Mohandas Karamchand Gandhi-Biography in Bengali
Mohandas Karamchand Gandhi-Biography in Bengali
পৃথিবীর আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে বহু ঘটনা । ইতিহাসের পাতায় নিরন্তর লিপিবদ্ধ হয়ে চলেছে সেই ঘটনাবলীর কড়চা । বিশ্ব ও ভারতের ইতিহাসের পাতা উল্টে সেইসমস্ত ঘটনাবলীগুলির ভিড় থেকে কিছু মণিমানিক্যের অনুসন্ধানের জন্য “আজকের দিনে” বিভাগের সূচনা । এই বিভাগে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসে ঘটে যাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা হবে । অক্টোবর মাসের বিভাগে Mohandas Karamchand Gandhi-Biography in Bengali নামক পোস্টের মাধ্যমে এখন আমরা আলোচনা করবো অহিংসার পূজারী “মহাত্মা গান্ধী” সম্পর্কে । তাহলে আর অপেক্ষা না করে আমরা মূল বিষয়ে প্রবেশ করি ⬎
অহিংসার পূজারী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী

⟽ Previous set : নেতাজী, ভারত মাতার সুপুত্র
আজ 2রা অক্টোবর, 1869 সালের আজকের দিনে ব্রিটিশ ভারতের কাথিয়াওয়াড় এজেন্সির (বর্তমান ভারতে গুজরাটের) পোরবন্দর শহরে মোঢ় বণিক পরিবারে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন তার পিতা “দেওয়ান” করমচাঁদ উত্তমচাঁদ গান্ধী এবং মাতা পুতলিবাঈ গান্ধীর চতুর্থ সন্তান এবং কনিষ্ঠ পুত্র সন্তান।
পাঁচ বছর বয়সে 1874 সালে পোরবন্দরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোহনদাসের প্রারম্ভিক শিক্ষা আরম্ভ হয় এবং 1877 সালে তার পিতা राजকোটের দেওয়ান পদে নিযুক্ত হলে পরিবারসহ রাজকোটে চলে যান। 1879 সালে তিনি রাজকোটের তালুক স্কুলে ভর্তি হন এবং 1880 সালে রাজকোটের আলফ্রেড হাই স্কুলে (বর্তমান মোহনদাস গান্ধী হাই স্কুল) ভর্তি হন। 1887 সালে মাত্র 18 বছর বয়সে তিনি আহমেদাবাদ থেকে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। 1888 সালে তিনি ভবনগরের শ্যামলদাস কলেজে ভর্তি হন কিন্তু কলেজের শিক্ষা তার ভালো লাগেনি।
1883 সালে মাত্র 13 বছর বয়সে তার বিবাহ হয় কস্তুরবা মাখনজী কাপাডিয়ার সাথে। 1888 সালের 4ঠা সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং লন্ডনের Inner Temple এ ভর্তি হন। 1891 সালে তিনি ব্যারিস্টারি পাশ করে ভারতে ফিরে আসেন এবং বোম্বে ও রাজকোটে আইন ব্যবসা শুরু করেন কিন্তু বিশেষ সফল হতে পারেননি।
পড়ুন ➣ লাল বাহাদুর শাস্ত্রী সম্পর্কে (আজকের দিনেই জন্ম)
1893 সালে একটি ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নাটালে যান। সেখানে 1893 সালের 7ই জুন পিটারমারিৎজবার্গ স্টেশনে প্রথম শ্রেণীর টিকিট থাকা সত্ত্বেও বর্ণবৈষম্যের কারণে তাকে ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়, যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। 1894 সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় Natal Indian Congress গঠন করেন এবং 1906 সালে প্রথমবার “সত্যাগ্রহ” (সত্যের প্রতি আগ্রহ) আন্দোলন শুরু করেন। তিনি সেখানে “ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন” নামক পত্রিকা প্রকাশ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় 21 বছর অবস্থানকালে তিনি টলস্টয় ফার্ম ও ফিনিক্স আশ্রম গড়ে তোলেন।
Mohandas Karamchand Gandhi-Biography in Bengali
1915 সালের 9ই জানুয়ারি গান্ধীজী ভারতে ফিরে আসেন এবং গোপাল কৃষ্ণ গোখলেকে তার রাজনৈতিক গুরু হিসাবে গ্রহণ করেন। 1915 সালে তিনি আহমেদাবাদে সবরমতী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।
1917 সালে তিনি বিহারের চম্পারণে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রথম সফল সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেন। 1918 সালে আহমেদাবাদে মিল শ্রমিক ও খেড়া সত্যাগ্রহে নেতৃত্ব দেন।
1919 সালের 13ই এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত “কাইজার-ই-হিন্দ” উপাধি ত্যাগ করেন। 1920 সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং অসহযোগ আন্দোলন (Non-cooperation Movement) শুরু করেন। 1922 সালে চৌরি-চৌরা ঘটনার পর তিনি এই আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
1930 সালের 12ই মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ডান্ডি অভিযান শুরু করেন, সবরমতী আশ্রম থেকে 384 কিমি পথ হেঁটে 5ই এপ্রিল ডান্ডিতে পৌঁছে লবণ আইন ভঙ্গ করেন এবং আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করেন। 1931 সালে তিনি দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে লন্ডন যান।
1932 সালে পুনা চুক্তিতে তিনি ড. বি. আর. আম্বেদকরের সাথে হরিজনদের জন্য সংরক্ষণ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। 1942 সালের 8ই আগস্ট বোম্বেতে তিনি ঐতিহাসিক “ভারত ছাড়ো আন্দোলন” (Quit India Movement) এর ডাক দেন এবং “Do or Die” (করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে) মন্ত্র দেন। এই আন্দোলনের জন্য তিনি 1944 সাল পর্যন্ত পুনার আগা খান প্রাসাদে কারারুদ্ধ ছিলেন।
Mohandas Karamchand Gandhi-Biography in Bengali
নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু 1944 সালের 6ই জুলাই আজাদ হিন্দ রেডিও থেকে তাকে প্রথম “Father of the Nation” (জাতির জনক) বলে সম্বোধন করেন। সরোজিনী নাইডু তাকে “মিকি মাউস” এবং সুভাষ চন্দ্র বসু “মহাত্মা” উপাধিতে ভূষিত করেন, যদিও গান্ধীজী নিজে এই উপাধি পছন্দ করতেন না।
1947 সালের 15ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে, কিন্তু দেশভাগের বেদনায় গান্ধীজী অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য আমরণ অনশন করেন।
অবশেষে 1948 সালের 30শে জানুয়ারি নতুন দিল্লির বিড়লা ভবনে প্রার্থনা সভায় যাওয়ার পথে নাথুরাম গডসের গুলিতে তিনি নিহত হন। তার আত্মজীবনী “The Story of My Experiments with Truth” (সত্যের সঙ্গে আমার পরীক্ষা), যা 1927 সালে প্রকাশিত হয়।
গান্ধীজীর অহিংসা ও সত্যাগ্রহের আদর্শ আজও সমগ্র বিশ্বে শান্তি আন্দোলনের প্রেরণা।
তথ্যসূত্র : “Gandhi: A Life” : Krishna Kripalani; National Archives of India
Collected Works of Mahatma Gandhi (CWMG)
Wikipedia Public Domain
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Gandhi Jayanti Quiz – 2Nd October » NIRYAS.IN