Madhyamik Geography Model Answers-5
Madhyamik Geography Model Answers-5
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-5) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Geography Model Answers-5

Geography (ভূগোল)
বিভাগ – ক: MCQ – ব্যাখ্যা সহ
1.1 নগ্নীভবনের একটি প্রক্রিয়া –
[A] আবহবিকার ✓ [B] ভূমিকম্প
[C] অগ্ন্যুৎপাত [D] পাত সঞ্চালন
ব্যাখ্যা: নগ্নীভবন = আবহবিকার + ক্ষয়ীভবন + সঞ্চয়। এটি বহির্জাত প্রক্রিয়া। ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পাত সঞ্চালন অন্তর্জাত প্রক্রিয়া।
1.2 হিমবাহের সঞ্চয়ে সৃষ্টি হয় –
[A] ড্রামলিন ✓ [B] করি
[C] পিরামিড চূড়া [D] U আকৃতির উপত্যকা
ব্যাখ্যা: ড্রামলিন হিমবাহের টিল সঞ্চয়ে গঠিত উল্টানো নৌকার মতো টিলা। করি, পিরামিড চূড়া, U উপত্যকা হিমবাহের ক্ষয়ে সৃষ্টি হয়।
1.3 বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর –
[A] মেসোস্ফিয়ার ✓ [B] ট্রপোস্ফিয়ার
[C] স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার [D] থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা: মেসোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়লে তাপ কমে, 80 কিমি উচ্চতায় -90°C, সবচেয়ে ঠান্ডা। থার্মোস্ফিয়ারে তাপ বাড়ে।
1.4 ITCZ কী?
[A] নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় ✓ [B] মেরু উচ্চচাপ বলয়
[C] কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় [D] কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা: ITCZ = Inter Tropical Convergence Zone। নিরক্ষরেখায় উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু মিলিত হয়ে নিম্নচাপ বলয় তৈরি করে, এখানে ডোলড্রাম হয়।
1.5 ভারতের বৃহত্তম নদী অববাহিকা –
[A] গঙ্গা ✓ [B] ব্রহ্মপুত্র
[C] গোদাবরী [D] সিন্ধু
ব্যাখ্যা: গঙ্গা অববাহিকা 8.6 লক্ষ বর্গ কিমি, ভারতের বৃহত্তম। গোদাবরী দক্ষিণ ভারতে বৃহত্তম।
1.6 যমুনা নদীর উৎস –
[A] যমুনোত্রী ✓ [B] গোমুখ
[C] অমরকন্টক [D] ব্রহ্মগিরি
ব্যাখ্যা: উত্তরাখণ্ডের বান্দরপুঞ্ছ পর্বতের যমুনোত্রী হিমবাহ থেকে যমুনার উৎপত্তি। গোমুখ গঙ্গার উৎস।
1.7 ভারতের নবীন পলি মাটি –
[A] খাদর ✓ [B] ভাঙ্গর
[C] রেগুর [D] ল্যাটেরাইট
ব্যাখ্যা: নদীর প্লাবনভূমিতে প্রতি বছর নতুন পলি জমে খাদর গঠিত হয়, খুব উর্বর। ভাঙ্গর পুরনো পলি, উঁচুতে থাকে।
1.8 ভারতে জোয়ার চাষ বেশি হয় –
[A] মহারাষ্ট্রে ✓ [B] পশ্চিমবঙ্গে
[C] কেরলে [D] অসমে
ব্যাখ্যা: মহারাষ্ট্র ভারতে জোয়ার উৎপাদনে প্রথম। এটি শুষ্ক অঞ্চলের মিলেট। পশ্চিমবঙ্গে ধান বেশি।
1.9 রাউরকেল্লা ইস্পাত কেন্দ্র গড়ে ওঠে –
[A] জার্মানির সহযোগিতায় ✓ [B] রাশিয়ার
[C] ব্রিটেনের [D] USA এর
ব্যাখ্যা: ওড়িশার রাউরকেল্লা 1955 সালে পশ্চিম জার্মানির সহায়তায় গড়ে ওঠে।
1.10 ভারতের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র –
[A] বিশাখাপত্তনম ✓ [B] কোচি
[C] মুম্বাই [D] কলকাতা
ব্যাখ্যা: বিশাখাপত্তনমের হিন্দুস্থান শিপইয়ার্ড ভারতের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র। কোচি শিপইয়ার্ডও বড়।
1.11 LANDSAT উপগ্রহ –
[A] USA এর ✓ [B] ভারতের
[C] রাশিয়ার [D] জাপানের
ব্যাখ্যা: LANDSAT আমেরিকার NASA ও USGS এর পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ, 1972 থেকে চালু।
1.12 ডিগ্রী শিটের স্কেল –
[A] 1:250000 ✓ [B] 1:50000
[C] 1:1000000 [D] 1:25000
ব্যাখ্যা: 1° x 1° অক্ষাংশ-দ্রাঘিমার শিটকে ডিগ্রী শিট বলে, স্কেল 1:250000।
1.13 মরু অঞ্চলে জনবসতি –
[A] বিক্ষিপ্ত ✓ [B] গোষ্ঠীবদ্ধ
[C] রৈখিক [D] বৃত্তাকার
ব্যাখ্যা: জলের অভাবে মরুতে মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে মরূদ্যানের কাছে বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে তোলে।
1.14 ভারতে শিক্ষার হার সবচেয়ে বেশি –
[A] কেরলে ✓ [B] বিহারে
[C] রাজস্থানে [D] উত্তরপ্রদেশে
ব্যাখ্যা: 2011 অনুযায়ী কেরলে সাক্ষরতা 94%, ভারতে সর্বোচ্চ। বিহারে সর্বনিম্ন 61.8%।
Madhyamik Geography Model Answers-5
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×16=16)
2.1 পুঞ্জিত ক্ষয় কী?
উত্তর: আবহবিকারের ফলে শিলা আলগা ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে অভিকর্ষের টানে ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসার প্রক্রিয়াকে পুঞ্জিত ক্ষয় বা ওয়েস্টেজ বলে। যেমন ভূমিধস, ধস ও মৃত্তিকা প্রবাহ হল পুঞ্জিত ক্ষয়ের উদাহরণ। পার্বত্য অঞ্চলে এই ক্ষয় বেশি দেখা যায়।
2.2 গ্রাবরেখা কী?
উত্তর: হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট নুড়ি, বালি, কাদা ও শিলাখণ্ড হিমবাহের দুই পাশে, মাঝখানে এবং শেষ প্রান্তে সঞ্চিত হয়ে যে সংকীর্ণ শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে গ্রাবরেখা বা মোরেন বলে। অবস্থান অনুযায়ী এটি পার্শ্ব গ্রাবরেখা, মধ্য গ্রাবরেখা, প্রান্ত গ্রাবরেখা ও ভূমি গ্রাবরেখা নামে পরিচিত।
2.3 পেডিমেন্ট কী?
উত্তর: মরু অঞ্চলে পর্বতের পাদদেশে বায়ু ও জলধারার ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত মৃদু ঢালযুক্ত শিলাময় সমতল ভূমিকে পেডিমেন্ট বলে।
2.4 বায়ুর আর্দ্রতা কত প্রকার?
উত্তর: বায়ুর আর্দ্রতা প্রধানত তিন প্রকার। যথা ১) পরম আর্দ্রতা: এক ঘনমিটার বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে গ্রামে প্রকাশ করা হয়, ২) বিশেষ আর্দ্রতা: এক কিলোগ্রাম বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে গ্রামে প্রকাশ করা হয় এবং ৩) আপেক্ষিক আর্দ্রতা: কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্প ও ওই উষ্ণতায় সম্পৃক্ত বায়ুতে জলীয় বাষ্পের অনুপাতকে শতকরা হিসাবে প্রকাশ করা হয়। আপেক্ষিক আর্দ্রতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
2.5 আঁধি কী?
উত্তর: উত্তর-পশ্চিম ভারতে বিশেষ করে রাজস্থান, দিল্লি ও পাঞ্জাবে গ্রীষ্মকালে যে তীব্র ধূলিঝড় প্রবাহিত হয়, তাকে আঁধি বলে। তীব্র গরমে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে ধূলিকণা উড়ে এই ঝড়ের সৃষ্টি হয় এবং সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়।
2.6 কচ্ছের রণ কী?
উত্তর: গুজরাটের কচ্ছ উপকূলে অবস্থিত লবণাক্ত, কর্দমাক্ত ও জলাভূমিপূর্ণ অঞ্চলকে কচ্ছের রণ বলে। বর্ষাকালে সমুদ্রের জল ঢুকে এই অঞ্চল জলমগ্ন হয় এবং গ্রীষ্মকালে জল শুকিয়ে লবণের সমভূমিতে পরিণত হয়। এটি বড় রণ ও ছোট রণ নামে দুই ভাগে বিভক্ত।
2.7 ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য কী?
উত্তর: ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য হল ধান। ভারতের প্রায় 50 শতাংশ মানুষের প্রধান খাদ্য হল ধান এবং সবচেয়ে বেশি জমিতে অর্থাৎ প্রায় 23 শতাংশ জমিতে ধান চাষ করা হয়। গম হল দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য।
2.8 অপারেশন ফ্লাড কীসের সঙ্গে যুক্ত?
উত্তর: অপারেশন ফ্লাড শ্বেত বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত। 1970 সালে ড. বর্গিস কুরিয়েনের নেতৃত্বে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। গুজরাটের আনন্দে আমুল সমবায় মডেল এই বিপ্লবের প্রধান উদাহরণ।
2.9 ভারতে প্রথম চিনি কল কোথায় গড়ে ওঠে?
উত্তর: ভারতে প্রথম চিনি কল গড়ে ওঠে 1840 সালে বিহারের সারনে। তবে ভারতের প্রথম সফল চিনি কল গড়ে ওঠে 1903 সালে বিহারের প্রতাপপুরে।
2.10 ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক কোনটি?
উত্তর: ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক হল NH 44, যা আগে NH 7 নামে পরিচিত ছিল। এটি জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় 3745 কিলোমিটার।
2.11 সেন্সর কী?
উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহে লাগানো যে বিশেষ যন্ত্র ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো, তাপ ও বেতার তরঙ্গ গ্রহণ করে ভূমির ছবি তোলে, তাকে সেন্সর বলে। যেমন LISS, PAN ও SAR হল বিভিন্ন ধরনের সেন্সর।
2.12 টপো মানচিত্রে সবুজ রঙে কী দেখানো হয়?
উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে সবুজ রঙে স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও বনভূমি সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখানো হয়, যেমন বনভূমি, বাগান ও ঘাসজমি।
2.13 নগরায়ণ কী?
উত্তর: গ্রাম থেকে শহরে জনসংখ্যার স্থানান্তর এবং শহরের সংখ্যা, আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে নগরায়ণ বলে। বর্তমানে ভারতে প্রায় 35 শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করে।
2.14 জনবিস্ফোরণ কী?
উত্তর: কোনো দেশে মৃত্যুহার হঠাৎ কমে গিয়ে জন্মহার বেশি থাকলে জনসংখ্যা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে জনবিস্ফোরণ বলে। ভারতে 1951 থেকে 1981 সালের মধ্যে জনবিস্ফোরণ ঘটেছিল।
2.15 ভারতের মূল ভূখণ্ডের অক্ষাংশগত বিস্তার কত?
উত্তর: ভারতের মূল ভূখণ্ডের অক্ষাংশগত বিস্তার হল 8°4′ উত্তর অক্ষাংশে কন্যাকুমারী থেকে 37°6′ উত্তর অক্ষাংশে কাশ্মীর পর্যন্ত, যা প্রায় 29 ডিগ্রি। ইন্দিরা পয়েন্ট সহ সমগ্র ভারতের বিস্তার 6°45′ উত্তর থেকে 37°6′ উত্তর পর্যন্ত।
2.16 ধসের কারণ কী?
উত্তর: ধসের কারণ দুই প্রকার। প্রাকৃতিক কারণগুলি হল ভূমিকম্প, অতিরিক্ত বৃষ্টি, বন্যা, নদীর পাড় ক্ষয় ও শিলা আলগা হয়ে যাওয়া। মানবীয় কারণগুলি হল নির্বিচারে বন কাটা, রাস্তা নির্মাণ, খনি খনন, বাঁধ নির্মাণ ও অতিরিক্ত পশুচারণ। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে ধস বেশি ঘটে।
Madhyamik Geography Model Answers-5
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×8=16)
3.1 নদীর ক্ষয়কার্যের তিনটি প্রক্রিয়া লেখো।
উত্তর: নদীর ক্ষয়কার্যের তিনটি প্রধান প্রক্রিয়া হল –
i. অবঘর্ষ: নদীর জলে বাহিত নুড়ি, পাথর ও বালি নদীর তলদেশ ও পাড়ে ঘষা লেগে ক্ষয় করে। এর ফলে নদী উপত্যকা গভীর হয়।
ii. ঘর্ষণ: নদীতে বাহিত নুড়ি ও পাথরগুলি একে অপরের সাথে ধাক্কা ও ঘষা লেগে ক্রমশ ছোট, গোল ও মসৃণ হয়ে যায়।
iii. দ্রবণ: নদীর জলে চুনাপাথর ও লবণ জাতীয় শিলা সহজে গুলে গিয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এছাড়া জলের প্রবল চাপে বা Hydraulic Action-এর ফলেও নদীর পাড় ভেঙে ক্ষয় হয়।
3.2 হিমবাহের ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় ক্ষয় কার্য সঞ্চয় কার্য
প্রক্রিয়া বরফের চাপে ও টানে শিলা উপড়ে ও ঘষে ক্ষয় করে। বরফ গলে গেলে বাহিত নুড়ি, বালি ও কাদা জমা হয়।
ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ করি, U আকৃতির উপত্যকা, এরিটি, পিরামিড চূড়া বা হর্ন সৃষ্টি হয়। গ্রাবরেখা, ড্রামলিন, এসকার ও বহিঃবিধৌত সমভূমি সৃষ্টি হয়।
অবস্থান উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ক্ষয় বেশি হয়। হিমবাহের শেষ প্রান্তে ও পাদদেশে সঞ্চয় বেশি হয়।
3.3 ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ঘূর্ণবাতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
i. এর কেন্দ্রে নিম্নচাপ এবং বাইরের দিকে উচ্চচাপ থাকে। বায়ু বাইরে থেকে কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে।
ii. ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রে প্রবেশ করে।
iii. ঘূর্ণবাতের সময় আকাশে ঘন মেঘ, প্রবল বৃষ্টি, ঝড় ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি হয়।
iv. ঘূর্ণবাত দুই প্রকার। যথা ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত, যেমন বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় এবং নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত, যেমন ভূমধ্যসাগর থেকে আসা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা।
3.4 মৌসুমী বায়ুর ওপর জেট বায়ুর প্রভাব লেখো।
উত্তর: মৌসুমী বায়ুর উপর জেট বায়ুর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ –
i. শীতকালীন প্রভাব: শীতকালে উপক্রান্তীয় পশ্চিমী জেট বায়ু ভূমধ্যসাগর থেকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে উত্তর-পশ্চিম ভারতে নিয়ে আসে। এর ফলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় বৃষ্টি ও তুষারপাত হয়, যা গম চাষের পক্ষে উপকারী।
ii. গ্রীষ্মকালীন প্রভাব: গ্রীষ্মকালে ক্রান্তীয় পূর্বী জেট বায়ু ভারতীয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুকে ত্বরান্বিত করে এবং আরব সাগরীয় ও বঙ্গোপসাগরীয় শাখাকে ভারতের দিকে টেনে আনে। জেট বায়ু দুর্বল হলে মৌসুমী বায়ুর আগমন দেরিতে হয় এবং খরার সৃষ্টি হয়।
3.5 ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: অরুণাচল, অসম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা এই সাতটি রাজ্য নিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারত গঠিত।
i. এখানে পূর্ব হিমালয় এবং পাটকাই, নাগা ও লুসাই পাহাড় অবস্থিত। এই পাহাড়গুলি খাড়া ঢালযুক্ত এবং ঘন বনভূমি দ্বারা আবৃত।
ii. ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদীর উর্বর পলল গঠিত উপত্যকা রয়েছে, যা সমভূমি অঞ্চল গঠন করেছে এবং এই অঞ্চল বন্যা প্রবণ।
iii. মেঘালয় রাজ্যে শিলং মালভূমি, চুনাপাথর গঠিত গুহা এবং পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল মৌসিনরাম অবস্থিত।
iv. এই অঞ্চলটি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের অন্তর্গত, কারণ এটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় পাতের সংযোগস্থলে অবস্থিত।
3.6 ভারতের জলসম্পদের ব্যবহার লেখো।
উত্তর: ভারতে জলসম্পদের ব্যবহারগুলি হল –
i. কৃষিতে: ভারতে মোট ব্যবহৃত জলের প্রায় 80 শতাংশ সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। খাল, কূপ ও নলকূপের মাধ্যমে জলসেচ করা হয়।
ii. শিল্পে: লৌহ-ইস্পাত, কাগজ, বস্ত্র ও রাসায়নিক শিল্পে প্রচুর জল ব্যবহৃত হয়।
iii. গৃহস্থালির কাজে: পানীয় জল, রান্না, স্নান ও পরিষ্কারের কাজে জল ব্যবহৃত হয়।
iv. জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে: নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যেমন ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ।
v. পরিবহন ও মৎস্য চাষে: নদী ও খালে নৌ-পরিবহন এবং মাছ চাষের জন্য জলসম্পদ ব্যবহৃত হয়।
vi. পরিবেশ রক্ষায়: বনভূমি, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় জলসম্পদ অপরিহার্য।
Madhyamik Geography Model Answers-5
3.7 ভারতে কৃষির সমস্যা লেখো।
উত্তর: ভারতে কৃষির প্রধান সমস্যাগুলি হল –
i. ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্ত জোত: ভারতে প্রায় 60 শতাংশ জোত 1 হেক্টরের কম। ফলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায় না।
ii. মৌসুমী বৃষ্টির উপর নির্ভরতা: ভারতের কৃষি মৌসুমী বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল, যা অনিশ্চিত এবং এর ফলে খরা ও বন্যা হয়।
iii. পুরনো পদ্ধতি ও কম ফলন: এখনও অনেক জায়গায় পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, সার কম ব্যবহার করা হয়। তাই ভারতে ধানের ফলন হেক্টর প্রতি 2.5 টন, যেখানে চীনে 6 টন।
iv. আর্থ-সামাজিক সমস্যা: ঋণের অভাব, বাজার ও সংরক্ষণের অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ কৃষির উন্নতিতে বাধা দেয়।
v. প্রাকৃতিক সমস্যা: মাটির ক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূগর্ভস্থ জলস্তরের অবনমন কৃষির সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে।
3.8 ভারতে ধান চাষ বেশি কেন?
উত্তর: ভারতে ধান চাষ বেশি হওয়ার কারণগুলি হল –
i. প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশ: ভারতের মৌসুমী জলবায়ুতে 100 থেকে 200 সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়, উর্বর পলি মাটি, সমতল জমি এবং প্রচুর সস্তা শ্রমিক পাওয়া যায়, যা ধান চাষের জন্য আদর্শ।
ii. খাদ্যাভ্যাস: ধান ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য। ভারতের প্রায় 50 শতাংশ মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। বিশেষ করে বাঙালি ও দক্ষিণ ভারতীয়দের প্রধান খাদ্য হল ভাত।
iii. সরকারি সহায়তা: সরকার ধান চাষে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, সেচের সুবিধা, উন্নত বীজ ও সার সরবরাহ করে। তাই ভারতের প্রায় 23 শতাংশ কৃষিজমিতে ধান চাষ হয়। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাবে ধান সবচেয়ে বেশি চাষ হয়।
3.9 ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের সমস্যা লেখো।
উত্তর: ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের সমস্যাগুলি হল –
i. উন্নত প্রযুক্তি ও কাঁচামালের অভাব: এই শিল্পে উন্নত প্রযুক্তির অভাব রয়েছে এবং উন্নত মানের কোক কয়লার অভাব থাকায় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
ii. পুরনো যন্ত্রপাতি: অনেক কারখানায় পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, ফলে উৎপাদনশীলতা কম এবং উৎপাদন ব্যয় বেশি।
iii. পরিকাঠামোর অভাব: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব, মূলধনের অভাব এবং পরিবহন সমস্যা রয়েছে।
iv. বিদেশি প্রতিযোগিতা: চীন ও জাপানের মতো দেশ থেকে সস্তা ইস্পাত আমদানি হওয়ায় ভারতীয় শিল্প তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়।
v. শ্রমিক সমস্যা: শ্রমিক অসন্তোষ ও ধর্মঘটের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়।
3.10 দূর সংবেদন কী?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠকে সরাসরি স্পর্শ না করে দূর থেকে অর্থাৎ বিমান বা কৃত্রিম উপগ্রহে স্থাপিত সেন্সরের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের প্রতিফলিত আলো সংগ্রহ করে ছবি তোলা এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করার পদ্ধতিকে দূর সংবেদন বা রিমোট সেন্সিং বলে।
এটি দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করার একটি আধুনিক পদ্ধতি। যেমন ভারতের IRS এবং আমেরিকার LANDSAT উপগ্রহ থেকে বনভূমি, কৃষিজমি, জলাশয়, শহর, খনিজ সম্পদ, আবহাওয়া ও বন্যা পর্যবেক্ষণ করা হয়। বর্তমানে GIS-এ এই তথ্য ব্যবহার করা হয়।
3.11 জনবসতির শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তর: জনবসতির শ্রেণিবিভাগ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে করা যায় –
i. আকৃতি অনুযায়ী: পুঞ্জীভূত জনবসতি যেমন গাঙ্গেয় সমভূমিতে দেখা যায়, বিক্ষিপ্ত জনবসতি যেমন হিমালয় ও মরু অঞ্চলে দেখা যায়, রৈখিক জনবসতি যেমন নদী ও রাস্তার দুই ধারে গড়ে ওঠে, বৃত্তাকার জনবসতি যেমন হ্রদের চারপাশে এবং চৌমাথা বা চৌরাস্তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জনবসতি।
ii. কাজ বা কার্য অনুযায়ী: কৃষিজ জনবসতি, শিল্প জনবসতি, বাণিজ্যিক জনবসতি, প্রশাসনিক জনবসতি, ধর্মীয় জনবসতি ও পর্যটন কেন্দ্রিক জনবসতি।
iii. অবস্থান অনুযায়ী: গ্রামীণ জনবসতি ও পৌর বা শহুরে জনবসতি।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-6 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-5/2 » NIRYAS.IN