Madhyamik Geography Model Answers-4
Madhyamik Geography Model Answers-4
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-4) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Geography Model Answers-4

Geography (ভূগোল)
বিভাগ – ক: MCQ – ব্যাখ্যা সহ
1.1 আরোহন প্রক্রিয়ার উদাহরণ –
[A] পলল সঞ্চয় ✓ [B] নদীর ক্ষয়
[C] হিমবাহের ক্ষয় [D] বায়ুর ক্ষয়
ব্যাখ্যা: আরোহন = উচ্চতা বৃদ্ধি। পলি, বালি জমে ভূমি উঁচু হয়। বাকি তিনটি অবরোহন বা ক্ষয় প্রক্রিয়া।
1.2 অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ সৃষ্টি হয় –
[A] নদীর সঞ্চয়ে ✓ [B] হিমবাহের ক্ষয়ে
[C] বায়ুর ক্ষয়ে [D] সমুদ্রের ক্ষয়ে
ব্যাখ্যা: নদী বাঁক খেতে খেতে বাঁক কেটে সোজা প্রবাহিত হলে পুরনো বাঁক ঘোড়ার ক্ষুরের মতো হ্রদে পরিণত হয়। যমুনা নদীতে বেশি দেখা যায়।
1.3 ট্রপোস্ফিয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধিতে উষ্ণতা –
[A] কমে ✓ [B] বাড়ে [C] একই থাকে
[D] প্রথমে বাড়ে পরে কমে
ব্যাখ্যা: ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি 1000 মিটার উচ্চতায় 6.5°C তাপ কমে, একে নর্মাল ল্যাপস রেট বলে। কারণ ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপে এই স্তর গরম হয়।
1.4 মৌসুমী বায়ু হল –
[A] সাময়িক বায়ু ✓ [B] নিয়ত বায়ু
[C] স্থানীয় বায়ু [D] আকস্মিক বায়ু
ব্যাখ্যা: মৌসুমী বায়ু ঋতু অনুযায়ী দিক পরিবর্তন করে, বছরে দুবার – গ্রীষ্মে দক্ষিণ-পশ্চিম, শীতে উত্তর-পূর্ব। তাই এটি সাময়িক বায়ু। নিয়ত বায়ু সারাবছর একদিকে বয়।
1.5 ভারতের উচ্চতম হ্রদ –
[A] চোলামু ✓ [B] ডাল
[C] উলার [D] সম্বর
ব্যাখ্যা: সিকিমের চোলামু হ্রদ 5,330 মিটার উচ্চতায়, ভারতের উচ্চতম। ডাল শ্রীনগরে, উলার জম্মু-কাশ্মীরে বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ।
1.6 ব্রহ্মপুত্র নদের উৎস –
[A] চেমায়ুং-দুং ✓ [B] গোমুখ
[C] অমরকন্টক [D] ত্রিম্বক
ব্যাখ্যা: তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে চেমায়ুং-দুং হিমবাহ থেকে সাংপো নামে উৎপত্তি, ভারতে ব্রহ্মপুত্র। গোমুখ গঙ্গার উৎস।
1.7 ল্যাটেরাইট মাটি দেখা যায় –
[A] মেঘালয়ে ✓ [B] পাঞ্জাবে
[C] রাজস্থানে [D] গুজরাটে
ব্যাখ্যা: বেশি বৃষ্টি ও গরমে ল্যাটেরাইট মাটি তৈরি হয়। মেঘালয়, পশ্চিমঘাট, ছোটনাগপুরে দেখা যায়। পাঞ্জাবে পলি মাটি, রাজস্থানে মরু মাটি।
1.8 ভারতে মিলেট চাষ বেশি হয় –
[A] রাজস্থানে ✓ [B] পশ্চিমবঙ্গে
[C] কেরলে [D] অসমে
ব্যাখ্যা: রাজস্থান, কর্ণাটকে জোয়ার, বাজরা, রাগি মিলেট বেশি হয়। কম জলে হয়, শুষ্ক অঞ্চলে ভালো।
1.9 ভিলাই ইস্পাত কেন্দ্র গড়ে ওঠে –
[A] রাশিয়ার সহযোগিতায় ✓ [B] ব্রিটেনের
[C] জার্মানির [D] USA এর
ব্যাখ্যা: ভিলাই (ছত্তিশগড়) 1955 সালে সোভিয়েত রাশিয়ার সহায়তায় গড়ে ওঠে। দুর্গাপুর ব্রিটেন, রাউরকেল্লা জার্মানি।
1.10 ভারতের বৃহত্তম বন্দর –
[A] মুম্বাই ✓ [B] কলকাতা
[C] চেন্নাই [D] বিশাখাপত্তনম
ব্যাখ্যা: মুম্বাই ভারতের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ও ব্যস্ততম বন্দর, 40% বৈদেশিক বাণিজ্য এখান দিয়ে হয়। কান্ডলা জোয়ার-ভাটা বন্দর।
1.11 উপগ্রহ চিত্রে FCC বলতে –
[A] False Colour Composite ✓ [B] True Colour
[C] Black White [D] কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা: FCC তে আসল রঙ নয়, মিথ্যা রঙ ব্যবহার করে উদ্ভিদকে লাল দেখানো হয় যাতে সহজে চেনা যায়।
1.12 15’x15′ টপো মানচিত্রের স্কেল –
[A] 1:50000 ✓ [B] 1:250000
[C] 1:1000000 [D] 1:25000
ব্যাখ্যা: 15 মিনিট x 15 মিনিট = 1:50000 স্কেল, একে ডিগ্রি শিটের ভগ্নাংশ বলে। 1°x1° = 1:250000, 4°x4° = 1:1000000
1.13 নদীর বাঁকে গড়ে ওঠে –
[A] রৈখিক জনবসতি ✓ [B] বিক্ষিপ্ত জনবসতি
[C] গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি [D] কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা: নদীর বাঁকে, রাস্তার ধারে, উপকূল বরাবর লাইন ধরে বসতি গড়ে উঠলে তাকে রৈখিক বসতি বলে।
1.14 ভারতে লিঙ্গ অনুপাত সবচেয়ে বেশি –
[A] কেরলে ✓ [B] হরিয়ানায়
[C] পাঞ্জাবে [D] দিল্লিতে
ব্যাখ্যা: 2011 অনুযায়ী কেরলে 1084 মহিলা / 1000 পুরুষ, সবচেয়ে বেশি। হরিয়ানায় সবচেয়ে কম 879। জাতীয় গড় 943।
Madhyamik Geography Model Answers-4
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×16=16)
2.1 নদীর জলবিভাজিকা কী?
উত্তর: দুটি নদী অববাহিকার মধ্যবর্তী উচ্চভূমি বা পর্বত যা বৃষ্টির জলকে দুই দিকে ভাগ করে দুটি ভিন্ন নদী ব্যবস্থায় পাঠিয়ে দেয়, তাকে জলবিভাজিকা বলে। যেমন বিন্ধ্য পর্বত হল গঙ্গা ও নর্মদা নদীর জলবিভাজিকা।
2.2 পলল শঙ্কু কী?
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চল থেকে নদী যখন খাড়া ঢাল বেয়ে সমভূমিতে নেমে আসে, তখন নদীর বেগ হঠাৎ কমে যায় এবং নদীর সঙ্গে বাহিত নুড়ি, বালি ও পলি পর্বতের পাদদেশে শঙ্কু আকারে সঞ্চিত হয়। একে পলল শঙ্কু বা অ্যালুভিয়াল কোন বলে। হিমালয়ের পাদদেশে ভাবর অঞ্চলে এই ভূমিরূপ দেখা যায়।
2.3 লোয়েস কী?
উত্তর: মরু অঞ্চলের সূক্ষ্ম বালি ও পলিকণা বায়ু দ্বারা বহুদূরে উড়ে গিয়ে সঞ্চিত হয়ে যে হলুদ বর্ণের অত্যন্ত উর্বর মাটির সমভূমি গঠন করে, তাকে লোয়েস বলে। চীনের হোয়াংহো নদীর উপত্যকা হল পৃথিবীর বৃহত্তম লোয়েস সমভূমির উদাহরণ।
2.4 নিরক্ষীয় শান্তবলয় কী?
উত্তর: নিরক্ষরেখার উভয় দিকে 0 ডিগ্রি থেকে 5 ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত নিম্নচাপ বলয়কে নিরক্ষীয় শান্তবলয় বা ডোলড্রাম বলে। এখানে বায়ু উল্লম্বভাবে উপরে উঠে যায়, অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ থাকে না, তাই বায়ু শান্ত থাকে এবং পালতোলা জাহাজ চলাচল করতে পারে না।
2.5 কালবৈশাখী কী?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে গ্রীষ্মকালে এপ্রিল-মে মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে যে প্রবল বজ্র-বিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে। এই বৃষ্টি আম ও পাট চাষের পক্ষে উপকারী হলেও অনেক সময় ক্ষয়ক্ষতিও ঘটায়।
2.6 খাদর ও ভাঙ্গর কী?
উত্তর: গাঙ্গেয় সমভূমিতে নতুন পলিগঠিত অঞ্চলকে খাদর বলে। এটি নদীর নিকটবর্তী নিচু এলাকায় অবস্থিত, প্রতি বছর বন্যায় নতুন পলি সঞ্চিত হয় বলে অত্যন্ত উর্বর এবং বালির ভাগ বেশি। অপরদিকে পুরানো পলিগঠিত উঁচু অঞ্চলকে ভাঙ্গর বলে। এটি নদী থেকে দূরে অবস্থিত, এখানে কাঁকর ও চুনের পরিমাণ বেশি এবং তুলনামূলকভাবে কম উর্বর।
2.7 খরিফ শস্য কী?
উত্তর: বর্ষাকালে যে শস্য চাষ করা হয় এবং শরৎকালে কাটা হয়, তাকে খরিফ শস্য বলে। যেমন ধান, পাট, ভুট্টা, বাজরা, তুলো ও আখ হল খরিফ শস্য। এগুলি সাধারণত জুন-জুলাই মাসে বপন করা হয় এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে কাটা হয়।
2.8 নীল বিপ্লব কী?
উত্তর: ভারতে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গৃহীত কর্মসূচিকে নীল বিপ্লব বলে। 1970 সালে এই কর্মসূচি শুরু হয় এবং বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য উৎপাদক দেশ।
2.9 ভারতের প্রথম কাগজ কল কোথায় গড়ে ওঠে?
উত্তর: ভারতের প্রথম কাগজ কল গড়ে ওঠে 1832 সালে পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে। তবে ভারতের প্রথম সফল কাগজ কল হল 1870 সালে হাওড়ার বালিতে স্থাপিত বালি পেপার মিল।
2.10 সোনালী চতুর্ভুজ কী?
উত্তর: ভারতের চারটি প্রধান মহানগর দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতাকে ছয় লেন বিশিষ্ট জাতীয় সড়ক দ্বারা যুক্ত করার মহাপরিকল্পনাকে সোনালী চতুর্ভুজ বলে। এর মোট দৈর্ঘ্য 5846 কিলোমিটার এবং 2001 সালে প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এই প্রকল্পের সূচনা করেন।
2.11 ভূ-সমলয় উপগ্রহের উচ্চতা কত?
উত্তর: ভূ-সমলয় বা জিওস্টেশনারি উপগ্রহের উচ্চতা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 36,000 কিলোমিটার বা সঠিকভাবে 35,786 কিলোমিটার। এই উপগ্রহ নিরক্ষরেখার উপরে অবস্থান করে 24 ঘণ্টায় পৃথিবীর সাথে একবার আবর্তন করে। যেমন INSAT ও GSAT হল ভূ-সমলয় উপগ্রহ।
2.12 টপো মানচিত্রে বাদামি রঙে কী দেখানো হয়?
উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে বাদামি রঙে ভূ-প্রকৃতি সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখানো হয়, যেমন সমোন্নতি রেখা, বালিয়াড়ি, পাহাড়, মালভূমি ও শিলাময় অঞ্চল।
2.13 জনবসতি কত প্রকার?
উত্তর: বসতির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জনবসতি প্রধানত দুই প্রকার, যথা গ্রামীণ জনবসতি ও পৌর জনবসতি। আকৃতি অনুযায়ী জনবসতি পাঁচ প্রকার, যথা পুঞ্জীভূত, বিক্ষিপ্ত, রৈখিক, বৃত্তাকার ও চৌমাথা কেন্দ্রিক জনবসতি।
2.14 2011 অনুযায়ী ভারতের জনঘনত্ব কত?
উত্তর: 2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের গড় জনঘনত্ব ছিল প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 382 জন। বর্তমানে 2024 সালের অনুমান অনুযায়ী এই জনঘনত্ব প্রায় 435 জন প্রতি বর্গ কিলোমিটার।
2.15 ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু কী?
উত্তর: ভারতের দক্ষিণতম বিন্দু হল ইন্দিরা পয়েন্ট। এটি আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের গ্রেট নিকোবর দ্বীপে 6°45′ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত। ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম বিন্দু হল কন্যাকুমারী, যা 8°4′ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।
2.16 বন্যা কী?
উত্তর: অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বাঁধ ভেঙে যাওয়া বা পাহাড়ে বরফ গলা জলে নদীর জল বৃদ্ধি পেয়ে দুই কূল ছাপিয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন হওয়ার ঘটনাকে বন্যা বলে। আসাম ও বিহারে প্রতি বছর বন্যা দেখা যায়।
Madhyamik Geography Model Answers-4
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×8=16)
3.1 সুষম ঢাল ও অসম ঢালের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় সুষম ঢাল অসম ঢাল
সংজ্ঞা যে ঢালে ভূমির ঢাল সর্বত্র সমান থাকে, তাকে সুষম ঢাল বলে। যে ঢালে ভূমির ঢাল কোথাও বেশি এবং কোথাও কম থাকে, তাকে অসম ঢাল বলে।
সমোন্নতি রেখার বিন্যাস মানচিত্রে সমোন্নতি রেখাগুলি সমান দূরত্বে অবস্থান করে। মানচিত্রে সমোন্নতি রেখাগুলি অসমান দূরত্বে আঁকাবাঁকা ভাবে অবস্থান করে।
প্রকৃতি এটি সাধারণত মৃদু ঢাল বিশিষ্ট হয়। এটি খাড়া ও মৃদু ঢালের মিশ্রণে ধাপে ধাপে গঠিত হয়।
3.2 মরু সম্প্রসারণ কীভাবে রোধ করা যায়?
উত্তর: মরু সম্প্রসারণ রোধ করার উপায়গুলি হল –
i. বৃক্ষরোপণ: বায়ুপ্রবাহের দিকে সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগিয়ে রক্ষা বলয় বা Shelter Belt তৈরি করতে হবে এবং ব্যাপক বনসৃজন করতে হবে।
ii. নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার: অতিরিক্ত পশুচারণ বন্ধ করতে হবে এবং ঝুম চাষ নিষিদ্ধ করতে হবে।
iii. জল সংরক্ষণ: বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য Check Dam ও খাল তৈরি করতে হবে এবং জলের অপচয় বন্ধ করতে হবে।
iv. বালিয়াড়ি স্থিরকরণ: বালিয়াড়ির উপর ঘাস ও ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ লাগিয়ে বালিয়াড়িকে স্থির করতে হবে। রাজস্থানে CAZRI অর্থাৎ Central Arid Zone Research Institute এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
3.3 এল-নিনো ও লা-নিনার পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় এল-নিনো লা-নিনা
অর্থ ও অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বে পেরু উপকূলে উষ্ণ সমুদ্র স্রোত প্রবাহিত হয়। স্প্যানিশ শব্দ এল-নিনো অর্থ ছোট বালক। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে অস্ট্রেলিয়ার কাছে উষ্ণ স্রোত এবং পূর্বে শীতল স্রোত প্রবাহিত হয়। লা-নিনা অর্থ ছোট বালিকা।
ভারতে প্রভাব ভারতে বৃষ্টিপাত কম হয় এবং খরার সৃষ্টি হয়। ভারতে বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বন্যার সৃষ্টি হয়।
পর্যায়কাল সাধারণত 2 থেকে 7 বছর অন্তর ক্রিসমাসের সময় দেখা যায়। এটি সাধারণত এল-নিনোর পরবর্তী বছর দেখা যায়।
3.4 ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব লেখো।
উত্তর: ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অত্যন্ত গভীর –
i. বৃষ্টিপাতের প্রধান উৎস: ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় 75 শতাংশ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর দ্বারা জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে হয়। ভারতের কৃষি সম্পূর্ণরূপে এই বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল।
ii. ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের উপর ভিত্তি করে ভারতে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত এই চারটি ঋতু চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
iii. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: মৌসুমী বৃষ্টি অত্যন্ত অনিশ্চিত। কখনও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা হয় এবং কখনও কম বৃষ্টিতে খরা হয়, ফলে ফসল নষ্ট হয়।
iv. শীতকালীন বৃষ্টি: শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে তামিলনাড়ু উপকূলে বৃষ্টিপাত হয়।
Madhyamik Geography Model Answers-4
3.5 পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাটের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় পশ্চিমঘাট পর্বত পূর্বঘাট পর্বত
অবস্থান ও বিস্তার আরব সাগরের তীরে কচ্ছ থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় 1600 কিমি বিস্তৃত। বঙ্গোপসাগরের তীরে মহানদী থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় 1500 কিমি বিস্তৃত।
প্রকৃতি ও উচ্চতা এটি একটানা ও উঁচু পর্বত, গড় উচ্চতা 900 থেকে 1200 মিটার। সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আনাইমুদি 2695 মিটার। এটি বিচ্ছিন্ন ও নিচু পর্বত, গড় উচ্চতা প্রায় 600 মিটার। সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মহেন্দ্রগিরি 1501 মিটার।
ঢাল এর পশ্চিম ঢাল অত্যন্ত খাড়া এবং পূর্ব দিকে মালনাদ ও ময়দান মালভূমি অবস্থিত। এর পশ্চিম ঢাল মালভূমির দিকে এবং পূর্ব ঢাল উপকূলীয় সমভূমির দিকে বিস্তৃত।
3.6 ভারতে জলবিভাজিকার গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: ভারতে জলবিভাজিকার গুরুত্বগুলি হল –
i. জলবিভাজিকা দুটি নদী অববাহিকাকে পৃথক করে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ii. জলবিভাজিকা অঞ্চল সাধারণত উঁচু ও বনভূমি দ্বারা আবৃত থাকে, যা বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে এবং মাটির ক্ষয় রোধ করে।
iii. জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সেচ প্রকল্প ও জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনায় জলবিভাজিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
iv. এটি পরিবহন ব্যবস্থা ও রাজ্যের সীমানা নির্ধারণে সাহায্য করে। যেমন বিন্ধ্য পর্বত গঙ্গা ও নর্মদা নদীর জলবিভাজিকা হিসাবে কাজ করে।
3.7 সবুজ বিপ্লবের সুফল ও কুফল লেখো।
উত্তর:
সুফল:
i. সবুজ বিপ্লবের ফলে ভারতে খাদ্য উৎপাদন প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পায় এবং ভারত খাদ্যশস্যে স্বনির্ভর হয়ে ওঠে, ফলে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি বন্ধ হয়।
ii. কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্য অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়।
কুফল:
i. ধনী ও দরিদ্র কৃষকের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। ছোট চাষিরা দামি বীজ ও সার কিনতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
ii. অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটি ও জল দূষিত হয়, ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যায় এবং পাঞ্জাবে ক্যান্সারের মতো রোগ বৃদ্ধি পায়।
iii. সবুজ বিপ্লব শুধুমাত্র গম ও ধান চাষে সফল হয়েছে, কিন্তু ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদনে তেমন সফল হয়নি।
3.8 ভারতে ধান ও গম চাষের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় ধান গম
ঋতু ও জলবায়ু এটি খরিফ শস্য। 20° থেকে 30° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং 100 থেকে 200 সেমি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। জমিতে জল জমে থাকা দরকার। এটি রবি শস্য। বোনার সময় 10° থেকে 20° এবং পাকার সময় 20° থেকে 25° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন। 50 থেকে 100 সেমি বৃষ্টি ও শুষ্ক আবহাওয়া দরকার।
মাটি উর্বর পলি ও দোআঁশ মাটি এবং সমতল জমি প্রয়োজন। উর্বর দোআঁশ ও কৃষ্ণ মাটি এবং সেচের সুবিধা প্রয়োজন।
উৎপাদক রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাব ধান উৎপাদনে প্রথম। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা গম উৎপাদনে প্রথম।
3.9 ভারতে তথ্য প্রযুক্তি শিল্প কেন্দ্রীভবনের কারণ লেখো।
উত্তর: ভারতে তথ্য প্রযুক্তি শিল্প কয়েকটি নির্দিষ্ট শহরে কেন্দ্রীভূত হওয়ার কারণগুলি হল –
i. এখানে IIT ও NIT-এর মতো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর দক্ষ, ইংরেজি জানা ও সস্তা ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যায়।
ii. সরকার STPI ও SEZ গঠন করে কর ছাড়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেটের সুবিধা দেয়।
iii. বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে ও চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, উন্নত জীবনযাত্রা ও অনুকূল জলবায়ু রয়েছে।
iv. আমেরিকা ও ইউরোপে ভারতীয় তথ্য প্রযুক্তির প্রচুর চাহিদা আছে এবং সময় অঞ্চলের সুবিধার জন্য রাতে কাজ করে দিনে পরিষেবা দেওয়া যায়।
3.10 উপগ্রহ চিত্রে বিভিন্ন রঙের ব্যবহার লেখো।
উত্তর: উপগ্রহ চিত্রে বিশেষ করে False Colour Composite বা FCC চিত্রে বিভিন্ন রঙ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয় –
i. লাল রঙ: সুস্থ ও ঘন উদ্ভিদ, বনভূমি এবং কৃষিজমিকে বোঝায়।
ii. নীল বা কালো রঙ: গভীর জলাশয়, নদী ও সমুদ্রকে বোঝায়। অগভীর জল হালকা নীল হয়।
iii. সাদা বা হালকা নীল রঙ: মেঘ, বরফাবৃত অঞ্চল এবং বালুকাময় অঞ্চলকে বোঝায়।
iv. কালো বা ধূসর রঙ: জনবসতি, পাথুরে অঞ্চল ও পাহাড়ের ছায়াকে বোঝায়।
v. হলুদ বা বাদামি রঙ: পতিত জমি ও মরুভূমি অঞ্চলকে বোঝায়। True Colour Composite চিত্রে প্রকৃত রঙ দেখানো হয়।
3.11 বিক্ষিপ্ত জনবসতি কোথায় ও কেন গড়ে ওঠে?
উত্তর:
কোথায় গড়ে ওঠে: পাহাড়ি অঞ্চল যেমন হিমালয়ে, মরু অঞ্চল যেমন রাজস্থানে, ঘন বন অঞ্চল যেমন ছোটনাগপুর মালভূমিতে এবং বন্যা প্রবণ অঞ্চল যেমন সুন্দরবনে বিক্ষিপ্ত জনবসতি দেখা যায়।
কেন গড়ে ওঠে:
i. এই অঞ্চলগুলিতে জল, উর্বর মাটি ও সমতল জমির অভাব রয়েছে।
ii. যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ এবং যাতায়াত কষ্টকর।
iii. ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যপ্রাণীর ভয় ও প্রতিকূল পরিবেশ থাকে।
iv. ব্যক্তিগত পছন্দের কারণেও বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে ওঠে, যেমন কৃষক তার নিজের কৃষিজমির কাছেই বাড়ি তৈরি করে।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-5 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-4/2 » NIRYAS.IN