Madhyamik Geography Model Answers-9
Madhyamik Geography Model Answers-9
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-9) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Geography Model Answers-9

Geography (ভূগোল)
বিভাগ – ক: MCQ – ব্যাখ্যা সহ
1.1 অবরোহন প্রক্রিয়ার উদাহরণ –
[A] আবহবিকার ও ক্ষয় ✓ [B] সঞ্চয়
[C] অগ্ন্যুৎপাত [D] ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা: অবরোহন = উচ্চতা হ্রাস। আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনে ভূমি নিচু হয়। সঞ্চয় আরোহন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প অন্তর্জাত।
1.2 এসকার হল –
[A] হিমবাহের সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ ✓ [B] নদীর সঞ্চয়
[C] বায়ুর সঞ্চয় [D] সমুদ্রের সঞ্চয়
ব্যাখ্যা: হিমবাহের নিচে উপ-হিমবাহী নদীর বালি নুড়ি জমে আঁকাবাঁকা সংকীর্ণ শৈলশিরা, একে এসকার বলে।
1.3 বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তর –
[A] এক্সোস্ফিয়ার ✓ [B] ট্রপোস্ফিয়ার
[C] স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার [D] মেসোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: এক্সোস্ফিয়ার 600-10000 কিমি পর্যন্ত, সবচেয়ে উপরে। এর পর মহাশূন্য। সর্বনিম্ন স্তর ট্রপোস্ফিয়ার।
1.4 ভারতে শীতকালীন বৃষ্টিপাত হয় –
[A] তামিলনাড়ুতে [B] করমন্ডল উপকূলে
[C] পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতে [D] সবগুলি ✓
ব্যাখ্যা: শীতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু তামিলনাড়ু/করমন্ডলে বৃষ্টি দেয় এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝা পাঞ্জাব, হরিয়ানায় বৃষ্টি দেয়।
1.5 ভারতের দীর্ঘতম নদী –
[A] গঙ্গা ✓ [B] ব্রহ্মপুত্র (গঙ্গার চেয়ে দীর্ঘ কিন্তু ভারতে ছোট)
[C] গোদাবরী (দক্ষিণ ভারতে দীর্ঘতম) [D] সিন্ধু
ব্যাখ্যা: ভারতে প্রবাহিত অংশ ধরলে গঙ্গা 2525 কিমি দীর্ঘতম। ব্রহ্মপুত্র মোট 2900 কিমি কিন্তু ভারতে 916 কিমি।
1.6 গঙ্গার প্রধান উপনদী –
[A] যমুনা [B] গোমতী
[C] ঘর্ঘরা [D] সবগুলি ✓
ব্যাখ্যা: গঙ্গার অনেক উপনদী আছে – যমুনা, গোমতী, ঘর্ঘরা, গন্ডক, কোশী, শোন সবই প্রধান।
1.7 লাল মাটি দেখা যায় –
[A] তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে ✓ [B] রাজস্থানে
[C] পাঞ্জাবে [D] সুন্দরবনে
ব্যাখ্যা: লাল মাটিতে লোহা বেশি, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রের পূর্বঘাটে দেখা যায়।
1.8 ভারতে গম উৎপাদনে প্রথম –
[A] উত্তরপ্রদেশ ✓ [B] পাঞ্জাব
[C] হরিয়ানা [D] মধ্যপ্রদেশ
ব্যাখ্যা: UP গম উৎপাদনে প্রথম, পাঞ্জাব হেক্টর প্রতি ফলনে প্রথম।
1.9 কুলটি-বার্নপুর লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র অবস্থিত –
[A] পশ্চিমবঙ্গে ✓ [B] ঝাড়খন্ডে
[C] ওড়িশায় [D] ছত্তিশগড়ে
ব্যাখ্যা: পশ্চিম বর্ধমানের কুলটি-বার্নপুর-আসানসোলে অবস্থিত, IISCO এর কারখানা।
1.10 ভারতের ম্যানচেস্টার বলা হয় –
[A] আহমেদাবাদকে ✓ [B] মুম্বাইকে
[C] কানপুরকে [D] কোয়েম্বাটুরকে
ব্যাখ্যা: আহমেদাবাদে অনেক সুতি বস্ত্র কল আছে, ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের মতো তাই ভারতের ম্যানচেস্টার। মুম্বাইকে ভারতের কটনপলিস বলে।
1.11 ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ –
[A] আর্যভট্ট ✓ [B] ভাস্কর
[C] রোহিনী [D] অ্যাপল
ব্যাখ্যা: 19 এপ্রিল 1975 সালে সোভিয়েত রাশিয়া থেকে আর্যভট্ট উৎক্ষেপণ করা হয়।
1.12 টপো মানচিত্রে জনবসতি দেখানো হয় –
[A] লাল রঙে ✓ [B] কালো রঙে
[C] নীল রঙে [D] হলুদ রঙে
ব্যাখ্যা: লাল = জনবসতি ও পাকা রাস্তা, কালো = কাঁচা রাস্তা ও রেল, নীল = জল, হলুদ = কৃষি।
1.13 জনবসতি গড়ে ওঠার কারণ –
[A] ভূপ্রকৃতি [B] জলের সহজলভ্যতা
[C] উর্বর মাটি [D] সবগুলি ✓
ব্যাখ্যা: জনবসতি গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক (ভূপ্রকৃতি, জল, মাটি, জলবায়ু) ও অর্থনৈতিক সব কারণের উপর নির্ভর করে।
1.14 2011 অনুযায়ী ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার –
[A] 17.64% ✓ [B] 21%
[C] 23% [D] 15%
ব্যাখ্যা: 2001-2011 দশকে বৃদ্ধি 17.64%, আগের দশকে 21.54% ছিল। বৃদ্ধি হার কমছে।
Madhyamik Geography Model Answers-9
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×16=16)
2.1 সমপ্রায় ভূমি কী?
উত্তর: ডেভিসের স্বাভাবিক ক্ষয়চক্রের বার্ধক্য অবস্থায় নদী ও আবহবিকার দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ভূমি যখন প্রায় সমতল ও সামান্য উঁচু-নিচু বিশিষ্ট সমভূমিতে পরিণত হয়, তখন তাকে সমপ্রায় ভূমি বা পেনিপ্লেন বলে। এই সমতল ভূমির মাঝে মাঝে কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত অবশিষ্ট টিলা মোনাডনক হিসাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
2.2 অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: নদীর মধ্যগতিতে নদীবাঁক বা মিয়েন্ডার অত্যধিক বাঁকা হয়ে গেলে বন্যার সময় নদী বাঁক পরিত্যাগ করে সোজা পথে প্রবাহিত হয়। তখন পরিত্যক্ত বাঁকটি মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘোড়ার খুরের আকৃতির হ্রদে পরিণত হয়। একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বা অক্সবো লেক বলে।
2.3 বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট একটি ভূমিরূপের নাম লেখো।
উত্তর: বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট একটি প্রধান ভূমিরূপ হল বার্খান। এটি একটি অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়ি। এছাড়া সিফ বালিয়াড়ি ও লোয়েস সমভূমিও বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত হয়।
2.4 পরম আর্দ্রতা কী?
উত্তর: এক ঘনমিটার বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে গ্রামে প্রকাশ করলে তাকে পরম আর্দ্রতা বলে। যেমন এক ঘনমিটার বায়ুতে 10 গ্রাম জলীয় বাষ্প থাকলে পরম আর্দ্রতা হবে 10 গ্রাম প্রতি ঘনমিটার।
2.5 পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কী?
উত্তর: ভূমধ্যসাগর থেকে উৎপন্ন হয়ে শীতকালে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিমী জেট বায়ুর সাথে যে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত উত্তর-পশ্চিম ভারতে অর্থাৎ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে প্রবেশ করে এবং বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটায়, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে। এই বৃষ্টি গম চাষের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।
2.6 ভাঙ্গর কী?
উত্তর: গাঙ্গেয় সমভূমিতে পুরানো পলি দ্বারা গঠিত উঁচু অঞ্চলকে ভাঙ্গর বলে। এটি নদী থেকে দূরে অবস্থিত, বন্যার জলে ডোবে না, এতে কাঁকর ও চুনের পরিমাণ বেশি এবং খাদরের তুলনায় কম উর্বর।
2.7 ভারতের দুটি খাদ্য শস্যের নাম লেখো।
উত্তর: ভারতের দুটি প্রধান খাদ্য শস্য হল ধান ও গম। এছাড়া জোয়ার, বাজরা, রাগি ও ভুট্টাও খাদ্য শস্য হিসাবে চাষ করা হয়।
2.8 ভারতে কৃষি ঋতু কয়টি ও কী কী?
উত্তর: ভারতে কৃষি ঋতু প্রধানত তিনটি। যথা ১) খরিফ ঋতু: বর্ষাকালে জুন থেকে অক্টোবর মাসে ধান, পাট, ভুট্টা ও তুলো চাষ হয়, ২) রবি ঋতু: শীতকালে অক্টোবর থেকে মার্চ মাসে গম, যব, সরিষা ও ছোলা চাষ হয় এবং ৩) জায়িদ ঋতু: গ্রীষ্মকালে মার্চ থেকে জুন মাসে তরমুজ, শসা, বাদাম ও শাকসবজি চাষ হয়।
2.9 ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র কোনটি?
উত্তর: ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র হল ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে অবস্থিত TISCO বা টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি। এটি 1907 সালে জামসেদজি টাটা প্রতিষ্ঠা করেন।
2.10 ভারতের জাতীয় সড়কের সংখ্যা কত?
উত্তর: বর্তমানে ভারতে জাতীয় সড়কের সংখ্যা 599টি এবং এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় 1.32 লক্ষ কিলোমিটার। ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক হল NH-44, যা শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত 3745 কিলোমিটার দীর্ঘ।
2.11 পিক্সেল কী?
উত্তর: উপগ্রহ চিত্রের ক্ষুদ্রতম একক বা বিন্দুকে পিক্সেল বলে। প্রতিটি পিক্সেল ভূমির একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলকে নির্দেশ করে, যেমন 23 মিটার x 23 মিটার। পিক্সেলের রঙ ও উজ্জ্বলতা ভূমির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা দেয়।
2.12 টপো মানচিত্রে হলুদ রঙ দ্বারা কী বোঝানো হয়?
উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে হলুদ রঙ দ্বারা কৃষিজমি বা চাষের জমিকে বোঝানো হয়।
2.13 জনঘনত্বের প্রকারভেদ লেখো।
উত্তর: জনঘনত্ব প্রধানত তিন প্রকার। যথা ১) গাণিতিক ঘনত্ব: মোট জনসংখ্যাকে মোট ক্ষেত্রফল দিয়ে ভাগ করে পাওয়া যায়, ২) কৃষি ঘনত্ব: কৃষিতে নিযুক্ত জনসংখ্যাকে মোট কৃষিজমি দিয়ে ভাগ করে পাওয়া যায় এবং ৩) শারীরবৃত্তীয় ঘনত্ব: মোট জনসংখ্যাকে মোট কৃষিজমি দিয়ে ভাগ করে পাওয়া যায়।
2.14 অভিবাসন কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের জীবিকা, শিক্ষা বা অন্য কোনো কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে যাওয়াকে অভিবাসন বলে। যেমন গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন হল অভ্যন্তরীণ অভিবাসন এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে আগমন হল আন্তর্জাতিক অভিবাসন।
2.15 ভারতের অক্ষাংশগত বিস্তার কত?
উত্তর: ভারতের মূল ভূখণ্ডের অক্ষাংশগত বিস্তার 8°4′ উত্তর অক্ষাংশে কন্যাকুমারী থেকে 37°6′ উত্তর অক্ষাংশে কাশ্মীর পর্যন্ত। ইন্দিরা পয়েন্ট সহ সমগ্র ভারতের অক্ষাংশগত বিস্তার 6°45′ উত্তর থেকে 37°6′ উত্তর পর্যন্ত।
2.16 বিপর্যয় কাকে বলে?
উত্তর: প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে হঠাৎ ঘটে যাওয়া যে ঘটনা মানুষের প্রাণ, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে, তাকে বিপর্যয় বা ডিজাস্টার বলে। যেমন বন্যা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও সুনামি হল বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয়।
Madhyamik Geography Model Answers-9
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×8=16)
3.1 নদীর নিম্নগতিতে বদ্বীপ কেন গড়ে ওঠে? শর্ত লেখো।
উত্তর: নদীর নিম্নগতিতে ভূমির ঢাল কমে যায় বলে নদীর গতিবেগ কমে যায় এবং বহন ক্ষমতা কমে গিয়ে সঞ্চয় বেশি হয়, তাই মোহনার কাছে ব-দ্বীপ গড়ে ওঠে।
ব-দ্বীপ গড়ে ওঠার শর্তগুলি হল –
i. নদীতে প্রচুর পরিমাণে সূক্ষ্ম পলি, বালি ও কাদা থাকতে হবে।
ii. মোহনার কাছে নদীর গতিবেগ খুব কম হতে হবে।
iii. মোহনায় সমুদ্র অগভীর ও শান্ত হতে হবে।
iv. মোহনায় জোয়ার-ভাটার প্রকোপ কম হতে হবে।
v. সমুদ্রে শক্তিশালী স্রোত থাকবে না।
vi. নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে ক্ষয় ও বহন বেশি হতে হবে।
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহনায় এই সমস্ত শর্ত পূরণ হওয়ায় পৃথিবীর বৃহত্তম সুন্দরবন ব-দ্বীপ গড়ে উঠেছে।
3.2 ক্রেভাস ও বার্গস্রুন্ডের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় ক্রেভাস বার্গস্রুন্ড
সংজ্ঞা হিমবাহ ঢাল বেয়ে নামার সময় টানের ফলে হিমবাহের উপরের অংশে যে আড়াআড়ি ফাটল সৃষ্টি হয়, তাকে ক্রেভাস বলে। করি হিমবাহের পিছনে পর্বতের দেওয়াল ও হিমবাহের মধ্যে হিমবাহ ও পর্বত আলাদা হওয়ার ফলে যে বড় ফাটল সৃষ্টি হয়, তাকে বার্গস্রুন্ড বলে।
বৈশিষ্ট্য এটি 30 থেকে 50 মিটার গভীর এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি ক্রেভাসের চেয়ে অনেক বেশি গভীর এবং পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
3.3 বিশ্ব উষ্ণায়ন কী? এর একটি কারণ লেখো।
উত্তর: বায়ুমণ্ডলে গ্রীনহাউস গ্যাস যেমন কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও CFC গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়াকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা Global Warming বলে। গত 100 বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় 1 ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে এবং 2100 সালের মধ্যে 2 থেকে 4 ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হয়।
কারণ: বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হল জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা, পেট্রোল ও ডিজেল পোড়ানো। কলকারখানা, মোটরগাড়ি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় এবং নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংসের ফলে এই গ্যাস শোষিত হতে পারে না।
3.4 ভারতে খরা ও বন্যার কারণ লেখো।
উত্তর:
খরার কারণ:
i. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু দুর্বল হওয়া, দেরিতে আসা এবং এল-নিনোর প্রভাব।
ii. নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস, জলাভূমি ভরাট এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়া।
iii. অতিরিক্ত জল ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তন।
বন্যার কারণ:
i. অতিরিক্ত মৌসুমী বৃষ্টি এবং হিমালয়ের বরফ গলা জলে নদীতে জল বৃদ্ধি।
ii. নদীর তলদেশে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া।
iii. বাঁধ থেকে হঠাৎ প্রচুর জল ছেড়ে দেওয়া, যেমন DVC বাঁধ থেকে।
iv. নির্বিচারে বন কাটা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাভূমি ভরাট।
v. ঘূর্ণিঝড় ও ভরা কোটালে জোয়ারের জল নদীতে প্রবেশ করা।
3.5 ভারতের মালভূমি অঞ্চলের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: ভারতের মালভূমি বলতে দাক্ষিণাত্য ও ছোটনাগপুর মালভূমিকে বোঝায়। এর গুরুত্বগুলি হল –
i. খনিজ সম্পদে: ভারতের প্রায় 90 শতাংশ খনিজ সম্পদ যেমন লোহা, কয়লা, ম্যাঙ্গানিজ ও বক্সাইট এই মালভূমি অঞ্চল থেকে পাওয়া যায়।
ii. শিল্পে: খনিজের সহজলভ্যতার কারণে এখানে লৌহ-ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও সিমেন্ট শিল্প গড়ে উঠেছে, যেমন জামশেদপুর ও ভিলাই।
iii. জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে: মালভূমির নদীগুলিতে অনেক জলপ্রপাত আছে, যেমন যোগ ও শিবসমুদ্রম জলপ্রপাত থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
iv. কৃষিতে: এখানকার কৃষ্ণ মাটিতে তুলো ও আখ এবং লাল মাটিতে রাগি চাষ ভালো হয়।
v. বনজ সম্পদ: মালভূমি অঞ্চলে প্রচুর বনভূমি রয়েছে, যা থেকে কাঠ, মধু ও ঔষধি গাছ পাওয়া যায়।
3.6 ভারতে নদী সংযোগ পরিকল্পনার গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: নদী সংযোগ পরিকল্পনা বলতে একটি নদীর অতিরিক্ত জলকে খালের মাধ্যমে অন্য নদীতে নিয়ে যাওয়াকে বোঝায়। যেমন গঙ্গা-কাবেরী সংযোগ পরিকল্পনা।
এর গুরুত্বগুলি হল –
i. বন্যা নিয়ন্ত্রণ: বন্যা প্রবণ নদীর অতিরিক্ত জল খরা প্রবণ অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ii. খরা রোধ ও সেচ: রাজস্থানের মতো খরা প্রবণ অঞ্চলে সেচের জল সরবরাহ করা যায়।
iii. পানীয় জলের সমস্যা সমাধান করা যায়।
iv. নৌ-পরিবহনের উন্নতি ঘটানো যায়।
v. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
সমস্যা: এই পরিকল্পনায় প্রচুর খরচ হয়, পরিবেশের ক্ষতি হয় এবং বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে জল নিয়ে বিবাদ দেখা দিতে পারে।
3.7 ভারতে কৃষিতে জলসেচের পদ্ধতিগুলি লেখো।
উত্তর: ভারতে কৃষিতে জলসেচের প্রধান পদ্ধতিগুলি হল –
i. কূপ ও নলকূপ: উত্তর ভারতে প্রায় 60 শতাংশ জমিতে কূপ ও নলকূপের মাধ্যমে সেচ করা হয়। এটি সস্তা ও সহজলভ্য।
ii. খালের মাধ্যমে সেচ: বাঁধ থেকে খাল কেটে সেচ করা হয়, যেমন ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ ও ইন্দিরা গান্ধী খাল। দক্ষিণ ভারতে খালের মাধ্যমে সেচ কম।
iii. পুকুর ও জলাশয়: দক্ষিণ ভারতে পুকুর ও জলাশয়ের মাধ্যমে সেচ বেশি প্রচলিত।
iv. আধুনিক পদ্ধতি: ড্রিপ বা বিন্দু সেচ পদ্ধতিতে 50 শতাংশ জল কম লাগে এবং এটি ফল ও সবজি চাষে ব্যবহৃত হয়। স্প্রিংকলার বা ঝরনা সেচ পদ্ধতি চা ও কফি চাষে ব্যবহৃত হয়।
v. নদী উপত্যকা প্রকল্প: বড় বাঁধ তৈরি করে জলাধার থেকে সেচের জল সরবরাহ করা হয়।
3.8 ভারতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় পাট চাষ হয় না কেন?
উত্তর: পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় পাট চাষ না হওয়ার কারণগুলি হল –
i. প্রাকৃতিক কারণ: পাট চাষের জন্য 150 থেকে 200 সেন্টিমিটার বৃষ্টি, 90 শতাংশ আর্দ্রতা, উর্বর পলি মাটি, জল জমে থাকা জমি এবং প্রচুর সস্তা শ্রমিক প্রয়োজন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় বৃষ্টি মাত্র 50 থেকে 100 সেন্টিমিটার এবং জলবায়ু শুষ্ক।
ii. লাভজনকতার অভাব: পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গম, ধান ও তুলো চাষ বেশি লাভজনক। সবুজ বিপ্লবের পর গম ও ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা পাটের পরিবর্তে গম ও ধান চাষ করতে বেশি আগ্রহী।
iii. পাট পচানোর জলের অভাব: পাট কেটে পচানোর জন্য প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়, যা পাঞ্জাবে পর্যাপ্ত নয়।
iv. পাটকলের দূরত্ব: ভারতের বেশিরভাগ পাটকল পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত, তাই পাঞ্জাব থেকে পাট পরিবহনের খরচ বেশি পড়ে।
Madhyamik Geography Model Answers-9
3.9 ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: যন্ত্রপাতি তৈরির শিল্পকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে, যেমন মেশিন, মোটরগাড়ি, রেল ইঞ্জিন ও জাহাজ তৈরির শিল্প।
এর গুরুত্বগুলি হল –
i. ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে শিল্পের মেরুদণ্ড বলা হয়, কারণ এই শিল্প অন্যান্য সমস্ত শিল্পের জন্য যন্ত্রপাতি তৈরি করে, যেমন কৃষি, বস্ত্র ও লৌহ-ইস্পাত শিল্পের যন্ত্র।
ii. এই শিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
iii. ইঞ্জিনিয়ারিং দ্রব্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়।
iv. রেল, সড়ক, বাঁধ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে দেশের উন্নয়নে সাহায্য করে। ভারতে বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, পুনে, জামশেদপুর ও কলকাতায় এই শিল্প উল্লেখযোগ্যভাবে গড়ে উঠেছে।
3.10 উপগ্রহ চিত্রের অসুবিধা লেখো।
উত্তর: উপগ্রহ চিত্রের প্রধান অসুবিধাগুলি হল –
i. উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য দামি যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, সফটওয়্যার ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হয়।
ii. আকাশে মেঘ থাকলে উপগ্রহ চিত্র অস্পষ্ট ও ঝাপসা হয়।
iii. রেজোলিউশন কম হওয়ায় খুব ছোট বস্তু যেমন বাড়ি ও মানুষকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।
iv. অভিজ্ঞতার অভাবে ছবির ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে।
v. সবসময় সব এলাকার ছবি পাওয়া যায় না।
vi. এই চিত্র বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়।
3.11 জনবসতির প্রকারভেদ লেখো।
উত্তর: জনবসতির প্রকারভেদ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে করা যায় –
i. আকৃতি অনুযায়ী: পুঞ্জীভূত জনবসতি, যেমন গাঙ্গেয় সমভূমিতে উর্বর মাটি ও পর্যাপ্ত জলের জন্য গড়ে ওঠে। বিক্ষিপ্ত জনবসতি, যেমন হিমালয়, মরু ও বন অঞ্চলে জল ও মাটির অভাবে গড়ে ওঠে। রৈখিক জনবসতি, যা নদী, রাস্তা ও রেললাইনের ধারে লম্বাভাবে গড়ে ওঠে। বৃত্তাকার জনবসতি, যা হ্রদ বা পাহাড়ের চারপাশে গোলাকারভাবে গড়ে ওঠে এবং চৌমাথা জনবসতি, যা রাস্তার মোড়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
ii. কাজ অনুযায়ী: কৃষিজ, শিল্প, বাণিজ্যিক, প্রশাসনিক, ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রিক জনবসতি।
iii. অবস্থান অনুযায়ী: গ্রামীণ ও পৌর বা শহুরে জনবসতি।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-10 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-9/2 » NIRYAS.IN