NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

NIRYAS.IN

শিক্ষাদান বাগানের মালির মতো

উচ্চ প্রাথমিক টেট নির্যাস

Child Development Concept & Principle-2

Child Development Concept & Principle

শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে । ঘোষণা হয়েছে 50000 শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি । আগামি পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । হয়তো পরবর্তী দুটি নিয়োগে সিট সংখ্যা বেশি থাকবে, তারপর ধীরে ধীরে সিট কমে যাবে । তাই ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে নিজেকে দাঁড়করাতে চাইলে প্রস্তুতি নিন এখন থেকে । বিজ্ঞপ্তির আশায় বসে থাকলে সময় নষ্ট হবে । পরীক্ষা যখন হবেই তখন প্রস্তুতি ফেলে রাখা উচিৎ নয় তাই আমাদের প্রচেষ্টা আপনাদের হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়ালস তুলে দেওয়া। Child Development Concept & Principle টপিকটি  Upper Primary TET  এর প্রস্তুতির জন্য এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক।


Upper Primary TET Mega Preparation

[ব্ল্যাকবোর্ড ডাকছে তোমায়]

➣ Join : Our Telegram Channel

➣ Join : Our Whats App Group


Upper Primary TET CDP

শিশুর বিকাশ : ধারণা ও নীতি 

Child Development - Concept & Principle

শিশুর বিকাশ : ধারণা ও নীতি-2

[Child Development Concept & Principle-2]

⟽ পূর্ববর্তী অংশ

১.২.৪ ও ১.২.৫. দিক নির্ণয়ের দুটি জমজ নীতি :
এই দুটো নীতি একসাথে মনে রাখতে হবে, ছবি ছাড়া বোঝা যাবে না।

ক. মস্তকাধোমুখী নীতি (Cephalo-caudal Principle) – মাথা থেকে পা : Cephalo মানে মাথা, Caudal মানে লেজ বা পা। অর্থাৎ বিকাশের দিক হলো মাথা থেকে পায়ের দিকে।
মাস অনুযায়ী গল্পটি মনে রাখুন, TET-এ সরাসরি আসে:
জন্ম থেকে ২-৩ মাস: শিশু প্রথমে মাথা তুলতে শেখে।
– ৪-৫ মাস: বুকে ভর দিয়ে মাথা আরও শক্ত করে তোলে।
– ৬-৮ মাস: মেরুদণ্ড শক্ত হয়, সে বসতে শেখে।
– ৯-১২ মাস: পায়ে শক্তি আসে, সে দাঁড়াতে ও হাঁটতে শেখে।
কখনো কি দেখেছেন, কোনো শিশু আগে হাঁটতে শিখেছে, পরে মাথা তুলতে শিখেছে? অসম্ভব। কারণ বিকাশের নিয়মই হলো মাথা থেকে পা।

খ. নিকট-দূর নীতি (Proximo-distal Principle) – কেন্দ্র থেকে বাইরে : Proximo মানে কেন্দ্রের কাছাকাছি, Distal মানে দূরে। অর্থাৎ বিকাশ শরীরের কেন্দ্র থেকে বাইরের অঙ্গের দিকে যায়।
গল্পটি বুঝুন: শিশু যখন কিছু ধরতে চায়, তখন-
– প্রথমে সে পুরো কাঁধ নাড়ায়।
– তারপর কনুই ভাঁজ করতে শেখে।
– তারপর কব্জি ঘোরাতে শেখে।
– সবশেষে আঙুলের সূক্ষ্ম কাজ শেখে।
তাই তো শিশুরা প্রথমে কাঁধ দিয়ে আঁকিবুঁকি কাটে, পরে আঙুল দিয়ে সুন্দর হাতের লেখা লেখে।

Child Development Concept & Principle-2

১.২.৬. পরস্পর নির্ভরশীলতার নীতি (Principle of Interdependence) :
মূল কথা: বিকাশের একটি দিক আরেকটির উপর নির্ভরশীল। একটি খারাপ হলে, আরেকটিও খারাপ হয়।
এটাকে বলে All-round Development-এর মূলমন্ত্র।

উদাহরণ: মনে করুন, রহিমের পায়ে পোলিও আছে, সে ভালোভাবে হাঁটতে পারে না (শারীরিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত)। সে মাঠে খেলতে যেতে পারে না, বন্ধুদের সাথে মিশতে পারে না (সামাজিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত)। বন্ধুরা তাকে খেপায় বলে সে সবসময় মনমরা হয়ে থাকে (আবেগীয় বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত)। আর মন খারাপ থাকায় তার পড়ায় মন বসে না (মানসিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত)। দেখলেন, একটি বাধা কীভাবে সব বিকাশকে টেনে ধরে?

শিক্ষকের জন্য শিক্ষা: তাই NEP 2020 বলছে, শুধু পড়া পড়া করলে হবে না। খেলাধুলা, গান, ছবি আঁকা, Mid-Day Meal, আনন্দদায়ক পরিবেশ – সব দরকার। কারণ শরীর ভালো না থাকলে মন ভালো থাকবে না। এজন্যই স্কুলে শরীরচর্চা ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক।

Child Development Concept & Principle-2

১.২.৭. বংশগতি ও পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার নীতি – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি :

মূল কথা ও সূত্র: বিকাশ = বংশগতি × পরিবেশ
এই নীতিটি না বুঝলে আপনি শিক্ষকই নন।
বংশগতি কী? বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জিন, যা জন্ম থেকেই আপনার ভেতরে আছে। যেমন – চোখের রঙ, উচ্চতার সম্ভাবনা, বুদ্ধির সম্ভাবনা, গানের গলার সম্ভাবনা।

পরিবেশ কী? জন্মের পর আপনি যা কিছু পাচ্ছেন – বাড়ি, স্কুল, শিক্ষক, বন্ধু, খাবার, বই, ভালোবাসা, উৎসাহ।

পুরনো ধারণা ছিল, “রাজার ছেলে রাজাই হবে” – অর্থাৎ বংশগতিই সব। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে, না।

উদাহরণ দিয়ে বুঝুন: ধরুন, বাপির মধ্যে ছবি আঁকার অসাধারণ বংশগত প্রতিভা আছে। কিন্তু তার বাড়িতে কেউ তাকে রঙ-তুলি কিনে দেয় না, স্কুলের শিক্ষক তাকে বলেন “ছবি এঁকে কী হবে, অঙ্ক কর” – অর্থাৎ পরিবেশ খারাপ। তাহলে বাপি কখনো বড় শিল্পী হতে পারবে না। তার প্রতিভা মরেই যাবে।
আবার, সুমনের অঙ্কের প্রতিভা হয়তো সাধারণ, কিন্তু রঘুবর স্যার তাকে রোজ নতুন নতুন খেলার মাধ্যমে অঙ্ক শেখান, বাড়িতে বাবা-মা উৎসাহ দেন – অর্থাৎ পরিবেশ অসাধারণ। সুমন একদিন অঙ্কে তুখোড় হয়ে উঠবে।

তাই মনে রাখুন:
– বংশগতি হলো সম্ভাবনা (Potential)।
– পরিবেশ হলো সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কারিগর।
– ভালো বীজ (বংশগতি) হলেও ভালো জমি, জল, আলো, সার (পরিবেশ) না পেলে ফসল হবে না।

Child Development Concept & Principle

শিক্ষকের জন্য শেষ শিক্ষা: আপনি একজন শিক্ষক হিসাবে শিশুর বংশগতি বদলাতে পারবেন না। ওটা তার জন্মের সময়ই ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু আপনি কী বদলাতে পারবেন? আপনি হলেন পরিবেশ। আপনার ক্লাসরুম, আপনার ভালোবাসা, আপনার শেখানোর পদ্ধতি – এটাই পরিবেশ।

আপনি যদি ভালো পরিবেশ দেন, তবে প্রতিটি শিশুই তার নিজের সেরাটা দিতে পারবে।

মনে রাখার সেরা লাইন :
> “বংশগতি হলো তাসের হাত, যা আপনি জন্মসূত্রে পেয়েছেন। আর পরিবেশ হলো সেই হাত দিয়ে আপনি কীভাবে খেলবেন, তার কৌশল। ভালো খেলোয়াড় খারাপ হাত দিয়েও জিতে যায়।”
এই ৭টি নীতি যে শিক্ষক মনে রাখবেন, তিনি কখনো কোনো শিশুকে ফেল করাতে পারবেন না।

Child Development Concept & Principle-2

১.৩. বংশগতি বনাম পরিবেশ বিতর্ক: মানুষ বহু বছর ধরে একটাই প্রশ্ন করছে – একটি শিশু বড় হয়ে কী হবে, তা কি তার জন্মের সময়ই ঠিক হয়ে যায়, নাকি তার বড় হওয়ার পরিবেশ তাকে তৈরি করে? গ্রামের লোকেরা সহজ ভাষায় বলত, “রাজার ছেলে রাজাই হবে, আর চোরের ছেলে চোরই হবে।” মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটাই হলো বংশগতি বনাম পরিবেশের বিতর্ক, যাকে ইংরেজিতে বলে Nature vs Nurture Debate।
আজকের আধুনিক মনোবিজ্ঞান এই বিতর্কের একটি সুন্দর সমাধান দিয়েছে। চলুন, গল্প দিয়ে বুঝি।

➣ গ্রামপঞ্চায়েত প্র্যাকটিস সেট

ক. বংশগতি (Heredity) কী?
বংশগতি হলো সেই জিনিস, যা আপনি আপনার বাবা-মায়ের কাছ থেকে জন্মসূত্রে পেয়েছেন। আপনার জন্মের আগেই তা ঠিক হয়ে গেছে। এটি আপনার ভেতরের বীজ।

বংশগতির মধ্যে কী কী আসে?
১. শারীরিক বৈশিষ্ট্য: চোখের রঙ, চুলের রঙ, নাকের গঠন, উচ্চতার সম্ভাবনা।
২. মানসিক সম্ভাবনা: বুদ্ধির সম্ভাবনা (IQ), সঙ্গীতের বোধ, ছবি আঁকার হাত।
৩. মেজাজ: কেউ জন্ম থেকেই শান্ত, কেউ জন্ম থেকেই চঞ্চল – এটাও অনেকটা বংশগত।

গল্প: ধরুন, লতা মঙ্গেশকরের পরিবারে সবার গলায় সুর। এটা বংশগতি। তাদের ভোকাল কর্ডের গঠন, সুরের বোধ জন্ম থেকেই অন্যদের চেয়ে ভালো।
মনোবিজ্ঞানী গ্যালটন (Galton) ছিলেন বংশগতির সবচেয়ে বড় সমর্থক। তিনি বলেছিলেন, “প্রতিভা জন্মায়, তৈরি হয় না।” তাঁর বই “Hereditary Genius”-এ তিনি দেখিয়েছেন, বড় বড় মানুষের ছেলেরাই বড় হয়েছে।

খ. পরিবেশ (Environment) কী?
পরিবেশ হলো জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আপনি যা কিছু পাচ্ছেন, দেখছেন, শিখছেন। এটি হলো বাইরের জমি, জল, আলো, সার।

Child Development Concept & Principle-2

পরিবেশের মধ্যে কী কী আসে?
১. পারিবারিক পরিবেশ: বাবা-মায়ের ভালোবাসা, ঝগড়া, খাবার, গল্পের বই।
২. সামাজিক পরিবেশ: বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, স্কুল, শিক্ষক।
৩. সাংস্কৃতিক পরিবেশ: ভাষা, ধর্ম, উৎসব, টিভি, মোবাইল।

মনোবিজ্ঞানী ওয়াটসন (J.B. Watson) ছিলেন পরিবেশের সবচেয়ে বড় সমর্থক। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, “আমাকে এক ডজন সুস্থ শিশু দাও, আমি তাদের যে কোনো পরিবেশে রেখে ডাক্তার, উকিল, চোর, ভিখারি যা খুশি বানিয়ে দেব।” তাঁর মতে, শিশু হলো সাদা কাগজ, পরিবেশ তাতে যা লিখবে, শিশু তাই হবে।

➣ অঙ্গনওয়াড়ি প্র্যাকটিস সেট

গ. আধুনিক সমাধান: বংশগতি × পরিবেশ = বিকাশ
পুরনো দিনে লোকে ভাবত, বংশগতি আর পরিবেশের মধ্যে লড়াই। হয় বংশগতি জিতবে, না হয় পরিবেশ। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান, বিশেষ করে আনা অ্যানাস্টাসি (Anne Anastasi) বলেছেন, এই লড়াই ভুল। আসলে দুটোই দরকার, এবং দুটো একে অপরের সাথে মিশে কাজ করে।

সূত্রটি মনে রাখুন, TET-এ বারবার আসে:

বিকাশ = বংশগতি × পরিবেশ (Development = Heredity × Environment)

গুণ চিহ্ন (×) টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যোগ চিহ্ন (+) নয়। কারণ, যদি বংশগতি শূন্য হয়, বা পরিবেশ শূন্য হয়, তবে গুণফল শূন্যই হবে। অর্থাৎ, বিকাশ হবে না।

সবচেয়ে সহজ উদাহরণ – বীজ ও মাটির গল্প:

– বংশগতি হলো বীজ। একটি আমের বীজ থেকে কখনো জাম গাছ হবে না। এটাই সম্ভাবনা।
– পরিবেশ হলো মাটি, জল, আলো, সার। যত ভালো আমের বীজই হোক, যদি তাকে পাথরের উপর ফেলে রাখেন, জল না দেন, আলো না দেন, তবে সে গাছ হবে না।
একজন শিশুর মধ্যে সঙ্গীতের অসাধারণ প্রতিভা থাকলেও (ভালো বীজ – বংশগতি), যদি তাকে কখনো হারমোনিয়াম না দেওয়া হয়, গান শুনতে না দেওয়া হয়, উৎসাহ না দেওয়া হয় (খারাপ জমি – পরিবেশ), তবে সে কখনো গায়ক হতে পারবে না। তার প্রতিভা বীজের ভেতরেই মরে যাবে।
আবার উল্টোটা – একটি সাধারণ মানের বীজও যদি উর্বর জমি, পর্যাপ্ত জল, আলো পায় (ভালো পরিবেশ), তবে সে একটি সুন্দর গাছ হয়ে উঠতে পারে।

তাই বংশগতি হলো সম্ভাবনা, আর পরিবেশ হলো সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।

➣ Upper Primary TET Study Materials

ঘ. TET-এ কিভাবে প্রশ্ন আসবে?
এই অংশ থেকে TET-এ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে প্রশ্ন আসবেই, যেমনঃ
প্রশ্ন ১: “একই পরিবেশে, একই স্কুলে, একই খাবার খেয়ে বড় হওয়া দুই ভাইয়ের বুদ্ধি ও আচরণ আলাদা কেন?”
উত্তর: কারণ তাদের বংশগতি আলাদা। যদিও পরিবেশ এক, কিন্তু তাদের জিন আলাদা, তাই তাদের সম্ভাবনা আলাদা। এই যুক্তি দিয়ে বংশগতির গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।

প্রশ্ন ২: “একই বংশগতির, অর্থাৎ অভিন্ন যমজ (Identical Twins) দুই শিশুকে যদি জন্মের পর দুটি আলাদা পরিবেশে রাখা হয় – একজনকে শহরের ভালো স্কুলে, আরেকজনকে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত পরিবেশে – তবে তাদের বিকাশ আলাদা হবে কেন?”
উত্তর: কারণ তাদের পরিবেশ আলাদা। যদিও বংশগতি এক, কিন্তু পরিবেশ আলাদা হওয়ায় তাদের বিকাশ আলাদা হয়েছে। এই পরীক্ষাটি করেছিলেন মনোবিজ্ঞানী *নিউম্যান, ফ্রিম্যান ও হলজিঙ্গার*। এটি দিয়ে পরিবেশের গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।

Child Development Concept & Principle-2

শিক্ষকের জন্য শেষ কথা:
একজন শিক্ষক হিসাবে আপনি শিশুর বংশগতি বদলাতে পারবেন না। ওটা তার জন্মের আগেই ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু আপনি কী? আপনি হলেন পরিবেশ। আপনার ক্লাসরুম, আপনার হাসি, আপনার শেখানোর কৌশল, আপনার দেওয়া উৎসাহ – এটাই হলো সেই জমি, জল, আলো।
তাই কখনো কোনো শিশুকে বলবেন না, “তোর দ্বারা হবে না, তোর বাবাও পারত না।” বরং বলুন, “তুই পারবি, আমি তো আছি।” কারণ আপনার তৈরি করা ভালো পরিবেশই তার খারাপ বীজকেও ভালো গাছ বানিয়ে দিতে পারে।

“বংশগতি হলো তাসের হাত, যা আপনি জন্মসূত্রে পেয়েছেন। আর পরিবেশ হলো সেই হাত দিয়ে আপনি কীভাবে খেলবেন, তার কৌশল। মনে রাখবেন, ভালো খেলোয়াড় খারাপ হাত দিয়েও জিতে যায়।”


Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page

Discover more from NIRYAS.IN

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading