Plastic: The Discovery That Changed the World
Plastic: The Discovery That Changed the World
প্রবন্ধ হল নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ভাষা চর্চার তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা । জ্ঞানের গভীরতা বৃদ্ধি ও ভাষা বোধের দক্ষতার জন্য প্রবন্ধ পাঠ অনিবার্য । আবার বিভিন্ন সাম্প্রতিক বিষয়ে আপটুডেট থাকার জন্যও প্রবন্ধ পাঠ প্রয়োজন । সেই উদ্দেশ্যেই আমরা আরম্ভ করেছি প্রবন্ধ নির্যাস নামক বিভাগ । এই বিভাগে সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধরনের বিষয়বস্তু অবলম্বনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে । সভ্যতার অগ্রগতিকে সহজ ও গতিশীল করার পাশাপাশি প্লাস্টিক কীভাবে নীরব পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে এনেছে, সেই জয়যাত্রা ও নৈতিক সংকট নিয়ে আজকের প্রবন্ধ Plastic: The Discovery That Changed the World।
প্লাস্টিক: যে আবিষ্কার পৃথিবী বদলে দিল, আবার ডুবিয়েও দিচ্ছে

রূপরেখা
এই প্রবন্ধে প্রথমে আমরা দেখব প্লাস্টিকের আবিষ্কারের ইতিহাস। তারপর আলোচনা করা হবে প্লাস্টিক কীভাবে চিকিৎসা, কৃষি, যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন জীবন বদলে দিল। এরপর আমরা দেখব প্লাস্টিকের কারণে পরিবেশের কী ক্ষতি হচ্ছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক কী এবং কেন তা বিপজ্জনক। সবশেষে আমরা আলোচনা করব সমাধানের উপায় নিয়ে, যেমন রিসাইক্লিং, বিকল্প উপাদান এবং সরকারি নীতি।
^Plastic: The Discovery That Changed the World
আবিষ্কারের ইতিহাস: বাকেলাইট থেকে পলিথিন
প্লাস্টিক কোনো একদিনে আবিষ্কৃত হয়নি। এটি অনেক বিজ্ঞানীর দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল।
প্রথম আংশিক সাফল্য আসে ১৮৬২ সালে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার পার্কস লন্ডনের গ্রেট এক্সিবিশনে পার্কসিন নামে একটি উপাদান দেখান। এটি ছিল সেলুলোজ থেকে তৈরি, যা হাতির দাঁতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেত। কিন্তু এটি বেশি টেকসই ছিল না।
আসল বিপ্লব আসে ১৯০৭ সালে। বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া মার্কিন রসায়নবিদ লিও বেকেল্যান্ড বেকেলাইট আবিষ্কার করেন। বেকেলাইট ছিল প্রথম সম্পূর্ণ কৃত্রিম প্লাস্টিক। এটি তাপ দিলে নরম হয় না, বিদ্যুৎ পরিবহন করে না এবং পানিতে নষ্ট হয় না। এই কারণে বেকেলাইট দিয়ে রেডিও, ফোন, ইলেকট্রিক সুইচ, গহনা এবং রান্নাঘরের জিনিস তৈরি শুরু হয়।
এরপর ১৯৩৩ সালে ব্রিটেনের ICI কোম্পানির বিজ্ঞানীরা পলিথিন আবিষ্কার করেন। প্রথমে এটি ভুল করে তৈরি হয়েছিল, কিন্তু পরে দেখা গেল এটি প্যাকেজিংয়ের জন্য অসাধারণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পলিথিন দিয়ে সৈন্যদের জন্য ওয়াটারপ্রুফ কাপড় এবং তারের আবরণ তৈরি করা হয়।
১৯৫০ এর দশকে পলিপ্রোপিলিন, পলিস্টাইরিন এবং পিভিসি আবিষ্কৃত হয়। এই সময় থেকে প্লাস্টিকের উৎপাদন দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৯৫০ সালে বিশ্বে প্লাস্টিক উৎপাদন ছিল মাত্র ২০ লাখ টন। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪০ কোটি টনের বেশি হয়েছে। এই বৃদ্ধি অভাবনীয়।
↔️Plastic: The Discovery That Changed the World
প্লাস্টিক কীভাবে পৃথিবী বদলে দিল
প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর বহুমুখিতা। এটি হালকা, শক্ত, নমনীয়, পানিরোধী এবং সস্তা। এই গুণের কারণে প্লাস্টিক প্রায় প্রতিটি শিল্পে ঢুকে পড়েছে।
চিকিৎসায় প্লাস্টিক বিপ্লব এনেছে। সিরিঞ্জ, স্যালাইন ব্যাগ, কৃত্রিম হৃদপিণ্ডের ভালভ, স্টেন্ট, অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, সবই প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। ১৯৫০ এর আগে এই জিনিসগুলো কাচ বা ধাতু দিয়ে তৈরি হতো, যা জীবাণুমুক্ত করা কঠিন ছিল এবং দামি ছিল। প্লাস্টিকের কারণে একবার ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি সম্ভব হয়েছে, যা সংক্রমণ কমিয়েছে এবং কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।
কৃষিতে প্লাস্টিক ব্যবহার বদলে দিয়েছে ফলন। গ্রিনহাউসে প্লাস্টিকের শেড ব্যবহার করে শীতকালেও সবজি চাষ করা যায়। মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় এবং আগাছা কমে। পানির পাইপ, সেচের ট্যাংক, সার এবং বীজের প্যাকেট, সবই প্লাস্টিক।
যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিতে প্লাস্টিক ছাড়া আধুনিক জীবন অসম্ভব। মোবাইল ফোনের বডি, কম্পিউটারের কেসিং, তারের ইনসুলেশন, স্যাটেলাইটের অংশ, সবই প্লাস্টিক বা প্লাস্টিক-ভিত্তিক কম্পোজিট। হালকা প্লাস্টিক ব্যবহার করে বিমানের ওজন কমানো হয়েছে, যার ফলে জ্বালানি সাশ্রয় হয় এবং কার্বন নির্গমন কমে।
দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের অবদান সবচেয়ে বেশি। খাবারের প্যাকেট প্লাস্টিকের কারণে খাবার অনেকদিন ভালো থাকে এবং দূর-দূরান্তে পাঠানো যায়। এতে খাদ্য অপচয় কমে এবং দাম কমে। পানির বোতল, বালতি, চেয়ার, খেলনা, জুতো, পোশাকের ফাইবার, সবই প্লাস্টিক। গরিব এবং মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সস্তা এবং টেকসই জিনিস তৈরি সম্ভব হয়েছে শুধু প্লাস্টিকের কারণে।
সংক্ষেপে, প্লাস্টিক বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলোর একটি। এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়িয়েছে, চিকিৎসা নিরাপদ করেছে এবং প্রযুক্তিকে সবার হাতে পৌঁছে দিয়েছে।
👉🏻Plastic: The Discovery That Changed the World
প্লাস্টিকের অন্ধকার দিক: পরিবেশ দূষণ
প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটি প্রকৃতিতে নষ্ট হয় না। কাগজ, কাঠ বা খাবার কয়েক মাস বা বছরে মাটিতে মিশে যায়। কিন্তু প্লাস্টিকের একটি বোতল মাটিতে পড়ে থাকলে তা সম্পূর্ণ নষ্ট হতে ৪৫০ বছর লাগে। একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ নষ্ট হতে ২০ বছর লাগে। এই কারণে একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক, যেমন স্ট্র, কাপ, প্লেট, প্যাকেট, পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক।
বিশ্বে প্রতিবছর যে ৪০ কোটি টন প্লাস্টিক তৈরি হয়, তার প্রায় ৪০ শতাংশই একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক। এই প্লাস্টিকের বেশিরভাগ রিসাইক্লিং হয় না। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে মাত্র ৯ শতাংশ প্লাস্টিক রিসাইক্লিং হয়। বাকি প্লাস্টিক মাটিতে, নদীতে এবং সমুদ্রে ফেলা হয়।
সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ সবচেয়ে ভয়াবহ। প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি টন প্লাস্টিক সমুদ্রে যায়। নদীগুলো এই প্লাস্টিক বয়ে সমুদ্রে নিয়ে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরে গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচ নামে একটি বিশাল এলাকা তৈরি হয়েছে, যেখানে প্লাস্টিক জমে জমে একটি ভাসমান দ্বীপের মতো হয়েছে। এর আকার প্রায় ১৬ লাখ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের আয়তনের প্রায় অর্ধেক।
সমুদ্রের প্রাণীদের ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ। কচ্ছপ প্লাস্টিকের ব্যাগকে জেলিফিশ ভেবে খায় এবং মারা যায়। সামুদ্রিক পাখি প্লাস্টিকের টুকরো খেয়ে মারা যায়। তিমি এবং ডলফিনের পেটে প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালে ফিলিপাইনের কাছে একটি তিমির পেটে ৪০ কেজি প্লাস্টিক পাওয়া গিয়েছিল।
মাটিতে প্লাস্টিক জমে মাটির উর্বরতা কমে। প্লাস্টিক মাটিতে পানি চলাচলে বাধা দেয় এবং মাটির জীবাণুদের ক্ষতি করে। বাংলাদেশ এবং ভারতের গ্রামাঞ্চলে প্লাস্টিকের বর্জ্য পোড়ানো হয়, যার ধোঁয়ায় ডাইঅক্সিন এবং ফিউরান নামে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। এই গ্যাস ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
@ Plastic: The Discovery That Changed the World
মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য শত্রু
প্লাস্টিকের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ হলো মাইক্রোপ্লাস্টিক। মাইক্রোপ্লাস্টিক মানে ৫ মিলিমিটারের ছোট প্লাস্টিকের টুকরো।
মাইক্রোপ্লাস্টিক দুইভাবে তৈরি হয়। প্রাইমারি মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি ছোট প্লাস্টিক, যেমন ফেসওয়াশ, টুথপেস্ট এবং স্ক্রাব ক্রিমে ব্যবহৃত মাইক্রোবিডস। সেকেন্ডারি মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয় বড় প্লাস্টিক ভেঙে, সূর্যের আলো এবং ঢেউয়ের কারণে।
এই মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সর্বত্র আছে। সমুদ্রের পানিতে, নদীর পানিতে, মাটিতে, বাতাসে এবং এমনকি আমাদের খাবার এবং পানীয় জলেও। ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি রিপোর্টে বলা হয়, বোতলজাত পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। সমুদ্রের লবণেও মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে।
মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কী ক্ষতি করে, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। ২০২৪ সালে একটি গবেষণায় মানুষের রক্তে এবং ফুসফুসে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। প্রাণীদের ওপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক হরমোনের কাজে ব্যাঘাত ঘটায় এবং প্রদাহ তৈরি করে। কিন্তু মানুষের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি।
সমাধানের উপায়
প্লাস্টিক সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়, কারণ প্লাস্টিক ছাড়া আধুনিক জীবন চলবে না। কিন্তু এর ব্যবহার কমানো এবং ব্যবস্থাপনা উন্নত করা সম্ভব।
প্রথম উপায়, রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহার। প্লাস্টিককে গলিয়ে নতুন জিনিস তৈরি করা যায়। কিন্তু বর্তমানে রিসাইক্লিংয়ের হার খুব কম। এর কারণ হলো, বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিককে আলাদা করা কঠিন, এবং রিসাইক্লিং করা নতুন প্লাস্টিক তৈরির চেয়ে দামি। সরকারকে রিসাইক্লিং শিল্পে বিনিয়োগ করতে হবে এবং নতুন প্লাস্টিকের ওপর কর বসাতে হবে।
দ্বিতীয় উপায়, বিকল্প উপাদান। বিজ্ঞানীরা এখন বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক তৈরি করছেন, যা মাটিতে নষ্ট হয়ে যায়। যেমন, ভুট্টার স্টার্চ থেকে তৈরি PLA প্লাস্টিক, ছত্রাকের মাইসেলিয়াম দিয়ে তৈরি প্যাকেজিং, এবং সামুদ্রিক শৈবাল থেকে তৈরি ফিল্ম। এই বিকল্পগুলো এখনও দামি, কিন্তু উৎপাদন বাড়লে দাম কমবে।
তৃতীয় উপায়, নীতি এবং আইন। বিভিন্ন দেশ একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করছে। বাংলাদেশ ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছিল, যা বিশ্বে প্রথম দিকের উদাহরণ। ভারত ২০২২ সাল থেকে একবার ব্যবহারের প্লাস্টিকের ১৯টি জিনিস নিষিদ্ধ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২১ সাল থেকে প্লাস্টিকের স্ট্র, কাপ এবং প্লেট নিষিদ্ধ করেছে।
চতুর্থ উপায়, সচেতনতা। মানুষকে বুঝতে হবে, প্লাস্টিকের বোতল মাটিতে ফেললে তা ৪৫০ বছর থাকবে। কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা, নিজের বোতল সঙ্গে রাখা, এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিং বিনে ফেলা, এই ছোট ছোট অভ্যাস বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
পঞ্চম উপায়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ভারত এবং বাংলাদেশের মতো দেশে বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা উন্নত করা দরকার। নদীতে প্লাস্টিক যাওয়া বন্ধ করতে হলে, শহরের বর্জ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ এবং প্রক্রিয়াকরণ করতে হবে।
✓Plastic: The Discovery That Changed the World
ভারত এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট Plastic: The Discovery
ভারত এবং বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণ একটি বড় সমস্যা। দুই দেশেই নদী অনেক, এবং জনসংখ্যা অনেক বেশি। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা নদী হয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার টন প্লাস্টিক বঙ্গোপসাগরে যায়।
বাংলাদেশে ২০০২ সালে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হলেও, এখনও এর ব্যবহার চলছে। কারণ বিকল্পের দাম বেশি এবং প্রয়োগ দুর্বল। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণের একটি বড় কারণ হলো প্লাস্টিক বর্জ্য।
ভারতে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২২ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২২ সালে সেই লক্ষ্যে আইন করা হয়। কিন্তু প্রয়োগ এখনও চ্যালেঞ্জ।
দুই দেশের জন্য সমাধান হলো, স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিং শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া, এবং স্কুল-কলেজে সচেতনতা তৈরি করা।
∆Plastic: The Discovery That Changed the World
উপসংহার Plastic: The Discovery
প্লাস্টিক মানবসভ্যতার ইতিহাসে একটি দ্বৈত ভূমিকা পালন করেছে। একদিকে এটি চিকিৎসা, কৃষি, প্রযুক্তি এবং দৈনন্দিন জীবনকে সহজ এবং সস্তা করেছে। কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে, খাদ্য অপচয় কমিয়েছে এবং যোগাযোগ সহজ করেছে।
অন্যদিকে, এই একই প্লাস্টিক এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিবেশগত হুমকিগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমুদ্র ভরে যাচ্ছে, মাটি বিষাক্ত হচ্ছে, এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক আমাদের শরীরে ঢুকে পড়ছে।
এই সমস্যার সমাধান প্লাস্টিক বর্জন নয়, প্লাস্টিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার। আমাদের এমন প্লাস্টিক ব্যবহার করতে হবে যা প্রয়োজনীয়, যেমন চিকিৎসার সরঞ্জাম। আর যে প্লাস্টিক একবার ব্যবহারের, যেমন প্লাস্টিকের স্ট্র, কাপ, প্লেট, তা কমাতে হবে। রিসাইক্লিং, বিকল্প উপাদান এবং কঠোর আইন, এই তিনটি মিলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
প্লাস্টিক আমাদের বদলে দিয়েছে। এখন আমাদের পালা, প্লাস্টিককে এমনভাবে ব্যবহার করা, যাতে পৃথিবী ডুবে না যায়।
~Plastic: The Discovery That Changed the World
সারসংক্ষেপ Plastic: The Discovery
লিও বেকেল্যান্ড ১৯০৭ সালে বেকেলাইট আবিষ্কার করেন, যা প্রথম কৃত্রিম প্লাস্টিক। এরপর পলিথিন, পলিপ্রোপিলিন এবং পিভিসি আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯৫০ সাল থেকে প্লাস্টিকের উৎপাদন দ্রুত বাড়তে থাকে। প্লাস্টিক চিকিৎসা, কৃষি, যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন জীবন বদলে দেয়, খাদ্য সংরক্ষণ সহজ করে এবং জীবন বাঁচায়। কিন্তু প্লাস্টিক প্রকৃতিতে নষ্ট হয় না। বিশ্বে মাত্র ৯ শতাংশ প্লাস্টিক রিসাইক্লিং হয়। প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি টন প্লাস্টিক সমুদ্রে যায় এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন খাদ্য, পানি এবং বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। সমাধান হিসেবে রিসাইক্লিং বাড়ানো, বায়োডিগ্রেডেবল বিকল্প ব্যবহার, একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা এবং সচেতনতা তৈরি করা দরকার। প্লাস্টিক বর্জন নয়, দায়িত্বশীল ব্যবহারই এর সমাধান।
তথ্যসূত্র
- Baekeland, L. H. (1909). The Synthesis, Constitution, and Uses of Bakelite. Journal of Industrial & Engineering Chemistry, 1(3), 149-161.
- Geyer, R., Jambeck, J. R. & Law, K. L. (2017). Production, Use, and Fate of All Plastics Ever Made. Science Advances, 3(7), e1700782.
- Jambeck, J. R. et al. (2015). Plastic Waste Inputs from Land into the Ocean. Science, 347(6223), 768-771.
- UNEP (2023). Turning Off the Tap: How the World Can End Plastic Pollution and Create a Circular Economy. Nairobi: United Nations Environment Programme.
- WHO (2019). Microplastics in Drinking-water. Geneva: World Health Organization.
- Government of India, Ministry of Environment, Forest and Climate Change (2022). Plastic Waste Management (Amendment) Rules, 2022. New Delhi.
- Government of Bangladesh (2002). Polythene Shopping Bags (Manufacture and Use) Prohibition Act, 2002. Dhaka.
Plastic: The Discovery That Changed the World
📌 এক ক্লিকেই সব বিষয়ের সেরা প্রস্তুতি!
আপনার প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করতে Niryas.in-এ যুক্ত করা হয়েছে Academic, WBPSC, SSC, CTET, Static GK, মক টেস্ট ও ফ্রি PDF নোটস। এক জায়গা থেকেই সমস্ত বিষয়ের গাইড পেতে নিচের লিঙ্কে টাচ করুন
👇🏻
➣Niryas Online Preparation Portal – এক নজরে সমস্ত কিছু গাইড দেখতে ক্লিক/টাচ করুন
👇🏻
Competitive Exam Preparation | Study Materials & Practice Set
এক ছাতার তলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে আজই যুক্ত হন:
👇🏻
➣মাধ্যমিক 2027 – সব বিষয়ের মডেল প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পড়তে ক্লিক/টাচ করুন
➣দেখুন : SLST Geography Mega Preparation
➣দেখুন: আপার প্রাইমারি TET পরীক্ষা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣পড়ুন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী’র গল্প
➣দেখুন : অঙ্গনওয়াড়ি পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣দেখুন : গ্রাম পঞ্চায়েত পরীক্ষা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣দেখুন : WBP পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣দেখুন : ANM & GNM পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣দেখুন : WB KP পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣ দেখুন : প্রাথমিক TET পরীক্ষার মহা প্রস্তুতি
➣পড়ুন : কুইজ ক্যাপসুল নির্যাস
➣দেখুন: WB SCC Group C & D পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
➣দেখুন : WBPSC Clerkship পরীক্ষার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি
➣দেখুন : SLST Life science Preparation
➣দেখুন : SLST Bengali Preparation
➣দেখুন : SLST English Preparation
➣দেখুন : SLST History Preparation
➣দেখুন : SLST Sanskrit Preparation
➣দেখুন : SLST Education Preparation
➣দেখুন : SLST Philosophy Preparation
➣দেখুন : SLST Political Science Preparation
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.