Madhyamik Geography Model Answers-4/2
Madhyamik Geography Model Answers-4
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-4) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Geography Model Answers-4

Geography (ভূগোল)
(Part-2)
বিভাগ – ঘ: ব্যাখ্যামূলক (3×6=18)
4.1 নদী ও হিমবাহের মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: হিমবাহ গলে গেলে হিমবাহের সঞ্চয় নদীর জলে ধুয়ে গিয়ে নদী ও হিমবাহ একসাথে যে ভূমিরূপ তৈরি করে, তাকে নদী-হিমবাহের মিলিত সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ বলে –
i. বহিঃবিধৌত সমভূমি বা আউটওয়াশ প্লেন: হিমবাহের শেষ প্রান্তে হিমবাহ গলা জল নুড়ি, বালি, কাদা বহন করে বিস্তীর্ণ সমভূমিতে ছড়িয়ে দেয়, তাকে বহিঃবিধৌত সমভূমি বলে।
ii. এসকার: হিমবাহের নিচে সুড়ঙ্গের মধ্যে নদীর স্রোতে নুড়ি ও বালি জমে দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা সরু শৈলশিরা তৈরি হয়। এটি 10 থেকে 100 কিমি লম্বা এবং 50 মিটার উঁচু হতে পারে।
iii. ড্রামলিন: এটি উল্টানো নৌকা বা উল্টানো চামচের মতো টিলা। একসাথে অনেক ড্রামলিন থাকলে তাকে ডিমের ঝুড়ি ভূমিরূপ বলে। হিমবাহের দিকে খাড়া এবং বিপরীত দিকে মৃদু ঢালু।
iv. কেম ও কেটল হ্রদ: বরফের বড় চাঙর বালির মধ্যে চাপা পড়ে পরে গলে গর্ত সৃষ্টি হয়, সেই গর্তে জল জমে কেটল হ্রদ হয়। আর তার পাশে বালি জমে যে টিলা হয়, তাকে কেম বলে।
v. ভ্যালি ট্রেন: পার্বত্য উপত্যকায় হিমবাহের গলা জলে পলি জমে যে সঞ্চয় হয়, তাকে ভ্যালি ট্রেন বলে।
4.2 বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তরের গুরুত্ব ও ধ্বংসের কারণ লেখো।
উত্তর:
গুরুত্ব: বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে 20-35 কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের স্তর O3 আছে।
i. এই স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি বা UV রশ্মির 97-99% শোষণ করে। না হলে এই রশ্মি পৃথিবীতে এলে মানুষের ত্বক ক্যান্সার, চোখে ছানি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেত।
ii. ফসল, সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটন ও মাছ মারা যেত এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হত।
iii. এই স্তর পৃথিবীকে উষ্ণ রাখতেও সাহায্য করে। তাই ওজোন স্তরকে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন বলা হয়।
ধ্বংসের কারণ:
i. CFC – ক্লোরোফ্লুরো কার্বন: ফ্রিজ, এসি, স্প্রে ও ফোম থেকে নির্গত হয়। একটি CFC অণু 1 লক্ষ ওজোন অণু ভাঙতে পারে।
ii. হ্যালন: অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থেকে নির্গত হয়।
iii. মিথাইল ব্রোমাইড: কীটনাশক হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
iv. নাইট্রোজেন অক্সাইড: সুপারসনিক জেট বিমান থেকে নির্গত হয়। এই গ্যাসগুলি ওজোন স্তরে ক্লোরিন মুক্ত করে ওজোন ভাঙে এবং ওজোন ছিদ্র তৈরি করে, বিশেষ করে আন্টার্কটিকার উপর। তাই 1987 সালে মন্ট্রিল প্রোটোকলে CFC উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
4.3 ভারতের মৌসুমী বায়ুর বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর:
বৈশিষ্ট্য:
i. ঋতুভেদে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়। গ্রীষ্মকালে সমুদ্র থেকে স্থলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এবং শীতে স্থল থেকে সমুদ্রে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়।
ii. এটি আর্দ্র বায়ু, ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের 75% এই বায়ু ঘটায়।
iii. এর দুটি শাখা আছে – আরব সাগরীয় শাখা পশ্চিমঘাট, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে বৃষ্টি ঘটায় এবং বঙ্গোপসাগরীয় শাখা উত্তর-পূর্ব ভারত ও গাঙ্গেয় সমভূমিতে বৃষ্টি ঘটায়।
iv. এই বায়ু অত্যন্ত অনিশ্চিত। কখনও আগে আসে, কখনও দেরিতে আসে, ফলে খরা ও বন্যা হয়।
প্রভাব:
i. কৃষিতে: ভারতের কৃষি মৌসুমী বায়ুর উপর নির্ভরশীল। ধান, পাট, চা, কফি এই বৃষ্টিতে ভালো হয়।
ii. জলবায়ুতে: মৌসুমী বায়ুর জন্যই ভারতে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত এই চারটি ঋতু দেখা যায়।
iii. অর্থনীতিতে: বৃষ্টি ভালো হলে ফসল ভালো হয় এবং দেশের GDP বাড়ে।
iv. দুর্যোগ: কম বৃষ্টিতে খরা এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় হয়।
4.4 ভারতের মৃত্তিকার শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ICAR অনুযায়ী ভারতে 8 প্রকার মৃত্তিকা দেখা যায় –
i. পলি মাটি: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমিতে প্রায় 46% এলাকায়। দোআঁশ, উর্বর, নাইট্রোজেন কম, পটাশ বেশি। ধান, গম, পাট চাষ হয়।
ii. কৃষ্ণ মাটি বা রেগুর: মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশে ব্যাসল্ট শিলা থেকে তৈরি। কালো, আঠালো, জল ধরে রাখে। কার্পাস ও আখ চাষে আদর্শ।
iii. লাল মাটি: ছোটনাগপুর, তামিলনাড়ুতে। লোহা বেশি বলে লাল রঙ, কম উর্বর, ছিদ্রযুক্ত। রাগি, বাদাম চাষ হয়।
iv. ল্যাটেরাইট মাটি: মেঘালয়, পশ্চিমঘাটে বেশি বৃষ্টিতে ধুয়ে সৃষ্টি। লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম বেশি, অম্লযুক্ত। ইট তৈরি এবং চা, কাজু চাষ হয়।
v. মরু মাটি: রাজস্থানে। বালি বেশি, লবণাক্ত, জল কম। বাজরা, জোয়ার হয়।
vi. পার্বত্য মাটি: হিমালয়ে। পাতলা, পাথুরে, অম্লযুক্ত। ফল, আলু চাষ ও বনভূমি।
vii. জৈব বা পিট মাটি: সুন্দরবন, কেরলের জলাভূমিতে। জৈব পদার্থ বেশি, কালো, জলমগ্ন।
viii. লবণাক্ত মাটি: গুজরাট, সুন্দরবনে। লবণ বেশি, উসর মাটি, চাষ ভালো হয় না।
Madhyamik Geography Model Answers-4
4.5 ভারতে চা ও কফি চাষের তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর:
বিষয় চা কফি
জলবায়ু 20°-30°C তাপমাত্রা, 150-200 সেমি বৃষ্টি, ঢালু জমি, কুয়াশা প্রয়োজন। 15°-25°C তাপমাত্রা, 150-200 সেমি বৃষ্টি, ছায়াযুক্ত জমি ও কম গরম প্রয়োজন।
মাটি অম্লযুক্ত উর্বর দোআঁশ মাটি, লোহা বেশি। লাল, ল্যাটেরাইট, অম্লযুক্ত ও জৈব পদার্থ বেশি মাটি।
বন্টন আসাম 50% উৎপাদন করে, এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল। কর্ণাটক 60% উৎপাদন করে, এছাড়া কেরল ও তামিলনাড়ু।
প্রকার ও ব্যবহার কালো ও সবুজ চা। পানীয় হিসাবে সারা ভারতে ও রপ্তানি করা হয়। আরবিকা ও রোবাস্টা। পানীয় হিসাবে দক্ষিণ ভারতে বেশি জনপ্রিয় এবং রপ্তানি হয়।
4.6 ভারতে কার্পাস বয়ন শিল্পের বন্টন ও সমস্যা লেখো।
উত্তর:
বন্টন: ভারতে কার্পাস বয়ন শিল্পের বন্টন –
i. মহারাষ্ট্র – মুম্বাই, নাগপুর, পুনে – প্রথম স্থানে। 1854 সালে মুম্বাইতে প্রথম মিল স্থাপিত হয়। এখানে কৃষ্ণ মাটিতে তুলো হয়।
ii. গুজরাট – আহমেদাবাদ, সুরাট।
iii. তামিলনাড়ু – কোয়েম্বাটুর, চেন্নাই।
iv. পশ্চিমবঙ্গ – কলকাতা, হাওড়া।
v. উত্তরপ্রদেশ – কানপুর।
সমস্যা:
i. উন্নত মানের কাঁচা তুলোর অভাব, দীর্ঘ আঁশের তুলো আমদানি করতে হয়।
ii. পুরনো যন্ত্রপাতি, কম উৎপাদনশীলতা ও বিদ্যুতের সমস্যা।
iii. নাইলন ও পলিয়েস্টারের মতো কৃত্রিম তন্তুর সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা।
iv. শ্রমিক অসন্তোষ ও ধর্মঘট।
v. চীন ও বাংলাদেশের মতো দেশের সাথে বিদেশি প্রতিযোগিতা।
4.7 ভারতে পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব লেখো।
উত্তর:
i. অর্থনৈতিক গুরুত্ব: কাঁচামাল, শ্রমিক ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ পরিবহনের উপর নির্ভর করে। কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য পরিবহন ছাড়া অচল। যেমন লৌহ-ইস্পাত শিল্পের জন্য কয়লা, লোহা পরিবহন।
ii. সামাজিক গুরুত্ব: মানুষ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনের জন্য পরিবহন প্রয়োজন। রেল, সড়ক, বিমান ও জলপথ দেশের মানুষকে একসাথে যুক্ত করে।
iii. রাজনৈতিক গুরুত্ব: দেশের ঐক্য, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগে ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য পরিবহন অপরিহার্য। যেমন সোনালী চতুর্ভুজ প্রকল্প দেশের 4টি মহানগরকে যুক্ত করেছে।
iv. প্রকারভেদ: সড়কপথ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত, রেলপথ দীর্ঘতম, জলপথ সবচেয়ে সস্তা, বিমানপথ সবচেয়ে দ্রুত এবং পাইপলাইন তেল ও গ্যাস পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। পরিবহন ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।
4.8 টপো মানচিত্রে স্কেল ও সমোন্নতি রেখার ব্যবহার লেখো।
উত্তর:
স্কেল: স্কেল হল মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত।
ব্যবহার:
i. দূরত্ব মাপা যায়। যেমন 1:50000 স্কেলে 1 সেমি মানে ভূমিতে 500 মিটার।
ii. কোনো অঞ্চলের ক্ষেত্রফল ও নদীর দৈর্ঘ্য নির্ণয় করা যায়।
iii. স্কেল তিন প্রকার – বিবৃতিমূলক, যেমন 1 সেমিতে 1 কিমি, ভগ্নাংশ সূচক বা RF, যেমন 1:50000 এবং রৈখিক বা গ্রাফিক স্কেল।
সমোন্নতি রেখা: সমান উচ্চতাযুক্ত স্থানগুলিকে যুক্ত করে যে বাদামী রঙের বক্ররেখা আঁকা হয়, তাকে সমোন্নতি রেখা বলে।
ব্যবহার:
i. ভূমির উচ্চতা, ঢাল ও আকৃতি জানা যায়। ঘন সমোন্নতি রেখা মানে খাড়া ঢাল, ফাঁকা রেখা মানে মৃদু ঢাল। V আকৃতির রেখা মানে নদী উপত্যকা এবং বৃত্তাকার রেখা মানে পাহাড়।
ii. নদী উপত্যকা, জলবিভাজিকা, বাঁধ ও রাস্তার পরিকল্পনা করা যায়।
iii. সমোন্নতি রেখা থেকে ভূমির প্রস্থচ্ছেদ বা Cross Profile আঁকা যায়।
Madhyamik Geography Model Answers-4
বিভাগ – ঙ: দীর্ঘ উত্তর (5×5=25)
5.1 সমুদ্রের ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির চিত্র সহ বর্ণনা করো।
উত্তর: সমুদ্রের ঢেউ, স্রোত, জোয়ার-ভাটা ক্ষয় ও সঞ্চয় করে উপকূলে ভূমিরূপ তৈরি করে।
ক্ষয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ:
i. সমুদ্র ভৃগু বা ক্লিফ: সমুদ্র তরঙ্গের ক্রমাগত ধাক্কায় উপকূলের শিলা ক্ষয়ে খাড়া দেয়াল তৈরি হয়, একে ক্লিফ বলে। যেমন বিশাখাপত্তনমের ক্লিফ।
ii. সমুদ্র গুহা: ক্লিফের নরম অংশে তরঙ্গের আঘাতে গর্ত তৈরি হয়ে গুহা তৈরি হয়।
iii. আর্চ ও স্ট্যাক: দুটি বিপরীত দিক থেকে গুহা মিলে গেলে তোরণের মতো আর্চ তৈরি হয়, যেমন গোয়ার আর্চ। আর্চের ছাদ ভেঙে গেলে সমুদ্রে বিচ্ছিন্ন স্তম্ভ দাঁড়িয়ে থাকে, একে স্ট্যাক বলে।
iv. তরঙ্গ কর্তিত মঞ্চ: ক্লিফ পিছিয়ে গেলে পাদদেশে সমতল শিলামঞ্চ পড়ে থাকে, একে তরঙ্গ কর্তিত মঞ্চ বলে।
সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ:
i. সমুদ্র সৈকত: বালি, নুড়ি জমে উপকূলে বিস্তীর্ণ বালির সমভূমি, যেমন পুরী ও দিঘা সৈকত।
ii. স্পিট ও হুক: সমুদ্রস্রোত বালি বহন করে সমুদ্রের দিকে সরু জিভের মতো বাড়িয়ে দিলে তাকে স্পিট বলে। স্পিটের মাথা বেঁকে গেলে হুক তৈরি হয়।
iii. উপহ্রদ বা লেগুন: স্পিট বড় হয়ে উপসাগরকে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে লবণাক্ত অগভীর হ্রদ তৈরি করে, একে লেগুন বলে। যেমন চিল্কা, পুলিকট ও ভেম্বানাদ ভারতের বিখ্যাত লেগুন।
iv. টম্বোলো: দ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে যে বালির বাঁধ, তাকে টম্বোলো বলে।
5.2 বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার তারতম্যের কারণগুলি আলোচনা করো। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ ও ফলাফল লেখো।
উত্তর: উষ্ণতার তারতম্যের কারণ:
i. অক্ষাংশ: নিরক্ষরেখায় সূর্য লম্বভাবে পড়ে, তাই উষ্ণতা বেশি, প্রায় 27°C। মেরুতে সূর্য তির্যকভাবে পড়ে, তাই উষ্ণতা কম, -30°C।
ii. উচ্চতা: ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি 1000 মিটারে 6.5°C হারে উষ্ণতা কমে, তাই দার্জিলিং ঠান্ডা।
iii. সমুদ্র থেকে দূরত্ব: উপকূলে সমভাবাপন্ন জলবায়ু, যেমন মুম্বাই 26°C। ভিতরে মহাদেশীয় বা চরমভাবাপন্ন, যেমন দিল্লিতে গ্রীষ্মে 45°C এবং শীতে 5°C।
iv. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত: উষ্ণ স্রোত উপকূলের উষ্ণতা বাড়ায়, শীতল স্রোত উষ্ণতা কমায়।
v. মেঘ, বন, মাটি ও ঢাল।
বিশ্ব উষ্ণায়ন: গ্রীনহাউস গ্যাস যেমন CO2, মিথেন, CFC বেড়ে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। গত 100 বছরে 1°C বেড়েছে।
কারণ: i. জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো – কলকারখানা, গাড়ি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা, পেট্রোল পোড়ানো। ii. নির্বিচারে বন কাটা, ফলে CO2 শোষণ কমে যায়। iii. জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও নগরায়ণ।
ফলাফল: i. মেরুর বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর 1 মিটার বাড়লে সুন্দরবন, মুম্বাই, কলকাতা ও নেদারল্যান্ডসের নিচু অংশ ডুবে যাবে। ii. জলবায়ু পরিবর্তন – খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও এল-নিনো বাড়বে। iii. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, ফসল নষ্ট ও নতুন রোগ বাড়বে। প্রতিকার – বনসৃজন, নবীকরণযোগ্য শক্তি যেমন সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার, CFC কমানো ও গণপরিবহন বৃদ্ধি।
5.3 ভারতের পশ্চিম হিমালয়ের ভূপ্রকৃতি ও গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: ভূপ্রকৃতি: পশ্চিম হিমালয় জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল ও উত্তরাখণ্ডে বিস্তৃত, তিনটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণি নিয়ে গঠিত –
i. বৃহৎ হিমালয়: গড় উচ্চতা 6000 মিটার, সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নাঙ্গা পর্বত 8126 মিটার। সারা বছর বরফে ঢাকা, এখানে গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী হিমবাহ এবং জোজিলা, বারা লাচা লা গিরিপথ আছে।
ii. মধ্য বা হিমাচল হিমালয়: উচ্চতা 3700-4500 মিটার, পিরপাঞ্জাল, ধৌলাধর ও নাগটিবা পর্বতশ্রেণি। এখানে দুন উপত্যকা আছে, যেমন দেরাদুন, কোটা দুন, কুলু ও কাংড়া উপত্যকা। শিমলা ও মুসৌরি শৈলশহর এখানে।
iii. শিবালিক: উচ্চতা 900-1200 মিটার, নুড়ি, বালি ও পলি দ্বারা গঠিত, নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। পাদদেশে ভাবর ও তরাই সমভূমি আছে।
বৈশিষ্ট্য: পশ্চিম হিমালয় 400 কিমি চওড়া, উচ্চতা বেশি, হিমবাহ বেশি, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে শীতকালে তুষারপাত হয়।
গুরুত্ব: i. জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ – সাইবেরিয়ার শীতল বায়ু আটকায় এবং মৌসুমী বায়ু আটকে বৃষ্টি ঘটায়। ii. নদীর উৎস – সিন্ধু, গঙ্গা ও যমুনা নদীর উৎস। iii. বনজ সম্পদ – পাইন, দেবদারু, ভেষজ উদ্ভিদ। iv. জলবিদ্যুৎ – ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প। v. পর্যটন – কাশ্মীর, শিমলা। vi. প্রতিরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। vii. ফল চাষ – আপেল ও নাসপাতি।
5.4 ভারতে পাট চাষের অনুকূল পরিবেশ, বন্টন ও সমস্যা আলোচনা করো।
উত্তর: পাটকে সোনালী তন্তু বলে, এটি খরিফ শস্য।
অনুকূল পরিবেশ: i. জলবায়ু – 25°-35°C তাপমাত্রা, 150-200 সেমি বৃষ্টি, 90% আর্দ্রতা ও প্রচুর জল প্রয়োজন। ii. মাটি – উর্বর পলি, দোআঁশ, জল ধরে রাখে, প্লাবনভূমি আদর্শ। iii. জমি – সমতল, নিচু, জল জমে থাকে এমন জমি, নদীর পাশে। iv. শ্রমিক – পাট কাটা, পচানো ও আঁশ ছাড়ানোর জন্য সস্তা শ্রমিক প্রয়োজন এবং জলের কাছে হতে হবে। v. বাজার – কলকাতার পাটকলের কাছে হলে সুবিধা।
বন্টন: পশ্চিমবঙ্গ 70% উৎপাদন করে – মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, হুগলি, উত্তর 24 পরগনা। বিহার – পূর্ণিয়া, অসম – গোয়ালপাড়া, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ।
সমস্যা: i. কৃত্রিম তন্তুর প্রতিযোগিতা – নাইলন ও পলিথিন সস্তা। ii. কম দাম ও বেশি মজুরি, লাভ কম, কৃষক আগ্রহ হারায়। iii. পুরনো বীজ, কম ফলন, বন্যা ও খরা। iv. পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়া ও রপ্তানি কমে যাওয়া। সমাধান – উন্নত বীজ JRO 524, MSP বাড়ানো, পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং বহুমুখী ব্যবহার যেমন কার্পেট, কাগজ ও জিওটেক্সটাইল তৈরি।
Madhyamik Geography Model Answers-4
5.5 ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ ও তার প্রভাব আলোচনা করো। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ লেখো।
উত্তর: ভারত 2023 সালে বিশ্বে জনসংখ্যায় প্রথম, 142 কোটি, বৃদ্ধির হার 1.1%।
কারণ: i. জন্মহার বেশি 19/1000, মৃত্যুহার কম 6/1000 – চিকিৎসা, টিকা ও পুষ্টির উন্নতিতে মৃত্যুহার কমেছে, জন্মহার সেভাবে কমেনি। ii. বাল্যবিবাহ, নিরক্ষরতা ও ধর্মীয় কুসংস্কার – বেশি সন্তানকে আশীর্বাদ মনে করা। iii. দারিদ্র্য – গরিব পরিবারে সন্তান শ্রমিক হিসাবে কাজ করে। iv. বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে অভিবাসন। v. পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে অজ্ঞতা।
প্রভাব: i. অর্থনৈতিক – বেকারত্ব 7%, দারিদ্র্য, খাদ্য, বাসস্থান, জল ও বিদ্যুৎ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও GDP কমে যাওয়া। ii. সামাজিক – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, বস্তি, অপরাধ ও আন্দোলন বৃদ্ধি। iii. পরিবেশগত – বন কাটা, জমির উপর চাপ, মাটি ক্ষয়, দূষণ ও জলস্তর নেমে যাওয়া।
সরকারের পদক্ষেপ: i. পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি 1952 সালে বিশ্বে প্রথম চালু। ii. জনসংখ্যা নীতি 2000 – ‘হম দো হমারে দো’। iii. সচেতনতা – টিভি, রেডিও, আশা কর্মীর মাধ্যমে প্রচার। iv. নারী শিক্ষা, বাল্যবিবাহ রোধ। v. গর্ভনিরোধক বিতরণ ও नसबंदी। vi. অর্থনৈতিক উন্নতি ও কর্মসংস্থান। vii. কন্যাশ্রী ও স্বাস্থ্য বীমার মতো প্রকল্প।
5.6 ভারতের মানচিত্রে চিহ্নিত –
উত্তর: মানচিত্রে যেভাবে চিহ্নিত করবে –
[A] বিন্ধ্য পর্বত: মধ্য ভারতে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত, গঙ্গা ও নর্মদা নদীর জলবিভাজিকা হিসাবে কাজ করে। প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত, গড় উচ্চতা 600 মিটার। নর্মদা ও তাপ্তি রিফ্ট উপত্যকার উত্তরে অবস্থিত।
[B] পুলিকট হ্রদ: অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু সীমান্তে চেন্নাইয়ের উত্তরে অবস্থিত। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম লবণাক্ত উপহ্রদ। শ্রীহরিকোটা দ্বীপ দ্বারা সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন এবং সতীশ ধবন মহাকাশ কেন্দ্র এখানে অবস্থিত।
[C] কৃষ্ণা নদী: মহারাষ্ট্রের মহাবালেশ্বর থেকে উৎপত্তি, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্য দিয়ে 1400 কিমি পূর্বে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। বিজয়ওয়াড়ার কাছে ব-দ্বীপ তৈরি করেছে এবং নাগার্জুন সাগর বাঁধ এর উপর অবস্থিত।
[D] একটি লোহা উৎপাদক অঞ্চল – ওড়িশা: ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ, কেন্দুঝর ও সুন্দরগড় জেলায় ভারতের 50% লোহা উৎপাদিত হয়। বাদাম পাহাড় ও সুলাইপাত খনি বিখ্যাত, লোহা ভিলাই ও রাউরকেলা ইস্পাত কারখানায় যায়। মানচিত্রে পূর্ব ভারতে বাদামি রঙে দেখাবে।
[E] একটি কার্পাস উৎপাদক অঞ্চল – গুজরাট: গুজরাটের সৌরাষ্ট্র, কচ্ছ ও আমেদাবাদ অঞ্চলে কৃষ্ণ মাটি ও 50-100 সেমি বৃষ্টিতে কার্পাস চাষ হয়। ভারতের 25% তুলো এখানে উৎপাদিত হয়, দীর্ঘ আঁশের তুলো বিখ্যাত।
[F] মার্মাগাঁও বন্দর: গোয়ায় আরব সাগরের তীরে অবস্থিত প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়। লৌহ আকরিক রপ্তানির জন্য বিখ্যাত এবং একটি পর্যটন বন্দর।
[G] একটি ম্যানগ্রোভ অরণ্য – সুন্দরবন: পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সুন্দরী, গরান ও গেওয়া গাছ দেখা যায়, এটি একটি লবণাম্বু উদ্ভিদ অঞ্চল।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.