Second President – Radhakrishnan
Second President – Radhakrishnan
1947 সালের 15ই আগস্ট স্বাধীন ভারতের আত্মপ্রকাশ। সেই সময়কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রপতি ও তাঁদের কার্যকাল ভারতের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য তাদের কার্যাবলী সম্পাদন করেন। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি এবং তাঁদের কার্যকালে সংঘটিত ঘটনাবলী থেকে WBCS, SSC, UPSC, Railway এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে বিভিন্ন প্রশ্ন এসে থাকে। ঘটনাপরম্পরা সমন্ধে সম্যক ধারণা থাকলে এই প্রশ্নগুলির উত্তর সহজেই দেওয়া সম্ভব। বিষয়টি মাথায় রেখে গল্পের ছলে ভারতের বিভিন্ন রাষ্ট্রপতির কার্যকাল ও তাঁদের সময়কালীন ঘটনাবলী উপস্থাপন করা হল President’s Story তে। Second President – Radhakrishnan পোস্টে থাকছে ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত জীবন ও তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের অজানা কাহিনী সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি।
ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন – ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি

⟽ পূর্ববর্তী অংশ : ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ- ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি
দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন : স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ 12 বছর রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকার পর 1962 সালে অবসর নিতে চাইলেন। কিন্তু নেহেরুর সামনে সমস্যা – প্রসাদের পর কে? নেহেরুর পছন্দ আগে থেকেই ঠিক ছিল – ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন। অক্সফোর্ডের অধ্যাপক, দার্শনিক, যিনি পশ্চিমকে বেদান্ত শিখিয়েছিলেন। 1952 সাল থেকেই তিনি উপরাষ্ট্রপতি। নেহেরু বলতেন, “রাধাকৃষ্ণন রাষ্ট্রপতি ভবনে গেলে রাষ্ট্রপতি ভবনই ধন্য হবে।” কিন্তু কংগ্রেসের ভিতরে অন্য নামও ছিল – জাকির হোসেন। শিক্ষাবিদ, মুসলিম মুখ, যিনি পরে 1967 সালে রাষ্ট্রপতি হন। কিন্তু 1962 সালে নেহেরু রাধাকৃষ্ণনকেই চাইলেন। কারণ 1962 সালে চীন যুদ্ধের আবহে একজন বিশ্ববরেণ্য দার্শনিককে রাষ্ট্রপতি করা বিশ্বকে বার্তা দেবে যে ভারত বুদ্ধির দেশ। বিরোধীরা আবার প্রার্থী দিল চৌধুরী হরি রামকে। পাঞ্জাবের কৃষক নেতা। তিনি 1957 সালেও রাজেন্দ্র প্রসাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, 1962 সালেও দাঁড়ালেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি হারব জানি, কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কৃষকের কণ্ঠ থাকা দরকার।” তার সঙ্গে ছিলেন যামিনী দাস। ফলাফল একতরফা। রাধাকৃষ্ণন পেলেন 5,53,067 ভোট (98.25%) – ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চৌধুরী হরি রাম মাত্র 6,341 ভোট (1.14%) এবং যামিনী দাস 3,346 ভোট (0.61%)।
Second President – Radhakrishnan
💠 ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন (Dr. Sarvepalli Radhakrishnan) : স্বাধীন ভারতের দ্বিতীয় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হলেন ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন। তিনি ইতিপূর্বে 13 মে 1952 – 12 মে 1962 পর্যন্ত 10 বছরে 2 বার উপরাষ্ট্রপতি পদে কার্য নির্বাহ করেন । 1962 সালের 13ই মে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসাবে কার্যভার গ্রহণ করেন এবং 1967 সালের 13ই মে পর্যন্ত কার্য নির্বাহ করেন । এই 5 বছরকে বলা হয় “3 প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতি” – কারণ রাধাকৃষ্ণনকেই 3 জন প্রধানমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পড়াতে হয়।
তাঁর এই সময়কালে :
1962 : i. 20 অক্টোবর – চীন-ভারত যুদ্ধ শুরু। স্বাধীন ভারতের প্রথম যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রপতি তিনি। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে তিনি সেনাবাহিনীর জন্য রক্তদান শিবির চালু করেন এবং নিজের বেতনের এক মাসের টাকা যুদ্ধ তহবিলে দেন।
ii. 26 অক্টোবর – দ্বিতীয়বার জাতীয় জরুরি অবস্থা জারিতে সই (প্রথমবার 1962-র আগেই প্রসাদ করেছিলেন, কিন্তু এবার যুদ্ধের কারণে পূর্ণাঙ্গ)। এই জরুরি অবস্থা 1968 পর্যন্ত চলে।
1963 : iii. 21 ফেব্রুয়ারি – রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রথমবার “দার্শনিক সম্মেলন” – যেখানে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের উপনিষদ ও গীতার ব্যাখ্যা দিতেন। তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনকে “চিন্তার কেন্দ্র” বানাতে চেয়েছিলেন।
iv. 10 ডিসেম্বর – নাগাল্যান্ড রাজ্য গঠন বিলে সই। ভারতের 16তম রাজ্য হিসাবে নাগাল্যান্ড আত্মপ্রকাশ করে।
1964 – নেহেরু পরবর্তী ভারত : v. 27 মে সকাল 2টো – নেহেরুর মৃত্যু। রাধাকৃষ্ণন সকাল 6টায় গুলজারিলাল নন্দকে অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান – সংবিধানে অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রীর কোনো পদ নেই, কিন্তু প্রথা তৈরি করেন তিনি।
vi. 9 জুন – কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টি লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে নেতা নির্বাচিত করলে রাধাকৃষ্ণন তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। তিনি শাস্ত্রীকে বলেন – “আপনি ছোট মানুষ, কিন্তু বড় দায়িত্ব।”
vii. 5 সেপ্টেম্বর – তাঁর জন্মদিন (5ই সেপ্টেম্বর 1888) প্রথমবার “শিক্ষক দিবস” হিসেবে পালিত হয় – ছাত্রদের অনুরোধে। তিনি বলেন – “আমার জন্মদিন পালনের বদলে শিক্ষকদের সম্মান করো।”
1965 : viii. 5 আগস্ট – ভারত-পাক যুদ্ধ শুরু। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধের সব ফাইলে সই করেন।
ix. পাকিস্তান লাহোর দখলের চেষ্টা করলে তিনি দিল্লীতে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন এবং আকাশবাণীতে জাতির উদ্দেশ্যে বলেন – “পাকিস্তান ভুল করেছে, ভারত এক।”
1966 – ভারতের মোড় ঘোরানো বছর : x. 11 জানুয়ারি রাত 1:32 – তাসখন্দে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু। রাধাকৃষ্ণন আবার গুলজারিলাল নন্দকে 11 ঘণ্টার মধ্যে অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী করেন।
xi. 19 জানুয়ারি – কংগ্রেসে ভোট – ইন্দিরা গান্ধী 355 ভোট, মোরারজি দেশাই 169 ভোট। রাধাকৃষ্ণন 24 জানুয়ারি ইন্দিরা গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। এই একটি সই ভারতের পরবর্তী 20 বছরের রাজনীতি বদলে দেয়।
xii. 10 অক্টোবর – পাঞ্জাব পুনর্গঠন আইনে সই – পাঞ্জাব ও হরিয়ানা আলাদা রাজ্য হয়, হিমাচল প্রদেশ কেন্দ্রশাসিত থেকে পূর্ণ রাজ্যের পথে।
1967 : xiii. 13 মে – অবসর গ্রহণ। তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনের সব কর্মচারীকে নিজের লেখা বই উপহার দেন এবং বলেন – “রাষ্ট্রপতি ভবন আমার কাছে মন্দির ছিল।”
Second President – Radhakrishnan
🔷 ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ : 1888 সালের 5ই সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির তিরুত্তনিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতা ছিলেন সীতাম্মা এবং পিতা সর্বপল্লী বীরস্বামী। তিনি ছিলেন তেলুগু ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। গ্রামের স্কুলে পড়ার সময়ই বেদ, উপনিষদ মুখস্থ বলতে পারতেন।
1904 সালে তিনি মাদ্রাজের ভেলোরের Voorhees College থেকে স্নাতক হন এবং 1906 সালে মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজ থেকে দর্শনে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এম.এ. পাশ করেন। তাঁর এম.এ. থিসিস ছিল “The Ethics of the Vedanta”। এই থিসিস পড়ে অধ্যাপকরা বলেছিলেন – এই ছেলে একদিন ভারতের দর্শনকে বিশ্বে পৌঁছে দেবে। এরপর তিনি মাদ্রাজ, মহীশূর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের অধ্যাপক হিসাবে অধ্যাপনা শুরু করেন। ছাত্ররা তাঁকে “দর্শনের জাদুকর” বলত।
1931 সালে তিনি অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং 1939 সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন। বেনারসে থাকাকালীন তিনি মালব্যজির সাথে কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক করেন।
1920-এর দশকে তিনি ভারতীয় দর্শনকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেন। 1926 সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং 1929 সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভারতীয় দর্শনের ওপর বক্তৃতা দেন। 1929 থেকে 1939 পর্যন্ত তিনি অক্সফোর্ডে প্রাচ্য ধর্ম ও নীতিশাস্ত্রের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর বক্তৃতা শুনে ব্রিটিশরা বলেছিল – ভারতের দর্শনও বিশ্বকে শেখাতে পারে।
1947 সালে স্বাধীনতার পর তিনি ইউনেস্কোতে ভারতের প্রতিনিধি হন। 1946 সালে তিনি সংবিধান সভার সদস্য হিসেবে ইউনেস্কোতে ভারতের সংবিধান নিয়ে বক্তব্য রাখেন। 1949 থেকে 1952 সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। স্ট্যালিনের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল। একবার স্ট্যালিনের সাথে দেখা করতে গিয়ে তিনি স্ট্যালিনের গালে হাত বুলিয়ে বলেছিলেন – আপনি তো দেখতে সুন্দর, ভয় পাওয়ার মতো নন। স্ট্যালিন হেসে বলেছিলেন – আপনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আমাকে মানুষ হিসাবে দেখলেন।
Second President – Radhakrishnan
1952 থেকে 1962 সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে 10 বছর 2 বার দায়িত্ব পালন করেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি সংসদকে গীতার শ্লোক দিয়ে শুরু করতেন।
1962 সালের 13ই মে তিনি ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন এবং 1967 সালের 13ই মে পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই 5 বছরকে 3 প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতি বলা হয় – কারণ তিনি নেহেরু, শাস্ত্রী, ইন্দিরা গান্ধী তিনজনকেই শপথ পড়ান। এই সময়ে 1962 চীন যুদ্ধ, 1965 পাকিস্তান যুদ্ধ, নেহেরুর মৃত্যু, শাস্ত্রীর তাসখন্দে মৃত্যু, পাঞ্জাব-হরিয়ানা বিভাজন, নাগাল্যান্ড রাজ্য গঠন সবকিছু তাঁর সইয়ে হয়।
1931 সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে “স্যার” উপাধি দেয়, যা তিনি স্বাধীনতার পর ত্যাগ করেন। 1954 সালে তিনি ডঃ চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন ও চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারীর সাথে প্রথম তিনজনের মধ্যে একজন হিসাবে ভারত রত্ন সম্মান লাভ করেন। 1963 সালে তিনি ব্রিটিশ অর্ডার অফ মেরিট সম্মান লাভ করেন – যা ব্রিটেনের সর্বোচ্চ সম্মান, রানি নিজে দেন। 1975 সালে তাঁর জন্মদিন 5ই সেপ্টেম্বর ভারতে শিক্ষক দিবস হিসাবে ঘোষিত হয় – ছাত্রদের অনুরোধে তিনি বলেছিলেন আমার জন্মদিন নয়, শিক্ষকদের সম্মান করো।
রাধাকৃষ্ণন “দার্শনিক রাষ্ট্রপতি” নামেও জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে কোনো রাজনৈতিক ছবি রাখেননি, শুধু বই রাখতেন। তিনি বলতেন – আমি রাষ্ট্রপতি নই, আমি আজীবন শিক্ষক।
তাঁর লেখা বিখ্যাত বইগুলি হল: The Philosophy of Rabindranath Tagore (1918), Indian Philosophy – 2 খণ্ড (1923-1927), আত্মজীবনী My Search for Truth, The Hindu View of Life (1926), An Idealist View of Life (1929)।
➣মাধ্যমিক 2027 – সব বিষয়ের মডেল প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পড়তে ক্লিক/টাচ করুন
➣দেখুন : SLST Geography Mega Preparation
➣দেখুন: আপার প্রাইমারি টেস্ট পরীক্ষা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.