লি, কলকাতা এখানে গড়ে উঠেছে।

Madhyamik Geography Model Answers-10

4.5 ভারতে ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ বর্ণনা করো।
উত্তর: ধান খরিফ শস্য, ভারতের 23% জমিতে ধান চাষ হয়, ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক।
i. জলবায়ু: 20°-30°C তাপমাত্রা, 100-200 সেমি বৃষ্টিপাত, 80% আর্দ্রতা, জমিতে জল জমে থাকা দরকার এবং প্রচুর রোদ প্রয়োজন।
ii. মাটি: উর্বর পলি ও দোআঁশ মাটি, যা জল ধরে রাখতে পারে এবং জৈব পদার্থ বেশি।
iii. জমি: সমতল, নিচু জমি, নদীর প্লাবনভূমি ও ব-দ্বীপ অঞ্চল আদর্শ।
iv. শ্রমিক: রোপণ ও কাটার জন্য প্রচুর সস্তা শ্রমিক প্রয়োজন।
v. অন্যান্য: সার, উচ্চ ফলনশীল বীজ যেমন জয়া, IR8, সেচ ও বাজার। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়।

4.6 ভারতে চা চাষের সমস্যা ও সমাধান লেখো।
উত্তর:
সমস্যা:
i. অনেক চা গাছ 100 বছরের পুরনো, ফলে ফলন কম। ভারতে 2000 কেজি/হেক্টর, চীনে 3000 কেজি/হেক্টর।
ii. শ্রমিক অসন্তোষ, কম মজুরি ও ঘন ঘন ধর্মঘট।
iii. কফি, কোল্ড ড্রিংকসের মতো কৃত্রিম পানীয়ের সাথে প্রতিযোগিতা, ফলে রপ্তানি কমেছে।
iv. জলবায়ু পরিবর্তন, পোকা ও রোগের আক্রমণ।
v. উৎপাদন খরচ বেশি, দাম কম, ফলে অনেক বাগান বন্ধ।

সমাধান:
i. পুরনো গাছ তুলে নতুন ক্লোন গাছ লাগানো।
ii. শ্রমিক কল্যাণ, মজুরি বাড়ানো ও আবাসনের ব্যবস্থা।
iii. জৈব চা উৎপাদন, ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানি বৃদ্ধি।
iv. সরকারি ভর্তুকি ও টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার সাহায্যে গবেষণা।
v. আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার।

4.7 ভারতে তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের উন্নতির কারণ লেখো।
উত্তর:
i. দক্ষ শ্রমিক: IIT, NIT ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইংরেজি জানা, সস্তা ও দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার বের হচ্ছে। ভারতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রযুক্তিবিদ আছে।
ii. সরকারি সাহায্য: STPI বা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, SEZ বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর ছাড়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট সুবিধা এবং 1991 সালের উদার অর্থনৈতিক নীতি।
iii. পরিকাঠামো: বিমানবন্দর, বড় শহর ও উন্নত জীবনযাত্রা। বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে ও চেন্নাই প্রধান কেন্দ্র।
iv. বাজার ও সময়: আমেরিকা ও ইউরোপে প্রচুর চাহিদা। টাইম জোনের সুবিধা আছে, ভারতে রাতে কাজ করে সকালে আমেরিকায় পাঠানো যায়।
v. অন্যান্য: বিদেশি বিনিয়োগ ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতা। ভারত IT রপ্তানিতে বিশ্বে প্রথম, TCS, Infosys, Wipro বিশ্ব বিখ্যাত।

4.8 ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:
বিষয় ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বা টপো মানচিত্র উপগ্রহ চিত্র
প্রকৃতি জরিপ করে আঁকা মানচিত্র, এতে সমোন্নতি রেখা, সাংকেতিক চিহ্ন, স্কেল ও রঙ থাকে। মহাকাশ থেকে সেন্সর দ্বারা তোলা ডিজিটাল ফটো।
বৈশিষ্ট্য খুব বিস্তারিত, সস্তা, সহজে পড়া যায়, কিন্তু তথ্য পুরনো হয়ে যেতে পারে। বিশাল অঞ্চলের রঙিন ছবি, নিয়মিত আপডেট পাওয়া যায়, কিন্তু দামি, মেঘ থাকলে অস্পষ্ট এবং বিশেষজ্ঞ ও কম্পিউটার লাগে।
প্রস্তুতকারক Survey of India তৈরি করে, স্কেল 1:50000, 1:250000। ISRO, NASA তৈরি করে, যেমন ভারতের IRS, LANDSAT, Cartosat উপগ্রহের চিত্র।

Madhyamik Geography Model Answers-10

বিভাগ – ঙ: দীর্ঘ উত্তর (5×5=25)

5.1 হিমবাহের ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কার্য এবং এর ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্র সহ আলোচনা করো।
উত্তর: হিমবাহ বরফের নদী, তিনটি কাজ করে –
ক্ষয়: বরফের চাপে উৎপাটন ও অবঘর্ষে ক্ষয় করে –
i. করি বা সার্ক: হাতলওয়ালা চেয়ারের মতো গর্ত।
ii. এরিটি: দুটি করির মাঝে সরু শৈলশিরা।
iii. পিরামিড চূড়া বা হর্ন: তিন-চারটি করি মিলে পিরামিডের মতো চূড়া, যেমন ম্যাটারহর্ন।
iv. U উপত্যকা: নদীর V উপত্যকাকে হিমবাহ U আকৃতি করে।
v. ঝুলন্ত উপত্যকা: প্রধান উপত্যকা গভীর এবং শাখা উপত্যকা উঁচুতে ঝুলে থাকে, সেখানে জলপ্রপাত তৈরি হয়।
vi. রসে মতানে, ফিয়র্ড, ক্র্যাগ ও টেল।

বহন: হিমবাহ নুড়ি, বালি, কাদা বহন করে, একে টিল বা বোল্ডার ক্লে বলে।

সঞ্চয়: বরফ গলে নুড়ি ও বালি জমে –
i. গ্রাবরেখা বা মোরেন: পার্শ্ব, মধ্য, প্রান্ত ও ভূমি গ্রাবরেখা।
ii. ড্রামলিন: উল্টানো নৌকার মতো, একে ডিমের ঝুড়ি বলে।
iii. এসকার: দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা শৈলশিরা।
iv. বহিঃবিধৌত সমভূমি, কেম ও কেটল হ্রদ।

5.2 বায়ুমণ্ডলের তাপ, চাপ ও বৃষ্টিপাতের মধ্যে সম্পর্ক আলোচনা করো।
উত্তর: তাপ, চাপ ও বৃষ্টি একে অপরের সাথে যুক্ত –
i. তাপ ও চাপ: উষ্ণতা বাড়লে বায়ু হালকা হয়ে উপরে ওঠে, নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় – নিরক্ষরেখায় 27°C, নিম্নচাপ। উষ্ণতা কমলে বায়ু ভারী হয়ে নিচে নামে, উচ্চচাপ – মেরুতে -30°C, উচ্চচাপ। তাই তাপ বাড়লে চাপ কমে এবং তাপ কমলে চাপ বাড়ে।
ii. চাপ ও বায়ুপ্রবাহ: বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বয় – আয়ন বায়ু 30° উচ্চচাপ থেকে 0° নিম্নচাপে এবং পশ্চিমা বায়ু 30° থেকে 60° নিম্নচাপে।
iii. চাপ ও বৃষ্টি: নিম্নচাপে বায়ু উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি ঘটায় – নিরক্ষীয় নিম্নচাপে প্রতিদিন পরিচলন বৃষ্টি এবং 60° নিম্নচাপে ঝড়-বৃষ্টি। উচ্চচাপে বায়ু নিচে নামে, শুষ্ক, বৃষ্টি কম – 30° উচ্চচাপে মরুভূমি তৈরি হয়েছে, যেমন সাহারা ও থর।
iv. তাপ ও বৃষ্টি: তাপ বেশি হলে বাষ্পীভবন বেশি, আর্দ্রতা বেশি, বৃষ্টি বেশি – নিরক্ষীয় অঞ্চলে বেশি বৃষ্টি এবং মেরুতে কম বৃষ্টি।

5.3 ভারতের মৃত্তিকা ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের মধ্যে সম্পর্ক আলোচনা করো।
উত্তর: মাটি ও উদ্ভিদ একে অপরের উপর নির্ভরশীল –
i. পলি মাটি + পর্ণমোচী বন: গঙ্গা সমভূমিতে উর্বর পলি, 100-200 সেমি বৃষ্টি – শাল, সেগুন, পর্ণমোচী বন এবং ধান, গম, পাট চাষ হয়।
ii. কৃষ্ণ মাটি + পর্ণমোচী: মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে কৃষ্ণ মাটি, তুলো, আখ, সয়াবিন ও পর্ণমোচী বন।
iii. লাল মাটি + পর্ণমোচী ও মরু উদ্ভিদ: ছোটনাগপুর ও তামিলনাড়ুতে লাল মাটি, কম উর্বর, রাগি, বাদাম, বাবলা ও ক্যাকটাস।
iv. ল্যাটেরাইট মাটি + চিরহরিৎ: মেঘালয় ও পশ্চিমঘাটে 200 সেমির বেশি বৃষ্টি, ল্যাটেরাইট মাটি, লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম বেশি, চিরহরিৎ বন – রোজউড, মেহগনি, চা ও কাজু।
v. মরু মাটি + মরু উদ্ভিদ: রাজস্থানে মরু মাটি, বালি বেশি, বাবলা, ক্যাকটাস ও খেজুর।
vi. পার্বত্য মাটি + পার্বত্য উদ্ভিদ: হিমালয়ে পার্বত্য মাটি, উচ্চতা অনুযায়ী – 1000 মি শাল, 2000 মি পাইন, 3000 মি দেবদারু এবং 4000 মি আল্পীয় তৃণভূমি।
vii. লবণাক্ত মাটি + ম্যানগ্রোভ: সুন্দরবনে লবণাক্ত মাটি, সুন্দরী, গরান, গেওয়া, শ্বাসমূল।
মূল কথা: মাটি উদ্ভিদকে পুষ্টি ও জল দেয় এবং উদ্ভিদ মাটি ক্ষয় রোধ করে ও জৈব পদার্থ বাড়ায়। বন কাটলে মাটি ক্ষয় হয়।

Madhyamik Geography Model Answers-10

5.4 ভারতে গম চাষের অনুকূল পরিবেশ, বন্টন ও সমস্যা আলোচনা করো।
উত্তর: গম রবি শস্য, ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়, 30% জমিতে চাষ হয়।
অনুকূল পরিবেশ: i. জলবায়ু – বোনার সময় 10°-15°C, পাকার সময় 20°-25°C, 50-100 সেমি বৃষ্টি, 100 দিন তুষারমুক্ত, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার বৃষ্টি ভালো এবং প্রচুর রোদ। ii. মাটি – উর্বর দোআঁশ, পলি ও কৃষ্ণ মাটি, জল নিকাশি ভালো। iii. জমি – সমতল, সেচ যেমন ভাকরা-নাঙ্গাল, নলকূপ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় 95% সেচ। iv. শ্রমিক, সার, বীজ HD 2967, যন্ত্র ও বাজার।
বন্টন: উত্তরপ্রদেশ 30% প্রথম – মেরঠ, সাহারানপুর, বেরেলি। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা – ফলন সবচেয়ে বেশি 4 টন/হেক্টর, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও বিহার।
সমস্যা: i. ক্ষুদ্র জোত, ii. সেচের জলের অভাব ও ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়া, iii. মাটি ক্ষয় ও লবণাক্ততা, iv. রোগ ও শিলাবৃষ্টি, v. সংরক্ষণ, বাজার ও MSP কম, vi. জলবায়ু পরিবর্তন – শীত কমলে ফলন কমে। সমাধান – উচ্চ ফলনশীল বীজ, সেচ, MSP ও শস্য বীমা।

5.5 ভারতে পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব, সমস্যা ও সমাধান আলোচনা করো।
উত্তর:
গুরুত্ব: i. অর্থনৈতিক – কাঁচামাল, শ্রমিক, পণ্য ও বাজার যুক্ত করে, শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্য পরিবহনের উপর নির্ভরশীল, GDP-তে 5% অবদান, 90% বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয়। ii. সামাজিক – মানুষ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, গ্রাম-শহর যুক্ত করে। iii. রাজনৈতিক – দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, প্রশাসন ও দুর্যোগে ত্রাণ।
প্রকার: সড়ক 63 লক্ষ কিমি সবচেয়ে বেশি, রেল 68,000 কিমি, 2.3 কোটি যাত্রী প্রতিদিন, জলপথ সস্তা 14,500 কিমি, বিমান দ্রুত 137টি বিমানবন্দর, পাইপলাইন তেল ও গ্যাস পরিবহন।
সমস্যা: i. সড়ক – খারাপ রাস্তা, যানজট, দূষণ ও দুর্ঘটনা, ii. রেল – পুরনো লাইন, বিলম্ব ও ভিড়, iii. জলপথ – পলি জমা ও নাব্যতা কম, iv. বিমান – দামি ও ছোট শহরে নেই, v. পরিবেশ দূষণ ও জ্বালানি খরচ।
সমাধান: i. সোনালী চতুর্ভুজ ও জাতীয় সড়ক 4 লেন, ii. রেল বিদ্যুতায়ন, বুলেট ট্রেন ও মেট্রো, iii. নদী খনন ও জাতীয় জলপথ, iv. UDAN – উড়ান স্কিমে সস্তা বিমান, v. বৈদ্যুতিক গাড়ি, গণপরিবহন ও সচেতনতা।

5.6 ভারতের মানচিত্রে চিহ্নিত – লিখিত বর্ণনা
উত্তর:
[A] বিন্ধ্য পর্বত: মধ্য ভারতে, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত, গঙ্গা ও নর্মদার জলবিভাজিকা, প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত, গড় উচ্চতা 600 মি, নর্মদা ও তাপ্তি রিফ্ট উপত্যকার উত্তরে এবং উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের সীমানা। মানচিত্রে মধ্য ভারতে আঁকবে।
[B] চিল্কা হ্রদ: ওড়িশায় অবস্থিত ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ বা লেগুন, 1100 বর্গ কিমি, বঙ্গোপসাগর থেকে বালিয়াড়ি দ্বারা বিচ্ছিন্ন, লবণাক্ত, পরিযায়ী পাখি আসে, রামসার সাইট, চিংড়ি চাষ ও নলবন দ্বীপ। মানচিত্রে পূর্ব উপকূলে আঁকবে।
[C] কৃষ্ণা নদী: মহারাষ্ট্রের মহাবালেশ্বর থেকে উৎপত্তি, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্য দিয়ে 1400 কিমি পূর্বে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। বিজয়ওয়াড়ার কাছে ব-দ্বীপ এবং নাগার্জুন সাগর ও শ্রীশৈলম বাঁধ এর উপর অবস্থিত।
[D] একটি কার্পাস উৎপাদক অঞ্চল – গুজরাট: গুজরাটের সৌরাষ্ট্র, কচ্ছ, আমেদাবাদ ও ভদোদরায়, কৃষ্ণ মাটি, 50-100 সেমি বৃষ্টি, ভারতের 25% তুলো, দীর্ঘ আঁশের তুলো, আহমেদাবাদ ভারতের ম্যানচেস্টার।
[E] একটি ইক্ষু উৎপাদক অঞ্চল – উত্তরপ্রদেশ: ভারতের 45% ইক্ষু উত্তরপ্রদেশের গঙ্গা-যমুনা দোআবে – মেরঠ, সাহারানপুর, বেরেলি, মুজাফফরনগরে, উর্বর পলি, সেচ ও চিনিকল আছে।
[F] কলকাতা বন্দর: পশ্চিমবঙ্গে হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত নদী বন্দর, ভারতের প্রাচীনতম 1870 সালে তৈরি, জোয়ার-ভাটা বন্দর, পলি জমে নাব্যতা কম, হলদিয়া সহযোগী বন্দর, পাট, চা ও লৌহ আকরিক রপ্তানি হয়।
[G] একটি মরু অঞ্চল – থর মরুভূমি: রাজস্থানের পশ্চিমে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে 2 লক্ষ বর্গ কিমি, বালিয়াড়ি, বার্খান, লুনি নদী, ইন্দিরা গান্ধী খাল, জয়সলমীর, বিকানের, বাবলা, ক্যাকটাস, কাঁটাযুক্ত গাছ ও উট দেখা যায়।


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading