Madhyamik History Model Answers-1/2
Madhyamik History Model Answers-1
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ইতিহাস বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ইতিহাস) (Madhyamik History Model Answers-1) (উত্তরসহ)।নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে বিভাগ – ক: 20 নম্বরের 20টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), বিভাগ – খ: 16 নম্বরের 16টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (1 নম্বরের), বিভাগ – গ: 22 নম্বরের 11টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (2 নম্বরের) এবং বিভাগ – ঘ: 24 নম্বরের 6টি বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (4 নম্বরের) ও বিভাগ – ঙ: 8 নম্বরের 1টি ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (8 নম্বরের) সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান।। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik History Model Answers-1

ইতিহাস(History)
(Part- 2)
বিভাগ – ঘ: বিশ্লেষণধর্মী (4×6=24)
4.1 উনিশ শতকে বাংলায় সমাজ সংস্কারে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান আলোচনা করো।
উত্তর: রাজা রামমোহন রায়কে (1772-1833) যথার্থই ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ এবং ‘ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত’ বলা হয়। তিনি শুধু ধর্ম সংস্কারক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক যুক্তিবাদী সমাজ বিপ্লবী।
i) সতীদাহ প্রথা নিবারণ: তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তিনি শাস্ত্র ঘেঁটে প্রমাণ করেন হিন্দু শাস্ত্রে সতীদাহের বিধান নেই। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় এবং লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সহযোগিতায় 1829 সালের 4 ডিসেম্বর 17 নম্বর রেগুলেশন দ্বারা সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয়।
ii) নারীমুক্তি ও কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলন: তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাতিভেদ প্রথা ও কৌলীন্য প্রথার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বিধবা বিবাহ ও স্ত্রী শিক্ষার পক্ষে জনমত গঠন করেন, যা পরবর্তীতে বিদ্যাসাগর এগিয়ে নিয়ে যান।
iii) ধর্ম সংস্কার – ব্রাহ্মসমাজ: 1828 সালে তিনি ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়। এর মাধ্যমে তিনি একেশ্বরবাদ, নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা প্রচার করেন এবং পৌত্তলিকতা, জাতিভেদ ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
iv) শিক্ষা ও সংবাদপত্রের প্রসার: তিনি প্রাচ্যপন্থী শিক্ষার বিরোধিতা করে ইংরেজি ও বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক শিক্ষার পক্ষে মত দেন। হিন্দু কলেজ, বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি সাহায্য করেন। জনমত গঠনের জন্য তিনি ফারসি ভাষায় ‘মিরাত-উল-আখবার’ এবং বাংলায় ‘সংবাদ কৌমুদী’ প্রকাশ করেন।
মূলত তিনি ভারতীয় সমাজে যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
4.2 1857 সালের মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি ও গুরুত্ব আলোচনা করো। একে কি ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ বলা যায়?
উত্তর: 1857 সালের মহাবিদ্রোহের সূচনা হয় এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি মেশানোকে কেন্দ্র করে। ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের বিদ্রোহ (29 মার্চ 1857) এবং মিরাটে সিপাহী বিদ্রোহ (10 মে 1857) দ্রুত দিল্লি, কানপুর, লক্ষ্ণৌ, ঝাঁসি, বেরিলি ও বিহারে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রকৃতি নিয়ে বিতর্ক: এই বিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে।
ক) ব্রিটিশ ঐতিহাসিক যেমন জন লরেন্স, সীলে একে নিছক ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ বলেছেন।
খ) জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিক বিনায়ক সাভারকার একে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ বলেছেন।
গ) ড. আর. সি. মজুমদার একে ‘সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া’ বা ‘ফিউডাল বিদ্রোহ’ বলেছেন, কারণ ক্ষমতাচ্যুত জমিদার ও রাজারা এতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
গুরুত্ব: এই বিদ্রোহের গুরুত্ব অপরিসীম। 1858 সালে মহারানির ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতে সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের শাসন শুরু হয়। সেনাবাহিনীতে ভারতীয় সৈন্যের সংখ্যা কমানো হয়। সবচেয়ে বড় কথা, এই বিদ্রোহ ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করে দেয়।
একে শুধু সিপাহী বিদ্রোহ বলা যায় কি? না, যায় না। কারণ এটি শুরু সিপাহীদের দ্বারা হলেও পরবর্তীতে কৃষক, কারিগর, জমিদার, সাধারণ মানুষ সকলেই যোগ দেয়। তাই এটি সিপাহী বিদ্রোহের গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি গণবিদ্রোহে পরিণত হয়েছিল।
4.3 নীল বিদ্রোহে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: 1859-60 সালে নদীয়ার গোবিন্দপুর গ্রামে দিগম্বর ও বিষ্ণু বিশ্বাসের নেতৃত্বে নীল চাষের বিরুদ্ধে যে কৃষক বিদ্রোহ শুরু হয়, তাতে শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক সমর্থন জুগিয়েছিল।
i) সংবাদপত্রের ভূমিকা: ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকার সম্পাদক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় নির্ভীকভাবে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের কাহিনী প্রকাশ করতে থাকেন। তিনি কৃষকদের পক্ষে আদালতে লড়ার জন্য অর্থ সংগ্রহও করেন।
ii) সাহিত্যের ভূমিকা: দীনবন্ধু মিত্র তাঁর বিখ্যাত ‘নীলদর্পণ’ (1860) নাটকে নীলকরদের অমানবিক অত্যাচার ও কৃষকদের দুর্দশা জীবন্তভাবে তুলে ধরেন। এই নাটকটি বাংলার শিক্ষিত সমাজকে আলোড়িত করে।
iii) বুদ্ধিজীবী সমাজ: কালীপ্রসন্ন সিংহ, শিশির কুমার ঘোষ প্রমুখ বুদ্ধিজীবীরা সভা-সমিতি করে, লেখালেখি করে এবং নীল কমিশনের (1860) কাছে সাক্ষ্য দিয়ে জনমত গঠন করেন।
সীমাবদ্ধতা: তবে এই মধ্যবিত্ত শ্রেণি গ্রামে গিয়ে কৃষকদের সাথে সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেননি। তাঁদের সমর্থন ছিল মূলত শহরকেন্দ্রিক, কলম ও বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
4.4 বাংলায় ছাপাখানার বিকাশে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ও উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর অবদান লেখো।
উত্তর: বাংলায় ছাপাখানা ও মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে এই দুইজনের অবদান অবিস্মরণীয়।
ক) গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য (1769-1831): তাঁকে ‘বাংলা মুদ্রণ শিল্পের জনক’ বলা হয়।
তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি যিনি নিজে ছাপাখানা স্থাপন করেন। 1818 সালে তিনি ‘ফেরিস অ্যান্ড কোম্পানি’ নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রথম সচিত্র বাংলা বই ‘অন্নদামঙ্গল’ (1816) ছাপেন। তাঁর সবচেয়ে বড় কীর্তি হল 1818 সালে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ‘বাঙ্গাল গেজেট’ প্রকাশ করা, যা বাঙালি দ্বারা সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র।
খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (1863-1915): তিনি মুদ্রণ শিল্পে আধুনিকতার জনক।
তিনি 1895 সালে ‘ইউ রায় অ্যান্ড সন্স’ নামে একটি উন্নতমানের ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ভারতে হাফটোন ব্লক প্রিন্টিং ও রঙিন ছাপার ক্ষেত্রে বিপ্লব আনেন। তাঁর ছাপাখানা থেকেই 1913 সালে বিখ্যাত শিশু পত্রিকা ‘সন্দেশ’ প্রকাশিত হয়। তিনি ‘টুনটুনির বই’, ‘ছোটদের রামায়ণ’-এর মতো বই ছাপিয়ে শিশু সাহিত্য ও বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
Madhyamik History Model Answers-1
4.5 অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ও ব্যর্থতার কারণ আলোচনা করো।
উত্তর: মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে 1920 থেকে 1922 সাল পর্যন্ত প্রথম সর্বভারতীয় গণ আন্দোলন হল অসহযোগ আন্দোলন।
কর্মসূচি: এই আন্দোলনের দুটি দিক ছিল –
i) না-সূচক কর্মসূচি: সরকারি স্কুল-কলেজ, আদালত, আইনসভা ও সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন, বিদেশি বস্ত্র ও পণ্য বর্জন করে খাদি ও চরকা ব্যবহার।
ii) হ্যাঁ-সূচক কর্মসূচি: জাতীয় স্কুল প্রতিষ্ঠা, সালিশি আদালত গঠন, 1 কোটি টাকার তিলক স্বরাজ তহবিল গঠন, হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বজায় রাখা ও অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ।
ব্যর্থতার কারণ:
i) চৌরিচৌরা ঘটনা: 1922 সালের 5 ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের চৌরিচৌরায় উত্তেজিত জনতা 22 জন পুলিশকে পুড়িয়ে মারে। গান্ধীজী অহিংসা নীতি ভঙ্গ হয়েছে বলে হঠাৎ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। এতে তরুণ কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ে।
ii) সাম্প্রদায়িক ঐক্যে ফাটল: খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ভেঙে যায়।
iii) অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও সরকারি দমন: দীর্ঘদিন আন্দোলন চালানোর মতো অর্থ ও সংগঠনের অভাব ছিল।
তবুও এই আন্দোলন কংগ্রেসকে অভিজাতদের দল থেকে জনগণের দলে পরিণত করেছিল।
4.6 বাংলায় নমঃশূদ্র আন্দোলনের বিবরণ দাও।
উত্তর: বাংলার দলিত সমাজের মধ্যে সবচেয়ে সংগঠিত আন্দোলন হল নমঃশূদ্র আন্দোলন।
i) ধর্মীয় ও সামাজিক পটভূমি: পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর, যশোর, বরিশালে বসবাসকারী নমঃশূদ্ররা উচ্চবর্ণের দ্বারা অত্যাচারিত ও অস্পৃশ্য হিসাবে বিবেচিত হত। তাদের মধ্যে আত্মসম্মান জাগাতে এগিয়ে আসেন হরিচাঁদ ঠাকুর (1812-1878)। তিনি ‘মতুয়া’ ধর্মমত প্রচার করেন। তাঁর মূলমন্ত্র ছিল – “হাতে কাম, মুখে নাম” এবং শিক্ষা গ্রহণ।
ii) শিক্ষা বিস্তার: তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর (1846-1937) এই আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি নমঃশূদ্রদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য বহু স্কুল-পাঠশালা স্থাপন করেন। 1932 সালে তিনি ‘মতুয়া মহাসংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
iii) রাজনৈতিক আন্দোলন: পরবর্তীতে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন। তিনি নমঃশূদ্রদের জন্য চাকরিতে সংরক্ষণ, আইনসভায় প্রতিনিধিত্বের দাবি তোলেন এবং ড. আম্বেদকরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে সর্বভারতীয় দলিত আন্দোলনের সাথে যুক্ত করেন।
এই আন্দোলনের ফলে নমঃশূদ্র সমাজে শিক্ষা, আত্মচেতনা ও রাজনৈতিক অধিকারবোধ জাগ্রত হয়।
4.7 1947 সালের দেশভাগের ফলে উদ্ভূত উদ্বাস্তু সমস্যার বিবরণ দাও।
উত্তর: 1947 সালের 15ই আগস্ট দেশভাগ ভারতের ইতিহাসে এক গভীর মানবিক সংকট তৈরি করে। প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
i) সমস্যার স্বরূপ: পশ্চিম পাকিস্তান থেকে শিখ ও হিন্দুরা এবং পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে লক্ষ লক্ষ বাঙালি হিন্দু শরণার্থী হিসাবে ভারতে আসে। ফলে খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের তীব্র সংকট দেখা দেয়।
ii) বাংলায় উদ্বাস্তু সমস্যা: পাঞ্জাবের সমস্যা দ্রুত মিটলেও বাংলায় সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়। কলকাতার উপকণ্ঠে যাদবপুর, বিজয়গড়, বাঘাযতীন, উল্টোডাঙার মতো জবরদখল কলোনি গড়ে ওঠে। উদ্বাস্তুরা অতি কষ্টে বস্তিতে জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
iii) সরকারি পদক্ষেপ ও প্রভাব: সরকার উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দপ্তর খোলে, ক্যাম্প স্থাপন করে, ঋণ ও জমি দেয়। দণ্ডকারণ্যে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়। এই উদ্বাস্তু সমাজ পরবর্তীতে বাংলার অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও বামপন্থী রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
4.8 স্বাধীনতার পর ভারতে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ কীভাবে হয়েছিল?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু বলেছিলেন, “বিজ্ঞানই হল আধুনিক ভারতের মন্দির”। তাঁর উদ্যোগেই স্বাধীন ভারতে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় বিপ্লব শুরু হয়।
i) গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন: 1947 সালে বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (CSIR), 1948 সালে হোমি জে. ভাবার নেতৃত্বে পরমাণু শক্তি কমিশন স্থাপিত হয়।
ii) কারিগরি শিক্ষা – IIT: কারিগরি শিক্ষার জন্য 1951 সালে খড়গপুরে প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) স্থাপিত হয়। পরে বোম্বে (1958), কানপুর (1959), মাদ্রাজ (1959) ও দিল্লিতে (1961) IIT গড়ে ওঠে।
iii) বিজ্ঞান নীতি ও মহাকাশ গবেষণা: 1958 সালে বিজ্ঞান নীতি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। 1958 সালে প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা DRDO এবং 1969 সালে বিক্রম সারাভাইয়ের নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO) গঠিত হয়।
iv) অন্যান্য প্রতিষ্ঠান: বসু বিজ্ঞান মন্দির, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও উন্নত করা হয়।
এর ফলে ভারত কৃষি, চিকিৎসা, মহাকাশ ও পরমাণু বিজ্ঞানে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যায়।
Madhyamik History Model Answers-1
বিভাগ – ঙ: ব্যাখ্যামূলক (8×1=8)
5.1 মানব প্রকৃতি ও বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশে বসু বিজ্ঞান মন্দির ও জাতীয় শিক্ষা পরিষদের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: উনিশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকের শুরুতে বাংলায় বিজ্ঞান শিক্ষা ছিল মূলত ব্রিটিশ নির্ভর। ব্রিটিশরা বিজ্ঞান শিক্ষাকে কেরানি তৈরির কাজে ব্যবহার করত। এই পরাধীনতার মধ্যেই ভারতীয়দের নিজস্ব উদ্যোগে বিজ্ঞান চর্চার দুটি শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে – বসু বিজ্ঞান মন্দির ও জাতীয় শিক্ষা পরিষদ। দুটিই স্বদেশি বিজ্ঞান চেতনার প্রতীক।
ক) বসু বিজ্ঞান মন্দির (Bose Institute – 1917):
প্রতিষ্ঠা: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু (1858-1937) ছিলেন ভারতের প্রথম বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী। প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনার সময় তিনি বেতার তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন, যা মার্কনির বহু আগে। ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য না পেয়ে তিনি নিজের বাড়ি, নিজের জমানো অর্থে 1917 সালের 30 নভেম্বর কলকাতার 93/1 আপার সার্কুলার রোডে (বর্তমান আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড) ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র।
মানব প্রকৃতি ও বিজ্ঞান শিক্ষায় ভূমিকা:
i) উদ্ভিদের প্রাণ আছে – প্রমাণ: জগদীশচন্দ্র ‘ক্রেসকোগ্রাফ’ নামে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যা এক সেকেন্ডের এক হাজার ভাগের এক ভাগ বৃদ্ধিও মাপতে পারে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে, উদ্ভিদও আঘাত, আলো, তাপে সাড়া দেয়, ক্লান্ত হয়, মারা যায়। এটি মানব প্রকৃতি ও উদ্ভিদ জগতের মধ্যে এক গভীর ঐক্য স্থাপন করে এবং ভারতীয় দর্শনের ‘সর্বভূতে এক আত্মা’ ধারণাকে বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণ করে।
ii) বেতার বিজ্ঞান: তিনি বিনা তারে বেতার বার্তা পাঠাতে সক্ষম হন এবং গ্যালেনা ডিটেক্টর আবিষ্কার করেন, যা আধুনিক রেডিও ও সেমিকন্ডাক্টরের ভিত্তি।
iii) গবেষণা কেন্দ্র হিসাবে: এই প্রতিষ্ঠানে সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা, দেবেন্দ্রমোহন বসু, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষের মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন। সি. ভি. রমন এখানে কাজ করেন। এটি ভারতীয়দের দ্বারা, ভারতীয়দের জন্য বিজ্ঞান গবেষণার প্রথম সফল মডেল।
iv) স্বদেশি চেতনা: তিনি তাঁর সমস্ত পেটেন্ট জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন, অর্থের জন্য বিজ্ঞানকে বিক্রি করেননি। তিনি প্রমাণ করেন ভারতীয়রাও বিশ্বমানের মৌলিক বিজ্ঞান চর্চা করতে পারে।
খ) জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (1906):
প্রতিষ্ঠা: 1905 সালে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে সারা বাংলায় স্বদেশি আন্দোলন শুরু হয়। ছাত্ররা ব্রিটিশ স্কুল-কলেজ বর্জনের ডাক দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প হিসাবে 1906 সালের 1 মার্চ সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ, তারকনাথ পালিত, রাসবিহারী ঘোষ, সুবোধচন্দ্র মল্লিকের উদ্যোগে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ গঠিত হয়। এর সভাপতি ছিলেন অরবিন্দ ঘোষ।
মানব প্রকৃতি ও বিজ্ঞান শিক্ষায় ভূমিকা:
i) উদ্দেশ্য: এর মূল উদ্দেশ্য ছিল – “জাতির মনুষ্যত্ব বিকাশ ও জাতীয় নিয়তির উপলব্ধি”। ব্রিটিশ শিক্ষা কেরানি তৈরি করে, কিন্তু জাতীয় শিক্ষা মানুষ তৈরি করবে, স্বদেশি শিল্পের জন্য বিজ্ঞান ও কারিগরি জ্ঞান দেবে।
ii) বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা: এই পরিষদের অধীনেই 1906 সালের 25 জুলাই ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (BTI) প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং, ফলিত রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, তাঁত, চামড়া শিল্প, মৃৎশিল্প শেখানো হত। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, নীলরতন সরকার এখানে পড়াতেন। এটি ছিল ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রথম জাতীয়তাবাদী উদ্যোগ।
iii) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়: 1910 সালে BTI যাদবপুরে স্থানান্তরিত হয় এবং 1928 সালে ‘কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামে পরিচিত হয়। স্বাধীনতার পর 1955 সালে এটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়, যা আজ ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়।
iv) মানব প্রকৃতির বিকাশ: জাতীয় শিক্ষা পরিষদ শুধু বিজ্ঞান নয়, মাতৃভাষায় শিক্ষা, ভারতীয় ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য পড়াত, যাতে ছাত্রদের মধ্যে স্বদেশ প্রেম ও আত্মসম্মান জাগে।
উপসংহার: বসু বিজ্ঞান মন্দির ছিল মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার মন্দির, আর জাতীয় শিক্ষা পরিষদ ছিল ফলিত বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে জাতি গঠনের কারখানা। দুটিই প্রমাণ করে যে বিজ্ঞান শিক্ষা মানব প্রকৃতির বিকাশ, স্বনির্ভরতা ও জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।
Madhyamik History Model Answers-1
5.2 ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস আলোচনা করো। (1920-1947)
উত্তর: ভারতে আধুনিক শিল্পের শুরু হয় উনিশ শতকের মাঝামাঝি বোম্বে ও আহমেদাবাদের কাপড় কলে। কিন্তু প্রথম দিকে শ্রমিকরা অসংগঠিত ছিল। বিশ শতকের শুরুতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথে শ্রমিক আন্দোলন যুক্ত হয়।
প্রথম পর্ব (1920-1930) – সংগঠনের জন্ম:
i) AITUC প্রতিষ্ঠা (1920): 1920 সালের 31 অক্টোবর বোম্বেতে লালা লাজপত রায়ের সভাপতিত্বে ‘নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস’ (AITUC) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠন। এর প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দেওয়ান চমনলাল। এর উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে শ্রমিকদের যুক্ত করা।
ii) গান্ধীজীর প্রভাব: 1918 সালে গান্ধীজী আহমেদাবাদে টেক্সটাইল শ্রমিকদের ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেন এবং শ্রমিকদের মজুরি 35% বৃদ্ধি করাতে সক্ষম হন। তিনি ‘টেক্সটাইল লেবার অ্যাসোসিয়েশন’ (TLA) গঠন করেন, যা ছিল গান্ধীবাদী অহিংস শ্রমিক সংগঠন।
iii) বড় ধর্মঘট: 1920-এর দশকে বোম্বে, কানপুর, আহমেদাবাদ, মাদ্রাজ ও জামশেদপুরে বড় বড় ধর্মঘট হয়। 1928 সালে বোম্বেতে 6 মাস ব্যাপী ঐতিহাসিক ধর্মঘট হয়, যেখানে প্রায় 1 লক্ষ শ্রমিক অংশ নেয়। এই সময়ে কমিউনিস্ট নেতা এস. এ. ডাঙ্গে, মুজফফর আহমেদ শ্রমিকদের মধ্যে কাজ শুরু করেন।
দ্বিতীয় পর্ব (1930-1940) – বামপন্থী প্রভাব:
i) কমিউনিস্ট ও কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট: 1928 সালে ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’ (WPP) গঠিত হয় এবং কমিউনিস্টরা শ্রমিক আন্দোলনে প্রভাব বিস্তার করে। 1934 সালে ‘কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টি’ গঠিত হলে জয়প্রকাশ নারায়ণ, অচ্যুত পট্টবর্ধন শ্রমিকদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা ছড়িয়ে দেন।
ii) 1937 সালের কংগ্রেস মন্ত্রিসভা: 1937 সালে বিভিন্ন প্রদেশে কংগ্রেস মন্ত্রিসভা গঠিত হলে শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি, কাজের সময় 8 ঘণ্টা এবং ধর্মঘটের অধিকার স্বীকৃত হয়।
iii) দমননীতি: ব্রিটিশ সরকার 1929 সালে ‘মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা’য় 31 জন কমিউনিস্ট ও শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে শ্রমিক আন্দোলন দমন করতে চায়।
তৃতীয় পর্ব (1940-1947) – স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে যুক্ত:
i) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: যুদ্ধের সময় শিল্প উৎপাদন বাড়ে, কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি বাড়ে না, ফলে অসন্তোষ বাড়ে। 1942 সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শ্রমিকরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
ii) নৌ বিদ্রোহ ও ধর্মঘট: 1946 সালের ফেব্রুয়ারিতে বোম্বেতে নৌ বিদ্রোহ (Royal Indian Navy Mutiny) হলে বোম্বের 2 লক্ষ শ্রমিক তাদের সমর্থনে ধর্মঘট করে। এটি ছিল শ্রমিক ও সেনাবাহিনীর ঐক্যের বিরল উদাহরণ।
iii) বিভাজন: 1947 সালে স্বাধীনতার প্রাক্কালে শ্রমিক সংগঠনে বিভাজন দেখা দেয়। কংগ্রেসপন্থীরা ‘INTUC’ (Indian National Trade Union Congress) এবং কমিউনিস্টপন্থীরা AITUC-তে থেকে যায়।
গুরুত্ব: শ্রমিক আন্দোলন শুধু শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করেনি, এটি স্বাধীনতা আন্দোলনকে গণ আন্দোলনে পরিণত করে, জাতীয়তাবাদকে কারখানা পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং স্বাধীন ভারতে শ্রমিক আইনের ভিত্তি তৈরি করে।
5.3 1947-1964 পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো – জোট নিরপেক্ষ নীতি ও তার গুরুত্ব।
উত্তর: স্বাধীনতার পর 1947 থেকে 1964 সাল পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান স্থপতি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। এই সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ছিল জোট নিরপেক্ষতা (Non-Aligned Movement – NAM)।
জোট নিরপেক্ষ নীতির পটভূমি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব দুটি শিবিরে ভাগ হয়ে যায় – আমেরিকার নেতৃত্বে পুঁজিবাদী জোট (NATO) এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক জোট (ওয়ারশ প্যাক্ট)। এই ঠান্ডা যুদ্ধের (Cold War) সময় নেহেরু সিদ্ধান্ত নেন ভারত কোনো জোটেই যোগ দেবে না, নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্তে চলবে।
বৈশিষ্ট্য:
i) জোট নিরপেক্ষতা: ঠান্ডা যুদ্ধে কোনো সামরিক জোটে যোগ না দেওয়া, স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা। নেহেরু বলেন – “আমরা কারও তাঁবেদার নই”।
ii) সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরোধিতা: ভারত ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকার দেশগুলির স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করে। 1955 সালে ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং সম্মেলনে এশিয়া-আফ্রিকার 29টি দেশের সম্মেলনে নেহেরু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
iii) শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পঞ্চশীল নীতি: 1954 সালে ভারত ও চীনের মধ্যে তিব্বত নিয়ে চুক্তিতে 5টি নীতি স্বাক্ষরিত হয়, যা ‘পঞ্চশীল নীতি’ নামে পরিচিত – (1) একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা, (2) অনাক্রমণ, (3) অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, (4) সমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা, (5) শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
iv) জাতিসংঘে সক্রিয় ভূমিকা ও নিরস্ত্রীকরণ: ভারত জাতিসংঘে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় এবং পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে নিরস্ত্রীকরণের দাবি তোলে। কোরিয়া যুদ্ধ (1950-53), সুয়েজ সংকট (1956) ও কঙ্গো সংকটে ভারত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।
জোট নিরপেক্ষতার গুরুত্ব ও সাফল্য:
i) NAM গঠন: 1961 সালে যুগোস্লাভিয়ার বেলগ্রেডে প্রথম NAM সম্মেলন হয়। নেহেরু, মিশরের নাসের, যুগোস্লাভিয়ার টিটো, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ এই জোটের প্রধান নেতা ছিলেন। প্রায় 25টি দেশ যোগ দেয়। আজ NAM-এ 120টি দেশ আছে।
ii) উন্নয়নশীল দেশগুলির নেতৃত্ব: NAM-এর মাধ্যমে ভারত তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলির নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
iii) উভয় জোট থেকে সাহায্য: জোট নিরপেক্ষ থাকার ফলে ভারত উভয় শিবির থেকেই সাহায্য পায় – আমেরিকার কাছ থেকে PL-480 এর অধীনে খাদ্য সাহায্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে ভিলাই ইস্পাত কারখানা, BHEL-এর মতো ভারী শিল্পে সাহায্য।
iv) কাশ্মীর ও গোয়া: কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত সোভিয়েত সমর্থন পায় এবং 1961 সালে গোয়াকে পর্তুগিজদের হাত থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়।
সীমাবদ্ধতা: 1962 সালে ভারত-চীন যুদ্ধে চীন পঞ্চশীল নীতি লঙ্ঘন করে ভারত আক্রমণ করে। এই সময়ে NAM দেশগুলি ভারতকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেনি, ফলে NAM-এর দুর্বলতা প্রকাশ পায়। তবুও 1947-64 পর্যন্ত জোট নিরপেক্ষ নীতি ভারতকে বিশ্বে একটি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও শান্তিকামী দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। ➣ Next set
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.