Rajendra Prasad – India’s First President
Rajendra Prasad – India’s First President
1947 সালের 15ই আগস্ট স্বাধীন ভারতের আত্মপ্রকাশ। সেই সময়কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রপতি ও তাঁদের কার্যকাল ভারতের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য তাদের কার্যাবলী সম্পাদন করেন। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি এবং তাঁদের কার্যকালে সংঘটিত ঘটনাবলী থেকে WBCS, SSC, UPSC, Railway এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে বিভিন্ন প্রশ্ন এসে থাকে। ঘটনাপরম্পরা সমন্ধে সম্যক ধারণা থাকলে এই প্রশ্নগুলির উত্তর সহজেই দেওয়া সম্ভব। বিষয়টি মাথায় রেখে গল্পের ছলে ভারতের বিভিন্ন রাষ্ট্রপতির কার্যকাল ও তাঁদের সময়কালীন ঘটনাবলী উপস্থাপন করা হল President’s Story তে। Dr. Rajendra Prasad পোস্টে থাকছে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতির (Rajendra Prasad – India’s First President) ব্যক্তিগত জীবন ও তাঁর দুইবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের অজানা কাহিনী সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি।
ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ- ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি

ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন – রাজেন্দ্র প্রসাদ বনাম কে.টি. শাহ : স্বাধীন ভারতের প্রথম মনোনীত (Nominated) রাষ্ট্রপতি ছিলেন ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ। তৎকালীন গণপরিষদ (Constituent Assembly) 1950 সালের 24শে জানুয়ারি তাঁকে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসাবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করে। কিন্তু 1952 সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর সংবিধান অনুযায়ী নতুন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার প্রয়োজন হয়। এখানেই শুরু হয় নাটক।
নেহেরুর পছন্দ ছিলেন চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারি (রাজাজি)। অক্সফোর্ড শিক্ষিত, ধর্মনিরপেক্ষ, বুদ্ধিজীবী, যিনি নেহেরুর মতই আধুনিক ভারত চাইতেন। গান্ধীজি বেঁচে থাকলে তিনিও রাজাজিকেই সমর্থন করতেন। অন্যদিকে প্যাটেলের পছন্দ রাজেন্দ্র প্রসাদ। বিহারের কৃষক পরিবারের ছেলে, গান্ধীর একনিষ্ঠ অনুগামী, হিন্দি ও হিন্দু ঐতিহ্যের প্রতীক, কংগ্রেসের সংগঠনের মানুষ।
Rajendra Prasad – India’s First President
1950 সালের 1ই ডিসেম্বর সর্দার প্যাটেল মারা যান। কিন্তু তার আগেই তিনি কংগ্রেসের ভিতরে প্রসাদের জন্য লবি তৈরি করে দিয়ে গেছিলেন। নেহেরু একা হয়ে যান। শেষে কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টি ভোটাভুটি করে – 507 টা ভোটের মধ্যে প্রসাদ পান 500-র বেশি।
বিরোধীরা প্রার্থী করেন প্রফেসর কে.টি. শাহ-কে। তিনি বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক, গণপরিষদের সদস্য। তিনি নিজে বলেছিলেন, “আমি জানি হারব, কিন্তু ইতিহাসে থাকুক যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একদলীয় ছিল না।” ফলাফল, প্রসাদ 5,07,400 ভোট (83.81%), কে.টি. শাহ 92,827 ভোট (15.33%)।
➣পড়ুন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী’র গল্প
Rajendra Prasad – India’s First President
💠ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ (Dr. Rajendra Prasad) : স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচিত (Elected) রাষ্ট্রপতি হলেন ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ। 1952 সালের 2রা মে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি 5,07,400 ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কে.টি. শাহকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। তিনি 1952 সালের 13ই মে থেকে 1957 সালের 12ই মে পর্যন্ত 5 বছর তাঁর প্রথম নির্বাচিত কার্যকাল অতিবাহিত করেন।
তাঁর এই সময়কালে – i. 1952 সালে প্রথম লোকসভা গঠন ও নেহেরুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার নিয়োগ। ii. 1953: রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠনে সই। iv. 1954 সালে ভারতরত্ন পুরস্কার প্রবর্তন – প্রথম প্রাপক রাজাজি, রাধাকৃষ্ণন ও সি.ভি. রমন। প্রসাদ নিজে 1962 সালে ভারতরত্ন পান। v. 1955 সালে হিন্দু বিবাহ আইন, হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে শেষ পর্যন্ত সই করেন, তবে নোট লেখেন “আমার আপত্তি রইল”। vi. 1956 সালে রাজ্য পুনর্গঠন আইনে সই – 14টি রাজ্য ও 6টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠিত হয়।
Rajendra Prasad – India’s First President
ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ – দ্বিতীয় কার্যকাল : 1952 থেকে 1957 – এই 5 বছরে নেহেরু প্রতিদিন টের পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি ভবনে একজন “প্রশ্ন করা মানুষ” বসে আছেন। হিন্দু কোড বিলে আপত্তি, সোমনাথ মন্দিরে যাওয়া, ফাইলে নোট লেখা – নেহেরু বিরক্ত। 1957 সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই নেহেরু ঠিক করে ফেলেছিলেন, এবার প্রসাদকে নয়। নেহেরুর গোপন প্ল্যান ছিল তাঁর পছন্দ উপরাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন। বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক, অক্সফোর্ডে ভারতের মুখ, যিনি রাজনীতিতে নাক গলাবেন না। নেহেরু মৌলানা আজাদকে দিয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিতে প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু সর্দার প্যাটেল না থাকলেও তাঁর লবি ছিল – গোবিন্দ বল্লভ পন্থ, সম্পূর্ণানন্দ, অনুগ্রহ নারায়ণ সিনহা। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন – “প্রসাদ বিহার-ইউপির কৃষক সমাজের প্রতীক। তাঁকে সরালে কংগ্রেসে ভাঙন ধরবে। আর রাধাকৃষ্ণন দক্ষিণী, ব্রাহ্মণ, সংস্কৃতপন্থী – উত্তর ভারত মানবে না।” শেষে নেহেরুকে পিছিয়ে আসতে হয়। কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে প্রসাদকেই প্রার্থী করে। বিরোধীদের অবস্থা ছিল করুণ। সিপিআই, সোসালিস্ট পার্টি একসাথে প্রার্থী দেয় পাঞ্জাবের এক দলিত নেতা চৌধুরী হরি রাম-কে। আর নির্দল হিসেবে দাঁড়ান বাংলার প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল নগেন্দ্র নারায়ণ দাস। ফলাফল ছিল প্রহসন, রাজেন্দ্র প্রসাদ পান 4,59,698 ভোট (98.99%), যা ভারতের ইতিহাসে আজও রেকর্ড। অন্যদিকে চৌধুরী হরি রাম 2,665 ভোট (0.57%) এবং নগেন্দ্র নারায়ণ দাস: 2,000 ভোট (0.43%) পেয়ে এই ইতিহাসের স্বাক্ষী থাকেন ।
ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ দ্বিতীয় কার্যকাল হিসাবে 13 মে 1957 থেকে 13 মে 1962 পর্যন্ত দ্বায়িত্ব পালন করেন । বয়স তখন 72 বছর। ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তবুও তিনি রোজ ভোর 4টেয় উঠে গীতা পাঠ করতেন, তারপর ফাইল দেখতেন। এই মেয়াদেই তিনি প্রমাণ করেন রাষ্ট্রপতি শুধু “নামমাত্র প্রধান” নন। তাঁর এই 5 বছর ছিল স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে উত্তাল সময়, এই সময়ে 1957 – i. 5ই এপ্রিল – কেরালায় ই.এম.এস. নাম্বুদিরিপাদের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার গঠিত হয়। নেহেরু চাননি। কিন্তু প্রসাদ বলেন – “সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে ডাকতে হবে।” তিনি অনুমতি দেন। ii. 14ই মে তিনি দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ। শপথের পর ভাষণে বলেন – “রাষ্ট্রপতি ভবন হবে গরিবের কুটির।”
1958 – iii. 18ই ফেব্রুয়ারি – প্রসাদ রাষ্ট্রপতি ভবনের ব্রিটিশ আমলের 350 জন কর্মচারীকে ছাঁটাই করে খরচ কমান। নিজের বেতন 10,000 থেকে 6,000 করেন। iv. 7 জুনই – ভারতের প্রথম সাবমেরিন প্রকল্পে সই।
1959 সালে তিনি দুটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যথাঃ v. 31শে জুলাই তিনি কেরালা সরকারকে বরখাস্ত করেন। “বিমোচন সমরম” আন্দোলনের নামে কংগ্রেসের আন্দোলন। রাজ্যপালের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রসাদ প্রথমবার 356 ধারা প্রয়োগ করেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আজও বিতর্ক আছে – রাষ্ট্রপতি কি কেন্দ্রের হাতের পুতুল হলেন? vi. 3রা সেপ্টেম্বর – দালাই লামা মুসৌরিতে পৌঁছালে প্রসাদ তাঁকে রাষ্ট্রপতি ভবনে ব্যক্তিগতভাবে ডেকে 2 ঘণ্টা কথা বলেন। নেহেরু চীনকে ভয় পাচ্ছিলেন, কিন্তু প্রসাদ বলেন – “ধর্মের আশ্রয় দেওয়া ভারতের কর্তব্য।”
1960 – vii. প্রসাদের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি ভবনের মুঘল গার্ডেন সাধারণ মানুষের জন্য বছরে 1 মাস খুলে দেওয়া হয় – প্রথমবার। viii. 1লা মে – বোম্বে রাজ্য ভেঙে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট গঠন বিলে সই করেন।
1961 ix. 17-19-শে ডিসেম্বর – অপারেশন বিজয়। 450 বছর পর গোয়া, দমন, দিউ পর্তুগিজদের থেকে মুক্ত। প্রসাদ সেনাবাহিনীকে লিখিত আদেশ দেন – “কোনো রক্তপাত ছাড়া গোয়া মুক্ত করো।” x. 6-11-ই সেপ্টেম্বর – বেলগ্রেডে প্রথম জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন – নেহেরু যান, প্রসাদ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।
1962 – xi. 26শে অক্টোবর – চীন ভারত আক্রমণ করে। নেহেরু আতঙ্কিত হয়ে প্রসাদের কাছে আসেন। প্রসাদ 26 অক্টোবর রাত 10টায় জাতীয় জরুরি অবস্থা (352 ধারা) জারিতে সই করেন, যা ছিল স্বাধীন ভারতের প্রথম জরুরি অবস্থা। xii. নভেম্বরে চীন যুদ্ধে পরাজয়ের পর প্রসাদ নেহেরুকে চিঠি লেখেন – “সেনাবাহিনীকে অবহেলা করেছ, তার ফল ভুগছ।” xiii. 13-ই মে 1962-তে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে তিনি সোজা পাটনার সদাকত আশ্রমে এক কামরার ঘরে পৌঁছে যান। তাঁর সম্বল ছিল একটি চরকা, কিছু বই, আর 1432 টাকা।
Rajendra Prasad – India’s First President
🔷 ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ 1884 সালের 3রা ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বিহারের সিওয়ান জেলার জিরাদেই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতা ছিলেন কমলেশ্বরী দেবী এবং পিতা মহাদেব সহায়। তিনি ছিলেন কায়স্থ পরিবারের সন্তান।
1902 সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং 1906 সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক হন। 1907 সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এম.এ. পাশ করেন। এরপর আইনে স্বর্ণপদক সহ পাশ করে 1911 সালে পাটনা হাইকোর্টে ওকালতি শুরু করেন।
1910-এর দশকে তিনি গান্ধীর সংস্পর্শে আসেন। 1917 সালে চম্পারণ সত্যাগ্রহে গান্ধীর সাথে যোগ দেন এবং ওকালতি ছেড়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসহযোগ আন্দোলন, লবণ সত্যাগ্রহ ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। 1934, 1939 এবং 1947 সালে তিনবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। 1946 সালে তিনি সংবিধান সভার সভাপতি নির্বাচিত হন।
1950 সালের 26শে জানুয়ারি সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর তিনি ভারতের প্রথম মনোনীত রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন। এরপর 1952 ও 1957 সালে দুইবার নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন – ভারতের ইতিহাসে একমাত্র রাষ্ট্রপতি যিনি দুবার পূর্ণ মেয়াদে ছিলেন। তাঁর মোট কার্যকাল ছিল 12 বছর 3 মাস, যা আজ পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ।
1962 সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারত রত্ন লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বারাণসী, এলাহাবাদ ও পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট উপাধিতে সম্মানিত হন। রাজেন্দ্র প্রসাদ “দেশরত্ন” ও “বিহার গান্ধী” নামেও জনপ্রিয় ছিলেন। রাজেন্দ্র প্রসাদের লেখা বইগুলি হলঃ “Satyagraha at Champaran” (1922), আত্মজীবনী “Atmakatha” (1946), “India Divided” (1946), “Mahatma Gandhi and Bihar” (1949)।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.