Madhyamik Geography Model Answers-6
Madhyamik Geography Model Answers-6
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ? ভূগোল বিষয়ে ৯০-এ ৯০ পাওয়ার স্বপ্ন দেখছ? তাহলে তোমার এই প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে আমরা নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক (ভূগোল) (Madhyamik Geography Model Answers-6) (উত্তরসহ)। নতুন ও আপডেটেড সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি এই মডেল প্রশ্নপত্রটিতে রয়েছে ১৪টি MCQ (ব্যাখ্যা সহ), ১৬টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৬ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ১৮ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, ২৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং মানচিত্র চিহ্নিতকরণ সহ প্রতিটি বিভাগের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ সমাধান। প্রতিটি উত্তরের সাথে উৎস উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই মূল পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিতে পারে।
Madhyamik Geography Model Answers-6

Geography (ভূগোল)
বিভাগ – ক: MCQ – ব্যাখ্যা সহ
1.1 নদীর ষষ্ঠঘাতের সূত্র দেন –
[A] গিলবার্ট [B] হপকিন্স ✓
[C] ডেভিস [D] পেঙ্ক
ব্যাখ্যা: হপকিন্স বলেন নদীর বহন ক্ষমতা গতিবেগের 6 ঘাতে বাড়ে। গতি 2 গুণ বাড়লে বহন ক্ষমতা 64 গুণ বাড়ে। গিলবার্ট নদীর ক্ষয় নিয়ে কাজ করেন।
1.2 রসে মতানে সৃষ্টি হয় –
[A] হিমবাহের ক্ষয়ে ✓ [B] নদীর ক্ষয়ে
[C] বায়ুর ক্ষয়ে [D] সমুদ্রের ক্ষয়ে
ব্যাখ্যা: হিমবাহের ক্ষয়ে একদিক মসৃণ ও অন্যদিক অমসৃণ টিলাকে রসে মতানে বলে। হিমবাহ যেদিক থেকে আসে সেদিক মসৃণ হয়।
1.3 বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ –
[A] 78% ✓ [B] 21%
[C] 0.03% [D] 0.9%
ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলে N2 78.08%, O2 20.94%, Ar 0.93%, CO2 0.04%। নাইট্রোজেন উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে লাগে।
1.4 আপেক্ষিক আর্দ্রতা মাপা হয় –
[A] হাইগ্রোমিটারে ✓ [B] ব্যারোমিটারে
[C] থার্মোমিটারে [D] অ্যানিমোমিটারে
ব্যাখ্যা: হাইগ্রোমিটার বা সাইক্রোমিটারে আর্দ্রতা, ব্যারোমিটারে বায়ুচাপ, থার্মোমিটারে তাপ, অ্যানিমোমিটারে বায়ুর গতি মাপা হয়।
1.5 ভারতের বৃহত্তম ব-দ্বীপ –
[A] সুন্দরবন ✓ [B] কৃষ্ণা-গোদাবরী
[C] মহানদী [D] কাবেরী
ব্যাখ্যা: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের সুন্দরবন বদ্বীপ বিশ্বের বৃহত্তম (1 লক্ষ বর্গ কিমি)। ভারত-বাংলাদেশ জুড়ে।
1.6 সিন্ধু নদীর উৎস –
[A] সিন-খা-বাব ✓ [B] গোমুখ
[C] যমুনোত্রী [D] অমরকন্টক
ব্যাখ্যা: তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে সিন-খা-বাব হিমবাহ থেকে সিন্ধুর উৎপত্তি। 2880 কিমি দীর্ঘ, ভারতে 1114 কিমি।
1.7 ভারতে লবণাক্ত মাটি দেখা যায় –
[A] সুন্দরবনে [B] রাজস্থানে
[C] a ও b উভয়ই ✓ [D] কেরলে
ব্যাখ্যা: সুন্দরবনে সমুদ্রের লবণ জলে এবং রাজস্থানে অতিরিক্ত বাষ্পীভবনে রেহ, কল্লর নামে লবণাক্ত মাটি দেখা যায়।
1.8 ভারতে বাজরা চাষ বেশি হয় –
[A] রাজস্থানে ✓ [B] পশ্চিমবঙ্গে
[C] অসমে [D] কেরলে
ব্যাখ্যা: রাজস্থান বাজরা উৎপাদনে প্রথম। এটি খরিফ মিলেট, কম জলে হয়।
1.9 বোকারো ইস্পাত কেন্দ্র গড়ে ওঠে –
[A] রাশিয়ার সহযোগিতায় ✓ [B] জার্মানির
[C] ব্রিটেনের [D] USA এর
ব্যাখ্যা: ঝাড়খণ্ডের বোকারো 1964 সালে সোভিয়েত রাশিয়ার সহায়তায় গড়ে ওঠে। ভারতের বৃহত্তম সরকারি ইস্পাত কেন্দ্র।
1.10 ভারতের বৃহত্তম তৈল শোধনাগার –
[A] জামনগর ✓ [B] ডিগবয়
[C] হলদিয়া [D] মথুরা
ব্যাখ্যা: গুজরাটের জামনগরে Reliance এর শোধনাগার বিশ্বের বৃহত্তম (33 MTPA), ভারতের বৃহত্তম। ডিগবয় প্রাচীনতম।
1.11 ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র তৈরি করে –
[A] Survey of India ✓ [B] ISRO
[C] NASA [D] Google
ব্যাখ্যা: Survey of India (SOI) 1767 সালে প্রতিষ্ঠিত, দেরাদুনে সদর দপ্তর, ভারতের টপো মানচিত্র তৈরি করে।
1.12 1:50000 স্কেলে 1 সেমি =
[A] 500 মিটার ✓ [B] 5 কিমি
[C] 50 কিমি [D] 0.5 কিমি
ব্যাখ্যা: 1 সেমি = 50000 সেমি = 500 মিটার = 0.5 কিমি। তাই A ও D দুটোই ঠিক, সাধারণত 500 মিটার লেখা হয়।
1.13 নদী তীরে গড়ে ওঠে –
[A] রৈখিক জনবসতি ✓ [B] বিক্ষিপ্ত জনবসতি
[C] গোষ্ঠীবদ্ধ জনবসতি [D] বৃত্তাকার জনবসতি
ব্যাখ্যা: নদীর তীর বরাবর জলের সুবিধার জন্য লাইন ধরে রৈখিক বসতি গড়ে ওঠে।
1.14 ভারতে নগর জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি –
[A] মহারাষ্ট্রে ✓ [B] কেরলে
[C] বিহারে [D] অসমে
ব্যাখ্যা: 2011 অনুযায়ী মহারাষ্ট্রে 5 কোটি নগরবাসী, সবচেয়ে বেশি। শতাংশে গোয়ায় সবচেয়ে বেশি 62% নগরবাসী।
Madhyamik Geography Model Answers-6
বিভাগ – খ: অতি সংক্ষিপ্ত (1×16=16)
2.1 ইনসেলবার্জ কী?
উত্তর: মরু অঞ্চলে কোমল শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অপসারিত হওয়ার পর কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত যে খাড়া ঢালযুক্ত টিলা দ্বীপের মতো একাকী দাঁড়িয়ে থাকে, তাকে ইনসেলবার্জ বলে। জার্মান ভাষায় Insel শব্দের অর্থ দ্বীপ এবং Berg শব্দের অর্থ পর্বত। রাজস্থানে এই ভূমিরূপ দেখা যায়।
2.2 ফিয়র্ড কী?
উত্তর: সমুদ্র উপকূলের কাছে হিমবাহ দ্বারা গঠিত U আকৃতির উপত্যকা সমুদ্রের জলে নিমজ্জিত হয়ে যে অতি গভীর, সংকীর্ণ ও খাড়া পার্শ্বযুক্ত উপসাগরের সৃষ্টি করে, তাকে ফিয়র্ড বলে। নরওয়ে ও নিউজিল্যান্ডে ফিয়র্ড বেশি দেখা যায়।
2.3 ধ্রীয়ান কী?
উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের ফলে যে বালিয়াড়ি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ক্রমাগত সরে যেতে থাকে, তাকে রাজস্থানে ধ্রীয়ান বলে। এই চলমান বালিয়াড়িগুলি মরু সম্প্রসারণে সাহায্য করে।
2.4 ঘূর্ণবাতের চক্ষু কী?
উত্তর: ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত 10 থেকে 50 কিলোমিটার ব্যাসযুক্ত শান্ত, মেঘমুক্ত ও নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলকে ঘূর্ণবাতের চক্ষু বা Eye বলে। এই স্থানে বায়ু শান্ত থাকে এবং আকাশ পরিষ্কার থাকে, কিন্তু এর চারপাশে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়।
2.5 লু কী?
উত্তর: উত্তর-পশ্চিম ভারতে বিশেষ করে রাজস্থান, পাঞ্জাব, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে গ্রীষ্মকালে মে-জুন মাসে পশ্চিম দিক থেকে যে উষ্ণ, শুষ্ক ও ধূলিপূর্ণ বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে লু বলে। এই সময় তাপমাত্রা 45 থেকে 50 ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে এবং এর ফলে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে।
2.6 ময়দান কী?
উত্তর: কর্ণাটক মালভূমির পূর্ব দিকের অপেক্ষাকৃত সমতল, কম বৃষ্টিপাতযুক্ত, স্বল্প বনভূমি বিশিষ্ট অঞ্চলকে ময়দান বলে। এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত 50 থেকে 75 সেন্টিমিটার এবং রাগি ও জোয়ার চাষ হয়। পশ্চিমের পাহাড়ি ও বেশি বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলকে মালনাদ বলে।
2.7 ভারতে কফির প্রধান প্রকার কী?
উত্তর: ভারতে কফি প্রধানত দুই প্রকার। যথা ১) আরবিকা কফি: এটি অধিক সুগন্ধযুক্ত ও উৎকৃষ্ট মানের, ভারতে প্রায় 40 শতাংশ আরবিকা উৎপাদিত হয় এবং ২) রোবাস্টা কফি: এতে ফলন বেশি এবং ক্যাফিনের পরিমাণ বেশি, ভারতে প্রায় 60 শতাংশ রোবাস্টা উৎপাদিত হয়। কর্ণাটকে রোবাস্টা কফি বেশি চাষ হয়।
2.8 ভারতে সবচেয়ে বেশি পাট কোথায় হয়?
উত্তর: ভারতে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয় পশ্চিমবঙ্গে। ভারতের মোট পাট উৎপাদনের প্রায় 70 শতাংশ এই রাজ্যে উৎপাদিত হয়। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, হুগলি ও উত্তর 24 পরগনা হল পশ্চিমবঙ্গের প্রধান পাট উৎপাদক জেলা।
2.9 ভারতে প্রথম রেলপথ কোথায় গড়ে ওঠে?
উত্তর: ভারতে প্রথম রেলপথ গড়ে ওঠে 1853 সালের 16ই এপ্রিল মুম্বাইয়ের বোরিবন্দর থেকে থানে পর্যন্ত। এর দৈর্ঘ্য ছিল 34 কিলোমিটার এবং এটি লর্ড ডালহৌসির শাসনকালে নির্মিত হয়।
2.10 ভারতের ব্যস্ততম বন্দর কোনটি?
উত্তর: ভারতের ব্যস্ততম বন্দর হল মুম্বাই বন্দর। এখানে সবচেয়ে বেশি পণ্য ওঠানামা করা হয় এবং এটি একটি প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়। আধুনিক কন্টেইনার পরিবহনে বৃহত্তম বন্দর হল JNPT বা জওহরলাল নেহেরু বন্দর।
2.11 উপগ্রহ চিত্র কত প্রকার?
উত্তর: উপগ্রহ চিত্র প্রধানত তিন প্রকার। যথা ১) সাদা-কালো চিত্র বা প্যানক্রোমাটিক চিত্র, ২) রঙিন চিত্র বা ফলস কালার কম্পোজিট এবং ট্রু কালার চিত্র এবং ৩) ইনফ্রারেড ও রাডার চিত্র।
2.12 টপো মানচিত্রে নীল রঙে কী দেখানো হয়?
উত্তর: ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে নীল রঙে জল সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় দেখানো হয়, যেমন নদী, হ্রদ, সমুদ্র, খাল, কূপ ও জলাভূমি।
2.13 জনঘনত্ব কী?
উত্তর: প্রতি বর্গ কিলোমিটার ক্ষেত্রফলে বসবাসকারী জনসংখ্যাকে জনঘনত্ব বলে। জনঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্র হল জনঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা / মোট ক্ষেত্রফল। 2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের গড় জনঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 382 জন।
2.14 ভারতের গড় আয়ু কত?
উত্তর: বর্তমানে 2023 সালের তথ্য অনুযায়ী ভারতের মানুষের গড় আয়ু প্রায় 70 বছর। এর মধ্যে পুরুষের গড় আয়ু 69 বছর এবং নারীর গড় আয়ু 71 বছর। 1951 সালে ভারতের গড় আয়ু ছিল মাত্র 32 বছর।
2.15 ভারতের প্রতিবেশী দেশ কয়টি?
উত্তর: ভারতের প্রতিবেশী দেশ মোট 9টি। এর মধ্যে 7টি স্থলবেষ্টিত প্রতিবেশী দেশ হল পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও মায়ানমার এবং 2টি সমুদ্রবেষ্টিত প্রতিবেশী দেশ হল শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।
2.16 হড়পা বান কী?
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলে হঠাৎ ভারী বৃষ্টি বা মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি নদীতে প্রচুর জল, পাথর ও কাদা নিয়ে যে আকস্মিক ও প্রবল বন্যা আসে, তাকে হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড বলে। 2013 সালে উত্তরাখণ্ডে এবং হিমাচল প্রদেশে প্রায়ই এই ধরনের হড়পা বান দেখা যায়।
Madhyamik Geography Model Answers-6
বিভাগ – গ: সংক্ষিপ্ত (2×8=16)
3.1 জলচক্র কী?
উত্তর: সমুদ্রের জল সূর্যের তাপে বাষ্পীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়, মেঘ থেকে বৃষ্টি হিসাবে ঝরে পড়ে এবং সেই বৃষ্টির জল নদী-নালা বেয়ে আবার সমুদ্রে ফিরে যায়, এই চক্রাকার প্রক্রিয়াকে জলচক্র বা হাইড্রোলজিক্যাল সাইকেল বলে।
জলচক্র চারটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয় – বাষ্পীভবন, ঘনীভবন, অধঃক্ষেপণ ও প্রবাহ। এই চক্র পৃথিবীতে জলের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং জলবায়ু ও জীবজগৎকে টিকিয়ে রাখে।
3.2 ক্রেভাস কী?
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ যখন ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নামে, তখন টানের ফলে হিমবাহের উপরের অংশে আড়াআড়ি বা লম্বালম্বিভাবে যে গভীর ফাটলের সৃষ্টি হয়, তাকে ক্রেভাস বলে।
এই ফাটলগুলি সাধারণত 30 থেকে 50 মিটার গভীর হয় এবং বরফে ঢাকা থাকায় দেখা যায় না, ফলে অত্যন্ত বিপজ্জনক। পর্বতারোহীরা অনেক সময় অসাবধানতাবশত ক্রেভাসে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।
3.3 মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
বিষয় আগমন প্রত্যাবর্তন
সময় জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে কেরলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমন ঘটে, এর ফলে বর্ষাকাল শুরু হয়। অক্টোবর মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ভারত থেকে ফিরে যেতে শুরু করে, একে মৌসুমী বায়ুর প্রত্যাবর্তন বলে এবং শরৎকাল শুরু হয়।
প্রকৃতি ও বৃষ্টি এটি আর্দ্র বায়ু এবং ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় 75 শতাংশ এই সময়ে হয়। এটি শুষ্ক প্রকৃতির, আকাশ পরিষ্কার থাকে। তবে এই সময় উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে তামিলনাড়ুতে বৃষ্টি হয়।
বায়ুচাপ এই সময় উত্তর-পশ্চিম ভারতে নিম্নচাপ বিরাজ করে। এই সময় উত্তর-পশ্চিম ভারতে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
3.4 ভারতে বন্যার কারণ লেখো।
উত্তর: ভারতে বন্যার কারণগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় –
i. প্রাকৃতিক কারণ: অতিরিক্ত মৌসুমী বৃষ্টি, হিমালয়ের বরফ গলা জলে নদীতে জল বৃদ্ধি, নদীর তলদেশে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে জলোচ্ছ্বাস এবং ভরা কোটালে জোয়ারের জল নদীতে প্রবেশ করা।
ii. মানবীয় কারণ: নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করা, বাঁধ থেকে হঠাৎ করে প্রচুর জল ছেড়ে দেওয়া যেমন DVC বাঁধ থেকে, নদীর পাড়ে বসতি স্থাপন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জলাভূমি ভরাট করে ফেলা। অসম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে প্রতি বছর বন্যা হয়।
3.5 ভারতের উপকূলীয় সমভূমির গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: ভারতের উপকূলীয় সমভূমির গুরুত্ব অপরিসীম –
i. কৃষিতে: এখানকার উর্বর পলি মাটিতে ধান, নারকেল ও মশলা জাতীয় ফসলের চাষ ভালো হয়।
ii. মৎস্য শিকারে: সমুদ্র উপকূল মাছ ধরা ও চিংড়ি চাষের জন্য বিখ্যাত।
iii. বন্দর ও বাণিজ্যে: এখানে মুম্বাই, চেন্নাই, কোচি ও বিশাখাপত্তনমের মতো প্রধান বন্দরগুলি অবস্থিত। ভারতের প্রায় 90 শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয়।
iv. পর্যটনে: দিঘা, পুরী, গোয়ার মতো সুন্দর সমুদ্র সৈকতগুলি পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছে।
v. খনিজ সম্পদে: এখান থেকে লবণ, কেরলের উপকূলে মোনাজাইট এবং বোম্বে হাই থেকে খনিজ তেল উত্তোলন করা হয়।
3.6 ভারতে বহুমুখী নদী পরিকল্পনার উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: একটি নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে একসাথে অনেকগুলি উদ্দেশ্য পূরণ করার পরিকল্পনাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে। যেমন ভাকরা-নাঙ্গাল পরিকল্পনা। জওহরলাল নেহেরু এই বাঁধগুলিকে আধুনিক ভারতের মন্দির বলে অভিহিত করেছেন।
এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হল –
i. বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা।
ii. কৃষিজমিতে সেচের জল সরবরাহ করা।
iii. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।
iv. পানীয় জল সরবরাহ করা।
v. মৎস্য চাষের উন্নতি ঘটানো।
vi. নৌ-পরিবহনের সুবিধা বৃদ্ধি করা।
vii. পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং
viii. ভূমি ক্ষয় রোধ করা।
3.7 জৈব কৃষি কী?
উত্তর: রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে গোবর সার, কম্পোস্ট সার, জৈব সার এবং জৈব কীটনাশক যেমন নিম তেল ব্যবহার করে এবং ফসল আবর্তন পদ্ধতিতে যে চাষ করা হয়, তাকে জৈব কৃষি বলে।
এই কৃষিতে মাটি, জল ও পরিবেশ দূষিত হয় না এবং উৎপাদিত ফসল স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর হয়, যদিও এর দাম বেশি। ভারতের সিকিম রাজ্য হল ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ জৈব রাজ্য।
Madhyamik Geography Model Answers-6
3.8 ভারতে তুলা চাষের সমস্যা লেখো।
উত্তর: ভারতে তুলা চাষের প্রধান সমস্যাগুলি হল –
i. কম ফলন: ভারতে তুলার ফলন হেক্টর প্রতি প্রায় 500 কেজি, যেখানে চীনে প্রায় 1500 কেজি।
ii. প্রাকৃতিক সমস্যা: বৃষ্টিপাত অনিশ্চিত, পোকার আক্রমণ যেমন বলওয়ার্ম পোকার আক্রমণ এবং বিভিন্ন রোগের প্রকোপ।
iii. ক্ষুদ্র জোত: ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্ত জমিতে পুরনো বীজ ব্যবহার করে চাষ করা হয়, ফলে উৎপাদন কম।
iv. কৃত্রিম তন্তুর প্রতিযোগিতা: সস্তা কৃত্রিম তন্তুর সাথে তুলা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
v. অর্থনৈতিক সমস্যা: তুলার দাম কম পাওয়া, ঋণের বোঝা এবং এর ফলে মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। এর সমাধানে BT তুলা চাষ, সেচের উন্নতি এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
3.9 ভারতে পাট শিল্পের সমস্যা লেখো।
উত্তর: ভারতে পাট শিল্পের সমস্যাগুলি হল –
i. কাঁচামালের অভাব: দেশভাগের পর উৎকৃষ্ট পাট চাষের জমি বাংলাদেশে চলে যায়, কিন্তু পাটকলগুলি ভারতে থেকে যায়, ফলে কাঁচা পাটের অভাব দেখা দেয়।
ii. পুরনো যন্ত্রপাতি: বেশিরভাগ পাটকলে পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, ফলে উৎপাদনশীলতা কম এবং বিদ্যুতের সমস্যা লেগেই থাকে।
iii. বিকল্প দ্রব্যের প্রতিযোগিতা: নাইলন ও পলিথিনের মতো কৃত্রিম তন্তু সস্তা হওয়ায় পাটের চাহিদা কমে গেছে।
iv. শ্রমিক সমস্যা: শ্রমিক অসন্তোষ, ঘন ঘন ধর্মঘট এবং কম মজুরির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়।
v. রপ্তানিতে সমস্যা: বাংলাদেশ ও চীনের মতো দেশের সাথে প্রতিযোগিতায় ভারতের পাটের রপ্তানি কমে গেছে।
3.10 উপগ্রহ চিত্রের ব্যবহার লেখো।
উত্তর: উপগ্রহ চিত্রের প্রধান ব্যবহারগুলি হল –
i. আবহাওয়া পূর্বাভাসে: ঘূর্ণিঝড়, মৌসুমী বায়ুর আগমন ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য উপগ্রহ চিত্র ব্যবহৃত হয়।
ii. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়: বন্যা, খরা, দাবানল ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়।
iii. সম্পদ অনুসন্ধানে: বনভূমি, কৃষিজমি, জলাশয়, মৃত্তিকা ও খনিজ সম্পদের মানচিত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
iv. উন্নয়ন পরিকল্পনায়: নগর পরিকল্পনা, রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ এবং সেচ পরিকল্পনায় উপগ্রহ চিত্র গুরুত্বপূর্ণ।
v. অন্যান্য ক্ষেত্রে: প্রতিরক্ষা, GPS, পরিবেশ দূষণ পর্যবেক্ষণ, জনসংখ্যা ও ভূমি ব্যবহারের মানচিত্র তৈরিতে উপগ্রহ চিত্র ব্যবহৃত হয়।
3.11 ভারতে নগরায়ণের কারণ লেখো।
উত্তর: ভারতে নগরায়ণের প্রধান কারণগুলি হল –
i. ঠেলা বা Push Factor: গ্রামাঞ্চলে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, কৃষিজমির অভাব, কম মজুরি এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসে।
ii. টানা বা Pull Factor: শহরে চাকরির সুযোগ বেশি, উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও নিরাপত্তার সুবিধা থাকায় মানুষ শহরের দিকে আকৃষ্ট হয়।
iii. শিল্পায়ন ও পরিবহন: শিল্পের বিকাশ এবং রাস্তা, রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি নগরায়ণে সাহায্য করে।
iv. সামাজিক কারণ: গ্রামের জাতিভেদ প্রথা ও কুসংস্কার থেকে মুক্তি পেতেও মানুষ শহরে আসে।
ভারতে বর্তমানে প্রায় 35 শতাংশ মানুষ শহরে বাস করে এবং মহারাষ্ট্রে নগর জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
Discover more from NIRYAS.IN
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-7 » NIRYAS.IN
Pingback: Madhyamik Geography Model Answers-6/2 » NIRYAS.IN