NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Geography Model Answers-9/2

Madhyamik Geography Model Answers-9

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-9) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Geography Model Answers-9

Madhyamik Geograpy Model Answers
Madhyamik Geograpy Model Answers

Geography (ভূগোল)

(Part-2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: ব্যাখ্যামূলক (3×6=18)

4.1 হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্র সহ আলোচনা করো।
উত্তর: হিমবাহ উৎপাটন ও অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় ক্ষয় করে নিম্নলিখিত ভূমিরূপ তৈরি করে –
i. করি বা সার্ক: পর্বতের মাথায় হিমবাহের ক্ষয়ে হাতলওয়ালা চেয়ারের মতো গর্ত তৈরি হয়। পরে হিমবাহ গলে গেলে জল জমে করি হ্রদ বা টার্ন হ্রদ তৈরি হয়।
ii. এরিটি: দুটি করির মাঝখানে সরু ও খাড়া শৈলশিরা থাকে, একে এরিটি বলে। এটি দেখতে ছুরির ফলার মতো খাঁজকাটা।
iii. পিরামিড চূড়া বা হর্ন: তিন-চারটি করি একসাথে একটি পর্বতকে চারদিক থেকে ক্ষয় করলে মাঝখানে পিরামিডের মতো তীক্ষ্ণ চূড়া তৈরি হয়, একে হর্ন বলে। যেমন আল্পসের ম্যাটারহর্ন।
iv. U আকৃতির উপত্যকা: নদীর V আকৃতির উপত্যকাকে হিমবাহ চওড়া ও গভীর করে U আকৃতির করে দেয়। এর তলদেশ প্রশস্ত ও সমতল এবং পাশ খাড়া হয়।
v. ঝুলন্ত উপত্যকা: প্রধান হিমবাহ বেশি গভীরভাবে ক্ষয় করে এবং শাখা হিমবাহের উপত্যকা উঁচুতে ঝুলে থাকে। দুই উপত্যকার মিলনস্থলে জলপ্রপাত তৈরি হয়।
vi. রসে মতানে: হিমবাহের প্রবাহপথে পড়া শিলাখণ্ডের একদিক মসৃণ ও অন্যদিক অমসৃণ হয়, একে রসে মতানে বলে। এছাড়া সমুদ্র উপকূলে হিমবাহের উপত্যকা ডুবে গিয়ে ফিয়র্ড তৈরি হয়।

4.2 বায়ুমণ্ডলের চাপবলয়গুলির সঙ্গে নিয়ত বায়ুপ্রবাহের সম্পর্ক লেখো।
উত্তর: বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়, তাই চাপবলয় থেকেই নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। কোরিওলিস বলের প্রভাবে উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।
i. আয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু: 30° উত্তর ও দক্ষিণে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে 0° নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু। সারা বছর একই দিকে বয় বলে প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজে বাণিজ্য হতো বলে একে বাণিজ্য বায়ু বলে।
ii. পশ্চিমা বায়ু: 30° উচ্চচাপ বলয় থেকে 60° সুমেরু ও কুমেরু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু। ইউরোপ ও আমেরিকায় এই বায়ু সারা বছর বৃষ্টি ঘটায়। শীতকালে এই বায়ু ভূমধ্যসাগর থেকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা হিসাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টি আনে।
iii. মেরু বায়ু: 90° মেরু উচ্চচাপ বলয় থেকে 60° নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ু, অত্যন্ত শীতল ও শুষ্ক।
এই বায়ুপ্রবাহগুলি হ্যাডলি কোষ, ফেরেল কোষ ও মেরু কোষ তৈরি করে বায়ুমণ্ডলের সাধারণ সঞ্চালন বজায় রাখে।

4.3 ভারতের জলবায়ুর ওপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব লেখো।
উত্তর:
i. বৃষ্টিপাত: ভারতের 75% বৃষ্টি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে হয়। এর দুটি শাখা আছে – আরব সাগরীয় শাখা পশ্চিমঘাট, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে 200 সেমি পর্যন্ত বৃষ্টি ঘটায় এবং বঙ্গোপসাগরীয় শাখা উত্তর-পূর্ব ভারত ও গাঙ্গেয় সমভূমিতে 100-200 সেমি বৃষ্টি ঘটায়।
ii. ঋতু বৈচিত্র্য: মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের উপর ভিত্তি করে ভারতে চারটি ঋতু হয় – গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত।
iii. কৃষি: ভারতের কৃষি মৌসুমী বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। ধান, পাট, চা, কফি ও আখ এই বৃষ্টিতে ভালো হয়। বৃষ্টি ভালো হলে ফসল ভালো হয় এবং GDP বাড়ে।
iv. দুর্যোগ: মৌসুমী বায়ু অনিশ্চিত, কখনও আগে আসে, কখনও দেরিতে আসে, ফলে খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় হয়।
v. শীতকালীন বৃষ্টি: উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু তামিলনাড়ুতে শীতকালে বৃষ্টি ঘটায় এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর-পশ্চিম ভারতে শীতকালে বৃষ্টি ঘটায়।

4.4 ভারতের পশ্চিম হিমালয়ের ভূ-প্রকৃতির বর্ণনা দাও।
উত্তর: পশ্চিম হিমালয় জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে বিস্তৃত, সিন্ধু নদী থেকে কালী নদী পর্যন্ত, প্রায় 400 কিমি চওড়া। এটি তিনটি সমান্তরাল শ্রেণিতে বিভক্ত –
i. বৃহৎ হিমালয় বা হিমাদ্রি: গড় উচ্চতা 6000 মিটার। এখানে নাঙ্গা পর্বত 8126 মিটার, নন্দাদেবী 7817 মিটার। সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে। এখানে গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, সিয়াচেন হিমবাহ আছে এবং জোজিলা, বারা লাচা লা গিরিপথ আছে।
ii. মধ্য হিমালয় বা হিমাচল: উচ্চতা 3700-4500 মিটার। এর মধ্যে পিরপাঞ্জাল, ধৌলাধর ও নাগটিবা পর্বতশ্রেণি আছে। এখানে দুন উপত্যকা আছে যেমন দেরাদুন, কোটা দুন, কুলু ও কাংড়া উপত্যকা। শিমলা, মুসৌরি, নৈনিতালের মতো শৈলশহর এখানে আছে।
iii. শিবালিক: উচ্চতা 900-1200 মিটার। নুড়ি, বালি ও পলি দিয়ে গঠিত। নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন এবং পাদদেশে ভাবর ও তরাই সমভূমি আছে।
বৈশিষ্ট্য: পশ্চিম হিমালয় বেশি চওড়া, উচ্চতা বেশি, হিমবাহ বেশি, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে শীতকালে তুষারপাত হয় এবং বৃষ্টি তুলনামূলক কম হয়।

Madhyamik Geography Model Answers-9

4.5 ভারতে ইক্ষু চাষের অনুকূল পরিবেশ বর্ণনা করো।
উত্তর: ইক্ষু ক্রান্তীয় ফসল, 1 বছর সময় লাগে, ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক।
i. জলবায়ু: 20°-30°C তাপমাত্রা, 100-150 সেমি বৃষ্টিপাত, প্রচুর রোদ ও তুষারমুক্ত আবহাওয়া প্রয়োজন। বড় হওয়ার সময় বৃষ্টি এবং পাকার সময় শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়া প্রয়োজন, তখন আখে চিনির পরিমাণ বাড়ে।
ii. মাটি: উর্বর দোআঁশ, পলি ও কৃষ্ণ মাটি, চুনযুক্ত, জল নিকাশি ভালো এবং জৈব পদার্থ বেশি থাকা দরকার।
iii. জমি ও সেচ: সমতল জমি ও সেচের সুবিধা প্রয়োজন। উত্তরপ্রদেশে 95% ইক্ষু জমিতে সেচ দেওয়া হয়, খাল ও নলকূপ থেকে।
iv. শ্রমিক ও শিল্প: আখ কাটা ও বহনের জন্য সস্তা শ্রমিক প্রয়োজন এবং চিনিকল কাছে থাকতে হবে, কারণ আখ কাটার 24 ঘণ্টার মধ্যে পচে যায়।
v. মূলধন ও অন্যান্য: সার, উন্নত বীজ যেমন CO 0238 এবং বাজার প্রয়োজন। উত্তরপ্রদেশ 45%, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুতে বেশি চাষ হয়।

4.6 ভারতে পাট শিল্পের বন্টন ও সমস্যা লেখো।

উত্তর:
বন্টন: পাট শিল্প হুগলি নদীর তীরে কেন্দ্রীভূত –
i. পশ্চিমবঙ্গ – ভারতের 80% পাটকল – টিটাগড়, রিষড়া, হাওড়া, শ্যামনগর, বজবজ, ভদ্রেশ্বর।
ii. অন্ধ্রপ্রদেশ – বিশাখাপত্তনম, এলুরু।
iii. বিহার – কাটিহার, পূর্ণিয়া।
iv. উত্তরপ্রদেশ – কানপুর, গোরখপুর।
v. অসম – শিলঘাট।
বন্টনের কারণ: কাঁচা পাট পশ্চিমবঙ্গে পাওয়া যায়, হুগলি নদীর জল পাট পচানোর জন্য, সস্তা শ্রমিক, কলকাতা বন্দর ও বাজার।
সমস্যা:
i. কাঁচা পাটের অভাব – 1947 সালে দেশভাগের পর 80% পাট চাষ বাংলাদেশে চলে যায় এবং পাটকল ভারতে থেকে যায়।
ii. পুরনো যন্ত্রপাতি, কম উৎপাদনশীলতা ও বিদ্যুতের সমস্যা।
iii. নাইলন ও পলিথিনের মতো কৃত্রিম তন্তু সস্তা হওয়ায় পাটের চাহিদা কমেছে।
iv. শ্রমিক অসন্তোষ ও ঘন ঘন ধর্মঘট।
v. রপ্তানি কমে যাওয়া – বাংলাদেশ ও চীনের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা।

4.7 ভারতে রেলপথের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতীয় রেল 68,000 কিমি দীর্ঘ, বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম, 12 লক্ষ কর্মী কাজ করে, প্রতিদিন 2.3 কোটি যাত্রী যাতায়াত করে। একে ভারতের জীবনরেখা বলা হয়।
গুরুত্ব:
i. অর্থনৈতিক: কয়লা, লৌহ আকরিক, খনিজ, খাদ্যশস্য, সার ও সিমেন্ট – ভারতের 80% পণ্য রেলে পরিবহন হয়। এটি সস্তা এবং বেশি পণ্য বহন করতে পারে। শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্য রেলের উপর নির্ভরশীল।
ii. সামাজিক: মানুষ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও তীর্থযাত্রার জন্য রেল অপরিহার্য। রেল দূরত্ব কমায় এবং গ্রাম ও শহরকে যুক্ত করে।
iii. রাজনৈতিক: দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, সেনা ও প্রশাসন পরিচালনা এবং দুর্যোগের সময় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য রেল গুরুত্বপূর্ণ।
iv. পরিবেশগত: সড়কপথের তুলনায় রেল কম দূষণ করে, খরচ কম এবং সব আবহাওয়ায় চলতে পারে। তাই রেল ছাড়া ভারত অচল।

4.8 ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ভারত 2023 সালে 142 কোটি জনসংখ্যা নিয়ে বিশ্বে প্রথম স্থানে পৌঁছেছে, বৃদ্ধির হার 1.1%।

প্রভাব:
i. অর্থনৈতিক প্রভাব: বেকারত্ব প্রায় 7%, দারিদ্র্য, খাদ্য, বাসস্থান, জল ও বিদ্যুৎ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, মাথাপিছু GDP কমে যাওয়া এবং বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি।
ii. সামাজিক প্রভাব: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহনে অতিরিক্ত চাপ, বস্তি সৃষ্টি, অপরাধ ও আন্দোলন বৃদ্ধি। যেমন মুম্বাইয়ের ধারাভি এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি।
iii. পরিবেশগত প্রভাব: নির্বিচারে বন কাটা, কৃষিজমির উপর চাপ, মাটি ক্ষয়, বায়ু ও জল দূষণ, ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়া এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
iv. রাজনৈতিক প্রভাব: ভোটের রাজনীতি, সংরক্ষণ ও আন্দোলন।
সুফল: ভারতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা 63%, একে Demographic Dividend বলে। বিশাল বাজার থাকায় অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনা আছে।

Madhyamik Geography Model Answers-9

বিভাগ – ঙ: দীর্ঘ উত্তর (5×5=25)

5.1 নদীর উচ্চ, মধ্য ও নিম্নগতির বৈশিষ্ট্য ও সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর:
বিষয় উচ্চগতি – পার্বত্য মধ্যগতি – সমভূমি নিম্নগতি – মোহনা
ঢাল ও বেগ ঢাল বেশি, খাড়া, বেগ বেশি, ক্ষয় বেশি ঢাল কম, বেগ মাঝারি, ক্ষয়-সঞ্চয় সমান ঢাল খুব কম, বেগ কম, সঞ্চয় বেশি
কাজ ক্ষয় প্রধান – নিচের দিকে ক্ষয় ক্ষয় ও সঞ্চয় সমান – পাশের দিকে ক্ষয় সঞ্চয় প্রধান
ভূমিরূপ V উপত্যকা, গিরিখাত, ক্যানিয়ন, জলপ্রপাত, মন্থকূপ, কর্তিত স্পার মিয়েন্ডার, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, প্লাবনভূমি, প্রাকৃতিক বাঁধ, পলল পাখা ব-দ্বীপ, চর, বিনুনি নদী, খাঁড়ি
উদাহরণ গঙ্গা গোমুখে, সিন্ধু স্কার্দুতে গঙ্গা কানপুরে, যমুনা দিল্লিতে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সুন্দরবন ব-দ্বীপ
উচ্চগতিতে নদী গভীর করে, মধ্যগতিতে চওড়া করে এবং নিম্নগতিতে পলি জমিয়ে নতুন জমি তৈরি করে।

5.2 বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার বন্টন ও নিয়ন্ত্রকগুলি আলোচনা করো।
উত্তর:
উষ্ণতার বন্টন: অক্ষাংশ অনুযায়ী – নিরক্ষীয় অঞ্চল 0°-10°তে 27°C সবচেয়ে গরম, ক্রান্তীয় 10°-30°তে 20°-27°C, নাতিশীতোষ্ণ 30°-60°তে 0°-20°C এবং মেরু 60°-90°তে -30°C সবচেয়ে ঠান্ডা। উচ্চতা অনুযায়ী – ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি 1000 মিটারে 6.5°C কমে, তাই দার্জিলিং ঠান্ডা। সমুদ্র থেকে দূরত্ব অনুযায়ী – উপকূলে সমভাবাপন্ন এবং ভিতরে চরমভাবাপন্ন।
নিয়ন্ত্রক: i. অক্ষাংশ – লম্বভাবে সূর্য পড়লে গরম, তির্যকভাবে পড়লে ঠান্ডা। ii. উচ্চতা – উপরে ঠান্ডা। iii. সমুদ্র থেকে দূরত্ব – উপকূলে সমভাবাপন্ন। iv. বায়ুপ্রবাহ – উষ্ণ বায়ু উষ্ণতা বাড়ায়, শীতল বায়ু কমায়। v. সমুদ্রস্রোত – উষ্ণ স্রোত উষ্ণতা বাড়ায়, শীতল স্রোত কমায়। vi. মেঘ, বন, মাটি, ঢাল, জনবসতি।

5.3 ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ করো ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: বৃষ্টি ও তাপমাত্রা অনুযায়ী 5 প্রকার –
i. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ: 200 সেমির বেশি বৃষ্টি, পশ্চিমঘাট, উত্তর-পূর্ব ও আন্দামানে। গাছ – রোজউড, মেহগনি, আয়রন উড, এবনি, রাবার, সারা বছর সবুজ, ঘন, 60 মিটার উঁচু, পাতা চওড়া, কাঠ শক্ত, জীববৈচিত্র্য বেশি।
ii. ক্রান্তীয় পর্ণমোচী: 100-200 সেমি বৃষ্টি, ভারতের 70% বন, শাল, সেগুন, শিমুল, মহুয়া, কুসুম, শীতকালে পাতা ঝরে, কাঠ মূল্যবান, আসবাব ও রেল স্লিপার, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে।
iii. ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদ: 50 সেমির কম বৃষ্টি, রাজস্থান ও গুজরাটে, বাবলা, ক্যাকটাস, খেজুর, কাঁটাযুক্ত, পাতা ছোট, শিকড় গভীর।
iv. পার্বত্য উদ্ভিদ: হিমালয়ে উচ্চতা অনুযায়ী – 1000 মি পর্যন্ত শাল, 1000-2000 মি চিরহরিৎ ও ওক, 2000-3000 মি পাইন, দেবদারু, ফার সরলবর্গীয় এবং 3000-4000 মি আল্পীয় তৃণভূমি যাকে বুগিয়াল বলে, 4000 মি উপরে তুষার।
v. ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু: সুন্দরবন, মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী ব-দ্বীপে, লবণাক্ত জলে, সুন্দরী, গরান, গেওয়া, কেওড়া, এদের শ্বাসমূল, ঠেসমূল ও জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়।

5.4 ভারতে কফি চাষের অনুকূল পরিবেশ, বন্টন ও সমস্যা আলোচনা করো।
উত্তর: কফি ক্রান্তীয় বাগিচা ফসল, ছায়া দরকার, ভারত বিশ্বে 7ম।

অনুকূল পরিবেশ: i. জলবায়ু – 15°-25°C তাপমাত্রা, 150-200 সেমি বৃষ্টি, ছায়াযুক্ত, কুয়াশা, তুষারমুক্ত, ফুল ফোটার সময় শুষ্ক। ii. মাটি – লাল, ল্যাটেরাইট, অম্লযুক্ত, জৈব বেশি, জল নিকাশি ভালো, ঢালু। iii. জমি – পাহাড়ের ঢাল 1000-1500 মি, পশ্চিমঘাট। iv. শ্রমিক – বীজ তোলা ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য দক্ষ শ্রমিক। v. ছায়া – কলা ও কাঁঠাল গাছের ছায়ায় কফি হয়, সরাসরি রোদ সহ্য হয় না।
বন্টন: কর্ণাটক 60% – চিকমাগালুর, কুর্গ, হাসান, শিমোগা; কেরল – ওয়েনাদ; তামিলনাড়ু – নীলগিরি। দুই প্রকার – আরবিকা সুগন্ধি, উৎকৃষ্ট 40% এবং রোবাস্টা বেশি ফলন 60%।
সমস্যা: i. কম ফলন – ভারতে 800 কেজি/হেক্টর, ব্রাজিলে 1500 কেজি। ii. জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃষ্টি অনিশ্চিত। iii. রোগ ও পোকা, মরিচা। iv. কম দাম ও রপ্তানি কম। v. শ্রমিক সমস্যা ও ছোট জোত। সমাধান – উন্নত বীজ, ছায়া গাছ, জৈব কফি, MSP ও রপ্তানি বৃদ্ধি।

Madhyamik Geography Model Answers-9

5.5 ভারতে নগরায়ণের কারণ, সমস্যা ও সমাধান আলোচনা করো।
উত্তর: নগরায়ণ মানে গ্রাম থেকে শহরে জনসংখ্যার স্থানান্তর ও শহরের বৃদ্ধি। ভারতে 35% নগর জনসংখ্যা, 1951 সালে 17% ছিল।
কারণ: i. ঠেলা বা Push – গ্রামে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, জমির অভাব, কম মজুরি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা ও খরা। ii. টানা বা Pull – শহরে চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন, বিদ্যুৎ, জল ও নিরাপত্তা। iii. শিল্পায়ন, পরিবহন ও যোগাযোগ উন্নতি। iv. সামাজিক – জাতিভেদ ও কুসংস্কার থেকে মুক্তি।
সমস্যা: i. জনসংখ্যা চাপ – বস্তি, বেকারত্ব, অপরাধ, দারিদ্র্য, মুম্বাইয়ের ধারাভি এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি। ii. দূষণ – বায়ু, জল, শব্দ ও আবর্জনা। iii. পরিকাঠামো সংকট – জল, বিদ্যুৎ, যানজট, আবাসন ও পরিবহন। iv. গ্রামে শ্রমিক অভাব, কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত। v. অপরাধ ও মানসিক চাপ।
সমাধান: i. গ্রামে কর্মসংস্থান – কুটির শিল্প, কৃষি আধুনিকীকরণ ও MGNREGA। ii. গ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট উন্নতি। iii. ছোট শহর, স্যাটেলাইট টাউন, স্মার্ট সিটি ও পরিকল্পিত নগরায়ণ। iv. বিকেন্দ্রীকরণ – শিল্প গ্রামে নিয়ে যাওয়া। v. নগর পরিকল্পনা, আইন ও সচেতনতা।

5.6 ভারতের মানচিত্রে চিহ্নিত – লিখিত বর্ণনা
উত্তর: খাতায় যেভাবে আঁকবে –
[A] সাতপুরা পর্বত: মধ্য ভারতে নর্মদা ও তাপ্তি নদীর মাঝে, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে, প্রায় 900 কিমি লম্বা, সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ধূপগড় 1350 মি এবং পাঁচমারি শৈলশহর এখানে। মানচিত্রে মধ্য ভারতে আঁকবে।
[B] উলার হ্রদ: জম্মু-কাশ্মীরে অবস্থিত ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ, ঝিলাম নদীর উপর, আয়তন 30-260 বর্গ কিমি, শীতকালে ছোট, বর্ষায় বড় এবং ভূমিকম্পে সৃষ্ট। মানচিত্রে উত্তরে চিহ্নিত করবে।
[C] নর্মদা নদী: মধ্যপ্রদেশের অমরকন্টক থেকে উৎপত্তি, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মধ্য দিয়ে 1312 কিমি পশ্চিমে আরব সাগরে পড়েছে। রিফ্ট উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত, ধুঁয়াধার জলপ্রপাত ও সর্দার সরোবর বাঁধ এর উপর অবস্থিত এবং ব-দ্বীপ নেই।
[D] একটি ধান উৎপাদক অঞ্চল – পশ্চিমবঙ্গ: ভারতে প্রথম ধান উৎপাদক রাজ্য, বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুরে, উর্বর পলি, 150 সেমি বৃষ্টি, আমন, আউস ও বোরো তিনটি ধান চাষ হয়, 23% জমিতে ধান।
[E] একটি গম উৎপাদক অঞ্চল – উত্তরপ্রদেশ: ভারতে প্রথম গম উৎপাদক 30% গম, মেরঠ, সাহারানপুর, বেরেলি, আগ্রায়, উর্বর দোআঁশ, সেচ খাল ও নলকূপ থেকে এবং সবুজ বিপ্লবের কেন্দ্র।
[F] মুম্বাই বন্দর: মহারাষ্ট্রে আরব সাগরের তীরে অবস্থিত প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়, ভারতের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম বন্দর, 90% বাণিজ্য এখানে হয়, JNPT সহযোগী, পেট্রোলিয়াম, যন্ত্র ও তুলো আমদানি-রপ্তানি হয়।
[G] একটি জনবহুল রাজ্য – বিহার: পূর্ব ভারতে অবস্থিত, জনঘনত্ব 1106 জন/বর্গ কিমি, সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ। উর্বর গাঙ্গেয় সমভূমি, গঙ্গা ও কোশী নদী, ধান ও গম চাষ, পাটনা রাজধানী।  ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading