NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik History Model Answers-2/2

Madhyamik History Model Answers-2

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ইতিহাস বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ইতিহাস) (Madhyamik History Model Answers-2) (উত্তরসহ)।নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে বিভাগ – ক: 20 নম্বরের 20টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), বিভাগ – খ: 16 নম্বরের 16টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (1 নম্বরের), বিভাগ – গ: 22 নম্বরের 11টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (2 নম্বরের) এবং বিভাগ – ঘ: 24 নম্বরের 6টি বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (4 নম্বরের) বিভাগ – ঙ: 8 নম্বরের 1টি ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (8 নম্বরের) সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান।। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik History Model Answers-2

Madhyamik History Model Answers
Madhyamik History Model Answers

ইতিহাস(History)

(Part- 2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: বিশ্লেষণধর্মী (4×6=24)

4.1 বাংলায় নবজাগরণের প্রকৃতি আলোচনা করো – এর সীমাবদ্ধতা কী ছিল?
উত্তর: উনিশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষা, ছাপাখানা, ইংরেজি ভাষা এবং রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র ও বিবেকানন্দের হাত ধরে বাংলায় যে মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটে, তাকেই বাংলার নবজাগরণ বলে।

প্রকৃতি: এর প্রকৃতি ছিল মূলত যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী।
i. সমাজ সংস্কার: সতীদাহ নিবারণ, বিধবা বিবাহ প্রচলন, বাল্যবিবাহ ও জাতিভেদের বিরোধিতা এবং স্ত্রী শিক্ষার প্রসার এর প্রধান লক্ষ্য ছিল।
ii. ধর্ম সংস্কার: ব্রাহ্মসমাজের মাধ্যমে একেশ্বরবাদ ও ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরোধিতা করা হয়।
iii. সাহিত্য ও বিজ্ঞান চর্চা: বাংলা গদ্য সাহিত্য, উপন্যাস, নাটক, বিজ্ঞান চর্চা ও জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে।

সীমাবদ্ধতা: এই নবজাগরণ সর্বজনীন ছিল না।
i. এলিট কেন্দ্রিক: এটি মূলত কলকাতা কেন্দ্রিক উচ্চবর্ণের হিন্দু, ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। মুসলিম সমাজ, নিম্নবর্ণের দলিত, আদিবাসী ও গ্রামীণ কৃষক সমাজ এর সুফল পায়নি।
ii. ব্রিটিশ আনুগত্য: নবজাগরণের নেতারা ব্রিটিশ শাসনকে আশীর্বাদ হিসাবে দেখতেন এবং তাদের প্রতি অনুগত ছিলেন।
iii. অর্থনৈতিক প্রশ্নের অভাব: কৃষক-শ্রমিকের দারিদ্র্য বা অর্থনৈতিক শোষণের প্রশ্ন এখানে উপেক্ষিত ছিল। তাই অনেকে একে ‘অসম্পূর্ণ’ বা ‘এলিট নবজাগরণ’ বলেছেন।

4.2 মহাবিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল?
উত্তর: 1857 সালের মহাবিদ্রোহের প্রতি বাংলার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ প্রায় সম্পূর্ণভাবে উদাসীন ও বিরূপ মনোভাব পোষণ করেছিল।
i. ব্রিটিশ-পন্থী মানসিকতা: বাংলার নবজাগ্রত বুদ্ধিজীবীরা মনে করতেন ব্রিটিশ শাসনই ভারতে আধুনিক শিক্ষা, আইন, সভ্যতা ও প্রগতি এনেছে। তাই তারা এই বিদ্রোহকে প্রগতির বিরোধী ‘সামন্ততান্ত্রিক ও মধ্যযুগীয় প্রতিক্রিয়া’ হিসাবে দেখেছিলেন।
ii. সমর্থন ও সভা: ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকার সম্পাদক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, রাজনারায়ণ বসু, রামগোপাল ঘোষ প্রমুখ ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সভা করেন এবং সরকারকে সাহায্য করার জন্য আবেদন জানান।
iii. ব্যতিক্রম: তবে কিছু মুসলিম বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষের একটি অংশ গোপনে বিদ্রোহীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল।
ফলাফল: এই কারণেই মহাবিদ্রোহের আগুন বাংলা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে ছড়িয়ে পড়েনি। এটি প্রমাণ করে যে, তৎকালীন শিক্ষিত বাঙালি সমাজ তখনও জাতীয়তাবাদের চেয়ে ব্রিটিশ নির্ভর সংস্কারবাদে বেশি বিশ্বাসী ছিল।

4.3 বাংলায় কারিগরি শিক্ষার বিকাশে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: ব্রিটিশ আমলে সরকার কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী ছিল না, কারণ তারা ভারতে শিল্পের বিকাশ চাইত না। জাতীয়তাবাদীদের উদ্যোগেই বাংলায় কারিগরি শিক্ষার বিকাশ ঘটে।
i. সরকারি উদ্যোগ: 1842 সালে শিবপুরে ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে IIEST শিবপুর। এটিই বাংলার প্রথম কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ii. জাতীয় উদ্যোগ: 1905 সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের সময় 1906 সালে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ গঠিত হয়। তার অধীনে ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে 1928 সালে যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পরিণত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় শিল্পের জন্য দেশীয় ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা।
iii. বিজ্ঞান গবেষণা: 1907 সালে স্যার তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষের দানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে বিজ্ঞান ও কারিগরি গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়।
iv. বেসরকারি শিল্পপতিদের উদ্যোগ: জামশেদজী টাটা, ঘনশ্যাম দাস বিড়লার মতো শিল্পপতিরাও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

4.4 ছাপাখানা কীভাবে শিক্ষা বিস্তারে সাহায্য করেছিল?
উত্তর: বাংলায় শিক্ষা বিস্তারে ছাপাখানা একটি বিপ্লব নিয়ে আসে। 1778 সালে হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণ, 1800 সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস এবং 1818 সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের বাঙালি ছাপাখানা এই বিপ্লবের সূচনা করে।
i. সস্তায় বই: হাতে লেখা পুঁথির যুগ শেষ হয়। ছাপাখানার ফলে বইয়ের দাম কমে যায় এবং বহু সংখ্যায় বই ছাপা সম্ভব হয়। বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ (1855), ‘বোধোদয়’-এর মতো বই লক্ষ লক্ষ ছাত্রের হাতে পৌঁছায়।
ii. পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ: স্কুলের জন্য পাঠ্যপুস্তক, মানচিত্র, বিজ্ঞানের বই, অভিধান ছাপা শুরু হয়, যা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করে।
iii. সংবাদপত্র ও সাময়িকী: ‘সমাচার দর্পণ’, ‘সংবাদ প্রভাকর’, ‘তত্ত্ববোধিনী’, ‘বঙ্গদর্শন’-এর মতো পত্রিকা জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়।
iv. নারী শিক্ষায় ভূমিকা: ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকার মতো সাময়িকী নারী শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়।
এক কথায়, ছাপাখানা ছাড়া বাংলার নবজাগরণ ও গণশিক্ষা কোনোটাই সম্ভব হত না।

Madhyamik History Model Answers-2

4.5 আইন অমান্য আন্দোলনের কর্মসূচি ও গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: 1930 সালে গান্ধীজীর নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়।

কর্মসূচি: 1930 সালের 12 মার্চ গান্ধীজী সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডি পর্যন্ত 240 মাইল পদযাত্রা করেন এবং 6 এপ্রিল সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে লবণ আইন ভঙ্গ করেন। এরপর কর্মসূচি ছিল –
i. লবণ তৈরি ও বিক্রি, বিদেশি বস্ত্র ও মদ দোকানে পিকেটিং।
ii. সরকারি স্কুল-কলেজ, আদালত ও অফিস বর্জন।
iii. খাজনা ও চৌকিদারি কর বন্ধ, বন আইন ভঙ্গ।
iv. উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে খান আবদুল গফফর খানের নেতৃত্বে ‘খুদাই খিদমতগার’ বা লালকোর্তা বাহিনী যোগ দেয়।

গুরুত্ব:
i. গণ-আন্দোলন: এটি ছিল প্রথম আন্দোলন যেখানে নারী, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী সকল স্তরের মানুষ অংশ নেয়।
ii. রাজনৈতিক ফল: ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে 1931 সালে গান্ধী-আরউইন চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং গান্ধীজী দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে (1931) যোগ দিতে লন্ডনে যান।
iii. জাতীয়তাবাদের বিস্তার: ব্রিটিশ দমননীতি সত্ত্বেও এই আন্দোলন ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামে জাতীয়তাবাদের বার্তা পৌঁছে দেয়।

4.6 বাংলায় দলিত আন্দোলনের বিবরণ দাও – মতুয়া আন্দোলন।
উত্তর: বাংলায় দলিত আন্দোলনের সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ হল মতুয়া আন্দোলন, যা মূলত নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের আন্দোলন।
i. সূচনা ও দর্শন: ফরিদপুর জেলার ওড়াকান্দি গ্রামে হরিচাঁদ ঠাকুর (1812-1878) এই ধর্মমত প্রচার করেন। তিনি ছিলেন নমঃশূদ্র সমাজের। তাঁর দর্শন ছিল সহজ – জাতিভেদহীন সমাজ, ‘হরিবোল’ মন্ত্রে দীক্ষা, ‘হাতে কাম, মুখে নাম’, সৎ পথে জীবনযাপন এবং সকলের জন্য শিক্ষা। তিনি ব্রাহ্মণ্যবাদী আচার ও কুসংস্কারের বিরোধিতা করেন।
ii. সংগঠন ও শিক্ষা: তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর (1846-1937) এই আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। তিনি নমঃশূদ্রদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য বহু স্কুল, পাঠশালা ও ছাত্রাবাস স্থাপন করেন। 1932 সালে তিনি ‘মতুয়া মহাসংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
iii. রাজনৈতিক রূপ: পরবর্তীতে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এই ধর্মীয় আন্দোলনকে রাজনৈতিক অধিকারের আন্দোলনে পরিণত করেন। তিনি তপশিলি সম্প্রদায়ের জন্য চাকরি ও আইনসভায় সংরক্ষণের দাবি তোলেন এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বাধীন ‘তপশিলি ফেডারেশন’-এ যোগ দেন।
ফল: এই আন্দোলন বাংলার নমঃশূদ্র সমাজে আত্মসম্মান, শিক্ষা ও রাজনৈতিক চেতনা জাগিয়ে তোলে।

4.7 দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছিল?
উত্তর: 1947 থেকে 1971 সাল পর্যন্ত প্রায় 50 লক্ষের বেশি হিন্দু উদ্বাস্তু পূর্ববঙ্গ (পূর্ব পাকিস্তান) থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসে, যা এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করে।
i. প্রাথমিক ব্যবস্থা: সরকার শিয়ালদহ স্টেশন, ধুবুলিয়া, বানপুর, কুপার্স ক্যাম্পে ট্রানজিট ক্যাম্প খোলে। কিন্তু সংখ্যার তুলনায় ব্যবস্থা ছিল অপ্রতুল।
ii. কলোনি স্বীকৃতি: উদ্বাস্তুরা নিজেরাই বাধ্য হয়ে কলকাতার আশেপাশে ফাঁকা জমি জবরদখল করে কলোনি গড়ে তোলে – যেমন যাদবপুর, বিজয়গড়, নেতাজিনগর, বাঘাযতীন। সরকার প্রথমে বিরোধিতা করলেও পরে 1950 সালের পর এই কলোনিগুলিকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
iii. অন্যান্য পদক্ষেপ: সরকার উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দপ্তর গঠন করে। ঋণ, জমির পাট্টা, চাকরিতে কিছু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। উদ্বাস্তুদের মধ্যপ্রদেশ-ওড়িশার দণ্ডকারণ্য এবং আন্দামানে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়, কিন্তু বাঙালি উদ্বাস্তুরা ভাষা ও পরিবেশের কারণে সেখানে যেতে চায়নি।
তবুও সরকারি সাহায্য প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল, উদ্বাস্তুরা মূলত নিজেদের অদম্য লড়াইয়েই জীবন গড়ে তোলে।

4.8 স্বাধীনতার পর ভারতে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের ইতিহাস লেখো।
উত্তর: স্বাধীনতার পর ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য গঠনের দাবি।
i. প্রথম দাবি ও অন্ধ্রপ্রদেশ: মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি থেকে তেলুগু ভাষীদের জন্য আলাদা রাজ্যের দাবিতে গান্ধীবাদী নেতা পট্টি শ্রীরামুলু 1952 সালে 58 দিন আমরণ অনশন করে মৃত্যুবরণ করেন। এর ফলে বাধ্য হয়ে 1953 সালের 1 অক্টোবর ভারতের প্রথম ভাষাভিত্তিক রাজ্য ‘অন্ধ্রপ্রদেশ’ গঠিত হয়।
ii. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন: এই আন্দোলনের চাপে 1953 সালে ফজল আলি, হৃদয়নাথ কুঞ্জরু ও কে. এম. পানিক্করকে নিয়ে ‘রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন’ গঠিত হয়। কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে 1956 সালে ‘রাজ্য পুনর্গঠন আইন’ পাশ হয়। এই আইনে 14টি রাজ্য ও 6টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠিত হয়।
iii. পরবর্তী পুনর্গঠন: এরপরও ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য ভাগ চলতে থাকে। 1960 সালে বোম্বে রাজ্য ভেঙে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট, 1966 সালে পাঞ্জাব ভেঙে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা, 2000 সালে মধ্যপ্রদেশ থেকে ছত্তিশগড়, উত্তরপ্রদেশ থেকে উত্তরাখণ্ড, বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড এবং সর্বশেষ 2014 সালে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠিত হয়।
ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন ভারতের গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে।

Madhyamik History Model Answers-2

বিভাগ – ঙ: ব্যাখ্যামূলক (8×1=8)

5.1 স্বামী বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে জাতীয়তাবাদের ধারণা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ (1863-1902) 1899 সালের মার্চ মাসে ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় ‘বর্তমান ভারত’ নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন, যা পরে গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়। এই ছোট গ্রন্থটি বাংলায় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী রচনা। বঙ্কিমচন্দ্রের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ থেকে বেরিয়ে এসে বিবেকানন্দ এখানে নিম্নবর্গের, শ্রমজীবী মানুষের জাতীয়তাবাদের কথা বলেন।

গ্রন্থে জাতীয়তাবাদের ধারণা:
i. ইতিহাসের নতুন ব্যাখ্যা – শূদ্র জাগরণের ইতিহাস: বিবেকানন্দ ভারতের ইতিহাসকে ক্ষমতার পালাবদল হিসাবে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতের ইতিহাস হল পর্যায়ক্রমে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রের শাসনের ইতিহাস। প্রথমে ব্রাহ্মণরা (পুরোহিত শ্রেণি) জ্ঞান ও ধর্মের নামে শাসন করেছে, তারপর ক্ষত্রিয়রা (রাজা-যোদ্ধা) রাজত্ব করেছে, তারপর বৈশ্যরা (বণিক) অর্থের জোরে শাসন করেছে। ব্রিটিশ শাসন হল বৈশ্য শাসনের চূড়ান্ত রূপ। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন – এর পর এবার শূদ্রদের জাগরণ হবে। শূদ্র বলতে তিনি বোঝান কৃষক, শ্রমিক, দলিত, নিপীড়িত মানুষকে। এই শূদ্ররাই আগামী ভারতের নেতৃত্ব দেবে। এটি ছিল ভারতীয় ইতিহাসে প্রথম নিম্নবর্গের দৃষ্টিতে ইতিহাস দেখা, যা পরবর্তীতে মার্কসবাদী ও সাবঅল্টার্ন ইতিহাস চর্চার অনুপ্রেরণা।
ii. দরিদ্র ভারত ও দরিদ্র নারায়ণ সেবা: তিনি বলেন, বর্তমান ভারত হল দরিদ্র, ক্ষুধার্ত, অশিক্ষিত মানুষের ভারত। কলকাতার বাবুদের বাগ্মিতা বা বেদ-বেদান্তের আলোচনা দিয়ে এই ভারতের মুক্তি হবে না। ইংরেজ শাসনে কৃষক-শ্রমিক চরমভাবে শোষিত। তাই প্রকৃত জাতীয়তাবাদ মানে এই দরিদ্র মানুষের উন্নতি। তিনি ‘দরিদ্র নারায়ণ’ সেবার কথা বলেন – দরিদ্র মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর আছেন। তিনি বলেন, “খালি পেটে ধর্ম হয় না।” আগে মানুষকে খাবার, শিক্ষা, কাজ দিতে হবে, তারপর ধর্ম।
iii. শক্তির সাধনা ও আত্মবিশ্বাস: বিবেকানন্দ বলেন, জাতীয়তাবাদ মানে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়, এটি আত্মশক্তির জাগরণ। ভারতীয়রা হীনমন্যতায় ভোগে, তারা মনে করে তারা দুর্বল। তিনি বলেন – “নিজের পায়ে দাঁড়াও, শক্ত হও, বীর্যবান হও।” তিনি বেদান্তের অভীঃ মন্ত্র শোনান – “উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান নিবোধত” – ওঠো, জাগো, লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না। তিনি শক্তির উপাসনা, ফুটবল খেলার কথা বলেন, গীতা পাঠের চেয়ে ফুটবল খেলা বেশি দরকার।
iv. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমন্বয়: তিনি বলেন, নতুন ভারত গড়তে হলে পাশ্চাত্যের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংগঠন ক্ষমতা এবং প্রাচ্যের আধ্যাত্মিকতা, ত্যাগ, সহিষ্ণুতার মিলন ঘটাতে হবে। শুধু পাশ্চাত্য অনুকরণ বা শুধু প্রাচীন আঁকড়ে থাকলে চলবে না।
v. বাঙালি মধ্যবিত্তের সমালোচনা: তিনি তৎকালীন বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্তকে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তারা শুধু বক্তৃতা দেয়, বই লেখে, কিন্তু কাজ করে না। তারা গরিবদের ঘৃণা করে। তিনি বলেন, “এরা দেশের জন্য কিছু করবে না।”

গুরুত্ব: ‘বর্তমান ভারত’ বইটি অরবিন্দ ঘোষ, বাঘা যতীন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো চরমপন্থী ও বিপ্লবী নেতাদের প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল। নেতাজি বলেছিলেন, বিবেকানন্দ না থাকলে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে আসতেন না। এই গ্রন্থে প্রথমবার ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ থেকে বেরিয়ে এসে শ্রমজীবী মানুষের, গণ জাতীয়তাবাদের কথা বলা হয়, যা গান্ধীজীর গণ আন্দোলনের পূর্বসূরি।

Madhyamik History Model Answers-2

5.2 ভারতে কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস আলোচনা করো – বরদৌলি, একা, তেভাগা।
উত্তর: ব্রিটিশ শাসনে জমিদারি প্রথা, অতিরিক্ত খাজনা, বেগার শ্রম ও মহাজনি শোষণের বিরুদ্ধে ভারতের কৃষকরা বারবার বিদ্রোহ করেছে। 1920-47 সালের কৃষক আন্দোলন জাতীয় আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।

ক) একা আন্দোলন (1921-22):
পটভূমি ও কারণ: উত্তরপ্রদেশের হারদোই, বাহরাইচ, সীতাপুর, বারাবাঁকি জেলায় জমিদাররা কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনার পাশাপাশি ‘বেগার’ (বিনা মজুরিতে কাজ), ‘হরি’ ও ‘বেদখল’ এর মতো বেআইনি কর আদায় করত।
নেতৃত্ব ও ঘটনা: 1921 সালের শেষে মাদারি পাশি নামে এক নিম্নবর্ণের কৃষক নেতার নেতৃত্বে কৃষকরা সংগঠিত হয়। তারা শপথ নেয় – জমিদারকে অতিরিক্ত খাজনা দেবে না, বেগার করবে না। প্রথমে এটি ছিল অহিংস আন্দোলন এবং কংগ্রেস ও খিলাফত নেতারা একে সমর্থন করে। কিন্তু পরে জমিদারদের দমননীতিতে আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। কৃষকরা লাঠি হাতে জমিদারদের আক্রমণ করে। ব্রিটিশ সরকার কঠোরভাবে দমন করে। কংগ্রেস এই হিংসাত্মক রূপ দেখে সমর্থন প্রত্যাহার করে এবং আন্দোলন ব্যর্থ হয়। এটি ছিল উত্তর ভারতের প্রথম সংগঠিত কৃষক আন্দোলন।

খ) বারদৌলি সত্যাগ্রহ (1928):
পটভূমি: গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি তালুক ছিল উর্বর তুলা চাষের এলাকা। 1928 সালে সরকার হঠাৎ খাজনা 22% বাড়িয়ে দেয়, যদিও তুলার দাম কমছিল। কৃষকরা এই বৃদ্ধির প্রতিবাদ করে।
নেতৃত্ব ও কর্মসূচি: কৃষকরা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। প্যাটেল গান্ধীবাদী পদ্ধতিতে সত্যাগ্রহ শুরু করেন। কৃষকরা শপথ নেয় – বর্ধিত খাজনা দেবে না। সরকার তাদের জমি বাজেয়াপ্ত করে, গরু-মহিষ কেড়ে নেয়, কিন্তু কৃষকরা অটল থাকে। মহিলারা, বিশেষ করে মনিবেন প্যাটেল ও মিঠুবেন প্যাটিট, আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তারা খাদি পরে, চরকা কাটে এবং সরকারি কর্মচারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করে।
ফলাফল: সারা ভারতে বারদৌলির পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে। ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে ব্রুমফিল্ড কমিশন বসায় এবং কমিশন খাজনা বৃদ্ধিকে অন্যায্য বলে এবং খাজনা 6% এ নামিয়ে আনে। এই সাফল্যের পর মহাত্মা গান্ধী বল্লভভাইকে ‘সর্দার’ উপাধি দেন। এটি ছিল গান্ধীবাদী পদ্ধতিতে কৃষক আন্দোলনের সবচেয়ে সফল উদাহরণ এবং পরবর্তী আইন অমান্য আন্দোলনের অনুপ্রেরণা।

গ) তেভাগা আন্দোলন (1946-47):
পটভূমি: বাংলার বর্গাদার প্রথায় বর্গাদাররা জমিতে চাষ করত, কিন্তু ফসলের অর্ধেক (আধি) জোতদারকে দিতে হত। 1940 সালে ফ্লাউড কমিশন সুপারিশ করে বর্গাদারদের ফসলের 2/3 ভাগ (তেভাগা) দেওয়া উচিত। কিন্তু জোতদাররা তা মানতে চায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও 1943 সালের দুর্ভিক্ষে কৃষকদের অবস্থা আরও খারাপ হয়।
নেতৃত্ব ও ঘটনা: 1946 সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কিষাণ সভা (কমিউনিস্ট পার্টির কৃষক সংগঠন) উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, ময়মনসিংহে তেভাগা আন্দোলন শুরু করে। দাবি ছিল – ফসল জোতদারের খামারে নয়, কৃষকের খামারে তুলতে হবে এবং কৃষক 2/3 ভাগ পাবে। নেতৃত্বে ছিলেন ইলা মিত্র, রামেন মিত্র, গুরুদাস তালুকদার, হাজী মোহাম্মদ দানেশ। নারীরা ধান কাটার সময় লাঠি হাতে পাহারা দিত।
দমন ও ফল: জমিদার ও পুলিশ বাহিনী নির্মমভাবে দমন করে – বহু কৃষক নিহত হয়। ইলা মিত্রকে গ্রেপ্তার করে অকথ্য নির্যাতন করা হয়। 1947 সালে দেশভাগের কারণে আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু এর চাপে 1950 সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘বর্গাদারি আইন’ পাশ করে বর্গাদারদের কিছু অধিকার দেয়, যা পরে 1978 সালে বামফ্রন্ট সরকারের ‘অপারেশন বর্গা’র ভিত্তি হয়।

উপসংহার: একা, বারদৌলি ও তেভাগা – তিনটি আন্দোলনই প্রমাণ করে কৃষকরা শুধু অর্থনৈতিক দাবিতে নয়, ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয় আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ছিল এবং তাদের মধ্যে শ্রেণী চেতনা জাগ্রত হয়েছিল।

5.3 স্বাধীন ভারতের প্রথম তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য ও সাফল্য আলোচনা করো।
উত্তর: স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সোভিয়েত রাশিয়ার অনুকরণে পরিকল্পিত অর্থনীতি গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা ছাড়া দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়। 1950 সালের 15 মার্চ নেহেরুর সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশন গঠিত হয়, যার প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ।

i. প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (1951-1956):
লক্ষ্য: এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল কৃষি ও সেচের উন্নতি, কারণ দেশভাগের পর খাদ্য সংকট ছিল তীব্র। হ্যারড-ডোমার মডেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি।
কর্মসূচি: কৃষি, সেচ ও বিদ্যুৎকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভাকরা-নাঙ্গাল (পাঞ্জাব), দামোদর উপত্যকা (বাংলা-বিহার), হিরাকুদ (ওড়িশা) এর মতো বহুমুখী নদী পরিকল্পনা ও বড় বাঁধ তৈরি শুরু হয়, যাকে নেহেরু ‘আধুনিক ভারতের মন্দির’ বলতেন। জমিদারি উচ্ছেদ ও সমবায় চাষে জোর দেওয়া হয়।
সাফল্য ও ব্যর্থতা: এটি অত্যন্ত সফল পরিকল্পনা ছিল। খাদ্য উৎপাদন 13% বৃদ্ধি পায়, জাতীয় আয় 3.6% হারে বাড়ে, যা লক্ষ্যমাত্রা (2.1%) এর চেয়ে বেশি। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে শিল্পের বিকাশ তেমন হয়নি।

ii. দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (1956-1961):
লক্ষ্য: এর লক্ষ্য ছিল দ্রুত শিল্পায়ন ও সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের সমাজ গঠন। এই পরিকল্পনা তৈরি করেন প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ। তাঁর মডেল অনুযায়ী ভারী শিল্পই অর্থনীতির ভিত্তি।
কর্মসূচি: ভারী ও মৌলিক শিল্প – ইস্পাত, যন্ত্রপাতি, রসায়ন শিল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই সময়ে তিনটি বিশাল ইস্পাত কারখানা গড়ে ওঠে – ভিলাই (সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্যে), দুর্গাপুর (ব্রিটেনের সাহায্যে) এবং রাউরকেলা (পশ্চিম জার্মানির সাহায্যে)। এছাড়া BHEL (ভোপাল), HAL (ব্যাঙ্গালোর), চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভের মতো ভারী কারখানা তৈরি হয়। 1956 সালের শিল্পনীতিতে মিশ্র অর্থনীতি গ্রহণ করা হয়।
সাফল্য ও ব্যর্থতা: এর ফলে ভারতে ভারী শিল্পের ভিত্তি তৈরি হয়, যা আজও ভারতের শিল্পের মেরুদণ্ড। কিন্তু কৃষিকে উপেক্ষা করার ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে এবং বিদেশি ঋণের বোঝা বাড়ে। জাতীয় আয় বৃদ্ধি হয় 4.1%, যা লক্ষ্যমাত্রা (4.5%) এর চেয়ে সামান্য কম।

iii. তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (1961-1966):
লক্ষ্য: এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল স্বনির্ভরতা অর্জন এবং কৃষি ও শিল্পে ভারসাম্য আনা। বলা হয় – কৃষিতে স্বনির্ভর হয়ে শিল্পে এগোতে হবে।
কর্মসূচি: কৃষি ও শিল্প উভয়কেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এই সময়ে ভারতকে দুটি বড় সংকটের মুখে পড়তে হয়।
ব্যর্থতার কারণ: 1962 সালে চীন-ভারত যুদ্ধ এবং 1965 সালে পাক-ভারত যুদ্ধে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। 1965 ও 1966 সালে পরপর দুবার ভয়াবহ খরা হয়, ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে যায় এবং তীব্র খাদ্য সংকট, মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। আমেরিকা PL-480 এর অধীনে খাদ্য সাহায্য বন্ধ করার হুমকি দেয়। জাতীয় আয় বৃদ্ধি হয় মাত্র 2.8%, যা লক্ষ্যমাত্রা (5.6%) এর চেয়ে অনেক কম।
এর ফলে তৃতীয় পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং 1966-69 সাল পর্যন্ত তিন বছর পরিকল্পনা ছুটি (Plan Holiday) ঘোষণা করা হয়। এই সময়েই সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়।

উপসংহার: প্রথম তিনটি পরিকল্পনা ভারতের মিশ্র অর্থনীতি, ভারী শিল্পের ভিত্তি, বড় বাঁধ, IIT, ISRO, BARC-এর মতো প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি গড়ে দেয় এবং ভারতকে স্বনির্ভরতার পথে নিয়ে যায়, যদিও দারিদ্র্য ও বেকারত্ব পুরোপুরি দূর করতে পারেনি।   ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading