NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik Geography Model Answers-3/2

Madhyamik Geography Model Answers-3

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-3) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik Geography Model Answers-3

Madhyamik Geograpy Model Answers
Madhyamik Geograpy Model Answers

Geography (ভূগোল)

(Part-2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক (3×6=18)

4.1 নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্র সহ আলোচনা করো।
উত্তর: নদী তিনভাবে ক্ষয় করে – অবঘর্ষ, ঘর্ষণ ও দ্রবণ। ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি হল –
উচ্চগতিতে – যেখানে ঢাল বেশি:
i. V-আকৃতির উপত্যকা: নদী নিচের দিকে বেশি ক্ষয় করে ইংরেজি V অক্ষরের মতো উপত্যকা তৈরি করে।
ii. গিরিখাত ও ক্যানিয়ন: V উপত্যকা খুব গভীর ও খাড়া হলে তাকে গিরিখাত বলে, যেমন সিন্ধু নদের গিরিখাত। আরও গভীর ও প্রশস্ত হলে ক্যানিয়ন, যেমন আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।
iii. জলপ্রপাত: কঠিন ও নরম শিলা পাশাপাশি থাকলে নরম শিলা দ্রুত ক্ষয়ে গিয়ে ধাপ সৃষ্টি হয়। যেমন কর্ণাটকের যোগ জলপ্রপাত, ভারতের উচ্চতম 253 মিটার এবং ঝাড়খণ্ডের হুড্রু জলপ্রপাত।
iv. মন্থকূপ: নদীর তলদেশে পাথর ঘূর্ণির সাথে ঘুরতে ঘুরতে গোলাকার গর্ত তৈরি করে।

মধ্যগতিতে:
i. নদীবাঁক বা মিয়েন্ডার: সমভূমিতে নদী এঁকেবেঁকে চলে। একপাড়ে ক্ষয় ও অন্যপাড়ে সঞ্চয় হয়।
ii. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ: নদীর বাঁক মূল নদী থেকে কেটে গিয়ে ঘোড়ার খুরের মতো হ্রদ তৈরি হয়।
নিম্নগতিতে: ক্ষয় কম, তবে পার্শ্বক্ষয়ের ফলে প্লাবনভূমি প্রশস্ত হয়।

4.2 বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ু প্রবলভাবে ক্ষয় করে নিম্নলিখিত ভূমিরূপ তৈরি করে –
i. অপসারণ গর্ত বা Deflation Hollow: বায়ু আলগা বালি ও ধুলো উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে বড় গর্ত সৃষ্টি করে।
ii. গৌর বা মাশরুম শিলা: নিচে নরম শিলা ও উপরে কঠিন শিলা থাকলে নিচের অংশ বায়ু-বালি দ্বারা বেশি ক্ষয়ে সরু হয়ে যায় এবং উপরের অংশ চওড়া থাকে, ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে লাগে।
iii. ইয়ারদাং: কঠিন ও নরম শিলা পাশাপাশি উল্লম্বভাবে থাকলে নরম শিলা ক্ষয়ে খাঁজ এবং কঠিন শিলা উঁচু শৈলশিরা হিসাবে থাকে। দেখতে নৌকা উল্টানোর মতো।
iv. জিউগেন বা জিউগেন টেবিল: উপরে কঠিন শিলা ও নিচে নরম শিলা অনুভূমিকভাবে থাকলে টেবিলের মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়, মাথা চ্যাপ্টা ও পাশ খাড়া।
v. ভেন্টিফ্যাক্ট বা ত্রিধার শিলা: বালি ঘষে পাথরে তিনটি ধারালো মসৃণ তল ও তিনটি ধার তৈরি হয়, একে Dreikanter বলে।
vi. হামাদা বা পাথুরে মরুভূমি: সূক্ষ্ম বালি উড়ে গিয়ে শুধু পাথর ও নুড়ি পড়ে থাকা সমতল পাথুরে মরুভূমি।

4.3 বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ করো ও চিত্র সহ বর্ণনা করো।
উত্তর: বৃষ্টিপাত প্রধানত তিন প্রকার –
i. পরিচলন বৃষ্টি: সূর্যের তাপে ভূমি উত্তপ্ত হলে জল বাষ্পীভূত হয়ে গরম আর্দ্র বায়ু উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হয়ে কিউমুলাস মেঘ তৈরি করে এবং বৃষ্টি ঘটায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলবেলা বজ্রসহ এই বৃষ্টি হয়।
ii. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি: আর্দ্র বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টি ঘটায়। পর্বতের যে ঢালে বায়ু বাধা পায় তাকে প্রতিবাত ঢাল বলে, সেখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়। যেমন পশ্চিমঘাটের পশ্চিম ঢালে 200 সেমি বৃষ্টি হয়। বিপরীত ঢালকে অনুবাত ঢাল বলে, সেখানে বৃষ্টি কম হয়, একে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। যেমন পশ্চিমঘাটের পূর্বে 50 সেমি।
iii. ঘূর্ণবাত বৃষ্টি বা সীমান্ত বৃষ্টি: ঘূর্ণবাতে উষ্ণ ও শীতল বায়ুপুঞ্জ মিলিত হয়ে সীমান্ত বা ফ্রন্ট তৈরি করে। উষ্ণ হালকা বায়ু শীতল ভারী বায়ুর উপরে উঠে যায়, ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টি ঘটায়। যেমন ভূমধ্যসাগর থেকে আসা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের ফলে এই বৃষ্টি হয়। এটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে স্থায়ী বৃষ্টিপাত ঘটায়।

Madhyamik Geography Model Answers-3

4.4 ভারতের নদনদীর শ্রেণিবিভাগ করো ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ভারতের নদনদীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় –
i. হিমালয়ের নদী: উৎস হিমালয়ের হিমবাহ। বৈশিষ্ট্য – সারা বছর জল থাকে, তাই নিত্যবহ। দীর্ঘ, যেমন গঙ্গা 2525 কিমি দীর্ঘ। নৌ-চলাচলযোগ্য, বিশাল প্লাবনভূমি ও ব-দ্বীপ তৈরি করে। উদাহরণ – সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা।
ii. উপদ্বীপীয় নদী: উৎস দাক্ষিণাত্য মালভূমি। বৈশিষ্ট্য – বৃষ্টির জলে পুষ্ট, তাই গ্রীষ্মে জল শুকিয়ে যায়, অনিত্যবহ। খরস্রোতা, গতিপথে অনেক জলপ্রপাত আছে, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে উপযোগী। ব-দ্বীপ কম তৈরি করে। এর দুটি ভাগ আছে –
– পূর্ববাহী নদী: বঙ্গোপসাগরে পড়ে, ব-দ্বীপ আছে – যেমন গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী, মহানদী।
– পশ্চিমবাহী নদী: আরব সাগরে পড়ে, ব-দ্বীপ নেই, খাঁড়ি আছে – যেমন নর্মদা, তাপ্তি।

4.5 ভারতের ধান চাষের সমস্যা ও সমাধান লেখো।
উত্তর:
সমস্যা:
i. ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্ত জোত, ফলে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না।
ii. মৌসুমী বৃষ্টির উপর নির্ভরতা, ফলে বন্যা ও খরায় ফসল নষ্ট হয়।
iii. পুরনো বীজ ও কম সার ব্যবহার, ফলে ফলন কম। ভারতে 2.5 টন/হেক্টর, যেখানে চীনে 6 টন/হেক্টর।
iv. সংরক্ষণ, বাজার, ঋণ ও পরিবহনের অভাব।

সমাধান:
i. জোত একত্রীকরণ ও সমবায় চাষের প্রচলন।
ii. সেচ ব্যবস্থার উন্নতি – নলকূপ, খালের জল।
iii. উচ্চ ফলনশীল বীজ যেমন জয়া, IR8, সার ও কীটনাশক ব্যবহার এবং সবুজ বিপ্লবের প্রসার।
iv. শস্য বীমা, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা MSP, সহজ ঋণ, গুদাম ও বাজারের সুবিধা বাড়ানো।

4.6 ভারতে ইক্ষু চাষের অনুকূল পরিবেশ বর্ণনা করো।
উত্তর: ইক্ষু একটি ক্রান্তীয় ফসল এবং এক বছর সময় লাগে।
i. জলবায়ু: 20°-30°C তাপমাত্রা, 100-150 সেমি বৃষ্টিপাত, প্রচুর রোদ ও তুষারমুক্ত আবহাওয়া প্রয়োজন। বড় হওয়ার সময় বৃষ্টি এবং পাকার সময় শুষ্ক আবহাওয়া দরকার।
ii. মাটি: উর্বর দোআঁশ, পলি ও কৃষ্ণ মাটি, যাতে জল নিকাশি ভালো এবং চুন বেশি থাকে, ইক্ষু চাষের জন্য আদর্শ।
iii. জমি ও সেচ: সমতল জমি ও সেচের সুবিধা প্রয়োজন। উত্তরপ্রদেশে খাল ও নলকূপের সাহায্যে ইক্ষু চাষ হয়।
iv. শ্রমিক ও শিল্প: আখ কাটা ও বহনের জন্য সস্তা শ্রমিক প্রয়োজন এবং চিনিকল কাছে থাকতে হবে, কারণ আখ কাটার পর তাড়াতাড়ি পচে যায়। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে ইক্ষু সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়।

4.7 ভারতে পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের বিকাশ লেখো।
উত্তর: খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে প্লাস্টিক, সার, রঙ, ওষুধ ও কৃত্রিম তন্তু তৈরির শিল্পকে পেট্রোরাসায়নিক শিল্প বলে।
বিকাশ: 1966 সালে মুম্বাইয়ের ট্রম্বেতে Union Carbide প্রথম কারখানা স্থাপন করে। পরে 1969 সালে বরোদায় IPCL, তারপর হলদিয়া, গুজরাটের হাজিরা ও দাহেজ এবং জামনগরে রিলায়েন্সের বিশ্বের বৃহত্তম শোধনাগার গড়ে ওঠে।
বিকাশের কারণ:
i. বোম্বে হাই ও গুজরাটে খনিজ তেল ও গ্যাসের সহজলভ্যতা।
ii. বন্দরের কাছে অবস্থান, ফলে আমদানি-রপ্তানির সুবিধা।
iii. দেশে প্লাস্টিক, সার ও কৃত্রিম তন্তুর প্রচুর চাহিদা বা বাজার।
iv. সরকারের উদার নীতি ও বিদেশি বিনিয়োগ। তাই গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে এই শিল্প বেশি কেন্দ্রীভূত। সমস্যা হল বায়ু ও জল দূষণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি।

4.8 ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে ব্যবহৃত প্রচলিত প্রতীক চিহ্নগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: টপো মানচিত্রে বিভিন্ন রঙ ও সাংকেতিক চিহ্ন দিয়ে ভূমিরূপ দেখানো হয়। এগুলি Survey of India বা SOI নির্ধারণ করে।

i. রঙের ব্যবহার:
– নীল রঙ: জলাশয় বোঝায় – যেমন নদী, হ্রদ, কূপ, সমুদ্র।
– সবুজ রঙ: বনভূমি বোঝায় – যেমন ঘন বন, জঙ্গল।
– বাদামী রঙ: সমোন্নতি রেখা ও বালি বা পতিত জমি বোঝায়।
– কালো রঙ: মানুষের তৈরি বস্তু – যেমন রাস্তা, রেল, জনবসতি, সীমানা, নাম।
– হলুদ রঙ: কৃষিজমি বোঝায়।
– সাদা রঙ: পতিত ও অনাবাদি জমি বোঝায়।
– লাল রঙ: জাতীয় সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ জনবসতি বোঝায়।

ii. প্রচলিত প্রতীক চিহ্ন:
– PO – ডাকঘর, PS – থানা, CH – গির্জা।
– কুঁড়েঘর, পাকা বাড়ি, মন্দির, মসজিদ, কূপ, গাছ, বাঁধ।
– সমোন্নতি রেখা – বাদামী বক্ররেখা।
– BM – Bench Mark বা উচ্চতা নির্ণায়ক বিন্দু, Spot Height – কোনো স্থানের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা এবং Triangulation Station – জরিপের জন্য ব্যবহৃত ত্রিভুজাকৃতি বিন্দু।

এই প্রতীকগুলি মানচিত্র পড়তে ও ভূমির বৈশিষ্ট্য বুঝতে সাহায্য করে।

Madhyamik Geography Model Answers-3

বিভাগ – ঙ: দীর্ঘ উত্তর (5×5=25)

5.1 বায়ুর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্র সহ আলোচনা করো।
উত্তর: বায়ু বালি ও সূক্ষ্ম ধুলো বহন করে যখন বাধা পায় বা বেগ কমে, তখন সঞ্চয় করে নিম্নলিখিত ভূমিরূপ তৈরি করে –
i. বালিয়াড়ি: বালি জমে যে টিবি তৈরি হয়, তাকে বালিয়াড়ি বলে। এর তিন প্রকার –
– বার্খান: অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়ি, বায়ুর দিকে মৃদু ঢাল 15° এবং বিপরীত দিকে খাড়া ঢাল 32°-34°, দুটি শিং থাকে যা বায়ুর দিকে বেরিয়ে থাকে। বালি কম থাকলে তৈরি হয়।
– অনুদৈর্ঘ্য বা Seif বালিয়াড়ি: বায়ুর সমান্তরালে দীর্ঘ ও সরু শৈলশিরার মতো বালিয়াড়ি, প্রচণ্ড বেগে একমুখী বায়ু প্রবাহে তৈরি হয়।
– তির্যক বালিয়াড়ি: বায়ুর লম্বভাবে আড়াআড়ি বিস্তৃত বালিয়াড়ি, প্রচুর বালি থাকলে তৈরি হয়।
ii. লোয়েস সমভূমি: বায়ুবাহিত সূক্ষ্ম বালি ও পলি উড়ে গিয়ে দূরে বিস্তীর্ণ সমভূমিতে জমে উর্বর হলুদ মাটির সমভূমি তৈরি করে। যেমন চীনের হোয়াংহো নদী উপত্যকায় এবং ভারতে থর মরুভূমির পূর্বে লোয়েস সঞ্চয় দেখা যায়।
iii. প্লায়া হ্রদ: মরুভূমির সবচেয়ে নিচু অংশে বৃষ্টির জল জমে সাময়িক লবণাক্ত হ্রদ তৈরি হয়। জল শুকিয়ে গেলে লবণের সাদা আস্তরণ পড়ে, একে লবণ সমভূমি বলে।
iv. হামাদা ও রেগ: সূক্ষ্ম বালি উড়ে গিয়ে শুধু বড় পাথর পড়ে থাকলে তাকে হামাদা এবং ছোট নুড়ি পড়ে থাকলে তাকে রেগ বলে। এটি পাথুরে মরুভূমি।

5.2 বায়ুমণ্ডলের চাপবলয়গুলির অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। বায়ুচাপের সঙ্গে নিয়ত বায়ুর সম্পর্ক কী?
উত্তর: 7টি চাপবলয়ের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য:
i. নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় 0°: সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়, প্রচণ্ড গরমে বায়ু হালকা হয়ে উপরে ওঠে, তাই নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। এটি শান্ত বলয় বা Doldrum নামে পরিচিত, বায়ু প্রায় থাকে না। প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন বৃষ্টি হয়।
ii. কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় 30° উত্তর ও দক্ষিণ: নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উঠে আসা বায়ু ঠান্ডা হয়ে নিচে নেমে আসে, তাই উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়। বায়ু নিচে নামে বলে শুষ্ক, তাই এখানে সাহারা, থর-এর মতো মরুভূমি তৈরি হয়েছে। একে অশ্ব অক্ষাংশ বলে।
iii. সুমেরু ও কুমেরু নিম্নচাপ বলয় 60° উত্তর ও দক্ষিণ: উষ্ণ পশ্চিমা বায়ু ও শীতল মেরু বায়ুর মিলনে বায়ু উপরে ওঠে, নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। সারা বছর ঝড় ও বৃষ্টি হয়।
iv. মেরু উচ্চচাপ বলয় 90° উত্তর ও দক্ষিণ: সারা বছর প্রচণ্ড ঠান্ডা, বায়ু ভারী ও শুষ্ক হয়ে নিচে নামে, তাই উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়।

বায়ুচাপের সাথে নিয়ত বায়ুর সম্পর্ক: বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়। তাই চাপবলয় থেকেই নিয়ত বায়ু সৃষ্টি হয় –
i. আয়ন বায়ু 30° উচ্চচাপ থেকে 0° নিম্নচাপে,
ii. পশ্চিমা বায়ু 30° উচ্চচাপ থেকে 60° নিম্নচাপে,
iii. মেরু বায়ু 90° উচ্চচাপ থেকে 60° নিম্নচাপে প্রবাহিত হয়। কোরিওলিস বলের জন্য উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে বেঁকে যায়। এইভাবে হ্যাডলি কোষ, ফেরেল কোষ ও মেরু কোষ তৈরি হয়।

5.3 ভারতের অরণ্য ধ্বংসের কারণ ও ফলাফল লেখো। অরণ্য সংরক্ষণের উপায় লেখো।
উত্তর:
কারণ: i. কৃষিজমি, বসতি, শিল্প, রাস্তা, বাঁধ ও খনির জন্য নির্বিচারে বন কাটা। ii. অতিরিক্ত পশুচারণ ও ঝুম চাষ। iii. দাবানল, চোরাশিকার ও কাঠ চুরি। iv. জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য ও জ্বালানি কাঠের চাহিদা বৃদ্ধি। ভারতে 1951 সালে 22% বনভূমি ছিল, বর্তমানে 2021 সালের হিসেবে 21.71%।

ফলাফল: i. মাটি ক্ষয়, বন্যা, খরা ও ভূমিধস বাড়ে। ii. জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ে, বৃষ্টি কমে যায়। iii. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়, বাঘ, হাতি, গন্ডারের মতো প্রাণী বিলুপ্তির পথে। iv. আদিবাসীদের জীবিকা নষ্ট হয়, কাঠ, মধু ও ফল কমে যায়।

সংরক্ষণের উপায়: i. বন আইন 1980 কঠোর করা এবং চোরাশিকার বন্ধ করে কঠোর শাস্তি দেওয়া। ii. সামাজিক বনসৃজন, কৃষি বনসৃজন, বন মহোৎসব ও জনসচেতনতা, চিপকো আন্দোলনের মতো আন্দোলন। iii. বিকল্প জ্বালানি হিসাবে LPG, সৌরশক্তি ও গোবর গ্যাসের ব্যবহার। iv. জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য ও বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ তৈরি, যেমন সুন্দরবন, কাজিরাঙা। v. Joint Forest Management – স্থানীয় মানুষকে সাথে নিয়ে বন রক্ষা করা।

5.4 ভারতে কফি চাষের অনুকূল পরিবেশ ও বন্টন লেখো। ভারতে কৃষির সমস্যা আলোচনা করো।
উত্তর:
কফি চাষের অনুকূল পরিবেশ: কফি একটি ক্রান্তীয় বাগিচা ফসল, ছায়া দরকার।
i. জলবায়ু: 15°-25°C তাপমাত্রা, 150-200 সেমি বৃষ্টিপাত, ছায়াযুক্ত, কুয়াশাচ্ছন্ন ও তুষারমুক্ত আবহাওয়া প্রয়োজন।
ii. মাটি: লাল, ল্যাটেরাইট, অম্লযুক্ত, জৈব পদার্থ বেশি এবং জল নিকাশি ভালো, ঢালু জমি প্রয়োজন।
iii. জমি: পাহাড়ের ঢালে 1000-1500 মিটার উচ্চতায় পশ্চিমঘাটে ভালো হয়।
iv. শ্রমিক: বীজ তোলা ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য দক্ষ শ্রমিক প্রয়োজন।

বন্টন: কর্ণাটক 60% উৎপাদন করে – চিকমাগালুর, কুর্গ, হাসান জেলা। কেরল – ওয়েনাদ এবং তামিলনাড়ু – নীলগিরি। ভারত বিশ্বে 7ম স্থানে। দুই প্রকার কফি – আরবিকা ও রোবাস্টা।

ভারতে কৃষির সমস্যা: i. ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্ত জোত, আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না। ii. মৌসুমী বৃষ্টির উপর নির্ভরতা, খরা ও বন্যা। iii. পুরনো যন্ত্রপাতি, কম সার ও কম ফলন। iv. ঋণ, বাজার ও সংরক্ষণের অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য। v. মাটি ক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তন। vi. কৃষক আত্মহত্যা ও দারিদ্র্য।

Madhyamik Geography Model Answers-3

5.5 ভারতে জনসংখ্যার অসম বন্টনের কারণ লেখো। ভারতে নগরায়ণের সমস্যা ও সমাধান লেখো।
উত্তর:
অসম বন্টনের কারণ: ভারতে গড় জনঘনত্ব 382 জন/বর্গ কিমি 2011 সালে, কিন্তু বিহারে 1106 জন এবং অরুণাচলে 17 জন।
i. প্রাকৃতিক কারণ: উর্বর সমভূমি যেমন গঙ্গা ও পাঞ্জাবে ঘনবসতি, মরুভূমি রাজস্থানে, পাহাড় হিমালয়ে এবং বন উত্তর-পূর্বে জনবিরল। জলবায়ু – উপকূলে সমভাবাপন্ন, ভিতরে চরম। নদীর পাশে জলের জন্য ঘনবসতি।
ii. অর্থনৈতিক কারণ: শিল্প, বাজার, চাকরি ও পরিবহনের সুবিধা থাকলে ঘনবসতি হয়, যেমন মুম্বাই, দিল্লি ও কলকাতা।
iii. সামাজিক-রাজনৈতিক কারণ: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজধানী ও ধর্মীয় স্থানের কাছে ঘনবসতি।

নগরায়ণের সমস্যা: i. বস্তি, বেকারত্ব, অপরাধ ও দারিদ্র্য। ii. বায়ু, জল ও শব্দ দূষণ। iii. জল, বিদ্যুৎ, যানজট ও আবাসন সংকট। iv. গ্রামে শ্রমিকের অভাব।

সমাধান: i. গ্রামে কর্মসংস্থান – কুটির শিল্প ও MGNREGA। ii. গ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা ও বিদ্যুতের উন্নতি। iii. ছোট শহর, স্যাটেলাইট টাউন ও স্মার্ট সিটি তৈরি করে পরিকল্পিত নগরায়ণ। iv. বিকেন্দ্রীকরণ – শিল্প গ্রামাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া।

5.6 ভারতের মানচিত্রে চিহ্নিত – লিখিত বর্ণনা
উত্তর: খাতায় মানচিত্রে যেভাবে চিহ্নিত করবে –

[A] আরাবল্লী পর্বত: উত্তর-পশ্চিম ভারতে দিল্লি থেকে গুজরাট পর্যন্ত 800 কিমি লম্বা, ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত। সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গুরুশিখর 1722 মিটার, রাজস্থানে অবস্থিত। মানচিত্রে উত্তর-পশ্চিমে দিল্লি থেকে গুজরাট পর্যন্ত আঁকবে।

[B] একটি মিষ্টি জলের হ্রদ – উলার: জম্মু-কাশ্মীরে ঝিলাম নদীর উপর অবস্থিত, ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ, আয়তন 30-260 বর্গ কিমি, শীতকালে ছোট হয় এবং বর্ষায় বড় হয়। মানচিত্রে উত্তর-পশ্চিম কোণে চিহ্নিত করবে।

[C] মহানদী: ছত্তিশগড়ের সিহাওয়া থেকে উৎপত্তি, ছত্তিশগড় ও ওড়িশা দিয়ে 860 কিমি পূর্বে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। হিরাকুদ বাঁধ এর উপর অবস্থিত এবং কটকের কাছে ব-দ্বীপ তৈরি করেছে। মানচিত্রে মধ্য-পূর্ব ভারতে আঁকবে।

[D] একটি পলি মাটি অঞ্চল – গাঙ্গেয় সমভূমি: উত্তর ভারতে গঙ্গা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পলি সমভূমি – পাঞ্জাব থেকে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত, উর্বর দোআঁশ মাটি, ধান, গম ও পাট চাষে উন্নত। মানচিত্রে উত্তর ভারতে সবুজ রঙে দেখাবে।

[E] একটি চা উৎপাদক অঞ্চল – অসম: ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ডিব্রুগড়, যোরহাট ও শিবসাগরে। ভারতের 50% চা এখানে উৎপাদিত হয়, লাল দোআঁশ মাটি ও 200 সেমি বৃষ্টি প্রয়োজন। মানচিত্রে উত্তর-পূর্বে চিহ্নিত করবে।

[F] ভারতের বৃহত্তম বিমানবন্দর – দিল্লি: দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা IGI, পালামে অবস্থিত। যাত্রী সংখ্যা ও আয়তনে ভারতের বৃহত্তম বিমানবন্দর। মানচিত্রে উত্তর ভারতে দিল্লিতে চিহ্নিত করবে।

[G] থর মরুভূমি: রাজস্থানের পশ্চিমে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে 2 লক্ষ বর্গ কিমি জুড়ে বিস্তৃত, বালিয়াড়ি, কাঁটাযুক্ত গাছ, লুনি নদী, জয়সলমীর ও বিকানের শহর এই মরুভূমিতে অবস্থিত। মানচিত্রে পশ্চিম ভারতে হলুদ রঙে বালিয়াড়ি সহ দেখাবে।

➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading