NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি

Madhyamik History Model Answers-9/2

Madhyamik History Model Answers-9

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ইতিহাস বিষয়ে 90-এ 90 পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ইতিহাস) (Madhyamik History Model Answers-9) (উত্তরসহ)।নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে বিভাগ – ক: 20 নম্বরের 20টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), বিভাগ – খ: 16 নম্বরের 16টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (1 নম্বরের), বিভাগ – গ: 22 নম্বরের 11টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (2 নম্বরের) এবং বিভাগ – ঘ: 24 নম্বরের 6টি বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (4 নম্বরের) ও বিভাগ – ঙ: 8 নম্বরের 1টি ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (8 নম্বরের) সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান।। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।


➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Madhyamik History Model Answers-9

Madhyamik History Model Answers
Madhyamik History Model Answers

ইতিহাস(History)

(Part- 2)

⟽ Previous Part

বিভাগ – ঘ: বিশ্লেষণধর্মী

4.1 ঊনবিংশ শতকে বাংলায় নবজাগরণের চরিত্র ও সীমাবদ্ধতা লেখো।
উত্তর: উনিশ শতকে বাংলায় যে মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটে, তাকেই বাংলার নবজাগরণ বলা হয়। পাশ্চাত্য শিক্ষা, ছাপাখানা, ইংরেজি ভাষা, সংবাদপত্র এবং রাজা রামমোহন রায়, ডিরোজিও, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, বিবেকানন্দের হাত ধরে এই নবজাগরণের সূচনা হয়।

চরিত্র:
i. যুক্তিবাদ: এর প্রধান চরিত্র ছিল যুক্তিবাদ। নবজাগরণের নেতারা ধর্মীয় কুসংস্কার, পৌত্তলিকতা, সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে লড়াই করেন।
ii. মানবতাবাদ: মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছিল এর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য। নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ, দলিতদের মুক্তি, দরিদ্রের সেবা – এই মানবতাবাদ থেকেই আসে।
iii. জাতীয়তাবাদ: পাশ্চাত্য শিক্ষা থেকে স্বদেশ প্রেম, স্বাধীনতার ধারণা আসে। বঙ্কিমের ‘বন্দেমাতরম’, বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন এরই ফল।
iv. আধুনিকতা: পাশ্চাত্য বিজ্ঞান, ইংরেজি শিক্ষা, সংবাদপত্র, ছাপাখানা, আধুনিক সাহিত্য, উপন্যাস, নাটকের মাধ্যমে আধুনিকতার প্রকাশ ঘটে।

সীমাবদ্ধতা:
i. এলিট কেন্দ্রিক: এটি মূলত কলকাতা কেন্দ্রিক, শহুরে, উচ্চবর্ণের হিন্দু মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক শ্রেণির মধ্যে সীমিত ছিল। মুসলিম সমাজ, নিম্নবর্ণের দলিত, আদিবাসী, গ্রামীণ কৃষক-শ্রমিক সমাজে এর প্রভাব প্রায় পৌঁছায়নি। তাই একে ‘অসম্পূর্ণ নবজাগরণ’ বলা হয়।
ii. ব্রিটিশ আনুগত্য: নবজাগরণের অনেক নেতাই ব্রিটিশ শাসনকে ভারতের পক্ষে আশীর্বাদ মনে করতেন এবং ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত ছিলেন। তারা ব্রিটিশ শাসনের অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে সেভাবে সোচ্চার হননি।
iii. অর্থনৈতিক প্রশ্নের অভাব: এই নবজাগরণ মূলত ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারে বেশি মনোযোগ দেয়, কৃষক-শ্রমিকের দারিদ্র্য বা অর্থনৈতিক শোষণের প্রশ্ন এখানে উপেক্ষিত ছিল।
iv. নারী মুক্তি সীমিত: নারী শিক্ষা ও বিধবা বিবাহ আন্দোলন মূলত শহুরে শিক্ষিত পরিবারের মধ্যেই সীমিত ছিল।

তবুও এই নবজাগরণই বাংলায় আধুনিক চেতনা, জাতীয়তাবাদ ও বিজ্ঞানমনস্কতার ভিত্তি গড়ে দেয়।

Madhyamik History Model Answers-9

4.2 1857 মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি ও গুরুত্ব লেখো – এটি কি নিছক সিপাহী বিদ্রোহ?
উত্তর: 1857 সালের মহাবিদ্রোহকে ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা প্রথমে ‘নিছক সিপাহী বিদ্রোহ’ বললেও আধুনিক ঐতিহাসিকরা তা মানেন না।

প্রকৃতি:
i. সূচনা সিপাহী বিদ্রোহ হিসাবে: 1857 সালের 10 মে মিরাটে এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু-শূকরের চর্বি মেশানোর গুজবে সিপাহীরা বিদ্রোহ শুরু করে। তাই এর প্রত্যক্ষ কারণ ছিল সামরিক।
ii. গণ বিদ্রোহে পরিণত: কিন্তু দ্রুত এটি সিপাহী বিদ্রোহের গণ্ডি ছাড়িয়ে গণ বিদ্রোহে পরিণত হয়। দিল্লিতে বাহাদুর শাহ জাফরকে সম্রাট ঘোষণা করা হয়, কানপুরে নানা সাহেব, লক্ষ্ণৌতে বেগম হজরত মহল, ঝাঁসিতে রানি লক্ষ্মীবাই, বিহারে কুনওয়ার সিংহের নেতৃত্বে হাজার হাজার কৃষক, জমিদার, কারিগর যোগ দেয়।
iii. হিন্দু-মুসলিম ঐক্য: এই বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ছিল অভূতপূর্ব। রুটি ও পদ্মফুল ছিল বিদ্রোহের প্রতীক। দিল্লিতে হিন্দু-মুসলিম উভয়েই বাহাদুর শাহকে নেতা মানে।
iv. বিতর্ক: ড. আর. সি. মজুমদার একে ‘সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া’ বলেন, কারণ রাজা-জমিদাররা পুরনো ব্যবস্থা ফেরাতে চেয়েছিল। আবার বিনায়ক সাভারকার 1909 সালে একে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ বলেন।

তাই এটি নিছক সিপাহী বিদ্রোহ নয়, এটি ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বৃহৎ গণ বিদ্রোহ, যদিও এর মধ্যে আধুনিক জাতীয়তাবাদী চিন্তা ছিল না।

গুরুত্ব:
i. কোম্পানির শাসনের অবসান: এই বিদ্রোহের পর 1858 সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শেষ হয় এবং রানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজত্ব শুরু হয়।
ii. ব্রিটিশ নীতির পরিবর্তন: ব্রিটিশ সরকার সেনাবাহিনীতে ভারতীয়দের সংখ্যা কমায়, দেশীয় রাজ্যদের প্রতি মিত্রতার নীতি নেয় এবং ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
iii. জাতীয়তাবাদের বীজ: যদিও ব্যর্থ হয়, তবুও এটি ভারতীয়দের মধ্যে প্রথমবার ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা ও জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করে, যা পরবর্তীতে কংগ্রেসের আন্দোলনে কাজে লাগে।

4.3 ছাপাখানা কীভাবে জাতীয়তাবাদ বিকাশে সাহায্য করে?
উত্তর: বাংলায় জাতীয়তাবাদ বিকাশে ছাপাখানা ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
i. সংবাদপত্র ও জনমত গঠন: ছাপাখানার ফলেই ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ (হরিশ মুখার্জী), ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’, ‘বঙ্গদর্শন’ (বঙ্কিমচন্দ্র), ‘সঞ্জীবনী’, ‘সোমপ্রকাশ’ এর মতো পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকাগুলি ব্রিটিশ শোষণ, নীলকরদের অত্যাচার, বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে জনমত গঠন করে এবং মানুষকে প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করে।
ii. জাতীয়তাবাদী সাহিত্য প্রকাশ: বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ (বন্দেমাতরম মন্ত্র), দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’, রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’, বিবেকানন্দের ‘বর্তমান ভারত’ – এই গ্রন্থগুলি ছাপা হয়েই হাজার হাজার মানুষের হাতে পৌঁছে যায় এবং দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে। বই সস্তা হওয়ায় সাধারণ মানুষও পড়তে পারে।
iii. গণশিক্ষা বিস্তার: বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’, অক্ষয়কুমার দত্তের বিজ্ঞান বই, ইতিহাস, ভূগোল, মানচিত্র সস্তায় ছাপা হয়ে গণশিক্ষা বিস্তার করে। মানুষ নিজের দেশ, ইতিহাস ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, যা জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।
iv. বিপ্লবী পত্রিকা: বিংশ শতকে ‘যুগান্তর’, ‘বন্দেমাতরম’, ‘সন্ধ্যা’, ‘গদর’ পত্রিকা গোপনে ছাপা হয়ে বিপ্লবী আন্দোলনকে প্রেরণা দেয়। ব্রিটিশ সরকার এই কারণে 1878 সালে ‘দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন’ (Vernacular Press Act) করে ছাপাখানা দমন করতে চায়, কিন্তু পারে না।
v. সর্বভারতীয় ঐক্য: বিভিন্ন ভাষায় বই ও পত্রিকা ছাপা হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। ছাপাখানা ছাড়া জাতীয়তাবাদের বিস্তার অসম্ভব ছিল।

Madhyamik History Model Answers-9

4.4 উনিশ শতকে বাংলায় শিক্ষা সংস্কারে ডেভিড হেয়ার ও বিদ্যাসাগরের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: উনিশ শতকে বাংলায় আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে দুই ভিন্ন ধারার দুই মহান শিক্ষাব্রতী হলেন ডেভিড হেয়ার ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

ক) ডেভিড হেয়ার (1775-1842):
তিনি ছিলেন একজন স্কটিশ ঘড়ি ব্যবসায়ী, কিন্তু বাংলায় শিক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।
i. 1817 সালে রামমোহন, রাধাকান্ত দেবের সাথে তিনি হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রধান উদ্যোগ নেন, যা পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র।
ii. 1817 সালে তিনি ‘স্কুল বুক সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল সস্তায় ইংরেজি ও বাংলা পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করা।
iii. 1818 সালে তিনি ‘কলকাতা স্কুল সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বিনা বেতনে গরিব ছাত্রদের জন্য স্কুল চালাত।
iv. 1817 সালে নিজের অর্থে তিনি হেয়ার স্কুল (আরপুলি স্কুল) প্রতিষ্ঠা করেন।
v. 1835 সালে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায়ও তিনি সাহায্য করেন। তিনি ছিলেন নিঃস্বার্থ, নিজের সমস্ত সম্পত্তি শিক্ষার জন্য দান করেন। তাঁকে বাংলার আধুনিক শিক্ষার জনক বলা হয়।

খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (1820-1891):
হেয়ার যদি পাশ্চাত্য শিক্ষার ভিত্তি গড়েন, বিদ্যাসাগর গড়েন মাতৃভাষায় গণশিক্ষার ভিত্তি।
i. পাঠ্যপুস্তক রচনা: 1855 সালে ‘বর্ণপরিচয়’ প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ, ‘বোধোদয়’, ‘কথামালা’ লিখে তিনি বাংলা শিক্ষাকে সহজ ও সর্বজনীন করেন।
ii. নারী শিক্ষা: 1849 সালে বেথুন স্কুলের সম্পাদক হয়ে এবং নিজে 35টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তিনি নারী শিক্ষার প্রসার ঘটান।
iii. সংস্কৃত কলেজ সংস্কার: 1851 সালে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হয়ে তিনি সেখানে ইংরেজি, বিজ্ঞান শিক্ষা চালু করেন এবং ব্রাহ্মণ ছাড়াও সকল বর্ণের ছাত্রের প্রবেশাধিকার চালু করেন।
iv. মেট্রোপলিটন স্কুল: 1872 সালে তিনি নিজে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে বিদ্যাসাগর কলেজ। এটি ছিল জাতীয় শিক্ষার এক উদাহরণ।
v. তিনি শিক্ষার সাথে সমাজ সংস্কারকে যুক্ত করেন – বিধবা বিবাহ, বাল্যবিবাহ বিরোধিতা ছিল তাঁর শিক্ষা চিন্তারই অংশ। হেয়ার পাশ্চাত্য শিক্ষার ভিত্তি গড়েন, আর বিদ্যাসাগর মাতৃভাষায় গণশিক্ষার ভিত্তি গড়ে বাংলাকে শিক্ষিত করেন।

4.5 গান্ধীজীর নেতৃত্বে ভারতের জাতীয় আন্দোলনের তিনটি পর্ব আলোচনা করো।
উত্তর: মহাত্মা গান্ধী 1915 সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে 1920 থেকে 1947 পর্যন্ত ভারতের জাতীয় আন্দোলনের অবিসংবাদী নেতা হয়ে ওঠেন। তাঁর নেতৃত্বে তিনটি বৃহৎ সর্বভারতীয় গণ আন্দোলন হয়।

i. অসহযোগ আন্দোলন (1920-22):
পটভূমি: রাওলাট আইন (1919) – বিনা বিচারে গ্রেপ্তার, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড (13 এপ্রিল 1919), খিলাফত আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে গান্ধীজী এই আন্দোলনের ডাক দেন। 1920 সালে নাগপুর কংগ্রেসে এই প্রস্তাব পাশ হয়।
কর্মসূচি: সরকারি স্কুল, কলেজ, আদালত, অফিস ও বিদেশি পণ্য বর্জন। ছাত্ররা স্কুল ছেড়ে জাতীয় বিদ্যালয়ে যোগ দেয়। চরকা, খাদি, হিন্দু-মুসলিম ঐক্য, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ ও তিলক স্বরাজ তহবিলে অর্থ সংগ্রহ ছিল গঠনমূলক কাজ।
গুরুত্ব: এটি ছিল প্রথম সর্বভারতীয় গণ আন্দোলন। কংগ্রেস অভিজাতদের দল থেকে জনগণের দলে পরিণত হয়। 1922 সালে চৌরিচৌরায় পুলিশ হত্যার ঘটনায় গান্ধীজী আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

ii. আইন অমান্য আন্দোলন (1930-34):
পটভূমি: সাইমন কমিশন বয়কট (1928), নেহেরু রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান এবং 1929 সালে লাহোর কংগ্রেসে পূর্ণ স্বরাজের দাবি।
কর্মসূচি: 1930 সালের 12 মার্চ গান্ধীজী সবরমতী থেকে ডান্ডি পর্যন্ত 240 মাইল পদযাত্রা (ডান্ডি মার্চ) করে 6 এপ্রিল লবণ আইন ভেঙে লবণ তৈরি করেন। এরপর লবণ আইন, বন আইন ভঙ্গ, খাজনা বন্ধ, বিদেশি পণ্য বর্জন, মদ দোকানে পিকেটিং চলে। নারী, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ব্যাপকভাবে অংশ নেয়। খান আবদুল গফফর খানের খুদাই খিদমতগার যোগ দেয়। এর ফলে গান্ধী-আরউইন চুক্তি (1931) ও দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক হয়।
গুরুত্ব: জাতীয়তাবাদ গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং নারী জাগরণ ঘটে।

iii. ভারত ছাড়ো আন্দোলন (1942):
পটভূমি: ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান ভারতের দরজায় চলে আসে।
কর্মসূচি: 1942 সালের 8 আগস্ট বোম্বেতে কংগ্রেস ‘ভারত ছাড়ো’ প্রস্তাব নেয় এবং গান্ধীজী ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ (Do or Die) মন্ত্র দেন। 9 আগস্ট সকালে সমস্ত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলে এটি নেতৃত্বহীন গণ আন্দোলনে পরিণত হয়। তমলুকে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার, বালিয়ায় সমান্তরাল সরকার গঠিত হয়, উষা মেহতা গোপন বেতার চালান।
গুরুত্ব: এটি ছিল স্বাধীনতার শেষ ও বৃহত্তম গণ আন্দোলন। ব্রিটিশ বুঝতে পারে এবার ভারত ছাড়তেই হবে। তিনটি আন্দোলনই ছিল অহিংস, গণভিত্তিক এবং স্বাধীনতা লাভের পথ প্রশস্ত করে।

Madhyamik History Model Answers-9

4.6 বাংলায় দলিত আন্দোলনের কারণ ও বিকাশ লেখো।
উত্তর: বাংলায় দলিত বলতে নমঃশূদ্র, বাউরি, বাগদি, মুচি, ডোম, হাড়ি প্রভৃতি অন্ত্যজ সম্প্রদায়কে বোঝায়।

কারণ:
i. সামাজিক কারণ: বর্ণবাদী হিন্দু সমাজে তাদের অস্পৃশ্য হিসাবে দেখা হত, মন্দিরে প্রবেশ, পুকুরের জল ব্যবহার, শিক্ষা গ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল।
ii. অর্থনৈতিক কারণ: জমিদার, মহাজনদের দ্বারা তারা কৃষি শ্রমিক হিসাবে শোষিত হত।
iii. শিক্ষার প্রসার: ব্রিটিশ আমলে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রচারে তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।

বিকাশ:
i. মতুয়া আন্দোলন (1870-): ফরিদপুরের ওড়াকান্দিতে হরিচাঁদ ঠাকুর (1812-1878) মতুয়া ধর্মমত প্রচার করেন। মতুয়া মানে হরি নামে মাতোয়ারা। তাঁর বাণী – ‘হাতে কাম মুখে নাম, জাতিভেদ মানি না, শিক্ষা নাও’। পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর (1846-1937) বহু স্কুল, ছাত্রাবাস তৈরি করেন, 1932 সালে মতুয়া মহাসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন এবং চাকরিতে সংরক্ষণ দাবি করেন। যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল 1940-এর দশকে আম্বেদকরের সাথে যুক্ত হয়ে তপশিলি ফেডারেশন গঠন করেন।
ii. বাউরি আন্দোলন: বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমানের বাউরিরা 1920-30 সালে শিক্ষা ও জমির দাবিতে আন্দোলন করে।
iii. নমঃশূদ্র সম্মেলন: 1911 সালে প্রথম নমঃশূদ্র সম্মেলন হয় এবং 1932 সালে তারা পৃথক নির্বাচনের দাবি তোলে।
iv. স্বাধীনতার পর: 1950 সালে সংবিধানে তপশিলি জাতি-উপজাতির জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ দেওয়া হয়। 1972 সালে মহারাষ্ট্রে দলিত প্যান্থার, 1984 সালে কাঁশিরামের বহুজন সমাজ পার্টি গঠিত হয় এবং বাংলায় মতুয়া মহাসংঘের পুনর্জাগরণ ঘটে। দলিত সাহিত্য ও রাজনীতিতে দলিত চেতনা বৃদ্ধি পায়। এই আন্দোলন বাংলায় সামাজিক ন্যায় ও রাজনৈতিক চেতনা জাগিয়ে তোলে।

4.7 1947 সালে দেশভাগের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তর: 1947 সালে ভারত বিভাগ ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা।

কারণ:
i. ব্রিটিশ বিভাজন নীতি: ব্রিটিশরা শুরু থেকেই ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতি নেয়। 1905 সালে বঙ্গভঙ্গ, 1909 সালে মর্লে-মিন্টো সংস্কারে পৃথক নির্বাচন, 1932 সালে সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা – এই নীতিগুলি হিন্দু-মুসলিম বিভেদ বাড়ায়।
ii. দ্বিজাতি তত্ত্ব: মুসলিম লীগের নেতা মহম্মদ আলি জিন্নাহ বলেন হিন্দু ও মুসলিম দুটি আলাদা জাতি, তাই তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান দরকার। 1940 সালে লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তান দাবি করা হয়।
iii. কংগ্রেস-লীগ বিরোধ: 1937 সালের নির্বাচনে কংগ্রেস-লীগ জোট না হওয়া, 1946 সালে ক্যাবিনেট মিশন ব্যর্থ হওয়ায় বিভেদ আরও বাড়ে।
iv. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা: 1946 সালের 16 আগস্ট কলকাতায় মুসলিম লীগের ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ পালনের সময় ভয়াবহ দাঙ্গা (Great Calcutta Killing) এবং পরে নোয়াখালী, বিহারে দাঙ্গা দেশভাগকে অনিবার্য করে তোলে।
v. ব্রিটিশ তাড়াহুড়ো: লর্ড মাউন্টব্যাটেন 1947 সালের 3 জুন পরিকল্পনায় তাড়াহুড়ো করে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা করেন। সীমানা নির্ধারণের জন্য র‍্যাডক্লিফ কমিশন মাত্র 5 সপ্তাহে সীমানা টেনে দেয়, যা আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

ফলাফল:
i. উদ্বাস্তু সমস্যা ও হত্যা: প্রায় 1 কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, প্রায় 10 লক্ষ মানুষ নিহত হয়, হাজার হাজার নারী নির্যাতিত হয়।
ii. দেশীয় রাজ্য সমস্যা: কাশ্মীর, জুনাগড়, হায়দ্রাবাদকে ভারতে যুক্ত করতে যুদ্ধ করতে হয়।
iii. অর্থনৈতিক সংকট: পাটকল ভারতে, পাট চাষ পাকিস্তানে, খাদ্য সংকট দেখা দেয়।
iv. স্থায়ী সাম্প্রদায়িকতা ও শত্রুতা: হিন্দু-মুসলিম বিভেদ স্থায়ী হয় এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে 1947, 1965, 1971, 1999 সালে যুদ্ধ হয়।

Madhyamik History Model Answers-9

4.8 স্বাধীনতার পর ভারতে শিক্ষা ও বিজ্ঞান ক্ষেত্রে উন্নয়নের বিবরণ দাও।
উত্তর: স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু শিক্ষা ও বিজ্ঞানকে জাতি গঠনের মূল হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করেন। তিনি বড় বাঁধ, কারখানাকে ‘আধুনিক ভারতের মন্দির’ বলতেন।

ক) শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন:
i. কমিশন: 1948-49 সালে রাধাকৃষ্ণন কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সংস্কারের জন্য গঠিত হয়, যার সুপারিশে 1956 সালে UGC গঠিত হয়। 1952-53 সালে মুদালিয়র কমিশন মাধ্যমিক শিক্ষা এবং 1964-66 সালে কোঠারি কমিশন 10+2+3 শিক্ষা কাঠামো, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা এবং মাতৃভাষায় শিক্ষার সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতেই 1968 সালে প্রথম জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরি হয়।
ii. প্রতিষ্ঠান: 1951 সালে খড়গপুরে প্রথম IIT, পরে বোম্বে, কানপুর, মাদ্রাজ, দিল্লিতে IIT, IIM, NCERT (1961), AIIMS (1956) এবং বহু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
iii. সাক্ষরতা: অপারেশন ব্ল্যাকবোর্ড, সর্বশিক্ষা অভিযান, মিড-ডে মিলের মাধ্যমে সাক্ষরতা 1951 সালে 18% থেকে বর্তমানে প্রায় 77% হয়েছে।

খ) বিজ্ঞান ক্ষেত্রে উন্নয়ন:
i. পরমাণু শক্তি: হোমি জে. ভাবার নেতৃত্বে 1948 সালে পরমাণু শক্তি কমিশন, 1957 সালে BARC এবং 1954 সালে ‘অপ্সরা’ পারমাণবিক চুল্লি চালু হয়। 1974 সালে পোখরানে প্রথম পরমাণু পরীক্ষা হয়।
ii. মহাকাশ: বিক্রম সারাভাইয়ের নেতৃত্বে 1962 সালে INCOSPAR, 1969 সালে ISRO, 1963 সালে থুম্বা রকেট কেন্দ্র স্থাপিত হয়। 1975 সালে প্রথম উপগ্রহ ‘আর্যভট্ট’ এবং 1980 সালে ‘রোহিনী’ উৎক্ষেপণ করা হয়।
iii. কৃষি ও শিল্প গবেষণা: ICAR, CSIR-এর অধীনে 40টি গবেষণাগার, সবুজ বিপ্লব (1960) – এম. এস. স্বামীনাথনের নেতৃত্বে এবং শ্বেত বিপ্লব – বর্গিস কুরিয়েনের নেতৃত্বে।
iv. বিজ্ঞান নীতি ও প্রতিরক্ষা: 1958 সালে প্রথম বিজ্ঞান নীতি প্রস্তাব এবং 1958 সালে DRDO গঠিত হয়। 1951-56 সালে ভাকরা-নাঙ্গাল, দামোদর উপত্যকার মতো বড় বাঁধ তৈরি হয়।

এর ফলে ভারত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃষি ও শিক্ষায় স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।

Madhyamik History Model Answers-9

বিভাগ – ঙ: ব্যাখ্যামূলক (8 নম্বর)

5.1 বাংলায় ছাপাখানা ও সংবাদপত্র কীভাবে জনমত গঠন ও শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা নেয়?
উত্তর: বাংলায় ছাপাখানা ও সংবাদপত্র নবজাগরণ ও জাতীয়তাবাদের প্রধান হাতিয়ার।

ছাপাখানা:
i. শুরু: 1778 সালে চার্লস উইলকিন্স, পঞ্চানন কর্মকার বাংলা হরফ তৈরি করেন। 1800 সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস – কেরি, মার্শম্যান বাইবেল, দিগদর্শন (1818), সমাচার দর্পণ (181viii. ছাপেন। 1818 সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য প্রথম বাঙালি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন – বাঙ্গাল গেজেট।
ii. শিক্ষা বিস্তারে: ছাপাখানায় বই সস্তা হয় – বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় (1855), বোধোদয়, অক্ষয়কুমার দত্তের বিজ্ঞান বই, মানচিত্র, অভিধান ছাপা হয়। গরিব ছাত্রও বই কিনতে পারে। স্কুল বুক সোসাইটি (181vii. সস্তায় পাঠ্যপুস্তক ছাপে।
iii. বিজ্ঞান চেতনা: বিজ্ঞান বই, বামাবোধিনী পত্রিকায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ ছাপা হয়।
iv. জাতীয়তাবাদ: আনন্দমঠ, গোরা, বর্তমান ভারত, নীলদর্পণ ছাপা হয়ে জাতীয়তাবাদ ছড়ায়। উপেন্দ্রকিশোরের ইউ রায় অ্যান্ড সন্স (189v. হাফটোন, রঙিন ছাপায় বিপ্লব আনে।

সংবাদপত্র:
i. জনমত গঠন: ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ (হরিশ মুখার্জী) নীল বিদ্রোহে কৃষকদের সমর্থন করে, ব্রিটিশ নীতি সমালোচনা করে। ‘সংবাদ প্রভাকর’ (ঈশ্বর গুপ্ত), ‘সোমপ্রকাশ’ (দ্বারকানাথ) সমাজ সংস্কারের কথা বলে।
ii. জাতীয়তাবাদ: ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’ (শিশির ঘোষ, 1868), ‘বঙ্গদর্শন’ (বঙ্কিম, 1872), ‘সঞ্জীবনী’ (কৃষ্ণকুমার মিত্র) বঙ্গভঙ্গ বিরোধী, স্বদেশি, বয়কট প্রচার করে। ‘যুগান্তর’, ‘বন্দেমাতরম’ বিপ্লবী পত্রিকা ব্রিটিশ বিরোধী লেখা ছাপে।
iii. ব্রিটিশ দমন: ব্রিটিশ সরকার 1878 সালে দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন করে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করতে চায়, কিন্তু পারেনি।

ছাপাখানা ও সংবাদপত্র ছাড়া বাংলায় গণশিক্ষা ও জাতীয়তাবাদ অসম্ভব ছিল।

Madhyamik History Model Answers-9

5.2 বাংলায় বিপ্লবী আন্দোলনের বিকাশ আলোচনা করো – অনুশীলন থেকে চট্টগ্রাম।
উত্তর: বাংলায় সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন বঙ্গভঙ্গ (190v. থেকে শুরু হয়ে 1934 পর্যন্ত চলে।
i. অনুশীলন সমিতি (1902): সতীশচন্দ্র বসু ও প্রমথনাথ মিত্র কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন, ঢাকায় পুলিন দাস। উদ্দেশ্য – শরীরচর্চা, লাঠিখেলা, বোমা তৈরি, ব্রিটিশ হত্যা। সদস্য – অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র ঘোষ, ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, রাসবিহারী বসু। 1908 সালে আলিপুর বোমা মামলায় অরবিন্দ সহ 39 জন গ্রেপ্তার, অরবিন্দ মুক্তি পেয়ে পন্ডিচেরি যান।
ii. যুগান্তর দল (1906): বারীন্দ্র ঘোষ ও ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত অনুশীলন থেকে বেরিয়ে যুগান্তর দল ও ‘যুগান্তর’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। কাজ – বোমা তৈরি, ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ। ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি 1908 সালের 30 এপ্রিল কিংসফোর্ডকে মারতে গিয়ে ভুল করে দুই ইংরেজ মহিলাকে হত্যা করেন, ক্ষুদিরামের ফাঁসি (11 আগস্ট 190viii. – বাংলার প্রথম শহীদ।
iii. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিপ্লবী প্রচেষ্টা: রাসবিহারী বসু ও বাঘা যতীন (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়) জার্মানির সাহায্যে সশস্ত্র বিদ্রোহের চেষ্টা করেন। 1915 সালে বালেশ্বরে বুড়িবালামের যুদ্ধে বাঘা যতীন শহীদ হন।
iv. HSRA ও উত্তর ভারতের সাথে যোগ: 1928 সালে ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদ HSRA গঠন করেন, বাংলার বিপ্লবীরা তাদের সাথে যুক্ত হন।
v. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন (1930): মাস্টারদা সূর্যসেন (সূর্য সেন) 1930 সালের 18 এপ্রিল চট্টগ্রামে ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি গঠন করে সরকারি অস্ত্রাগার লুঠ করেন, 4 দিন চট্টগ্রাম স্বাধীন রাখেন, টেলিগ্রাফ, রেল বিচ্ছিন্ন করেন। জালালাবাদ পাহাড়ে ব্রিটিশ সেনার সাথে যুদ্ধ হয়।
পরে সূর্যসেন, তারকেশ্বর দস্তিদার, কল্পনা দত্ত, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ধরা পড়েন। প্রীতিলতা 1932 সালে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন, সূর্যসেনের ফাঁসি হয় 1934 সালের 12 জানুয়ারি।

গুরুত্ব: বিপ্লবী আন্দোলন ব্রিটিশকে ভয় পাইয়ে দেয়, যুব সমাজের মধ্যে দেশপ্রেম জাগায়, যদিও সংগঠন, অর্থ, অস্ত্রের অভাবে ব্যর্থ হয়, কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনকে শক্তিশালী করে এবং নেতাজির INA এর অনুপ্রেরণা হয়।

Madhyamik History Model Answers-9

5.3 স্বাধীনতার পর ভারতে উদ্বাস্তু সমস্যা ও রাজ্য পুনর্গঠন আন্দোলনের ইতিহাস লেখো।
উত্তর: উদ্বাস্তু সমস্যা:
1947 সালে দেশভাগের ফলে প্রায় 1 কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পাঞ্জাবে 50 লক্ষ শিখ-হিন্দু ভারতে, মুসলিম পাকিস্তানে যায় – জনসংখ্যা বিনিময়। কিন্তু বাংলায় শুধু হিন্দুরা আসে, মুসলিমরা যায় না – ফলে পশ্চিমবঙ্গে 50 লক্ষ উদ্বাস্তু, 1971 সালে বাংলাদেশ যুদ্ধে আরও 1 কোটি।

সমস্যা:
i. খাদ্য, বাসস্থান, চাকরি সংকট – শিয়ালদহ স্টেশন, ধুবুলিয়া, কুপার্স ক্যাম্প।
ii. জবরদখল কলোনি – যাদবপুর, বিজয়গড়, নেতাজিনগর – 150টি কলোনি।
iii. সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চাপ।

সরকারের পদক্ষেপ:
i. ত্রাণ ও শিবির, জবরদখল কলোনিকে স্বীকৃতি (1950-51), ঋণ, জমি, দোকান, চাকরিতে সংরক্ষণ, উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দপ্তর।
ii. দণ্ডকারণ্য প্রকল্প (195viii. – মধ্যপ্রদেশ-ওড়িশায় চাষের জমি, আন্দামানে পুনর্বাসন – কিন্তু বাঙালিরা যেতে চায়নি।
iii. উদ্বাস্তুরা নিজ চেষ্টায় জীবন গড়ে, বাংলার অর্থনীতি, সংস্কৃতি, রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে – বামপন্থী আন্দোলন শক্তিশালী হয়।

রাজ্য পুনর্গঠন আন্দোলন:
স্বাধীনতার সময় ব্রিটিশ প্রদেশ ছিল, ভাষা ভিত্তিক রাজ্য ছিল না। কংগ্রেস 1920 সালে ভাষা ভিত্তিক প্রদেশের প্রতিশ্রুতি দিলেও নেহেরু জাতীয় ঐক্যের জন্য রাজি ছিলেন না।

আন্দোলন:
i. তেলেগু ভাষীদের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ দাবিতে পট্টি শ্রীরামুলু 1952 সালে 58 দিন অনশন করে মারা যান (15 ডিসেম্বর 1952)।
ii. সারা ভারতে ভাষা আন্দোলন ছড়ায়।
iii. সরকার 1953 সালের ডিসেম্বরে ফজল আলির নেতৃত্বে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠন করে – সদস্য – হৃদয়নাথ কুঞ্জরু, কে. এম. পানিক্কর। 1955 সালে রিপোর্ট দেয় – ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য গঠন করা যায়।

ফলাফল:
i. 1956 সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনে 14টি রাজ্য ও 6টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠিত হয়।
ii. 1953 সালে অন্ধ্রপ্রদেশ প্রথম ভাষা ভিত্তিক রাজ্য হয়।
iii. 1960 সালে বোম্বে থেকে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট, 1966 সালে পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানা, হিমাচল, 2000 সালে ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, উত্তরাখণ্ড।
iv. ভাষা ভিত্তিক রাজ্য গঠনে আঞ্চলিক ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ হয়, কিন্তু আঞ্চলিকতাবাদও বাড়ে।

উদ্বাস্তু সমস্যা ও রাজ্য পুনর্গঠন স্বাধীন ভারতের দুটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা ভারতের গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করে।

—    ➣ Next set


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading