Madhyamik History Model Answers-3/2
Madhyamik History Model Answers-3
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ইতিহাস বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ইতিহাস) (Madhyamik History Model Answers-3) (উত্তরসহ)।নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে বিভাগ – ক: 20 নম্বরের 20টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), বিভাগ – খ: 16 নম্বরের 16টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (1 নম্বরের), বিভাগ – গ: 22 নম্বরের 11টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (2 নম্বরের) এবং বিভাগ – ঘ: 24 নম্বরের 6টি বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (4 নম্বরের) ও বিভাগ – ঙ: 8 নম্বরের 1টি ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (8 নম্বরের) সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান।। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik History Model Answers-3

ইতিহাস(History)
(Part- 2)
বিভাগ – ঘ: বিশ্লেষণধর্মী
4.1 উনিশ শতকে বাংলায় নারী শিক্ষা বিস্তারে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: উনিশ শতকে বাংলায় নারী শিক্ষা বিস্তার ছিল নবজাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মধ্যযুগে পর্দা প্রথা ও কুসংস্কারের কারণে নারী শিক্ষা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
i. বেথুন স্কুল: এই ক্ষেত্রে প্রথম যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন। রাধাকান্ত দেব সহ উদারমনা ব্যক্তিদের সাহায্যে তিনি 1849 সালের 7ই মে কলকাতায় ‘হিন্দু ফিমেল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে বেথুন স্কুল নামে পরিচিত হয়। এটি ছিল ভারতের প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ বালিকা বিদ্যালয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই স্কুলের সম্পাদক ছিলেন।
ii. বিদ্যাসাগরের অবদান: বিদ্যাসাগর নারী শিক্ষার জন্য 1857-58 সালে দক্ষিণবঙ্গে প্রায় 35টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তিনি তাঁর ‘বর্ণপরিচয়’ বইটি নারীদের উপযোগী করে লেখেন।
iii. ব্রাহ্মসমাজ ও অন্যান্য উদ্যোগ: ব্রাহ্মসমাজ, ব্রাহ্মিকা সমাজ, ‘বামাবোধিনী পত্রিকা’ নারী শিক্ষার পক্ষে জনমত গড়ে তোলে।
iv. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: মুসলিম নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রদূত ছিলেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তিনি 1911 সালে কলকাতায় ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন।
v. উচ্চ শিক্ষা: 1917 সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। এর ফলে নারী সমাজে জাগরণ শুরু হয় এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীরা অংশগ্রহণ করে।
4.2 টীকা লেখো: ফরাজী আন্দোলন।
উত্তর: উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় ইসলামী সংস্কার ও কৃষক আন্দোলনের মিলিত রূপ হল ফরাজী আন্দোলন।
i. সূচনা: 1818 সালে ফরিদপুর জেলার বাহাদুরপুর গ্রামে হাজী শরীয়তউল্লাহ (1781-1840) এই আন্দোলনের সূচনা করেন। হজ থেকে ফিরে তিনি দেখেন বাংলার মুসলমানরা অনেক অনৈসলামিক কুসংস্কারে লিপ্ত। তাই তিনি ইসলামের ‘ফরজ’ বা অবশ্য পালনীয় কর্তব্যগুলি কঠোরভাবে পালনের ডাক দেন। এই থেকেই এর নাম ফরাজী আন্দোলন।
ii. দুদু মিঞার নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলন: শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মুহসীনউদ্দিন আহমেদ, যিনি দুদু মিঞা (1819-1862) নামে পরিচিত, এই আন্দোলনকে একটি শক্তিশালী কৃষক আন্দোলনে পরিণত করেন। তিনি পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ অঞ্চলের দরিদ্র কৃষকদের সংগঠিত করেন।
iii. প্রকৃতি: দুদু মিঞা জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা, পঞ্চায়েত গঠন করেন এবং খাজনা না দেওয়ার ডাক দেন।
প্রথমদিকে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হলেও, পরবর্তীতে এটি ব্রিটিশ বিরোধী কৃষক সংগ্রামের রূপ নেয়। ব্রিটিশ সরকার কঠোরভাবে এই আন্দোলন দমন করে।
4.3 বাংলায় ছাপাখানার বিকাশের ইতিহাস লেখো।
উত্তর: বাংলায় ছাপাখানার ইতিহাস আধুনিক শিক্ষা ও নবজাগরণের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
i. প্রাথমিক পর্ব: 1778 সালে চার্লস উইলকিন্স ইংরেজ কর্মচারী পঞ্চানন কর্মকারকে দিয়ে প্রথম বাংলা হরফ তৈরি করান। এই হরফে ন্যাথানিয়েল হ্যালহেডের ‘এ গ্রামার অফ দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ ছাপা হয়।
ii. শ্রীরামপুর মিশন প্রেস: 1800 সালে উইলিয়াম কেরি ও মার্শম্যান শ্রীরামপুরে ‘শ্রীরামপুর মিশন প্রেস’ স্থাপন করেন। এখান থেকে বাইবেলের বাংলা অনুবাদ, ‘দিগদর্শন’, ‘সমাচার দর্পণ’ (1818) পত্রিকা ছাপা হয়। এটি বাংলা গদ্যের বিকাশে বিরাট ভূমিকা নেয়।
iii. বাঙালির নিজস্ব ছাপাখানা: 1818 সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য প্রথম বাঙালি হিসাবে ‘ফেরিস অ্যান্ড কোম্পানি’ নামে ছাপাখানা স্থাপন করেন এবং প্রথম বাংলা সংবাদপত্র ‘বাঙ্গাল গেজেট’ প্রকাশ করেন। তাঁকে বাংলা মুদ্রণের জনক বলা হয়।
iv. উন্নত পর্ব: উনিশ শতকের শেষ দিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নিজের ছাপাখানা স্থাপন করেন। বিংশ শতকের শুরুতে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ‘ইউ রায় অ্যান্ড সন্স’ প্রেসে হাফটোন ও রঙিন ছাপার বিপ্লব আনেন এবং ‘সন্দেশ’ পত্রিকা প্রকাশ করেন।
ছাপাখানা বইকে সস্তা ও সহজলভ্য করে শিক্ষা বিস্তার ও নবজাগরণকে ত্বরান্বিত করে।
4.4 জাতীয়তাবাদ প্রচারে ‘আনন্দমঠ’ ও ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: উনিশ শতকের শেষ দিকে জাতীয়তাবাদ প্রচারে দুটি গ্রন্থ অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিল।
ক) আনন্দমঠ (1882): বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই উপন্যাসটি লেখেন ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (1770) ও সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে।
এই উপন্যাসে তিনি দেশকে ‘ভারতমাতা’ রূপে কল্পনা করেন এবং ‘বন্দেমাতরম’ মন্ত্রটি রচনা করেন। সন্তান দলের দেশের জন্য আত্মত্যাগ, শৃঙ্খলা ও সংগঠন চরমপন্থী ও বিপ্লবী যুবকদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। অরবিন্দ ঘোষ, বিপ্লবীরা এই মন্ত্রকে তাদের প্রেরণা হিসাবে গ্রহণ করেন। এটি ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়।
খ) বর্তমান ভারত (1899): স্বামী বিবেকানন্দের লেখা এই প্রবন্ধ গ্রন্থটি জাতীয়তাবাদের ধারণাকে আরও গণমুখী করে।
এতে তিনি বলেন, দরিদ্র, অশিক্ষিত, মুচি-মেথর-কৃষকই হল ভারতের প্রাণ। ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই ‘শূদ্র জাগরণ’-এর উপর। তিনি যুব সমাজকে আহ্বান জানান – “খালি পেটে ধর্ম হয় না”, আগে মানুষের অন্ন, শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
দুটি গ্রন্থই ভারতীয়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে, একটি ধর্মীয় আবেগে এবং অন্যটি মানবতাবাদী গণচেতনায়।
Madhyamik History Model Answers-3
4.5 ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রকৃতি ও গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: 1942 সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলন ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ ও সর্ববৃহৎ গণ আন্দোলন।
প্রেক্ষাপট ও প্রকৃতি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার ভারতকে যুদ্ধে জড়িয়ে দিলে এবং ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হলে 1942 সালের 8ই আগস্ট বোম্বেতে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটি ‘ভারত ছাড়ো’ প্রস্তাব গ্রহণ করে। গান্ধীজী ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ (Do or Die) মন্ত্র দেন। 9ই আগস্ট ভোরে গান্ধীজী সহ সমস্ত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই আন্দোলনের প্রকৃতি ছিল নেতৃত্বহীন, স্বতঃস্ফূর্ত গণ আন্দোলন। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী সকলেই নিজের উদ্যোগে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তমলুকে (মেদিনীপুর) জাতীয় সরকার, বালিয়ায় সমান্তরাল সরকার গঠিত হয়। উষা মেহতা গোপন কংগ্রেস বেতার কেন্দ্র চালান।
গুরুত্ব:
i. এই আন্দোলন প্রমাণ করে দেয় ব্রিটিশ শাসন আর টিকে থাকতে পারবে না।
ii. হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ অংশ নিলেও মুসলিম লীগ এই আন্দোলন থেকে দূরে ছিল।
iii. নারী ও ছাত্র সমাজের রাজনৈতিক জাগরণ ঘটে।
iv. এই আন্দোলনের পরেই ব্রিটিশরা ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
4.6 স্বাধীনতার পর ভারতে দলিত আন্দোলনের বিকাশ লেখো।
উত্তর: স্বাধীনতার পর ভারতের সংবিধানে ড. বি. আর. আম্বেদকরের উদ্যোগে তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ এবং অস্পৃশ্যতা নিষিদ্ধ করা হয় (1950)।
i. ধর্মান্তর আন্দোলন: জাতিভেদ থেকে মুক্তির জন্য আম্বেদকর 1956 সালে নাগপুরে প্রায় 5 লক্ষ অনুগামী নিয়ে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। এটি দলিতদের মধ্যে আত্মসম্মানের নতুন জাগরণ আনে।
ii. দলিত প্যান্থার: 1972 সালে মহারাষ্ট্রে আমেরিকার ব্ল্যাক প্যান্থার আন্দোলনের অনুকরণে ‘দলিত প্যান্থার’ গঠিত হয়। রাজা ঢালে, নামদেও ঢসালের নেতৃত্বে তারা কালো চিতার মতো ক্ষিপ্রতার সাথে উচ্চবর্ণের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং দলিত সাহিত্যের জন্ম দেয়।
iii. বহুজন রাজনীতি: 1984 সালে কাঁশিরাম ‘বহুজন সমাজ পার্টি’ (BSP) গঠন করেন। তিনি বলেন, তপশিলি, আদিবাসী, পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ও সংখ্যালঘুরা হল ‘বহুজন’ (85%)। তাঁর শিষ্যা মায়াবতী উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসেন।
iv. বাংলায়: বাংলায় মতুয়া আন্দোলন নতুনভাবে সংগঠিত হয়।
এই আন্দোলনগুলির ফলে দলিত সাহিত্য, শিক্ষা ও রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।
4.7 দেশভাগের কারণগুলি কী ছিল? উদ্বাস্তু সমস্যা কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: 1947 সালে ভারত বিভাগ একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফল।
দেশভাগের কারণ:
i. ব্রিটিশ বিভাজন নীতি: ব্রিটিশরা শুরু থেকেই ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতি নেয়।
ii. দ্বিজাতি তত্ত্ব: মহম্মদ আলি জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ প্রচার করে হিন্দু ও মুসলিম দুটি আলাদা জাতি, তাই তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রয়োজন। 1940 সালে লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তান দাবি করা হয়।
iii. কংগ্রেস-লীগ বিরোধ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা: 1946 সালে কলকাতায় ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ এবং নোয়াখালী দাঙ্গা দেশভাগকে অনিবার্য করে তোলে।
iv. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা: ব্রিটিশ সরকার তাড়াহুড়ো করে 1947 সালের 3রা জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর ও দেশভাগ ঘোষণা করে।
উদ্বাস্তু সমস্যা সৃষ্টি: দেশভাগের সাথে সাথেই ধর্মের ভিত্তিতে জনবিনিময় শুরু হয়। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে হিন্দু-শিখ এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ বাঙালি হিন্দু ভারতে চলে আসে। পাঞ্জাবে এই বিনিময় দ্রুত হলেও বাংলায় 1971 সাল পর্যন্ত উদ্বাস্তু আগমন চলতে থাকে। প্রায় 50 লক্ষ উদ্বাস্তুর আগমনে পশ্চিমবঙ্গে খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট, জবরদখল কলোনি ও বস্তি সমস্যার সৃষ্টি হয়।
4.8 স্বাধীনতার পর ভারতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে জওহরলাল নেহেরুর ভূমিকা লেখো।
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে ‘আধুনিক ভারতের স্থপতি’ বলা হয়, কারণ তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকেই দেশের উন্নতির মূল চাবিকাঠি মনে করতেন। তিনি বড় বাঁধ, কারখানাকে ‘আধুনিক ভারতের তীর্থক্ষেত্র’ বলতেন।
i. পরমাণু শক্তি: 1948 সালে তিনি বিজ্ঞানী হোমি জে. ভাবার নেতৃত্বে ‘পরমাণু শক্তি কমিশন’ গঠন করেন। 1954 সালে ট্রম্বেতে (বর্তমানে ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার) প্রথম পারমাণবিক চুল্লি ‘অপ্সরা’ চালু হয়।
ii. কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণা: তাঁর উদ্যোগে 1951 সালে খড়গপুরে প্রথম IIT স্থাপিত হয়, পরে বোম্বে, মাদ্রাজ, কানপুর, দিল্লিতে IIT গড়ে ওঠে। CSIR-কে সম্প্রসারিত করা হয়, 1958 সালে প্রতিরক্ষা গবেষণার জন্য DRDO গঠিত হয়।
iii. মহাকাশ ও বিজ্ঞান নীতি: 1958 সালে তিনি প্রথম ‘বিজ্ঞান নীতি প্রস্তাব’ ঘোষণা করেন। বিক্রম সারাভাইয়ের নেতৃত্বে মহাকাশ গবেষণার ভিত্তি স্থাপিত হয়, যা পরে 1969 সালে ISRO-তে পরিণত হয়।
iv. অন্যান্য প্রতিষ্ঠান: প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (ISi., বসু বিজ্ঞান মন্দিরকে তিনি পূর্ণ সরকারি সাহায্য দেন।
নেহেরুর এই বিজ্ঞানমনস্ক পরিকল্পনার ফলেই ভারত পরবর্তীতে কৃষি, মহাকাশ ও প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হতে পেরেছে।
Madhyamik History Model Answers-3
বিভাগ – ঙ: ব্যাখ্যামূলক
5.1 উনিশ শতকে বাংলায় সমাজ সংস্কার আন্দোলনে ব্রাহ্মসমাজ ও প্রার্থনা সমাজের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: উনিশ শতকে ভারতের সমাজ সংস্কার আন্দোলনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন ছিল – বাংলায় ব্রাহ্মসমাজ ও মহারাষ্ট্রে প্রার্থনা সমাজ। প্রার্থনা সমাজ ছিল ব্রাহ্মসমাজের আদর্শে অনুপ্রাণিত, তাই দুটিকেই একসাথে আলোচনা করা হয়।
ক) ব্রাহ্মসমাজের ভূমিকা (1828):
প্রতিষ্ঠা: 1828 সালের 20 আগস্ট রাজা রামমোহন রায় ‘ব্রাহ্মসভা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা 1830 সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে ‘ব্রাহ্মসমাজ’ নামে পরিচিত হয়। পরে কেশবচন্দ্র সেন (1840-1884) ও শিবনাথ শাস্ত্রী একে সর্বভারতীয় রূপ দেন।
সমাজ সংস্কারে ভূমিকা:
i. ধর্মীয় সংস্কার: ব্রাহ্মসমাজের মূল ভিত্তি ছিল একেশ্বরবাদ ও উপনিষদের ব্রহ্মতত্ত্ব। তারা বহু-ঈশ্বরবাদ, পৌত্তলিকতা, অবতারবাদ, জাতিভেদ, কুসংস্কারের তীব্র বিরোধিতা করে। তারা প্রচার করে – ঈশ্বর এক ও নিরাকার, সকল মানুষ সমান, বেদ-উপনিষদই প্রকৃত ধর্মগ্রন্থ। রামমোহন ‘তুহফাত-উল-মুয়াহহিদিন’ গ্রন্থে একেশ্বরবাদ প্রচার করেন।
ii. সামাজিক সংস্কার: এটি ছিল ব্রাহ্মসমাজের প্রধান কাজ।
– সতীদাহ নিবারণ: রামমোহন রায়ের উদ্যোগে 1829 সালে লর্ড বেন্টিঙ্ক সতীদাহ নিষিদ্ধ আইন পাশ করেন।
– বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও জাতিভেদ বিরোধিতা: ব্রাহ্মরা বাল্যবিবাহ, কুলীনদের বহুবিবাহ, জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে।
– বিধবা বিবাহ ও আন্তঃজাতি বিবাহ: ব্রাহ্মরা বিধবা বিবাহ ও আন্তঃজাতি বিবাহকে সমর্থন করে। 1872 সালে কেশবচন্দ্র সেনের উদ্যোগে ‘সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট’ বা ‘ব্রাহ্ম বিবাহ আইন’ পাশ হয়, যাতে বিধবা বিবাহ ও আন্তঃজাতি বিবাহ বৈধ হয়। কেশব নিজে বিধবা বিবাহ দেন।
– নারী শিক্ষা: ব্রাহ্মসমাজ নারী শিক্ষার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল। তারা বেথুন স্কুলকে (1849) সাহায্য করে, নিজেরা ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করে এবং পর্দা প্রথার বিরোধিতা করে নারীদের বাইরের জগতে আনে।
iii. বুদ্ধিজীবী চেতনা: ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’ (1843), ‘ইন্ডিয়ান মিরর’ পত্রিকার মাধ্যমে তারা যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ ও বিজ্ঞানমনস্কতা প্রচার করে, যা পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদের ভিত্তি তৈরি করে।
খ) প্রার্থনা সমাজের ভূমিকা (1867):
প্রতিষ্ঠা: ব্রাহ্মসমাজের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে 1867 সালের 31 মার্চ মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ, মহাদেব গোবিন্দ রানাডে, রামকৃষ্ণ গোপাল ভাণ্ডারকর প্রার্থনা সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। কেশবচন্দ্র সেন বোম্বে গিয়ে তাদের অনুপ্রাণিত করেন।
সমাজ সংস্কারে ভূমিকা:
i. মহারাষ্ট্র ছিল অত্যন্ত রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজ। প্রার্থনা সমাজ সেখানে একেশ্বরবাদ, জাতিভেদ, বাল্যবিবাহ, পর্দা প্রথার বিরোধিতা করে।
ii. তারা বিধবা বিবাহ, নারী শিক্ষা, আন্তঃজাতি বিবাহ ও আন্তঃজাতি ভোজনের পক্ষে আন্দোলন করে।
iii. ব্যবহারিক কাজ হিসাবে তারা রাত্রি পাঠশালা (শ্রমিকদের জন্য), অনাথ আশ্রম, বিধবা আশ্রম, দলিতদের জন্য স্কুল স্থাপন করে। রানাডে ‘ডেকান এডুকেশন সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন।
iv) রানাডে ‘বিধবা বিবাহ সমিতি’ গঠন করেন এবং বিধবা বিবাহকে জনপ্রিয় করেন।
তুলনা ও সীমাবদ্ধতা: ব্রাহ্মসমাজ ও প্রার্থনা সমাজ – দুটিই হিন্দু সমাজে যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ ও সংস্কার আনে এবং জাতীয়তাবাদের বৌদ্ধিক ভিত্তি তৈরি করে। দুটিই শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মধ্যে সীমিত ছিল, গ্রামীণ কৃষক বা নিম্নবর্ণের মধ্যে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবুও উনিশ শতকের নবজাগরণে এই দুটি সমাজের ভূমিকা অপরিসীম।
Madhyamik History Model Answers-3
5.2 বাংলায় কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস আলোচনা করো – রংপুর, নীল, তেভাগা।
উত্তর: ব্রিটিশ শাসনে বাংলার কৃষকরা ছিল সবচেয়ে শোষিত শ্রেণি। জমিদারি প্রথা, ইজারাদারি, নীলকর ও মহাজনি শোষণের বিরুদ্ধে বাংলায় তিনটি যুগান্তকারী কৃষক আন্দোলন হয় – রংপুর, নীল ও তেভাগা।
i. রংপুর বিদ্রোহ (1783):
পটভূমি: এটি কোম্পানি আমলে বাংলার প্রথম কৃষক বিদ্রোহ। 1773 সালে ওয়ারেন হেস্টিংস জমিদারি নিলামে ইজারা দেওয়ার প্রথা চালু করেন। রংপুরের ইজারাদার ছিলেন দেবী সিংহ। তিনি কৃষকদের উপর অত্যন্ত বেশি কর চাপান এবং ‘দেবী সিংহের অত্যাচার’ ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে আছে।
ঘটনা: 1783 সালের জানুয়ারিতে রংপুরের কৃষকরা নুরুলউদ্দিনের নেতৃত্বে বিদ্রোহ করে। নুরুলউদ্দিন নিজেকে ‘নবাব’ বলে ঘোষণা করেন এবং তার সহকারী দয়াশীল কৃষকদের সংগঠিত করেন। কৃষকরা লাঠি, তীর-ধনুক নিয়ে জমিদারের কাছারি ও কোম্পানির অফিস আক্রমণ করে। তারা ইংরেজ কালেক্টরকে বন্দি করে। ব্রিটিশ সেনা কামান দিয়ে এই বিদ্রোহ দমন করে এবং নুরুলউদ্দিন নিহত হন। এটি ছিল কোম্পানির বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকদের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।
ii. নীল বিদ্রোহ (1859-60):
পটভূমি: এটি ছিল বাংলার প্রথম সফল কৃষক আন্দোলন। নীলকর সাহেবরা কৃষকদের ‘দাদন’ দিয়ে মাত্র 2 টাকা বিঘা দরে নীল চাষে বাধ্য করত। নীল চাষে জমির উর্বরতা নষ্ট হত। চাষে অস্বীকার করলে মারধর, জেল, নারী নির্যাতন করা হত। 1859 সালে সরকার ঘোষণা করে নীল চাষ ঐচ্ছিক।
ঘটনা ও নেতৃত্ব: 1859 সালের সেপ্টেম্বরে নদীয়া জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণু বিশ্বাসের নেতৃত্বে কৃষকরা ঘোষণা করে – “নীল চাষ করব না”। তারা লাঠি হাতে নীলকুঠি আক্রমণ করে। দ্রুত এই বিদ্রোহ নদীয়া, পাবনা, খুলনা, মুর্শিদাবাদে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রকৃতি ও গুরুত্ব: এটি ছিল হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত – হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকায়, দীনবন্ধু মিত্র ‘নীলদর্পণ’ নাটকে এই আন্দোলনকে সমর্থন করেন। সরকার 1860 সালে নীল কমিশন বসাতে বাধ্য হয় এবং নীল চাষ ঐচ্ছিক ঘোষণা করে। বাংলায় নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়।
iii. তেভাগা আন্দোলন (1946-47):
পটভূমি: বাংলার বর্গাদার প্রথায় বর্গাদাররা জমিতে চাষ করত, কিন্তু ফসলের অর্ধেক জোতদারকে দিতে হত। 1940 সালে ফ্লাউড কমিশন সুপারিশ করে বর্গাদারদের ফসলের 2/3 ভাগ (তেভাগা) দেওয়া উচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও 1943 সালের দুর্ভিক্ষে কৃষকদের অবস্থা আরও খারাপ হয়।
ঘটনা ও নেতৃত্ব: 1946 সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কিষাণ সভা (কমিউনিস্ট) উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, ময়মনসিংহে আন্দোলন শুরু করে। দাবি ছিল – ফসল জোতদারের খামারে নয়, কৃষকের খামারে তুলতে হবে এবং কৃষক 2/3 ভাগ পাবে। নেতৃত্বে ছিলেন ইলা মিত্র, রামেন মিত্র, গুরুদাস তালুকদার, হাজী দানেশ। নারীরা ধান কাটার সময় লাঠি হাতে পাহারা দিত। “তেভাগা চাই, খামারে ধান তোলো” ছিল মূল স্লোগান।
দমন ও ফল: জমিদার ও পুলিশ নির্মমভাবে দমন করে, বহু কৃষক নিহত হয়। ইলা মিত্রকে গ্রেপ্তার করে অকথ্য নির্যাতন করা হয়। দেশভাগের কারণে আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু এর চাপে 1950 সালে ‘বর্গাদারি আইন’ পাশ হয় এবং পরে 1978 সালে বামফ্রন্ট সরকারের ‘অপারেশন বর্গা’র ভিত্তি তৈরি হয়।
উপসংহার: রংপুর ছিল কোম্পানি আমলে প্রথম প্রতিরোধ, নীল ছিল সফল কৃষক-মধ্যবিত্ত ঐক্যের প্রতীক, আর তেভাগা ছিল স্বাধীনতার প্রাক্কালে শ্রেণী চেতনায় উদ্বুদ্ধ বৃহত্তম কৃষক আন্দোলন, যা স্বাধীন ভারতে ভূমি সংস্কারের পথ প্রশস্ত করে।
5.3 1947-1964 পর্যন্ত ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিকল্পনা কমিশন ও পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ভূমিকা লেখো।
উত্তর: স্বাধীনতার সময় ভারত ছিল দরিদ্র, খাদ্য ঘাটতি ও শিল্পহীন দেশ। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু পরিকল্পিত মিশ্র অর্থনীতি গ্রহণ করেন।
পরিকল্পনা কমিশন গঠন: 1950 সালের 15 মার্চ নেহেরুর সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশন গঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ। এর উদ্দেশ্য ছিল – দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বনির্ভরতা, সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের সমাজ গঠন, আয় বৈষম্য কমানো এবং মিশ্র অর্থনীতি (সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান)।
প্রথম তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ভূমিকা:
i. প্রথম পরিকল্পনা (1951-56) – কৃষি ভিত্তিক:
লক্ষ্য: খাদ্য সংকট মেটাতে কৃষি, সেচ ও বিদ্যুৎকে গুরুত্ব দেওয়া। হ্যারড-ডোমার মডেল অনুসরণ।
কাজ: ভাকরা-নাঙ্গাল (পাঞ্জাব), দামোদর উপত্যকা (বাংলা-বিহার), হিরাকুদ (ওড়িশা), তুঙ্গভদ্রার মতো বহুমুখী নদী পরিকল্পনা ও বড় বাঁধ তৈরি শুরু হয়। জমিদারি উচ্ছেদ, সমবায় গঠন ও ICAR-এর মাধ্যমে কৃষি গবেষণা শুরু হয়।
সাফল্য: অত্যন্ত সফল। খাদ্য উৎপাদন 13% বৃদ্ধি পায়, জাতীয় আয় 3.6% হারে বাড়ে (লক্ষ্য ছিল 2.1%)। ভারত খাদ্যে অনেকটা স্বনির্ভর হয়। নেহেরু বড় বাঁধগুলিকে ‘আধুনিক ভারতের মন্দির’ বলেন।
ii. দ্বিতীয় পরিকল্পনা (1956-61) – শিল্প ভিত্তিক:
লক্ষ্য: দ্রুত শিল্পায়ন ও ভারী শিল্পের ভিত্তি তৈরি। এই পরিকল্পনা তৈরি করেন মহলানবিশ। তাঁর মতে, ভারী শিল্পই উন্নয়নের চাবিকাঠি।
কাজ: 1956 সালের শিল্পনীতিতে মিশ্র অর্থনীতি ঘোষণা। ভারী ও মৌলিক শিল্প সরকারের হাতে রাখা হয়। এই সময়ে তিনটি বিশাল ইস্পাত কারখানা গড়ে ওঠে – ভিলাই (সোভিয়েত সাহায্যে), দুর্গাপুর (ব্রিটেন), রাউরকেলা (পশ্চিম জার্মানি)। এছাড়া BHEL, HAL, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ, সিন্দ্রি সার কারখানা তৈরি হয়।
সাফল্য ও ব্যর্থতা: ভারতে ভারী শিল্পের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়, যা আজও শিল্পের মেরুদণ্ড। জাতীয় আয় 4.1% বাড়ে। কিন্তু কৃষিকে উপেক্ষা করার ফলে খাদ্য সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও বিদেশি ঋণের বোঝা বাড়ে।
iii. তৃতীয় পরিকল্পনা (1961-66) – স্বনির্ভরতার লক্ষ্য:
লক্ষ্য: স্বনির্ভরতা অর্জন এবং কৃষি ও শিল্পে ভারসাম্য আনা। খাদ্য ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই স্বনির্ভর হওয়া।
ব্যর্থতার কারণ: এই পরিকল্পনা ব্যাপক সংকটের মুখে পড়ে। 1962 সালে চীন-ভারত যুদ্ধ এবং 1965 সালে পাক-ভারত যুদ্ধে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। 1965 ও 1966 সালে পরপর দুবার ভয়াবহ খরা হয়, ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে যায়, তীব্র খাদ্য সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। আমেরিকা খাদ্য সাহায্য বন্ধ করার হুমকি দেয়।
ফল: জাতীয় আয় বৃদ্ধি হয় মাত্র 2.8%, লক্ষ্য ছিল 5.6%। এই ব্যর্থতার ফলে 1966-69 সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা ছুটি (Plan Holiday) ঘোষণা করা হয়। এই সংকট থেকেই 1960-এর দশকের শেষে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়।
সামগ্রিক ভূমিকা: 1947-64 পর্যন্ত পরিকল্পনা কমিশন ও পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ভারতকে একটি কৃষি নির্ভর দেশ থেকে একটি শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করার ভিত্তি গড়ে দেয়। বড় বাঁধ, ইস্পাত কারখানা, IIT (1951), UGC (1956), CSIR গবেষণাগার তৈরি হয়। ভারত স্বনির্ভরতার দিকে এগোয়, যদিও দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও আঞ্চলিক বৈষম্য পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.