NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

আজকের দিনে

Nana Patekar – The voice that shakes the screen

Nana Patekar – The voice that shakes the screen

ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা বিশ্বনাথ “নানা” পাটেকর (Vishwanath “Nana” Patekar)—যাঁকে বলা যায় Nana Patekar – The voice that shakes the screen। তাঁর তীব্র কণ্ঠস্বর ও অনবদ্য অভিনয় যেমন পর্দায় কাঁপন ধরাত, তেমনি বাস্তব জীবনে তাঁর দেশপ্রেম এবং খরাগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর রূপটি তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল। জাতীয় পুরস্কার ও পদ্মশ্রীতে ভূষিত এই মহাতারকার জীবনসংগ্রাম, অভিনয় সফর ও অবিনশ্বর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমাদের এই বিশেষ উপস্থাপনা।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


নানা পাটেকর – যে কণ্ঠস্বর পর্দা কাঁপাত

Nana Patekar - The voice that shakes the screen
Nana Patekar – The voice that shakes the screen

⟽ Previous Post : অহিংসার পূজারী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী

“আ গয়ে মেরি মওত কা তামাশা দেখনে…”

এই একটা সংলাপই যথেষ্ট ছিল একটা হলকে স্তব্ধ করে দিতে। এই কণ্ঠস্বরের মালিক, এই রাগ, এই আগুনের নাম ছিল নানা পাটেকর। আজ সেই কণ্ঠস্বর চিরতরে থেমে গেল।

৮ অক্টোবর ২০২৬, ভোরবেলা। গোয়ার নিজের বাড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকর। দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় মণিপাল হাসপাতালে। চিফ অনকোলজিস্ট ডাঃ শেখর সালকর জানান, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে একটানা CPR দিয়েও তাঁকে ফেরানো যায়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে ৭৫ বছর বয়সে তিনি চলে যান হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে।

Nana Patekar – The voice that shakes the screen

এই মৃত্যুটা শুধু একজন অভিনেতার মৃত্যু নয়। এটা একটা যুগের শেষ।

​তাঁর আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৫১, মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায়। বাবা  দীননাথ পাটেকর, মা সঞ্জনা। পাঁচ ভাইবোনের সংসার। ছোটবেলা মোটেই রঙিন ছিল না। যখন তাঁর বয়স ১৩, তখন বাবার ব্যবসা একেবারে ভেঙে পড়ে। ক্লাস নাইনে পড়তেই সংসারের হাল ধরতে হয়। স্কুল শেষ করে মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়ে সিনেমার পোস্টার আঁকতেন। মাসে ৩৫ টাকা আর একবেলা ভাত — এটাই ছিল পারিশ্রমিক। পরে ভর্তি হন স্যার জে জে ইনস্টিটিউট অফ অ্যাপ্লায়েড আর্টে, বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করেছেন। নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “ক্ষুধা আর অপমান আমাকে অভিনয় শিখিয়েছে, কোনো স্কুল নয়।” সেই ক্ষুধাই তাঁর চোখে এনে দিয়েছিল সেই বিখ্যাত রাগ। সেই রাগটাই আমরা দেখেছি পর্দায়।

Nana Patekar – The voice that shakes the screen

১৯৭৮ সালে “গমন” (Gaman) দিয়ে হিন্দি সিনেমায় শুরু। কিন্তু তাঁকে চিনলো মানুষ “পরিন্দা” (Parinda : ১৯৮৯)-র আন্না দিয়ে। তারপর একে একে “সালাম বম্বে” (Salaam Bombay), “অঙ্গার” (Angaar), “তিরঙ্গা” (Tirangaa), “ক্রান্তি বীর” (Krantiveer), “অগ্নি সাক্ষী” (Agni Sakshi), “খামোশী” (Khamoshi: The Musical), “আব তক ছাপ্পান্ন” (Ab Tak Chhappan), “রাজনীতি” (Raajneeti), “দেওল” (Deool), “নতসম্রাট” (Natsamrat) — আর উল্টো দিকে “ওয়েলকাম” (Welcome)-এর উদয় শেট্টি।

ভাবা যায়? যে লোকটা “এক মছলি পানি মে গয়ি…” বলে ভয় ধরিয়ে দেয়, সেই লোকটাই “কন্ট্রোল উদয়, কন্ট্রোল” বলে হাসিয়ে পেটে খিল ধরিয়ে দেয়। এই বৈচিত্র্যই নানা পাটেকর। ক্রান্তিবীর (Krantiveer)-এর জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে National Award, “পরিন্দা” (Parinda) আর “অগ্নি সাক্ষী” (Agni Sakshi)-র জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা — মোট তিনটি জাতীয় পুরস্কার। সঙ্গে একাধিক ফিল্মফেয়ার এবং ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী।

​Nana Patekar – The voice that shakes the screen

অনেকেই জানেন না, নানা পাটেকর অভিনয়ের জন্য যা করেছেন, তা অন্য কোনো ভারতীয় অভিনেতা করেননি। “প্রহর” (Prahaar: The Final Attack-১৯৯১) ছবিতে এক সেনা অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য তিনি তিন বছর ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে কঠোর কমান্ডো ট্রেনিং নিয়েছিলেন। মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সঙ্গে থাকা, অস্ত্র চালানো, রাইফেল শুটিংয়ে জাতীয় স্তরে অংশ নেওয়া — সব। এই ট্রেনিং তাঁকে বদলে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন, শুধু ইউনিফর্ম পরলেই সেনা হওয়া যায় না। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধ শুরু হলে তিনি সরাসরি তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের কাছে চিঠি লেখেন — “আমাকে সীমান্তে যেতে দিন, আমি প্রশিক্ষিত।” অনুমতি মেলে। এরপর প্রায় ৬০ দিন তিনি ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে। ড্রাস, লেহ, কুপওয়ারা, বারামুল্লা, সোপোর — সবচেয়ে বিপজ্জনক পোস্টগুলোতে জওয়ানদের সঙ্গে। একটি Quick Reaction Team-এর সঙ্গেও তিনি ছিলেন বলে নিজেই জানিয়েছিলেন।

পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “যাওয়ার সময় আমার ওজন ছিল ৭৬ কেজি, যখন ফিরলাম ৫৬ কেজি।” কিন্তু কখনও এটাকে প্রচার করেননি। তিনি সবসময় বলতেন, “আসল হিরো তো ওরা, যারা -২০ ডিগ্রিতে সীমান্তে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা তো পর্দার হিরো।”

​Nana Patekar – The voice that shakes the screen

২০১৫ সাল। মহারাষ্ট্রে ভয়াবহ খরা। একের পর এক কৃষক আত্মহত্যা করছেন। খবর দেখে ঘুমাতে পারেননি নানা। বন্ধু, অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরেকে নিয়ে শুরু করলেন NAAM Foundation। প্রথমে নিজের পকেট থেকে বিদর্ভ ও মারাঠওয়াড়ার ১১৩টি কৃষক পরিবারকে ১৫,০০০ টাকা করে দিয়েছিলেন। তারপর সেটাই বড় আকার নিল। NAAM আজও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সাহায্য করে; গ্রামের পর গ্রামে জলাধার, নদী, খাল পুনরুদ্ধার করে; বিধবা কৃষক-স্ত্রীদের সেলাই মেশিন, চাষের সরঞ্জাম ইত্যাদি প্রদান করে তথা কৃষকদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার দায়িত্ব বহন করে । তিনি নিজের অনেক ছবির পারিশ্রমিক, পুরস্কারের অর্থ এই ফাউন্ডেশনে দিয়ে দিয়েছেন বলে বহু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কখনও ঢাকঢোল পেটাননি।

​Nana Patekar – The voice that shakes the screen

মৃত্যুর ঠিক চার দিন আগে, ৪ অক্টোবর ২০২৬, গোয়ার ডোনা পাওলায় তাজ সিদাদে দে গোয়ায় Samraat Club International-এর অনুষ্ঠানে শেষবার জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সাদা কুর্তা, কাঁধে সাদা গামছা পরে মঞ্চে উঠে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পর্রীকরের কথা বলছিলেন। আর বলছিলেন এক অদ্ভুত সত্যি কথা — “We all have to go someday. I don’t know whether I will be here tomorrow or not…”কে জানত, এই কথাটাই তাঁর শেষ জনসমক্ষে বলা কথাগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

​ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন খুব একা। ১৯৭৮ সালে নীলকান্তি পাটেকরকে বিয়ে, এক ছেলে মালহার পাটেকর। পরে তাঁরা আলাদা থাকতেন। জীবনে ছোট ছেলেকে হারানোর মতো গভীর ক্ষতও তাঁকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে। তবুও তিনি কখনও নিজের যন্ত্রণা নিয়ে ব্যবসা করেননি। আজ যখন আমরা তাঁর কথা ভাবি, তখন শুধু একজন অভিনেতাকে মনে পড়ে না। মনে পড়ে একজন মানুষকে — যে রাগতে জানত, যে ভালোবাসতে জানত, যে সেনাদের সঙ্গে বন্দুক হাতে দাঁড়াতে জানত, আবার খরায় ফাটা জমিতে কৃষকের পাশে বসে কাঁদতেও জানত।

Nana Patekar – The voice that shakes the screen

বলিউডে অনেক স্টার আসবে, যাবে। কিন্তু নানা পাটেকরের মতো “অভিনেতা” — যার চোখ কথা বলে, যার নীরবতাও সংলাপ হয়ে যায় — তিনি প্রজন্মে একবারই আসেন। তাঁর সংলাপগুলো ইউটিউবে থেকে যাবে, তাঁর Natsamrat-এর কান্না থেকে যাবে, তাঁর NAAM-এর তৈরি করা জলাধারগুলোতে জল থাকবে। আর আমাদের মনে থেকে যাবে একটা আফসোস — “আ গয়ে মেরি মওত কা তামাশা দেখনে…” বলা মানুষটা সত্যিই চলে গেলেন, আর আমরা শুধু তামাশা দেখলাম।

ভালো থাকবেন নানাসাহেব। যেখানে থাকবেন, সেখানেও ওইভাবেই সত্যি কথা বলবেন। নির্যাস এর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ।


➣মাধ্যমিক 2027 – সব বিষয়ের মডেল প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পড়তে ক্লিক/টাচ করুন

➣দেখুন : SLST Geography Mega Preparation

➣দেখুন: আপার প্রাইমারি TET পরীক্ষা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣পড়ুন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী’র গল্প 

➣দেখুন : অঙ্গনওয়াড়ি পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣দেখুন : গ্রাম পঞ্চায়েত পরীক্ষা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣দেখুন : WBP পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣দেখুন : ANM & GNM পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি

➣ দেখুন : প্রাথমিক TET পরীক্ষার মহা প্রস্তুতি

➣পড়ুন : স্ট্যাটিক GK নির্যাস

➣পড়ুন : কুইজ ক্যাপসুল নির্যাস


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading