NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik History Model Answers-4/2

Madhyamik History Model Answers-4

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ইতিহাস বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ইতিহাস) (Madhyamik History Model Answers-4) (উত্তরসহ)।নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে বিভাগ – ক: 20 নম্বরের 20টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), বিভাগ – খ: 16 নম্বরের 16টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (1 নম্বরের), বিভাগ – গ: 22 নম্বরের 11টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (2 নম্বরের) এবং বিভাগ – ঘ: 24 নম্বরের 6টি বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (4 নম্বরের) ও বিভাগ – ঙ: 8 নম্বরের 1টি ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (8 নম্বরের) সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান।। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik History Model Answers-4

Madhyamik History Model Answers
Madhyamik History Model Answers

ইতিহাস(History)

(Part- 2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: বিশ্লেষণধর্মী

4.1 উনিশ শতকে বাংলায় বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ আলোচনা করো।
উত্তর: উনিশ শতকে বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার হাত ধরে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার নতুন যুগ শুরু হয়, যদিও ব্রিটিশ সরকার এ বিষয়ে উদাসীন ছিল।
i. পাশ্চাত্য বিজ্ঞান শিক্ষার সূচনা: 1817 সালে প্রতিষ্ঠিত হিন্দু কলেজে প্রথম আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষা শুরু হয়। 1835 সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পাশ্চাত্য শিক্ষার দ্বার খোলে।
ii. কারিগরি শিক্ষার সূচনা: 1842 সালে শিবপুরে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমানে IIEST শিবপুর) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ছিল বাংলার প্রথম কারিগরি প্রতিষ্ঠান।
iii. জাতীয় উদ্যোগ: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের সময় 1906 সালে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হয়। তার অধীনে ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ স্থাপিত হয়, যা পরে 1928 সালে যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পরিণত হয়। উদ্দেশ্য ছিল স্বদেশি শিল্পের জন্য দেশীয় ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা।
iv. বিজ্ঞান গবেষণার কেন্দ্র: 1914 সালে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এবং তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষের দানে ‘রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বিজ্ঞান গবেষণার প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। 1917 সালে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন।
v. বিজ্ঞানীদের অবদান: এই সময়ে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীদের গবেষণা বাংলায় বিজ্ঞান চর্চাকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করে।

4.2 1857 বিদ্রোহের কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: 1857 সালের মহাবিদ্রোহ কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, এর পিছনে বহু বছর ধরে জমে থাকা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক কারণ ছিল।
i. রাজনৈতিক কারণ: লর্ড ডালহৌসির ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’র মাধ্যমে সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুরের মতো রাজ্য দখল এবং 1856 সালে অযোধ্যা দখল ভারতীয় রাজা-নবাবদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে। বাহাদুর শাহ জাফরকে লালকেল্লা থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনাও মুঘল অনুগতদের ক্ষুব্ধ করে।
ii. অর্থনৈতিক কারণ: ব্রিটিশদের অতিরিক্ত ভূমি রাজস্ব, জমিদারি নিলাম, দেশীয় কুটির শিল্প ধ্বংসের ফলে কৃষক, জমিদার, কারিগর সকলেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে।
iii. সামাজিক ও ধর্মীয় কারণ: সতীদাহ নিষিদ্ধ, বিধবা বিবাহ আইন, রেলগাড়ি, টেলিগ্রাফকে সাধারণ মানুষ ধর্ম নষ্টের যন্ত্র মনে করত। খ্রিস্টান মিশনারিদের ধর্ম প্রচার এবং সরকারের তাতে মদত দেওয়ায় হিন্দু-মুসলিম উভয়েই আশঙ্কিত হয়ে পড়ে।
iv. সামরিক কারণ: সিপাহীদের কম বেতন, পদোন্নতিতে বৈষম্য, সমুদ্র পাড়ি দিতে বাধ্য করা এবং বর্ণ বৈষম্য তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে।
v. প্রত্যক্ষ কারণ: এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি মেশানো আছে – এই গুজবই ছিল বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ। 1857 সালের 29 মার্চ ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডে এই কার্তুজ ব্যবহারে অস্বীকার করে বিদ্রোহ করেন।

4.3 নীল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তর: 1859-60 সালে বাংলায় সংঘটিত নীল বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসনে প্রথম সফল কৃষক আন্দোলন।

কারণ:
i. নীলকর সাহেবরা ‘দাদন’ নামে অগ্রিম টাকা দিয়ে কৃষকদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করত। চুক্তি অনুযায়ী অনেক কম দামে নীল বিক্রি করতে হত।
ii. নীল চাষে জমির উর্বরতা নষ্ট হত, ধান চাষ হত না, ফলে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হত।
iii. চাষে অস্বীকার করলে কৃষকদের উপর অকথ্য অত্যাচার, মারধর, জেল, জরিমানা করা হত।
এর বিরুদ্ধে 1859 সালের সেপ্টেম্বরে নদীয়ার গোবিন্দপুর গ্রামে দিগম্বর ও বিষ্ণু বিশ্বাসের নেতৃত্বে কৃষকরা নীল চাষ বন্ধ করে দেয়।

ফলাফল:
i. মধ্যবিত্তের সমর্থন: হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকায় এবং দীনবন্ধু মিত্র ‘নীলদর্পণ’ নাটকে নীলকরদের অত্যাচার তুলে ধরে জনমত গঠন করেন।
ii. নীল কমিশন: সরকার 1860 সালে নীল কমিশন বসাতে বাধ্য হয়। কমিশন জানায় নীল চাষ লাভজনক নয় এবং কৃষকদের জোর করা যাবে না।
iii. কৃষকদের জয়: এর ফলে বাংলায় নীল চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, নীলকররা বাংলা ছেড়ে বিহারে চলে যায়। এটি ছিল কৃষকদের প্রথম সংগঠিত জয়।

Madhyamik History Model Answers-4

4.4 উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদ বিকাশে বাংলা সাহিত্যের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্য জাতীয়তাবাদ বিকাশে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসাবে কাজ করেছিল।
i. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: তাঁর ‘আনন্দমঠ’ (1882) উপন্যাসে ‘বন্দেমাতরম’ মন্ত্র এবং দেশকে ‘মা’ রূপে কল্পনা চরমপন্থী ও বিপ্লবীদের প্রেরণা জুগিয়েছিল।
ii. দীনবন্ধু মিত্র: তাঁর ‘নীলদর্পণ’ (1860) নাটক ব্রিটিশ নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
iii. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: ‘গোরা’ উপন্যাসে সংকীর্ণ ও উদার জাতীয়তাবাদের দ্বন্দ্ব তুলে ধরেন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ‘আমার সোনার বাংলা’, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানগুলি জাতীয়তাবাদকে গণ-সংগীতে পরিণত করে।
iv. অন্যান্য সাহিত্যিক: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’-এ প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর ছিল। ‘ভারতী’, ‘বঙ্গদর্শন’, ‘সঞ্জীবনী’ পত্রিকা জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ছড়িয়ে দেয়।
v. লোকসাহিত্য: মুকুন্দ দাসের চারণ গান এবং পরবর্তীতে কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা যুব সমাজকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।
এইভাবে সাহিত্য সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম, স্বদেশ চেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব জাগিয়ে তোলে।

4.5 গান্ধীজীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনের বিবরণ দাও।
উত্তর: 1920 থেকে 1922 সাল পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলন ছিল ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় গণ আন্দোলন।
প্রেক্ষাপট: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড (1919) এবং খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতায় ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র ব্রিটিশ বিরোধী ক্ষোভ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে গান্ধীজী 1920 সালে অসহযোগের ডাক দেন।
কর্মসূচি:
i. না-সূচক: সরকারি স্কুল-কলেজ, আদালত, আইনসভা ও সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন। বিদেশি পণ্য, বিশেষ করে বিলাতি কাপড় বর্জন করে খাদি ও চরকা ব্যবহার।
ii. হ্যাঁ-সূচক: জাতীয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সালিশি আদালত গঠন, 1 কোটি টাকার তিলক স্বরাজ তহবিল গঠন, হিন্দু-মুসলিম ঐক্য এবং অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ।
গুরুত্ব ও পরিণতি: ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, নারী সকলেই এই আন্দোলনে যোগ দেয়। কংগ্রেস অভিজাতদের দল থেকে জনগণের দলে পরিণত হয়। কিন্তু 1922 সালের 5 ফেব্রুয়ারি চৌরিচৌরায় উত্তেজিত জনতা 22 জন পুলিশকে পুড়িয়ে মারলে গান্ধীজী অহিংসা নীতি ভঙ্গ হয়েছে বলে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। আন্দোলন সাময়িকভাবে ব্যর্থ হলেও, এটি ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামে জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করে দেয়।

4.6 বাংলায় নমঃশূদ্র আন্দোলন কীভাবে শুরু হয়? এর গুরুত্ব কী?
উত্তর: বাংলার দলিত সমাজের মধ্যে সবচেয়ে সংগঠিত আন্দোলন হল নমঃশূদ্র আন্দোলন।
সূচনা: পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর, যশোর, বরিশালে বসবাসকারী নমঃশূদ্ররা উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদের দ্বারা ‘অস্পৃশ্য’ ও শোষিত ছিল। তাদের মধ্যে আত্মসম্মান জাগাতে এগিয়ে আসেন হরিচাঁদ ঠাকুর (1812-1878)। ফরিদপুরের ওড়াকান্দিতে তিনি ‘মতুয়া’ ধর্মমত প্রচার করেন। তাঁর মূলমন্ত্র ছিল – ‘হাতে কাম, মুখে নাম’, অর্থাৎ কাজের মধ্যেই ধর্ম। তিনি জাতিভেদহীন সমাজ, হরিনাম, সৎ জীবন ও সকলের জন্য শিক্ষার কথা বলেন।
বিকাশ: তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর (1846-1937) এই আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। তিনি নমঃশূদ্রদের জন্য বহু স্কুল, পাঠশালা ও ছাত্রাবাস স্থাপন করেন এবং 1932 সালে ‘মতুয়া মহাসংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণের দাবি তোলেন।
গুরুত্ব: i. এই আন্দোলন নমঃশূদ্র সমাজে আত্মসম্মান ও শিক্ষার বিস্তার ঘটায়।
ii. এটি বাংলায় দলিত চেতনার ভিত্তি তৈরি করে এবং পরবর্তীতে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এই আন্দোলনকে আম্বেদকরের সর্বভারতীয় দলিত আন্দোলনের সাথে যুক্ত করেন।

4.7 স্বাধীনতার পর ভারতে দেশীয় রাজ্যগুলির অন্তর্ভুক্তিকরণ কীভাবে হয়?
উত্তর: 1947 সালে স্বাধীনতার সময় ভারতে 562টি দেশীয় রাজ্য ছিল। এই রাজ্যগুলিকে ভারতে যুক্ত করার গুরুদায়িত্ব নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং তাঁর সচিব ভি. পি. মেনন।
i. সহজ অন্তর্ভুক্তি: বেশিরভাগ রাজ্যই 1947 সালের 15ই আগস্টের মধ্যে ‘ভারতভুক্তির দলিলে’ (Instrument of Accession) সই করে ভারতে যোগ দেয়।
ii. জুনাগড়: জুনাগড়ের নবাব মুসলিম হলেও প্রজারা হিন্দু ছিল। নবাব পাকিস্তানে যোগ দিতে চাইলে জনবিদ্রোহ শুরু হয়। শেষে গণভোটের মাধ্যমে 1948 সালে জুনাগড় ভারতে যোগ দেয়।
iii. হায়দ্রাবাদ: হায়দ্রাবাদের নিজাম স্বাধীন থাকতে চান। তাঁর ব্যক্তিগত সেনা ‘রাজাকার বাহিনী’ হিন্দু প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করে। শেষে 1948 সালের 13-17 সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন পোলো’র মাধ্যমে হায়দ্রাবাদকে ভারতে যুক্ত করে।
iv. কাশ্মীর: কাশ্মীরের হিন্দু রাজা হরি সিং স্বাধীন থাকতে চান। 1947 সালের অক্টোবরে পাকিস্তানি হানাদাররা কাশ্মীর আক্রমণ করলে রাজা 26শে অক্টোবর ভারতভুক্তির দলিলে সই করেন। এরপর ভারত-পাক যুদ্ধ শুরু হয় এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি হয়।
প্যাটেলের কূটনীতি ও প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের নীতির ফলেই ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা পায়।

4.8 স্বাধীনতার পর ভারতে উদ্বাস্তু সমস্যার বিবরণ দাও।
উত্তর: 1947 সালে দেশভাগের ফলে প্রায় 1 কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, যা স্বাধীন ভারতের প্রথম বড় মানবিক সংকট।
সমস্যার স্বরূপ: পশ্চিম পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ শিখ ও হিন্দু এবং পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে প্রায় 50 লক্ষ বাঙালি হিন্দু শরণার্থী হিসাবে ভারতে আসে।
i. পাঞ্জাব বনাম বাংলা: পাঞ্জাবে সরকার দ্রুত জমি ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনর্বাসন করতে পারলেও বাংলায় সমস্যা অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়, কারণ পূর্ববঙ্গ থেকে উদ্বাস্তু আগমন 1971 সাল পর্যন্ত চলতে থাকে।
ii. সংকট: বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তুর আগমনে পশ্চিমবঙ্গে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চাকরির তীব্র সংকট দেখা দেয়। কলকাতার উপকণ্ঠে যাদবপুর, বিজয়গড়, নেতাজিনগর, বাঘাযতীন, উল্টোডাঙার মতো জবরদখল কলোনি এবং অসংখ্য বস্তি গড়ে ওঠে।
iii. সরকারি ব্যবস্থা: সরকার শিয়ালদহ, ধুবুলিয়া, বানপুরে ট্রানজিট ক্যাম্প খোলে, উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দপ্তর গঠন করে, ঋণ ও জমির পাট্টা দেয়। উদ্বাস্তুদের দণ্ডকারণ্য (মধ্যপ্রদেশ-ওড়িশা) ও আন্দামানে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু বাঙালি উদ্বাস্তুরা সেখানে যেতে চায়নি।
এই উদ্বাস্তুরা নিজেদের অদম্য পরিশ্রমে নতুন জীবন গড়ে তোলে এবং বাংলার অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।

Madhyamik History Model Answers-4

বিভাগ – ঙ: ব্যাখ্যামূলক

5.1 বাংলায় ছাপাখানার বিকাশ ও শিক্ষা বিস্তারে তার প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ছাপাখানা ছাড়া বাংলার নবজাগরণ, আধুনিক শিক্ষা ও জাতীয়তাবাদ কোনোটাই সম্ভব হত না। মুদ্রণ শিল্পের বিকাশের ফলেই জ্ঞান মুষ্টিমেয় পণ্ডিতের হাত থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে যায়।

ক) ছাপাখানার বিকাশের ধারা:
i. প্রথম পর্ব – হরফ তৈরি (1778): বাংলায় ছাপাখানার শুরু হয় হরফ তৈরির মাধ্যমে। 1778 সালে চার্লস উইলকিন্স নামে এক ইংরেজ কর্মচারী বাঙালি স্বর্ণকার পঞ্চানন কর্মকারের সাহায্যে প্রথম বাংলা হরফ তৈরি করেন। এই হরফ দিয়ে হ্যালহেডের ‘A Grammar of the Bengal Language’ ছাপা হয়। পঞ্চানন কর্মকারকে তাই ‘বাংলা মুদ্রণের কারিগরি জনক’ বলা হয়। পরে তিনি শ্রীরামপুর মিশনে গিয়ে বাংলা, সংস্কৃত, আরবি, ফারসি সহ 14টি ভাষার হরফ তৈরি করেন।
ii. দ্বিতীয় পর্ব – শ্রীরামপুর মিশন প্রেস (1800): 1800 সালে উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ডের উদ্যোগে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস স্থাপিত হয়। এটি ছিল বাংলার প্রথম আধুনিক ছাপাখানা। এখান থেকে বাইবেলের বাংলা অনুবাদ, রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (1801 – প্রথম বাংলা গদ্য বই), কেরির অভিধান ছাপা হয়। 1818 সালে এখান থেকে প্রথম বাংলা সংবাদপত্র ‘সমাচার দর্পণ’ ও প্রথম বাংলা সাময়িকী ‘দিগদর্শন’ প্রকাশিত হয়, যা জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদনা করতেন।
iii. তৃতীয় পর্ব – বাঙালির নিজস্ব উদ্যোগ (1818): 1818 সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য কলকাতায় ‘ফেরিস অ্যান্ড কোম্পানি’ নামে প্রথম বাঙালি মালিকানাধীন ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁকে ‘বাংলা ছাপাখানার জনক’ বলা হয়। এখান থেকে 1818 সালে ‘বাঙ্গাল গেজেট’ (প্রথম বাঙালি সম্পাদিত বাংলা সংবাদপত্র) এবং ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ ছাপা হয়। এর ফলে বইয়ের দাম কমে যায় এবং সাধারণ মানুষ বই কিনতে পারে।
iv. চতুর্থ পর্ব – নবজাগরণের প্রসার (19 শতকের মাঝামাঝি): এই সময়ে ছাপাখানা নবজাগরণের প্রধান বাহন হয়। বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ (1855), ‘বোধোদয়’, ‘কথামালা’ লাখ লাখ কপি ছাপা হয়। ঈশ্বর গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’, কালীপ্রসন্ন সিংহের ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ ছাপা হয়। বটতলা অঞ্চলে সস্তা বটতলার বই ছাপা হয়ে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
v. পঞ্চম পর্ব – আধুনিকতা (1895): উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 1895 সালে ‘ইউ রায় অ্যান্ড সন্স’ প্রতিষ্ঠা করে ছাপাখানায় বিপ্লব আনেন। তিনি ভারতে প্রথম হাফটোন ব্লক, রঙিন ছাপা, ডায়োটাইপ প্রযুক্তি নিয়ে আসেন। 1913 সালে তিনি ‘সন্দেশ’ পত্রিকা প্রকাশ করেন, যেখানে ছবি সহ শিশু সাহিত্য ছাপা হত। তাঁর ছাপাখানা থেকেই রবীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়ের বই ছাপা হয়।

খ) শিক্ষা বিস্তারে প্রভাব:
i. গণশিক্ষা ও সস্তা বই: ছাপাখানার আগে হাতে লেখা পুঁথি ছিল অত্যন্ত দামি, শুধু ধনীরাই পড়তে পারত। ছাপাখানায় বই সস্তা ও প্রচুর সংখ্যায় ছাপা হওয়ায় গরিব ছাত্ররাও বই কিনতে পারে। বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় 1 আনায় বিক্রি হত, ফলে প্রাথমিক শিক্ষা সর্বজনীন হয়।
ii. আধুনিক পাঠ্যপুস্তক: ‘স্কুল বুক সোসাইটি’র মাধ্যমে ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান, অঙ্কের পাঠ্যপুস্তক, মানচিত্র, গ্লোব ছাপা হয়। এর ফলে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা শুরু হয়।
iii. সংবাদপত্র ও জনমত: ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’, ‘অমৃতবাজার’, ‘বঙ্গদর্শন’, ‘বামাবোধিনী’, ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা ছাপা হয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সমাজ সংস্কার ও রাজনৈতিক চেতনা ছড়ায়। মানুষ দেশ-বিদেশের খবর জানতে পারে।
iv. নারী শিক্ষা ও নবজাগরণ: বামাবোধিনী পত্রিকা, বর্ণপরিচয় নারী শিক্ষার ভিত্তি গড়ে দেয়। ছাপাখানা ছাড়া নবজাগরণের যুক্তিবাদী চিন্তা কলকাতা থেকে গ্রামে পৌঁছাত না।
v. জাতীয়তাবাদ: বঙ্কিমের ‘আনন্দমঠ’, দীনবন্ধুর ‘নীলদর্পণ’, বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ ছাপা হয়েই হাজার হাজার মানুষের হাতে পৌঁছে জাতীয়তাবাদ জাগিয়ে তোলে।
সুতরাং, ছাপাখানা ছিল বাংলায় আধুনিক শিক্ষার প্রাণ। একে ছাড়া বাংলার নবজাগরণ অসম্ভব ছিল।

Madhyamik History Model Answers-4

5.2 ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস আলোচনা করো – বোম্বে মিল হ্যান্ডস থেকে AITUC.
উত্তর: ভারতে আধুনিক শিল্পের শুরু হয় 1854 সালে বোম্বেতে প্রথম কাপড় কল স্থাপনের মাধ্যমে। কিন্তু শিল্পের শুরু থেকেই শ্রমিকরা ছিল চরম শোষিত – 14-16 ঘণ্টা কাজ, কম বেতন, ছুটি নেই, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এই শোষণের বিরুদ্ধেই শ্রমিক আন্দোলনের জন্ম।

প্রথম পর্যায় – সূচনা (1890-1918):
বোম্বে মিল হ্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (1890): ভারতের প্রথম শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলেন নারায়ণ মেঘাজি লোখান্ডে। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। 1890 সালে তিনি বোম্বেতে ‘বোম্বে মিল হ্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি কোনো ট্রেড ইউনিয়ন ছিল না, এটি ছিল একটি কল্যাণমূলক সংগঠন। তিনি দাবি তোলেন – রবিবার ছুটি, দুপুরে খাবারের বিরতি, কাজের সময় কমানো এবং আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ। তিনি ‘দীনবন্ধু’ পত্রিকায় শ্রমিকদের দুঃখের কথা লিখতেন। তাঁকেই ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের জনক বলা হয়।

দ্বিতীয় পর্যায় – গান্ধীজী ও সংগঠিত রূপ (1918-1920):
আহমেদাবাদ টেক্সটাইল লেবার অ্যাসোসিয়েশন (1918): 1918 সালে আহমেদাবাদে কাপড় কলের শ্রমিকরা 35% বোনাসের দাবিতে ধর্মঘট করে। মহাত্মা গান্ধী এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং অনশন করেন। শেষ পর্যন্ত মালিকরা 35% বোনাস দিতে রাজি হয়। এই সাফল্যের পর গান্ধীজী 1920 সালে ‘টেক্সটাইল লেবার অ্যাসোসিয়েশন’ (TLA) বা ‘মজুর মহাজন সংঘ’ গঠন করেন। এটি ছিল গান্ধীবাদী অহিংস ও শ্রেণী সমঝোতার আদর্শে গঠিত প্রথম শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন।

AITUC প্রতিষ্ঠা (1920): জাতীয়তাবাদী নেতারা বুঝতে পারেন স্বাধীনতা আন্দোলনে শ্রমিকদের যুক্ত করা দরকার। 1920 সালের 31 অক্টোবর বোম্বেতে লালা লাজপত রায়ের সভাপতিত্বে ‘নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস’ (AITUC) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠন। এর প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দেওয়ান চমনলাল। এর উদ্দেশ্য ছিল – শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থা (ILO) তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে শ্রমিকদের যুক্ত করা।

তৃতীয় পর্যায় – ধর্মঘট ও বামপন্থী প্রভাব (1920-1930):
1920-এর দশকে বোম্বে, কানপুর, মাদ্রাজ, জামশেদপুরে বড় বড় ধর্মঘট হয়। 1928 সালে বোম্বেতে প্রায় 1 লক্ষ শ্রমিক 6 মাস ব্যাপী ঐতিহাসিক ধর্মঘট করে। এই সময়ে কমিউনিস্ট নেতা এস. এ. ডাঙ্গে, মুজফফর আহমেদ, ফিলিপ স্প্র্যাট শ্রমিকদের মধ্যে কাজ শুরু করেন এবং ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’ (WPP – 1928) গঠিত হয়। ব্রিটিশ সরকার ভয় পেয়ে 1929 সালে ‘মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা’য় 32 জন কমিউনিস্ট ও শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে কমিউনিস্টদের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে।

চতুর্থ পর্যায় – কংগ্রেস ও বিভাজন (1930-1947):
1930-এর দশকে কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টি শ্রমিকদের মধ্যে কাজ করে। 1937 সালে বিভিন্ন প্রদেশে কংগ্রেস মন্ত্রিসভা গঠিত হলে শ্রমিকদের জন্য 8 ঘণ্টা কাজ, ন্যূনতম মজুরি আইন পাশ হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শিল্প উৎপাদন বাড়ে কিন্তু মজুরি বাড়ে না। 1946 সালের ফেব্রুয়ারিতে বোম্বেতে নৌ বিদ্রোহ হলে বোম্বের 2 লক্ষ শ্রমিক তাদের সমর্থনে ধর্মঘট করে, যা শ্রমিক-সেনা ঐক্যের বিরল উদাহরণ।

1947 সালে স্বাধীনতার প্রাক্কালে শ্রমিক সংগঠনে বিভাজন ঘটে – কংগ্রেসপন্থীরা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে ‘INTUC’ (Indian National Trade Union Congress) গঠন করে এবং কমিউনিস্টপন্থীরা AITUC-তে থেকে যায়।

গুরুত্ব: বোম্বে মিল হ্যান্ডস থেকে AITUC পর্যন্ত এই যাত্রা শুধু শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করেনি, এটি স্বাধীনতা আন্দোলনকে গণ আন্দোলনে পরিণত করে এবং স্বাধীন ভারতে শ্রমিক আইন, বোনাস, পেনশনের ভিত্তি তৈরি করে।

5.3 ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্য – জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে ভারতের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: স্বাধীন ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান স্থপতি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু (1947-1964)। তিনি পররাষ্ট্র দপ্তর নিজের হাতে রেখেছিলেন। তাঁর পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ছিল জোট নিরপেক্ষতা।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্য:
i. জোট নিরপেক্ষতা (Non-Alignment): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব দুটি শিবিরে ভাগ হয়ে যায় – আমেরিকার নেতৃত্বে পুঁজিবাদী জোট (NATO) এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক জোট (ওয়ারশ প্যাক্ট)। এই ঠান্ডা যুদ্ধের (Cold War) সময় নেহেরু সিদ্ধান্ত নেন ভারত কোনো সামরিক জোটেই যোগ দেবে না, স্বাধীনভাবে নিজের সিদ্ধান্তে চলবে। নেহেরু বলেন, “আমরা কোনো শক্তির তাঁবেদার নই, আমরা স্বাধীনভাবে বিচার করব।”
ii. সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরোধিতা: ভারত নিজে দীর্ঘদিন পরাধীন ছিল, তাই সে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করে। ইন্দোনেশিয়া, আলজেরিয়া, কঙ্গোর স্বাধীনতার পক্ষে ভারত সোচ্চার হয়।
iii. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পঞ্চশীল নীতি: 1954 সালে ভারত ও চীনের মধ্যে তিব্বত নিয়ে চুক্তিতে 5টি নীতি স্বাক্ষরিত হয়, যা ‘পঞ্চশীল নীতি’ নামে পরিচিত – (1) একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, (2) অনাক্রমণ, (3) একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, (4) সমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা, (5) শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। এটি ছিল ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল মন্ত্র।
iv. জাতিসংঘে সক্রিয় ভূমিকা ও নিরস্ত্রীকরণ: ভারত জাতিসংঘকে বিশ্ব শান্তির প্রধান হাতিয়ার মনে করত। কোরিয়া যুদ্ধ (1950-53), সুয়েজ সংকট (1956), কঙ্গো সংকটে ভারত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে এবং পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে নিরস্ত্রীকরণের দাবি তোলে।

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে (NAM) ভারতের ভূমিকা:
i. বান্দুং সম্মেলন (1955): 1955 সালে ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং শহরে এশিয়া-আফ্রিকার 29টি নব্য স্বাধীন দেশের সম্মেলন হয়। এই সম্মেলনে নেহেরু, মিশরের নাসের, যুগোস্লাভিয়ার টিটো, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ জোট নিরপেক্ষতার ভিত্তি স্থাপন করেন।
ii. বেলগ্রেড সম্মেলন (1961): 1961 সালের সেপ্টেম্বরে যুগোস্লাভিয়ার বেলগ্রেডে প্রথম জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন (NAM) অনুষ্ঠিত হয়। 25টি দেশ যোগ দেয় এবং নেহেরু এর প্রধান নেতা হিসাবে স্বীকৃত হন। আজ NAM-এ 120টি দেশ আছে, যা জাতিসংঘের পর বৃহত্তম সংগঠন।
iii. নেতৃত্ব ও মধ্যস্থতা: NAM-এর মাধ্যমে ভারত তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলির নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত উভয় জোট থেকে সাহায্য পেতে সক্ষম হয় – আমেরিকার কাছ থেকে PL-480 এর অধীনে খাদ্য সাহায্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে ভিলাই ইস্পাত কারখানা, BHEL-এর মতো ভারী শিল্পে সাহায্য। কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত সোভিয়েত সমর্থন পায়।
iv. গুরুত্ব ও সীমাবদ্ধতা: NAM ঠান্ডা যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে, উপনিবেশ মুক্তি ও বিশ্ব শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে 1962 সালে ভারত-চীন যুদ্ধে চীন পঞ্চশীল নীতি লঙ্ঘন করে ভারত আক্রমণ করলে NAM দেশগুলি ভারতকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেনি, ফলে NAM-এর দুর্বলতা প্রকাশ পায়। তবুও জোট নিরপেক্ষতা আজও ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসাবে কাজ করে।  ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading