Madhyamik Geography Model Answers-5/2
Madhyamik Geography Model Answers-5
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-5) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Geography Model Answers-5

Geography (ভূগোল)
(Part-2)
বিভাগ – ঘ: ব্যাখ্যামূলক (3×6=18)
বিভাগ – ঘ: ব্যাখ্যামূলক উত্তর – চিত্র সহ
4.1 নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্র সহ আলোচনা করো।
উত্তর: নদীর গতিবেগ কমে গেলে নদী বাহিত নুড়ি, বালি, কাদা ও পলি জমা হয়ে নিম্নলিখিত ভূমিরূপগুলি তৈরি করে –
i. পলল শঙ্কু ও পলল পাখা: পর্বতের পাদদেশে ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় নদী পলি জমা করে শঙ্কুর আকারে। কয়েকটি পলল শঙ্কু জুড়ে গিয়ে হাত পাখার মতো দেখতে পলল পাখা তৈরি হয়।
ii. প্লাবনভূমি: বর্ষাকালে নদী দুই কূল ছাপিয়ে বন্যার জল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পলি জমিয়ে উর্বর সমভূমি তৈরি করে, তাকে প্লাবনভূমি বলে। যেমন গঙ্গা সমভূমি।
iii. প্রাকৃতিক বাঁধ বা লেভি: প্লাবনভূমির ঠিক নদীর দুই পাশে বালি ও পলি জমে উঁচু বাঁধের মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়, একে প্রাকৃতিক বাঁধ বলে।
iv. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ: নদীর এঁকেবেঁকে চলা বাঁক বা মিয়েন্ডার মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘোড়ার খুরের মতো হ্রদ তৈরি করে।
v. ব-দ্বীপ: মোহনার কাছে নদীর বেগ একদম কমে গেলে পলি জমে ত্রিকোণাকার দ্বীপ তৈরি হয়, একে ব-দ্বীপ বলে। যেমন গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের সুন্দরবন ব-দ্বীপ, বিশ্বের বৃহত্তম।
vi. চর ও বিনুনি নদী: নদীর মাঝখানে বালি জমে ছোট দ্বীপ বা চর তৈরি হয় এবং নদী অনেকগুলি শাখায় ভাগ হয়ে গেলে তাকে বিনুনি নদী বলে।
4.2 বায়ুর ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুই প্রধান ভূমিরূপ গঠনকারী শক্তি।
ক্ষয়কার্যের ফলে:
i. গৌর: নিচে নরম শিলা ও উপরে কঠিন শিলা থাকলে নিচের অংশ বেশি ক্ষয়ে সরু এবং উপরের অংশ চওড়া হয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে লাগে।
ii. ইয়ারদাং: কঠিন ও নরম শিলা পাশাপাশি উল্লম্বভাবে থাকলে নরম শিলা ক্ষয়ে খাঁজ এবং কঠিন শিলা উঁচু শৈলশিরা হিসাবে থাকে, দেখতে নৌকা উল্টানোর মতো।
iii. জিউগেন: উপরে কঠিন ও নিচে নরম শিলা অনুভূমিকভাবে থাকলে টেবিলের মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়।
iv. ভেন্টিফ্যাক্ট: বালি ঘষে পাথরে তিনটি ধারালো মসৃণ তল তৈরি হয়।
v. অপসারণ গর্ত: বায়ু আলগা বালি উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে বড় গর্ত সৃষ্টি করে।
বহন কার্য: বায়ু তিনভাবে বহন করে – ভাসমান প্রক্রিয়ায় ধূলি ও কাদা, লম্ফদান বা Saltation প্রক্রিয়ায় বালি লাফিয়ে লাফিয়ে এবং গড়ানো বা Creep প্রক্রিয়ায় নুড়ি গড়িয়ে বহন করে।
সঞ্চয় কার্যের ফলে:
i. বার্খান: অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়ি, বায়ুর দিকে উত্তল ও দুটি শিং থাকে।
ii. Seif বা অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি: বায়ুর সমান্তরালে দীর্ঘ রৈখিক বালিয়াড়ি।
iii. লোয়েস সমভূমি: বায়ুবাহিত সূক্ষ্ম ধূলি ও পলি জমে উর্বর সমভূমি।
iv. প্লায়া হ্রদ: মরু অঞ্চলে সাময়িক লবণাক্ত হ্রদ, শুকিয়ে গেলে লবণের আস্তরণ পড়ে।
4.3 বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর: বায়ুমণ্ডলে 5টি স্তর আছে –
i. ট্রপোস্ফিয়ার 0-18 কিমি: সবচেয়ে নিচের স্তর, এখানে বায়ুমণ্ডলের 75% বায়ু ও জলীয় বাষ্প আছে। আবহাওয়ার সব ঘটনা যেমন মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, জেট বায়ু এখানেই ঘটে। প্রতি 1000 মিটারে 6.5°C হারে উষ্ণতা কমে। মানুষ এখানেই বাস করে।
ii. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার 18-50 কিমি: এখানে 20-35 কিমি উচ্চতায় ওজোন স্তর আছে, যা UV রশ্মি শোষণ করে। আবহাওয়া শান্ত বলে জেট বিমান চলে। এখানে উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা বাড়ে।
iii. মেসোস্ফিয়ার 50-80 কিমি: সবচেয়ে ঠান্ডা স্তর, তাপমাত্রা -90°C। মহাকাশ থেকে আসা উল্কা এখানে এসে পুড়ে যায়। উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে।
iv. থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার 80-640 কিমি: এখানে আয়ন থাকে, বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়, মেরুজ্যোতি দেখা যায়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন এখানে 400 কিমি উচ্চতায় ঘোরে। এখানে তাপমাত্রা 1000°C পর্যন্ত বাড়ে।
v. এক্সোস্ফিয়ার 640-10000 কিমি: সবচেয়ে উপরের স্তর, বায়ু প্রায় নেই। কৃত্রিম উপগ্রহগুলি এখানে ঘোরে এবং এই স্তর মহাকাশে মিশে যায়।
4.4 ভারতের পূর্ব হিমালয় ও পশ্চিম হিমালয়ের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় পশ্চিম হিমালয় পূর্ব হিমালয়
বিস্তার জম্মু-কাশ্মীর থেকে নেপাল পর্যন্ত, সিন্ধু থেকে কালী নদী। নেপাল থেকে অরুণাচল পর্যন্ত, কালী থেকে ব্রহ্মপুত্র নদী।
চওড়া ও উচ্চতা বেশি চওড়া প্রায় 400 কিমি, উচ্চতা বেশি, হিমবাহ বেশি। কম চওড়া প্রায় 200 কিমি, বেশি খাড়া, হিমবাহ কম।
বৃষ্টিপাত বৃষ্টি কম, শীতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে তুষারপাত হয়। বৃষ্টি খুব বেশি 200-400 সেমি, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে।
উদ্ভিদ পাইন, দেবদারু সরলবর্গীয় ও আল্পীয় উদ্ভিদ। চিরহরিৎ, রডোডেনড্রন ও ঘন বন।
প্রধান পর্বতশৃঙ্গ নাঙ্গা পর্বত, নন্দাদেবী। কাঞ্চনজঙ্ঘা, নামচা বারওয়া।
Madhyamik Geography Model Answers-5
4.5 ভারতের জলসেচের প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতিগুলি লেখো।
উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা:
i. মৌসুমী বৃষ্টি অনিশ্চিত, বছরের 75% বৃষ্টি মাত্র 3 মাসে হয়, বাকি সময় খরা থাকে।
ii. রবি শস্য যেমন গম ও জায়িদ শস্য যেমন তরমুজ চাষের সময় বৃষ্টি হয় না, তাই সেচ প্রয়োজন।
iii. বেশি ফলনের জন্য উচ্চ ফলনশীল বীজে সারা বছর জল দরকার।
iv. খরা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে এবং বহু ফসল চাষে সেচ অপরিহার্য।
পদ্ধতি:
i. কূপ ও নলকূপ: উত্তর ভারতে সবচেয়ে বেশি, ভারতের 60% সেচ নলকূপে হয়।
ii. খালের মাধ্যমে: বাঁধ থেকে খাল কেটে সেচ, যেমন ভাকরা-নাঙ্গাল ও ইন্দিরা গান্ধী খাল।
iii. পুকুর ও জলাশয়: দক্ষিণ ভারতে বেশি প্রচলিত।
iv. আধুনিক পদ্ধতি: ড্রিপ বা বিন্দু সেচ এবং স্প্রিংকলার বা ঝরনা সেচ, এতে জল 50% কম লাগে।
v. নদী উপত্যকা প্রকল্প: বড় বাঁধের জলাধার থেকে সেচ দেওয়া হয়।
4.6 ভারতে গম চাষের বন্টন ও সমস্যা আলোচনা করো।
উত্তর:
বন্টন: গম রবি শস্য, উত্তর-পশ্চিম ভারতে বেশি চাষ হয় –
i. উত্তরপ্রদেশ প্রথম, ভারতের 30% গম উৎপাদন করে।
ii. পাঞ্জাব ও হরিয়ানা – সবুজ বিপ্লবের ফলে এখানে ফলন সবচেয়ে বেশি, 4 টন/হেক্টর।
iii. মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও বিহারেও গম চাষ হয়।
সমস্যা:
i. ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্ত জোত।
ii. সেচের জলের অভাব এবং অতিরিক্ত নলকূপের জল তোলায় ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়া।
iii. মাটির ক্ষয় ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি।
iv. রোগ, পোকা ও অকাল শিলাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট।
v. সংরক্ষণ, বাজার ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা MSP কম পাওয়া।
vi. জলবায়ু পরিবর্তন – শীত কমে গেলে গমের ফলন কমে যায়।
4.7 ভারতে কার্পাস শিল্পের বিকাশ লেখো।
উত্তর: কার্পাস বা বস্ত্র শিল্প ভারতের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম শিল্প, বর্তমানে প্রায় 1300 টি মিল আছে।
বিকাশ: 1818 সালে ঘুষুড়িতে প্রথম কারখানা হলেও তা সফল হয়নি। সফলভাবে প্রথম 1854 সালে বোম্বেতে কাওয়াসজি ডাভর বোম্বে স্পিনিং অ্যান্ড উইভিং মিল স্থাপন করেন। স্বাধীনতার পর এই শিল্পের দ্রুত বিকাশ হয়। বর্তমান কেন্দ্রগুলি হল মহারাষ্ট্রে মুম্বাই, নাগপুর, পুনে, শোলাপুর, গুজরাটে আহমেদাবাদ, সুরাট, ভদোদরা, তামিলনাড়ুতে কোয়েম্বাটুর, চেন্নাই, পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা, হাওড়া এবং উত্তরপ্রদেশে কানপুর।
বিকাশের কারণ:
i. মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে কৃষ্ণ মাটিতে প্রচুর তুলো চাষ হয়।
ii. আর্দ্র জলবায়ু সুতো কাটার জন্য অনুকূল।
iii. সস্তা ও দক্ষ শ্রমিক।
iv. দেশীয় বাজার ও বন্দরের সুবিধা।
v. বিদ্যুতের সহজলভ্যতা।
বর্তমান সমস্যা – পুরনো যন্ত্রপাতি, কৃত্রিম তন্তুর প্রতিযোগিতা ও বিদেশি প্রতিযোগিতা। সরকার টেকনোলজি আপগ্রেডেশন ফান্ড বা TUF তৈরি করে সাহায্য করছে।
4.8 ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বা টপো মানচিত্র উপগ্রহ চিত্র
প্রকৃতি জরিপ করে আঁকা মানচিত্র, এতে সমোন্নতি রেখা, সাংকেতিক চিহ্ন ও স্কেল থাকে। মহাকাশ থেকে সেন্সর দ্বারা তোলা ডিজিটাল ফটো।
বৈশিষ্ট্য খুব বিস্তারিত তথ্য থাকে, সস্তা, সহজে পড়া যায়, কিন্তু তথ্য পুরনো হয়ে যায়। বিশাল অঞ্চলের রঙিন ছবি, নিয়মিত আপডেট পাওয়া যায়, কিন্তু দামি, মেঘ থাকলে অস্পষ্ট এবং বিশেষজ্ঞ ও কম্পিউটার লাগে।
প্রস্তুতকারক ভারতে Survey of India তৈরি করে, স্কেল 1:50000 ও 1:250000। ISRO ও NASA তৈরি করে, যেমন ভারতের IRS, LANDSAT, Cartosat উপগ্রহের চিত্র।
—
Madhyamik Geography Model Answers-5
বিভাগ – ঙ: দীর্ঘ উত্তর (5×5=25)
5.1 বায়ুমণ্ডলের তাপের উৎস ও উষ্ণতার বন্টন আলোচনা করো।
উত্তর:
তাপের উৎস: প্রধান উৎস সূর্য। সূর্য থেকে ক্ষুদ্র তরঙ্গ বিকিরণ বা Short Wave আসে, পৃথিবী তা শোষণ করে, পরে দীর্ঘ তরঙ্গ বা Long Wave হিসাবে বিকিরণ করে বায়ুমণ্ডলকে গরম করে। প্রক্রিয়াগুলি হল –
i. বিকিরণ: সূর্য থেকে সরাসরি তাপ আসে।
ii. পরিবহন: ভূমি উত্তপ্ত হলে তার সংস্পর্শে থাকা বায়ু গরম হয়।
iii. পরিচলন: গরম হালকা বায়ু উপরে উঠে এবং ঠান্ডা ভারী বায়ু নিচে নামে, ফলে তাপ সঞ্চালিত হয়।
iv. ঘনীভবন: জলীয় বাষ্প মেঘ হলে লীনতাপ বা Latent Heat ছেড়ে বায়ুকে গরম করে।
মূল কথা: বায়ুমণ্ডল প্রধানত পৃথিবী থেকে তাপ গ্রহণ করে, সরাসরি সূর্য থেকে নয়।
উষ্ণতার বন্টন: অক্ষাংশ অনুযায়ী –
i. নিরক্ষীয় অঞ্চল 0°-10°: 27°C, সবচেয়ে গরম, সূর্য লম্বভাবে পড়ে।
ii. ক্রান্তীয় অঞ্চল 10°-30°: 20°-27°C।
iii. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল 30°-60°: 0°-20°C।
iv. মেরু অঞ্চল 60°-90°: -30°C, সবচেয়ে ঠান্ডা, সূর্য তির্যকভাবে পড়ে।
এছাড়া উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, মেঘ ও বন উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করে।
5.2 ভারতের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। ঋতুভিত্তিক জলবায়ুর বর্ণনা দাও।
উত্তর:
ভারতের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
i. মৌসুমী জলবায়ু – ঋতুভেদে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়।
ii. বৈচিত্র্যময় – রাজস্থানে মরুভূমি, মেঘালয়ে 1187 সেমি বৃষ্টি, হিমালয়ে তুন্দ্রা এবং কেরলে নিরক্ষীয় জলবায়ু।
iii. অনিশ্চিত – কখনও খরা, কখনও বন্যা।
iv. চারটি ঋতু – গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত।
ঋতুভিত্তিক বর্ণনা:
i. গ্রীষ্ম মার্চ-মে: তাপমাত্রা 40°-45°C, উত্তর-পশ্চিমে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। লু নামক গরম বাতাস, আঁধি নামক ধূলিঝড়, পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী এবং দক্ষিণ ভারতে আম্রবৃষ্টি হয়।
ii. বর্ষা জুন-সেপ্টেম্বর: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুতে ভারতের 75% বৃষ্টি হয়। দুটি শাখা – আরব সাগরীয় শাখা পশ্চিমঘাট, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে এবং বঙ্গোপসাগরীয় শাখা উত্তর-পূর্ব ও গাঙ্গেয় সমভূমিতে বৃষ্টি ঘটায়। 1 জুন কেরলে মৌসুমী বায়ু আসে এবং 15 জুলাইয়ের মধ্যে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।
iii. শরৎ অক্টোবর-নভেম্বর: মৌসুমী বায়ুর প্রত্যাবর্তন ঘটে, আকাশ পরিষ্কার হয়। তামিলনাড়ুতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুতে বৃষ্টি হয় এবং বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় হয়।
iv. শীত ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি: উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু, শীতল ও শুষ্ক। উত্তর-পশ্চিমে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে বৃষ্টি ও তুষারপাত হয় এবং দক্ষিণ ভারত সমভাবাপন্ন থাকে।
5.3 ভারতের মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ, ফলাফল ও সংরক্ষণের উপায় আলোচনা করো।
উত্তর:
কারণ:
i. প্রাকৃতিক: বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাওয়া – চাদর ক্ষয়, রিল ক্ষয় ও গালি ক্ষয়, নদীর পাড় ভাঙন, বায়ুতে উড়ে যাওয়া রাজস্থানে এবং ভূমিধস হিমালয়ে।
ii. মানবীয়: নির্বিচারে বন কাটা যা প্রধান কারণ, অতিরিক্ত চাষ, ঝুম চাষ, অতিরিক্ত পশুচারণ, খনি, রাস্তা, নগরায়ণ এবং অপরিকল্পিত সেচে লবণাক্ততা বৃদ্ধি।
ফলাফল: i. উর্বরতা কমে যায়, ফসল কমে, খাদ্য সংকট হয়। ii. নদীতে পলি জমে বন্যা হয় এবং বাঁধ ভরাট হয়ে যায়। iii. মরুভূমি বাড়ে, ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যায়, খরা হয়। iv. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়। ভারতে প্রতি বছর 5.3 বিলিয়ন টন মাটি ক্ষয় হয়।
সংরক্ষণের উপায়: i. বনসৃজন, সামাজিক বনসৃজন ও কৃষি বনসৃজন। ii. পাহাড়ে ধাপ চাষ, ফালি চাষ ও সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ। iii. বাঁধ ও Check Dam নির্মাণ। iv. অতিরিক্ত পশুচারণ বন্ধ, ঝুম চাষ বন্ধ। v. জৈব সার ব্যবহার ও ফসল আবর্তন। vi. আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
5.4 ভারতে ইক্ষু চাষের অনুকূল পরিবেশ, বন্টন ও সমস্যা আলোচনা করো।
উত্তর: ইক্ষু ক্রান্তীয় ফসল, 1 বছর সময় লাগে, ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক, প্রথম ব্রাজিল।
অনুকূল পরিবেশ: i. জলবায়ু – 20°-30°C তাপমাত্রা, 100-150 সেমি বৃষ্টি, প্রচুর রোদ ও তুষারমুক্ত। বড় হওয়ার সময় বৃষ্টি এবং পাকার সময় শুষ্ক ও ঠান্ডা প্রয়োজন, তখন চিনির পরিমাণ বাড়ে। ii. মাটি – উর্বর দোআঁশ, পলি ও কৃষ্ণ মাটি, চুনযুক্ত, জল নিকাশি ভালো। iii. জমি – সমতল জমি এবং সেচের সুবিধা যেমন খাল ও নলকূপ। iv. শ্রমিক – আখ কাটা ও বহনের জন্য সস্তা শ্রমিক এবং চিনিকল কাছে থাকতে হবে, কারণ আখ কাটার 24 ঘণ্টার মধ্যে পচে যায়।
বন্টন: উত্তরপ্রদেশ 45% উৎপাদন করে – মেরঠ, সাহারানপুর, বেরেলি। মহারাষ্ট্র – আহমেদনগর, পুনে, কোলহাপুর। কর্ণাটক – বেলগাম, বিজাপুর। তামিলনাড়ু ও বিহার।
সমস্যা: i. কম ফলন – ভারতে 70 টন/হেক্টর, অস্ট্রেলিয়ায় 100 টন/হেক্টর। ii. রোগ, পোকা, বন্যা ও খরা। iii. চিনিকলের পুরনো যন্ত্র, কম দাম ও কৃষকের বকেয়া টাকা। iv. কৃত্রিম চিনির প্রতিযোগিতা। সমাধান – উন্নত বীজ CO 0238, সেচ, সার, সহ-উৎপাদন যেমন ইথানল ও বিদ্যুৎ এবং MSP বাড়ানো।
Madhyamik Geography Model Answers-5
5.5 ভারতে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা করো। ভারতে রেলপথের গুরুত্ব বেশি কেন?
উত্তর:
পরিবহন ও যোগাযোগের গুরুত্ব: i. অর্থনৈতিক – কাঁচামাল, শ্রমিক, পণ্য ও বাজারকে যুক্ত করে। শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্য পরিবহনের উপর নির্ভরশীল। ভারতের GDP-তে 5% অবদান। ii. সামাজিক – মানুষ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও সংস্কৃতিকে যুক্ত করে, গ্রাম ও শহরকে যুক্ত করে। iii. রাজনৈতিক – দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, প্রশাসন, দুর্যোগে ত্রাণ ও সেনা চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ। iv. প্রকার – সড়কপথ সবচেয়ে বেশি 63 লক্ষ কিমি, রেলপথ 68,000 কিমি বিশ্বে 4র্থ, জলপথ সবচেয়ে সস্তা 14,500 কিমি নৌপথ, বিমানপথ সবচেয়ে দ্রুত 137টি বিমানবন্দর, পাইপলাইন তেল ও গ্যাস পরিবহন এবং যোগাযোগ – ডাক, টেলিফোন, ইন্টারনেট ও উপগ্রহ।
রেলপথের গুরুত্ব বেশি কেন: i. ভারত বিশাল দেশ, দূরত্ব বেশি, তাই রেল সস্তা এবং বেশি পণ্য ও যাত্রী বহন করে – 2.3 কোটি যাত্রী প্রতিদিন। ii. সড়কের তুলনায় কম দূষণ, কম খরচ এবং সব আবহাওয়ায় চলে। iii. কয়লা, লোহা, খনিজ, খাদ্যশস্য ও সার রেলে বেশি পরিবহন হয়। iv. কর্মসংস্থান – 12 লক্ষ কর্মী, ভারতের বৃহত্তম নিয়োগকর্তা। v. পর্যটন, তীর্থযাত্রা ও সেনা চলাচলে রেল গুরুত্বপূর্ণ। তাই রেলকে ভারতের জীবনরেখা বলা হয়।
5.6 ভারতের মানচিত্রে চিহ্নিত – লিখিত বর্ণনা
উত্তর: খাতায় মানচিত্রে যেভাবে চিহ্নিত করবে –
[A] কারাকোরাম পর্বত: জম্মু-কাশ্মীরের উত্তরে ভারত-চীন সীমান্তে, 500 কিমি দীর্ঘ। K2 বা গডউইন অস্টিন 8611 মিটার ভারতের উচ্চতম শৃঙ্গ বর্তমানে POK-এ অবস্থিত, সিয়াচেন হিমবাহ এখানে অবস্থিত। মানচিত্রে উত্তরে আঁকবে।
[B] সম্বর হ্রদ: রাজস্থানের জয়পুরের কাছে অবস্থিত ভারতের বৃহত্তম লবণাক্ত হ্রদ, আয়তন 230 বর্গ কিমি, এখানে লবণ উৎপাদন হয় এবং এটি একটি রামসার সাইট। মানচিত্রে পশ্চিম ভারতে চিহ্নিত করবে।
[C] নর্মদা নদী: মধ্যপ্রদেশের অমরকন্টক থেকে উৎপত্তি, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মধ্য দিয়ে 1312 কিমি পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে আরব সাগরে পড়েছে। রিফ্ট উপত্যকা দিয়ে প্রবাহিত, ধুঁয়াধার জলপ্রপাত এবং সর্দার সরোবর বাঁধ এর উপর অবস্থিত।
[D] একটি ধান উৎপাদক অঞ্চল – পশ্চিমবঙ্গ: ভারতে প্রথম ধান উৎপাদক রাজ্য, বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুরে উর্বর পলি ও 150 সেমি বৃষ্টিতে আমন, আউস ও বোরো তিনটি ধান চাষ হয়। মানচিত্রে পূর্ব ভারতে সবুজ রঙে দেখাবে।
[E] একটি চা উৎপাদক অঞ্চল – দার্জিলিং: পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়ে 2000 মিটার উচ্চতায় সুগন্ধি চা উৎপাদিত হয়, বিশ্ব বিখ্যাত, 150-200 সেমি বৃষ্টি ও ঢালু জমি প্রয়োজন। মানচিত্রে উত্তর-পূর্ব কোণে চিহ্নিত করবে।
[F] পারাদ্বীপ বন্দর: ওড়িশায় মহানদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত গভীর সমুদ্র বন্দর, লৌহ আকরিক ও কয়লা রপ্তানির জন্য বিখ্যাত, 1966 সালে প্রতিষ্ঠিত।
[G] মরুভূমি অঞ্চল – রাজস্থান: পশ্চিম রাজস্থানে থর মরুভূমি 2 লক্ষ বর্গ কিমি জুড়ে বিস্তৃত, জয়সলমীর, বিকানের, বালিয়াড়ি, বার্খান, লুনি নদী, ইন্দিরা গান্ধী খাল ও কাঁটাযুক্ত গাছ এই অঞ্চলে দেখা যায়।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.