Madhyamik Geography Model Answers-2/2
Madhyamik Geography Model Answers-2
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-2) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Geography Model Answers-2

Geography (ভূগোল)
(Part-2)
বিভাগ – ঘ: সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক (3×6=18)
4.1 নদীর উচ্চগতিতে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির চিত্র সহ বর্ণনা করো।
উত্তর: উচ্চগতিতে পর্বত অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি, নদীর গতিবেগ বেশি, তাই ক্ষয় বেশি হয় এবং সঞ্চয় প্রায় হয় না। প্রধান ভূমিরূপগুলি হল –
i. V-আকৃতির উপত্যকা: নদী উল্লম্ব ক্ষয় বা নিচের দিকে বেশি ক্ষয় করে, ফলে ইংরেজি V অক্ষরের মতো উপত্যকা তৈরি করে। নদী যত ক্ষয় করে তত গভীর V তৈরি হয়।
ii. গিরিখাত ও ক্যানিয়ন: V উপত্যকা অত্যন্ত গভীর ও খাড়া হলে তাকে গিরিখাত বলে, যেমন সিন্ধু নদের গিরিখাত। আরও গভীর, প্রশস্ত ও বিশাল হলে তাকে ক্যানিয়ন বলে, যেমন আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।
iii. জলপ্রপাত: কঠিন ও নরম শিলা পাশাপাশি থাকলে নরম শিলা দ্রুত ক্ষয়ে গিয়ে ধাপ সৃষ্টি হয় এবং জলপ্রপাত তৈরি হয়। যেমন কর্ণাটকের যোগ জলপ্রপাত, যা ভারতের উচ্চতম 253 মিটার, এবং ঝাড়খণ্ডের হুড্রু জলপ্রপাত।
iv. মন্থকূপ বা পটহোল: নদীর তলদেশে জলের ঘূর্ণির সাথে পাথর ঘুরতে ঘুরতে নদীর তলে গোলাকার গর্ত তৈরি করে, একে মন্থকূপ বলে।
v. কর্তিত স্পার ও আন্তঃসংযুক্ত স্পার: নদী পাহাড়ের বাঁক কেটে সোজা পথে প্রবাহিত হয়, ফলে পাহাড়ের যে অংশ কাটা পড়ে তাকে কর্তিত স্পার বলে এবং নদীর দুই পাশের স্পারগুলি আঁকাবাঁকা ভাবে অবস্থান করে, একে আন্তঃসংযুক্ত স্পার বলে।
4.2 বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস আলোচনা করো।
উত্তর: বায়ুমণ্ডলে উচ্চতা অনুযায়ী 5টি স্তর আছে –
i. ট্রপোস্ফিয়ার 0-18 কিমি: সবচেয়ে নিচের স্তর। মানুষ ও জীবজন্তু এখানেই থাকে। আবহাওয়ার সব ঘটনা যেমন মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, জেট বায়ু এখানেই ঘটে। প্রতি 1000 মিটারে 6.5°C হারে উষ্ণতা কমে। একে আবহাওয়া মন্ডল বলে।
ii. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার 18-50 কিমি: এই স্তরে 20-35 কিমি উচ্চতায় ওজোন স্তর আছে, যা সূর্যের ক্ষতিকর UV রশ্মি শোষণ করে। এখানে আবহাওয়া শান্ত বলে জেট বিমান চলাচল করে।
iii. মেসোস্ফিয়ার 50-80 কিমি: এটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে ঠান্ডা স্তর, তাপমাত্রা -90°C পর্যন্ত নামে। মহাকাশ থেকে আসা উল্কা এই স্তরে এসে পুড়ে যায়।
iv. থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার 80-640 কিমি: এই স্তরে আয়ন থাকে, তাই বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়। মেরুজ্যোতি বা অরোরা এখানে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা ISS এই স্তরে 400 কিমি উচ্চতায় ঘোরে।
v. এক্সোস্ফিয়ার 640-10000 কিমি: সবচেয়ে উপরের স্তর, এখানে বায়ু প্রায় নেই বললেই চলে। কৃত্রিম উপগ্রহগুলি এই স্তরে ঘোরে এবং এই স্তর ধীরে ধীরে মহাকাশে মিশে যায়।
4.3 ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান কারণগুলি হল –
i. অক্ষাংশ: দক্ষিণ ভারত নিরক্ষরেখার কাছে অবস্থিত বলে সেখানে সারা বছর গরম থাকে, গড় তাপমাত্রা 27°C। উত্তর ভারত নিরক্ষরেখা থেকে দূরে বলে শীতে ঠান্ডা হয়।
ii. হিমালয় পর্বত: হিমালয় উত্তরের অতি শীতল সাইবেরিয়ান বায়ুকে আটকে ভারতকে শীতল হওয়া থেকে বাঁচায় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে আটকে উত্তর-পূর্ব ভারত ও গাঙ্গেয় সমভূমিতে বৃষ্টি ঘটায়।
iii. সমুদ্র থেকে দূরত্ব: উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়। যেমন মুম্বাইতে সারা বছর 26°C। কিন্তু ভিতরের দিকে চরমভাবাপন্ন হয়। যেমন দিল্লিতে গ্রীষ্মে 45°C এবং শীতে 5°C।
iv. উচ্চতা: প্রতি 1000 মিটারে 6.5°C হারে তাপমাত্রা কমে। তাই দার্জিলিং 2000 মিটার উঁচু বলে ঠান্ডা এবং কলকাতা সমতলে বলে গরম।
v. অন্যান্য কারণ: মৌসুমী বায়ু ভারতে 75% বৃষ্টি ঘটায়, জেট বায়ু পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও মৌসুমী বায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে, এল-নিনো খরা ঘটায় এবং সমুদ্রস্রোত উপকূলের তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে।
Madhyamik Geography Model Answers-2
4.4 ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমির পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি
অবস্থান ও বিস্তার বঙ্গোপসাগরের তীরে গঙ্গা থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত। চওড়া প্রায় 100-130 কিমি এবং খুব উর্বর। আরব সাগরের তীরে কচ্ছ থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত। সংকীর্ণ প্রায় 10-50 কিমি এবং কম উর্বর।
ব-দ্বীপ ও খাঁড়ি মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীর বড় বড় ব-দ্বীপ আছে। ব-দ্বীপ নেই, পরিবর্তে খাঁড়ি ও মোহনা আছে, যেমন নর্মদা ও তাপ্তির মোহনা।
উপহ্রদ বা কয়াল চিল্কা ও পুলিকট হ্রদ বিখ্যাত। ভেম্বানাদ, অষ্টমুদি ও কালি কয়াল বিখ্যাত।
বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব কৃষিতে উন্নত, বিশেষ করে ধান ও পাট চাষ হয়। মৎস্য শিকার, বন্দর ও বাণিজ্যে উন্নত – মুম্বাই, কোচি, মার্মাগাঁও বন্দর। নারকেল চাষ বেশি হয়।
4.5 ভারতে গম চাষের অনুকূল পরিবেশ বর্ণনা করো।
উত্তর: গম হল রবি শস্য। শীতকালে বোনা হয় এবং গ্রীষ্মের শুরুতে কাটা হয়।
i. জলবায়ু: গম চাষে বোনার সময় 10°-15°C এবং পাকার সময় 20°-25°C তাপমাত্রা প্রয়োজন। 50-100 সেমি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন এবং 100 দিন তুষারমুক্ত আবহাওয়া দরকার। শীতকালে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার বৃষ্টি গম চাষের জন্য খুব উপকারী।
ii. মাটি: উর্বর দোআঁশ, পলি ও কৃষ্ণ মাটি গম চাষের জন্য আদর্শ। জমিতে জল নিকাশির ভালো ব্যবস্থা থাকতে হবে।
iii. জমি ও সেচ: সমতল জমি প্রয়োজন। ভারতে সেচের উপর গম চাষ নির্ভরশীল। ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ ও নলকূপের সাহায্যে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে সেচের মাধ্যমে গম ভালো হয়।
iv. অন্যান্য: উন্নত বীজ যেমন HD 2967, রাসায়নিক সার, যন্ত্রপাতি, সস্তা শ্রমিক ও বাজারের সুবিধা প্রয়োজন। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে গম সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়।
4.6 ভারতে পাট চাষের সমস্যা ও সমাধান লেখো।
উত্তর:
সমস্যা:
i. নাইলন ও পলিথিনের মতো কৃত্রিম তন্তু সস্তা হওয়ায় পাটের চাহিদা ও দাম কমে গেছে।
ii. শ্রমিকের মজুরি বেশি, কিন্তু পাটের দাম কম হওয়ায় কৃষকের লাভ কম হয়।
iii. পাটকলে পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, ফলে ফলন কম এবং অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে।
iv. দেশভাগের পর উৎকৃষ্ট পাট চাষের জমি বাংলাদেশে চলে যায় এবং পাটকল ভারতে থেকে যায়, ফলে কাঁচামালের অভাব দেখা দেয়।
সমাধান:
i. উন্নত বীজ যেমন JRO 524 ব্যবহার, উন্নত সার প্রয়োগ এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে হবে। যেমন পাট দিয়ে কার্পেট, কাগজ, শপিং ব্যাগ তৈরি।
ii. সরকারি সহায়তা বাড়াতে হবে। যেমন ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা MSP বাড়ানো, পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন করা এবং রপ্তানিতে ভর্তুকি দেওয়া।
iii. পাটকলে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
4.7 ভারতে মোটরগাড়ি শিল্পের বিকাশ লেখো।
উত্তর: ভারতে মোটরগাড়ি শিল্পের বিকাশ ধাপে ধাপে হয়েছে। 1928 সালে মুম্বাইতে প্রথম কারখানা স্থাপিত হয়। 1947 সালে হিন্দুস্তান মোটরস অ্যাম্বাসেডর গাড়ি তৈরি শুরু করে। 1983 সালে গুরুগ্রামে মারুতি-সুজুকি যৌথ উদ্যোগে ছোট গাড়ি তৈরি শুরু হওয়ার পর এই শিল্পে বিপ্লব আসে।
বর্তমানে ভারতে 4টি প্রধান মোটরগাড়ি কেন্দ্র রয়েছে –
– চেন্নাই – হুন্ডাই, ফোর্ড, BMW – তাই চেন্নাইকে ভারতের ডেট্রয়েট বলা হয়।
– পুনে – টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রা, Bajaj
– গুরুগ্রাম-মানেসর – মারুতি সুজুকি
– জামশেদপুর – টাটা ট্রাক ও সানন্দ – টাটা ন্যানো
বিকাশের কারণ:
i. সস্তা ও দক্ষ শ্রমিক, ii. লৌহ-ইস্পাতের সহজলভ্যতা ও বিশাল দেশীয় বাজার, iii. সরকারের উদার নীতি ও বিদেশি বিনিয়োগ, iv. রাস্তাঘাটের উন্নতি।
সমস্যা: বায়ু দূষণ, যানজট এবং বিদেশি কোম্পানির সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা।
4.8 উপগ্রহ চিত্রের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার লেখো।
উত্তর:
বৈশিষ্ট্য:
i. মহাকাশ থেকে উপগ্রহে স্থাপিত সেন্সর দ্বারা তোলা ডিজিটাল ছবি। একসাথে বিশাল অঞ্চলের ছবি পাওয়া যায়।
ii. বিভিন্ন ব্যান্ডে ছবি তোলা হয় – সাদা-কালো বা Panchromatic, রঙিন বা False Colour Composite, ইনফ্রারেড এবং মাইক্রোওয়েভ বা রাডার চিত্র।
iii. নিয়মিতভাবে একই জায়গার ছবি পাওয়া যায়, যেমন প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে।
iv. কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করা যায় এবং GIS-এ ব্যবহার করা যায়।
ব্যবহার:
i. আবহাওয়া পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও দাবানল পর্যবেক্ষণে।
ii. বনভূমি, কৃষিজমি, শহর, খনিজ সম্পদ, জলাশয়, মাটি ও পরিবেশ দূষণের মানচিত্র তৈরিতে।
iii. প্রতিরক্ষা, নগর পরিকল্পনা, রাস্তা ও বাঁধ পরিকল্পনা এবং GPS নেভিগেশনে। ভারতে IRS, INSAT, Cartosat ও RISAT সিরিজের উপগ্রহ এই কাজে ব্যবহৃত হয়।
➣উত্তরগুলো সংগ্রহ করুন 🔗 Download PDF
Madhyamik Geography Model Answers-2
বিভাগ – ঙ: দীর্ঘ উত্তর (5×5=25)
5.1 হিমবাহের সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির চিত্র সহ বর্ণনা করো।
উত্তর: হিমবাহ গলে গিয়ে নুড়ি, বালি, কাদা বা টিল ও বোল্ডার ক্লে জমিয়ে যে ভূমিরূপ তৈরি করে, তাকে হিমবাহের সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ বলে।
i. গ্রাবরেখা বা মোরেন: হিমবাহের সাথে বাহিত নুড়ি ও পাথর জমে শৈলশিরা তৈরি করে। চার প্রকার –
– পার্শ্ব গ্রাবরেখা: হিমবাহের দুই পাশে জমে থাকা পাথরের স্তূপ।
– মধ্য গ্রাবরেখা: দুটি হিমবাহের পার্শ্ব গ্রাবরেখা মিলে মাঝখানে যে রেখা তৈরি হয়।
– প্রান্ত গ্রাবরেখা: হিমবাহের শেষ প্রান্তে অর্ধচন্দ্রাকার জমা।
– ভূমি গ্রাবরেখা: হিমবাহের নিচে পাতলা মিশ্র পলির স্তর।
ii. বহিঃবিধৌত সমভূমি বা আউটওয়াশ প্লেন: হিমবাহের শেষ প্রান্তে গলা জলের স্রোতে নুড়ি, বালি ও কাদা ছড়িয়ে যে বিস্তীর্ণ সমভূমি তৈরি হয়।
iii. ড্রামলিন: উল্টানো নৌকা বা ডিমের মতো মসৃণ টিলা। হিমবাহের প্রবাহের দিকে লম্বাটে। অনেকগুলি ড্রামলিন একসাথে থাকলে তাকে ডিমের ঝুড়ি ভূমিরূপ বলে।
iv. এসকার: বরফের নিচে সুড়ঙ্গের মধ্যে নদীর সঞ্চয়ে দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা শৈলশিরা। এটি 10-100 কিমি লম্বা হতে পারে।
v. কেম ও কেটল হ্রদ: বরফের বড় চাঙর বালির মধ্যে চাপা পড়ে পরে গলে গর্ত তৈরি করে, সেই গর্তে জল জমে কেটল হ্রদ হয়। তার পাশে বালি জমে যে টিলা হয়, তাকে কেম বলে।
5.2 ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য লেখো। মৌসুমী বায়ুর উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর: পার্থক্য:
বিষয় ঘূর্ণবাত প্রতীপ ঘূর্ণবাত
চাপ ও বায়ুপ্রবাহ কেন্দ্রে নিম্নচাপ, বায়ু বাইরে থেকে ভিতরে ঢোকে এবং উপরে ওঠে। কেন্দ্রে উচ্চচাপ, বায়ু ভিতর থেকে বাইরে বেরোয় এবং নিচে নামে।
আবহাওয়া মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় ও দুর্যোগ হয়। পরিষ্কার ও শান্ত আবহাওয়া।
ঘূর্ণনের দিক উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘোরে। উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে।
মৌসুমী বায়ুর উৎপত্তি: মৌসুমী শব্দটি আরবি শব্দ ‘মৌসিম’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ঋতু। গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে পড়লে ভারতের উত্তর-পশ্চিমে থর মরু ও পাঞ্জাব অঞ্চলে প্রচণ্ড গরমে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং ভারত মহাসাগরে উচ্চচাপ থাকে। ফলে সমুদ্র থেকে স্থলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয় এবং ভারতে বৃষ্টি আনে। শীতকালে সূর্য মকরক্রান্তিতে গেলে স্থলভাগে উচ্চচাপ ও সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, তখন স্থল থেকে সমুদ্রে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বয়, যা শীতল ও শুষ্ক।
বৈশিষ্ট্য: i. ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে। ii. আর্দ্র প্রকৃতির, ভারতের 75% বৃষ্টি এই বায়ুতে হয়। iii. দুটি শাখা – আরব সাগরীয় শাখা ও বঙ্গোপসাগরীয় শাখা। iv. অনিশ্চিত প্রকৃতি, কখনও খরা, কখনও বন্যা ঘটায়।
5.3 ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ করো। অরণ্য সংরক্ষণের উপায় লেখো।
উত্তর: বৃষ্টি ও তাপমাত্রা অনুযায়ী ভারতে 5 প্রকার স্বাভাবিক উদ্ভিদ দেখা যায় –
i. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য: 200 সেমির বেশি বৃষ্টি অঞ্চলে, পশ্চিমঘাট, উত্তর-পূর্ব ভারত ও আন্দামানে। প্রধান গাছ – রোজউড, মেহগনি, আয়রন উড। সারা বছর সবুজ থাকে।
ii. ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য: 100-200 সেমি বৃষ্টি অঞ্চলে, ভারতের 70% বনভূমি। প্রধান গাছ – শাল, সেগুন, শিমুল। শীতকালে পাতা ঝরে যায়।
iii. ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদ: 50 সেমির কম বৃষ্টি অঞ্চলে, রাজস্থান ও গুজরাটে। প্রধান গাছ – বাবলা, ক্যাকটাস, খেজুর, কাঁটাযুক্ত গাছ।
iv. পার্বত্য উদ্ভিদ: হিমালয়ে উচ্চতা অনুযায়ী পরিবর্তন হয় – 1000 মিটার পর্যন্ত শাল, 1000-2000 মিটারে চিরহরিৎ, 2000-3000 মিটারে পাইন ও দেবদারু সরলবর্গীয়, 3000-4000 মিটারে আল্পীয় তৃণভূমি বা বুগিয়াল।
v. ম্যানগ্রোভ অরণ্য: সুন্দরবন, মহানদী ও গোদাবরী ব-দ্বীপে লবণাক্ত জলে। প্রধান গাছ – সুন্দরী, গরান, গেওয়া। এদের শ্বাসমূল আছে।
অরণ্য সংরক্ষণের উপায়: i. বন আইন কঠোর করা এবং চোরাশিকার ও বেআইনি গাছ কাটা বন্ধ করা। ii. সামাজিক বনসৃজন, কৃষি বনসৃজন ও বন মহোৎসব পালন। iii. জনসচেতনতা বাড়ানো, চিপকো আন্দোলনের মতো আন্দোলন এবং বিকল্প জ্বালানি হিসাবে LPG ও সৌরশক্তির ব্যবহার। iv. জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য ও বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ তৈরি, যেমন সুন্দরবন ও কাজিরাঙা।
5.4 ভারতে চা চাষের অনুকূল পরিবেশ, বন্টন ও সমস্যা আলোচনা করো।
উত্তর: চা একটি বাগিচা ফসল, ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক।
অনুকূল পরিবেশ:
i. জলবায়ু: 20°-30°C তাপমাত্রা, 150-200 সেমি বৃষ্টিপাত, প্রচুর রোদ, কুয়াশা ও তুষারমুক্ত আবহাওয়া প্রয়োজন।
ii. মাটি: অম্লযুক্ত, লৌহযুক্ত, দোআঁশ মাটি, জৈব পদার্থ বেশি এবং জল নিকাশি ভালো হতে হবে।
iii. জমি: পাহাড়ের ঢালু জমি 1000-2000 মিটার উচ্চতায় আদর্শ, কারণ জল জমে না।
iv. শ্রমিক ও অন্যান্য: কচি পাতা তোলার জন্য দক্ষ নারী শ্রমিক, সস্তা শ্রমিক, সার, কীটনাশক, কারখানা ও পরিবহন দরকার।
বন্টন:
i. আসাম – ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা, ডিব্রুগড়, যোরহাট – ভারতের 50% চা এখানে উৎপাদিত হয়।
ii. পশ্চিমবঙ্গ – দার্জিলিংয়ে সুগন্ধি চা এবং জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে।
iii. দক্ষিণ ভারত – তামিলনাড়ুর নীলগিরি ও কেরলের মুন্নার।
সমস্যা: i. অনেক গাছ 100 বছরের বেশি পুরনো, ফলে ফলন কম। ii. শ্রমিক অসন্তোষ, কম মজুরি ও ধর্মঘট। iii. কফি ও কোল্ড ড্রিংকসের মতো কৃত্রিম পানীয়ের সাথে প্রতিযোগিতা, ফলে রপ্তানি কমেছে। iv. জলবায়ু পরিবর্তন, পোকামাকড় ও রোগ। সমাধান – নতুন ক্লোন গাছ লাগানো, শ্রমিক কল্যাণ, রপ্তানি বৃদ্ধি ও জৈব চা উৎপাদন।
Madhyamik Geography Model Answers-2
5.5 ভারতে নগরায়ণের কারণ ও সমস্যা আলোচনা করো। নগরায়ণ রোধের উপায় লেখো।
উত্তর: নগরায়ণ মানে গ্রাম থেকে শহরে জনসংখ্যার স্থানান্তর ও শহরের বৃদ্ধি। ভারতে 35% মানুষ শহরে থাকে।
কারণ:
i. গ্রামে ঠেলা: গ্রামে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, জমির অভাব, কম মজুরি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা ও খরা।
ii. শহরে টানা: শহরে চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন, বিদ্যুৎ, জল ও নিরাপত্তার সুযোগ বেশি।
iii. শিল্পায়ন: শিল্প, পরিবহন ও যোগাযোগের উন্নতি।
iv. সামাজিক কারণ: জাতিভেদ ও কুসংস্কার থেকে মুক্তি পেতে মানুষ শহরে যায়।
সমস্যা:
i. জনসংখ্যার চাপ – বস্তি, বেকারত্ব, অপরাধ ও দারিদ্র্য বাড়ে। মুম্বাইয়ের ধারাভি এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি।
ii. পরিবেশ দূষণ – বায়ু, জল, শব্দ ও আবর্জনা দূষণ।
iii. পরিকাঠামো সংকট – জল, বিদ্যুৎ, যানজট, আবাসন ও পরিবহন সমস্যা।
iv. গ্রামে শ্রমিকের অভাব, ফলে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রোধের উপায়:
i. গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি – কুটির শিল্প, কৃষি আধুনিকীকরণ ও MGNREGA।
ii. গ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের উন্নতি।
iii. ছোট শহর, স্যাটেলাইট টাউন ও স্মার্ট সিটি গড়ে পরিকল্পিত নগরায়ণ।
iv. বিকেন্দ্রীকরণ – শিল্প গ্রামাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া।
5.6 ভারতের মানচিত্রে চিহ্নিত – লিখিত বর্ণনা
উত্তর: মানচিত্রে যেভাবে চিহ্নিত করবে –
[A] সাতপুরা পর্বত: মধ্য ভারতে, নর্মদা ও তাপ্তি নদীর মাঝখানে, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র রাজ্যে প্রায় 900 কিমি লম্বা। ধূপগড় এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ 1350 মিটার। মানচিত্রে মধ্যভাগে নর্মদার দক্ষিণে আঁকবে।
[B] লোকটাক হ্রদ: মণিপুর রাজ্যে, উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ। এখানে ফুমদি নামক ভাসমান দ্বীপ আছে এবং কেইবুল লামজাও জাতীয় উদ্যান, যা বিশ্বের একমাত্র ভাসমান জাতীয় উদ্যান, এখানে অবস্থিত। মানচিত্রে উত্তর-পূর্ব কোণে চিহ্নিত করবে।
[C] তাপ্তি নদী: মধ্যপ্রদেশের সাতপুরা পর্বত থেকে উৎপত্তি, 720 কিমি পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের সুরাট শহরের পাশ দিয়ে আরব সাগরে পড়েছে। রিফ্ট উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত হয়। মানচিত্রে সাতপুরার দক্ষিণে আঁকবে।
[D] ল্যাটেরাইট মাটি অঞ্চল – ছোটনাগপুর: ঝাড়খণ্ডের ছোটনাগপুর মালভূমি, পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ওড়িশা ও কর্ণাটকে। লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম বেশি, উর্বরতা কম, ইট তৈরি হয়, ধান, চা ও কাজু বাদাম চাষ হয়। মানচিত্রে পূর্ব ভারতে বাদামি রঙে দেখাবে।
[E] ইক্ষু উৎপাদক অঞ্চল – উত্তরপ্রদেশ: ভারতের 45% ইক্ষু উত্তরপ্রদেশের গঙ্গা-যমুনা দোআবে মেরঠ, সাহারানপুর, বেরেলি অঞ্চলে উৎপাদিত হয়। উর্বর পলি, সেচ ও শ্রমিক বেশি থাকায় এখানে চাষ ভালো হয়। মানচিত্রে উত্তর ভারতে হলুদ রঙে দেখাবে।
[F] হলদিয়া বন্দর: পশ্চিমবঙ্গে হুগলি নদী ও হলদি নদীর মিলনস্থলে, কলকাতা থেকে 100 কিমি দক্ষিণে। এটি কলকাতা বন্দরের সহযোগী বন্দর, এখানে খনিজ তেল, কয়লা ও লৌহ-ইস্পাত আমদানি-রপ্তানি হয়।
[G] জনবহুল রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গ: পূর্ব ভারতে অবস্থিত, জনঘনত্ব 1029 জন/বর্গ কিমি 2011 সালের জনগণনা অনুযায়ী, জনঘনত্বে বিহারের পর দ্বিতীয়। উর্বর গাঙ্গেয় সমভূমি, শিল্প ও কলকাতা মহানগরীর জন্য এখানে জনসংখ্যা বেশি। মানচিত্রে পূর্ব দিকে গোলাপি রঙে দেখাবে।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.