NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik History Model Answers-7/2

Madhyamik History Model Answers-7

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ইতিহাস বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ইতিহাস) (Madhyamik History Model Answers-7) (উত্তরসহ)।নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে বিভাগ – ক: 20 নম্বরের 20টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), বিভাগ – খ: 16 নম্বরের 16টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (1 নম্বরের), বিভাগ – গ: 22 নম্বরের 11টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (2 নম্বরের) এবং বিভাগ – ঘ: 24 নম্বরের 6টি বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (4 নম্বরের) ও বিভাগ – ঙ: 8 নম্বরের 1টি ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (8 নম্বরের) সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান।। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik History Model Answers-7

Madhyamik History Model Answers
Madhyamik History Model Answers

ইতিহাস(History)

(Part- 2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: বিশ্লেষণধর্মী

4.1 উনিশ শতকে বাংলায় নারী শিক্ষা ও বিধবা বিবাহ আন্দোলনে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা লেখো।

উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (1820-1891) ছিলেন বাংলার নবজাগরণের শ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী সংস্কারক। নারী মুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান সবচেয়ে উজ্জ্বল।

ক) নারী শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা:
i. বেথুন স্কুল: 1849 সালে ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন যখন হিন্দু ফিমেল স্কুল (বেথুন স্কুল) প্রতিষ্ঠা করেন, তখন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ এর তীব্র বিরোধিতা করে। বিদ্যাসাগর এই স্কুলের সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব নেন এবং নিজে ঘরে ঘরে গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ করেন। তিনি ছিলেন এই স্কুলের প্রাণপুরুষ।
ii. নিজস্ব বালিকা বিদ্যালয়: সরকারি সাহায্য না পেয়েও তিনি নিজের অর্থে 1857-58 সালে বর্ধমান, হুগলি, মেদিনীপুর ও নদীয়া জেলায় প্রায় 35টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
iii. পাঠ্যপুস্তক ও প্রচার: তিনি ‘বর্ণপরিচয়’কে মেয়েদের উপযোগী করে সহজ করেন। ‘বামাবোধিনী পত্রিকা’ ও ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকায় তিনি নারী শিক্ষার পক্ষে ক্রমাগত লিখতে থাকেন। তাঁর মূল বক্তব্য ছিল – “একজন পুরুষ শিক্ষিত হলে একজন ব্যক্তি শিক্ষিত হয়, কিন্তু একজন নারী শিক্ষিত হলে একটি গোটা পরিবার শিক্ষিত হয়।”

খ) বিধবা বিবাহ আন্দোলন:
i. শাস্ত্রীয় প্রমাণ: তৎকালীন হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহের কারণে হাজার হাজার বালবিধবা অত্যন্ত কষ্টে জীবন কাটাত। বিদ্যাসাগর 1855 সালে ‘বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ নামে দুটি গ্রন্থ লিখে পরাশর সংহিতা থেকে প্রমাণ করেন যে বিধবা বিবাহ শাস্ত্রসম্মত।
ii. আইন পাশ: তিনি প্রায় 1000 জনের স্বাক্ষর সহ সরকারের কাছে আবেদন পাঠান। তাঁর অক্লান্ত চেষ্টায় লর্ড ডালহৌসি 1856 সালের 26 জুলাই ‘হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন’ (Act Xv. পাশ করেন।
iii. প্রথম বিবাহ: শুধু আইন পাশ করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। 1856 সালের 7 ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর উদ্যোগে প্রথম বিধবা বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় – শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্নের সাথে কালীমতী দেবীর। তিনি নিজের পুত্র নারায়ণচন্দ্রের সাথে ভবসুন্দরী নামে এক বিধবার বিবাহ দেন।
iv. সংগ্রাম: এই কাজের জন্য তাঁকে রক্ষণশীল সমাজের তীব্র গালাগালি, ব্যঙ্গ ও প্রাণনাশের হুমকি সহ্য করতে হয়। নিজের অর্থে তিনি প্রায় 60টি বিধবা বিবাহ দেন। এর পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহ ও কুলীনদের বহুবিবাহেরও তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর এই আন্দোলন বাংলার নারী সমাজে এক নবযুগের সূচনা করে।

4.2 মহাবিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: 1857 সালের মহাবিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।
i. সিপাহী বিদ্রোহ তত্ত্ব: ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জন লরেন্স, সি.টি. মেটকাফ বলেন এটি নিছক সিপাহীদের বিদ্রোহ। তাদের মতে, এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু-শূকরের চর্বি মেশানোর গুজবেই সিপাহীরা বিদ্রোহ করেছিল, এর সাথে জনগণের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
ii. সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া: ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার, ড. সুরেন্দ্রনাথ সেন বলেন এটি ছিল সামন্ততান্ত্রিক শ্রেণির শেষ প্রতিক্রিয়া। ঝাঁসির রানি, নানা সাহেব, অযোধ্যার নবাবরা নিজেদের হারানো রাজ্য ও ক্ষমতা ফিরে পেতে বিদ্রোহ করেছিলেন, এর মধ্যে কোনো আধুনিক জাতীয়তাবাদী চিন্তা ছিল না।
iii. প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ: জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিক বিনায়ক দামোদর সাভারকার 1909 সালে ‘The Indian War of Independence 1857’ গ্রন্থে বলেন এটি ছিল ভারতের প্রথম সুপরিকল্পিত স্বাধীনতা যুদ্ধ। কারণ এতে হিন্দু-মুসলিম, সিপাহী-কৃষক, রাজা-প্রজা সকলেই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছিল।
iv. কৃষক বিদ্রোহ তত্ত্ব: মার্কসবাদী ঐতিহাসিক রজনীপাম দত্ত, তালমিজ খালদুন বলেন, এটি ছিল ব্রিটিশ ভূমি রাজস্ব নীতির বিরুদ্ধে কৃষকদের বিদ্রোহ, যা সিপাহীদের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

বর্তমান মূল্যায়ন: আধুনিক ঐতিহাসিকরা বলেন, এটি সিপাহী বিদ্রোহ হিসাবে শুরু হলেও পরে গণ বিদ্রোহে পরিণত হয়। দিল্লি, কানপুর, লক্ষ্ণৌ, ঝাঁসিতে হাজার হাজার সাধারণ কৃষক, কারিগর যোগ দেয়। তবে এটি আধুনিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ছিল না, বরং পুরনো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ছিল। তবুও এর গুরুত্ব অপরিসীম – এর ফলেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শেষ হয়, ব্রিটিশ রাজত্ব (1858) শুরু হয় এবং ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের বীজ বপন হয়।

4.3 বাংলায় কারিগরি শিক্ষার বিকাশে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের (1905) সময় বিদেশি শিক্ষা বর্জনের ডাক আসে। সেই প্রেক্ষাপটেই জাতীয় শিক্ষার অংশ হিসাবে কারিগরি শিক্ষার জন্য বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (BTi. প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠা: 1906 সালের 1 মার্চ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হয়। তার অধীনে 1906 সালের 25 জুলাই তারকনাথ পালিত, রাসবিহারী ঘোষ, সুবোধচন্দ্র মল্লিকের মতো জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিদের অর্থ সাহায্যে BTI প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে এটি 92, আপার সার্কুলার রোডে শুরু হয়।
ভূমিকা:
i. স্বদেশি শিক্ষার আদর্শ: ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থা কেরানি তৈরি করে, কারিগরি জ্ঞান দেয় না – এই অভিযোগ থেকে BTI তৈরি হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল এমন ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা যারা স্বদেশি শিল্প গড়ে তুলবে।
ii. পাঠ্যক্রম: এখানে সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়াও ফলিত রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, তাঁত, চামড়া শিল্প, মৃৎশিল্প শেখানো হত। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, নীলরতন সরকার এখানে পড়াতেন।
iii. যাদবপুরে রূপান্তর: 1910 সালে BTI-কে যাদবপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। 1928 সালে এর নাম হয় ‘কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’। স্বাধীনতার পর 1955 সালে এটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়, যা আজ ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়।
iv. জাতীয়তাবাদী প্রভাব: BTI স্বদেশি শিল্পপতিদের কারিগরি জ্ঞান জোগায়। বেঙ্গল কেমিক্যাল, টাটা স্টিলের মতো কারখানায় BTI-র ছাত্ররা কাজ করে। এটি প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ সাহায্য ছাড়াও ভারতীয়রা নিজেদের উদ্যোগে উন্নত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে পারে। তাই BTI ছিল বাংলায় কারিগরি শিক্ষার প্রথম জাতীয়তাবাদী ও স্বদেশি উদ্যোগ।

Madhyamik History Model Answers-7

4.4 ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ গ্রন্থে উনিশ শতকের বাংলার সমাজচিত্র কেমন ফুটে উঠেছে?
উত্তর: কালীপ্রসন্ন সিংহ (1840-1870) ‘হুতোম প্যাঁচা’ ছদ্মনামে 1861-62 সালে ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ গ্রন্থটি লেখেন। এটি উনিশ শতকের কলকাতার সমাজের এক নির্ভীক ও বাস্তব দলিল।
i. বাবু সমাজের ব্যঙ্গচিত্র: গ্রন্থটির মূল বিষয় হল কলকাতার নব্য ধনী ‘বাবু’ সমাজের বিলাসিতা ও ভণ্ডামির ব্যঙ্গ। লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে বাবুরা দিনে ইংরেজি অনুকরণ, ব্রাহ্ম সমাজের বুলি আওড়ায়, আর রাতে বাইজি বাড়ি যায়, মদ্যপান করে, বুলবুলির লড়াই দেখে। বাবুদের বাহ্যিক সভ্যতা ও ভিতরের কুসংস্কার তিনি তীক্ষ্ণ ভাষায় তুলে ধরেছেন।
ii. উৎসব ও সামাজিক জীবন: বইটিতে দুর্গাপূজা, চড়ক, দোল, বারোয়ারি পূজা, যাত্রা, কবিগান, কথকতার জীবন্ত বর্ণনা আছে। কলকাতার বড়লোকদের বাড়ির পূজার জাঁকজমক, সাহেবদের নিমন্ত্রণ, বাবুদের বাবুগিরির চিত্র পাওয়া যায়।
iii. নারী সমাজ: বাবুদের বাড়ির অন্দরমহলের মেয়েদের পর্দা প্রথা, কুলীন প্রথা, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহের ফলে তাদের দুর্দশার চিত্রও ফুটে উঠেছে।
iv. গরিব ও প্রান্তিক সমাজ: শুধু বাবু সমাজ নয়, গরিব, ভিখারি, বস্তিবাসী, ফিরিঙ্গি, মুসলমান, চীনেদের জীবনযাত্রাও এখানে স্থান পেয়েছে। ইংরেজদের অত্যাচার ও দেশীয় দালালদের চিত্রও আছে।
v. ধর্মীয় দ্বন্দ্ব: ব্রাহ্ম সমাজ বনাম রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ, খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রচার – এই ধর্মীয় টানাপোড়েনের চিত্রও আছে।
vi. ভাষা: এই গ্রন্থের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল ভাষা। কালীপ্রসন্ন প্রথম কলকাতার মুখের চলিত ভাষা, খিস্তি-খেউড়, ব্যঙ্গাত্মক ভাষা সাহিত্যে ব্যবহার করেন। তাই এটি বাংলা সাহিত্যে ‘স্কেচ’ জাতীয় রচনার প্রথম উদাহরণ এবং উনিশ শতকের কলকাতার ইতিহাস জানার জন্য এক অমূল্য ঐতিহাসিক উপাদান।

4.5 অসহযোগ আন্দোলন কেন প্রত্যাহার করা হয়? এর ফলাফল কী?
উত্তর: 1920-22 সালে গান্ধীজীর নেতৃত্বে প্রথম সর্বভারতীয় গণ আন্দোলন অসহযোগ আন্দোলন তুঙ্গে ছিল।
প্রত্যাহারের কারণ – চৌরিচৌরা ঘটনা: 1922 সালের 5 ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলার চৌরিচৌরা গ্রামে কৃষকদের একটি মিছিলের উপর পুলিশ গুলি চালালে উত্তেজিত জনতা পুলিশ থানায় আগুন লাগিয়ে দেয়। এই ঘটনায় 22 জন পুলিশ কর্মী পুড়ে মারা যায়।
গান্ধীজীর সিদ্ধান্ত: গান্ধীজী ছিলেন অহিংসার পূজারী। তিনি মনে করতেন অহিংসা ছাড়া স্বরাজ লাভ সম্ভব নয়। চৌরিচৌরার হিংসাত্মক ঘটনায় তিনি মর্মাহত হন এবং ভয় পান যে আন্দোলন হিংসাত্মক পথে গেলে ব্রিটিশ সরকার আরও কঠোর দমননীতি চালাবে এবং আন্দোলন লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে। তাই তিনি 1922 সালের 12 ফেব্রুয়ারি বারদৌলিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সভা ডেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
ফলাফল:
i. নেতাদের হতাশা ও সমালোচনা: গান্ধীজীর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে জওহরলাল নেহেরু, সুভাষচন্দ্র বসু, মতিলাল নেহেরু, চিত্তরঞ্জন দাস প্রমুখ নেতারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন। তারা মনে করেন, যখন আন্দোলন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে, তখন তা প্রত্যাহার করা ভুল।
ii. সাম্প্রদায়িক বিভাজন: আন্দোলন প্রত্যাহারের ফলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরে। খিলাফত আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরে কেরালায় মোপলা বিদ্রোহে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়।
iii. ইতিবাচক ফল: যদিও আন্দোলন সাময়িকভাবে ব্যর্থ হয়, তবুও এটি ছিল প্রথম সর্বভারতীয় গণ আন্দোলন। এর মাধ্যমে কংগ্রেস অভিজাতদের দল থেকে জনগণের দলে পরিণত হয়। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী প্রথমবার রাজনীতিতে আসে। গান্ধীজী গ্রেপ্তার হন (6 বছরের জেল, যদিও 2 বছর পর মুক্তি পান) এবং জাতীয় নেতা হিসাবে তাঁর নেতৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

4.6 বাংলায় মহিষ্য ও নমঃশূদ্র আন্দোলনের তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর: বাংলায় নিম্নবর্গের জাগরণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হল নমঃশূদ্র ও মহিষ্য আন্দোলন। দুটিই জাতপাতের বিরুদ্ধে আত্মসম্মানের আন্দোলন হলেও তাদের মধ্যে পার্থক্য ছিল।
ক) নমঃশূদ্র আন্দোলন:
i. কে: নমঃশূদ্ররা হল বাংলার সবচেয়ে বড় দলিত ও অস্পৃশ্য সম্প্রদায়, যারা মূলত ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশালে বাস করত। তারা চণ্ডাল নামে পরিচিত ছিল।
ii. নেতৃত্ব ও দর্শন: এর নেতা হরিচাঁদ ঠাকুর (1812-1878) ফরিদপুরের ওড়াকান্দিতে ‘মতুয়া’ ধর্মমত প্রচার করেন। তাঁর মূলমন্ত্র ছিল – জাতিভেদহীন সমাজ, ‘হাতে কাম, মুখে নাম’, শিক্ষা গ্রহণ ও সৎ জীবনযাপন। তিনি হরিনামের মাধ্যমে সকলকে একত্রিত করেন।
iii. সংগঠন: তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর (1846-1937) বহু স্কুল, ছাত্রাবাস তৈরি করেন এবং 1932 সালে ‘মতুয়া মহাসংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নমঃশূদ্রদের শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণের দাবি তোলেন।
iv. প্রকৃতি: এটি ছিল দলিতদের আত্মসম্মান, শিক্ষা ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন, যা পরে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের হাত ধরে আম্বেদকরের সর্বভারতীয় দলিত রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়।

খ) মহিষ্য আন্দোলন:
i. কে: মহিষ্যরা হল মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলির চাষি কৈবর্ত সম্প্রদায়। তারা অর্থনৈতিকভাবে উন্নত, জমির মালিক ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত কৃষক ছিল, কিন্তু সামাজিকভাবে শূদ্র হিসাবে পরিচিত ছিল।
ii. কারণ ও দাবি: 1901 সালের জনগণনায় তাদের শূদ্র দেখানোয় তারা ক্ষুব্ধ হয় এবং নিজেদের ক্ষত্রিয় হিসাবে স্বীকৃতি দাবি করে।
iii. সংগঠন: 1910 সালে ‘মহিষ্য সমিতি’ গঠিত হয়। তারা পৈতা ধারণ, ক্ষত্রিয় আচার পালন, বাল্যবিবাহ বন্ধের মাধ্যমে উচ্চবর্ণের মর্যাদা দাবি করে।
iv. ফল: 1931 সালের জনগণনায় ব্রিটিশ সরকার তাদের ক্ষত্রিয় হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।

তুলনা: নমঃশূদ্ররা ছিল দলিত ও অস্পৃশ্য, আর মহিষ্যরা ছিল মধ্যবিত্ত কৃষক। নমঃশূদ্র আন্দোলন ছিল জাতিভেদ প্রথাকে অস্বীকার করে নতুন ধর্ম ও শিক্ষার আন্দোলন, আর মহিষ্য আন্দোলন ছিল বিদ্যমান বর্ণ ব্যবস্থার মধ্যেই উচ্চবর্ণের মর্যাদা পাওয়ার আন্দোলন। তবে দুটিই বাংলায় নিম্নবর্গ ও মধ্যবিত্তের সামাজিক জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

4.7 স্বাধীনতার পর ভারতে উদ্বাস্তু সমস্যা ও তার সমাধানে সরকারের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: 1947 সালে দেশভাগ স্বাধীন ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসাবে উদ্বাস্তু সমস্যা তৈরি করে। প্রায় 1 কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

সমস্যার স্বরূপ:
i. পশ্চিম পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ শিখ ও হিন্দু এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রায় 50 লক্ষ বাঙালি হিন্দু ভারতে চলে আসে। পাঞ্জাবে এই বিনিময় দ্রুত হলেও বাংলায় উদ্বাস্তু আগমন 1971 সাল পর্যন্ত চলতে থাকে।
ii. শিয়ালদহ স্টেশন, কলকাতার ফুটপাত, মাঠে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চাকরির তীব্র সংকট দেখা দেয়। কলকাতায় বস্তি, জবরদখল কলোনি গড়ে ওঠে।
iii. পাট শিল্পে সংকট দেখা দেয়, কারণ পাট চাষের জমি পূর্ব পাকিস্তানে চলে যায়।

সরকারের ভূমিকা:
i. ত্রাণ ও শিবির: সরকার শিয়ালদহ, ধুবুলিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, বানপুরে ট্রানজিট ক্যাম্প খোলে এবং খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
ii. জবরদখল কলোনিকে স্বীকৃতি: উদ্বাস্তুরা নিজেরাই কলকাতার আশেপাশে ফাঁকা জমি দখল করে যাদবপুর, বিজয়গড়, নেতাজিনগর, আজাদগড়ের মতো প্রায় 150টি কলোনি গড়ে তোলে। প্রথমে সরকার বাধা দিলেও পরে 1950-51 সালে এগুলিকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
iii. পুনর্বাসন দপ্তর: উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দপ্তর গঠন করে বাড়ি তৈরির জন্য ঋণ, জমির পাট্টা, দোকান ও চাকরিতে সাহায্য দেওয়া হয়।
iv. দণ্ডকারণ্য ও আন্দামান প্রকল্প: 1958 সালে সরকার মধ্যপ্রদেশ ও ওড়িশার অনুন্নত দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে চাষের জমি দিয়ে পুনর্বাসনের প্রকল্প নেয়। আন্দামানেও উদ্বাস্তুদের পাঠানো হয়। কিন্তু বাংলার জলবায়ু, ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে দূরে হওয়ায় অনেক উদ্বাস্তু সেখানে যেতে চায়নি, তাই প্রকল্পটি আংশিকভাবে ব্যর্থ হয়।
v. শিক্ষা: স্কুল, কলেজে উদ্বাস্তু ছাত্রদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।

তবুও পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। উদ্বাস্তুরা নিজেদের অদম্য লড়াইয়ে নতুন জীবন গড়ে তোলে এবং বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে।

Madhyamik History Model Answers-7

4.8 স্বাধীন ভারতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে ভাবা ও সারাভাইয়ের অবদান লেখো।
উত্তর: স্বাধীন ভারতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দুই প্রধান স্থপতি হলেন হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা ও বিক্রম সারাভাই। প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর স্বপ্নকে তাঁরাই বাস্তবে রূপ দেন।

ক) ড. হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা (1909-1966) – পরমাণু বিজ্ঞানের জনক:
i. 1944 সালে তিনি টাটা মৌলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান (TIFR) প্রতিষ্ঠা করেন।
ii. স্বাধীনতার পর 1948 সালে নেহেরুর সাহায্যে তিনি ‘পরমাণু শক্তি কমিশন’ গঠন করেন এবং তার প্রথম সভাপতি হন।
iii. 1954 সালে ট্রম্বেতে তিনি ‘অপ্সরা’ নামে ভারতের তথা এশিয়ার প্রথম পারমাণবিক চুল্লি চালু করেন।
iv. 1957 সালে তিনি ট্রম্বেতে ‘Bhabha Atomic Research Centre’ (BARC) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভারতের পরমাণু গবেষণার প্রধান কেন্দ্র।
v. তিনিই 1974 সালে পোখরানে প্রথম পরমাণু পরীক্ষার ভিত্তি তৈরি করে দেন, যদিও 1966 সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

খ) ড. বিক্রম সারাভাই (1919-1971) – মহাকাশ বিজ্ঞানের জনক:
i. তিনি ছিলেন নেহেরুর আরেক প্রিয় বিজ্ঞানী। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশের জন্য মহাকাশ প্রযুক্তি প্রয়োজন – আবহাওয়ার পূর্বাভাস, যোগাযোগ, শিক্ষা ও কৃষির উন্নয়নের জন্য।
ii. 1962 সালে তিনি ‘Indian National Committee for Space Research’ (INCOSPAR) গঠন করেন।
iii. 1963 সালে কেরালার থুম্বায় ভারতের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র স্থাপন করেন এবং প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ করেন।
iv. 1969 সালে তাঁর উদ্যোগেই ‘Indian Space Research Organisation’ (ISRO) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আজ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকাশ সংস্থা।
v. তিনি IIM আহমেদাবাদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন।

এই দুই বিজ্ঞানীর হাত ধরেই ভারত আজ পরমাণু শক্তিধর ও মহাকাশ শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে।

Madhyamik History Model Answers-7

বিভাগ – ঙ: ব্যাখ্যামূলক (8 নম্বর)

5.1 উনিশ শতকের বাংলায় সমাজ সংস্কারে রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর: উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণের দুই প্রধান সমাজ সংস্কারক হলেন রাজা রামমোহন রায় (1772-183iii. ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (1820-1891)।

রামমোহন রায়:
i. তাঁকে ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ ও নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
ii. সতীদাহ নিবারণ: 1829 সালে লর্ড বেন্টিঙ্কের সাহায্যে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ আইন (Regulation XVIi. পাশ করান। তিনি প্রমাণ করেন শাস্ত্রে সতীদাহ নেই।
iii. ব্রাহ্মসমাজ: 1828 সালে ব্রাহ্মসভা (পরে ব্রাহ্মসমাজ) প্রতিষ্ঠা করে একেশ্বরবাদ, জাতিভেদ, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহের বিরোধিতা করেন।
iv. শিক্ষা: ইংরেজি শিক্ষার পক্ষে, হিন্দু কলেজ, বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেন।
v. সংবাদপত্র: ‘সংবাদ কৌমুদী’, ‘মিরাত-উল-আখবার’ প্রকাশ করে জনমত গঠন করেন।
তিনি মূলত ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী আন্দোলন করেন।

বিদ্যাসাগর:
i. তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, কিন্তু আধুনিক মনের মানুষ।
ii. বিধবা বিবাহ: 1855 সালে শাস্ত্রীয় প্রমাণ দিয়ে বিধবা বিবাহের পক্ষে লেখেন, 1856 সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করান এবং 60টি বিধবা বিবাহ দেন।
iii. নারী শিক্ষা: বেথুন স্কুলের সম্পাদক, 35টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বামাবোধিনী পত্রিকা।
iv. বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ বিরোধিতা: বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লেখেন, বহুবিবাহ নিষিদ্ধের দাবি তোলেন।
v. শিক্ষা: ‘বর্ণপরিচয়’ (185v. লিখে বাংলা শিক্ষার ভিত্তি গড়েন, সংস্কৃত কলেজে ইংরেজি চালু করেন, মেট্রোপলিটন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

তুলনা:
i. রামমোহন ছিলেন ধর্মীয় সংস্কারক, বিদ্যাসাগর ছিলেন সামাজিক সংস্কারক – ধর্মের চেয়ে সমাজকে বেশি গুরুত্ব দেন।
ii. রামমোহন উচ্চবিত্তের মধ্যে কাজ করেন, বিদ্যাসাগর মধ্যবিত্ত ও নারীদের মধ্যে।
iii. রামমোহন ইংরেজি শিক্ষার পক্ষে, বিদ্যাসাগর মাতৃভাষায় শিক্ষার পক্ষে।
iv. দুজনেই যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ, নারী মুক্তির জন্য কাজ করেন এবং বাংলার নবজাগরণের ভিত্তি গড়ে দেন। রামমোহন ছিলেন অগ্রদূত, বিদ্যাসাগর ছিলেন তার সার্থক উত্তরসূরি।

Madhyamik History Model Answers-7

5.2 ভারতে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাস আলোচনা করো – অনুশীলন, যুগান্তর, HSRA, চট্টগ্রাম।
উত্তর: ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনের পাশাপাশি সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনও হয়।

i. অনুশীলন সমিতি (1902): সতীশচন্দ্র বসু ও প্রমথনাথ মিত্র কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন, ঢাকায় পুলিন দাস। উদ্দেশ্য – শরীরচর্চা, লাঠিখেলা, বোমা তৈরি, ব্রিটিশ হত্যা। সদস্য – অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র ঘোষ, ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। 1908 সালে আলিপুর বোমা মামলায় অরবিন্দ গ্রেপ্তার হন।

ii. যুগান্তর দল (1906): বারীন্দ্র ঘোষ ও ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত অনুশীলন থেকে বেরিয়ে যুগান্তর দল ও ‘যুগান্তর’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। কাজ – বোমা তৈরি, ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ, ব্রিটিশ অফিসার হত্যা। ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি 1908 সালে কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন, ক্ষুদিরামের ফাঁসি হয়।

iii. HSRA – হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন (1928): উত্তর ভারতে ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদ, রাজগুরু, সুখদেব 1928 সালে HSRA গঠন করেন। উদ্দেশ্য – সমাজতন্ত্র ও সশস্ত্র বিপ্লব।
কাজ: 1928 সালে লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধে স্যান্ডার্স হত্যা, 1929 সালে অ্যাসেম্বলিতে বোমা ফেলা – ‘বধিরকে শোনাতে বোমা’। ভগৎ সিং, রাজগুরু, সুখদেবের ফাঁসি (193i. বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণা দেয়।

iv. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন (1930): মাস্টারদা সূর্যসেন (সূর্য সেন) 1930 সালের 18 এপ্রিল চট্টগ্রামে ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি গঠন করে সরকারি অস্ত্রাগার লুঠ করেন, 4 দিন চট্টগ্রাম স্বাধীন রাখেন। জালালাবাদ পাহাড়ে ব্রিটিশ সেনার সাথে যুদ্ধ হয়। পরে সূর্যসেন, তারকেশ্বর দস্তিদার, কল্পনা দত্ত, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ধরা পড়েন। প্রীতিলতা পাহাড়তলীতে আত্মহত্যা করেন (1932), সূর্যসেনের ফাঁসি হয় (1934)।

গুরুত্ব: সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন ব্রিটিশকে ভয় পাইয়ে দেয়, যুব সমাজের মধ্যে দেশপ্রেম জাগায়, যদিও সংগঠনের অভাবে ব্যর্থ হয়, কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।

5.3 1947-64 পর্যন্ত ভারতের বিদেশনীতি আলোচনা করো – পঞ্চশীল, জোট নিরপেক্ষতা, কাশ্মীর সমস্যা।
উত্তর: 1947-64 পর্যন্ত ভারতের বিদেশনীতির স্থপতি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু।
বিদেশনীতির মূল বৈশিষ্ট্য:
i. সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবৈষম্যের বিরোধিতা।
ii. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও জাতিসংঘে আস্থা।
iii. এশিয়া-আফ্রিকার দেশগুলির সাথে সংহতি।

পঞ্চশীল (1954): 1954 সালে ভারত ও চীনের মধ্যে তিব্বত নিয়ে চুক্তিতে নেহেরু ও চৌ এন লাই 5টি নীতি গ্রহণ করেন –
i. সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক সম্মান।
ii. অনাক্রমণ।
iii. অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।
iv. সমতা ও পারস্পরিক সুবিধা।
v. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
1955 সালে বান্দুং সম্মেলনে 29টি এশিয়া-আফ্রিকার দেশ পঞ্চশীল গ্রহণ করে।

জোট নিরপেক্ষতা (NAM): ঠান্ডা যুদ্ধে বিশ্ব আমেরিকা ও সোভিয়েত দুই জোটে ভাগ। নেহেরু বলেন ভারত কোনো জোটে যাবে না।
i. 1961 সালে বেলগ্রেডে প্রথম NAM সম্মেলন – 25টি দেশ, নেহেরু, নাসের (মিশর), টিটো (যুগোস্লাভিয়া) নেতা।
ii. ভারত উন্নয়নশীল দেশগুলির নেতা হয়, উভয় জোট থেকে সাহায্য পায় – আমেরিকা থেকে খাদ্য (PL 480), সোভিয়েত থেকে ভিলাই ইস্পাত কারখানা।
iii. NAM শান্তি ও নিরস্ত্রীকরণে ভূমিকা রাখে।

কাশ্মীর সমস্যা: 1947 সালে কাশ্মীরের রাজা হরি সিং স্বাধীন থাকতে চান। পাকিস্তানি হানাদার ঢুকলে তিনি 1947 সালের 26 অক্টোবর ভারতে যোগদানের দলিলে সই করেন। ভারতীয় সেনা কাশ্মীর রক্ষা করে।
পাকিস্তান মানেনি, 1947-48 সালে ভারত-পাক যুদ্ধ হয়। নেহেরু জাতিসংঘে যান, যুদ্ধবিরতি হয় (1949)। কাশ্মীরের একাংশ পাকিস্তানের দখলে থাকে (PoK), বাকি ভারতে। জাতিসংঘে গণভোটের প্রস্তাব থাকলেও তা হয়নি। কাশ্মীর সমস্যা ভারতের বিদেশনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকে, 1965, 1971, 1999 সালে যুদ্ধ হয়।

1947-64 পর্যন্ত নেহেরুর বিদেশনীতি ভারতকে বিশ্বে মর্যাদা দিলেও 1962 সালে চীন যুদ্ধে পঞ্চশীল ও NAM এর দুর্বলতা প্রকাশ পায়।

—  ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading